এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  উপন্যাস

  • লা পত্নী ভ্যানতাড়াঃ পর্ব ১৭

    রানা সরকার লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ০২ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৩ বার পঠিত
  • 0 | | | | | | | | | | ১০ | ১১ | ১২ | ১৩ | ১৪ | ১৫ | ১৬ | ১৭
     
    সেখানকার ডাক্তারকে আগেই বলা ছিল। অপারেশন শুরু হতে ওরা সবাই বাইরে অপেক্ষা করতে থাকল।

    মিতুলের বাবা বলে উঠলেন, “যাক বাবা। আজ একটা অনেকদিনের সমস্যার তুমি সমাধান করে দিয়েছ। ধন্য তোমার ডাক্তারির জ্ঞান আকাশ”। আকাশ একটু হাসল। সে খানিকটা টেনশনে আছে। মিতুল আবার এই পা ভাঙা নিয়ে তাকে শাপশাপান্ত করবে না তো? মিতুলের বাবা বলে চললেন, “আর এমনি এমনি তো আর ইনোভেটিভ আইডিয়া মাথায় আসে না। তার জন্য কিন্তু একটু আধটু পরকীয়া করতেই হয়…”।

    কথাটা শুনে রুক্মিণী হেসে ফেলল। মিতুলের মা বললেন, “মরণ!”

    “আরে না গো। পরকীয়া অতি এক উচ্চস্তরের প্রেম। সবাই পারে না…”

    “আমি ভাবছি ওকে ফোনটা কে করল?”, বলেই আকাশ ইশারায় রুক্মিণীকে বেশি হাসতে মানা করল।

    “আমিও তো তাই ভাবছি। নির্ঘাত কেউ মজা করেছে। তুমি কি বলো?”। মিতুলের বাবা তার বউকে জিজ্ঞাসা করলেন।
    “আমার মনে হয় দাদু, আসলে লোকটা মনে হয় মায়ের বয়ফ্রেন্ড…”। মিতুলের মেয়ে বলে উঠল।

    “তোর মায়ের সামনে আবার এইসব বলিস না। জানতে পারলে ওই ভাঙা পা দিয়ে লাথি মেরে দেবে”।

    ওরা সবাই হাসতে থাকল।    

    অপারেশন শেষ হতেই বেডে দেওয়া হল মিতুলকে। এখনও জ্ঞান ফিরতে দেরী আছে। রাত তখন প্রায় ১২টা মতো বাজে। আকাশ বলল যে সে থেকে যাচ্ছে। ছেলেও থেকে গেল। রুক্মিণীও থাকতে চেয়েছিল। কিন্তু বাকিরা সবাই না করল। বলল যে আজ ওর বুদ্ধির জোরে মিতুল সুস্থ হয়েছে। ও যেন বাড়িতে গিয়ে রেস্ট নেয়। নার্সিংহোমের ডাক্তার অবশ্য কাউকেই থাকতে মানা করে দিয়েছিলেন।  বাকীরা বাড়ি ফিরে যেতেই আকাশ আর তার ছেলে বেরোলো, যদি কিছু খাবার পাওয়া যায়। বেশ কিছুক্ষণ খোঁজার পর ওরা দেখল যে একটা রেস্টুরেন্ট বন্ধ হব হব করছে। ওরা প্রায় হাতেপায়ে ধরে চাল আর মাংস মিলিয়ে একটা রান্না করতে বলে সেখানে বসে ছিল।

    সেইসময় আকাশের মোবাইলে কল এল। “এখন আবার কে!” বলে ফোনটা ধরল সে।

    ফোনের ওপাশ থেকে একটা উদ্বিগ্ন গলা পাওয়া গেল। “ডাক্তার আকাশ?”

    “স্পিকিং”।

    “আমিও আকাশ। আমাকে ফোন নম্বরটা দিয়েছে আপনার অ্যাসিস্টেন্ট। রুক্মিণী। সে আমার মাসতুতো বোন হয়”।

    “বলুন?”

