নীলকান্ত✍️ সিদ্ধার্থ লাহানীলকান্ত, হেঁটে যায়, সামনে ধূধূ প্রান্তর ধূসর ভবিষ্য পথ, আকন্ঠ তেষ্টা, হৃদয়ে তেষ্টা, মনতে মনন্তরের মৃত মাটি।সাথে কে আছে! যার হাতে ভর দিয়ে যায় হাঁটা !বলা যায়- না বলা ব্যাথা।বৃষ্টিহীন গ্রীষ্ম আকাশে উড়ে উড়ে ঘুরে ঘুরে চাতক ফটিক জল- ফটিক জল বলে ডাকে।নীলকান্ত হেঁটে যায় ক্লান্ত চরনে !কয়েকটি জোনাকি দেয় আলো তিমির আকাশে ! ... ...
নতুন আর পুরানো প্ল্যাটফর্মের মাঝখানে লোকটা বসতো । ফিটফাট, পরিপাটি জামাকাপড়, ক্লিন শেভড বরাবর। পেয়ারা দোকানটার যে পাশে লোকটার টেম্পোরারি ফুটপাতের দোকান খুলতো, তার আগে জায়গাটা ভালো করে ঝাঁট দিয়ে পরিষ্কার করে একটা গ্লাসে অল্প করে বালি ভরে তার মাঝে দুটো ধূপ জ্বালিয়ে সামনে সাজিয়ে রাখতো তার সব সরঞ্জাম। আর পাশে একটা ছোট্ট টুল, পা রাখার জন্য নরম গদির একটা বালিশ, সাথে একটা পাটের সুতোয় একদিকে আগুন লাগিয়ে ঝোলানো। নাম জিজ্ঞাসা করিনি কোনদিনই। বিদেশে বিভুয়ে চাকরি পাবার পরই নাকি আমি ডিপ্রেসড, লোক বলতো। আমি জানি, আমি ভীতু। নেপাল ভূমিকম্পে বেঁচে ... ...
তোমার 'স্পর্শ', 'সেন্ট অফ এ উইমেন'এ দেখিআল পাসিনোর কৃষ্টি! 'ইজাজত' বলো, 'মাসুম' বলো অসাধারণ সব সৃষ্টি।দেখেছি তোমার 'আক্রোশ'-সাথে দেখেছি তোমার 'পার', এমন দক্ষ, বিশ্ববরেণ্য -অভিনেতা মেলা ভার। দেখেছি তোমার 'মির্চমশালা', দেখেছি তোমার 'জুনুন' -দেখেছি তোমার 'নিশান্ত' 'ভূমিকা'-একটা 'কথা' শুনুন;চিরকাল জানি আবেগপ্রবণ -স্পষ্ট বক্তা তুমি, যা কিছু বলো বিশ্বাস থেকে, তাই মনে হয় দামি।থিয়েটার তোমার মনপ্রাণ আজো, অভিনয় স্বতঃস্ফূর্তমঞ্চে জাগে 'মার্ক এ্যানটনী' 'কিং লীয়রের' চরিত্র। আরও কত শত করেছো যে কাজ হিসাব কোথায় পাই, শিল্পী হিসেবে, মানুষ হিসেবে তুলনা তোমার নাই। দু- দুবার সমাদৃত জাতীয় পুরস্কারে-ভেনিসে তোমার শ্রেষ্ঠত্বেস্বদেশ গর্ব করে!শিল্পীর কর্তব্য বোধে বিরোধে ছিলে সামিল-লক্ষ লক্ষ ছাত্র ছাত্রী জিতলো তোমার দিল। তোমার সাহসী অভিব্যাক্তিসঠিক পথের হদিস;'আলবার্ট পিন্টো... ' কে- তাই অকুণ্ঠ কুর্নিশ!! ... ...
