এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  কাব্য

  • লর্ড অফ মিটিং রিভার্স - বাসবান্না 

    যদুবাবু লেখকের গ্রাহক হোন
    কাব্য | ১৮ আগস্ট ২০২৫ | ৭৭৩ বার পঠিত | রেটিং ৫ (২ জন)

  •  
    আমাদের অতীতের সিন্দুকে কতকিছু লুকিয়ে আছে, তোরঙ্গে জমে থাকা দস্তাবেজের মতো, তীব্র আলোর ঝলকানির মধ্যে দু-একটি ক্ষীণ অপসৃয়মান বিন্দু, যা চোখে পড়ে না, অথচ এই বিন্দুগুলিই যেন শত-সহস্র বছরের ওপার থেকে অন্ধকারের মধ্যে পথচলার ভরসা দেয় দুঃস্বপ্নতাড়িত মানুষদের।

    আজকে যে কবির কথা বলবো তাঁর নাম বাসবান্না (১১০৬-৬৮)। দ্বাদশ-ত্রয়োদশ শতাব্দীতে খুব অল্প সময়ের জন্য মধ্যযুগের ভারতবর্ষের সামাজিক আন্দোলনের পুরোভাগে ছিলেন এই মিস্টিক-সাধু। উত্তর কর্ণাটক-কে (ম্যাঙ্গালোর) কেন্দ্র করে প্রায় শ-তিনেক মাইল জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিলো এক ভক্তি-আন্দোলন, যে আন্দোলনের কেন্দ্রে ছিলো সব-কিছু-মিলিয়ে দেওয়ার একটা দুঃসাহসিক স্বপ্ন – আত্মপরিচয়, জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ সব বিলীন হয়ে একজন নিরীশ্বরের সাধনা। 

    তার কবিতার কিছু অনুবাদ পাওয়া যায় এ-কে-রামানুজনের অনুবাদে, বইটির নাম “স্পিকিং অফ সিভা’ – এই শিব কিন্তু মন্দিরের দেবতা নন, কোনো জাতির ঈশ্বর নন, তাঁর বর্ণনা বাসবান্না করেছেন, ‘Lord or meeting rivers’, নদীসঙ্গমের প্রভু। নদীসঙ্গম - অর্থাৎ কৃষ্ণা ও মালপ্রভা নদীর সঙ্গম। শুষ্ক যাগযজ্ঞ/শাস্ত্রপাঠে বিরক্ত বালক বাসবান্না উপনয়নের পরেই পৈতে ছিঁড়ে ফেলে বেরিয়ে পড়েন বাড়ি ছেড়ে - বহু কষ্টের পর এই সঙ্গমে পৌঁছে তিনি খুঁজে পেলেন তার প্রিয়তম ইষ্টদেবকে। 

    বাংলা কবিতায় এই কাব্যধারাটির সাথে পরিচয় হয়েছিল নবনীতা দেবসেনের হাত ধরে। বাসবান্না, আক্কা মহাদেবী, আল্লামাপ্রভু-সহ বহু বীরশৈব কবিদের ১০০টি কবিতার মূল কন্নড় থেকে* বাংলায় অনুবাদ করেন নবনীতা, "শতেক বচন" বইতে। ১৯৮৩ সালে। নবনীতা কন্নড় জানতেন না। মাইসোর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ প্রভুশঙ্করের সঙ্গে জুড়ি বেঁধে এই অনুবাদের কাজটি করেছিলেন তিনি। ২০১৯ সালের ঈপ্সিতা হালদার একটি প্রবন্ধে লিখেছেন, "নবনীতাদি অবশ্য বীরশৈব আর লিঙ্গায়তদের মধ্যে পার্থক্য করেননি, যা ছিল কালবুর্গি ও গৌরীর বক্তব্য। লিঙ্গায়ত গোষ্ঠী তাঁদের আচারে-বিচারে-ঈশ্বরচেতনায় বীরশৈবদের থেকে আলাদা, অতএব তাঁদের ব্রাহ্মণ্যবাদী বীরশৈব সমাজের এককোণে ঠাঁই না দিয়ে দেওয়া হোক আলাদা ধর্ম পরিচয়, এই নিয়ে কর্নাটকে লিঙ্গায়তদের যে আন্দোলন কালবুর্গি ও গৌরী ছিলেন সেই আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী। ১৯৮৩ নাগাদ অবশ্য এই ভাগাভাগিটা বোঝার সুযোগ ছিল না। দ্বাদশ শতকে গুরু বাসবান্নার নেতৃত্বে শৈব নবজাগরণের সূচনা হয়, তখন থেকে প্রায়ই এই দু’টি শব্দ অভিন্ন ভাবে বচনে ব্যবহার হয়েছে। তাঁরা পুরোহিতের ধার ধারেন না, তাঁদের আচারে অগ্নি আবশ্যিক নন, ধর্মাচরণের অধিকার সর্বজনে। কায়িক শ্রম আধ্যাত্মিক মূল্য সম্পন্ন।"
     