    “আমার বউ, হঠাৎ বিষ খেয়েছে মনে হচ্ছে। প্লিজ যদি একবার তাড়াতাড়ি আসেন”।

    “সেকি! কেন? কখন?”

    “এইমাত্র দেখছি। Please don’t waste your time…”

    “ওকে বমি করানোর চেষ্টা করুন বেশি করে নুন জল খাইয়ে। আপনি থাকেন কোথায়?”

    “সল্টলেক”।

    “Oh, my goodness! আমি এখন টালিগঞ্জের একটা নার্সিংহোমে। আমার বউ…”

    “রুক্মিণী আমাকে বলেছে। আসলে সেইজন্য ও আপনাকে ফোন করতে মানা করেছিল। কিন্তু আপনি এত বড় ডাক্তার…”

    “আপনার বাড়ির নম্বর কত?”

    “বিবি ১৪৪”।

    “Wait. Let me ask one of my friends to attend your wife. Don’t worry. আমি ওর নাম্বারটা আপনাকে টেক্সট করে দিচ্ছি। আগামী কাল খবর নিচ্ছি”।

    “Thanks a lot”.

    “হ্যাঁ। ওর নাম ডঃ দিবেন্দ্যু পাকড়াশি। এবি ব্লকে থাকে। ওকে আমার কথা বলবেন। পারলে ও যেন আমাকে একবার ফোন করে নেয়”।

    “অসংখ্য ধন্যবাদ”।

    “ধন্যবাদ পরে দেবেন। আগে পাকড়াশিকে ফোন করুন”।

    ওরা বাপ-ছেলেতে মিলে কোনোরকমে খেয়ে আবার পৌঁছে গেল নার্সিংহোমে। সেখানে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাকড়াশির ফোন। ফোনে যতটা সম্ভব পারল আকাশ ওকে কী কী করতে হবে সেসব জানিয়ে দিল। তারপর সে ফোন করল রুক্মিণীকে। বলল যে তার দাদার বউকে ডাক্তার পাকড়াশি দেখছেন। রুক্মিণীও মিতুল কেমন আছে খোঁজ খবর নিল। খোঁজ খবর নিল যে আকাশ খেয়েছে কী না।

    ওদিকে পাকড়াশি গিয়ে মোটামুটি আকাশের কথা মতো সিঞ্জিনিকে বেশ কয়েকবার বমি করাতে সক্ষম হল। তারপর একটা ইঞ্জেকশন দিল। নিজের সঙ্গে আনা স্যালাইন বিছানাতেই দিল চালিয়ে। চোখ মেলে চাইল সিঞ্জিনি। রাত তখন প্রায় ১টা বাজে।পাকড়াশি আকাশ, পায়েল আর শৌনককে বাইরে অপেক্ষা করতে বলল। তারপর বসল সিঞ্জিনির পাশে। মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল, “আর কী কষ্ট আছে আপনার? আমাকে স্বচ্ছন্দে বলতে পারেন…”

    সিঞ্জিনি চুপ করে রয়েছে। তার দু’গাল দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে জল। ডাক্তার আবার বলল, “আরে না না। কাঁদলে চলবে না। জানি মানসিক আঘাতটা আপনি নিতে পারেন নি”। বলে ডাক্তার আকাশের বাড়ির ঘটনাটা বলল সিঞ্জিনিকে। “দেখুন, সেই অবস্থাতেই তিনি আপনার যাতে ভালোভাবে ট্রিটমেন্ট হয়, আমাকে ফোন করে নির্দেশ দিয়েছেন। নিজের দাদা মনে করে অন্তত বলুন প্লিজ…”

    “আমার আর বাঁচতে ইচ্ছে করছে না”, ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকল সিঞ্জিনি।

    “কেন? সমস্যাটা কোথায়? আকাশবাবু কি মারধোর বা বকাঝকা করেছেন নাকি?”

