ভারতের প্রথম বেতার সম্প্রচার শুরু হয়েছিল কলকাতা থেকে, এবং এই অসামান্য কাজটি করেছিলেন শিশিরকুমার মিত্র। ১৯২৬ এর ২৬ আগস্ট। এই আগস্ট মাসে কার্যত ভারতে বেতার সম্প্রচারের একশো বছর। কিন্তু কোথাও কোনও হেলদোল নেই। কলকাতার পর বেসরকারি উদ্যোগে বোম্বাই, কলকাতা ও মাদ্রাজে রেডিও ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯২৭ সালে 'ইন্ডিয়ান ব্রডকাস্টিং কোম্পানি (IBC)' বোম্বে স্টেশন থেকে বেতার সম্প্রচারের শুরু করে। তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার দেখলেন এত শক্তিশালী মাধ্যম। দখল নিলেন বেতার সম্প্রচারের। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হল সরকারের প্রতিষ্ঠান। ১৯৩৬এ নাম পরিবর্তন করে 'অল ইন্ডিয়া রেডিও'। পরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর নাম দেন আকাশবাণী। ... ...
২০২৫ এর আগস্ট মাসে তাই রইল গুরুচন্ডা৯-র তরফে কুমুদি পুরস্কারের জন্য নবীন কলমদের থেকে গল্প লেখার আহ্বান। ... ...
সারা বিহার জুড়ে এখন প্লাবন চলছে। হ্যাঁ, আক্ষরিক অর্থেই প্লাবন চলছে। মানুষের প্লাবন নেমেছে। নির্বাচন কমিশন যেদিন থেকে ঘোষণা করেছিল, যে বিহারে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী করা হবে, সেদিন থেকে বিজেপি বিরোধী সমস্ত দল বলা শুরে করে, এই বিশেষ নিবিড় সংশোধনী আসলে ‘ভোটবন্দী’। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে আসলে মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করছে বিজেপি, আর সেটাকেই আইনগত মান্যতা দিচ্ছে, তাঁদেরই পছন্দের নির্বাচন কমিশন। এই আইন করে পদ্ধতিগত ‘ভোট চুরি’র বিরুদ্ধে রাস্তায় নামার সিদ্ধান্ত নেয় বিহারের বিরোধী ইন্ডিয়া জোট, যার পোষাকী নাম ‘মহাগঠবন্ধন’। সেই রাস্তার লড়াইয়ের একটা আনুষ্ঠানিক নাম দেওয়া হয়- ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’। ... ...
পাশ দিয়ে যাওয়ার সময়ে ওপাশের ফিরতি পথের জিপ থেকে প্রশ্ন ভেসে আসে, কিছু দেখতে পেলেন ভাই? আমার ভ্রাতুষ্পুত্রের চটজলদি জবাব শুনে চমকে যাই - হ্যাঁ হ্যাঁ গাছে গাছে বুনো পিঁপড়ে দেখলাম প্রচুর। দুই জিপেই হাসির রোল ওঠে। হাসির রেশ শেষ হবার আগেই উল্টোমুখে চলতি জিপ দুটি পরস্পরের থেকে অদৃশ্য হয়। মনে ভাবি পুরোটাতো রসিকতা নয়। জঙ্গলকে বুঝতে হলে শুধু বড় বড় জন্তুজানোয়ার দেখাটাই সব নয়। বড় গাছ, ছোট গাছ, ঝোপঝাড়, লতাপাতা, কীটপতঙ্গ, পশুপাখি সবাইকে নিয়ে পুরো সংসারটাকেই অনুভব করতে হবে। ... ...
একটা বিরাট পাখি, উচ্ছে বলে, অসুখ করে একা-একা শুয়ে আছে বিন্ধ্য পাহাড়ে, কিন্তু সেখানে সে এল কোথা থেকে? রাবণকে চেনে এমন একটা পাখি, সীতাকে চুরি করে রাবণের আকাশ দিয়ে উড়ে যাওয়া দেখেওছে, তার বাড়ি কীভাবে যেতে হবে তা-ও জানে, এত কিছুর পেছনে একটা গল্প নেই? ... ...
