১
অবশেষে নানা শঙ্কার নির্বাচন শেষ হয়েছে। প্রত্যাশিত ভাবেই জিতেছে বিএনপি। জামাত এনসিপি জোট লেটার মার্কও পায়নি। যত সহজে লিখলাম আসলে তত সহজ কিছুই ছিল না। জামাতের লোকজন এখনও দাবি করে যাচ্ছে তাদেরকে জোর করে হারানো হয়েছে। অন্যদিকে গণভোট পাশ করলেও খবর পাওয়া যাচ্ছে সেখানেও ভেজাল আছে। রাজশাহীর এক জায়গায় ২৪৪% ভোট পড়ছে! নেত্রকোনায়ও একই কাজ হয়েছে, ভোটারের চেয়ে গণভোটের সংখ্যা বেশি। এত গরমিলের মধ্যেও নির্বাচন শেষ হয়েছে, এই সপ্তাহেই শপথ নিবে নতুন সংসদ সদস্যরা।
সবার মুখে একটাই প্রসঙ্গ তা হচ্ছে লীগের ভোটাররা কাকে ভোট দিল! সেই প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে বলি আমি ভোট দিতে যাই নাই। ইচ্ছাই করে নাই। জামাত চলে আসতে পারে এইটা নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল কিন্তু তবুও আমার কাছে মনে হয়েছে ইউনুসের মত অথর্ব এক সরকারের করা এই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোন মানে নাই। লীগকে বিষয় না বিষয় হচ্ছে তাদের মনোভাব। যে প্রবল ধর্মান্ধ একটা শক্তি তৈরি করেছে এই সরকার তার পরে এদের কোন কার্যকলাপকেই আর যৌক্তিক মনে হয় না। শীর্ষ জঙ্গিদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে, এরা মুক্তি পেয়ে ভালো মানুষ হয়ে ওমরা করতে চলে গেছে? না, এরা বান্দরবনের জঙ্গলে রীতিমত প্রশিক্ষণ নিচ্ছে, টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক আবার তা প্রচার করে দেখিয়েছে। ফলাফল? কোন একশন নেওয়া হয়েছে? না। শুরু থেকে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, বাঙালি জাতীয়তাবাদ এই সব নিয়ে পুরো উল্টো অবস্থান নিয়ে বসে ছিল এই সরকার। বলে কয়ে ভাঙা হয়েছে ৩২ নাম্বারের বাড়ি। আমি এগুলা কারণে ভোট দিতে যাইনি। আমার মন টানে নাই। আমাদের বন্ধুদের মাঝে আমরা অল্প কয়েকজনই ছিলাম যারা ভোট দেয়নি। অনেকেই দিয়েছে।
এবার ভোটের আলাপ করি। নির্বাচন যত কাছিয়ে এসেছে তত লীগের ভোটারের জন্য মরিয়া হয়েছে দুই পক্ষ। কোথাও সব মাফ করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে কোথাও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে মামলা তুলে নেওয়ার। এই সব টোপ যে কাজ করছে তা এখন প্রমাণিত। লীগের ভোট কী? এরাও সাধারণ মানুষই কিন্তু ক্ষমতায় থাকার সময় হয়ত সুযোগ সুবিধা পেয়েছে, কাজ করেছে এমনই তো। নেতারা তো কেউ নাই আর। এরা এখন কই যাবে? এরা এই সুযোগে নিজেদেরকে গুছিয়ে নিয়েছে। আদর্শ বলে কিছু নাই এখানে। পুরো দেশের খবর তো আমার পক্ষে বলা মুশকিল, আমি আমার এলাকার