
সর্বকালে, সর্বত্র – ক্ষমতা যাদের হাতে, তারা ক্ষমতাহীনদের ভালোমন্দের ব্যাপারে উদাসীন; তাদের একমাত্র লাগাম টেনে রাখে ‘ভয়’। কথাটা খুব কর্কশ শোনাতে পারে। ভালো মানুষেরা অন্যদের ওপরে এক বিশেষ সীমা লঙ্ঘন করে অত্যাচার করবে না – এমনটা বলা যেতেই পারে। বলা হয়তো যায়, কিন্তু ইতিহাস অন্য কথা বলে। নিজেদের সুখে রাখতে ঠিক কতটা নির্যাতন চালানো হচ্ছে – সে কথা ভালো মানুষেরা দিব্যি না জেনে, বা না জানার ভান করে থাকতে পারে। রানী ভিক্টোরিয়ার প্রথম প্রধানমন্ত্রী, লর্ড মেলবোর্ন ছিলেন এইরকমই একজন ভালো মানুষ। .... ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা যৎসামান্য অর্থের বিনিময়ে কয়লাখনির অন্ধকারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা খেটে তাঁর সম্পত্তির জোগান দিত। ওইসব শিশুদের যন্ত্রণাই ছিল তাঁর শহুরে জীবনের জিয়নকাঠি। তিনি যে ব্যতিক্রম ছিলেন, এমন নয় কিন্তু! .... যে অবিচার আমাদের পক্ষে লাভজনক, তাকে সর্বদাই কোনো না কোনো কথার মারপ্যাঁচে (sophistry) জায়েজ় বলে দেখানো সম্ভব ... ...

গুরুচণ্ডা৯র প্রকাশিত বাংলা গল্পের অডিও সিরিজ - গুরুচন্ডা৯র গল্প। ... ...

জলের নিচে বাজা সুরের মতো — চেনা, অথচ দূরের ... ...

মহামন্ত্রী শাহুজি পড়েছেন গভীর ভাবনায়। চিন্তার চোটে তাঁর নাওয়া খাওয়া সব শিকেয় উঠেছে। মেজাজ তিরিক্ষে হয়ে রয়েছে, এই একটু আগে তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র জয়দ্রথ দণ্ডগেন্ডুক খেলার কী একটা দুর্ঘটনা নিয়ে বলতে এসেছিল, তিনি চেঁচিয়ে উঠে বলেছেন, এই সব ছোটখাট বিষয়ে যেন সে কোনো নালিশ জানাতে না আসে ভবিষ্যতে। ভাগ্যিস মহামন্ত্রীপত্নী সেসময় সখীদের সাথে কোনো এক উদ্যান পরিদর্শনে গিয়েছিলেন, তাই সেকথা সাথে সাথে জয়দ্রথ, মাকে নালিশ করতে পারেনি। ... ...

সেবার মানবাজারে থাকতে পারলে খুবই ভালো হত, কিন্তু আমাদের পুরো টীমকে রাখার মত অতগুলো ঘরওলা হোটেল পাওয়া গেলনা। তাই বাধ্য হয়ে মুকুটমণিপুরে থেকে যাতায়াত করতে হচ্ছিল। অসুবিধে খুব একটা হয়নি। হোটেল খুব সাজানো গোছানো, বেশ সুন্দর। পঞ্চাশ কিলোমিটারের মত দূরত্ব। আমাদের সঙ্গে বাস ছিল, রোজ সওয়া ঘন্টা যেতে, আর ঐরকমই ফিরতে। ফাঁকা পথের দুপাশে পাহাড় আর জঙ্গল। ... ...

আমাদের কাছে প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার আর গণতন্ত্রের আন্তঃসম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ মনে হলেও, এমন যে হতেই হবে – তার কোনো কারণ নেই, কেননা, নির্বাচনী কেন্দ্রগুলির ক্ষমতা খুবই সীমাবদ্ধ করে রাখা সম্ভব। আমাদের স্কটিশ বেরাদরেরা হাউস অব লর্ডসে নিজেদের প্রতিনিধি পাঠান, কিন্তু তাকে কোনোভাবেই গণতন্ত্র বলা যায় না। কিন্তু, প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার ছাড়া এমন কোনো প্রক্রিয়া খুঁজে বের করা প্রায় কার্যত অসম্ভব, যার ফলে ভৌগোলিকভাবে আয়তনে বড় কোনো রাষ্ট্রের কোনো সাধারণ নাগরিক সরকারি নীতি নির্ধারণে অংশ নিতে পারেন। ... ...

