এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  বাকিসব  শোনা কথা

  • সুনন্দিনীর উড়াল

    লেখকের গ্রাহক হোন
    বাকিসব | শোনা কথা | ০৭ মার্চ ২০২৬ | ৩৫ বার পঠিত
  • ১) 
    নমিতা মাজা বাসনগুলো মুছে তুলতে তুলতে একবার বাইরের ঘরের ঘড়ির দিকে তাকায়। রাতে মেয়ে জামাইকে খেতে বলেছে, ওরা আসার আগেই রান্নাবান্না শেষ করে চায়ের সাথে দেবার জন্য মাছের চপগুলো রেডি করে রাখবে। তখন গরমাগরম ভেজে দেবে। জামাই আবার মেজাজী একটু, স্বাদের হেরফের হলেই কিচ্ছু না বলে নামিয়ে রেখে দেয়। জোর করলে উঠে গিয়ে বাইরে ফেলে দিয়ে আসে। প্রথম প্রথম অত বোঝে নি নমিতা, ভেবেছে নতুন জামাই লজ্জা পাচ্ছে খেতে। বিয়ের পরে প্রথমবার জোড়ে এসেছে ওরা, ‘খেয়ে নাও বাবা ওইটুকু পায়েস খেয়ে নাও’ বলতে বলতে জামাই পায়েসের বাটি হাতে উঠে বাইরে গিয়ে কলতলার পাশের নর্দমায় ঢেলে দিয়ে ফিরে এসে বাটি নমিতার সামনে নামিয়ে রেখে হাত ধুতে গিয়েছিল। মনে পড়তেই কানমাথা গরম হয়ে গেল নমিতার। ব্যপারটা মাথা থেকে তাড়াতে তাড়াতাড়ি চপের পুর গড়ায় মন দেয়। 

    সন্ধ্যে সাতটা নাগাদ বেল বাজতে দরজা খুলে দেখে মেয়ে একাই এসেছে, জামাই নেই। ভুরু কুঁচকে ওঠে, আবার কি ঝঞ্ঝাট পাকিয়েছে এই অসভ্য মেয়ে কে জানে! মায়ের মুখ দেখেই মেয়ের ভুরুও কুঁচকে ওঠে। সংক্ষেপে বলে ‘পরে আসবে।‘ 
    যাক তাও ভাল, এবারে একটু হেসে দরজা ছেড়ে বলে ‘আয় আয় বোস একটু। চা করি নাকি?’ মেয়ে কিছু  বলে না, ঢুকে দরজা আটকে জুতো ছাড়ে। সোজা বাথরুমে গিয়ে ঢোকে। নমিতার মনটা কু গাইতে থাকে। কিছু একটা গন্ডগোল, কিন্তু কী সেটা ধরতে পারছে না। জামাইকে ছাড়া মেয়ে আসে না তা নয়, কিন্তু রাতের খাওয়ার নেমন্তন্নে এত বড় ব্যাগ নিয়ে এসেছে কেন? একবার মনে হয় হয়ত দুজনেই আজ  রাতে এখানে থেকে যাবে, কিন্তু জামাই তো পছন্দ করে না। এই মেয়েকে নিয়ে আগেও ভুগতে হয়েছে। কলেজে পড়ার সময় একটা বখাটে ছোকরার প্রেমে পড়ে তাকেই বিয়ে করবে বলে ক্ষেপে উঠেছিল। তখন স্বামী বেঁচে, তিনিই সামলে নিয়েছেন।  

    মেয়ের বিয়েও স্বামীই দেখেশুনে পছন্দ করে দিয়ে গেছেন। জামাই এক নামকরা রঙের কোম্পানিতে দামী চাকরি করে। বিয়ে হয়েছে আজ  সাড়ে চার বছর, এখনো বাচ্চাকাচ্চা হয় নি কেন এটা নিয়ে নমিতার মন একটু খুঁতখুঁত করে। দু’একবার মেয়েকে জিগ্যেস করতে গিয়ে শুনেছেন  জামাই নাকি চায় না। কে জানে বাবা তারও তো মা বাবা আছেন, তাঁদেরও কি নাতি নাতনীর মুখ দেখতে ইচ্ছে করে না! আর বাচ্চাকাচ্চা ঠিক সময়ে না হলে মেয়ের দামই বা কি! মেয়ের বিয়ে দেবার এক বচ্ছরের মধ্যে ছেলে বিদেশে গেল। সেই যে গেল দেড় বছরের মাথায় ওখানেই বিয়ে করল এক অবাঙালি মেয়েকে। বাপ মা’কে জানালো বিয়ের পর। এদিকে ওর বাবা মেয়ের বিয়ে দিয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে ছেলের জন্য মেয়ে দেখে কথাও দিয়ে রেখেছিলেন। ছেলের অমন ব্যবহারে লজ্জায় অপমানে একমাসের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক করে মরে গেলেন। খবর পেয়ে ছেলে বৌ নিয়ে এসেছিল অবশ্য। 