    ফিরে আসি বাসবান্নায়। কেমন মানুষ ছিলেন তিনি? নবনীতার বইয়ের শেষের পরিশিষ্ট থেকে জানা যায়, "তীব্র, তীক্ষ্ম, দেদীপ্যমান প্রতিভা ছিল বাসবান্নার, আর তাঁর চরিত্র সোনার মত ঝলমলে। তাঁর সুনাম যে হাওয়ায় ভেসে ছড়িয়ে পড়বে, তাতে আশ্চর্যের কিছু ছিলো না"। 

    পরিণত বয়সে মঙ্গলচেড়ের রাজা বিজ্জলের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন বাসবান্না, কিন্তু, "রাষ্ট্রনীতিতে তাঁর কণামাত্রও উৎসাহ ছিল না - পূর্ণ বিশ্বাস ছিলো মানুষী সংযোগের প্রতি।... জাতিভেদ প্রথাকে আন্তরিক ঘৃণা করতেন বাসবান্না। অস্পৃশ্যতা ব্যাপারটাকেই তাঁর অনৈতিক অযৌক্তিকতা মনে হ'ত।" ... নবনীতা লিখছেন, "বাসবান্নার আদর্শ ছিলো সবার পিছে, সবার নিচে, সবহারাদের উন্নতি ঘটানো।"

    --- 

    প্রথম কবিতাটা পড়া যাক,
    'The rich
    will make temples for Siva.
    what shall I,
    a poor man,
    do?

    My legs are pillars,
    the body the shrine,
    the head a cupola
    of gold,

    Listen o lord of the meeting rivers,
    things standing will fall,
    but the moving ever shall stay.


    এর সঙ্গে নবনীতার অনুবাদ- 

    "যার আছে, সে বানিয়ে দেবে শিবমন্দির
     আমি কি পারি ? গরীব দুঃখী মানুষ, প্ৰভু ! 
    আমার পাদুটো থাম, এই দেহটাই নাটমন্দির 
    এই মাথাটাই স্বর্ণকলস হোক-
    শোনো হে প্ৰভু কুডলসঙ্গমের
    স্থাবর যা, তা বিনষ্ট হয় বটে
                             জঙ্গমের তো বিনাশ নেই জগতে।"


    শেষ দুই পংক্তি আমাদের চেনা আরেকজন কথা মনে করায়, তাই না? এই স্বর্ণ-আর-দর্পের বুদবুদের আস্ফালনের মাঝে দাঁড়িয়ে সেই দম্ভের দিকে, ঘৃণার দিকে বলতে ইচ্ছে করে, ‘the moving ever shall stay’। আর মনে পড়ে শেলীর সেই অমর কবিতাখানি। তুলেই দিই। 

    I met a traveller from an antique land
    Who said: Two vast and trunkless legs of stone
    Stand in the desart. Near them, on the sand,
    Half sunk, a shattered visage lies, whose frown,
    And wrinkled lip, and sneer of cold command,
    Tell that its sculptor well those passions read
    Which yet survive, stamped on these lifeless things,
    The hand that mocked them and the heart that fed:
    And on the pedestal these words appear:
    "My name is Ozymandias, King of Kings:
    Look on my works, ye Mighty, and despair!"
    No thing beside remains. Round the decay
    Of that colossal wreck, boundless and bare
    The lone and level sands stretch far away.


