শ্রীমল্লার বলছি কে?
শ্রীমল্লার বলছি কী? ১বাতাস সফল আজও, আবেগে গহন–কিছুটা সে খোলাখুলি, কিছুটা গোপন... ২তোমাকে বিশ্বাস নেই, কী করতে কী করো–পাতলা স্বভাব আর বুদ্ধিতে গাঢ়... ৩উপকারী প্রজাপতি, অবসাদে ঝোঁক—দ্বন্দ্ব কাটিয়ে উড়ে তার ভাল হোক... ৪বাতাসে ফুটেছে মধু, কী দারুণ স্বাদ–পাখির শহরে আজও জীবিকা প্রবাদ... ৫মেরে ফ্যালো একেবারে, বাঁচিয়ে কী লাভ?—মিছি মিছি ভাল লাগে হঠাৎ বিলাপ। ৬আলোচনা হতে হতে নীচে নেমে গেছি,যেভাবে বাঁচিয়ে রাখো, সেভাবেই বাঁচি। আনন্দ আজ আর কোনও নির্ভরতা নয়বন্ধু ছাড়া একা থাকাই ভালআবার যদি মনটা খারাপ হয়নিজের মতো খুঁজব তখন আলোআজ আমিও বেরিয়ে পড়েছিযেখান থেকে যায় না ফেরা আরঅনেক শেষে এবার বুঝেছিআমার হাতেও পাহাড় মোছার দাগতর্কহিংসাদ্বন্দ্ব এবং সব—সঙ্গে থাকলে লাগছে বেমানানআজ আমিও বেরিয়ে পড়েছিযেখান থেকে যায় না ফেরা আর... ... ...
ঝড় আনে বিরক্তি আর কোনও অভিযোগ নেইতোমরা এখনও কেন বিচ্ছেদে বিশ্বাস রাখো?বলো আজ শুনি আজ কাজ নেই নেই মানে নেইবাতাসকে গুপ্তচর ভেবে আটক করেছি আমি মিছিলের ইশারায়, দ্যাখোএই পরাবাস্তব হাওয়াদের ছিঁড়ে আনো মুক্তপ্রেমসাজাও ধরণী আজ জটিলেসহজের উপাসনা ব্যর্থ তাওসময়ের চোর সেজে ধরা প’ড়ে যাওয়া মানে মৃত্যুকেই অবহেলা করাভুলে যাও কেউ নেইছিল নেই তাই নেই শোনো স্রোত, তোমার আশঙ্কায় ফোটে ফুলগাছ হই আমি অন্ধকার বাবা আমার মায়ের আরেকটু কাছে স’রে আসেভয় হয়ঘুমোতে যাওয়ার আগে মুখোশের আড়াল থেকে মৃত কোনও শহর আজ বেরিয়ে আমার কাছে আসে যদিতখন কী করববলার তো কেউ নেইআজ শুধু ভাবনা ফোটেদু’হাজার ছাব্বিশ সালে নতুন কোনও কবিতার জন্ম হ’তে পারেকবিকে খুঁজতে হবে ... ...
মনে মনে বৃষ্টি পড়েহাওয়া দেয় অল্পভাবনারা ফেরে ঘরেনিয়ে কোনও গল্প চোখে চোখে ছবি ভাসেবৃষ্টি পড়ে অল্পমনে হয় আশেপাশেনেই কোনও গল্প ... ...
তবে বলছ জন্ম নেই কোনও?হাওয়াও তবে অশ্লীল বেশি?তবে বলছ মৃত্যুটাই আসল?বিপদসীমার ঊর্ধ্বে মেঘের হাসি!তবে বলছ শ্রীমল্লারই ভাল?লিখে ফেলেই বাতিল ক'রে ফ্যালে?কবির কাছে লেখাটাই আসল,নতুন লেখায় ব্যর্থ হওয়ার পরে... ... ...
তারপরে একদিন আলো এলো। অন্ধকার ভেসে যাচ্ছিল মাঠের সবুজজন্মের আকাঙ্ক্ষায়। মেঘ আসছিল। বহুবার পঠিত এক ভালোবাসা, আমাদের বারান্দায় রোদ্দুর হ'য়ে ফুটছিল। মেঘ আসছিল। শ্রীমল্লার জানতো, ভাবনা নিজের অহংকার। আর বাতাস অপরের মৌনবিচ্ছেদ। এর বেশি কিচ্ছু নেই। গতি নেই। নেই। নেই। নেই। ... ...
