প্রিয় সায়নদাদা, রাধিকাকীর্তন থেকে সম্প্রতি করবিকুসুমে এসে পৌঁছলাম . তোমার চোখে কলকাতা , নীল রঙ, শীত আর লেভেল ক্রসিং এর ছবি দেখে মনে করলাম তোমায় চিঠি লিখবো . ওই যে তুমি বলেছো, পাঠকের মনের তন্ত্রী সুর মিলিয়ে বাজলে তবেই কবিতার সার্থকতা . সেটি বোধহয় " চৌষট্টি ফৈজত সার্থক হয়েছে . তবে আমার তো চোখের ব্যামো আর সেই সঙ্গে মাথারও ব্যামো . আমি "রাধিকা সংবাদ " পড়ার সময় প্রতি পাতায় প্রতি কবিতায় মোটা অক্ষরে ছাপানো একটি করে লাইন দেখতে পেয়েছি . সেই লাইনগুলো এক দুপুরে বসে বসে সব কুড়িয়েছি . সেই সব লাইনগুলো নিয়ে পার্মুটেশন কম্বিনেশন ... ...
কোরাল ব্লিচিং কোরাল বা প্রবাল হলো একধরনের অমেরুদণ্ডী সামুদ্রিক প্রাণি যারা যূথবদ্ধ জীবন যাপন করতে অভ্যস্ত। একই প্রজাতির ছোট্ট প্রবাল পলিপসরা লাখো লাখো সংখ্যায় একত্রিত হয়ে উষ্ণ ক্রান্তীয় মণ্ডলের সমুদ্রের অগভীর অংশে গড়ে তোলে তাদের জন্য এক আশ্চর্য আবাসিক এলাকা বা কলোনি যা সাধারণভাবে রীফ নামে পরিচিত। শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রবাল কীটদের দেহ থেকে ক্যালসিয়াম কার্বনেট নিঃসৃত হয় যা পরবর্তীতে শুকনো হয়ে শক্ত চুনট খোলসে পরিণত হয়। পৃথিবীর উষ্ণ মণ্ডলের বিস্তির্ণ অংশ জুড়ে প্রবালরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে কলোনি বানিয়ে বাস করে। দুনিয়ার কমবেশি ১০০ টি দেশের সীমান্ত প্রান্তিক সমুদ্রের অগভীর অংশে আবাসিক কলোনি বানিয়ে বাস করে প্রবালেরা। তবে পৃথিবীর ছটি দেশে ... ...
রূপকথা পুনের সেমিনার শেষ করে কলকাতায় ফিরেছে পরশুদিন। চাইল্ড অটিজম-এর দুদিনে মোট ছটা সেশান হয়েছে ওখানে। এসে চয়নকে ফোন করেছিল তিনবার।তিনবারই মোবাইল বেজে গেছে। কেউ ধরেনি। চয়নের বাবা চল্লিশ লাখ টাকা কোর্স ফি-তে বোস্টনের একটা ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেছে তাকে। বোধহয় সেখানে চলে গেছে সিয়াটেল থেকে। কিন্তু ফোন রিসিভ না করার কারণ কি ? রূপকথা বেশ অবাক হয়। কিন্তু অবচেতন মনে এক ধরণের স্বস্তি অনুভব করে। তার মনে হয় চয়নের সঙ্গে তার সম্পর্কটা বোধহয় টিকে থাকার নয়। সিয়াটেলে চয়নের লজের রুমে তার একেবারেই যাওয়া উচিৎ হয়নি। কি যে মতিভ্রম হয়েছিল। সে ইদানীং উপলব্ধি করতে পারে যে, চয়নের সঙ্গে তার ... ...