আমার মনে হয়, আজকাল আমার চিন্তাভাবনা এক্সিস্টেনশিয়ালিজম এবং অ্যাবসার্ডিজম—এই দুই দর্শনের মাঝখানে কোথাও দাঁড়িয়ে আছে। কখনও মনে হয় এক্সিস্টেনশিয়ালিস্টদের কথাই ঠিক, আবার কখনও মনে হয় অ্যাবসার্ডিস্টদের দৃষ্টিভঙ্গিই বাস্তবতার কাছাকাছি। এই দ্বন্দ্ব থেকেই আমি বারবার ভাবতে বাধ্য হই। যখন প্রথম ইন্টারনেট ব্যবহার করা শুরু করি, তখন আমার মনে হতো—জীবনের উদ্দেশ্য কী? আমি পৃথিবীতে কেন এসেছি? মানুষের অস্তিত্বের কোনো চূড়ান্ত অর্থ কি আছে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞান, দর্শন এবং বিভিন্ন লেখালেখি পড়ে আমার মনে হয়েছে যে, মহাবিশ্বে মানুষের অস্তিত্ব মূলত এক বিশাল কাকতালীয় ঘটনার ফল। জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় অসংখ্য শর্ত পৃথিবীতে একসঙ্গে মিলে গিয়েছিল বলেই এখানে প্রাণের উদ্ভব হয়েছে। এর মধ্যে ... ...
তারপর একদিন মেঘ এল,খুব বৃষ্টি হল সেদিন।প্রলয়ের মতো।বাড়িতে বসে আমি তখন নিজের বুকটাকে খুলে মেলে ধরলাম বৃষ্টিতে,ভেতরের সব আবর্জনা ধুয়ে গেল,আমি আবার ফিরে গেলাম ঘরের ভেতর।এরকম হতেও পারত,এটা চিত্রকল্প না হয়ে বাস্তব হতো যদি?যদি তুমি ছেড়ে গেলে ধুয়ে নেওয়া যেত তোমার স্মৃতি,মা মরে গেলে যদি তার হাসি বারবার মনে পড়ে বুকটা ভার না করত আর?-ধুয়ে নিলে একবার!এমন তো হতেই পারত,শুধু আবছা অবশেষ পড়ে থাকত স্মৃতির,মাঝে মাঝে শেষ পাতের আচারের মতো জিভে দিতাম একটু,তেমন কাতর করত না আমায়।কিন্তু এমন বৃষ্টি হয় না এ ধরায়,যাতে মন ধোয়া যায়।লোকে পাপ ধোয় যদিও,মন ধোয় না কেউ। ... ...
বাঙালির জীবনে দুটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—এক, খাওয়া; দুই, খাওয়ার পর আবার কী খাওয়া হবে তা নিয়ে আলোচনা। পৃথিবীর অনেক জাতি বেঁচে থাকার জন্য খায়, কিন্তু বাঙালি খাওয়ার জন্যই যেন বেঁচে থাকে!সকালে ঘুম থেকে উঠেই বাঙালির প্রথম চিন্তা, “চা হয়েছে?” চা হাতে পেলেই দ্বিতীয় প্রশ্ন, “আজ জলখাবারে কী?” লুচি-আলুর দম হলে মুখে হাসি, আর ওটস বা কর্নফ্লেক্স দেখলে মনে হয় যেন জীবনের সব আনন্দ এক মুহূর্তে শেষ হয়ে গেল।বাঙালির বাড়িতে অতিথি এলে বিপদ। অতিথি যতই বলুন, “না না, কিছু লাগবে না”, গৃহকর্ত্রী ততই দৃঢ়স্বরে বলবেন, “ওসব হবে না, একটু মুখে দিতেই হবে।” সেই ‘একটু’ বলতে সাধারণত চার-পাঁচ রকমের মিষ্টি, মাছের ঝোল, মাংস, চাটনি এবং শেষে দই বোঝায়। অতিথি যখন হাঁফাতে হাঁফাতে বলেন, “আর পারছি না”, তখন উত্তর আসে, “এই তো না... কিছুই খেলেন না!”