ছোটবেলায় মৌরি ভালই ছবি আঁকত, পরে কেন যেন কিছুতেই আর আঁকতে চাইত না। অনিতা যা যা নিয়ে প্রশংসা করেছে, গর্ব করেছে প্রতিটা জিনিষ মৌরি ছেড়ে দিয়েছে, দক্ষতা, ক্ষমতা আঙুলের ফাঁক দিয়ে গড়িয়ে গেছে অবহেলায়। অথচ মেয়ে এমনিতে খুব বাধ্য ছিল, কোনোদিন কোন কথা অমান্য করে নি, কোনো অনুরোধ ফেলে নি শুধু অনিতার পছন্দের কাজগুলো জিনিষগুলো নষ্ট করেছে চুপচাপ। সুখের সংসারই তো ছিল ওদের, মৌরির এই অদ্ভুত আচরণের কোন ব্যাখ্যা খুঁজে পায় না অনিতা। ... ...

দীনবালা সম্বন্ধে এইসব গল্প সত্যি না মিথ্যে, তা তার ছেলের বৌ তো দূরের কথা, নিজের ছেলেরাও জানে না। কারণ বড় ছেলের বয়স যখন পাঁচ বছর, দীনবালার স্বামীকে বাঘে খায়। এমন খাওয়া খেয়েছিল জন্তুটা, যে মানুষটার এক হাতের পাঞ্জা ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায়নি। শুধু রক্তমাখা লুঙি তুলে এনেছিল তার নৌকার সঙ্গীসাথিরা, সুন্দরবনের রীতি রেওয়াজ অনুযায়ী সেই কাপড়ের টুকরোটাকে সাক্ষী রেখেই তার বৌয়ের সিঁদুর মোছা, শাঁখা ভাঙা, শ্রাদ্ধ ইত্যাদি কাজকর্মগুলো সারা হয়েছিল। ... ...
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনীর ফলে বাদ যাওয়া ভোটারের সংখ্যার প্যাটার্ন বিষয়ে (আরো) দু-চার কথা। মূলতঃ দু-দফায় বিভিন্ন বিধানসভা আসনে বাদ যাওয়া নামের সংখ্যার সঙ্গে ওই সব আসনে জনগোষ্টীগত বিন্যাসের কোন সম্পর্ক আছে কি না তা খতিয়ে দেখার একটি প্রয়াস। ... ...

নতুন ওষুধটা আশ্চর্য ভাবে কারুকে মেরে তো ফেললই না, বরঙ অনেক অসুস্থ লোকের ভেতরে একটা পরিবর্তন দেখা যেতে লাগল। প্রাথমিকভাবে তাদের যার যা সমস্যা ছিল সেগুলো কেমন যেন কমে যেতে লাগল। যে চোখ পিটপিট করত তার পিটপিটানি কমল। যার মুখ ফ্যাকাশে ছিল তার ঠোঁটে সামান্য রং দেখা দিল। যে সবকিছু হারিয়ে ফেলত সে সবকিছু খুঁজে পেতে শুরু করল। ... ...

মনোজ আগরওয়াল, যিনি নির্বাচন কমিশনের বাংলার সিইও, তিনি প্রাথমিকভাবে বললেন তাঁর কাছে নাকি তথ্যই নেই কত মানুষ বিচারাধীন অবস্থা থেকে মুক্তি পেলেন। পরে অবশ্য একটা গোল গোল হিসেব দিলেন, যা দেখে মনে হচ্ছে ঐ ৬০ লক্ষ মানুষের বেশীরভাগ মানুষের নামই বাদ যেতে চলেছে। আগের বাদ যাওয়া এবং শেষে বিচারাধীন অবস্থা থেকে বাদ যাওয়া ভোটারের সংখ্যা যদি হিসেব করা যায় তাহলে ২০২৪ সাল থেকে প্রায় ১ কোটি মানুষের নাম বাদ যেতে চলেছে, যা ভারতের নির্বাচনী গণতন্ত্রের জন্য একটা কালো দাগ ছাড়া কিছু নয়। ... ...

