দ্যাখ কেমন লাগেসাগরময় মণ্ডলপাড়ার ভিতরের স্পোর্টিং ক্লাবটা ছাড়িয়ে আরও কিছুটা এগিয়ে গেলে ডানদিকে একটুকরো ফাঁকা জমি। জমির পুব দিকের বাউন্ডারির গায়ে যে দুতলা বাড়ি দেখা যাচ্ছে, ওটা দাসবাবুর। দাসবাবুর অনেকদিনের ইচ্ছে ওই ফাঁকা জমিটা কিনে নেবেন। তার প্রানের বন্ধু অনিলকে একবার বলেছিলেন, চল দুজনে মিলে জমিটা কিনে নিই। কিন্তু অনিল রাজি হন নি। ফলে দাসবাবুর জমি কেনার ইচ্ছেটা অপূর্ণ থেকে গেল। ফাঁকতালে পাড়ার আর এক ভদ্রলোক জীবনবাবু জমিটা রাতারাতি কিনে নেন। কিনে নিয়েই তিন দিক উঁচু পাঁচিল দিয়ে ঘিরে নিলেন। পুব দিকটা ঘিরতে হয় নি কারণ ওদিকে দাসবাবুর পাঁচিল ... ...
এভাবেই কেটে যায় কত রাত -বহু ক্রোশ দূর হতে ভেসে আসে আবছা এক টুকরো শব্দ। তারপর ধীরে ধীরে তার ঘনত্ব বাড়ে—মহাধাতব ছন্দে, ইস্পাতের গর্জনে, আর কালো ঘন অন্ধকার চিরে ছুটে চলে এক অদৃশ্য যাত্রার ঘোষণা—রেল!দুর্গম থেকে অতিদুর্গম পথে ক্লান্তিহীনভাবে প্রতিনিয়ত একই পথে এগিয়ে চলে। দৈনিক গন্তব্যের অতিক্রমন শেষে সে ফিরে আসে নিজের বাসায়, নতুন দিনের পুরোনো গন্তব্যের উদ্দেশ্যে আবার রওনা দিতে। তবে তার অন্তিম গন্তব্য কোথায়, সে কারোর জানা নেই। ফিরে আসার জন্যই তো সে রোজ যায়, রোজ ফিরে আসে আবার যেতে।সে একা যায় না, সাথে করে নিয়ে যায় কত সহযাত্রী—অসংখ্য মানুষ! কেউ বাড়ি ফিরছে, কেউ বা ছেড়ে যাচ্ছে নিজের ... ...
ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাস আসলে বহু ভাষার মানুষের মিলনকাহিনি। হিন্দি সিনেমার কোনও অভিনেতা হয়তো কলকাতায় বড় হয়েছেন, দক্ষিণ ভারতের কোনও তারকা বাংলায় অভিনয় করেছেন, কেউ আবার বাঙালি পরিবারে জন্মেছেন। কেউ বাংলা শিখেছেন কলকাতায় বসবাসের কারণে, কেউ বাংলা ছবিতে অভিনয় করতে গিয়ে, আবার কারও ক্ষেত্রে বাংলা ছিল তাঁর শৈশবের ভাষা।তাই “বাংলা জানা তারকা” বলতে শুধু বাঙালি অভিনেতা-অভিনেত্রীকে বোঝালে ছবিটা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। বরং দেখা দরকার—কোন তারকার সঙ্গে বাংলার সম্পর্কটা কোথা থেকে তৈরি হয়েছে।এই তালিকায় সেই দিক থেকে বেশ কয়েকটি চমকপ্রদ নাম রয়েছে।কে. এল. সায়গল — কলকাতার নিউ থিয়েটার্সের শিল্পী।ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রথম যুগের কিংবদন্তি অভিনেতা কুন্দনলাল সায়গল-এর সঙ্গে বাংলার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গভীর। ... ...
