
ওয়ালেস। সোজা ফ্রী মেসন হল থেকে আসছি, একটা মীটিং ছিলো আজ। মারে। ল্যাণ্ড রিফর্মের মীটিং? বুঝতে পারি না এই স্টূয়ার্ট মিলকে। আপনাদের খেপাচ্ছে, আর আপনারাও খেপছেন। কতো জমি মিলের নিজের ইনহেরিটেন্স আছে, তার খবর রাখেন? ওয়ালেস। সেটাই তো মিল সাহেবের ক্রেডিবিলিটি বাড়িয়ে দেয়। প্রিন্সিপ্লের জন্যে ব্যক্তিগত ক্ষতিকে গ্রাহ্যই করেন না। ... ...

আজ খারাপ লাগে, ভুলোকে ছেড়ে এলাম কী করে? ভুলো আমাকে পাগলের মতো ভালবাসতো। সেহারাবাজারে নবম দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় আমার সঙ্গে সাড়ে ছয় কিলোমিটার দূরের স্কুলে হেঁটে হেঁটে চলে যেত। বিডিআর ট্রেনে চাপলে ট্রেনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দৌড়াত। সারাদিন স্কুলের গেটে বসে থাকতো। সহপাঠীরা আওয়াজ দিত, তোর বন্ধু বসে আছে। বর্ধমান শহরে পড়তে আসার সময় তাই সতর্ক থাকতাম। চুপিসারে আসতাম যাতে ভুলো টের না পায়। কিন্তু ভুলো সন্ধ্যায় ফেরার সময় নুরপুর ক্যানেল ধারে বসে থাকতো। আমাকে নিয়ে ফিরবে! বর্ধমান শহরে আসার সময় ভুলোকে ছেড়ে আসা কঠিন ছিল। তবু তো পেরেছি। আজ আর পারি না। আমার সিরো এবং পাড়ার পাঁচটি কুকুরকে ছেড়ে এখন বাইরে রাত কাটাতে খুব কষ্ট পাই। ... ...

সে রাতে ঘুমের মধ্যে স্ক্রল করতে করতে আমি শুনতে পেলাম, - স্ক্রীনের ওপারে ভুষুন্ডি মেঘেদের দল বৃষ্টি ঢেলেই চলেছে। নিজেকে দেখবার ইচ্ছে, সময় বা চোখ কোনোটাই নেই ওদের। তাই নাকি ঘ কে জুটিয়েছে। ঘ দেখছে ওসব। জল থেকে মেঘ, মেঘ থেকে জল। শ্যাওলার ভেলভেট প্রতি বর্ষায় নতুন করে জমছে পাথরে। আশ্চর্য সব ধীরস্বভাব রিল। ইলেকট্রিক ছাড়াই নিজে-নিজে তৈরী হচ্ছে। একের পর এক, লাইভ। ... ...

ভারত আর আমেরিকার উদ্দেশ্যে জাহাজ ভাসানোর পথে প্রথমে একসময় এলোমেলো, তারপর অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠকে সুসম্বদ্ধ করতে ১৮৮৪ সালে বিসমার্কের নেতৃত্বে চোদ্দটি রাষ্ট্রের বার্লিন কনফারেন্স। লেগো খেলার মত শুরু ইউরোপের আফ্রিকাকে নিজেদের মত করে ভাগ বাঁটোয়ারা। লুডেরিটজ ইত্যাদি শহর গড়ে ওঠা। ইম্পিরিয়াল ব্রিটিশ ইস্ট আফ্রিকা কোম্পানি ইত্যাদিদের আবির্ভাব ও তিরোধান। ... ...

ওয়ালেস। আপনাকে একটা কথা বলি মিঃ স্টীভেনস। ডারউইন-ওয়ালেস পেপার বেরোনোর পর মিঃ হূকার আমাকে একটা চিঠি লিখেছিলেন। তিনি লিখেছেন, এই পেপার আমাকে ইংল্যাণ্ডের প্রথম সারির বিজ্ঞানীদের মধ্যে এনে দিয়েছে ডারউইন সাহেবের সঙ্গে। এর পরেও আপনি কি মনে করেন একটা ভদ্রগোছের চাকরি আমি জোটাতে পারব না? স্টীভেন্স। ওঃ, ডাঃরউইন-ওয়ালেস পেপার! (গলায় হাসি কিন্তু উচ্চারণেই অবজ্ঞা স্পষ্ট, ডারউইনের ডা-এর ওপর জোর দেওয়ায় উচ্চারণটা খানিকটা ডাঃ-এর মতো শোনায়)। ... ...

