
অবশ্য, ওঁদের একটু রিলিফ দিতে পারেন বিরোধী নেতারা। সারা ভারতবর্ষে এই আন্দোলন নিয়ে গোদি-বাহিনীর বদনাম করার তো কোনো অন্ত নেই। কিন্তু কোত্থাও দেখবেন না, বিরোধী নেতারা এরকম বিগলিত হয়ে মাটিতে মিশে যাচ্ছেন। একদিকে ওঁদেরই ছাত্র-যুবরা ফাটিয়ে লড়ছেন, অন্যদিকে বিধায়ক আগ বাড়িয়ে কালো ব্যাজ পরে ফেলছেন। প্রধানমন্ত্রীর অপমান? ছি ছি মাপ করবেন। অপশব্দের ব্যবহার? মার্জনা করে দেবেন প্রভু। ... ...

অডিসিয়াস কিন্তু আমাদের পরিচিত না। আমাদের পরিচিত নাম হচ্ছে ইউলিসিস। গ্রীক থেকে যখন রোমানরা ল্যাটিন ভাষায় ইলিয়াড, অডিসি অনুবাদ করে তখন তারা নিজেদের মত করে অডিসিয়াসের নাম দেয় ইউলিসিস! ল্যাটিন থেকে ইংরেজিতেও ইউলিসিসই প্রচলিত হয়। আমাদের এদিকেও ইউলিসিস বেশি পরিচিত। ইউলিসিসের স্বদেশ যাত্রা একটা বইও আছে সম্ভবত। ইংরেজিতে ইউলিসিস এতই জনপ্রিয় যে জেমস জয়েস তার বিখ্যাত উপন্যাসের নাম রাখেন ইউলিসিস। এগুলাও পরে জানা আমার। আমাদের বা আমাদের বড় ভাই বোনদের পাঠ্য ছিল সম্ভবত ইউলিসিসের স্বদেশ যাত্রা, মোবারক হোসেন খানের লেখা। তখন থেকেই ইউলিসিসিই মাথায় রয়ে গেছে। অনেক পরে ইলিয়াড অডিসি যখন পড়ি তখন মূল নাম জানি অডিসিয়াস! ... ...


তিনি (ব্রহ্ম) একদিকে যেমন এই জগতের সমস্ত উদ্ভিদ, জীব ও জড় সৃষ্টি করেছেন, আবার তেমনই তাদের জীবন ধারণের জন্যে পরষ্পরের উপর নির্ভরশীল আশ্চর্য এক বাস্তুতন্ত্রও নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। আমাদের পঞ্চ জ্ঞানেন্দ্রিয় দিয়ে আমরা তাঁর স্থূল অস্তিত্ব বুঝতে পারি না। কিন্তু আমাদের চারপাশে চোখ মেলে তাকালে তাঁর অমোঘ উপস্থিতি সর্বত্র টের পাওয়া যায়। ... ...

রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তন শুধু সংসদ বা বিধানসভার আসনের হিসাবে সীমাবদ্ধ থাকে না। রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রকৃত আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয় সুপারস্ট্রাকচার-এর মধ্য দিয়ে: বিশ্ববিদ্যালয়, পাঠ্যপুস্তক, বুদ্ধিজীবী সমাজ, সংস্কৃতির প্রতিষ্ঠান এবং দৈনন্দিন সাধারণ মানুষের চেতনায়। ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) দীর্ঘদিন ধরে এই গ্রামশিয়ান কৌশল সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন। কেন্দ্রে ক্ষমতায় থেকে তারা আইসিএআর, ইউজিসি, এনসিইআরটি থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপাচার্য নিয়োগ পর্যন্ত — প্রতিটি স্তরে একটি সুচিন্তিত সাংস্কৃতিক হেজেমনি প্রতিষ্ঠার প্রকল্প চালিয়ে গেছে এবং সামাজিক গণমাধ্যমে নিজস্ব বয়ান নির্মাণকে একটি অন্য স্তরে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। ... ...

