


১৯৪৭ সালে চার ভাই উদ্বাস্তু হয়ে প্রায় শূন্য হাতে লুধিয়ানায় পৌঁছে সাইকেলের যন্ত্রাংশের কারবার শুরু করেন। ১৯৮৬ সাল নাগাদ হিরো সাইকেলস পৃথিবীর বৃহত্তম সাইকেল নির্মাতা। Around the same time আসানসোলের কাছে চালু হয় সেন র্যালে, ব্রিটিশ অংশীদার নিয়ে, ভালো প্রযুক্তি নিয়ে, ভারতের প্রিমিয়াম সাইকেল হয়ে। শেষে সেটি রুগ্ণ সংস্থা হিসেবে রাজ্যের হাতে যায়। একই দেশভাগ, একই বছর, উল্টো ফল, আর পার্থক্যটা প্রতিভার নয়, পুঁজির নয়, দুর্ভাগ্যেরও নয়। দ্বিতীয় পর্ব দেখছে পরের চল্লিশ বছরে বাংলা কী করল: ফ্রেট ইকুয়ালাইজেশন আর বাঙালি ব্যাঙ্কের নিঃশব্দ পতন, ঘেরাওয়ের বছরগুলি, একদা নোবেলজয়ী গবেষণার প্রতিষ্ঠানগুলোর ভিতর থেকে ফাঁকা হয়ে যাওয়া, আর এমন এক নিষ্ক্রমণ যা উদ্বেগের বিষয় হওয়া ছেড়ে স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছিল। ... ...

গুজরাতে নথিভুক্ত ছয়টি রাজনৈতিক দল। আম জনমত পার্টি, সত্যবাদী রক্ষক পার্টি, স্বতন্ত্রতা অভিব্যক্তি পার্টি, নিউ ইন্ডিয়া ইউনাইটেড পার্টি, ভারতীয় ন্যাশনাল জনতা দল এবং গরিব কল্যাণ পার্টি। নির্বাচন কমিশনের পরিভাষায় এরা "রেজিস্টার্ড আনরেকগনাইজড পলিটিক্যাল পার্টি" (RUPP), অর্থাৎ, নথিভুক্ত, কিন্তু স্বীকৃত নয়। অর্থাৎ এমন দল যারা হয় কখনো নির্বাচন লড়েনি, অথবা লড়লেও রাজ্য বা জাতীয় দলের স্বীকৃতি পাওয়ার মতো ভোট বা আসন পায়নি। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে এই ছয়টি দল অনুদান পেয়েছে প্রায় ১,৭০০ কোটি টাকা! সংখ্যাটার মাপ বোঝার জন্য একটা তুলনা জরুরি। ওই একই অর্থবর্ষে সেই সময়ের পাঁচটি জাতীয় দল, যাঁদের আপনি নামধাম জানেন - কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি, বহুজন সমাজ পার্টি, সিপিআই(এম) এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টি, এরা সবাই মিলে অনুদান পেয়েছিল ১,৪৮০ কোটি টাকা। অর্থাৎ গুজরাতের ঐ ছয়টি অখ্যাত দল একসাথে দেশের পাঁচটি জাতীয় দলের চেয়ে দুশো কোটিরও বেশি টাকা তুলেছে। এদের চেয়ে বেশি অনুদান পেয়েছে শুধু একটি দল, যার নাম গ্যেস করার জন্য কোনো প্রাইজ নেই। বিজেপির ঘোষিত অনুদান ছিল ২,৬০৪.৭৪ কোটি টাকা। ছয়টির মধ্যে সবচেয়ে বড় নাম আম জনমত পার্টির ভাঁড়ে একাই ৬২০ কোটি টাকা। আগের বছর, ২০২২-২৩-এ, এই দলটির অনুদান ছিল ২১৬ কোটি। এক বছরে প্রায় তিনগুণ। তুলনায় ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের ২০২৩-২৪-এর অনুদান ছিল ২৮১ কোটি টাকা। অর্থাৎ যে দলের নাম আপনি আজকের আগে শোনেননি, তার তহবিল কংগ্রেসের দ্বিগুণেরও বেশি। বাকিদের হিসাব: সত্যবাদী রক্ষক পার্টি ৩৩০.৫৫ কোটি, স্বতন্ত্রতা অভিব্যক্তি পার্টি ২১৯.৬৯ কোটি, নিউ ইন্ডিয়া ইউনাইটেড পার্টি ২০০.৬৯ কোটি, ভারতীয় ন্যাশনাল জনতা দল ১৯১.৬১ কোটি, গরিব কল্যাণ পার্টি ১৩৮ কোটি। ... ...