প্রত্নতাত্ত্বিক অবশেষের মত হয়ে থেকে গেছে এই বাড়িগুলো। পিছন ফিরে বাড়িগুলোর দিকে বারবার তাকাতে তাকাতে গলি থেকে বেরিয়ে এল সে। বাস স্ট্যান্ডের ঠিক উল্টোদিকের গলিটাই নয় হয়তো, পাশে আরও কোনও গলি তো থাকতে পারে। সেইটাই হয়তো থার্ড লেন, সেখানে আরও একটা ২১০ নম্বর বাড়ি আছে। ফেলে আসা গলির ভেতরে আরেকবার তাকিয়ে দেখল, একটা বাড়ির দোতলায় আলো জ্বলছে কি? নাঃ পড়ন্ত সূর্যের আলো ঠিকরে আসছে বাড়িটির জানলা থেকে। গুগল চ্যাটে শমিতার নামের আইকনের দিকে সে এরকমই তাকিয়ে থাকত, সবুজ বাতি কি জ্বলে উঠল সেখানে? সারারাত হয়তো সে জেগেই কাটিয়ে দিতো যতক্ষণ না মাঝরাতে ফোনে এস এম এস ঢুকত- আজ আর নেটে ... ...
—“I was just fucking around all this while.”আগে তো শোন একটিবারমাথা গরম করিস নাআমার দিকটা একটু বোঝতুই তো তেমন নোস অবুঝ —“Go run back to the bastard who fucked you.” তেমন ভুল তো করিইনিআমার কাছে তুই ঋণীআমার দিকটা একটু বোঝ,পরিস্থিতির চাপ থেকেই... —“Here, take your fucking condom and piss the fuck off. I don't wanna see your face.” নাহ্ রে নাহ্ একটু বোঝচাই না হতে আর সহজএকটু বোঝ... শোন তবে–কোথায় আসব এবার রোজ? ... ...
বি ব্লকটা সম্ভবতঃ উচ্চবেতনের কর্মচারীদের থাকার জন্যে ছিল। ঢোকার মুখেই বিশাল বাংলো বাড়ি- জেনারেল ম্যানেজারের বাংলো। এখন পোড়োবাড়ি হয়ে আছে। পুরো কমপ্লেক্সটাই জংলি গাছে ছেয়ে গেছে। সুন্দরবনে কিছু পুরোনো প্রাসাদ দেখা যায় এরকম, সে ফেসবুকে ছবি দেখেছে। সে এগিয়ে চলে থার্ড লেনের খোঁজে। এখানে রাস্তাগুলোর গায়ে আর কোনও দিকনির্দেশ নেই। শুধু রাস্তার ডানদিক দিয়ে গলি ঢুকে গেছে। একটা গলিতে ঢুকে সে দেখে সার সার জনহীন দোতলা বাড়ি। সব বাড়ি একরকম প্রায়। সবার সামনে একটু বাগান, কারুর কারুর বাগান তারের বেড়ায় ঘেরা, কোনও বাড়ির বেড়া টেড়া সব চুকে গেছে। বেশির ভাগই তালা বন্ধ, আবার দরজা হাট করে খোলা কোনওটায়। কোনটা থার্ড ... ...
*আমি বাতিঘরে আছি। এখানে আ-মধ্যরাতবড়োলোকদের বই-পড়া দেখা যায়;অধ্যয়নরত কিছু খটকা দেখা যায়;বই পড়ার মতো করে কিচ্ছু না পড়ার কেরদানিদেখে চোখে পানি আসে; আহা, আহা, এভাবেও বই পড়া যায়?এখানে স্বয়ং ব্যাংক বই পড়ে মনোযোগ দিয়ে;এখানে সচিবালয় থেকে ক্লান্ত মহাপাতকেরাবই পড়তে আসেন সস্ত্রীক;এখানে ডলার ভেঙে বস্তাপঁচা আবর্জনা কেনেদেশসেরা ডাকাতের সমুজ্জ্বল বংশধরগণ।সচিবের মতো করে বই আমি পড়তে পারি না।সি.ই.ও.-র মতো করে বই আমি পড়তে পারি না।কদাচিৎ বাতিঘরে আসি, আর এসেই যখন এইনম্রভদ্র, ছাঁচে ঢালা বই পড়া দেখি,বড়োদের ঝলোমলো বইপড়া দেখি,ইচ্ছে হয়, আগুন লাগায়ে দিতে কোটিপতিধন্য বাতিঘরে:তাতেও কিছুটা যদি আলো পাওয়া যায়,যে আলোয় বড়োদের ছোটোলোকি ফাঁস হয়ে যাবে;বাঙলা ভাষা ঝেড়ে ফেলবে সব বুজরুকি;যে আলোয় ... ...