তবে গুহা দেখার আগে আরও কিছু অত্যাশ্চর্য জিনিসের কথা বলে নিই। মৌলিন্নং থেকে বেরিয়ে খুব সকালে প্রথমে আমরা সেখানেই গিয়েছিলাম। জিনিসটা হল জীবন্ত সেতু। মানে বনের গাছ কেটে তার কাঠ দিয়ে বানানো সেতু নয়। নদীর ওপরে রীতিমত জ্যান্ত গাছের ঝুরি পাকিয়ে বানানো ঝুলন্ত সেতু। যদিও অনেকটা হেঁটে যেতে হয়, সিঁড়িও প্রচুর। তবে কষ্ট না করলে কী আর কেষ্ট মেলে? ... ...

এখানে চারপাশে পাইস হোটেল থাকায় খাওয়া-দাওয়ার ভারি সুবিধা হয়ে গেল। শুধু মাছ নয়, মাঝে মাঝে ঝোলের সঙ্গে দু-এক টুকরো মাংসও থাকত। সে-সব খেতে খেতে মাখন একদিন ননীকে 'বাহবা' দিয়ে বললেন, ব্যবস্থা তোর ভালই, তো পাস কোথা থেকে। দু-পয়সা এক পয়সার বেশি তো বরাদ্দ নেই। ননী বললেন, ধুর এতে পয়সা লাগে নাকি। খাওয়া থামিয়ে মাখনবাবু বললেন, তোকে বলতেই হবে। পয়সা না দিয়ে খাবার তুই পাস কোথা থেকে। ননীবাবুর জবাব, আগে খেয়ে নে...। তারপর বলব। খাওয়ার পর মাখনবাবুর সেই একই জিজ্ঞাসা। ননীবাবুর অকপট স্বীকারোক্তি: ঝোলটুকু হোটেল থেকেই দিয়ে দেয়। বাকিটুকু সব পাতকুড়ানো। এই কৃচ্ছসাধনের কাহিনী মাখন পালের কাছেই শোনা। নোয়াখালির বেগমগঞ্জ থানার সোনাইমুড়ি গ্রামের জমিদার পরিবারের সন্তান, কৃতী ছাত্র মাখন পালের জবানবন্দি: ননীর মুখে মাছ-মাংসের এই ইতিহাস শুনে মনে হল বমি করে দিই। প্রশ্ন রাখলাম, বমি কি শেষ পর্যন্ত করেছিলেন? মাখনবাবুর জবাব: নারে ভাই, তখন আমাদের চালচুলো নেই। পার্টির অনেক কাজ। পয়সা-কড়ি কিছুই ছিল না। ফলে, বাধ্য হয়ে জেনেশুনে পাতকুড়ানো খেয়ে কাটিয়ে দিলাম। ... ...

লোকটা বলেই চলেছে, ‘তখন আমি রঙের কাজ করি। এই যে গ্রীলে, দেয়ালে, চারদিকে সবুজের পোঁচ দেখছেন, এর অনেকগুলো খাঁচা আমি আর বিকাশ একসাথে করেছি। বিকাশ আর কী করবে? রোশনি, আমার বৌ, বুঝলেন? কমলা রং খুব পছন্দ। তা কমলাটা আমি আবার ঠিক - মানে পছন্দ টছন্দের ব্যপার না! নানী মরবার দিন রাতে কমলা খেতে চেয়েছিল। দিতে পারিনি। সেই থেকে আর খাইও না, পরিও না। তারপর দেখুন 'ঈঈ' - এই কুমিরের মতো দাঁত! আমার সাথে কী ওর থাকা মানায়?' ... ...