মায়োপিক ভিশন আমার, মানে, দূর-দৃষ্টি দুর্বল। চশমা ছাড়া এমনিতেই চারপাশ ঝাপসা দেখি। তার ওপরে এখন চোখ ঝলসানো রোদ্দুর। চোখদুটোকে সরু করে বাইরের তাকাচ্ছি আর ভাবছি, কোনও কাজ তো হলো না আজ, তার মানে আবার একদিন আসতে হবে এই মনোরম অভিযানে? মনটা বিগড়ে যায়। সেই বিগড়ানো মন নিয়ে কলেজস্ট্রিটের মোড়ে নামি। বাড়ি যেতে হলে বাস পাল্টাতে হবে এখানে। ... ...

কেন এক অসম্পূর্ণ লেখা টেবিলে ঘুমিয়ে থাকে আমি ও আমরা উঠে যাই ... ...

আসলে কমলা পবনের বাপের চোখে সেই বেড়ালটাকে দেখতে পেয়ে গেছিল। যে বেড়ালটা এখন নাতির সঙ্গে টিভিতে দেখে। একটা বেড়াল আর একটা একটা ইঁদুর। একে অপরকে জব্দ করতে দৌড়ে বেড়াচ্ছে। একবার বিল্লি মাত দিচ্ছে, পরক্ষণেই ইঁদুর তাকে হারিয়ে দিচ্ছে। নাতি বলেছিল, “দেখো দাদি, বিল্লিটা কেমন চুহাকে মারবে বলে দৌড় করাচ্ছে।” ... ...

নিউটন স্বয়ং বলে গেছেন অগ্নিকাণ্ডে আলোকবিজ্ঞান ও ক্যালকুলাসের সমস্ত পাণ্ডুলিপিগুলোই পুড়ে গিয়েছিল। তাহলে পিরামিড সংক্রান্ত লেখা অর্দ্ধদগ্ধ পাণ্ডুলিপিগুলো এল কোথা থেকে? তাহলে তো বলতেই হয়, অন্তত দু’বার অগ্নিকাণ্ডের সম্মুখীন হয়েছিলেন নিউটন। প্রথমটা ১৬৮০ সালে, দ্বিতীয়টা ১৬৯২ সাল। সদাবি’সের দাবি সত্য হলে কিন্তু অনেক কিছুই উলটপালট হয়ে যাচ্ছে। প্রথমত, এ কথা সত্য, ১৬৮০ সাল নাগাদ প্রিন্সিপিয়া রচনার কাজে ব্যস্ত ছিলেন নিউটন। ... ...
এটা ভবানীপুর কেন্দ্রে তথাকথিত নির্বাচন কমিশনের অবিশ্বাস্য অনাচারের গল্প। এবং একই সঙ্গে সেই অনাচার খুঁড়ে বার করার অভিযানেরও গল্প। গল্পের শেষে অনুসন্ধানের ফলাফলও থাকবে, কিন্তু তার আগে পুরোটা পড়বেন, কারণ যে পাহাড়গুলো আমাদের ডিঙোতে হয়েছে, সেই পাহাড়গুলো আকাশ থেকে পড়েনি, ইচ্ছে করে তৈরি করা হয়েছে, যাতে টপকানো না যায়। সেটা প্রতিটি মানুষের জানা দরকার। ভবানীপুর এবং আরও কয়েকটা কেন্দ্র নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছিলাম অনেকদিন আগে। অল্ট নিউজ এবং সবর ইনস্টিটিউট এই কেন্দ্র নিয়ে তাদের প্রাথমিক অনুসন্ধান ইতিমধ্যেই পেশ করেছে। আমাদের প্রাথমিক অনুসন্ধানও তাদের সঙ্গে মেলে। তার পরেও কেন আলাদা করে প্রকাশ করছি, এবং কেন এত দেরি হল, তার উত্তরও এই লেখাতেই পাবেন। উত্তর একটাই, আমরা শুধু প্রাথমিক অনুসন্ধান নয়, কাজটা সম্পূর্ণ নিখুঁত ভাবে করতে চেয়েছিলাম। এখন মোটামুটি ৯৯% নিখুঁতভাবে শেষ হয়েছে এই কাজ। এবং সেই কারণেই অল্ট নিউজ বা সবরের থেকে এর ফলাফল খানিকটা আলাদা। বিপদ ওঁরা বা আমাদের প্রাথমিক অনুসন্ধান যা আঁচ করেছিল, তার চেয়েও বেশি, লেখাটা পড়লেই বুঝতে পারবেন। কিন্তু তার আগে আমাদের পাহাড় ডিঙোনোর যাত্রাপথের গল্প। ... ...

