এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • গণভোটের বাংলাদেশ! 

    bikarna লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ | ৪৯ বার পঠিত
  • ৭২ সালের সংবিধানকে বলা হয় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে প্রাপ্ত সংবিধান। কেন? কারণ মুক্তিযুদ্ধের পরে মুক্তিযুদ্ধের প্রবল আবেগ থেকে তৈরি হয় এই সংবিধান। যেটাকে এখন মুজিববাদ বলে বাদ দেওয়া হচ্ছে সেটাই ছিল প্রথম শাসনতন্ত্র। এইটা কেউ কাওকে চাপায় দেয় নাই। এইটার জন্য কমিটি করা হয়েছে। দিনেরাতে কাজ করেছে কমিটি। এই যে শাসনতন্ত্রকে সংবিধান বলা হচ্ছে এইটাও কাওকে লিখতে হয়েছে। শাসনতন্ত্র বলা হবে না সংবিধান, এই সিদ্ধান্তও নিতে হয়েছে। আনিসুজ্জামান ছিলেন ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদকারি। তিনি সাথে নেন আরও দুইজনকে, নিয়ামাল বসির আর এ কে এম শামসুদ্দিনকে। ডক্টর কামাল হোসেন ইংরেজিতে লিখতেন আর তাঁরা বাংলায় অনুবাদ করতেন। এখন একবার ভেবে দেখুন সদ্য স্বাধীন হওয়া একটা দেশ, এঁদের উপরে দেওয়া হয়েছে সংবিধান রচনা করার। কামাল হোসেন শুরু করলেন প্রস্তাবনা লেখা, লিখে আনিসুজ্জামানের হাতে দিলেন, তিনি তা বাংলায় অনুবাদ করলেন! এমন পরিস্থিতিতে এঁদের অনুভূতি কেমন ছিল? আনিসুজ্জামান লিখছেন তিনি আবেগে শিউরে উঠেছেন। এমন করে দিনের পর দিন কাজ করে গেছেন। কখনও জুতসই বাংলা না পাওয়া গেলে ইংরেজি শব্দ পরিবর্তন করতে হইছে। সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্যরা মাঝেমধ্যে বসত। তাঁরা নানা পরামর্শ দিতেন। 

    কামাল হোসেনের এক পর্যায়ে মনে হয় ইংরেজি খসড়ার চূড়ান্ত রূপদানের জন্য একজন পেশাদার আইনি খসড়া প্রণেতার( Legislative Draftsman)  সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন। দেশে তেমন কেউ না থাকায় বিদেশের দিকে তাকাতে হল। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের প্রাইভেট বিল তৈরি করত যে আইনি প্রতিষ্ঠান তার এক সদস্য রবার্ট গথিরকে নিয়োগ দেওয়া হয় এই কাজে। তিনি মূলত আইরিশ আইনজীবী ছিলেন। কমনওয়েলথ সচিবালয় এই কাজে সাহায্য করে। লন্ডন যাওয়ার পথে কামাল হোসেন দিল্লী হয়ে গিয়েছিলেন। এই কাল হল। এই কাজের জন্যই পরবর্তীতে আমাদের সংবিধান আরেক রাষ্ট্র থেকে অনুমোদন নিয়ে বানানো, ভারতের খসড়ায় তৈরি সংবিধান এমন কথা শোনা গেছে। দুঃখের বিষয় হচ্ছে এখন পর্যন্তও একই কথা বলা হচ্ছে। একই কথার ভিত্তিতে এই সংবিধানকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার সমস্ত আয়োজন পাকাও করা হয়ে গেছে। 
    সংবিধান লেখা হয়ে যাওয়ার পরে তা অলংকরণের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয় শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনকে। তাঁর নেতৃত্বে হাশেম খান, জুনাবুল ইসলাম, সমরজিৎ রায় চৌধুরী ও আবুল বারক আলভী সংবিধানের অলংকরণ করেন। সংবিধানের মূল কপিটি হাতে লেখা হয়েছিল। এই কমিটি বাংলাদেশের লোকশিল্প ও লোকাচারের রঙ-রেখা ব্যবহার করে সংবিধানের প্রতিটি পাতার জন্য নকশা তৈরি করেন। ক্যালিগ্রাফি করেন আবদুর রউফ।এগুলা করতে চার মাস লেগেছিল। আমি এগুলা বর্ণনা করছি তীব্র আবেগটা বুঝানোর জন্য। দেশ স্বাধীন করার পরে তার সংবিধান রচনা করা! এরচেয়ে গর্বের আর কী হতে পারে? পাকিস্তানের সংবিধান করতে সময় লেগেছিল চার বছর, সেখানে বাংলাদেশ এই কাজ শেষ করে এক বছরেই। ডক্টর কামাল হোসেন সেই সময় এই কাজের জন্য সব দিক থেকে প্রশংসা পেয়েছিল। লর্ড ডেনিং চিঠি লিখে তার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন। 