আমায় হাঁটতে দিন--------------------সুপ্রিয়া চৌধুরী---------------নিশ্চয়ই ভাবছেন, পায়ের কোনো সমস্যা নিয়ে লিখছি, তা কিন্তু নয়। তবে, একেবারে নয় বললেও ভুল হবে। মানে যা বলতে চাইছি— পায়ে কোনো সমস্যাই ছিল না, এবারে কিন্তু হয়েছে। “ফিফথ্ -মেটাটারসাল" ফ্র্যাকচার। আর এটাই বোধহয় লেখার অনুপ্রেরণা।জটিল হয়ে পড়ছে লেখাটা। কী করা যাবে! সমস্যাটাই তো জটিল। ভাষাটাও জটিল। আমি আবার কোনো ভাষাতেই তেমন পারদর্শী নই। লিখতে চাই কিছু, হয়ে যায় অন্য। যাক, সমস্যাতেই আসছি।একটাই অনুরোধ— শুধু একটু সুস্থভাবে হাঁটতে চাই, কিন্তু কোথায়? রাস্তা, ফুটপাত কিছুই তো নেই! কবে শেষ ফুটপাতে সুস্থভাবে হেঁটেছিলাম মনেই নেই। আমার স্মৃতিশক্তি খুব ভালো, তা মোটেই দাবি করছি না! দুঃখ এইটাই— ছোটবেলায় শেখা "হাঁটি-হাঁটি-পা-পা" এর ... ...
আকাশ ছিল আহাম্মকবাতাস ছিল হিংসুটেহারিয়ে গেছে নতুনপথহার মেনেছে নিন্দুকে যুগের সঙ্গে তাল মেলাইছন্দে ভাঙছি আলসেমিপ্রেমের দিকেই হাত বাড়াইপালক ওড়ায় সব শালিখ এখন দেখি গালটা পাতছোট্ট একটা kiss করিএক বিছানায় একটা রাত—ঘুমোবি আয় বান্ধবী
উল্টোদিকে রাস্তার ওপরই সেই চমৎকার ফোয়ারাটা ছিল। ঐটা যে ফোয়ারাই ছিল, তা এখনও বেশ বোঝা যাচ্ছে। এর চারপাশে সুন্দর করে পাথরের আসন বসানো অনেকগুলো। অর্কুটে শমিতার অ্যালবামে একটা ছবি ছিল, মনে হয় এই পাথরের চেয়ারেই বসা, মায়ের সঙ্গে কোন-আইসক্রিম খাচ্ছে। সে দেখেছিল যে শমিতার চুলের ওপর দিয়ে রৌদ্রের একটা রেখা পড়েছিল সেই ছবিতে, এখনও ওখানে এক চিলতে রোদ এসে পড়েছে বাসস্ট্যান্ডের শেডটার ওপার থেকে, রাস্তা পেরিয়ে। এই ফোয়ারাটা যদি চলমান থাকত, এইখানে শমিতাকে নিয়ে সে আসত। যে জিনিসগুলো এনেছিল তা ওর হাতে দেওয়ার শ্রেষ্ঠ জায়গা ছিল এইটা। উপহার বলতে অবশ্য দামি কিছু সে সঙ্গে আনেনি। একটা বই এনেছে, অভিনন্দনের লেখা। ... ...
এর প্রত্যক্ষ প্রমাণও গতকালই পাওয়া গেছে। দুর্গাপুজোর সরকারি বিজ্ঞাপন ছাপা হল, সেখানে প্রধানমন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী ঠিকই আছেন, কিন্তু দুর্গার হাত হয়ে গেছে ১১ টা। দুর্গার ১০ খানা হাতে দশখানা অস্ত্র থাকার কথা। তার কী হল তবে? ছোটোবেলায় শ্লোক পড়েছিলাম, ত্রিশূলং দক্ষিণে দদ্যাৎ খড়্গং চক্রং ক্রমাদধঃ। মানে উপর থেকে নিচে ডান দিকে থাকার কথা ত্রিশূল, খড়্গ, চক্র। তারপর থাকে গদা, তীর। ছবিখানা খেয়াল করে দেখুন, ত্রিশূল ডান হাতে না, দুই হাতে ধরা। ১০ আর ১১ নম্বর। ওটা যদি আদৌ ত্রিশূল হয়, কারণ বাম হাতে দেখছি আরেকটা ত্রিশূল। ... ...