ভদ্রলোকের নাম জুলিয়ান সাইমন - ইনি কিন্তু গোদা, বাঁধা-ছকের অর্থনীতিবিদ ছিলেন না। নিজেকে বলতেন ‘অপ্রথাগত অর্থনীতিবিদ’, আর মজা করে স্বীকার করতেন যে জীবনে ডেমোগ্রাফির একটাও ক্লাস করেননি, আর অর্থনীতির ক্লাস করেছেন সাকুল্যে দুটো! স্নাতক স্তরে তাঁর বিষয় ছিল মনোবিজ্ঞান, ডক্টরেট বিজনেস অ্যাডমিনিষ্ট্রেশনে। নিউ ইয়র্কে খানিকদিন বিজ্ঞাপনের ব্যবসা, তারপর ডাকযোগে জিনিসপত্র বেচার (মেল-অর্ডার) কারবার চালিয়ে শেষে তিনি এসে পড়েছিলেন অধ্যাপনায়। এই এলোমেলো, নানা-লাইনে-ঘোরা জীবনটাই বোধহয় তাঁকে বাঁধা ছকের বাইরে ভাবতে শিখিয়েছিল। বাজার আর মানুষের আচরণ - এই দুটো তিনি বুঝতেন বেশ ভালো ভাবে। সময়টা ষাটের দশকের মাঝামাঝি, ১৯৬৫ কি ১৯৬৬। এক পার্টিতে সাইমন কারও মুখে একটা দুঃখের কাহিনি শুনছিলেন - কীভাবে ভদ্রলোককে হঠাৎ প্লেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল, আর তার ফলে কী দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছিল। সেই আমলে ব্যাপারটা এমনই ছিল - প্লেনে বেশি লোক হয়ে গেলে এয়ারলাইন্স নিজের খেয়ালখুশি মতো কিছু যাত্রীকে বেছে নিয়ে বলত, “আপনি আজ যেতে পারবেন না।” কোনও দর-দাম নেই, কোনও রফা নেই - নেহাত কপাল খারাপ। পরদিন সকালে দাড়ি কামাতে কামাতে সাইমনের মাথায় হঠাৎ একটা কথা খেলে গেল - এর চেয়ে ভালো উপায় নিশ্চয়ই আছে। জোর করে কাউকে নামানোর দরকারটাই বা কী? এমন একটা বাজার তো বসানো যায়, যেখানে অপেক্ষা করতে যাঁর সবচেয়ে কম আপত্তি, তিনিই স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়াবেন। ... ...


এরকম আরও আওয়াজ তোলা হয়েছে। বাঙালিই তুলেছে। বিজেপির সম্ভাব্য পশ্চিমবঙ্গ জয় যে ভারতবর্ষজুড়ে একট বিরাট বিপর্যয়ের সূচনা, বাংলায় বহুবার বলা হয়েছে। এসআইআর স্রেফ এসআইআর না, একটা বড় পরিকল্পনার অংশ, ভোট ক্রমশ প্রহসনে পরিণত হচ্ছে, অবিজেপি শক্তিদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত, এও বহুবার বলা হয়েছে। ... ...


ঘটনাবহুল বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ শেষ হচ্ছে আজকে। ফুটবল বিশ্বকাপ সব সময়ই অন্য এক আমেজ। এই ভূগোলকে এর সাথে তুলনা হয় এমন আর কিছুই সম্ভবত নাই। পুরো বিশ্ব এক সময়ে, এক দিকে তাকিয়ে থেকে কাঙ্ক্ষিত দলের জয় কামনা করে। এ এক অবিশ্বাস্য কাণ্ড না? আমাদের ছোট্ট শহর শেরপুর, এখানে এই মধ্য রাতে খেলা দেখার কত আয়োজন! বিশাল বড় স্ক্রিন লাগান হয়েছে। যার যার দলের সমর্থকেরা এসে হাজির হচ্ছে। খেলা দেখতে গিয়ে তুমুল ঝগড়াও হচ্ছে। সব কিছু মিলিয়ে এক এক বিশাল আয়োজন। ঢাকার আয়োজন তো ইতোমধ্যেই সারা পৃথিবীর বুকে আলোড়ন তৈরি করেছে। আর্জেন্টিনা থেকে আর্জেন্টিনাবাসি আসছে ঢাকায় খেলা দেখার জন্য! অবিশ্বাস্য না? ব্রাজিলের চ্যানেল লাইভ করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির মাঠ থেকে। সবাই অবাক হয়ে দেখছে এ কেমন উম্মাদনা! গতকাল দেখলাম এক আর্জেন্টাইন টুরিস্ট কাপল থাইল্যান্ড ঘুরতে আসছিল। সেখান থেকে বাংলাদেশ দূতাবাসে গেছে ভিসার জন্য, ফাইনালটা তারা ঢাকায় দেখতে চায়! এই সবই বিশ্বকাপ ফুটবলকে এমন এক মাত্রা দেয় যা অন্য কোনকিছু দ্বারা সম্ভবই না। ... ...