    Percy Shelley, "Ozymandias", 1819 edition
    ---

    দ্বিতীয় যে কবিতাটির কথা বলবো, সেটিও আশ্চর্য লাগে আমার। নিরাকার, নিরবলম্ব সেই ঈশ্বরের প্রেমে, তার কাছে আত্মসমর্পণের আকুতিতে বাসবন্ন হয়ে যাচ্ছেন যেন অর্ধনারীশ্বর। এই চেতনাটিও কি চেনা লাগছে না? ফিরে আসবে না এই কথাগুলো অনেক যুগ পরে অন্য কারুর হাত ধরে?

    'I wear these men’s clothes
    only for you.
    Sometimes I am man,
    sometimes I am woman.
    O lord of the meeting rivers
    I’ll make wars for you
    but I’ll be your devotees’ bride.'

    এই সময়ে দাঁড়িয়ে বিশ্বাস করতে ভালো লাগে দ্বাদশ শতাব্দীর একজন কবি লিখে ফেলেছেন এই সব অগ্নিসম্ভব কবিতা, যেন এক ভালোবাসায়-পুড়ে-যাওয়া মানুষ, যাঁর ঈশ্বর তার অধিপতি, আবার তার প্রেমিক ...

    'Don’t make me hear all day
    ‘Whose man, whose man, whose man is this?”
    Let me hear, ‘This man is mine, mine, this man is mine’

    ....

    শেষ একটি কবিতা - ইংরেজি আর নবনীতার বঙ্গানুবাদ দুই-ই দিয়ে ইতি টানবো। এইটিও আমার অন্যতম প্রিয়।

    "The master of the house, is he at home, or isn't he? 
    Grass on the threshold,
    dirt in the house:
    The master of the house, is he at home, or isn't he?

    Lies in the body,
    lust in the heart:
    no, the master of the house is not at home,
    our Lord of the Meeting Rivers."

    "ঘরের মানুষ কি ঘরে আছেন ? না, নেই?
    চৌকাঠে ঘাস
    মেঝে ভর্তি ধুলো
    ঘরের মানুষ কি ঘরে ? না, বাইরে ?
    দেহভরা মিথ্যা
    মনভরা বাসনা
    নাঃ, ঘরের মানুষ ঘরে নেই – -
    আমার কুডলসঙ্গমের দেবতা !"

     
    এইটি পড়ে আমার এক দীর্ঘদেহী ছায়ার কথা মনে পড়ে, যিনি অলক্ষ্যেই যেন শান্তির বারি হয়ে রয়ে গেলেন আমাদের জাতির অবচেতনে। 
     
    ---
     
    কেন হুট করে বাসবান্নার কবিতা পড়তে শুরু করেছিলাম একদিন, কেন-ই বা সেটা নিয়ে এখন লিখতে ইচ্ছে হ'ল, সে গল্প বড়ো লম্বা, এই পরিসরের যোগ্য নয়। তবু আজকাল এই প্রায় আটশো-নশো বছর পরে, মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে আরেকবার আমাদের এই লুপ্ত ধারাটির খোঁজ করি। 
     
    খুঁজছি, তাই, পড়ছি খুব, কারণ আর কিছু করার নেই, এবং হাতে সময় কম, আর ভাবছি, কোথায় ভুল হয়ে গেলো আমাদের? অসত হইতে সতের দিকে, তমসা হইতে আলোর দিকে, এবং মৃত্যু হইতে অমৃতের দিকে যাওয়ার পথ আমরা যে শুধু হারিয়েছি তাই নয়, বোধ হয় পথটি মুছে গেছে আমাদের সমবেত চেতনা থেকে। 
     
     
    সূত্র - 
    ১) Speaking of Siva. Translated by A. K. Ramanujan. Penguin Books. https://www.rarebooksocietyofindia.org/book_archive/196174216674_10157052984731675.pdf
    ২) শতেক বচন - ১২শ শতকের কন্নড় ভক্তিকবিতা, নবনীতা দেবসেন। প্যাপিরাস প্রকাশন। https://ia902902.us.archive.org/9/items/in.ernet.dli.2015.301329/2015.301329.Shatek-Bachan_text.pdf
    ৩) https://www.anandabazar.com/editorial/nabaneeta-dev-sen-s-way-of-retelling-the-ramayana-was-very-different-1.1074438 
     
