
নিজে গরমে খুব কষ্ট পাই বলেই জানতে ইচ্ছে হয়েছিল, ভবিষ্যতের বাংলায় আমাদের সন্ততিরা কেমন থাকবে? কিছুটা আভাস মিলল সৌরভ বল ও ইংগো কির্খনারের ২০২৩ সালের পেপার থেকে। সৌরভরা কলকাতার জন্য ধরেছেন যে ২৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩৫.৭ ডিগ্রি অবধি স্লাইটলি ওয়ার্ম (সামান্য গরম বলি?), ৩৫.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৪৩.৮৩ ডিগ্রি অবধি ওয়ার্ম (গরম) আর PET ৪৩.৮৩ ডিগ্রি ছাড়ালে সেটা হট (অসহ্য গরম বলি একে?)। ওঁরা বলেছেন যে পশ্চিমবঙ্গের ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপ বাড়া মানে PET এর তার প্রভার পড়বে দ্বিগুণ। ... ...

কিন্তু আমার মত একজন ‘অকেশনাল ফ্লায়ার’, দুচোখে যার সর্বগ্রাসী খিদে, তার অমন ‘কম্প্রোমাইজড দেখা’-য় চলবে কেন? যেটার যে রঙ তাকে সেই রঙেই যে দেখতে হবে আমাকে। অতএব জানলার কাচ নীল করি না আমি। বিমানবালারা বার তিনেক এসে আমাকে ‘অনুরোধ’ করে যায় জানলা নীল রাখার জন্যে। কিন্তু নীল কাচের মধ্যে দিয়ে বাইরেটা দেখে সুখ হচ্ছে না বলে প্রতিবারই আমি কাচের রঙ ফের সাদা করে দিই। মনে মনে ঘুমন্ত লোকগুলোকে বলি, আর কত ঘুমুবি বাপু? ওঠ না এবার। মাটিতে থাকলে এখন তো কাজের জায়গায় দৌড়াদৌড়ি করতিস। ... ...

এখন আর সেই টিলাগুলো তেমন উঁচু দেখায় না। আমি মাথায় একটু, আর চওড়ায় বেশ অনেকটা ছড়িয়েছি বলে নয়, সেগুলি কাটা পড়েছে বলে। রাস্তা আর বাড়ী-ঘর তৈরিতে ওরা ধীরে ধীরে মাটিতে মিশে গেছে। ওদিকে রিং রোড হয়েছে। শান্তিনিকেতনের মত এখানেও এখন হাট বসছে। কিছু মাটির গয়না,গামছার সাথে চীনদেশের প্লাস্টিকের সস্তা পুতুল,গাড়ি, মাথার ক্লিপ ও পাওয়া যায়। জিলিপির পাশেই মস্ত বড় চিপসের প্যাকেটে র মালা ঝোলে। মোটর গাড়ি, মোটর সাইকেলে চড়ে অনবরত মানুষ ছুটে আসে ফি শনিবার। পথের ধারে বুনো ফুলের গন্ধ আর তাই তেমন পাওয়া যায়না। লাল ধুলোয় থার্মোকলের গুঁড়ি, ছেঁড়া প্লাস্টিকের টুকরো মিশে থাকে। ওদিকে নদীর ধারটি আলিশান সাদা পাথরে বাঁধিয়ে আলোর মালায় সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে গঙ্গা আরতি শুরু হবে কদিন পরেই--- যদিও নদীটি গঙ্গা নয়। তার মাসতুতো বোনও নয়। শহরের মোড়ে, রাস্তায় আলোচনা চলে এ নিয়ে। এই উন্নতি নিয়ে। তাহলে জাতে উঠল এ শহর --- উন্নয়নের পথে। ... ...

গুরুচণ্ডা৯র প্রকাশিত বাংলা গল্পের অডিও সিরিজ - স্বকন্ঠে। ... ...

ঝাড়বাগদায় ফিল্ড করার সময় আমরা ছিলাম মুকুটমণিপুর বাঁধ-এর কাছে। এই জায়গাটায় যতবার আসি, ততবারই নতুন করে ভালো লাগে, মন্দও লাগে। কংসাবতী নদীর ওপর তৈরি বিশাল জলাধারের নীলচে বিস্তার, দূরে মুকুটের মতো জেগে থাকা পরেশনাথ পাহাড়—সব মিলিয়ে যেন শান্ত সমুদ্রের ধারে এসে দাঁড়ানোর অনুভূতি হয়। কিন্তু এই সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক বাস্তবতা। গত শতকের পাঁচের দশকে জলাধার তৈরির সময় বিশাল বনভূমি, গ্রাম ও মানুষের বসতি জলের নীচে তলিয়ে গিয়েছিল। ... ...

খেয়াল করি, নজরুলের কবিতা ও গানে দুর্গা আনন্দময়ী দেশমাতৃকা হয়ে যান। যুদ্ধ থেকে ফিরে ইংরেজ তাড়ানোর ইচ্ছে ওর মনে প্রবল। ওঁর আগুন ঝরানো সম্পাদকীয়ের চোটে একের পর এক পত্রিকা নিষিদ্ধ হচ্ছে। আর নামগুলো কী—লাঙল, ধূমকেতু, নবযুগ আরও অনেক। ... ...