চৌকো ফ্রেমের সজীব ধ্বনিত হয় প্রতিদিন নক্ষত্র লেগে থাকে শাণিত কাপড়ে মোলায়েম, আবাদের শ্লেষ এবং টুকরো বরফে বদ্বীপের চীনাংশুক জলরহিত খাবি খায় ... ...

সাভারকর স্পষ্ট করছেন যে পূণ্যভূমির অর্থ একটি জাতির নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে উপজিত সংস্কৃতির উত্তরাধিকার, এবং মানসিক গঠনে সেই উত্তরাধিকারকে বহন করা। তাই শুধু ধর্ম নয়, ভাষা এবং ইতিহাস এর অন্যতম অঙ্গ। সেই সংস্কৃতিকেই উনি বলছেন ‘হিন্দুত্ব’। এর মুখ্য অঙ্গ হল ইতিহাস, তাতে বেদ এবং পুরাণকথাও সামিল। শুধু তাই নয়, বৈদিক সভ্যতা থেকে শুরু। এবং একই আইন-কানুন, আচার -অনুষ্ঠান, রীতি-রেওয়াজও এই সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। ... ...

সাভারকরের মতে সমস্ত হিন্দুজাতি সেই সিন্ধুদেশ এবং বৈদিক কাল থেকে পিতৃপুরুষ ক্রমে একই রক্তধারার বন্ধনে আবদ্ধ। যদি কেউ প্রশ্ন করে যে সত্যিই কি সমস্ত হিন্দুদের শিরায় একই রক্তের ধারা বইছে? তাদের কি একটি জাতি বলা যায়? তো সাভারকরের উত্তর হল— আজকের বিশ্বে ইংলিশ, ফ্রেঞ্চ, জার্মান বা চাইনিজদের রক্তও কি আগের মত শুদ্ধ রয়েছে? ওরা যদি জাতি হয় তো হিন্দু কেন নয়? ... ...

পাস্তুরের এক শতক আগে ঘটে গেছে গুটি বসন্তের টিকাকরণের আবিষ্কার। আমরা যদিও আবিষ্কর্তা হিসেবে এডওয়ার্ড জেনারের নামই জানি, সমকালীন আরো অনেক জন চিকিৎসক বিজ্ঞানী গো-বসন্ত এবং শুকিয়ে যাওয়া গুটি দিয়ে গুটি বসন্তের প্রতিষেধনের নানা রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে গেছেন। কিন্তু মধ্যে এক শতকে আর নতুন কোন টিকা আবিষ্কৃত হয়নি। পাস্তুর এবং তার সমকালীন বিজ্ঞানীদের প্রস্তাবিত “বীজাণু তত্ত্ব” অর্থাৎ “সূক্ষ্ম জীবেরাই রোগের বীজ’ এই তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বিজ্ঞানীরা ভাবতে শুরু করলেন বীজাণু বা জীবাণুকে কমজোরী বা নিষ্ক্রিয় করে ফেলতে পারলে সেই জীবাণু হয়ত টিকা হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এই সময়ই রবারট কখ আবিষ্কার করেছিলেন এনথ্রাক্স রোগের জীবাণু। পাস্তুর এনথ্রাক্সের জীবাণুকে নিষ্ক্রিয় করে আবিষ্কার করলেন এনথ্রাক্সের টিকা। ... ...


মোরিয়া। চেপে যদি না রাখতে পারে নেহাৎ, তা হলে দেখো, ঠিক একটা উল্টো কথা খুঁজে বের করবে, করবেই! ওয়ালেস। হোঃ, উল্টো কথা! উপায় আছে, বিজ্ঞানে উল্টো কথা বলার উপায় আছে! তুই-ই বল্ না, এই যে জঙ্গলে জঙ্গলে ঘুরে বেড়াস, কত হরিণ দেখেছিস বলতে পারিস? মোরিয়া। সে কথা কি আর বলা যায় সাহেব? শ'য়ে শ'য়ে, হাজারে হাজারে দেখেছি তো। ... ...