জগু... এই জগু শিগ্গীর বাড়ি যা। তোর মা মরে গেছে। জগু বা জগা বা জগাই বা জগ্গু— মুখের ফেরে নামের ফের। নাম যাই হোক হাফ প্যান্ট আর হাফ শার্ট পরা শ্যামবর্ণ ছেলেটার বয়েস মোটে পাঁচ। ঘোষেদের পুকুর পাড়ে দাঁড়িয়ে মাছ ধরা দেখছিল। জনা চারেক লোক ফাতনার দিকে চোখ রেখে ধ্যানমগ্ন মুনির মতো বসে আছে। ফিরফির করে হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। কার্তিক মাস পড়ল। হাওয়ায় বেশ টান লেগেছে। নীরব আশপাশ। তীরবেগে ছুটে আসা বাকুলির মুখ থেকে বাতাসে আছড়ে ... ...
১) ও আমার বংশীবদন গো- তোমার সাধের বাঁশি কার হাতে থুইয়া গেলা গো! অহন কংস বাজায় বেসুরো বাঁশি, সঙ্গত করে লক্ষ কাঁসি- তোমার দেখা নাই হে প্রডু,তোমার দেখা নাই!!২)শোন্ শোন্ গুলবাজ জিনিসের দাম আজ আকাশ ছুঁয়েছে আজ, বাহ্ রে বাহ্,বলে যাঃ,বলে যাঃ...তবু বৃদ্ধি! দুর্বুদ্ধি ! কভু শুদ্ধি হবে নাহ্ ... !!! ৩)ভরসা আমার শ্যামাচরণতোমার ছলে ভোলা স্বভাব আমার,অভাবেতেই স্বর্গে গমন! ভরসা আমার শ্যামাচরণআচ্ছে দিন আসবে আর খুলবে ভাই জোর বরাতআপনা হাত জগন্নাথকরবে ভাই বাজিমাত...।হরিবোল...! আহা মরি মরি, যত রকম চুরি, সর্বস্বান্ত করি দেশ .. ভাগ পাবে তারা,ধামা ধরা যারা, সব হবে মন্ত্রী-আমিই ষড়যন্ত্রী.. . হাঃ হাঃ হাঃ। ঋণ স্বীকার: গীতিকার শ্যামল গুপ্তের লেখা অবলম্বনে। ... ...
শুনুন মশাই, আপনার ঠাকুরদার ঠাকুরদা কি হেলিকপ্টার চেপে কৈলাস থেকে নেমেছিলেন? না, তাও না, উনি বোধহয় স্বর্গীয় ডানাওলা রথে চড়ে সটান বঙ্গোপসাগরের তীরে অবতরণ করেছিলেন, তারপর প্রথম কাজ হিসেবে একখানা ধুতি পরে "আমি খাঁটি বাঙালি" বলে ঘোষণা করেছিলেন! ব্যাপারটা এরকমই তো দাঁড়ায়, যখন কেউ বুক চিতিয়ে বলে "আমাদের বংশে খাঁটি রক্ত, ফরেন মিক্সচার নেই"। আরে দাদা, বাঙালি কোনো স্পেশাল চার্টার্ড ফ্লাইটের প্যাসেঞ্জার নয়, বাঙালি হলো শেয়ালদা লোকাল ট্রেনের একটা কামরা—যেখানে হাজার বছর ধরে হাজারো স্টেশন থেকে মানুষ উঠেছে, নেমেছে, ঠেলাঠেলি করেছে, পাশের লোকের টিফিন থেকে মুড়ি চেয়ে খেয়েছে, আর শেষ পর্যন্ত সবাই মিলে একটাই কামরা—বাঙালি জাতি। এই "আদিম খাঁটি রক্ত" ... ...
