
আজকে এই যে গা ঝাড়া দিয়ে নিজের জাতি পরিচয়কে ফেলে দিয়ে ধর্মীয় পরিচয়কে আঁকড়ে ধরতে চাচ্ছেন, তা করে কী রক্ষা হবে? কালকে ধর্ম পরিবর্তন করলে বা ধর্মের প্রতি বিশ্বাস হারায় ফেললেই তো সব শেষ। ধরেন কেউ "বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি" বলে বুদ্ধের শরণ নিয়ে নিলো তখন? জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক বলে মাংস খাওয়া বাদ দিয়ে দিলো, তখন? ধর্ম পরিচয় বদলে যাবে না? রাগ কইরেন না। আমি বলতে চাচ্ছি ধর্ম পরিচয় পরিবর্তন করা যায়, করে মানুষ। বহু মানুষ ধর্ম পরিবর্তন করছে। কিন্তু আপনার জাতি পরিচয়? ওইটা কীভাবে মুছবেন? এই দুনিয়ায় বেঁচে আছেন যতদিন, যদি এই ভূখণ্ডেই বিয়ে শাদী করে সন্তান জন্ম দিয়ে থাকেন তাহলে আপনি তো অবশ্যই এবং আপনার সন্তানও কোনদিন নিজের জাতি পরিচয় মুছতে পারবে না। এখন আপনি যতই ঘাউরামি করেন আর যাই করেন। ... ...

সরগমের সাতসুরের কথা মাথায় রেখে সাতটি গল্পের ডালি। আজ তৃতীয় সুর গা.... ... ...
প্রবল বিরোধিতা পশ্চিমবঙ্গের শাসক দলের তরফে এবং নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে প্রায়শই তর্ক, সাক্ষাৎকারে "গেট লস্ট" হয়ে যাওয়ার ঘটনা, নির্বাচন শুরু থেকে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনের সমস্ত আধিকারিকদের অন্যত্র পাঠিয়ে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন করার চেষ্টা নির্বাচন কমিশনের তরফে এই রণংদেহি মেজাজেরই প্রতিফলন। নির্বাচন কমিশন যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষে ব্যাট করছে না বা তার তথাকথিত নিরপেক্ষ চরিত্র বজায় রাখছে না, সে সম্পর্কে সন্দিহান সব পক্ষই। ... ...
সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন করেছিলেন, "শুধু পশ্চিমবঙ্গেই এতো অশান্তি, অসুবিধে কেন?" এর উত্তর সহজ। পশ্চিমবঙ্গের বিচারাধীন তালিকায় যে সাম্প্রদায়িক ঝোঁক স্পষ্ট দেখা যায়, সেই এক-ই প্যাটার্ন অন্য রাজ্যে নেই। এই কথা আমরা ও অন্য বিশ্লেষকরা শুরুর দিন থেকেই বহুবার বলেছেন এবং বলেই যাচ্ছেন, এবং তথ্যও সেই এক-ই দিকনির্দেশ দেয়। সঙ্গের ছবিতে দেখুন, তামিলনাড়ুর জেলাভিত্তিক বাদ পড়ার হার ও মুসলিম জনঘনত্বের মানচিত্র। দুই মানচিত্রের মধ্যে কোনো সাযুজ্য নেই। যেমনটা ছিলো পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে, বিচারাধীনের হার ও মুসলিম জনঘনত্বের মধ্যে। ... ...