১৯৭৯ সালে এক গবেষণার ফল বের হল যা দেখে অনেকেরই চোখ কপালে উঠে গিয়েছিল! তাঁরা দেখলেন, ম্যানেজারিয়াল পদের জন্য দরখাস্ত করলে সুন্দরী মহিলা প্রার্থীরা কম সুন্দরী প্রার্থীদের চেয়ে খারাপ মূল্যায়ন পাচ্ছেন। পুরুষদের বেলায় ঠিক উল্টো - সুন্দর পুরুষ সব পদেই সুবিধে পাচ্ছেন। এই ব্যাপারটার নাম হয়ে গেল 'বিউটি ইজ বিস্টলি', সৌন্দর্যই হিংস্র! পরে আরও পরিষ্কার দেখা গেল, সুন্দরী মহিলারা বিপদে পড়েন বিশেষত সেইসব চাকরির ক্ষেত্রে যেগুলো সমাজের চোখে 'পুরুষালি' এবং তখন তাঁদের ঘাড়ে চাপানো হয় একগুচ্ছ বিদঘুটে বিশেষণ: ধূর্ত, স্বার্থপর, ঝগড়াটে, ছলনাময়ী। তাহলে দাঁড়ালো গিয়ে সৌন্দর্য একই সঙ্গে কোথাও ঢোকার টিকিট আবার ফাঁদ! কোন দরজায় দাঁড়িয়ে আছেন, তার ওপর নির্ভর করে ঠিক হবে ওটা আপনাকে ঢুকতে দেবে নাকি ঠেলে বার করে দেবে। ... ...

সামসুর ভাইয়ের সঙ্গে আমার পরিচয় ফেলে আসা মহামারীর সময় থেকে। সামসুর ভাই আমাদের প্রতিদিনের সব্জির জোগানদার। প্রতিদিন সাতসকালে ভ্যান রিক্সায় টাটকা সব্জির পশরা সাজিয়ে সে এসে হাজির হয় আমার বাড়িতে। কেনা কাটার ফাঁকে ফাঁকে তার সঙ্গে গপ্পো চলে মাঝে মাঝে। এই অমূল্য কথোপকথনের সূত্র ধরেই আমার জানা হয়ে যায় এই সময়ের কৃষির টুকিটাকি নানান খবর। সে তার অভিজ্ঞতার ঝুলি মেলে ধরে আমার সামনে। আমি তা থেকে বিবিধ রতন সংগ্রহ করে নিই। কৃষি নিয়ে আমার কেতাবি জ্ঞানের ওপর সামসুর ভাইয়ের হাতেকলমে শেখা অভিজ্ঞতার পলি এসে জমা হয়। এই প্রবন্ধে তারই আলোচনা। ... ...

এই জগতে মানুষের অজান্তে বহুবছর ব্যর্থ যায়, মানুষের মনে এক মূহুর্তও বৃথা যাচ্ছে এই বোধ যখন আসে, সেটাই বহু বছরের থেকে বেশী ফলদায়ক। কারণ ওই জ্ঞান এলে, মানুষ নিজের মঙ্গলের চিন্তা শুরু করে। খট্টাঙ্গ নামে এক রাজর্ষি দেবগণের থেকে জানতে পেরেছিলেন, তাঁর মূহুর্তকাল মাত্র আয়ু অবশিষ্ট আছে, তৎক্ষণাৎ সকল আসক্তি বিসর্জন দিয়ে, ওই রাজর্ষি শ্রীহরির অভয়পদ লাভ করেছিলেন। ... ...