তার বাঁদিকে এখন একটা মাঠ পড়ছে, ডানদিকে বাগান ঘেরা একটা বাড়ি- মার্টিন নগর শহর পরিচালনার দপ্তর- দেওয়ালের রঙ চটে গেছে তার। বাগানটাও জঙ্গল হয়ে গেছে এখন। মাঠটা খুব বড়ো। প্রমাণ সাইজের ফুটবল মাঠের থেকে বড়োই। দুটো গোলপোস্ট আছে,মাঠের পরিধি বরাবর অ্যাথলেটিক্সের ট্র্যাক কাটা- একদিকে গ্যালারিও আছে। কিন্তু লোকজন নেই। ছেলেরা হয়তো স্কুল ছুটির পরে খেলতে আসে, এখন কেউই নেই। শমিতা খুব চিন্তিত ছিল ওর দাদাকে নিয়ে। দাদা ভালো ছাত্র আবার ওদিকে স্কুল লেভেলে সুব্রত কাপও খেলেছে। যাদবপুর থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে বাড়িতে ফিরে এল। সকালে মাঠে এসে বাচ্চাদের খেলার কোচিং দিত, আর তারপর সারাদিন বাড়িতেই বসে থাকত। শমিতা বলত ওর ... ...
কৃষ্ণা চতুর্দশীর রজনী। কাশীর বহির্ভাগস্থ মহাশ্মশানে চিতাগ্নি নির্বাপিতপ্রায় হইয়া আসিয়াছে। বায়ুমণ্ডলে ঘৃত, অর্দ্ধদগ্ধ অস্থি ও পরিত্যক্ত বাসি চম্পকপুষ্পের গন্ধ একত্র জমাট বাঁধিয়া রহিয়াছে। দূরে নদীতটে শৃগালগণ রব করিতেছে। শিংশপাবৃক্ষের শাখা হইতে যে শবটি লম্বমান রহিয়াছে, তাহার মুখ কৃষ্ণসূত্র দ্বারা সীবিত, নয়নদ্বয় উন্মীলিত। রাজা বিক্রমাদিত্য পুনর্বার সেই বৃক্ষের অভিমুখে অগ্রসর হইলেন। ক্ষান্তিশীল নামক এক ক্ষপণকের নিকট তিনি ঋণবদ্ধ হইয়া আছেন। লোকটি দ্বাদশ বৎসর ধরিয়া প্রত্যহ প্রভাতে তাঁহাকে একটি করিয়া শ্রীফল প্রদান করিত, প্রত্যেক শ্রীফলের অভ্যন্তরে একটি করিয়া হীরক লুক্কায়িত থাকিত। সেই ঋণে এক্ষণে এই শব বহন করিতে হইতেছে। আর নিয়ম একটিই, মুখ উন্মোচন করা যাইবে না। স্কন্ধে তুলিবামাত্র শবমধ্যস্থ বেতাল শুষ্ক পত্রের ন্যায় খসখস ... ...
স্টেশন থেকে বেরিয়ে প্রথমে টোটোর স্ট্যান্ডে গেল। এখান থেকে সাড়ে তিন কিমির মতন দূরত্ব দেখাচ্ছে। অবিশ্বাস্য বেশি ভাড়া হাঁকলো টোটোওলা। দরদাম করতে বলল ওদিক থেকে ফেরার প্যাসেঞ্জার জোটে না, দু-সাইডের ভাড়া দিতে হবে। ১৭-র বি রুটের বাসে পৌঁছনো যাবে এরকমটা সে জানত। শমিতার সঙ্গে যখন কথা হত, অনেকবারই স্টেশন থেকে বেরিয়ে শমিতা ওই বাসে উঠেছে, বাসে উঠে বসতে পেলে শমিতা আবার ফোন করেছে। বলেছিল বাস স্টপে নেমেই উল্টোদিকের রাস্তায় ওদের বাড়ি। স্ট্যান্ডে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল সে আজ। ১৭-র বি-এর দেখা নেই। বাস স্ট্যান্ডে একটা চায়ের দোকান। দোকানের পাশে দুটো দরমার ঘর আছে, ফাঁকা। এক কাপ চা নিল সে, গ্লাসের কাঁচটায় ... ...