এদিকে নোবেলের ম্যানের আরেক কিচ্ছা বের হয়ে আসছে। তারা যেহেতু বিশ্বাস করত আগের সব খারাপ তাই লীগ সরকার যে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করে আসছিল তা তারা বাদ দিয়ে দিয়েছিল! ফলে টিকা নাই হয়ে যায় দেশ থেকে। যেখানে বাংলাদেশের এই টিকাদান কর্মসূচি দুনিয়া জুড়ে প্রশংসিত হয়ে আসছে সেখানে আমাদের শিশুরা টিকা পায় নাই। হামের টিকা পায় নাই! এখন এর ফল আসা শুরু হয়েছে। প্রায় দুইশ শিশু মারা গেছে এই কয়দিনে! প্রথমে বিএনপির স্বাস্থ্য মন্ত্রী লীগের ঘাড়ে দোষ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। বহু বছর ধরে টিকা বন্ধ এমন একটা কথা বলে বসে। পরে দেখা গেল না, শুধু টিকা না, এর মধ্যে টিকা দানের জন্য লীগ সরকার পুরস্কারও পেয়েছে তখন সুর পরিবর্তন করা হল। এখন মোটামুটি তারাও বলা শুরু করছে যে ইনুস সরকার হামের টিকা নিয়ে সর্বনাশ করেছে যার ফল ভুগছে শিশুরা। আমরা জানি শুধু হাম না, আরও অনেক কিছুই সেই সময় ইনুস সরকার বাতিল করেছে। জন্ম নিয়ন্ত্রণের জন্য যে ক্যাম্পেইন চলত এখন আর তা চলে না। সব বন্ধ। এইডসের ওষুধ সরকারি ভাবে দেওয়া হত, যক্ষ্মার চিকিৎসা বিনামূল্যে দেওয়া হত। এইসবই এখন বন্ধ। ইনুস সরকার বন্ধ করে গেছে! হামের বিপদে আমরা এখন পড়েছে, বাকি গুলোর জন্য বিপদে পড়ব না? কিন্তু! কিন্তু আপনি এইসবের কিছুই সংসদের আলোচনায় পাবেন না! এতগুলো শিশু মারা গেল, সংসদে এই নিয়ে তেমন কোন কথাই নাই। উল্টো এনসিপির এক নেতা, সারজিস আলমের একটা ভিডিও দেখলাম সেখানে জুলাই সনদ বাতিল হয়ে যাচ্ছে, মানুষ ওইটা নিয়ে কথা না বলে কেন হামের টিকা নিয়ে কথা বলছে তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে! এনসিপির নেতারা যদিও তাদের জুলাই আন্দোলনের জন্য দায়মুক্তি পেয়ে গেছে। তবুও তারা এখন জুলাই সনদ নিয়ে পড়ে আছে। হামের কারণে শিশুর মৃত্যুও তাদের কাছে গৌণ হয়ে যাচ্ছে। হাসনাত বলেছে আবার জুলাই হবে! জুলাই সনদকে বাস্তবায়ন করার জন্য তারা আবার জুলাই আনবে! ... ...



"হে পার্থ, এই জগতে দৈব এবং আসুর, এই দুই প্রকার স্বভাবেরই জীব ও মানুষ সৃষ্টি হয়েছে। দেবসুলভ মানুষের কথা তোমাকে আগেই সবিস্তারে আমি বলেছি, এখন অসুরসুলভ মানুষের কথা বলছি, শোন"। তাহলে দেবতা ও অসুর কি কোন আলাদা গোষ্ঠীর মানব প্রজাতি নয়? তারা কি প্রকৃতপক্ষে - আমরা যে মানুষ - সেই মানুষেরই দুই রূপ বিশেষ? ... ...