অমরকণ্টক পাহাড় ও বনভূমিময়। এই পাহাড়ের রেঞ্জটির নাম মৈকাল বা মহাকাল। এই মৈকাল রেঞ্জের অমরকণ্টক অংশটি থেকে দুটি নদীর উৎপত্তি – নর্মদা ও শোণ। নর্মদা পশ্চিমবাহিনী আর শোণ পূর্ববাহিনী। ভারতের দক্ষিণ-উপদ্বীপ অংশের দীর্ঘতম পশ্চিমবাহিনী এই নর্মদা নদী মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, গুজরাট পেরিয়ে আরব সাগরের খাম্বাত উপসাগরে মিশেছে। আর পূর্ববাহিনী শোণ মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ পেরিয়ে বিহারের দানাপুরের কাছে গঙ্গায় মিশেছে। শোণকে সোনা ও মৈকালসুত নামেও জানা যায়। শোণের উৎসটি শোণমুড়া নামে পরিচিত। এই দুই নদীর সৌজন্যে অমরকণ্টকের ভৌগোলিক গুরুত্ব যথেষ্ট। পাহাড়, জঙ্গল ও নদীর উৎস – সব মিলিয়ে স্থানটির সাধন ও ভক্তিমাহাত্ম্যও অপরিসীম। অকৃপণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য, যাকে অনায়াসে বলা যায় ভার্জিন বিউটি, ... ...
ইউএসএ-তে মিডটার্ম ইলেকশন ব্যাপারটা নিয়ে ভাবলাম একটু ... এই তো ২০২৪ সালে ইলেকশন হল ... ভোটে রিপাবলিকানরা জিতলেন ... ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হলেন ... তার দুবছর পরে ২০২৬-এ আবার এই মিডটার্ম ... এটা আবার কী? ... ট্রাম্প তো প্রেসিডেন্ট থাকবেন ২০২৮ অবধি ... তাহলে এই মিডটার্ম ভোট নিয়ে এত ক্যালোরব্যালোরের আছেটা কী? সিস্টেমে দুটো চেম্বার বা হাউস আছে (মোট ৫৩৫ সিট) : -- সেনেট (১০০) : আপার হাউস/চেম্বার, এর সদস্যদের বলা হয় সেনেটর..-- হাউস অফ ... ...
চাম্মু চামারের জাদু রোববারের বাজারটা সারতে এমনিই আমার একটু সময় লেগে যায়। থলেটা একটু ভারি হয়। একটু আমিষের গন্ধ, একটু ফলফুলুরি, পথেঘাটে কিছু চেনামুখের সঙ্গে চোখাচোখি, একটু গল্পগাছা, মোড়ের দোকানে কড়িমিঠি চা। ছোটশহর, তার শেষপ্রান্তে গিয়ে পেট্রলপাম্প থেকে মোটরবাইকে এ সপ্তাহের খোরাক লিটারতিনেক তেল ভরানো। তারপর বাড়ি ফিরে ঘেমোজামা ছেড়ে আরো এককাপ চা খেয়ে ঘরের কাজে একটু হাত লাগানো।ধরুন, বাগানের গাছগুলোতে জল দেওয়া বা পাইপ দিয়ে মোটরবাইকটা ধোওয়া; আর মাসের প্রথম রোববার হলে মুদির, থুড়ি কিরানা দোকানের থেকে আসা জিনিসপত্তর, চাল ডাল তেল নুন চিনি মশলাপাতি গুছিয়ে তুলতে গিন্নির সাথে একটু হাত লাগানো। সুখের চেয়ে স্বস্তি ভাল।আজকের রোববারটা বছরের অন্য একান্নটা ... ...