কথা বলতে পারি। এখানে একজন বিএনপি থেকে স্বতন্ত্র থেকে দাঁড়িয়ে গেল শুধুমাত্র লীগের ভোট পাবে এই ভরসায়। দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হল, পদ পদবি হারালেন তিনি কিন্তু দমে গেলেন না। নির্বাচনে ঝাঁপিয়ে পরলেন। এবং আমরা সকলেই বুঝতেছিলাম যে এতে তিনি সফল হতে চলছেন। লীগের যে ভোট ব্যাংক গুলো, যে যে এলাকায় লীগ সব সময় এক চাটিয়া ভোট পায় সেই সেই অঞ্চলে গুলোতে তার ব্যাপাক জনপ্রিয়তা। তলে তলে জানা যায় যে লীগের নেতাদেরকে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন জিতলে তাদের ঘর পরিবার, ব্যবসা সব কিছুর নিরাপত্তা তিনি দিবেন। সাধারণ লোকজনকে বুঝাতে পারলেন যে তিনি আসলে তাদেরকে আর পালিয়ে থাকতে হবে না।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হল না। জামাতের প্রার্থী পলাতক নেতাদের সাথে যোগাযোগ করে এমন কিছু বুঝাতে সক্ষম হয়েছেন যে লীগের সব ভোট জামাতের কোলে চলে আসে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার কথা হয় এক নাম্বার না হয় দুই নাম্বার, দেখা গেল তিনি হয়েছেন আমাদের আসনে তিন নাম্বার। জামাত পাশ! আরেকটা বিষয় হচ্ছে মানুষ অন্য ভাবে চিন্তা করেছে। নির্বাচনের দুই একদিন আগে থেকেই একটা কথা জামাতের লোকজন বলা শুরু করে যে বিএনপির চাঁদাবাজদের কাছ থেকে বাঁচতে স্বতন্ত্রকে দিবেন, পাশ করলেই তো ওরা আবার এক হয়ে যাবে, তখন তো আবার যেই আর সেই! এই কথার পিছনে যুক্তিও আছে। এবং যখন সবার মানে জামাত পন্থিদের সবার মুখে এমন শুনতে থাকলাম তখন বুঝলাম এইটা জোরেশোরেই প্রচার করা হচ্ছে। এবং মানুষ এই জিনিস খাচ্ছেও!
জামাতে লীগের ভোট গেছে এইটা অবিশ্বাস্য মনে হলেও এইটাই হয়েছে আমাদের এলাকায়। ছোট থেকে দেখে আসছি যে কেন্দ্রে একশ ভোটও পায় নাই জামাত সেখানে জিতে গেছে ওরা! আমাদের কেন্দ্রে আজীবন নৌকা জিতে সেখানেও এবার দাঁড়িপাল্লা! দেড় দুই হাজার ভোট আমাদের কেন্দ্রে, কাস্ট হয়েছে ৬০০ ভোট, এর মধ্যে ২৯০টাই জামাত! এমন আমাদের কেন্দ্রে কোনদিনই হয়নি।এর চেয়ে বিগশট নেতা নির্বাচন করেছে এখানে কিন্তু তবুও আমাদের এলাকায় কোনদিন এমন কাণ্ড হয়নি। ভোট কাস্ট কম হয়েছে কিন্তু তারপরেও সেখানে জামাত জিতে গেছে। এমন প্রত্যেকটা এলাকাতেই। সন্ধ্যার দিকে যখন বিভিন্ন কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফল আসা শুরু করল তখন রীতিমত শঙ্কিত হয়ে উঠেছিলাম। পুরো দেশের মানুষ যদি আমাদের এলাকার মত মনে করে তাহলে কী হবে? আমার রীতিমত অস্বস্তি লাগা শুরু হয়ে গেছিল। সেই দিন কি এসেই গেল? জামাত তবে বসেই পড়ল গদিতে?