সব মিলিয়ে আমার দিব্য লাগল। কোনো হিন্দুত্বের বালাই নেই। এমনকি দুগ্গাপুজোর কার্নিভালও নেই, সেটা অবশ্য এবার হবে কিনা জানিনা। বরং নকু-মাকু-লিবুদের সাম্য-মৈত্রীর ইন্টারন্যাশানাল জাতীয় একটা ভাব আছে। বানানো অবশ্য এআই দিয়ে, তবে একটু সস্তা এআই। যিনি বানিয়েছেন, তিনি ভালো মার্জিন রেখেছেন মনে হয়। বানাতে কত টাকা লেগেছে অবশ্য জানিনা। কোন কোম্পানি বরাত পেয়েছিল তাও না। গুজরাত-টুজরাতের হতেই পারে, কারণ যিনি বানিয়েছেন, তিনি কখনও পশ্চিমবঙ্গ দেখেননি। ... ...

রাজধানী শহরের পথ নিয়ে পথচারীদের অসুবিধের শেষ নেই। অথচ সেই পথেরই কেন্দ্রে আর প্রান্তে হাজারো রসনা তৃপ্তির আয়োজন। কলকাতার পথ মানে তাই অনিবার্য পথের খাবার। সুদীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি শহরের পথে পথে ঘুরে বেড়ানো পান্থজনের রঙিন অভিজ্ঞতা নিয়েই এই লেখা। অফিসপাড়া সহ আরও নানা প্রান্তীয় এলাকার পথ আর পথের খাবারের সুলুক সন্ধান আর তারই সঙ্গে অজানা নানা মানবিক সম্পর্কের রামধনু ক্যানভাস ... ...

এবারের বিষয় ব্লু স্কাই। কাকে বলে, কিকরে শুরু করবেন, ইত্যাদি। কাজে লাগবে। ব্লু স্কাই করে দেখুন। অন্য রকমের সমাজ মাধ্যম। টুইটার ফেসবুক ইন্সটা গুরুচন্ডালি তো করলেন, এটাও একবার চেষ্টা করে দেখুন, ভাল লাগবে। এখানে যা লেখা আছে তাই দিয়ে দিব্যি শুরু করে দিতে পারবেন। সচিত্র। ... ...

আজ ৫-ই সেপ্টেম্বর। আজ শিক্ষক দিবস। আজ গৌরী লঙ্কেশের চলে যাওয়ার দিন। ২০১৭ সালের ঠিক এই দিনেই সন্ধ্যে আটটার একটু পরেই, খুন হন গৌরী লঙ্কেশ। সেই মুহূর্তের বর্ণনা বহুলপঠিত। তবুও বইটি পড়তে পড়তে শিউরে উঠি পড়ে, কল্পনাপ্রবণ বলেই হয়তো স্পষ্ট দেখতে পাই, "সিঁড়ির প্রথম ধাপে তিনি হুমড়ি খেয়ে পড়লেন। তাঁর হালকা নীল কুর্তায় রক্ত ছড়িয়ে পড়ল। তাঁর নড়বড়ে চটিটা তখনো তাঁর পায়ে সেঁটে ছিল।" ... ...