    “না। তার থেকেও ভয়ঙ্কর…”।

    ডাক্তার পাকড়াশি অবাক হয়ে সিঞ্জিনির দিকে তাকালো। বলল, “খুলে বলুন প্লিজ। না হলে বুঝব কীভাবে?”

    সিঞ্জিনি ডাক্তারকে বালিশের তলা থেকে একটা নতুন মেয়ের ছবি বের করে দেখাল। তারপর আগের সব ঘটনা একে একে বলল খুলে।

    সব শুনে পাকড়াশি বলেন, “স্ট্রেঞ্জ! এখানেও ফোন আর তারা তোমাকে বাঁচিয়েছে বলছ?”। কিছুক্ষণ ভাবলেন পাকড়াশি। “ডাক্তার আকাশের সঙ্গেও নাকি ঠিক এইরকম একটা কিছু ঘটেছে বলে শুনেছি। দেখি, ওকেও ইনফর্ম করবো। তাহলে ওরা তোমাকে বাঁচিয়েছে বলছ?”

    “হ্যাঁ। হোটেলে। কিন্তু আকাশ আবার আরেকটা নতুন মেয়ে নিয়ে মেতে উঠেছে…”।

    “ঠিক আছে। কাল সকাল হতে দাও। ডাক্তার আকাশ একবার তোমাকে চেকআপ করতে আসুক। আমি ব্যাপারটা খুলে বলবো”। তারপর আরও কয়েকটা ইঞ্জেকশন স্যালাইনের মধ্যে পুশ করে পাকড়াশি পায়েলকে ডেকে নিলেন ভেতরে। “আপনি প্লিজ আজকে ওর এখানে থেকে যান…”।

    “হ্যাঁ হ্যাঁ। সে আর বলতে?” তারপর পায়েল সিঞ্জিনির গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে বলল, “কী রে পাগলী? বলেছিলাম না আমাকে একবার ফোন করবি। দেখ তো, কী একটা কান্ড করে বসেছিলি…”

    “হ্যাঁ। একটু বোঝান। আর আশা করি এবার এই ইঞ্জেকশনটা দিলে এখন ও ঘুমিয়ে পড়বে”। পাকড়াশি আরেকটা ইঞ্জেকশন দিয়ে চলে গেল। যাবার সময় চোখ বড় বড় করে তাকাল আকাশের দিকে।

    শৌনক পাকড়াশিকে ছেড়ে আসতে গিয়ে জিজ্ঞাসা করল ব্যাপারটা কী। পাকড়াশি ওকে সব জানালো আর বলল যে সিঞ্জিনি আর আকাশকে চোখে চোখে রাখতে। সকালের দিকে ডাক্তার আকাশ আসবেন। তারপর ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

    পরদিন সকালে মিতুলের বাবা, মা, আর মেয়ে দেখা করতে এল নার্সিংহোমে। আকাশ আর ছেলে ওরা আসবার পর চলে গেল। মিতুল তার বাবার মুখে আকাশের ট্রিটমেন্টের পদ্ধতি শুনে অবাক চোখে তাকাল। মিতুলের বাবা বললেন, “তুই তো মনে করেছিলি যে আকাশ তোকে মারতে চায়। কিন্তু দেখ মা, কেমন একটা টেকনিক বের করে ও তোকে সারিয়ে তুলল। অবশ্য ওষুধের কোর্সটা শেষ করলে আপনা থেকেই ভালো হয়ে যেতিস”।

    “যাক ওসব কথা। তা অপারেশন তো সাকসেস ফুল হয়েছে। কিন্তু তোর পায়ের একটা ব্যামো ভালো হল তো, অন্যটা আবার এসে ধরল। মন্দিরে পুজো দিতে হবে”। পাশের চেয়ারে বসতে বসতে বললেন মিতুলের মা।

    মেয়ে বসে মায়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিল। খাইয়ে দিল সকালের খাবার। মিতুলের মনে হল যে আকাশকে ভুল বুঝে সে ভীষণ অন্যায় করে ফেলেছে। পরে দেখা হলে মাফ চেয়ে নেবে।