সাভারকর প্রথমে প্রশ্ন তুললেন –নামে কিবা আসে যায়! উত্তরে বললেন—অনেক কিছু আসে যায়; জুলিয়েটকে যদি রোজালিন্ড বলে ডাকা হয় বা ম্যাডোনাকে ফতিমা, অথবা অযোধ্যাকে হনলুলু—তাহলে কি একই অনুভূতি প্রকাশ পাবে? অবশ্যই নয়। মহম্মদকে ইহুদী বললে কি তিনি খুশি হতেন? তাই হিন্দুত্ব, হিন্দু এবং হিন্দুস্তান শব্দ নিয়ে তাঁর বিচার শুরু হল। বললেন ‘হিন্দুত্ব’ একটি শব্দ মাত্র নয়, এটি আমাদের ইতিহাস। খালি আধ্যাত্মিক ইতিহাস নয়, বরং আমাদের সংস্কৃতি, যুগ যুগ ধরে জীবনযাপনের যে ঐতিহ্য যে মূল্যবোধ—তার পূর্ণরূপ। হিন্দুধর্ম এর একটি সাবসেট, বা ক্ষুদ্র অংশ। আবার সনাতন ধর্ম বলে যা চালানো হয় তা বিশাল বৈচিত্র্যময় হিন্দুধর্মের একটি অংশ মাত্র, পুরোপুরি হিন্দুধর্ম বা তার একমাত্র রূপ নয়। আগে হিন্দু এবং হিন্দুস্তানের উৎস বোঝা দরকার। ... ...

... একটা বিষয় মনে রাখবেন, এই যে সূর্যের ঘোরার কথা বলা হচ্ছে, এটা কিন্তু পৃথিবী থেকে যেমন দেখা যায়, সেটা, অর্থাৎ সূর্যের এই ঘোরাটা আসলে আপেক্ষিক। আমরা জানি, যে সূর্যের চারপাশে পৃথিবী ঘোরে, তাই আমাদের মনে হয় পৃথিবীর চারপাশে সূর্য ঘুরছে। আর্যভটের হিসাব যেহেতু পুরোটাই অবজারভেশন নির্ভর, তাই সেখানে পৃথিবী সূর্যের চারপাশে ঘোরার সময়কালকে বছর না বলে, সূর্য পৃথিবীর চারপাশে ঘোরার হিসেবেই বছরের হিসেব করা হয়েছিল। এবার পরের অংশগুলোর একটু হিসেব করা যাক – ৪৩ লক্ষ ২০ হাজার দিয়ে এই পৃথিবী যতবার ঘোরে বলা হয়েছে , অর্থাৎ ১৫৮২২৩৭৫০০, সেই সংখ্যাটাকে ভাগ করুন। দেখা যাবে ভাগফল মোটামুটি ওই ৩৬৬.২৫৮৬৮-র কাছাকাছি হচ্ছে (দশমিকের পরের অংশ নিয়ে আপাতত ভাবতে হবে না, ৩৬৬ টা দেখুন)। এই ভাগফলটা মানে কী? এক sidereal year-এ পৃথিবী কতবার পশ্চিম থেকে পূর্বে ঘোরে, অর্থাৎ নিজের চারপাশে কতবার ঘোরে, সেটা। এই সংখ্যাটা হিসেব করে যা বেরোল, তা আমরা যে এক বছরের কথা জানি তার দিনসংখ্যার থেকে সামান্য আলাদা। কেন? সেটা বুঝতে গেলে sidereal year কে বুঝতে হবে, এ আসলে আমাদের হিসেবের এক বছর নয়। তবে আপাতত sidereal year-এর জটিলতায় যাচ্ছি না, বরং একটু সহজ হবে যা বুঝলে সেটায় যাই।... ... ...

এই গল্পগ্রন্থটিতেও রয়েছে মানুষেরই চাওয়া পাওয়া, সুখ দুঃখের কথামালা। তবে গল্পগুলি আবর্তিত হয়েছে ভিন্ন কালমাত্রায়, ভারতীয় উপমহাদেশের ভিন্ন ভিন্ন রাজ্যের আবহে। তাতে অবশ্য পাঠকের লাভই হয়। তাঁর কাহিনীর পটভূমিকা তাদের নিয়ে যায় অচেনা সব অন্দরমহলে। গল্পগুলো ঘুরে বেড়ায় সহ্যাদ্রির মেঘে ঢাকা মহারাষ্ট্রের আরব সাগরের তীরে। ‘ফুল আর মধুপাখি’র সুশান্তি তার দেহের গরলকে কোন অমৃতে বশ করে? কলকাতার বড়বাজারে কাজ করা ইয়াদরাম, গ্যালিলিওর মত দেখতে মেহের বিলিমোরিয়া, বা পিপিনরা কি গভীর অসুখে আছন্ন ‘রাধু’কে আপন ‘ঘরবাড়ি’র কাছে পৌঁছতে দেয়? নাকি ধনী-গরিবের চরম বৈপরীত্যের ভূমিতে তারা হারিয়ে যায় কোনো উজ্জ্বল গোলকধাঁধায়? ... ...