মাছ বাঙালির আবেগ। ইলিশের মরসুম এলে সংবাদপত্র, টেলিভিশন, বাজার—সব জায়গায় একটাই আলোচনা। মনে হয় না যেন মাছ এসেছে, মনে হয় কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলন বসেছে। আবার চিংড়িপ্রেমীরাও কম যান না। তাদের মতে, চিংড়ি মাছ নয়। সে এক যেন শিল্পকর্ম। যা পাতে পাতে সেজে ওঠে মালাইকারি রূপে। চিংড়ি যাতেই দাও তার স্বাদ বাড়িয়ে আকাশ ছুঁইয়ে দেবে।বিয়েবাড়িতে বাঙালির আসল প্রতিভা প্রকাশ পায়। নিমন্ত্রণপত্র হাতে পাওয়ার পর থেকেই মেনু নিয়ে গবেষণা শুরু হয়। অনুষ্ঠানে গিয়ে কেউ কনের গয়না দেখেন, কেউ সাজসজ্জা দেখেন। কিন্তু অধিকাংশ বাঙালির চোখ থাকে ক্যাটারারের দিকে। “মাটনটা কেমন হয়েছে?”, “ফিশ ফ্রাই কয় পিস দিচ্ছে?”, "লুচি না ভাত?”, "ক'রকম মিষ্টি করেছে? পান্তুয়া আছে তো?" "কি আইসক্রিম হয়েছে?" ইত্যাদি ইত্যাদি—এসবই প্রধান আলোচ্য বিষয়।আর মিষ্টি? বাঙালির কাছে মিষ্টি হলো ভোজনের পূর্ণচ্ছেদ। রসগোল্লা, সন্দেশ, মিষ্টি দই—এসব ছাড়া খাবার শেষ হয়েছে বলে মনে হয় না। ডায়াবেটিস ধরা পড়ার পরেও অনেকে বলেন, “ডাক্তার মিষ্টি খেতে বারণ করেছেন, তবে একটা ছোট রসগোল্লা খেলে কিছু হবে না!” সেই ‘একটা’ যে কবে তিনটে হয়ে যায়, তা কেউ টের পায় না।তবে বাঙালির খাওয়ার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—খাওয়ার সময় খাওয়া নিয়ে আলোচনা, আর খাওয়া শেষ হলে পরের খাওয়ার পরিকল্পনা। তাই বলা যায়, বাঙালির ইতিহাস, ভূগোল, সাহিত্য—সবকিছুর মাঝখানে কোথাও না কোথাও একটা গরম ভাত, মাছের ঝোল আর মিষ্টির প্লেট নিশ্চয়ই লুকিয়ে আছে।শেষ কথা, বাঙালিকে যদি সত্যিই খুশি করতে চান, তাহলে বড় বড় বক্তৃতা নয়—এক প্লেট ভালো খাবার সামনে রাখুন। তারপর দেখুন, কীভাবে তার মুখে ফুটে ওঠে সেই চির চেনা তৃপ্তির হাসি!বাঙালির খাওয়াদাওয়া — এক শিব্রামীয় পর্যবেক্ষণবাঙালির দুটি প্রধান অঙ্গ আছে—একটি মুখ। অন্যটি পেট। মাঝখানে যে শরীরটা রয়েছে, সেটি মূলত এই দুটির যোগাযোগ রক্ষার জন্যই ঈশ্বর তৈরি করেছেন।আমি ছোটবেলা থেকেই লক্ষ্য করেছি, বাঙালি খেতে বসার আগে খাবার নিয়ে আলোচনা করে। খাওয়ার সময় খাবার নিয়ে সমালোচনা করে। আর খাওয়ার পরে পরের বেলার খাবার নিয়ে পরিকল্পনা করে। অর্থাৎ খাওয়া যতক্ষণ না হচ্ছে, ততক্ষণ খাওয়ার চিন্তা; আর খাওয়া হয়ে গেলে খাওয়ার স্মৃতি।একবার এক বাঙালি ভদ্রলোককে জিজ্ঞেস করলাম, “আপনার শখ কী?”তিনি বললেন, “খাওয়া।”