( ২ ) কাউন্সিলার কল্লোল দত্ত হাতে ব্যাগ নিয়ে বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। তিনি দেখেশুনে থমকে দাঁড়িয়ে গেলেন।তিনি ত্রিকালের কথা অনেক শুনেছেন। কিন্তু নিজের চোখে এই প্রথম দেখলেন। আকাশের নীল সামিয়ানার নীচে হৈমন্তী রোদ্দুর খেলা করছে। কল্লোল দত্ত হাঁ করে তাকিয়ে রইলেন। তার মনে বড় আশা জাগতে লাগল তার সব বাধ্যবাধকতা, অক্ষমতা এই রোবটটা ঢেকে দিতে পারবে।শুভাশিস সম্মোহিত হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। সে বলল, ‘ সপ্তপর্ণী গাছটা ও..ই দিকে ..... ওখানেই আমার ঘর।ওদিকে গেছে লোকগুলো.... ‘ত্রিকাল বলল, ‘ ঠিক আছে। এখানে বস ..... কোথাও যেতে হবে ... ...
কিছুদিন আগে দিল্লির রামলীলা ময়দানে ঘটে যাওয়া বিশাল জনসমাবেশ দেখে আমরা অভিভূত। শাসকের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক শক্তি পুঞ্জীভূত হচ্ছে, এ বড়ই আশার ব্যাপার। দেশজুড়ে এক ভাষা, এক রং, এক সংস্কৃতির রোলার চালিয়ে দিতে চাওয়া রাষ্ট্রশক্তির বিরুদ্ধে এত রঙের সমাহার! আশা জাগে। এত প্রবীণের মাঝে আগুনের শিখার মত নেহা বোরার উপস্থিতি, বাম শক্তিগুলির চলমান আন্দোলনে এমন সক্রিয় অংশগ্রহণ, মতাদর্শের দোহাই দিয়ে এযাবৎ বয়ে নিয়ে চলা কিছু উন্নাসিকতাকে খণ্ডন করার প্রচেষ্টা এবং দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের রাজনীতি নতুন করে ফর্মুলেট করার প্রয়াস ভরসা জোগায়।কিন্তু ভয় থেকেই যায়। কারণ গতকাল পুরুলিয়ার মানবাজারে নদী-বন-পাহাড়-জমির উপর অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে লক্ষাধিক আদিবাসী মানুষের জমায়েতের খবর আমাদের কাছে ... ...
( ১ ) মহাদেব দীনবন্ধুকে বললেন আমাদের রামায়ণ মহাভারতের টিভি সিরিয়ালগুলোয় দেখেছ তো কেমন অটোমেটেড মিসাইল জেনারেট করছে বিভিন্ন ক্যারেকটার। আমার মনে হয় ব্যাপারটা রোবোটিকস-এর একটা ইন্টিগ্র্যাল ডিভাইস হতে পারে। ‘দীনবন্ধুবাবু খবরের কাগজে চোখ বোলাচ্ছিলেন। মুখ তুলে বললেন, ‘ আরে দারুণ বললে তো .... এভাবে ভাবিনি কখনও সত্যি। ‘—- ‘ হ্যাঁ .... আমি যেটা বলছিলাম এটা যদি ত্রিকালকে দিয়ে করানো যায়। অ্যাসাল্ট রিবাফ আর কি ! কিংবা অফেন্স রিট্যালিয়েশান। ‘দীনবন্ধু একটু তাকিয়ে থেকে বললেন, ‘ ঠিক বুঝলাম না। দুষ্টের দমন তো ত্রিকাল করেই থাকে। ‘—- ‘ হ্যাঁ তা করে। কিন্তু সেটা ... ...
আমার সবচেয়ে পছন্দের শব্দবন্ধের অন্যতম হল একটি বাংলা বাগধারা - উঠল বাই তো কটক যাই! আর সবচেয়ে আনন্দের কাজ হল ওই কটকটার জায়গায় অন্য অন্য নাম বসিয়ে একটা বেড়াবার দিবাস্বপ্নের ছক কষে ফেলা! এমন দিবাস্বপ্নের সংখ্যার কোনো সীমা-পরিসীমা নেই! সেই কোথাও আমার হারিয়ে যাবার নেই মানা.... ! তবে এই সব দিবাস্বপ্নের মধ্যে যেকটি বাস্তবায়িত হয় তাদের সংখ্যাটা নেহাৎই সীমিত। সেই রকম বাস্তবায়নেরই একটা ঘটনা ঘটে গেল সদ্য। আমরা চার বন্ধু মিলে – মধুমিতা, সর্বাণী, কাকলি আর আমি, চার সিনিয়র সিটিজেন – কটা দিন কাটিয়ে এলাম মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়ে টুকটাক ঘুরে বেড়িয়ে। অক্টোবরের ন’তারিখ সন্ধ্যেরাতে ট্রেনে চড়েছি, বম্বে মেইল। সেই মেইল দশ ... ...
