জুলিয়াস ম্যাগি নামে এক ভদ্রলোক দ্রুত খাবার পাওয়ার জন্য ম্যাগি নামে একটা খাবার উদ্ভাবন করেন। ১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দে। এর ৬৩ বছর পর ১৯৪৮এ নেসল এই খাবারের বাজারে ঢুকল।
১৯৮৩ তে ভারতে টু মিনিটস ম্যাগি নামে প্রচার চলে। বর্ধমান শহরের বিদ্যালয়ে বিদ্যালয়ে গাড়ি এসে বিনা পয়সায় ম্যাগি খাইয়ে যেতে থাকে।
এবং রান্না পদ্ধতি দেখিয়ে একটা করে বিনামূল্যে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য দেয়।
কিছু দিনের মধ্যেই সম্পন্ন পরিবারে ম্যাগি এবং ম্যাগির বংশতুতো বোন জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
রেডিওতে ওয়াশিং পাউডার নিরমা তখন খুব জনপ্রিয়। ম্যাগির বিজ্ঞাপনও বাদ গেল না।
মধ্যবিত্ত ছেলে মেয়েদের খাদ্যাভ্যাস বদলে যেতে লাগল। পোশাক আসাকে পরিবর্তন তখনও যদিও চোখে পড়ার মতো নয়!
আকাশবাণী শুরু হতো একটি চমৎকার বাদন দিয়ে। একজন বিদেশি সঙ্গীতকার এটি বেতারের জন্য তৈরি করেন। তাঁর নাম...
ভোর পাঁচটা পঞ্চান্ন মিনিটে বেজে ওঠতো ওই অসম্ভব সুরেলা আওয়াজ।
কবীর সুমন একবার বলেছিলেন, ওই আওয়াজে আছে আজানের সুর।
এই সুর, যা ভারতীয় উপমহাদেশকে মাতিয়ে রেখেছে এক শতাব্দী সময়, এক সময় অবিভক্ত ভারতের ঘুম ভাঙতো আকাশবাণীর উদাত্ত সুরে। এই
সুরের স্রষ্টা একজন দেশত্যাগে বাধ্য হওয়া এক চেক-ইহুদি, কাউফম্যান। আজ যেমন ইসলাম বিদ্বেষ তেমন ১৯৩০ এর দশক ছিল ইহুদি বিদ্বেষে পূর্ণ। দেশ থেকে পালিয়ে ভারতের বোম্বাইয়ে( এখন মুম্বাই) চলে আসেন কাউফম্যান। ১৯৩৪-এ। ১৯৩৭ এ খ্রিস্টাব্দে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন আকাশবাণীতে। যদিও এই সুরের জন্ম আগেই। শিবরঞ্জনী রাগে রচিত এই অনবদ্য সৃষ্টি। এখানে পিয়ানো বাজিয়েছিলেন কাউফম্যান। আর বেহালা ইহুদি মেনুহিনের বাবা। আজকের সময়ে দাঁড়িয়ে ভাবতেও ভালো লাগে এইসব মানুষেরা ছিলেন, যাঁদের কাছে আন্তর্জাতিকতা, মানবতা, সৌভ্রাতৃত্বের আহ্বানই ছিল চিরন্তন, তাই ইহুদি সুরস্রষ্টা ডাক পাঠাচ্ছেন আজানের সুরে।
এই প্রসঙ্গে বাঙালির একটু গর্ব করার আছে।
ভারতের প্রথম বেতার সম্প্রচারের পথিকৃৎ ছিলেন শিশিরকুমার মিত্র। শিশিরকুমার মিত্র কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বেতার-পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের স্থপতি। কলকাতা থেকে সর্বপ্রথম বেতার সম্প্রচার শুরু হয় করেন। 'রেডিও টু-সি-জেড' নামক একটি স্টেশন থেকে এই সম্প্রচার পরিচালিত হতো।
তিনি উপমহাদেশে প্রথম বেতার সম্প্রচার শুরু করেন এবং তার তত্ত্বাবধানে 'রেডিও টু-সি-জেড' নামক একটি স্টেশন থেকে এই সম্প্রচার পরিচালিত হত।
শুরু হয়েছিল কলকাতা থেকে।
ভারতের প্রথম বেতার সম্প্রচার শুরু হয়েছিল কলকাতা থেকে, এবং এই অসামান্য কাজটি করেছিলেন শিশিরকুমার মিত্র। ১৯২৬ এর ২৬ আগস্ট। এই আগস্ট মাসে কার্যত ভারতে বেতার সম্প্রচারের একশো বছর। কিন্তু কোথাও কোনও হেলদোল নেই। কলকাতার পর বেসরকারি উদ্যোগে বোম্বাই, কলকাতা ও মাদ্রাজে রেডিও ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯২৭ সালে 'ইন্ডিয়ান ব্রডকাস্টিং কোম্পানি (IBC)' বোম্বে স্টেশন থেকে বেতার সম্প্রচারের শুরু করে। তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার দেখলেন এত শক্তিশালী মাধ্যম। দখল নিলেন বেতার সম্প্রচারের। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হল সরকারের প্রতিষ্ঠান।
১৯৩৬এ নাম পরিবর্তন করে 'অল ইন্ডিয়া রেডিও'।
পরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর নাম দেন আকাশবাণী।
আশ্চর্যজনক বিষয়, আগে বেসরকারি উদ্যোগে শুরু হতো, সরকার তার দখল নিত। এখন সব উলটপুরাণ। সরকারি লাভজনক প্রতিষ্ঠান জলের দামে বেচে দেওয়া হচ্ছে আদানি আম্বানিদের। সেখানে বকলমে কাদের টাকা খাটে, তা গোদি মিডিয়া বলতে ভয় পায়।
বেতারের জনক বলে ধরা হয় মার্কনিকে। এখানে এক বাঙালি সন্তানের নাম উল্লেখ করা দরকার। আজীবন বাংলা মাধ্যমে পড়া বাঙালি বিজ্ঞানী আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু। তিনি যদি উপযুক্ত সহায়তা পেতেন ব্রিটিশ সরকার থেকে তবে বেতারের জনক হিসেবে ইতিহাস তাঁর নামই লিখতো।
আমাদের সময় আকাশবাণী শুরু হতো পাঁচটা পঞ্চান্ন মিনিটে। চলতো রাত পর্যন্ত। নানা আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান। ১৯৭০ দশক ইন্দিরা গান্ধী ভারতে দূরদর্শন সম্প্রচারের আগে এবং পরেও আকাশবাণী ছিল একচ্ছত্র অধিপতি। শ্রবণ জগতের।