    এখন মূল আপত্তি দুইটা জায়গায়। ধর্মনিরপেক্ষ আর জাতীয়তাবাদ। খুব কষ্ট এই দুইটা সংবিধানে থাকলে। অথচ সেই সময় দুইটা নিয়েই আলোচনা হয়েছে। হয়েই জায়গা পেয়েছে সংবিধানে। ধর্মনিরপেক্ষতা কই থেকে আসল? আসছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকে। পাকিস্তান তৈরির পর থেকেই ধর্ম ব্যবহার করে সমস্ত শোষণ চালানো হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় মানুষ মারা হয়েছে ধর্মের নামে। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় যত আন্দোলন হয়েছে সবই হয়েছে পাকিস্তানের শোষণের বিরুদ্ধে, ধর্মীয় শোষণের বিরুদ্ধে। তাই স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ধর্মনিরপেক্ষতা সংবিধানে চলে আসছে। এবং যে কোন আধুনিক রাষ্ট্রকে ধর্মনিরপেক্ষ হতেই হবে, এর কোন বিকল্প নাই। ধর্মনিরেপক্ষ মানে ধর্মহীন না। এই সত্য তখনও অনেকের বুঝতে কষ্ট হয়েছে আর এখন তো কথাই নেই! ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে এখন অনেকেই নানা কথা বলছে। এখনকার অনেকের মহান নেতা ভাসানি সেদিন নিজেও এই ক্যাচাল তৈরিতে সাহায্য করেছেন। তিনি ১৯৭২ সালে ১৪ এপ্রিল বলেছেন সংবিধান হবে ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক। এর ছয় মাস পড়েই এই একই নেতা ( ৮ অক্টোবর, ১৯৭২) বললেন "কোরান, সুন্নাহ, ওয়াজেব, শরিয়ত ও হাদিসের খেলাপ কইরিয়া কোন শাসনতন্ত্র মুসলমানদের উপরে জোর করিয়া চাপাইয়া দেওয়া হইলে মুসলমানগণ একবন্দু রক্ত থাকিতে তাহা মানিবে না।" এমন খাঁড়া পলটি মারা সম্ভবত তাঁর দ্বারাই সম্ভব! 