আমি বললাম, “আপনার পেশা?”তিনি একটু ভেবে বললেন, “ওটাও মোটামুটি খাওয়াই। একটি অফিসে চাকরি করি, যাতে খেতে পারি।”বাঙালির সঙ্গে মাছের সম্পর্ক খুবই নিবিড়। অনেকের ধারণা, ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্বে কোথাও একটা ধাপ বাদ পড়েছে। বাঁদর থেকে মানুষ নয়, বাঙালির ক্ষেত্রে মাছ থেকে মানুষ হয়েছে। নইলে মাছ দেখলে এত আবেগ আসে কী করে?বিশেষত ইলিশ। ইলিশের প্রতি বাঙালির শ্রদ্ধা এমন যে, তাকে মাছ বলা অন্যায়। ইলিশ একটি অনুভূতি। বাড়িতে ইলিশ এলে তার জন্য আলাদা অভ্যর্থনা হওয়া উচিত। আমার তো মনে হয়, অনেক বাঙালি আত্মীয়স্বজনের চেয়েও ইলিশকে বেশি ভালোবাসে। আত্মীয় এলে জিজ্ঞেস করে, “কতদিন থাকবে?” আর ইলিশ এলে বলে, “আর একটু নেব?”মিষ্টির ক্ষেত্রেও বাঙালির আত্মসংযম বিস্ময়কর। চারটে রসগোল্লা খাওয়ার পর সে ঘোষণা করে, “না না, আর পারব না।” তারপর সৌজন্যবশত আরও দুটো খেয়ে নেয়। কারণ, মিষ্টি নষ্ট করা পাপ।বিয়েবাড়িতে বাঙালির প্রকৃত চরিত্র প্রকাশ পায়। কনে কে, বর কে, তাদের পরিচয় কী—এসব গৌণ বিষয়। প্রধান প্রশ্ন হলো, ফিশ ফ্রাই কয় পিস? মাটনটা কেমন? আইসক্রিম আছে তো?অনেককে দেখেছি, বিয়ে থেকে ফিরে বলছেন, “ছেলেটা কী করে জানি না, তবে চিংড়ির মালাইকারিটা জাস্ট ফাটাফাটি ছিল।”খাবার নিয়ে বাঙালির স্মৃতিশক্তিও প্রবল। স্কুলের ইতিহাসের শিক্ষক যতই চেষ্টা করুন, পলাশীর যুদ্ধের সাল অনেকেই ভুলে যেতে পারে। কিন্তু ১৯৯৮ সালের এক আত্মীয়ের বিয়েতে পরিবেশিত কাশ্মীরি আলুর দমের স্বাদ আজও মনে আছে।আর বাঙালির রান্নাঘরে আলুর স্থান তো প্রায় মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর মতো। মাছে আলু, মাংসে আলু, ডিমে আলু, শুধু চায়ে আলু দেওয়া এখনও শুরু হয়নি। তবে সময় বড়ই শক্তিশালী জিনিস—ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কিছু বলা যায় না।সবশেষে বলি, পৃথিবীর বিভিন্ন জাতি নানা কারণে বিখ্যাত কেউ শিল্পে, কেউ বিজ্ঞানে, কেউ বাণিজ্যে। বাঙালিও এসব ক্ষেত্রে কিছু কম নয়, কিন্তু খাওয়াদাওয়ার প্রতি তার নিষ্ঠা একেবারেই অনন্য। তাই যদি কখনও কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা হয়—‘বিশ্ব খাদ্যচিন্তা অলিম্পিক’—তবে বাঙালির সোনার পদক প্রায় নিশ্চিত।কারণ বাঙালি শুধু খায় না, খাওয়াকে ভালোবাসে; শুধু ভালোবাসে না, তাকে নিয়ে আলোচনা করে; আর শুধু আলোচনা করে না, সেই আলোচনা করতে করতেই আবার খেতে বসে যায়।"এসো বসি আহারে" ... ...