এমনকি তাদের স্কুলেও নাকি অলৌকিক পুরুষের বইয়ের প্রতিটি খণ্ড লাইব্রেরিরুমে রাখা হয়েছে এবং কম্পিউটারেও আপলোডেড। নাম দিয়ে সার্চ করলে সবকিছু স্পষ্ট জানা যায়। মহান পুরুষের কাছে ভিড় ঠেকাতে এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে ইদানিং। ইয়ান এবং তার বন্ধুরা সবাই সবার মৃত্যুর তারিখ জানে। বৈশালী জানে। এবং আমিও। জোহরা জানে, তাকে একটা দীর্ঘ সময় এই দুনিয়ায় কাটাতে হবে আমাদের তিনজনকে ছেড়ে। ... ...

সেই সংশোধনের কাজ চলছিলো। শরীর চলতে চায়না শফিকের। বুকে একটা চিনচিনে ব্যথা হচ্ছে কয়েকদিন হল। আগের রাতে ভাত খেয়ে জল খাবার পর কাজে বসেই শফিকের দুচোখে ঝাঁপিয়ে এলো ঘুম। টেবিলে মাথা রেখে কখন যেন ঘুমিয়ে পড়লো। বৌ সকালবেলা চা দিতে এসে ফিরে গেলো। আহা, ঘুমাক একটু। ... ...

আমার গল্পের পৃথিবীতে এক জঙ্গলের মধ্যে এক হ্রদ ছিল। সেখানে বাঘে গরুতে একসঙ্গে জল খেতে আসত। জঙ্গল থেকে বহুদূরে শহরে এক ছেলে আর এক মেয়েও থাকত। মেয়েটি বাড়ি বানায়। মরুভূমিতে বা খাঁ খাঁ মাঠের মাঝখানে। মাটির ওপরে নয়, মাটির নীচে। বেসমেন্টে। মাটির ওপর জেগে থাকে শুধু হালকা কাঁচের জানলা। সেখান দিয়ে যাবতীয় সূর্যালোক আসে। মেয়েটি সঙ্গে ট্যাব নিয়ে ঘোরে বড় বড় ধনকুবেরদের কাছে। ট্যাব সরিয়ে সরিয়ে সেসব নির্জন বাড়ির ছবি দেখায়। আসলে এগুলো বাঙ্কার। বাকি পৃথিবীতে সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেলেও ওখানে বেঁচে থাকা যাবে। ... ...

১৮৩০ সালের চৌঠা অক্টোবর একটি নতুন দেশের জন্ম ঘোষিত হল, ফরাসিতে বেলজিক, ফ্লেমিশে বেলজি জার্মানে বেলগিয়েন। রাষ্ট্রসঙ্ঘ অনেক দূরে; ইউরোপের তিন শক্তি, ইংল্যান্ড ফ্রান্স প্রাশিয়া খুশি, ফ্রান্স আর জার্মানির মধ্যে একটা বাফার স্টেট রাখা মন্দ নয় তবে মিলেছে দুটি শর্তে – প্রোগ্রেসিভ ভাবনা চিন্তা সহ লিবারাল প্রজাতন্ত্র নয়, দেশ হবে রাজতান্ত্রিক এবং অঙ্গীকার করতে হবে সকল যুদ্ধে সংঘর্ষে এ দেশ থাকবে নিরপেক্ষ, সুইজারল্যান্ডের মতন। নতুন দেশ, তার রাজা খুঁজতে খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দেওয়া হলো। শেষ অবধি যিনি গদিতে বসলেন সাক্সা কোবুর্গের সেই রাজকুমার লেওপোলড আবার প্রটেস্টান্ট! সেই একই বছরের জুলাই মাসে আমাদের স্কটিশ চার্চ কলেজের পত্তন হয় উত্তর কলকাতায়। সে কলেজের স্থাপনা হয়েছিল ভারতে শিক্ষা বিস্তারের উদ্দেশ্যে, ফ্ল্যানডারস এবং ওয়ালোনিয়া মিলে বেলজিয়ামের স্থাপনা হল ধর্মরক্ষার উদ্দেশ্যে। ... ...