তিনি (মহারাণি সুনীথা) এখন এই রাজভবনের অন্দরমহলে সর্বময়ী কর্ত্রী এবং এর পরেও তিনি তাই থাকবেন! এ বিষয়ে মন্ত্রীমণ্ডলীর কোন নিয়ন্ত্রণ চলে না! অতএব অন্দরমহলের প্রতিটি বিষয়ে তাঁর হস্তক্ষেপ থাকবেই। তাতেও পরিস্থিতি ক্রমাগতঃ জটিল হয়ে উঠতে থাকবে! আমাদের নবীন রাজা ও নবীনা রাণির জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠতে খুব দেরি হবে না। খুব সংক্ষেপে যদি শুনতে চাও, বৎস, তাহলে বলি, আমি মহারাণি সুনীথাকে এই রাজভবনের অন্দরমহল ও বারমহলের সব কিছু থেকেই বিচ্ছিন্ন রাখতে চাই! ... ...
মিশেল যা দেখেছেন আমেরিকায়, সেই এক-ই ছবি আমি দেখছি আমার দেশে। জাতি ও শ্রেণির ভিত্তিতে যে বৈষম্য বহু বছর ধরে পূঞ্জীভূত হয়ে ছিলো আমাদের দেশে, আশঙ্কা হয়, এস-আই-আর সেই জাতিভেদ ও পাহাড়প্রমাণ অসাম্যকেই নতুন সূক্ষ্ম একটি রাজবস্ত্র পরিয়ে দিলো। অসাম্য দূরীকরণ তো বাদ-ই দিন, বরং সামাজিক ভেদাভেদকে একটা আপাত-নিরপেক্ষ আইনের আদল দিলো, আমাদের চোখের সামনেই। আমরাও দেখে গেলাম, “চোপ আদালত চলছে”। ... ...

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যের রাজনৈতিক আঙিনায় বেশ কিছু পুরোনো লব্জ ঘোরাফেরা করছে, যেমন কেন্দ্র রাজ্য বঞ্চনা, ভাতা বনাম চাকরি, উন্নয়ন বনাম ধার, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ইত্যাদি প্রভৃতি। এই সব গুলিই তাদের নিজস্ব পরিসরে যথেষ্ট গুরুত্ত্ব রাখছে বা রাখবে নিশ্চিত। কিন্তু বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে বাঙলার সামাজিক মানচিত্রের এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও শ্রেণিগত ফাটল দানা বাঁধছে, যা হয়তো এই নির্বাচনের জনমতের অভিমুখ নির্ধারণে অনুঘটকের কাজ করতে পারে, সর্বোপরি এই প্রবণতা আমাদের বর্তমান সময়ের নিরিখে খুব জরুরি একটি পর্যবেক্ষণ। কাজেই সেই বিষয়টি দিয়ে আলোচনা শুরু করা যাক। মূলত গ্রাম শহর যে বিভাজনটি বঙ্গ রাজনীতিতে বরাবরই খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে এবং বলতে পারা যায় যে একটি নিয়ামক হয়ে এসেছে, সেখানে একটি রূপান্তরের আভাস পাওয়া যাচ্ছে পরিষ্কারভাবে। এই রূপান্তরের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এক বিশাল 'অ্যাসপিরেশনাল ক্লাস' বা উচ্চাকাঙ্ক্ষী সমাজ, যারা এখন আর কেবল মহানগর-কেন্দ্রিক বা গ্রাম কেন্দ্রিক নয়, বরং বিস্তৃত হয়েছে জেলা-সদর বা মহকুমা স্তরের বর্ধিষ্ণু গ্রামগুলোতেও ... ...
এই লেখায় কিছু পরিসংখ্যানগত পদ্ধতি ব্যবহার করে দেখার চেষ্টা করেছি ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনীর কারণে কোন ধরনের বিধানসভা আসনে নাম বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ... ...

চেনাজানা কিছু শব্দ, সেগুলোকেই টেনেটুনে বাঁকিয়ে চুরিয়ে নতুন করে দেখার চেষ্টা করেছেন মেটেদা। কী কী শব্কেদ? মেটেদাই বা কে? জানতে হলে পড়তে হবে এই উদ্ভট ডিকশনারি। ... ...

সরগমের সাতসুরের কথা মাথায় রেখে সাতটি গল্পের ডালি। ... ...

প্রখ্যাত কবিদের সঙ্গে গল্পে, কবিতা পাঠে, গানে এক অবিস্মরণীয় আড্ডার 'লাইভ' রেকডিং । এক ঐতিহাসিক কয়েক ঘণ্টার বিরল অভিজ্ঞতা । আগ্রহী শ্রোতাকে আপ্লুত করে রাখবে। ... ...