    পুনশ্চ - "শতেক বচন" বইটির সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেওয়ার জন্য, আমার বন্ধু রোবোর কাছে আমি ঋণী, আরও অনেককিছুর মতোই। 
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • কাব্য | ১৮ আগস্ট ২০২৫ | ৭৭৩ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Ranjan Roy | ১৮ আগস্ট ২০২৫ ১২:৩০733454
  • यदु বাবু,
    1. এই গুরু বাসবন্না  আর রাজা বিজ্বলকে নিয়েই কি  গিরিশ कर्नाड এর নাটক  রক্তকল্যাণ , शंख ঘোষের বাংলা অনুবাদে?
    2 "আটশো নশো" -'-- শেষ প্যারার আগে-- টাইপো বোধহয়?
  • aranya | 2601:84:4600:5410:a4bc:234b:bb71:***:*** | ১৯ আগস্ট ২০২৫ ০০:৫৮733476
  • বাঃ 
  • যদুবাবু | ১৯ আগস্ট ২০২৫ ০১:৩৯733477
  • @রঞ্জনদা, হ্যাঁ ঐ নাটকের অনুবাদের জন্য শঙ্খ ঘোষ সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার-ও পেয়েছিলেন বোধহয়। রক্তকল্যাণ সাম্প্রতিক কালে মঞ্চস্থ হয়েছিল মনে পড়ছে আবছা, যদিও দেখার সৌভাগ্য হয়নি। বইটির ভূমিকার থেকে এক পাতার ছবি নিচে (ফেসবুকে প্যাপিরাসের বিজ্ঞাপন থেকে পেলাম)। 



    আর ঐ ঘটনার বর্ণনা নবনীতার লেখায় এইরকম - 

     

     
  • যদুবাবু | ১৯ আগস্ট ২০২৫ ০১:৪০733478
  • শ্রীমল্লার, অরণ্যদা - ধন্যবাদ। :) 
  • Ranjan Roy | ১৯ আগস্ট ২০২৫ ১০:০৩733481
  • ধন্যবাদ,  Jadubabu. 
    রক্ত কল্যাণ অনেক আগে পড়েছিলাম l খুব ভালো লেগেছিল l
    কাব্য গুণ ও নাট্য গুণের চমৎকার কম্বিনেশন l
  • Tania Basu Dutta | 2409:40e1:30c8:d2b5:90cb:84ff:fe46:***:*** | ২০ আগস্ট ২০২৫ ০৯:১৯733501
  • আপনার জীবনের নীতিবাক্য : " the unexamined life is not worth living" 
    দেখুন কি অদ্ভুত ভাবে মিলে গিয়েছে ! 
    "The moving ever shall stay " 
    মুভ না করলে তো stagnant হয়ে যাবো , আর যে জীবনে প্রশ্ন নেই , যাচাই করা নেই , সেই জীবন তো stagnant ! 
     
    Ozymandias , সিক্স এর বাচ্চাদের পড়িয়েছিলাম ।....যদি তখন বাসবান্নার কথা জানতাম আরো অনেক অনেক সুন্দর ভাবে জীবনবোধ দিয়ে বোঝাতে পারতাম ওদের .....
     
    অসাধারণ স্টাডি আপনার ! ভীষণ ভালো লাগলো . 
  • সমরেশ মুখার্জী | ২০ আগস্ট ২০২৫ ০৯:৩৫733502
  • শোনো হে প্ৰভু কুডলসঙ্গমের
    স্থাবর যা, তা বিনষ্ট হয় বটে
    জঙ্গমের তো বিনাশ নেই জগতে।
     
    এই তিনটি লাইন বেশ নাড়িয়ে দিল। অতীতের কতো বিশাল মহিমান্বিত মন্দির কালের অমোঘ প্রভাবে বিনষ্ট হয়ে গেছে কিন্তু লোভী - ত্যাগী - অবিশ্বাসী - বিশ্বাসে মিলায় বস্তুতে নিবেদিত বা ব্রহ্মজ্ঞানী নিরাকার সাধক ... এহেন নানা বহুবিধ বৈপরীত্য‌ময় বৈশিষ্ট্য সত্ত্বেও মানবজীবন বহমান ...mail
  • যদুবাবু | ২০ আগস্ট ২০২৫ ০৯:৩৯733503
  • :)
     
    তাহলে Ozymandias-এর অন্য ভার্সনটাও থাক। এটা হোরেস স্মিথের লেখা সনেট। 



    উইকি থেকে নিচেরটুকু টুকলাম (emphasis mine).
     