সেটা বোধ হয় ১৯৮৭ সাল। দু একটা ছোটখাট কাজ পাচ্ছি। অনেকে আশ্বাস দিল তাদের নতুন প্রোজেক্ট শুরু হবে, তার কিছু কাজ আমাকে দেবে। আমি আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। এমন সময় হঠাৎ পৃথিবীর অর্থনৈতিক বাজারে কালোমেঘ দেখা দিল। ১৯৮৮ সালে আমেরিকার স্টক মার্কেট ক্র্যাশ করল। আর তার জের সুনামির মত ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারে ছড়িয়ে পড়ল। সব কোম্পানির অবস্থা খারাপ। আমাকে যারা কথা দিয়েছিল তাদের নতুন প্রজেক্টের কাজ আমাকে দেবে তারা সব পেছিয়ে পড়ল; বলল, আপাতত সে সব প্রোজেক্ট স্থগিত, ফ্রিজে রেখেছে সেগুলো সকলে। ... ...
আজ রিমিনিতে যেখানে উত্তর-দক্ষিণ পথ (কারদো) আর পূর্ব-পশ্চিম পথ (দেকামেনুস) এসে মিলেছে, সেখানে ছিল আরিমিনুম শহরের রোমান ফোরাম। রুবিকন পেরিয়ে সিজার তাঁর ফৌজ সহ ঘণ্টা দেড়েক বাদে সেইখানে পৌঁছুলেন। তিনি জানতেন রোমের আইন তিনি একা ভাঙেননি, তাঁর সঙ্গে ছ-হাজার লিজিওনেয়ার রোমের চোখে সেই একই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হবে। রোমের শপথ নিয়ে তাঁরা সৈন্য বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন, এবার সিজারের সাথি হয়ে রোমের বিরুদ্ধেই বিশ্বাসঘাতকতা করবেন (আমাদের আজাদ হিন্দ ফৌজের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছিল)। সেদিন আরিমিনুম ফোরামে পৌঁছে একটি প্রস্তরখণ্ডের ওপরে দাঁড়িয়ে তাঁর লিজিয়নকে সম্বোধিত করে বলেছিলেন, আমাদের অভিযান রোমের পানে, গৃহ যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী কিন্তু আমরা বিজয়ী হবো। ... ...
হঠাৎ কেন এই নিষিদ্ধকরণ? এটা বোঝার জন্য প্রথমে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত আরও কিছু বই দেখা যেতে পারে। যেমন অনুরাধা ভাসিনের আ ডিসমেনটেল্ড স্টেট (দ্য আনটোল্ড স্টোরি অফ কাশ্মীর আফটার আর্টিকেল ৩৭০) যেখানে আট নম্বর অধ্যায়ে মিডিয়াকে কী ভাবে স্তব্ধ করে দেওয়া আছে তার উল্লেখ আছে, এগারো নম্বরে কী চতুর ভাবে ধারা ৩৫এ বিলোপ করে ও ভুমি সংক্রান্ত আইন পরিবর্তন করে অকাশ্মীরি ধনকুবেরদের জন্য সংরক্ষিত এলাকা খুলে দেওয়া হচ্ছে ও উপত্যকার জনবিন্যাস কী ভাবে পাল্টে দেওয়া হচ্ছে তার বর্ণনা আছে; হাফসা কানজয়ালের কলোনাইজিং কাশ্মীর যাতে উপত্যকার সংস্কৃতি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা আছে; অরুন্ধতি রায়ের আজাদি যেখানে তিনি লিখছেন কাশ্মীর এমন একটা নাট্যমঞ্চ যেখানে অবর্ণনীয় হিংসা ও নৈতিক অবক্ষয় ঘটে চলেছে যা ভারত পাকিস্তানকে যে কোনও মুহূর্তে পারমাণবিক যুদ্ধে নিমজ্জিত করতে পারে; তারিক আলি, হিলাল ভাট এবং অন্যান্যদের কাশ্মীর দ্য কেস ফর ফ্রিডম আছে যেখানে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পরে হিলাল ভাট কী ভাবে কাশ্মীরি পন্ডিত হওয়ার ভান করে উন্মত্ত জনতার কবল থেকে মুক্তি পান তার রোমহর্ষক বর্ণনা আছে। ... ...