ক্ষর ও অক্ষর এই দুইধরনের পুরুষ জগতে প্রসিদ্ধ। বিনাশী বিকার থেকে উৎপন্ন সমস্ত ভূতকে ক্ষর পুরুষ এবং কূটস্থ নির্বিকার পুরুষকে অক্ষর বলে। এই দুই পুরুষ ছাড়া আরেক জন শ্রেষ্ঠ পুরুষ আছেন, তিনিই পুরুষোত্তম নামে অভিহিত হন। ভূঃ, ভুবঃ আর স্বঃ -এই তিন ভুবনের মধ্যে অবস্থান ক’রে, তিনিই অব্যয় ঈশ্বররূপে সকলকে পালন করেন। [ক্ষর কথার অর্থ যার ক্ষরণ বা ক্ষয় হয় - অর্থাৎ বিনাশী, নশ্বর। আর অক্ষর হল তার বিপরীত, অর্থাৎ অবিনাশী, অব্যয়, অবিনশ্বর] ... ...

আপনিও কি রাজা বেণের প্রভাবে অধর্মে বিশ্বাসী হলেন? আপনি বৃদ্ধ, আপনি প্রজ্ঞাবান্ - আপনি কি জানেন না, ঈশ্বরের অবতারকেও আবাহন করে আনতে হয়? আর্তজনের আগ্রহেই তিনি ধরিত্রীতে অবতীর্ণ হন। ভক্তদের আন্তরিক ও একনিষ্ঠ আরাধনায় বিচলিত হয়েই তিনি এর আগেও এসেছেন, - চরম বিপন্ন সাহায্যপ্রার্থী দেবতা এবং নরকুলকে রক্ষা করতে! ... ...

গ্রিক জনপদগুলির নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থ নিয়ে খেয়োখেয়ি বা যুদ্ধের বৃত্তান্তগুলিকে কোনো ঐতিহাসিকই গুরুত্ব দেন না। বরং, এইসব যখন থামতো, সেই সময়টুকুর স্মৃতি মানুষ কীভাবে বহন করেছিল, তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আল্পস পর্বতের গা বেয়ে ওঠার সময় সারাদিনের ঝড় আর তুষারের সঙ্গে লড়াইয়ের পর পর্বতশীর্ষে চোখ-ধাঁধানো সূর্যোদয়ের স্মৃতি যেভাবে পর্বতারোহীর মনে গেঁথে যায়, এ স্মৃতি অনেকটা সেইরকম। সময়ের সঙ্গে স্মৃতি ক্রমাগত ফিকে হতে থাকার সময়, ঊষার আলোয় উদ্ভাসিত কিছু বিশেষ চূড়ার ছবি মানুষের মনে থেকে যায়, তার সঙ্গে বেঁচে থাকে এই জ্ঞানটুকু – মেঘের আড়ালেও এক মনোরম শোভা বর্তমান, আর যে কোনো সময় মেঘ সরে গিয়ে তা নজরে পড়বে। প্লেটো ছিলেন শুরুর দিকের খ্রিস্টধর্মের কাছে এমনই এক আলোকোজ্জ্বল শীর্ষ, আরিস্তোতলও তা-ই ছিলেন মধ্যযুগের চার্চের চোখে; কিন্তু নবজাগরণের পর মানুষ যখন রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দিতে শুরু করে, তাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ হয় প্লুতার্কে। অষ্টাদশ শতকের ইংরেজ ও ফরাসী প্রগতিশীলদের ওপর যেমন, তেমনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্মাতাদের ওপরও তাঁর অসামান্য প্রভাব ছিল; জার্মানির রোম্যান্টিক আন্দোলনে তো তাঁর প্রভাব ছিলই, পরোক্ষভাবে তিনি আধুনিক জার্মান চিন্তাধারাকেও (অনুবাদক: চল্লিশের দশকের) প্রভাবিত করেছেন। ... ...