    "The banker and political writer Horace Smith spent the Christmas season of 1817–1818 with Percy and Mary Shelley. At this time, members of their literary circle would sometimes challenge each other to write competing sonnets on a common subject: Shelley, John Keats and Leigh Hunt wrote competing sonnets about the Nile around the same time. Shelley and Smith both chose a passage from the writings of the Greek historian Diodorus Siculus in Bibliotheca historica, which described a massive Egyptian statue and quoted its inscription: "King of Kings Ozymandias am I. If any want to know how great I am and where I lie, let him outdo me in my work." In Shelley's poem, Diodorus becomes "a traveller from an antique land.""
  • যদুবাবু | ২০ আগস্ট ২০২৫ ০৯:৪৬733506
  • আরে সমরেশবাবু! কেমন আছেন? :) 

    আপনার তো ভালো লাগার কথাই। এই যে আপনি এতো জায়গায় ঘুরে বেড়ান একা-একাই, সামান্য আয়োজনে, দেখেও ভালো লাগে। স্থবিরতা যেন কোনোদিন-ই আপনাকে স্পর্শ করতে না পারে এই আশা করি। 
     
    আমি অনেকদিন আগে মার্ক টোয়েনের বাড়ি/মিউজিয়ম দেখতে গেছিলাম, তার বাইরে একটা গিফট শপে দেখেছিলাম ম্যাগনেটে ওঁর উক্তি লেখা, "ট্র্যাভেল ইজ় ফেটাল টু প্রিজুডিস"। মাঝে মাঝে মনে পড়ে। 
  • Tania Basu Dutta | 2409:40e1:30c8:d2b5:90cb:84ff:fe46:***:*** | ২০ আগস্ট ২০২৫ ১৬:২৪733511
  • কিছুই পড়াতে পারিনি ঠিক মতো ।....এই information টা পেয়ে মনে হচ্ছে ।...খুব মনে হচ্ছে আমার আর একটা ক্লাস যদি পেতাম ,,,, আবার করে ঢেলে সেজে পড়াতাম বাচ্চাগুলো কে ।।...ওদের কিন্তু খুব উৎসাহ ছিলো traveller সম্বন্ধে ......Horace Smith এর এতো সুন্দর একটা ভার্সন রয়েছে জানতামই না ।.......কিছুই পারিনি ঠিক মতো 
  • agantuk | 73.189.***.*** | ২৯ আগস্ট ২০২৫ ০৯:৩৭733720
  • অনেকদিন পর আবার এই বইটার কথা মনে পড়ে গেল। যদুবাবুর সুপার সিনিয়ার, আমার M Stat ক্লাসমেট ছিল Siva Athreya, আমি মজা করে বলতাম রামানুজন ওকে নিয়ে কবিতার বই লিখেছেন! 

    আর বীরশৈব কবিতার ধারা কি সত্যি পুরোপুরি লুপ্ত? বিশাল বিচিত্র আমাদের দেশ আর সংস্কৃতির বহমান জল যে কখন কোথা থেকে কোথায় গড়ায়, তা সবসময় ঠাওর করে ওঠা মুশকিল। ১৯৬৮ সালের হিন্দি ছবির গানে বাসবান্নার আকুলতা চমৎকার মিশে থাকবে, ঢেউ তুলবে অন্য এক নদীর সঙ্গমে।