হীরেন সিংহরায়ের নতুন বই। গুরুচণ্ডা৯ থেকে বেরোচ্ছে। সামনেই, অর্থাৎ অদূর ভবিষ্যতে। বাংলা সাহিত্যে, সাহিত্যেই কি শুধু, বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বৈঠকী আড্ডা। যদিও তার সে তেজ আর নাই, মুজতবা লিখেছেন, “ফের বহু সিন্ধু পেরিয়ে দেশে এসে দেখি, সেই আড্ডার বিন্দুটি খরতাপে বাম্পপ্রায়।“ আড্ডার ঠেক পালটে পালটে গেছে, পাড়ার রক আর ‘পস্তলা-দস্তলার’ চাতাল থেকে সে চলে গেছে সাঙ্গুভ্যালি চায়ের কেবিন, কল্লোলের আড্ডা থেকে কফি-হাউসের টেবিল, সেই কফির কাপের তুফান হয়তো ঘুরতে ঘুরতে, বইতে বইতে পৌঁছে গেছে দেশে দেশান্তরে। সেই নতুন দেশে পৌঁছেও বাঙালি ঠিক খুঁজে নিয়েছে তার বেরাদরদের। ঠেকে ঠেকে জমে উঠেছে নিতুই নব আড্ডা। আর বাঙালি দেখে না শিখুক, আড্ডার ঠেকে নিয্যস শিখেছে গালগল্পের মাঝে হাইজাম্প ও লংজাম্পের কায়েদা। ... ...
সুস্মিতার গল্পের ব্যতিক্রমী মজাদার কিন্তু কার্যকরী শাস্তির বিবরণগুলো এই কারণেই আমার খুব ভাল লেগেছে। এমনিতে প্রতিটা গল্পেই পশু পাখি পোকা মাকড়ের প্রতি তাঁর মমত্ব চোখে পড়ে। হাতি জিরাফ বিড়াল ভেড়া শুধু নয় শামুক শুঁয়োপোকা মাকড়সারাও আছে তাঁর মায়ার পশমে বোনা গল্পে। রোবোটছানা, বাড়ি, উলের গোলারাও মোটে চুপচাপ নয়, দিব্বি নড়েচড়ে, কথা বলে, গল্পের নদী তুরতুরিয়ে বয়ে যায়। ... ...
যেদিন মমতার ঘরে ঢোকার কথা সেদিন দুপুরে মধ্যদিনের আহার শেষ করে উপরের ঘরে আমি নিদ্রাছন্ন। হঠাৎ নীচের থেকে শোরগোল ও চিৎকারের শব্দে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল। মমতা চীৎকার করে বলছে “মিস্টার বিশ্বাস, কাম ডাউন কুইকলি।” আমি তাড়াতাড়ি নিচে গিয়ে দেখি, ছোটন, খোকনের ছেলে, সেই ঘরের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে মোবাইল ক্যামেরাতে ওদের ছবি তুলছে। আমি যেতে মমতা আমাকে উত্তেজিত ভাবে অভিযোগ করল। বলল, “ দেখুন, এই ছেলেটি আমাদের ঘরে ঢুকতে বাধা দিচ্ছে। বলছে এ বাড়িতে মামলা চলছে। তোমরা এ ঘরে ঢুকতে পারবে না। ... ...
গত শতকের দ্বিতীয় অর্ধে আমরা তেমনই পেয়েছি শংকর, তেমনই অবধূত, তেমনই যাযাবর। সঞ্জয় আক্ষেপ করেছেন, মতি নন্দীর তারক চ্যাটার্জির গলিতে নায়ক রোজ আসতে পারেন না, কমল কুমার মজুমদার রোজ শ্মশান আলো করে বসতে পারেন না। আজকের টেলি সিরিয়ালের গতিক দেখে সঞ্জয় বলেছেন: "অন্ধকারকে আজ অন্ধকার বলে চিনিয়ে দেওয়ার কেউ নেই।" হলিউড-টলিউডের আস্বাদে আনন্দিত আমেরিকান কিশোরকে বাবা নিয়ে এসেছেন ইউরোপে। রোমান আর্চ, গ্রিক কলাম দেখানো শেষে বাবা তাকে নিয়ে গেছেন ডেনমার্কের ক্রোনবর্গ (হ্যামলেটের এলসিনোর) ক্যাসেলের মুক্তাঙ্গনে হ্যামলেট দেখাতে। নাটক দেখে ছেলেটি বলে, "আই ডোন্ট নো হু রোট ইট বাট বয় ইট ওয়াজ ফুল অফ প্রোভার্বস।" "অন্ধকারকে আজ অন্ধকার বলে চিনিয়ে দেওয়ার কেউ নেই।" ... ...