    সেই থেকে নমিতা একাই আছেন। বাড়িটা শ্বশুরের করা, সরকারি চাকরি করে অনেক কষ্টে মফস্বলে দুকাঠা জমির উপরে মাথাগোঁজার একটা ঠাঁই করেছিলেন। স্বামী পরে একটু সারিয়ে সুরিয়ে দোতলা করেছেন। ছেলের বিয়ে দেবেন, মেয়ে জামাই এসে থাকবে এইসব ভেবেই করা। তা এখন দোতলাটা আর লাগেই না। মেয়ের এবাড়িতে রাতে থাকাটা জামাই পছন্দ করে না আর ছেলে তো সেই একবারই যা এসেছিল। কখনো নমাস ছমাসে  নমিতার বোন ভগ্নিপতি কি তাদের ছেলে মেয়েরা কেউ এসে একরাত থাকলে একটু কাজে আসে। ওদের আসাও আজকাল কমেই আসছে। এক একবার ভাবে একতলাটা ভাড়া দিয়ে দোতলায় উঠে যাবে, রান্নাঘর নেই অবশ্য। তা সে  একজনের রান্না ও বারান্দার কোণেই করে নেবেখন। আবার ভাবে থাক কখনো যদি ছেলে আসে। তাছাড়া  ভাড়াটে আবার কিরকম হয় না হয়, শেষে যেচে ঝামেলা আনা হয়ে যাবে। মেয়ে একবার এসে থাকার কথা বলেছিল, কান দেন নি। বিয়ে দিয়েছেন এখন শ্বশুরবাড়িতেই মানিয়ে গুছিয়ে থাকতে হবে। 

    ২) 
    মুখে চোখে গলায় কানে ভাল করে জল দিতে দিতে সুনি ভাবছিল মা’র কাছে কীভাবে কথাটা পাড়া যায়। সেই পাঁচবছর বয়স থেকে আজ  পর্যন্ত কোনোদিনই মা ওর  মন, ইচ্ছে কিছুই বোঝেও নি শুনতেও চায় নি। আর বাবা তো চিরকালই কঠোর কঠিন এক মানুষ। এক দাদাই যা ওকে বুঝত, প্রশ্রয় দিত। সেই দাদাও কেমন ঝপাস করে পালটে গেল! অভিষেকের সাথে প্রেমটা শুরু হতেই দাদা পালটাতে শুরু করল। অথচ অভিষেক তো দাদারই স্কুলের বন্ধু, দাদার কাছেই আসত বাড়িতে। দাদা চলে গেল দুর্গাপুরে কলেজে, অভিষেক  ভর্তি হল শৈলেন্দ্রনাথ মহাবিদ্যালয়ে। সুনিও দুই বছর বাদে সেখানেই। উচ্চ মাধ্যমিকের পরে ও কলকাতায় রবীন্দ্রভারতীতে গান নিয়ে ভর্তি হতে চেয়েছিল। বাবা এক কথায় বলে দিল ‘বাঈজি হতে চাও নাকি যে গান নিয়ে পড়বে? গান নিয়ে আবার পড়াশোনা হয় নাকি?’  গানের ডিগ্রিটা থাকলে আজ অন্তত কটা গানের টিউশনিও পেত। এতটা অসহায় লাগত না তাহলে।   

    ওদিকে মা আবার দরজায় ধাক্কা দিতে শুরু করেছে। ওফফ এই মহিলা এত অসহ্য নাকগলানো টাইপ কেন যে! মুখ মুছতে মুছতে তাড়াতাড়ি দরজা খোলে সুনি। মাছের চপ ভাজার গন্ধে গোটা বাড়ি ম ম করছে। গন্ধটা নাকে যেতেই খুব খিদে পায় সুনির, গা গুলিয়ে মাথাটা ঘুরে ওঠে। দেওয়াল ধরে সামলায়, ধীরে ধীরে গিয়ে খাবার টেবলে বসে। নমিতা একটা ছোট প্লেটে দুটো চপ আর স্টিলের ছোট গেলাসে চা এনে সামনে রাখে, চেয়ার টেনে বসে। সুনি হাউমাউ করে খায় যেন কতদিন খায় নি। নিমেষেই দুটো চপ শেষ। কিন্তু সুনির যে পেট ভরে নি, মায়ের দিকে তাকায়। এতক্ষণ কেউই কথা বলে নি, নমিতা চুপ করে সুনির খাওয়া দেখছিল। এবারে বলে ‘সনৎ আসলে বাকী কটা ভাজবোখন, এখন চা টা খা।‘ সুনির কান্না পায়, গিলে নিয়ে বলে ‘একটু মুড়ি হবে? তাই দাও না।‘ নাহ কয়েকদিন এখানে থাকতে চাওয়ার কথা বলা যাবে না, মা দেবে না থাকতে। 