কালী ক্ষেত্র কলকাতার প্রাচীনত্বের ইতিহাসে সাক্ষী বহন করে চলেছে বিধান সরণির এই প্রাচীন কালী মন্দির। "রামকৃষ্ণ কথামৃত" থেকে জানা যায় স্বয়ং শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের যাতায়াত ছিল এই কালী গৃহে। কথিত ইংরেজির ১৭০৩ অর্থাৎ বাংলার ১১১০ সনে তান্ত্রিক সন্ন্যাসী উদয় নারায়ণ ব্রহ্মচারী এই স্থানে সিদ্ধেশ্বরী মায়ের মৃন্ময়ী মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন, পরবর্তীকালে সেই স্থানে মন্দির নির্মাণ করেন গোবিন্দপুর নিবাসী চিনির ব্যবসায়ী কালী ভক্ত রামশঙ্কর ঘোষ যিনি শঙ্কর ঘোষ নামেই বহুল প্রচারিত। সরকারি নথিতে মন্দিরের প্রতিষ্ঠাকাল ১৮০৩ হলেও মন্দিরের গায়ে প্রতিষ্ঠা বর্ষ হিসাবে উল্লেখ আছে বাংলার ১১১০সন অর্থাৎ ইংরেজির হিসাবে ১৭০৩। তান্ত্রিক উদয়নারায়ন যে মৃন্ময়ী মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বর্তমান ... ...
আজ তিনদিন হল হাজারীবাগে আসা। অবিনাশের দাদা-বৌদি থাকেন সপরিবারে এখানে কর্মসূত্রে। কোলিয়ারির বড় কোয়ার্টার্সে থাকেন তাঁরা। অবিনাশের পেটের রোগটা কিছুতেই সারছে না দু’মাস ধরে। ডাক্তারবাবু বলেছেন চেঞ্জে যেতে। তাই অবিনাশের আসা এখানে। ওঁকে পেয়ে দাদা, বৌদি ও ভাইপো খুব খুশি। বাড়ির একটু দূরে একটা বড় জঙ্গল শাল, সেগুনের গাছে ভরা। মাঝে মাঝে অন্ধকার বাঁশঝাড়। অবিনাশ সকালের অনেকটা সময় কাটান সেখানে। ওখানে হাঁটতে হাঁটতে মনে পড়ে কলকাতার বাড়ির কথা। হাঁটতে হাঁটতে ভাবেন –‘প্রতিমা এখন হয়ত ব্যস্ত রান্নাঘরে’। ‘পোনা মাছের টুকরো ক’টা হল, মানিকের মা?’‘চোদ্দটা টুকরো, মাসিমা’, আঁশবঁটিটা নামিয়ে বলে মানিকের মা। ‘অজয় এখুনি ভাত চাইবে। মাছগুলো তাড়াতাড়ি ধুয়ে দাও‘ ‘বৌদি, পেঁয়াজ বাটা দিয়ে ঝাল ঝাল কালিয়া ... ...