পরে দেখা গেল না, আমাদের মত করে পুরো দেশ ভাবে নাই। মানুষ কঠোর ভাবেই জামাত জোটকে আটকে দিয়েছে। যদিও এতগুলা সিট পাওয়াও জামাতের ইতিহাস তৈরি করা। তবুও আপাতত তারা যে ক্ষমতার বাহিরে এইটাই স্বস্তি।
রাত একটু গভীর হতেই নানা জায়গা থেকে নানা খবর আসা শুরু করল। থ্রিলার শুরু হল ঢাকার বিভিন্ন আসনে। এক নাম্বার ঝামেলা মির্জা আব্বাস আর নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারির মধ্যে। মানুষ পাটোয়ারিকে এত ভোট দিবে এইটা এখন পর্যন্ত আমার কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না। নেতৃত্ব দেওয়া, সংসদে যাওয়ার মত চরিত্র কি পাটোয়ারির? আমার মনে হয় না। কিন্তু দেখা গেল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছে। বাংলাদেশের ভোট গণনা হচ্ছে পুরোটাই ম্যানুয়াল সিস্টেম। প্রতিটা কেন্দ্রে সব প্রার্থীর এজেন্টের উপস্থিতিতে ভোট গণনা করা হয়। প্রিজাইডিং অফিসার অফিসিয়ালি ভোটের কিছু না বলে মানে ঘোষণা না দিয়ে আনঅফিসিয়ালি জানায় দেয়। এমন করে প্রতিটা কেন্দ্রের খবর বের হতে থাকে আর যোগ হতে থাকে। টেলিভিশনেও একই চিত্র দেখা যায়। গণ্ডগোল বাজল যখন পাটোয়ারির সাথে মির্জার ভোট গণনায় অদ্ভুত এক পরিস্থিতি তৈরি হল। মির্জার নাম ছিল ব্যালটের শেষে একদম, তারপাসের ঘর ফাঁকা। নিয়ম হচ্ছে সিল মারতে হবে নাম আর মার্কার উপরে। কিন্তু অনেকেই না বুঝে সিল মেরেছে পাশের ফাঁকা ঘরে। এইটা বুঝাই যাচ্ছে ভুল করে মেরেছে সিল কিন্তু নিয়ম বলে এই ব্যালট বাতিল হবে। মির্জা তার প্রভাব দেখিয়ে এই ভোট গুলোকে গণনায় নিয়েছে এবং তিনি পাশ করেছেন। এইটা নিয়া এখন পর্যন্ত এনসিপির লোকজন চিল্লাফাল্লা করছে।
রঙ্গ বাধল আরেক জায়গায়। ৫০১ খ্যাত মামুনুল হক বিএনপির ববি হাজ্জাজের কাছে হেরে গেছেন। রাতভর একবার দেখাই ববি আরেকবার দেখায় মামুনুল! কী একটা অবস্থা। পরে দেখা যায় জিতেছে ববিই। এরপরে মামুনুল জানায় তার ক্ষেত্রেও একই কাজ হয়েছে, নাম ছিল শেষে, মানুষ ফাঁকা জায়গায় সিল মেরেছে। কিন্তু তার ক্ষেত্রে ভোট গুলো গণনায় নেওয়া হয় নাই, ব্যালট বাতিল করা হয়েছে! একটা বড় ক্যাচাল না? অন্য দিকে পরেরদিন থেকে আরেক তত্ত্ব বাজারে চলে আসল। জামাতের আমির ফেল করছিল, মামুনুলকে কুরবানি দিয়ে সে নিজের আসন বাঁচিয়েছে। এমন আরও নানা তত্ত্ব পাওয়া গেল। কেউ বলছে নাহিদ ইসলামও ফেল করেছিল, তাকে নাকি ইউনুস নিজে বাঁচিয়েছেন! এগুলা অবশ্য নির্বাচনের পরে বহুল প্রচারিত জিনিস, প্রতিবারই শোনা যায় অমুককে হারিয়ে দিছে, অমুক পাশ করছিল কিন্তু ওই ওই কারণে তাকে ফেল করায় দিছে! এইটা নতুন না আসলে!
মানুষ কেন ভোট দিল আর কেন আমাদের আসন বাদে সব জায়গায় জামাতের ভরাডুবি হল, এইটা একটা বিরাট প্রশ্ন। অনেকেই মনে করছেন জামাতের অতি আস্ফালনের কারণে মানুষ ভীত হয়ে জামাত ঠেকাও মিশনে নেমেছিল। নারীদের নিয়ে জামাতের অবস্থান অনেক নারীই মেনে নিতে পারেনি। প্রবল মিথ্যাচারকেও মানুষ ভালো চোখে দেখনি। তারা যে একযোগে জান্নাতের টিকেট বিক্রি শুরু করছিল তা কাজে না দিয়ে উল্টো তাদের জনিপ্রিয়তাকে হ্রাস করেছে। কিন্তু পরিস্থিতি কি আসলেই পরিবর্তন হয়ে গেছে? ভোটের সংখ্যা হিসাব করলে তো তা মনে হয় না। বিপুল ভোট পেয়েছে তারা। এত এত মানুষ জামাতকে ভোট দিয়েছে! যদি শেষ পর্যন্ত ভোটের সংখ্যার অনুপাতে উচ্চ কক্ষ তৈরি হয় তাহলে জামাত সেখানে ভালো সিট পাবে। বিএনপির থেকে খুব একটা কম পাবে না। এত জনপ্রিয়তার রহস্য কী?