কেন্দ্রীয় সরকারের সবচেয়ে বড় দক্ষতা-প্রশিক্ষণ প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনা, সংক্ষেপে PMKVY বা স্কিল ইন্ডিয়া। ২০১৫ থেকে ২০২২, তিন পর্বে সরকার এই প্রকল্পে ছেড়েছে ১০,১৯৪ কোটি টাকা, আর সার্টিফিকেট দিয়েছে ১ কোটি ১০ লক্ষ জনকে। খাতায় কলমে এর উদ্দেশ্য - দেশের বেকার তরুণ-তরুণীদের হাতে-কলমে কাজ শিখিয়ে রুজিরুটির একটা ব্যবস্থা করা। যদিও আসল উদ্দেশ্য ব্যাপক দুর্নীতি ও চুরি। ২০২৫ সালে ভারতের নিয়ন্ত্রক ও মহাগণনা পরীক্ষক, অর্থাৎ CAG, এই প্রকল্পের একটা পারফরম্যান্স অডিট রিপোর্ট প্রকাশ করেন, রিপোর্ট নম্বর ২০। সেই রিপোর্টে অল্প চোখ বোলালেই বোঝা যায়, হিসেবের খাতায় এল-এইচ-এস আর আর-এইচ-এসের মধ্যে আর ইজুকালটু নেই। এক বাঁও মেলে না, দো বাঁও মেলে না, আসলে বিশ বাঁও জলে আমাদের তরুণের স্বপ্ন। তিনটে উদাহরণ দিলেই ছবিটা মোটামুটি পরিষ্কার হয়ে যায়। ... ...

তিন তাসের জুয়ার কথা ভাবুন। মাটিতে বসে একজন তিনটে তাস উল্টেপাল্টে সাজায়, লাল টেক্কাটা কোথায় ধরতে পারলেই দ্বিগুণ টাকা। এখানে হাতের কারসাজি, মানে যে "থ্রো"-তে চোখের সামনে দিয়ে তাস বদলে যায় সেটা আসলে “বিভ্রান্তির সূত্র”: আপনি যা দেখতে চাইছেন সেই দিকেই চোখ আটকে থাকে, আর ঠিক তখনই আসল কাজটা হয়ে যায় আড়ালে। ভিড়ের ভেতর থেকে যে লোকটা বারবার জিতে যায়, সে সাজানো খেলুড়ে, মানে “পালের সূত্র”: "অন্যরা তো জিতছে, তবে আমি নই কেন?" আপনার নিজের যে লোভটা আপনাকে টেবিলের দিকে টানে, সেটা “প্রয়োজন-ও-লোভের সূত্র”। আর মজার ব্যাপার, অনেক সময় খেলুড়ে আপনাকে ফিসফিস করে বলে, চলুন দুজনে মিলে আসল লোকটাকে ঠকাই, অর্থাৎ আপনাকেই সামান্য অসৎ হতে প্ররোচিত করা হয়, যাতে ঠকে যাওয়ার পর লজ্জায় পুলিশের কাছে যেতে না পারেন। এটাই “বেআইনি-সংসর্গের সূত্র”, ঠকবাজের সবচেয়ে নিষ্ঠুর বর্ম। ... ...

মহর্ষি শুকদেবের বক্তব্য বিষ্ণুর অবতার তত্ত্বকে স্পষ্ট করে তুলল, বিষ্ণুর তির্যক অবতারগণ হলেন, বরাহ, মৎস্য, কূর্ম; নর অবতারগণ - রাম, কৃষ্ণ, পরশুরাম, বুদ্ধ; সুর অবতার - বামন (দেবমাতা অদিতির পুত্র)। রইল বাকি নৃসিংহ আর কল্কি। নর ও সিংহ রূপে তিনি নৃসিংহ - অর্থাৎ তিনি নরও বটেন আবার তির্যকও বটেন। আর কল্কি তো ভবিষ্যতের কথা। ... ...