খাপখোলা তরোয়াললেখক : শংকর হালদার শৈলবালারচনাকাল : ২৪ জুলাই, ২০২৬লেখার স্থান : কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ অন্যায়ের আঁধারেতে বিপ্লব জাগে,খাপখোলা তরোয়াল দীপ্তিপ্রভায় লাগে।শোষকের চক্রান্তে কাঁপে ধরাতল,সোচ্চার প্রতিবাদে জাগে ভুক্তবল। ভণ্ডামি আর ছলে চেপে রাখে সত্য,শৃঙ্খলে বেঁধে রাখে নিপীড়িত মর্ত্য।পাপের প্রাসাদ আজ কেঁপে ওঠে ডরে,দীপ্ত তরোয়াল জ্বলে চেতনার করে। অত্যাচারী শাসকের অহংকার দিন,অবসানে মুছে যাবে অপমান ঋণ।খাপখোলা ইস্পাত তেজ যে ছড়ায়,পাপীর কলঙ্ক-মুখ নির্ভয়ে কাটায়। আর্তের ক্রন্দনেতে জাগে প্রতিরোধ,নিপীড়িত জনতার পুঞ্জীভূত ক্রোধ।মুক্তির হুঙ্কারেতে থমকায় কাল,উদ্যত ন্যায়ের অসি রুখে শঠতার জাল। আইনের নামে চলা প্রতারণা খেলা,ভেঙে চুরে গুঁড়ো হয় সংগ্রাামী বেলা।জনতার শাণিত এ ধারালো কৃপাণ,অধিকার কেড়ে নিতে দেবে বলিদান। ভয়হীন হৃদয়েতে জাগে নব সুর,বিজয়ের আলো এসে ছড়ায় প্রচুর।খাপখোলা তরোয়াল ন্যায়ের যে ... ...
স্বৈরতন্ত্রের অবসান ও জাগ্রত জনতালেখক : শংকর হালদার শৈলবালারচনাকাল : ২৪ জুলাই, ২০২৬লেখার স্থান : কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ একদিন স্বৈরাচার হবে ছারখার,গণ-অভ্যুত্থানে ভাঙবে শাসনের দ্বার।সেনা-অভ্যুত্থান যদি জাগে রাজপথে,অবাক হবে না কেউ সময়ের রথে। সারা বিশ্বজুড়ে আজ কেন হাহাকার?মৃত্যু আর হত্যায় কি হয় সমাধান আর?সহিংস বাণের মুখে ধুঁকে মরে প্রাণ,শান্তির বার্তা ভুলে পশুর সম্মান! যন্তর মন্তরে জাগে ন্যায়ের লড়াই,আহত নিহতের ত্যাগে অশ্রু দিয়ে যাই।আত্মত্যাগী রক্তে আজ ধন্য হলো ধরা,বিপ্লবী চেতনায় জাগে বসুধারা। প্রতিরোধ গড়ে তোলো শোষিত জনতা,অত্যাচারী শাসকের ভাঙো বর্বরতা।শহীদের আত্মত্যাগে শুভ দিন আসে,শুভ শক্তি জয়ী হয় সত্যের বিশ্বাসে। তুচ্ছ নয় কোনো প্রাণ এই ধরণীতে,অধিকার পেতে চায় সমান প্রীতিতে।অস্ত্রের হুঙ্কার বন্ধ হোক তবে,শান্তিময় পৃথিবীতে নতুন ভোর হবে। স্বৈরাচারী ... ...
আমাকে কেউ কোনোদিন খুব ভালোবাসেনি,কেউ আমার নাম বুকে লিখে প্রমাণ করার চেষ্টা করেনি,সে আমাকে কতটা ভালোবাসে।কেউ কেউ আলগোছে একটু অভিনয় করেছিল,কেউ অবেলায় খাবার বাসি হয়ে যাওয়ার ভয়ে যেমন খেয়ে নেয়,সেভাবেই আমাকে বেছে নিয়েছিল।আমি বরাবরই বাহুল্য। এমন নয় আমার বন্ধু নেই,প্রেমিকা নেই।কিন্তু সবাই আমায় ভুলে যায়,প্রেমিকারা অন্যের হাত ধরে চলে যায় নির্দ্বিধায়।আমি শুধু পেছনে ছুটে মরি,জিজ্ঞেস করি,শুধু একবার বলে যাও,"কেন?"কোনো উত্তর আসে না। আমি প্রাণ ঢেলে ভালবেসেছি,আমি উপেক্ষা করে দেখেছি।কিন্তু কিচ্ছু হয়নি। কারো হৃদয়ের ঘরে শুধু আমার মূর্তি থাকেনি,শুধু আমায় ভালোবেসে কেউ শহীদ হতে চায়নি। এখন আমি একা বসে থাকি,পিঁপড়ে এসে দাবি করে স্থান,কখনো কেঁচো,শেয়াল,কুকুর,বর্ষায় উদবিড়াল।আমি ছেড়ে দিয়ে সরে বসি,আবার কেউ দাবি করে,আর একটু সরে ... ...