উচ্চ মাধ্যমিকের সিলেবাসে বাংলা প্রবাদ, ইংরেজি ফ্রেজ ইডিয়ম এবং তার প্রয়োগ অবশ্য পাঠ্য ছিল। ‘ তুমি যে ডুমুরের ফুল ‘ লিখলেই হবে না, তাকে মাত্র কখনো সখনো দেখা যায় বলেই যে সে এই কৌলীন্য অর্জন করেছে বাক্যের মধ্যে সেটি বোঝাতে হবে। নইলে মাথায় দুটি চাঁটি অবধারিত। বাংলা ইংরেজির প্রবাদ প্রচলনে জানা গেল কিছু বাক্যাংশ দু ভাষাতেই মেলে, একটু অন্য চেহারায় যেমন ‘ নাচতে না জানলে উঠোন বাঁকা ‘ আর ‘ এ ব্যাড ওয়ার্ক ম্যান কোয়ারলস উইথ হিজ টুলস’, যেমন ‘ অমাবস্যার চাঁদ’ আর ‘ ব্লু মুন’। ব্যতিক্রমও পেলাম – ইংল্যান্ডের কভেন্ট্রি নামক শহরে কেউ যেতে চাইতেই পারে কিন্তু জানতে হয়েছে কোনো মানুষকে সেখানে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া মানে তাকে দূর করে দেওয়া ( সেন্ড হিম টু কভেন্ট্রি )। টার্ন অফ ফ্রেজ শুধু কথার মার প্যাঁচ নয়, তার মধ্যে আছে সুপ্ত কৌতুকের আভাস। একটি কথাকে অন্যভাবে বলা, তার অর্থকে নিয়ে খেলা করাটা বুদ্ধির মধুর ব্যায়াম। কিন্তু তারও ভোল বদলাতে থাকল নয়ের দশকে। ইন্টারনেট টেকনোলজি কেবল এক নতুন যুগের সূচনা করে নি, তার প্রয়োগশালা অ্যাংলো কলা কৌশল সম্বলিত বাচন যার ভেতরে অনেক চেষ্টা করেও কোন বুদ্ধিদীপ্ত ভাবনার ইঙ্গিত খুঁজে পাই নি। কিছু নামি সি ই ও যেমন কালো টারটল নেক পরা স্টিভ জবস, অনেক মাথা মুণ্ডুর মালিক, ইনহিউমান রিসোর্সের সঞ্চালকবৃন্দ এমন স্টাইলিস্ট কেতায় তার যথেচ্ছ ব্যবহার করলেন যে অনুগামীবর্গ, , প্রেস, পাঠক এবং বৃহত্তর কর্ম জগত নির্দ্বিধায় তাকে মেনে নিলো। আহা বেশ, এই বুঝি নতুন বিজনেস ল্যাঙ্গুয়েজ, এই তব নব মেঘদূত ! অপূর্ব অদ্ভুত ! অন লাইনে চলিয়াছে অলক্ষ্যের পানে। ... ...

খ্রিস্টপূর্ব চতুর্দশ শতকে গ্রিসের পেলোপনেসাস উপদ্বীপ। মাইসিনীয় সভ্যতার কারিগরেরা ব্রোঞ্জের একটা তার বাঁকিয়ে এমন একটা জিনিস বানালেন, যেটা দেখতে অবিকল আজকের দিনের সেই জিনিসটার মত যার গল্প আজকে করব। একটা সূচালো মাথা, একটা কুণ্ডলী-স্প্রিং, আর একটা আঁকশি যেখানে মাথাটা আটকে থাকে। প্রত্নতত্ত্ববিদরা একে বলেন 'ফিবুলা'। প্রথম ধরনটার নাম 'ভায়োলিন-বো ফিবুলা', কারণ বাঁকটা বেহালার ছড়ের মতো চ্যাপ্টা। ... ...