হঠাৎ একদিন কিছু বদলাতে শুরু করল। ১৯৭৯ সালে জুলিয়ানো গ্রামের কিছু উদ্যোগী মানুষ একটি মেলার আয়োজন করলেন। কোনও খোলা মাঠে নয়, সেটি বসবে এই গ্রামের গলিতে, বাসিন্দারা তাঁদের ঘরের দুয়োর খুলে দেবেন। ভালোবাসা এবং সাদর অভ্যর্থনা ছাড়া দেওয়ার কিছু নেই, তবে হাতে হাতে বানাবেন পাস্তা, পিৎজা, গ্লাসে ভরে দেবেন কিয়ান্তি। একেই আজকাল স্ট্রিটফেয়ার বলে। রিমিনির সভ্য মানুষজন সেতু পেরিয়ে এই অবধি আসতে কুণ্ঠিত হয়েছিলেন; দিনে ডাকাতি না হোক পকেটমারের অভাব কি! সব দুশ্চিন্তা কাটিয়ে আগস্ট মাসের এক উজ্জ্বল দিনে দেখা গেল সান জুলিয়ানোর অলিতে গলিতে সুখী জনতার ভিড়, শিশুদের কলরব। গ্রামের লোকেরা যে যেখানে পেরেছেন দুটো চেয়ার পেতে দশজন মানুষকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, যদি হও সুজন তেঁতুল পাতায় কত জন! ... ...
অর্জুন বিশ্বস্ত, অনুগত ও করিৎকর্মা ছেলে। অনেক বছর ধরেই কলকাতায় ও-ই আমার সব কাজকর্ম করে দেয়। অর্জুনকে বলে দিয়েছিলাম ও যেন গাড়ি নিয়ে এয়ারপোর্টে আমাদের জন্য অপেক্ষা করে। গাড়ি নিয়ে সল্টলেকের বাড়ির সামনে নেমে অবাক হয়ে গেলাম। নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছি না। ঠিক দেখছি তো? অর্জুন আমাদের ভুল ঠিকানায় নিয়ে আসেনি তো? সল্টলেকের বাড়িটা চারিদিকে পাঁচিল দিয়ে ঘেরা, গ্যারেজের দিকে একটা বড় লোহার গেট, সেই গেট পেরিয়ে সদর দরজা খুলে বাড়িতে ঢুকতে হয়। দেখি সেই গেটে একটা ভারী তালা ঝুলছে। দিনক্ষণ জানিয়ে খোকনকে একটা মেল করে দিয়েছিলাম। সুতরাং খোকন জানত আমরা আসছি। বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে চীৎকার করে ওকে ডাকলাম, কোনও সাড়া নেই। দেশের টেলিফোন আমার নেই। অর্জুনের ফোন নিয়ে আমার বোন খুকু ও জামাই দিলীপকে ফোন করলাম, বললাম, “মেজদাকে বল দাদারা নিচে অপেক্ষা করছে। দরজা খুলে দিতে।” কিছুক্ষণ পরে দিলীপ ফোন করে বলল, ‘মেজদা বলছে, দরজা খুলবে না।‘ আমি হতভম্ব। খুকু বিচলিত। খুকু দিল্লিতে হাঁদিকে ফোন করল। হাঁদির কথাও শুনল না খোকন। ... ...
রাহুল গান্ধী বোমা ফাটিয়েছেন। দেশের অন্যতম একটি সাংবিধানিক সংস্থা, নির্বাচন কমিশন যার দায়িত্ব অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন করার, তাদের দিকেই প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন। তথ্য প্রমাণ সহ সাংবাদিক সম্মেলন করে দেখিয়েছেন যে গত লোকসভা নির্বাচন এবং তার পরবর্তী মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। উল্টে রাহুল দেখিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের সহায়তাতেই বিভিন্ন রাজ্যে ভুয়ো ভোটারের নাম নথিভুক্ত করানো হয়েছে। একই ভোটার কার্ডের নম্বরে বিভিন্ন রাজ্যে নাম নথিভুক্ত করা হয়েছে, সেই তথ্যও দেখিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। তিনি যেটা বলেননি, তা হলো নতুন ভোটারদের নাম নথিভুক্ত করার পাশাপাশি বিভিন্ন ভোটারদের নামও বাদ দেওয়া হয়েছিল। এই অভিযোগ দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের আগে দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং তাদের রাজ্যসভার সদস্য সঞ্জয় সিং করেছিলেন। রাহুল গান্ধী যে অভিযোগ করেছেন, তা জেনে নেওয়া জরুরি। ... ...