এই সব কাওমি মাদ্রাসায় সবচেয়ে বেশি পড়ে কারা? গরীব এতিম বাচ্চারা। এখন একবার ভাবেন, একটু মাথাটা চুলকিয়ে চিন্তা করেন কবে আপনি শুনছেন মাদ্রাসায় ছেলে শিশু ধর্ষণ হয়েছে আর সে এতিম ছিল? মনে পড়ে? কোনদিন শুনছেন এমন ঘটনা? তার মানে কী? এতিম বাচ্চাদের কেউ ধর্ষণ করে নাই আজ পর্যন্ত? উত্তরটা চিন্তা করে কি এখন শিউরে উঠছেন? ঠিক তাই! এতিম বাচ্চাদের ধর্ষণের খবর প্রকাশই হয় না। এদেরকে নিকট আত্মীয় যারা আছে তারা দায় সারার জন্য এগুলা মাদ্রাসায় দিয়ে যায়। এদের দেখার কেউ নাই, শোনার কেউ না। এদের মত অসহায় কেউ নাই। যাদের মা বাবা আছে তারা একটা সময় ধরতে পারে যে তার বাচ্চার কিছু একটা সমস্যা হচ্ছে, আদরেই হোক যেভাবেই হোক তারা শেষ পর্যন্ত ধরতে পারে। যদিও এদের মধ্যেও অনেক গল্পই প্রকাশ পায় না। আর এতিম বাচ্চাদের ক্ষেত্রে? কে প্রকাশ করবে? রক্ষক হচ্ছে ভক্ষক সেখানে, রক্ষা করবে কে? এখন একবার চিন্তা করেন তাহলে, মাদ্রাসায় নির্যাতনের শিকার শিশুর পরিমাণ কত তাহলে? কত শতাংশ প্রকাশ পায়? কত বড় একটা কুৎসিত দিক আমরা দেখেও না দেখার ভান করে দিনের পর দিন কাটিয়ে দিচ্ছি? লজ্জা ঘৃণায় বমি আসে আমার এই সব চিন্তা করলে। ... ...

১৯৪৩ সালে কুড়ি থেকে ত্রিশ লক্ষ বাঙালি অনাহারে মারা যান। বৃষ্টি হয়েছিল, খাদ্য ছিল, মানুষ তবু মরেছিল। অথচ হলোকস্ট নিয়ে ছবি হয়েছে পাঁচশো, আর মন্বন্তর নিয়ে দশটা, তাতেও খলনায়ক মজুতদার, কোনও ঔপনিবেশিক প্রশাসক নন। একই সঙ্গে আমরা নায়কের তালিকা গুটিয়ে এনেছি গুটিকয় নামে, আর যাঁরা প্রতিষ্ঠান (Institution) আর কারখানা (Factories) আর শহর (Infrastructure) গড়েছেন তাঁদের রেখে দিয়েছি এক প্যারাগ্রাফে। এই লেখা সেই দুটো ভুল নিয়ে: যে অভিযোগপত্র পরের প্রজন্মের কাছে পৌঁছয়নি, আর যে উত্তরাধিকার আমরা নিজেরাই ছেঁটে ফেলেছি। ... ...

গোটা সন্ধ্যেটা ওরা সেই কাঠের আগুনের চারদিকে ভাবলেশহীন হয়ে বসে থাকে। সকলেরই বয়স কুড়ি-তিরিশ, তবে দিনের রোদ আর রাতের আগুনের তাপে চোখেমুখে বয়সের ছাপ পড়েছে। ... ...

আস্তে আস্তে এবার একটা মুখ স্পষ্ট হলো। আধখোলা চোখ, জোড়া ভুরু, ঠোঁটে নৈবর্ত্তিক হাসি। ... ...


এরপর আবার দুগ্গাপুজো। কয়েকবছর ধরে শুনছিলাম, পশ্চিমবঙ্গে পুজো করতে দেওয়া হয়না। অনেকেরই সন্দেহ ছিল, যে, আমরা কি তাহলে সবাই ভুল দেখছি? সবই মায়া? এই যে ইউনেস্কো হেরিটেজ, এটাও কি জাল সার্টিফিকেট? কদিন আগে দিলীপ ঘোষ সেটাও পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দিয়েছেন। কিছু একটা হত ঠিকই, কিন্তু সেটা শারদোৎসব। দুগ্গাপুজো না। ... ...

উদার মানবঈশ্বরবাদ ... ...