    বাঙালি জাতীয়তাবাদ নিয়ে আরও বেশি সমস্যা এখন। সংবিধান থেকে বাঙালি জাতীয়তাবাদকে ছুঁড়ে ফেলা হচ্ছে। অনেকেই অনেক কাটাকাটি করেছে সংবিধানে। কিন্তু চার মূল নীতি নিয়ে কেউ টানাটানি করে নাই। এখন যেহেতু অনেক কিছুই হচ্ছে যা হয়নি আগে তাই এগুলাও হচ্ছে। বাঙালি জাতীয়তাবাদ নিয়ে সেই সময় চাকমা নেতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা আপত্তি করেন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বক্তব্য দেন এর বিরোধিতা করে। মানবেন্দ্র লারমা সংসদ থেকে ওয়াক আউট করে বের হয়ে জান। আচ্ছা, কেন এত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বাঙালি জাতীয়তাবাদকে? জাতীয়তাবাদ আসলে কী জিনিস? এগুলা না বুঝলে বাকি সব বুঝা কঠিন হয়ে যাবে। ২৪ বছর ধরে বাঙালি জাতিসত্তার জাগরণ চলেছে। তখন কেউ নিজেকে অন্য কিছু বলে হাজির হয়নি। পাকিস্তান আমলে কেউ নিজেদের অন্য জাতি পরিচয় দিয়েছে বলে আমি দেখিনি কোথাও। তখন স্লোগান হত তুমি কে আমি কে বাঙালি বাঙালি, তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা মেঘনা যমুনা। তখন অন্য কোন প্রশ্নই আসেনি। এই জাতিসত্তার জাগরণের বিস্ফোরণ ঘটে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। সেই থেকে জন্ম জাতিরাষ্ট্রের। তাই তখনকার সংবিধান প্রণয়নকারীদের মনে এইটা নিয়ে ভিন্ন প্রশ্ন আসেই নাই। এর মানে এই না যে মানবেন্দ্র লারমার আপত্তি অযৌক্তিক ছিল। স্বাধীন দেশের সংবিধান রচনার সময় ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীদের কথা ভাবা উচিত ছিল। আনিসুজ্জামান পরবর্তীতে লিখেছেন সেদিন তাদের মানে পাহাড়িদের চাওয়া পাওয়া বুঝতে না পারাটা তাদের বড় ব্যর্থতা ছিল। যা পরবর্তীতে বড় দুর্যোগ ডেকে এনেছিল বাংলাদেশে। পরবর্তীতে মানবেন্দ্র লারমারও ভুল ভাঙ্গে। সংবিধানে মূলনীতিতে না থাকলেও স্থান পায় তাদের অধিকার - "জনগণের অনগ্রসর অংশসমূহকে সকল প্রকার শোষণ হইতে মুক্তি, মানুষে মানুষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য বিলোপ সাধন,জনগনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার, ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী , নারী-পুরুষ বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য করবে না।" সেই সময়েই বাংলাদেশ বেতারে চাকমা ও মারমা ভাষায় খবর পাঠ ও প্রতিবেদন প্রচার শুরু হয়েছিল। লারমা পরবর্তীতে বাকশালেও যোগ দিতে চেয়েছিল। 
    যাই হোক, জাতীয়তাবাদ কী? আমিই বা কেন সব কিছুর ঊর্ধ্বে জাতীয়তাবাদকে জায়গা দিতে চাচ্ছি? কেন মনে হচ্ছে কেউ আমার শেকড় ধরে টান দিচ্ছে? বাংলা ১৩০৮ সালের শ্রাবণ মাসে নেশন কী নামে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একটি প্রবন্ধ লিখেন। সেখানে তিনি বলেন, -  
     
    "ভাষায় জাতির পরিচয় পাওয়া যায়, এ কথা ঠিক না। আবার নেশন ধর্মমতের ঐক্যও মানে না। 'সুগভীর ঐতিহাসিক মন্থনজাত নেশন একটি মানসিক পদার্থ, তাহা একটি মানসিক পরিবার, তাহা ভূখণ্ডের আকৃতির দ্বারা আবদ্ধ নহে। জাতি ভাষা বৈষয়িক স্বার্থ ধর্মের ঐক্য ও ভৌগোলিক সংস্থান নেশন-নামের মানস পদার্থ সৃজনের মূল উপাদান নহে।
    নেশন একটি সজীব সত্তা, একটি মানস পদার্থ। দুইটি জিনিস এই পদার্থের অন্তপ্রকৃতি গঠিত করিয়াছে। সেই দুটি জিনিস বস্তুত একই। তাহার মধ্যে একটি অতীতে অবস্থিত, আর একটি বর্তমানে। একটি হইতেছে সর্বসাধারণের প্রাচীন স্মৃতিসম্পদ, আর একটি পরস্পর সম্মতি, একত্রে বাস করিবার ইচ্ছা-যে অখণ্ড উত্তরাধিকার হস্তগত হইয়াছে তাহাকে উপযুক্তভাবে রক্ষা করিবার ইচ্ছা। মানুষ উপস্থিতমত নিজেকে হাতে হাতে তৈরি করে না। নেশনও সেইরূপ সুদীর্ঘ অতীত কালের প্রয়াস, ত্যাগ স্বীকার এবং নিষ্ঠা হইতে অভিব্যক্ত হইতে থাকে। আমরা অনেকটা পরিমাণে আমাদের পূর্বপুরুষের দ্বারা পূর্বেই গঠিত হইয়া আছি। অতীতের বীর্য, মহত্ত্ব, কীর্তি, ইহার উপরেই ন্যাশনাল ভাবের মূলপত্তন। অতীতকালে সর্বসাধারণের এক গৌরব এবং বর্তমান কালে সর্বসাধারণের এক ইচ্ছা, পূর্বে একত্রে বড়ো কাজ করা এবং পুনরায় একত্রে সেইরূপ কাজ করিবার সংকল্প-ইহাই জনসম্প্রদায়-গঠনের ঐকান্তিক মূল।...
    অতীতের গৌরবময় স্মৃতি ও সেই স্মৃতির অনুরূপ ভবিষ্যতের আদর্শ- একত্রে দুঃখ পাওয়া, আনন্দ করা, আশা করা-এইগুলিই আসল জিনিস, জাতি ও ভাষার বৈচিত্র্য সত্ত্বেও এগুলির মাহাত্ম্য বোঝা যায়; একত্রে মাসুলখানা স্থাপন বা সীমান্তনির্ণয়ের অপেক্ষা ইহার মূল্য অনেক বেশি। একত্রে দুঃখ পাওয়ার কথা এই জন্য বলা হইয়াছে যে, আনন্দের চেয়ে দুঃখের বন্ধন দৃঢ়তর।" 