    वादियां मेरा दामन, रास्ते मेरी बाहें
    जाओ मेरे सिवा, तुम कहाँ जाओगे

    উৎসাহীদের জন্যে আরো কিছু বইয়ের কথা এখানে থাক।
     
    Grace and Mercy in Her Wild Hair: Selected Poems to the Mother Goddess by Ramprasad Sen, translated by Leonard Nathan and Clinton B. Seely
    The Bijak of Kabir translated by Linda Hess and Shukdev Singh
    Says Tuka: Selected Poetry of Tukaram translated by Dilip Chitre
  • b | 2402:3a80:1c51:69e1:378:5634:1232:***:*** | ২৯ আগস্ট ২০২৫ ১২:৩৬733723
  • বাঙ্গালির ছেলে হয়ে ইঞ্জিরিতে রামপ্রসাদ পড়বো? 
  • সত্যেন্দু সান্যাল | 2401:4900:1c7a:5026:38b0:4ec3:da13:***:*** | ৩০ আগস্ট ২০২৫ ২০:৫২733777
  • @ যদুবাবু,
    AKR এর Speaking Of Shiva বইটি আমি পড়েছি আগে।
    নবনীতা দেবসেনের "শতেক বচন" বইটির সন্ধান দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
    ছাপার হিসেবে দেখছি বইটি ১৯৬০ সালে প্রকাশিত, অর্থাত রামানুজনের ইংরিজি অনুবাদের অনেক আগে।
    এ ছাড়া রামানুজন মাত্র চার জন কবির অনুবাদ করেছেন, নবনীতা করেছেন একডজন কবির।
    "শতেক বচন" রচনার ইতিহাস জানা থাকলে জানাবেন।
    এই প্রসঙ্গে স্মরনে আসছে ভগিনী নিবেদিতা ১৯০০ সালে লেখা Kali, The Mother বইটিতে বঙ্গীয় শক্তি উপাসনার চরিত্র তুলে ধরেছিলেন।
    একটি stray প্রশ্ন মনে জাগে। ভারতের বিভিন্ন অংশের ভক্তি রচনায় এই যে Personal God বা নিজস্ব, একান্ত ঈশ্বরের আবির্ভাব ঘটেছে এর পশ্চাতপটে ভ্রাম্যমান সুফি দরবেশ-দের পরোক্ষ প্রভাব ছিলো কি?
    নমস্কারান্তে।
     
  • যদুবাবু | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৬:২৩733807
  • অনেকদিন ডুব মেরেছিলাম, তাই দেরি হল উত্তর দিতে। আসলে সেমিস্টার শুরু হৈল গত সপ্তাহে। তজ্জনিত ঝড়ঝঞ্ঝাবজ্রপাত ইত্যাদি। তাছাড়া একগাদা পেপার জমে আছে, তারা বাহিরিতে চায়, দেখিতে না পায়, কোথায় কারার দ্বার রিভিউয়ার। 

    যাইহোক আগন্তুককে অনেক ধন্যবাদ, খুব সুন্দর লাগলো কথাটা। হ্যাঁ, পুরোপুরি লুপ্ত মনে হয় নয়। রাতের সব তারাই ইত্যাদি। মাঝে সঙ্গম-সাহিত্য নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ জন্মেছিলো - এক তামিল বন্ধুর থেকে। তার কিছু কিছু পড়তে পড়তে মনে হয়েছিল, কে বলবে এ কোন প্রাগিতিহাসে লেখা? এক সময় সেই নিয়ে টই লেখার ইচ্ছা আছে। 

    (সিভা আথ্রেয়ার নাম খুব ভালো করে জানি, পিএইচড্যাবস্থা থেকেই, তবে আলাপ নেই।)

    সত্যেন্দু বাবু, অজস্র ধন্যবাদ। হ্যাঁ, নবনীতার বইটিতে আরও অনেকে আছেন। এদের মধ্যে আক্কা মহাদেবী আমার বিশেষ প্রিয়। শতেক বচন অনুবাদ/রচনার ইতিহাস আমি যেটুকু জানি ঐ লাস্ট লিঙ্কের আবাপ-র একটি লেখা থেকে। যাঁরা নবনীতাকে চিনতেন সেই সময়ে তারা হয়তো জানবেন। 

    আপনার স্ট্রে প্রশ্নটাও খুব কৌতূহলোদ্দীপক। তবে, আমার বিশেষ কোনো ধারণা-ই নেই ধর্মবিশ্বাসের বা ধর্মাচরণের বিবর্তনের ইতিহাস নিয়ে।  
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে প্রতিক্রিয়া দিন