গরু যে এমন বুদ্ধিবৃত্তিক প্রাণী, এতকাল টেরও পাইনি। জীবনে গরু কম দেখিনি। মাঠে দেখেছি, হাটে দেখেছি, কোরবানির আগে রাস্তার মোড়ে দড়িবাঁধা অবস্থায় উদাস চোখে জাবর কাটতে দেখেছি। কিন্তু কোনো গরুকে কখনো তত্ত্বকথা আওড়াতে শুনিনি। সে খায়, জাবর কাটে এর বেশি কোনো দাবিদাওয়া তার নেই। অথচ সেই নির্বাক প্রাণীকে নিয়ে মানুষ ধর্মতত্ত্ব লিখেছে, রাজনীতি করেছে, ইতিহাস গড়েছে, বাজার বসিয়েছে, এমনকি মাথা ফাটাফাটিও করেছে। কারও কাছে সে দেবতুল্য, কারও কাছে উপাদেয় ভোজ্য, কারও কাছে চাষির শেষ সম্বল, কারও কাছে জাতীয় অস্তিত্বের পাহারাদার। বেচারা জানেও না তার চার পায়ের ওপর মানবসভ্যতা কতখানি বোঝা চাপিয়ে রেখেছে। দিন কয়েক আগে বাংলাদেশের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গোমাংসের খিচুড়িকে ... ...
মহাদেব দীনবন্ধুকে বললেন, ‘আচ্ছা দীনবন্ধু, তোমার মনে আছে, আমাদের এই তেঁতুল গাছটার বয়েস কত ? ‘দীনবন্ধু একটু ভেবে বললেন, ‘ প্রায় পনের বছর।’মহাদেব মাথা নাড়েন, ‘ হ্যাঁ ঠিক ঠিক। পনের বছরই হবে। আর ত্রিকালের বয়েসও ওই প্রায় পনের।’মহাদেববাবুর বাড়িতে মূলত তিনটি মানুষ। মহাদেব, দীনবন্ধু আর অনুপমা। আর আছে চিরজাগ্রত ত্রিকাল। অঘোর দাস, গোপাল সাঁতরাদের মতো অনেকে মাসে অন্তত পনের দিন এ বাড়িতে আসা যাওয়া, থাকা খাওয়া করে।আর আছে বাড়ির আঙিনায় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকা এই তেঁতুল গাছটা। অনেক বর্ষার ধারা, বসন্তের বাতাস, গ্রীষ্মের দহন, শীতের কাঁপন এ গাছের শরীরে, পাতায় পাতায় অবারিত বয়ে চলেছে বছরের পর বছর। এর ডাল পাতার ... ...
চৈত্র শেষে নিদাঘ নিদাঘঅস্তাচলে ঘুম;তারার তাপে উরুসন্ধিঅস্ফুট তাবাসসুম।দ্ব্যর্থ হীন অন্তহীনচিত্ত অপাপবিদ্ধ;মাশআল্লাহ,আমি একা নই-গোটা দুনিয়াই ঋদ্ধ।তনুমন জুড়ে উষ্ণ থাকেভরা শ্রাবণ মাসে;শরৎ দৃষ্টি 'চরিত্র হীন'-হেমন্ত ভালোবাসে। নাভির নীচে অধঃপতনতিল টা নজরে আসে;'সেলেসিস মোটিফ' যেন-পীকাসোর ক্যানভাসে!!
বিকেলমোহে চোখ রেখেছি, স্মৃতিকৌটোয় মনসময়নদীর কূল ঘেঁষে হোক সাঁঝের আবাহন। ঘনিয়ে আসা বাতাসটুকু ছাতিমগন্ধে ভেজাএই বিকেলের ঘ্রাণ চিনতো নিখিলেশ - ডিসুজা? ছড়িয়ে পড়ে, জড়িয়ে ধরে স্মৃতির পরশমণিহৈমন্তিক ছায়ায় আঁধার সুজাতার ব্যালকনি। শরিক-ছাদে ফাটল বেয়ে স্কুলদুপুরের ছোপসহজপাঠের পাতায় হাঁটে উদ্ধব সদগোপ্। ভাঙা পেনসিল, শার্পনার পাশে, শব্দ বাড়ায় ভিড়কুঞ্জের একতারাটি চেনায় অঞ্জনা নদীতীর। উতল হাওয়া মাতাল হলে কি জন্ম নেবে কবি? এমন হাওয়ায় চেনা গাছদুটি অনিমেষ-মাধবী। ষ্টুডেন্ট রিপোর্ট খাপছাড়া তাও, বেনামী ডায়েরিতেলালকালি পেন দুঃখ ছেটায় কিশোরীর দেউড়িতে। বিকেলমোহে চোখ রেখেছি, স্মৃতিকৌটোয় মনঝিমদুপুরে ডাকছি একা, "ও শব্দেরা, শোন্!" ... ...