প্রকাশ থেকে প্রকাশ শুধুই হিড়িকবাচালতায় ধ্বংস মনোরমাতোমার মধ্যে লুকিয়ে আছে যে বিষ–আজ থেকে সব নিজের মধ্যে নিলাম... ভাল লাগার অন্য মানে খুঁজে,অবাক হ’য়ে নীরব সেজে ফিরো...তোমার মধ্যে লুকিয়ে আছে যে বিষ—আমায় তুমি গ্রহণ করতে দিও! ... ...
শ্রীসুখসন্ধেবেলা অবহেলা করেছিল যারা–তারা আজ অন্ধকারে, জটিল চেহারা...মেঘ আনে প্রবণতা, যেইদিকে শিশু। নতুন বর্ণমালা চোখ ফুটে তাকায়–মৃতমাছ হরিণকে পাঠিয়েছে শ্রীসুখ!বিরহস্নেহেইঘোড়াকে সুযোগ দেয় জাহাজের আয়ু। গোপন প্রশিক্ষণে প্রবাসী এ স্নায়ু–বিরহস্নেহেই শুধু গতিজল মাপে।তবুও অলক্ষ্যে, মৃত্যুর মুখোমুখি দেখা হয় প্রতি অভিশাপে...অর্থরমণ প্রবাহঝলক চায় রোদ্দুরে সবুজের মাঠ।অর্থরমণ ভাঙে আয়নায় দ্রুতবেগে কাঠ...মায়ের এই ভালবাসা, আমার মুখেও ফ্যালে ছাপ। নগ্নঠোঁটের কাছে আত্মমুগ্ধ চুপচাপ! ... ...
১দ্বন্দ্ব কাটেনি ব’লে ছন্দকে অপমান নয়। হওয়ার যা-ছিল, সেভাবেই আজও সব হয়... দ্বন্দ্ব কাটেনি, তাই এ জীবনআনে ডেকে ভয়! ২যোগাযোগে পাখি আসে ক’মে। নেই কোনও মন, তবু এই রাত ভেসে যাবে প্রেমে। জীবন খেয়েছে ভাঁজ, এবং বেড়েছে কিছু দামে... ৩অপরাধে বিপদ রঙিন। কবিতার বই দিয়ে কবিতার শুরু হয় দিন... লোকে তো বুঝেছে— এই আবহাওয়া আবেগে নবীন। ৪আর কোনও সম্পাদনা নয়। কবিকে বুঝতে দাও, কোথায় লুকিয়ে পরাজয়... কবি তো দুর্বল— তবু কবিতা প্রভাবশালী হয়! ... ...
বসার আমার ইচ্ছে নেই কোনও আজকে যদি আমার কথা শোনো–আমি তবে নতুন আবহাওয়া। এখন আমার ইচ্ছে বলতে শুধু চাইতে এসেও হঠাৎ ক’রে কী দূর– দেখছি মেঘের আকাশ ছেড়ে যাওয়া... ... ...
–“তবে তোর চুলগুলোয় এমন মেঘের অভাব কেন রে কৃষ্ণকলি?”–“সে তোর চোখেও তো জাহাজ ডোবে, আমি কি বৃষ্টি হ’য়ে মাতিয়ে তুলি না তোর কানের কাছে ঝোড়োমন? বল তবে?”“দেখিলাম— অবসন্ন চেতনার গোধূলিবেলায় দেহ মোর ভেসে যায় কালো কালিন্দীর স্রোত বাহি নিয়ে অনুভূতিপুঞ্জ, নিয়ে তার বিচিত্র বেদনা, চিত্র-করা আচ্ছাদনে আজন্মের স্মৃতির সঞ্চয়, নিয়ে তার বাঁশিখানি।.......” আগমন থামল। –“তারপরে মনে নেই?”—“আছে, তোকে শ্রীজাত’র নতুন কবিতার বই ‘রক্তচয়নিকা’ থেকে একটা কবিতা শোনাচ্ছি। শোন—“স্বপ্নের ভেতরে মরুভূমি।বালি নাকি ধোঁয়া উড়ছে... অথচ ভীষণ শান্তএরকম নিশ্চয়তা দিতে পারে একমাত্র ঘুমই। শান্ত হয়ে কেটে গেল দিননির্বিরোধী আর দ্বিধাহীনএকইরকমের ঠান্ডা। মৃত্যুর আগে ও পরে, তুমি।” কেমন লাগল?” চুপচাপ সাধারণ ভাবভঙ্গিমায় কৃষ্ণকলির কাছে প্রশ্ন রাখলো ... ...