হাঁফ ধরা পাটকিলে আকাশে বৃষ্টির ফোঁটা কোলে নিয়ে দমকা একটা ঝড়ভালবাসার উঠোনে নেমে এলে ভাল লাগে, বড় বড় গাছগুলোকে যখন ঝাঁকায় ধমনীর রক্তস্রোত বেসামাল দোল খায়। বুকের ভিতর গম্ভীর গুরু গুরু মেঘ ডাকে, গোপনে ঝলসায় তরোয়ালের মতো বিদ্যুৎ, ক্রান্তির একটা খর বাসনা ঘুম ভেঙে উঠে বসে উৎসুক। ঈশান কোনে কুন্ডলী পাকিয়ে উঠেছে এক ভীম দ্রোহঝড় বুকের ভিতর তপ্ত ভিসুভিয়াস জাগিয়ে নিয়ে, তপ্ত লাভার মতো দিল্লির জনপথে নেমেছে দু্র্মর তরঙ্গ, ভেঙে গেছে ভীরুতার বাঁধ ধড়িবাজ রাষ্ট্রের নির্লজ্জ ব্যারিকেড। ওৎ পেতে বসে থাকা প্রভুদের মাংসাসি গ্রেহাউন্ড পড়েছে ঝাঁপিয়ে উষ্ণ রক্তের খোঁজে, রক্ত আর লোভ... রক্তেই মিশে থাকে লোভ। ওরা চায়, ধ্বংস হোক সবকিছু, থাকুক শুধু লোভী রাজনীতির উইপোকাদের খাদ্য এক নির্বোধ সংবিধানের ঘুনধরাঝুরঝুরে ... ...
প্রশ্নফাঁস ইস্যুটা শুধুমাত্র ছাত্রদের ইস্যু নয়। এটা একটা জাতীয় ইস্যু। তাই এই ইস্যু শুধুমাত্র ছাত্রদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। ছাত্রদের শক্তিশালী করতে জাতি-ধর্ম-রাজনীতি নির্বিশেষে এক ছাতার নীচে সংঘবদ্ধ হতে হবে। রাজপথে নামতে হবে। অভিভাবকদেরও ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। শাসকের বুকে কাঁপুনি ধরিয়ে দিতে হবে। কোনো শাসকই অপরাজেয় নয়। কোনো শাসকই সর্বশক্তিমান নয়। শেষ কথা বলে জনগণ। রাহুল গান্ধি, প্রিয়াঙ্কা গান্ধি, সোনিয়া গান্ধি, মল্লিকার্জুন খাড়গেরা দিল্লি পৌঁছে গেছে, অখিলেশ যাদব পৌঁছে গেছে, উদ্ভব ঠাকরে পৌঁছে গেছে। মহুয়া মৈত্র পৌঁছে গেছে বটে, মমতা-অভিষেক কেন এখনো কলকাতায় বসে আছেন? বামেদের নতুন প্রজন্মের বিপ্লবী নেতানেত্রীরা কোথায়? দিল্লির ময়দানে কাউকে তো দেখছি না। ... ...