মুড়কি দিদির পড়ার টেবিলে সেদিন দুখানা মোটা মোটা বই দেখল উচ্ছে। মুড়কি দিদি ঘরে ছিল না, বই দুটো সে উল্টেপাল্টে দেখতে শুরু করে। এখন সে বানান না-করেও বাংলা পড়তে শিখেছে, দেখল একটা বইয়ের নাম কৃত্তিবাসী রামায়ণ, অন্যটা বাল্মিকী রামায়ণ। বাল্মিকী রামায়ণে লেখা আছে সারানুবাদ রাজশেখর বসু। কথাটার মানে বুঝতে পারল না উচ্ছে। তা ছাড়া, বইটা এমনিতেও বিচ্ছিরি, একটাও ছবি নেই! এবার কৃত্তিবাসী রামায়ণটা খোলে সে, খুলতেই পাতার পর পাতা রংচঙে ছবি। রামায়ণের গল্প সে জানে, মা'র কাছে শুনেছে। পাতা উলটিয়ে ছবিগুলো যখন দেখছে সে, হঠাৎ দেখল, কখন যেন নিঃশব্দে ঘরে ঢুকে তার পিছনে দাঁড়িয়েছে মুড়কি দিদি। ... ...
নগাধিপতি হিমালয়। তার পাদদেশে ডুয়ার্সের প্রকৃতি যে এত সুন্দর, যে চোখে না দেখলে বিশ্বাস হয়না। ঢেউ খেলানো জমিতে চা বাগান, মধ্যে মধ্যে কাঁচা মাটির পথ, ছোট ছোট গ্রাম, আর তরাইয়ের জঙ্গল। নীল আকাশ ঝুঁকে পড়ে সবুজ চা বাগানের সঙ্গে কত কী কথা বলে। হাওয়ায় কান পাতলে শোনা যায়। কলেজ থেকে যতবার এদিকে ফিল্ড সার্ভেতে এসেছি, জানুয়ারি কিংবা ফেব্রুয়ারিতে, আকাশ সবসময় মেঘে ঢাকা পেয়েছি। লাভা, লোলেগাঁও, রিশপ গেলাম দুবার। চারিপাশ শুধু সাদা, হিমালয়ের শ্রেণী দেখা তো দূর, নিজেকে দেখা দায়। সেবার পেলিং গিয়েও একই দশা। পর্বত দুহিতা উমা তো আমাদের ঘরের মেয়ে, আবার মাও বটে। তাই গিরিরাজ আমার একরকম অভিভাবকই হলেন। ... ...
আরজিকর কাণ্ড আমাদের সকলের চোখের সামনে দিয়ে ঝড়ের গতিতে হয়ে গেল। কিন্তু ঝড়ের মধ্যে অনেক কিছু নজরে পড়ে না, অনেক কিছু মাথা থেকে বেরিয়ে যায়। এই লেখা পড়লেই দেখবেন, কিছু জিনিস আপনি জানতেন না। কিছু জিনিস জানতেন, কিন্তু ভুলে গেছেন। আজ থেকে কয়েক বছর পরে সমস্ত খুঁটিনাটিই বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যাবে। সেটা যাতে না যায়, তাই এই প্রয়াস। ... ...
ভাষাবিতর্ক নিয়ে তামিলনাড়ু বাদে আর যে দুটো রাজ্য হেডলাইনে আছে, তারা হল মহারাষ্ট্র এবং পশ্চিমবঙ্গ। কিন্তু কারণগুলো বিভিন্ন। তৃতীয় ভাষা হিসেবে হিন্দি চাপানোর প্রতিবাদের সাথে সাথে ব্যবসায়ীদেরকে মরাঠি বলতে বাধ্য করা, এই লম্ফঝম্ফ নতুন কিছু না, চক্রাকারে পরিবর্তিত হয়। নতুন যেটা হল, সেটা হচ্ছে বাংলা ভাষা শুনে বাংলাদেশী ছাপ দিয়ে ঠ্যাঙানো এবং সীমানার বাইরে বার করে দেওয়া। মহারাষ্ট্রে উত্তর ভারতীয় ঠ্যাঙানো, নতুন কিছু না। বাঙালি ঠেঙানো টাই নতুন। প্রায় সিকি - শতাব্দ মহারাষ্ট্রে কাটানো এক বঙ্গভাষী হিসেবে বোঝার চেষ্টা করছি এই নতুন উৎপাত কে। ... ...
সেই খোকন, আমি দানপত্রে সই করার কিছুদিন পর থেকে আমার সঙ্গে ওর আচার ব্যবহার, কথাবার্তার রূপ বদলে গেল। ও আমার সমকক্ষ, আমার মত ও-ও এ বাড়ির মালিক। এ বাড়িতে কিছু করতে চাইলে ওর সম্মতি নিতে হবে, তা সে নতুন ইলেকট্রিক লাইন হোক বা এয়ারকন্ডিশন মেশিন বসানো হোক। আমি অস্বস্তি বোধ করতে লাগলাম। এ কি হল? আমি আর এ বাড়ির একক মালিক নই? ... ...