    সজীব মানস পদার্থ কী জিনিস? বঙ্গবন্ধু বলছেন এর নাম অনুভূতি। সংবিধান বিল পাস হয় ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর। সেদিন তিনি ১০.৪০ মিনিটে যে ভাষণ দেন তা ঐতিহাসিক। সেখানে তিনি বলেন এই অনুভূতির কথা - 
    "আমরা জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করি। জাতীয়তাবাদের অনেক সংজ্ঞা আছে।সুতরাং, এ সম্বন্ধে আমি আর নতুন সংজ্ঞা না-ই দিলাম। আমি শুধু বলতে পারি আমি বাংলাদেশের মানুষ, আমি একটা জাতি। এই যে জাতীয়তাবাদ, সে সম্পর্কে আমি একটা কথা বলতে চাই। ভাষাই বলুন, শিক্ষাই বলুন, সভ্যতাই বলুন, আর কৃষ্টিই বলুন-সকল কিছুর সঙ্গে একটা জিনিস রয়েছে। সেটা হলো অনুভূতি। এই অনুভূতি যদি না থাকে তাহলে কোনো জাতি বড় হতে পারে না। এবং জাতীয়তাবাদ আসতে পারে না। অনেক জাতি দুনিয়ায় আছে, যারা বিভিন্ন ভাষাবলম্বী হয়েও এক জাতি হয়েছে। অনেক দেশে আছে, একই ভাষা, একই ধর্ম, একই সবকিছু নিয়ে বিভিন্ন জাতি গড়ে উঠেছে-তারা এক জাতিতে পরিণত হতে পারে নাই। জাতীয়তাবাদ নির্ভর করে অনুভূতির ওপর। সে জন্য আজ বাঙালি জাতি যে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীন হয়েছে, যার উপর ভিত্তি করে আমরা স্বাধীনতা নিয়েছি, যার উপর ভিত্তি করে আমরা সংগ্রাম করেছি, সেই অনুভূতি আছে বলেই আজকে আমি বাঙালি, আমরা বাঙালি জাতীয়তাবাদ।" 
    আমাকে এখন বলা হচ্ছে আমার এই অনুভূতির কোন দাম নাই। আপনি এগুলা ভুলে গিয়ে নতুন করে সব শিখুন! অথচ মানুষ চাইলেও নিজের জাতিসত্তাকে বদলে দিতে পারে না। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেছেন "আমরা হিন্দু-মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য যে আমরা বাঙালি। এটি কোনো আদর্শের কথা নয়, এটি একটি বাস্তব কথা। মা-প্রকৃতি নিজের হাতে আমাদের চেহারা ও ভাষায় বাঙালির এমন ছাপ মেরে দিয়েছেন যে মালা-তিলক-টিকিতে এবং টুপি-লুঙ্গিতে দাড়িতে ঢাকবার জো-টি নেই।" এই পরিচয় মুছে ফেলতে হবে এখন?  পাকিস্তানীরা বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিপরীতে ধর্মকে টেনে এনেছিল। কাজ হয় নাই। যে মোস্তাক মীরজাফরের মত ঘৃণিত সেই মোস্তাকও তার সেই স্বল্প রাষ্ট্র পরিচালনার সময় সংবিধানের চার মূল স্তম্ভে হাত দেওয়ার সাহস পায় নাই। এখন অবলীলায় ছুঁড়ে ফেলতে হবে সব কিছু? আপনরা যারা অবলীলায় ছুঁড়ে ফেলে দিতে চাচ্ছেন, স্বাগত জানাচ্ছেন সরকারের সিদ্ধান্তকে তারা আমিন বলতে পারেন, আমি বরং অপেক্ষা করি, দেখি আপনাদেরকে। 