    ওদিকে সকালের খাবার খেয়েই আকাশ আর রুক্মিণী চলল সল্টলেকে। পথে যেতে যেতে আকাশ বলল, “দেখো, এবার থেকে খুব সাবধানে আমাদের মেলামেশা করতে হবে কিন্তু…”।

    “হ্যাঁ। উফ, যা গেল কালকে। আমি তো ভাবলাম অন্য একটা কেলেঙ্কারি না হয়ে যায়…”।

    “কিন্তু আমার মন বলছিল যে মিতুলের মধ্যে যে সাইকো সোম্যাটিক গোলমালটা বেঁধে রয়েছে, সেটা একটা শক দিলেই কেটে যাবে। তবে শক আমি ওকে দিতে চাইনি। ভেবেছিলাম যে…”

    “আর বিয়ে দেবেন বলছিলেন যে?”, হাসতে থাকল রুক্মিণী।

    “হ্যাঁ। তবে আগে প্রেম করাতে হবে বুঝলে…”। আকাশও হাসতে থাকল। সঙ্গে রুক্মিণীও।

    আগেই ফোন করা থাকায় ডাক্তার পাকড়াশি এসে সকালেই একবার সিঞ্জিনিকে চেক করে নিয়েছে। পায়েল সিঞ্জিনির জন্য বানিয়ে এসেছে স্যুপ। আকাশ মুখ গোমড়া করে বসে আছে কারণ কাল রাতে শৌনক ওকে বেশ কড়া করে ঝেড়েছে। বলেছে যে সিঞ্জিনির একটা ভালমন্দ হয়ে গেলে আকাশের হাতে হাতকড়া পড়ত।

    ডাক্তার আকাশ এসে নিজে একবার সিঞ্জিনিকে পরীক্ষা করল। মন দিয়ে শুনল তার সব কথা। একটা নতুন ওষুধ দিল লিখে। পায়েলকে ডেকে ভালো করে বোঝালো যে এইসময় সে যেন একটু সিঞ্জিনির কাছে কাছে থাকে। তারপর ফোটোগ্রাফার আকাশকে ডেকে নিয়ে কথা বলতে শুরু করল। “আপনি কিন্তু কাজটা ভালো করেন নি”। পাশে বসা রুক্মিণী এই কথা শুনে মনে মনে হাসছিল আর ভাবছিল যে কে কাকে কী বোঝাচ্ছে। ডাক্তার পাকড়াশি হাঁ করে সব শুনছিল। ডাক্তার আকাশ বলে চলল, “আপনি তাহলে বলছেন যে আপনার বউয়ের কাছেও একটা উড়ো ফোন এসেছিল…?”

    “হ্যাঁ। আর দুজন দেখা করতে এসেছিল আমার স্টুডিওতে। ওরা আমাকে বলল যে সিঞ্জিনি নাকি আমার জন্য অপয়া…”

    “বলেন কী! ও, আপনি তো দেখছি একজন আংটি চাটুজ্জ্যে। তারপর?”

    “ওরা সীমান্তি বলে একটা মেয়ে আমার জন্য আনলাকি হবে বলে বলল। আমি কিন্তু স্বপ্নেও সিঞ্জিনিকে মারতে চাই নি। ওরাই কিন্তু আমাকে উস্কে ছিল। ভেবেছিলাম যে ডিভোর্স দিয়ে দেব…”

    “কিন্তু এই নতুন যে মেয়েটার কথা আপনার ওয়াইফের কাছে শুনলাম এ আবার কে?”

    “একজন মডেল”।

    “খুব সাবধান। দেশের আইনকানুন জানা আছে তো?”। শুনে রুক্মিণী এবার হেসে ফেলল। ডাক্তার আকাশ ওর দিকে তাকিয়ে বলল, “তুমি আবার হাসছ কেন?”