হিন্দু না ওরা মুসলিম, ওই জিজ্ঞাসে কোন্ জন? – না-হিন্দু না-মুসলমান অথবা হিন্দুও মুসলমানও – যাঁর একমাত্র পরিচয় শুধু বাঙালিই – বাঙালি এবং কবি – সেই কাজি নজরুল ইসলাম সারা জীবন এই সম্প্রদায়গত বিভাগ মেনেই নিতে পারেননি। তবুও একদিকে পাকিস্তান তর্ক আর অন্যদিকে উনিশশো বিয়াল্লিশের সাত আর আটুই জুলাই কংগ্রেসের বোম্বাই অধিবেশনে গান্ধীর ভারত ছাড় প্রস্তাব গৃহীত হবার পর কলকাতায় দাঙ্গা লাগল পরের দিনই, নয়ই জুলাই। ... ...

বর্তমানের বিষাক্ত সাম্প্রদায়িক সময়ের দিকে তাকালে নজরুলের এই অবস্থান আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাঁর সুরের ভুবনও বিস্ময়কর। শাস্ত্রীয় রাগ, কীর্তন, লোকসংগীত, মার্শাল রিদম, ইসলামী সুরধ্বনি—সবকিছু মিশিয়ে তিনি এমন এক সংগীতভাষা তৈরি করেছিলেন, যার আগে বাংলা সঙ্গীত জগৎ পায়নি। তাঁর গানের মধ্যে যেমন ভৈরবীর ধ্যান আছে, তেমনই আছে সৈনিকের পদশব্দ। ... ...

গুরুচণ্ডা৯র প্রকাশিত বাংলা গল্পের অডিও সিরিজ - গুরুচন্ডা৯র গল্প। ... ...

মিকেশের সঙ্গে আমার পরিচয় করিয়েছিলেন প্রয়াত নিখিল সরকার, শ্রী পান্থ নামে যিনি আপামর বাঙালির কাছে পরিচিত। দাদার বন্ধু শান্তিদার (ভৌমিক) সৌজন্যে ক্লাস টেনে পাঠরতা তাঁর ভাগ্নিকে পড়ানোর কাজটি জোটে। মায়ের সংসারে থাকি তখন। ধান বেচা, বাড়ি ভাড়ার টাকা থেকে হাত সাফাই করে বাজে খরচার টাকা জোগাড় করতাম; শান্তিদার কল্যাণে এই আমার প্রথম আইনি উপার্জন। নিখিল বাবু আমাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন, তাঁর বাড়িওলা ছিলেন শৈলজা নন্দ মুখোপাধ্যায়, তাঁর সদানন্দ চেহারাটি আজও মনে ভাসে। এ বাড়িতে আগত অনেক সাহিত্যিক সাংবাদিকের সঙ্গে নিখিল বাবু আলাপ করিয়ে দিয়েছেন। বাড়িতে বইয়ের স্তূপ, তাঁর অধ্যয়ন ও মেধার কোন পরিসীমা ছিল না শুধু যে কোন বইয়ের রেফারেন্স দিতেন তাই নয়, বইয়ের গাদা থেকে পাতা খুলে দেখাতেন। মনে হয়েছে সত্যজিৎ রায় হয়তো তাঁরই আদলে সিধু জ্যাঠার রূপ দিয়েছেন। ... ...

তবে এ মুহূর্তে যাঁরা শ্রমিক শ্রেণির আন্দোলনের কথা বলছেন — তাঁদের সিংহভাগই শ্রেণি সংগ্রামের প্রশ্নকে এড়িয়ে যাচ্ছেন এবং এই অসময়ে 'কিছু করতেই হবে', এই উন্মাদনায় অল্পতেই আত্মহারা হয়ে পড়ছেন, অল্প কিছুকেই অনেক বড় কিছু ভাবছেন। অনেকেই অর্থনৈতিক দাবি আদায়ের আন্দোলনকে শ্রমিক আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায় হিসেবে দেখাতে চাইছেন। ... ...

১১ই জ্যৈষ্ঠ নজরুলজয়ন্তী। আগামী এক পক্ষকাল আমরা কাজি নজরুলকে নিয়ে লেখা প্রকাশ করতে চাই। চর্চা করতে চাই তাঁর সাহিত্য ও সঙ্গীতজীবনের। তেমনি জানতে চাই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের কথা, তাঁর ব্যক্তিজীবনের বিদ্রোহী চেতনার প্রকাশের কথা। আমরা তাঁর অসাম্প্রদায়িক আধ্যাত্মিক সাধনার আলোচনাও করতে চাই। আহ্বান রইল-আপনার লেখা মেল করে দিন guruchandali@gmail.com-এ ১০ই জুনের মধ্যে। ... ...