    গণভোটের প্রশ্নে আরও বেশ কিছু পয়েন্ট আছে যা নিয়ে আলাপ করা জরুরি। অথচ সেই সুযোগ নাই। আপনাকে প্যাকেজে হ্যাঁ বলতে হবে না হয় না বলে হবে। স্থানীয় সরকারকে পুরোপুরি জনপ্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। মানে সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারীরা জনপ্রতিনিধিদের তত্ত্বাবধায়নে চলবে। সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজ চলবে তাদের মত অনুসারে। টাকা পয়সা, আয় ব্যয় এগুলাও তাদের হাতে! এরচেয়ে খারাপ আর কী হতে পারে? এইটার পক্ষেও হ্যাঁ বলতে হবে? সাজাপ্রাপ্ত কেউ আর নির্বাচন করতে পারবে না। এইটা শুনলে মনে হয় তাই তো, সাজাপ্রাপ্ত কেউ কেন নির্বাচন করবে? কিন্তু এইটা বাংলাদেশ। এখানে কাওকে জেলের ভাত খাওয়ানো খুব একটা কঠিন কাজ না। শত শত, হাজার হাজার নমুনা আছে এমন। তো? তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ শেষ? আপনাকে এর পক্ষেও হ্যাঁ বলতে হবে। না বললেই আপনে দোসর, আপনে দেশের শত্রু, দেশদ্রোহী! 
    দেশ আনুষ্ঠানিক ভাবে নির্বাচনের পথে হাঁটা শুরু করেছে। গতকাল থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে। প্রার্থীরা প্রচারণা চালাচ্ছে নিজেদের জন্য আর সরকার চালাচ্ছে গণভোটের জন্য! যে গণভোটের নিয়ম কানুন তারা বানিয়েছে, যে জুলাই সনদ তারাই তৈরি করেছে, যে গণভোটে না দেওয়া হলে সর্বনাশ হয়ে যাবে তারাই বলছে, সেই গণভোটের মানে কী? এতে না অপশন কেন দিল এইটাই তো বুঝে আসে না আমার! 
    দা ডিক্টেটর সিনেমাটা দেখছেন? এইচআইভি আলাদীন আসছে আপনার। নেগেটিভও আলাদীন পজেটিভও আলাদীন, এবং আপনার রিপোর্ট আসছে আলাদীন! হ্যাঁ আর না ভোট দেখে আলাদীনের কথা মনে আসছে আমার। হ্যাঁ বা না না দিয়ে এমন কিছু একটা দেওয়া যেতে পারত। মানুষের সুবিধা হইত। গণনা করে বলে দিত জিতছে পিস কমিটি, মানে নোবেল পিস প্রাইজ! 
    এরপরে তাহারা সুখে শান্তিতে বসবাস করিতে থাকিল। সুখ আর সুখ...! 
     
    তথ্যসূত্রঃ 
    ১/ বিপুলা পৃথিবী - আনিসুজ্জামান 
    ২/ বেলা- অবেলা - বাংলাদেশ ১৯৭২- ১৯৭৫ - মহিউদ্দিন আহমেদ  

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ | ৪৯ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    পত্তাদকাল - %%
    আরও পড়ুন
    বাদামি - %%
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খেলতে খেলতে মতামত দিন