    “না ভাবছি। ঘুঁটে পোড়ে আর গোবর মস্তি করে”। রুক্মিণী বলল।

    ফোটোগ্রাফার আকাশ তার মাসতুতো বোনের এই কথাটা বুঝতে পারল না। ডাক্তার আকাশ গলা খ্যাকারি দিয়ে রুক্মিণীকে ইশারা করল। তারপর বলল, “হুম। তাহলে ব্যাপারটা দাঁড়ালো যে আপনি যেমন আকাশ রায়চৌধুরী, আমিও তাই। শুধু পেশা আলাদা। লোকটা আমাদের দুজনকেই ফোন করেছিল। যদিও আমি আরও দুজন আকাশকে চিনি…”

    “আরও দুটো আকাশ!”

    “হ্যাঁ। এখন দেখতে হবে যে ওদের সঙ্গেও একই ঘটনা ঘটেছে কীনা”।

    পাকড়াশি বলে উঠল, “এ তো দেখছি হাইলি সাসপিশাস ব্যাপার…”

    “ইয়েস মিস্টার জটায়ু…”। রুক্মিণী আবার হাসল।

    ওদিকে সেইদিন সকালে প্রোফেসর আর পরিচালক আকাশ ঘুম থেকে উঠে দেখল যে তাদের দুজনেরই বউ বেপাত্তা। ওদের মোবাইলও বন্ধ। বাড়ির অন্যদের কাছেও কোনও খবর নেই। কার কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করবে? আর পরিচালকের স্ত্রী ভেগে গেছে শুনলে আবার কাগজে একটা স্ক্যান্ডাল রটবে। এমনিতেই আজকের কাগজে সাগ্নিকের পার্টির খবরটা বেরিয়েছে। ছোট্ট করে হলেও লোকজন এখন এইসব খবর নিয়ে খুব ট্রোল করছে।
     

    প্রোফেসর তানিয়াকে একবার ফোন করল। কারণ তানিয়া যখন মৈথিলীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল তখন মৈথিলী ওকে জানিয়েছিল যে লালবাজারে কাজ করা তার বন্ধুর দাদার কথা। সে বলেছিল যে উড়ো কলটা হাজরা থেকেই এসেছে। আর সেইজন্যই মৈথিলী তানিয়াকে সন্দেহ করেছিল। আকাশের ফোন পেয়ে তানিয়াও অস্থির হয়ে উঠল। মনে মনে ভাবল যে প্রোফেসর আকাশ আবার অন্য কারুর সঙ্গে সত্যি সত্যি রিলেশনে জড়িয়ে পড়ে নি তো?

    ওদিকে পরিচালক আকাশ ব্যাপারটা নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে ভাবতে একটা আলোর রেখা পেল খুঁজে। ওর চোখমুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। ভাবল, ইয়েস, যা হয়েছে ভালোর জন্যই হয়েছে। এবার প্ল্যান মাফিক খালি কাজ করতে হবে। সে নিজের উকিলকে ডেকে প্রণয়ের সঙ্গে চুক্তির কাগজটা ড্রাফট করতে বলল। ড্রাফট করা হয়ে গেলে সে প্রণয়কে কল করে ৫০,০০০ টাকা নেট ট্র্যান্সফার করে দিল। তারপর লোকাল থানায় সেই উকিলকে দিয়েই সোহিনীর একটা মিসিং ডায়েরী করিয়ে রাখল। এরপর সে মদ্যপান করতে করতে ভাবতে থাকল। খানিকক্ষণ ভেবে একটা প্ল্যান তার মাথায় এল। এইবার সোহিনীকে নিজে খুঁজে বের করে যদি ওকে খুন করে ফেলা যায় তাহলে ওই প্রণয়ের ঘাড়ে সব দোষ চাপিয়ে দেওয়া যাবে।

    (ক্রমশ)
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    0 | | | | | | | | | | ১০ | ১১ | ১২ | ১৩ | ১৪ | ১৫ | ১৬ | ১৭
  • ধারাবাহিক | ০২ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৩ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    মাংস - অরিন
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। হাত মক্সো করতে মতামত দিন