উত্তর কলকাতার শোভাবাজার মেট্রো স্টেশন থেকে বেরিয়ে যতীন্দ্রমোহন অ্যাভেনিউ আর দিকে এগোলেই চিত্তরঞ্জন অ্যাভেনিউ আর যতীন্দ্রমোহন অ্যাভেনিউ এর সংযোগস্থলে রাস্তার ঠিক মাঝে লক্ষ করা যায় এক ছোট আকারের তিন চূড়া বিশিষ্ট রক্ত বর্ণের মন্দির। স্থানীয় লোকদের কাছে যা লাল মন্দির নামে খ্যাত। জনশ্রুতি অনুযায়ী আজ থেকে প্রায় ২৫০ বছর আগে শোভাবাজার রাজপরিবারের দুর্গাপুজোর তন্ত্রধারক পুরোহিত স্বপ্নাদেশ পেয়ে পুকুরের তলা থেকে উদ্ধার করেন মাতৃ মূর্তি। মায়ের আকার এর জন্য তা খ্যাত হয় পুঁটিয়া কালী বলে, কিন্তু শোভাবাজার রাজপরিবারের কুলদেবতা বিষ্ণু, তাই বৈষ্ণব গৃহের বদলে একটি সাধারণ গৃহে দেবীকে যোগমায়া রূপে প্রতিষ্ঠা করেন তন্ত্রধারক পুরোহিত অমরকৃষ্ণ চক্রবর্তী। এরপর ... ...
চুম্বন— অনিন্দিতা মন্ডল অসংখ্য বাদামি ক্ষত টাগরায় মুখ খুললেই বেরিয়ে আসে বিপ্রলব্ধা সংরাগ। বাঁকা হাসি করুণ চোখে দেখেঘৃণার পাশে গজিয়ে উঠছে—নীলরঙা নদী। আলিঙ্গন— অনিন্দিতা মন্ডল হৃদয়ের কাছে হৃদয় চেয়েছে আশ্রয়। সমস্ত কটূক্তি ছু- মন্তরস্রেফ পরিহাস। ব্যবধানহীন আমাদের শ্বাসলিপিদেখো তো বুকের ভার কমল না বাড়ল!
রূপালি ডানামুহাম্মদ ফজলুল হকসেই কখন থেকে সুমনা উড়ছে তো উড়ছেই। নীল আকাশে হাত-পা মেলে ওড়ার অনুভূতি আলাদা। উড়তে উড়তে সে একটি গাছের মগডালে গিয়ে বসে। পাখিরা তাকে স্বাগত জানায়। পাখির ছানারা আনন্দে কিচিরমিচির করে ওঠে। সুমনা বড় বড় চোখে তাকিয়ে ছানাদের উদ্দেশে বলে, "ধৈর্য ধরো বাছারা, তোমাদের জন্য খাবার নিয়ে এসেছি।" সুমনা হাত মেলে খাবার তুলে ধরে। পাখিরা তার হাত থেকে ছানাদের জন্য খাবার নিয়ে যায়। দুটি শালিক ও একটি বুলবুলি সুমনার কাঁধে বসে অভিমানের সুরে বলল, "কত দিন পর এলে! তোমার কথা আমাদের প্রতিদিন মনে পড়ে।""সে তো আমি জানি। কিন্তু বলো, আমার অবসর কোথায়? ঘরের কাজ শেষ করে মাকে ... ...