বন দেবতা আর দেবীর থান দেখা হল, এবারে গাইড বাবুর নেতৃত্বে পাহাড়ে চড়ার পালা। আমরা সরু লাইন করে একে একে সেই বন্ধুর জঙ্গলের পথে পা বাড়ালাম। শাল, সেগুন, মহুয়া গাছগুলো আমার আন্দাজে তিন সাড়ে তিন ফুট দূরত্বে রয়েছে। মানে চারা যখন লাগানো হয়েছিল তখন ছয় সাড়ে ছয় ফুট দূরে দূরে হয়তো পোঁতা হয়েছিল। এখন গাছ বড় হয়ে গুঁড়ির বেড়গুলো বেড়ে গেছে, তাই কাছে মনে হচ্ছে। আর লম্বা গাছের মাঝে নিজে থেকেই ঝোপ ঝাড় লতানে গাছ গজিয়ে উঠে বনটাকে বেশ গহন করে তুলেছে। আর একটা জিনিস নতুন দেখলাম... ... ...

আর এই সব ঘটনার, এই সব ভাবনার চারপাশ জুড়ে ছেয়ে থাকে মন কেমন করা সেই সুগন্ধের ছায়া। সেই তিনি! যাঁর থাকা না থাকাতেই তৈরি হয় গল্পের আবহ, বিশেষ বিশেষ মোড়গুলি। বই এর সবচে উপরের যে মোটা পাতাটা থাকে- ‘প্রচ্ছদ’ বলে যেটাকে- তার উপর দেখি তুই নীল আকাশে পক্ষীরাজ ঘোড়া ছোটাচ্ছিস, হাতে তরোয়াল। দুপাশে লাল লাল বাড়িগুলো অবাক হয়ে দেখছে তোকে আর নিচে মানুষজন কেউ উপরের দিকে তাকিয়ে দৌড়ে পালাচ্ছে, তো কেউ আবার হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। ... ...

রাজনীতি এক বিরাট প্রাঙ্গন। সেখানে খেলা অনেকরকম, তাদের নিয়মও রকমারি। এখানে শুধুই আলোচনা হল, সে মাঠে কাদের খেলতে দেবেন না, বা কোনো দলটিকে কখনোই সমর্থন করবেন না – তা নিয়ে। এর পরের স্তরে আসে ‘কাকে সমর্থন করবো?‘ সেই প্রশ্ন। তার সঙ্গেই আসে – দেওয়ালে যাদের পিঠ ঠেকেছে, তারা কী গণের অংশ নয়? ... ...

দেড় ট্রিলিয়ন ডলারের প্রাইভেট ক্রেডিটের বাজারে আজ নেমে এসেছে সঙ্কটের ছায়া। ফার্স্ট ব্র্যান্ডস, ট্রিকলর দেউলে হবার পরে গ্রিক ঋষি জেমি ডাইমন হঠাৎ ধ্যান নিদ্রা থেকে জেগে উঠে আবিষ্কার করেছেন এই সব লোন আরশোলার মতো নোংরা, ক্ষতিকর। আরও বিপদে পড়েছেন সেই সব নিবেশক যারা আপনার ধন হেজ ফাণ্ডকে দিয়ে সুখনিদ্রায় মগ্ন ছিলেন। তাঁরা জে পি মরগানের মন্তব্য শুনে আতঙ্কিত হয়ে ফান্ড ম্যানেজারকে ফোন করছেন, লাভ চাইনে, আমার জমা টাকাটা ফেরত দাও। প্রাইভেট ক্রেডিটের মুশকিল এইখানেই। ... ...

গুরুচণ্ডা৯র প্রকাশিত বাংলা কবিতার অডিও সিরিজ - গুরুচন্ডা৯র কবিতা। ভিডিও সম্পাদনা - সৌরভ দাস। ... ...

আমরা সকলে মিলে টোটোতে চড়ে রওনা দিয়েছি বনভৈরবীর থানের উদ্দেশে। গাইড ভদ্রলোকও সঙ্গে আছেন। পাশাপাশি বাইক নিয়ে চলেছে সেই নতুন পাওয়া বন্ধুরা। পাহাড়ের কোল ঘেঁসে পথ। জঙ্গলের একটা অদ্ভুত তীক্ষ্ণ কিন্তু অনুচ্চ গন্ধ আছে। বনপথে সেই সুবাস বাতাসে ভাসে। মাটির গন্ধ, বুনো লতার গন্ধ, গাছের বাকল, পাতা, ফুল, ফল সব মিলিয়ে কেমন একটা যে গন্ধ, কোন সুগন্ধীর বোতলে তা ধরা যায়না। ... ...

গড়িমসি দুঃখকষ্টে মন ভেঙে আছে। ধূপের ছোঁয়াচে আঁচ। ... ...

ক্রমশ চশমার কাচ, স্টোনওয়াশ জিনস, তুখোড় স্ট্রাইপ— আরও সব খুচরো মনীষা, আকাদেমির বানানবিধি নিয়ে ... ...