যে ভিডিওর কথা বলছি সেখানে যে রণ সঙ্গীত বাজানো হচ্ছিল তা কোন নিরীহ রণ সঙ্গীত না। ওইটা ছিল আইএসের তৈরি করা একটা সঙ্গীত। সাবির নিজেকে আমির বলে দাবি করত। সে উপরে যে লিখলাম কলেমার পতাকা দিয়ে দেশ ভরতি করে ফেলেছে সেই দলেরই লোক। সে গণতন্ত্রকে কুফরি বলছে, হারাম করছে, খেলাফতের জন্য সবাইকে আহবান করছে। গত বছর যশোরে এক লোকের ইজি বাইক চুরি হয়, ভুক্তিভুগি থানায় অভিযোগ করলে জানা যায় এইটা সাবিরের লোকের কাজ। সাবির এর পক্ষে যুক্তি দেয় এইটা সারিয়া! সারিয়া কী? নবীর আমলে যে সব সামরিক অভিযানে নবী অংশ নিতো না তাকে সারিয়া বলা হত! বুইঝেন কিসের সাথে কী মিলাচ্ছে এরা। কেন এইটা সারিয়া? কারণ যার ইজি বাইক চুরি করছে সে হিন্দু ধর্মের অনুসারী, নাম কমল বিশ্বাস!! হিন্দুদের জিনিস কেড়ে নেওয়া যায় আবার ওইটাকে ধর্মের নামে জায়েজ করা যায়। আচ্ছা, এখানেই শেষ না, সাবির আটক হওয়ার পরে সবচেয়ে যে জোরেশোরে আওয়াজ তুলে তিনি কে? বিক্রমপুরই নামের চিহ্নিত জঙ্গি। একে ইউনুস সরকার মুক্তি দিয়েছে। সে মুক্তি পাওয়ার পরদিন থেকেই তার কাজ শুরু করে দিয়েছে। একদিনও বিশ্রাম নেয়নি। সেইই কাশিমপুর কারাগারে গিয়ে সোজা বলেছেন যে এখন ছেড়ে দিতে হবে জামাতের নেতাদের, জঙ্গি হিসেবে যারা আটক আছে তাদেরকে ছেড়ে দিতে হবে। কোন কাগজপত্র নাই, আইন কানুন নাই, এখন ছাড়তে হবে নাহ হলে সেখানে যে পুলিশ ছিল তাদেরকে দেখে নেওয়া হবে বলে হুমকিও দিয়েছে! এই পুতপবিত্র মালটা যে সাবিরকে বাঁচাতে আওয়াজ তুলবে তা তো জানা কথাই, তাই না? একদিকে পুলিশ জঙ্গি সন্দেহে ছয়জনকে আটক করেছে অন্য দিকে ক্রমাগত বলে যাচ্ছে দেশে কোন জঙ্গি, উগ্রবাদী নেই! বিক্রমপুরি এগুলা দেখে আর হাসে সম্ভবত। ... ...

সোনম বলেছেন তিনি হিরো না। ঠিক কথা। তিনি শ্রদ্ধেয় এবং সম্মাননীয় ব্যক্তি। তিনি নিজের জীবন বাজি রেখে লড়ছেন। সবকিছুতে মত মিলবেনা, কিন্তু লড়ছেন, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এবং এই লড়াইয়ে কোনো ঢিসুম-ঢাসুম হবেনা। খুব বেশি হলে মরে যেতে পারেন। ... ...

তা খাড়াই বলে খাড়াই… আমার অনভ্যস্ত ঠ্যাঙ আর তারচেয়েও বেশী অনভ্যস্ত হৃৎপিন্ড একটা করে বাঁক ঘুরলেই এমন দুমদুমাদুম করে লাফাতে থাকে যে কোথাও পাঁচমিনিট কোথাও আরো বেশী জিরিয়ে নিই। অনেক জায়গাতেই রাস্তা এত সরু যে জিরোতে গেলে ওই পাশের পাথরে ভর দিয়ে হেলে অন্যদের পাশ দিতে হয়। ওঠার লোক সব চলে গেলেও অনেকে নামছেন। ট্যুরিস্টই মূলত, একদিন বা দুদিন কাটিয়ে কিম্বা আরো উপরে ট্রেক করে ফিরছেন। সকলেই উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন ‘'বাস আ গ্যয়ে, অউর থোড়া হি যানা হ্যায়’’ এবং আমি চড়ছি তো চড়ছিই। ... ...

হঠাৎ কানে এল কারও গলা; তারুণ্যে ভরা স্বর, তাতে কিছুটা যেন বিদ্রূপ মেশানো; সে বলছে, “তোমাকে দিয়ে আর বেশি দিন চলবে না।” এর উত্তরে কেউ বলল, “কাউকে দিয়েই চির দিন চলে না; তবে যার যা কাজ তাকে সেটা শেষ পর্যন্ত করেই যেতে হয়।” এই গলার মালিক মনে হয় বয়স্ক। কারা কথা বলছে বুঝতে পারল না জয়দীপ, এদিক ওদিক তাকাল। খুব কাছ থেকেই শোনা গেল দুটো গলা, কিন্তু এই মুহুর্তে তো কাছাকাছি কেউই কথা বলছে না। ট্রেনে ঘোষণা হল এসপ্ল্যানেড স্টেশন আসছে। আবার চোখটা বুজে এল তার। প্রথম গলাটা ফের শোনা গেল,”তোমার চামড়া, তোমার রাবার সোল – সব গেছে। গত সপ্তাহে স্লিপ করেছ, আর একবার তো পেস্টিং খুলে যাচ্ছিল আর একটু হলেই। সময় হয়েছে, এবার সরে যাও। তুমি এখন লায়াবিলিটি।” ... ...