কেউ নিরিমিষ্যি পুজো কাটাবেন, বেশ করবেন। স্বামী নির্গুণানন্দ নিজের মতো বাণী দেবেন, ঠিকই আছে। সরকারি ফুড সেফটি তার কাজ করবে, উচিত কাজ। ডিম্মিডিয়া ক্যামেরা নিয়ে সূত্রের খবর দেখাবে, আর কীইবা করবেন। বাবা বাগেশ্বর বাকতাল্লা দেবেন। প্রেতাত্মারা আলো জ্বেলে নাচবেন। হলদিরাম ভুজিয়া বেচবে, বিজেপি সভাপতি বলবেন, গুপ্তা আর জয়সওয়ালরা না থাকলে কিন্তু উত্তর কলকাতার বাঙালি থাকতনা। ... ...
যখন দেবতারা আকাশে লড়াই করে,তাদের অস্ত্রের অবশিষ্টাংশ নিচে পড়ে,পৃথিবীতে।আমরা যারা তাদের পূজা করি,সর্বস্ব মানি,আমাদের ছেলেমেয়ে গেছে কেউ স্কুলে,কেউ কলেজে,কেউ কাজে বা বাজার করতে,ওদের বস্তাবন্দি দেহাংশ ফিরে আসে।দেবতাদের অস্ত্রের আঘাতে ছিন্ন মস্তকে চোখগুলো তখনও অবাক,বিস্ময়ে তাকিয়ে আছে।অজন্মলালিত বিশ্বাস ভেঙে গেল যে।পরের দিন যখন দল বেঁধে গেলাম,দেবতার দরবারে খুব ভিড়,যুদ্ধে হেরেছে যে দল,ওরা বিষন্ন,দুঃখী।আমাদের কথা কানেই নিল না।আমরা জয়ীদের দরবারে গেলাম।ওরা আমাদের কথা শুনল,বলল,যারা মরেছে,সবাই স্বর্গে যাবে।আমাদের একজন মিনমিনে গলায় বলল,"কিন্তু বিচার?"দেবতারা সোল্লাসে চিৎকার করে উঠলেন,কেউ নিজের বীরত্ব শোনালেন এইমাত্র।আমার চোখের সামনে মৃতদেহগুলো ভেসে উঠল।অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে যখন ওরা কেউ আমাদের কথা শুনলেন না,আমরা ভাবলাম এবার ফিরে যাই।ঈশ্বর যা করেন ভালোর জন্যই করেন।আমরা ... ...
*যার সামনে দাঁড়ালেনিজেকে ছোটো মনেহয়,সেকেলে মনে হয়,অচল মনে হয়,সে তো একটা আয়নাইবস্তুতঃ, যাকে ভেঙে ফেলতেমন চায় মাঝেমাঝে;সে-ও হয়তো মনে করেআমি একটা আয়না,যার সামনে দাঁড়ালেনিজেকে বড়ো মনে হয়,নতুন আর চকচকে মনেহয়,সেক্সি মনে হয়;ফলে সে-ই আমাকে উদ্ধারকরেভগ্নদশা থেকে;ধুয়ে, মুছে, মেজে ঠিকঠাক করে নেয়,আর ঝুলিয়ে রাখেঘরের একান্ত আয়নারমতো; দেয়ালে। *সব ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলে একটা কাঠের ঘোড়া ভাবলোসে পোকা হবে,একটা সত্যিকার পোকা,রক্ত-মাংসের নরম, জীবন্ত পোকা,যে নাকি যখন খুশি যেখানে খুশি লুকিয়ে থাকতে পারে,যখন খুশি উড়তে এবং যেখানে খুশি আয়েশ করে ঘুমোতে পারে,যেমন, ঘরের কোনায়, খাঁটের ফাঁকে, চিলেকোঠায়, বা একটা পচাগলা লাশে,এবং ইঁটের ফাঁকে পা আঁটকে গেছে যে মানুষের,তার গা থেকে খানিকটা রক্ত শুষে নিতে ... ...