( ২৯ ) সন্ধের দিকে অতীশ আবার একদিন এসে হাজির হল সোমনাথের বাড়ি। সোমনাথ বেশির ভাগ সময় কোন না কোন দলিল দস্তাবেজ বা কাগজপত্রে চোখ বোলাতে ব্যস্ত থাকে। সে বসে থাকার লোক না। সর্বদাই ব্যস্ত। এগুলো যে কার দলিল কার দস্তাবেজ কে জানে। অতীশের ওসব জানার কোন আগ্রহ নেই। এমনিতেই অন্যের ব্যাপারে তার কৌতূহল খুব কম, তার নিজের সমস্যা নিয়েই সে সর্বদা বিব্রত থাকে। অতীশকে দেখে সোমনাথ বলল, ' আরে এস এস... তোমাকে ফোন করতাম একটু পরে। যাক, এসে গেছ ভাল হয়েছে... ' ----- ... ...
যাদবপুর ৮বি স্ট্যান্ডের কাছে কাউন্টার এরার দোকানে কিছু সংঘ পরিবার সংশ্লিষ্ট লোকজন আজ দুপুরে এসে হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ। তাদের নাকি বক্তব্য ছিল ওখানে দেশদ্রোহী বই বিক্রি হচ্ছে। এটা দেশজুড়ে ঘটমান প্রবণতা।সংঘ পরিবারের নানা সংগঠন বা আইটি সেলের কাজই এসব করা। প্রগতিশীল, সমন্বয়বাদী বা অম্বেডকরবাদী অথবা বামপন্থী ন্যারেটিভ যা হিন্দুত্বকে চ্যালেঞ্জ করে সব কিছুই তাদের দুচক্ষের বিষ।এসবকে দেশদ্রোহী তকমা লাগানোই এদের কৌশল। কথা বলেই কথার অধিকার আর হিন্দুত্ববাদী ন্যারেটিভের বিপরীতে সমন্বয়ের ন্যারেটিভের চর্চা করেই এসবের মোকাবিলা হবে। তবে ভদ্দরলোকের সুখী সুখী বইমেলার যে কী পরিণতি হতে চলেছে তার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ... ...
ভবিষ্যতের মনুষ্যকে ভূতে মারে ঢিল;অদ্ভুত এই ভূতের সঙ্গে 'উলঙ্গ রাজা'র মিল! রাজার দুটো শিংমগজ টা মিসিং-ছোঁ-মেরে নিয়ে গেছে শিকারী এক চিল।।
আজ সকালে সৈকতবাবুর কণ্ঠে ও আলোর পথযাত্রী গানটা শুনছিলাম, জানি না কেনো এই গানটা শুনলেই কেঁদে ফেলি। ....... তারপর আরো দুটো গান শুনলাম - কারার এই লৌহকপাট, আর যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে। ও আলোর পথযাত্রী, আর, একলা চলো রে আমার বরাবরের জ্বালানি। আমাকে আবার উঠে দাঁড় করায় এই গানগুলোই। Dekhun, কি অদ্ভুত, আজ আর ডেনভার, গিটার, বাঁশি কিছুই শুনতে ইচ্ছে ... ...
পথে এবার নামো সাথী পথেই হবে পথচলা আজ সারাদিন ধরে কালক্যাটা ইয়ুথ কোয়ারের গান গুলো শুনেছি। ....আজ সারাদিন ধরে বৃষ্টি পড়েছে কম বেশি; অন্য দিন হলে সেতার, সুমন, Celine Dion এইসব বেজে চলতো কাজের সঙ্গে সঙ্গে। .....হ্যাঁ তবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যেতে যেতে একলা পথে, যেকোনো বৃষ্টির দিনে আমার বরাবরের প্রিয়। .....আজও শুনেছি। ...অনেকবার শুনেছি। .....শ্রীকান্ত আচার্য্যর কণ্ঠে। .....আর বারবার মনে হয়েছে বৃষ্টিস্নাতা হয়ে আমিও একবার ওদের ভিড়ে দাঁড়াই। ....ওই যারা বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে পুলিশের মার খেয়েছে। ...আর বলেছে : 'মারো স্যার অউর মারো '। .....এমন অদম্য সাহসের এক কণাও আমার নেই . আজ সারা দেশ " নুতন যৌবনেরই দূত "। ।....এই ... ...