যে কৌশলেই হোক তারা নিজেদের ন্যায়ের পক্ষের লোক, সৎ লোক হিসেবে উপস্থাপন করতে পারছে। অনেক মানুষের মনে ঢুকাতে পারছে এইটা ধর্মীয় দল, হারলে ধর্ম হেরে যাবে। এত এত আকাম কুকামের খবর সামনে আসে তবুও দেখবেন নিরেট মাথার লোকজনের মনে বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই এই সব নিয়ে। যুদ্ধে সব জায়েজ বলে সব আকামকে জায়েজ বলে দিচ্ছে! আমি একদম চাক্ষুষ দেখে বলছি, জামাতের অনেকেই এইটাকে জিহাদ মনে করে। মনে করে ইসলাম কায়েম করার জন্য তারা এখন জিহাদ করছে। তাই এতে অনেক কিছুই করা হবে যা অস্বাভাবিক লাগবে! এই যে জামাতে ভোট দিলে বেহেশত, জামাতে ভোট দিলে ধর্মের সেবা করা হবে এমন নানা উদ্ভট প্রলাপ যে তারা বকে, আপনার কী মনে হয় এইটা ওরা জানে না যে এইটা উদ্ভট প্রলাপ? জানে, তারপরেও কেন বলে? কারণ বলতে বলতেই বহু মানুষের মনের উপরে চাপ তৈরি করে ফেলতেছে ওরা এই ব্যাপারে। এইটাই কৌশল, ধর্ম আর দলকে এক করে ফেলা। এবং এরপরে দলের বিরুদ্ধে কিছু বললে তাকে ধর্মের বিরুদ্ধে বলা হিসেবে ঘোষণা দেওয়া।
এইটাই হচ্ছে ভয়ের জায়গা। আপনি রাজনীতিকে রাজনীতি দিয়ে মোকাবেলা করতে পারবেন ধর্ম দিয়ে না। ধর্মের আফিম এমনই এক জিনিস যার ঘোর কাটে না সহজে। অনেকেই বলেছে একবার দেখতে সমস্যা কী? এইটা যারা বলে তাদের দিন দুনিয়া সম্পর্কে কোন ধারণা নাই। শিশু শ্রেণিতে আছে ওরা। না হলে এমন কথা বলার কথা না। জামাত যেভাবে নিজেকে ধর্মের পরিপূরক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে ফেলছে তাতে জামাত ক্ষমতায় গেলে যে কোন আন্দোলনকে তারা ধর্মের বিরুদ্ধে আন্দোলন বলে ট্যাগ দিয়ে দিবে। এরা ধর্মের নামে আকাম করবে কিন্তু কেউ কিছু বলতে গেলে ধর্মদ্রোহী বলে ডাক দিয়ে উঠবে।
নতুন কিছু না, দুনিয়ায় এগুলা হয়ে আসছে, হচ্ছে। কোন ভাবেই ভেবে বসা যাবে না যে আমাদের বেলায় ভিন্ন কিছু হবে। ব্লাসফেমি আইন করে তাদের কাজকে বৈধতা দিবে আর আপনার, আমার কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দেওয়া হবে। আপাতত সেই দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত আমরা। দেখা যাক সামনে কপালে কী রাখছে আমাদের।
২
নানান জটিলতা সত্ত্বেও যে নির্বাচন হল এইটাই হচ্ছে বড় কথা। যেভাবে মহাজনকে ৫ বছর চাই বলে ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছিল তা রীতিমত আতঙ্কিত করে ফেলছিল আমাদের। সফলতা, ব্যর্থতা নিয়ে আরেক দিন আলাপ করা যাবে। আপাতত খবর হচ্ছে তিনি বিদায় নিচ্ছেন। গণভোট নামের এক দুর্ভোগের মধ্যে আমাদেরকে ফেলে রেখে তিনি বিদায় নিচ্ছেন। এই লেখা যখন লিখছি তখন পর্যন্ত বিএনপি এবং এনসিপির মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে! আলী রিয়াজ তত্ত্ব দিয়েছেন যে এমপিদের দুইটা শপথ নিতে হবে! একটা আগের নিয়ম অনুযায়ী, সংবিধানমতে, অন্যটা জুলাই সনদ অনুযায়ী! এমন কারবার এই পৃথিবীতে আরও হয়েছে কি আমার জানা নাই। একটায় আপনি শপথ নিচ্ছেন যে এই সংবিধান মেনে চলবেন, একটু পরেই আবার সেই সংবিধানের আইন ভেঙে শপথ নিবেন জুলাই সনদকে মেনে চলবেন! গণভোট নিয়ে তো ক্যাচাল লেগেই আছে। যেখানে সংবিধানে গণভোটের জায়গাই নাই সেখানে গণভোট করা হল। হ্যাঁ- কে পাশ করানোর জন্য সমস্ত শক্তি নিয়ে নামছিল সরকার। পাশ নিশ্চিত করার জন্য নানাজ জায়গায় উল্টাপাল্টা কাজও করেছে। কোথাও ভোটারের চেয়ে বেশি গণভোটের ভোটের সংখ্যা! হ্যাঁ পাশ করেছে এবং না বেশ ভালো ভোট পেয়েছে। এর বাহিরে আমাদের মত যারা আছে পুরো নির্বাচনকেই যারা বয়কট করেছে তারা? সব মিলিয়ে দেশের জনগণ সবাই জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান চায় বলে মনে হয়?
সকালে শপথ নিবে নতুন সংসদ সদস্যরা। এখন পর্যন্ত জানা যায় নাই কে শপথ পাঠ করাবে। দুইটা শপথ নিবে না একটাই নিবে তা নিয়েও ধোঁয়াশা কাটেনি। নিয়ম হচ্ছে আগের সংসদের স্পিকার শপথ পাঠ করাবেন। প্রধানমন্ত্রী শপথ নিবে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে। কিন্তু এই বঙ্গে এখন যে কী হচ্ছে তা বুঝা মুশকিল। শেষ পর্যন্ত কী হয় তা জানতে আমাদের অপেক্ষা করা ছাড়া আর কিছু করার নাই। তবে এইটা যে বিতর্কের জন্ম দিল তা সামনের বাংলাদেশেকে ভুগাবে। আজ হোক কাল হোক, এই জিনিসকে একদিন কাঠগড়ায় দাঁড়া করানো হবেই। এই প্রশ্নবিদ্ধ গণভোট যারা আয়োজন করেছে তাদের প্রত্যেককে একদিন এই প্রশ্নের জবাবা দিতে হবে যে আপনাদেরকে অধিকার দিয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে প্রাপ্ত যে সংবিধান তাকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে নতুন সংবিধান রচনা করার? সেই দিনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে এই নাটকের সব কুশীলবদের। ১৯৭৫ সালের সূর্য সন্তানেরা( !) এক সময় ভেবেছিল তারাই সর্বেসর্বা। কিন্তু ইতিহাস তাদেরকে ক্ষমা করে নাই। একদিন ঠিকই ফাঁসির দড়ি গলায় নিতে হয়েছে। তেমনই আজকে যারা ভাবছে মুই কি হনুরে তারাও একদিন দেশ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার জন্য, দেশের ভাগ্য নিয়ে ফুটবল খেলার জন্য আইনের সামনে দাঁড়াবে। এইটা স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতি ইতিহাসে দায়। এই দায় মিটাতেই হবে একদিন। সেইদিনের অপেক্ষায় থাকলাম।
পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।