অভিনেতা থেকে জননেতা, খেলোয়াড় থেকে গায়ক – ঐশ্বর্য ও প্রতিপত্তির জগতে যাঁদের আনাগোনা, তাঁরা কেউ কাঠগড়ায় উঠলে সাধারণ মানুষ যেন ততটা অবাক হন না। অথচ, নামকরা কোনো বিজ্ঞানী কোনো রকম অসদাচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন শুনলে লোকের প্রথমেই মনে হয় ‘অসম্ভব!’; কারণ, সাধারণের চোখে বিজ্ঞানী মানেই কাজপাগল, আত্মভোলা এক মানুষ, যাঁর কাজ – জ্ঞানের চর্চা ও সত্যের সন্ধান। অর্থাৎ বিজ্ঞানচর্চার রীতির মধ্যেই যেন এক রক্ষাকবচ লুকোনো আছে, যার সুবাদে একজন বিজ্ঞানী অসদাচরণ করা বা তার জন্য অভিযুক্ত হওয়া থেকে মুক্ত থাকেন। তার মানে কি বিজ্ঞানীদের অপকর্ম বিষয়ে সাধারণ মানুষ একেবারেই অন্ধ? ঠিক তা নয়, বরং একজন বিজ্ঞানী কী কী ধরনের অন্যায় করতে পারেন, সে বিষয়ে সাধারণ মানুষের মনে একটা ধারণা আছে; বিজ্ঞানীর সেইসব অপকর্ম হতে পারে ব্যক্তিগত কোনো কেলেঙ্কারি, আর্থিক নয়ছয়, বড় জোর দেশদ্রোহ—মানে গোপন তথ্য পাচার। কিন্তু গবেষণার সময়ে তিনি জ্ঞানত কোনো অসততা করেননি, অর্থাৎ যে ফলাফল পেয়েছেন, তাই তিনি প্রকাশ করেছেন – এটা ধরে নিয়েই বিজ্ঞানের জগৎ এগিয়ে চলে আর সাধারণ মানুষও সেটাই বিশ্বাস করেন। ... ...

“পারস্যে” ভ্রমণকাহিনীতে রবীন্দ্রনাথ গীতার নীতিবোধকে স্পষ্ট বিদ্রূপে বিঁধছেন—“গীতায় প্রচারিত তত্ত্বোপদেশও এইরকম একটি উড়োজাহাজ – অর্জুনের কৃপাকাতর মনকে সে এমন দূরলোকে নিয়ে গেল—যেখানে মারেই-বা কে, মরেই- বা কে, কেই-বা আপন কেই-বা পর। বাস্তবকে আবৃত করার এমন অনেক তত্ত্বনির্মিত উড়োজাহাজ মানুষের অস্ত্রশালায় আছে, মানুষের সাম্রাজ্যনীতিতে, সমাজনীতিতে, ধর্মনীতিতে । সেখান থেকে যাদের উপর মার নামে তাদের সম্বন্ধে সান্ত্বনা দেওয়া হয়েছে এই যে, ন হন্যতে হন্যমানে শরীরে”। ... ...

বাংলাসাহিত্যের বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় তাঁর ‘পারাপার’ উপন্যাসে একটি চরিত্র বিমানের সন্দর্ভে বলেছেন যে গীতা হোল পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কাব্য! গীতার বেশিরভাগটাই অনুষ্টুপ এবং অল্প একটু অংশ ত্রিষ্টুপ ছন্দে লেখা। কিন্তু কাব্যগুণ? ভিন্নরুচির্হিঃ লোকাঃ। ... ...