    মেয়ের গলায় কান্নার আভাস পেয়ে নমিতার বুকটা কেমন করে ওঠে। তাড়াতাড়ি বসতে বলে মুড়ি মাখতে যায়। সুনি আপনমনে এলোমেলো ভাবতে থাকে, অভিষেকের কথা আজ  বড্ড মনে হচ্ছে। কেন যে? ওকে বাড়িতে ডেকে বাবা আর পাড়ার কজন ভদ্রলোক ধমকানোর পরে অভিষেক তো পালিয়েই গিয়েছিল। একবারও যোগাযোগ করার  চেষ্টাও করে নি, সুনিই বরং বারেবারে এদিক ওদিক খোঁজ করেছে, চিঠিও পাঠিয়েছিল। কিন্তু  দাদা টের পেয়ে সেও কেড়ে নেয়। দাদার বন্ধু বলে বাবা তো দাদাকেই দোষী করেছিল। দাদাও হয়ত অভিকে কিছু বলে থাকবে। সে যাইই হোক প্রেমটা সুনির তরফেই বেশী ছিল হয়ত! অথবা নিতান্তই একতরফা ছিল, অভি স্রেফ তাল দিয়ে যেত টাইমপাস হিসেবে, সুনি বুঝতেই পারে নি। সুনি আজকাল আর নিজেকে বুঝতে পারে না, মনে হয় আগাগোড়া সব ভুল করেছে। সব। এই যে আজ প্রায় বিক্রিই হয়ে যাচ্ছিল সেও কি আর আগেই আন্দাজ করে নি খানিক? তাও তো বেরিয়েছিল সনতের সাথে।  

    বিয়ের পরে সনৎকেও তো ভালই বেসেছিল সুনি। ‘বেসেছিল’? এখন আর ভালবাসে না? ভাবতে গিয়ে মাথা ঝিমঝিম করে, ঘাড়ের পেছনে দপদপ। এক জামবাটি ভরে তেল চানাচুর পেঁয়াজকুচি, লঙ্কাকুচি দিয়ে মাখা মুড়ি এনে সামনে রাখে নমিতা। ‘হ্যাঁরে শরীর কেমন? দুপুরে পেটভরে খেয়েছিলি?’। মায়ের নরম গলা শুনে আবারও কান্না আসে সুনির, আবারও গিলে ফেলে মুখ নামায়। গপগপ করে কয়েক গ্রাস খেয়ে হাসিমুখে তাকায়, ‘না গো দুপুরে খাওয়া হয় নি একদম। ওর সাথে এক জায়গায় গেছিলাম, খুব জরুরী কাজ ছিল। সেখান থেকেই সোজা আসছি।‘ নমিতা মনে মনে আশ্বস্ত হয়, যাক জামাইয়ের সাথেই ছিল তাহলে। টুকটাক কথা চলতে থাকে, গরমটা গিয়েও যাচ্ছে না, পুজোর শাড়ি, ফুলকপির দাম এইসব দু’পাঁচ কথা। কথায় কথায় সন্ধ্যে গড়িয়ে রাত হয়, রাত গভীর হয়। রাতের খাবারের সময় পেরিয়ে যায় সনতও আসে না, সুনিকেও খেতে দেয় না নমিতা। 

    ৩) 
    পাঁচদিন হয়ে গেল, সুনি তো ফোন টোন করল না। ওই একবার ফোন করবে, নাকি চলেই যাবে ভাবতে ভাবতে অন্যমনস্কভাবে ঘরের কাজগুলো সারে নমিতা। সে রাতে জামাই এলো রাত এগারোটার পরে, খায় দায় নি, স্রেফ সুনিকে তুলতে এসেছে বলে বাইরেই দাঁড়িয়ে ছিল। ‘একটু বোসো, খাবারগুলো টিফিন কেরিয়ারে ভরে দিই’ করুণ গলায় বলা নমিতার অনুরোধে বেজার মুখে ভেতরে এসেছিল বটে তবে বসে নি সনৎ। সুনিও কেমন ছটফটিয়ে ঢাউশ ব্যাগটা তুলে নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। নমিতা একবার বলেছিল ‘তুই তো কিছুই খেলি না মা, ঝট করে দুগাল খেয়ে নে না।‘ তীক্ষ্ণচোখে তাকিয়ে সুনি হিসহিস করে বলেছিল ‘থাক মা ঢের হয়েছে।‘ মনে মনে বলে দুপুরে খাওয়া হয় নি জেনেও এতক্ষণ খেতে দিলে না, এখন এসেছ দরদ দেখাতে! স্বামীর আমলের তিনবাটির টিফিন কেরিয়ার আছে দুটো, তাতেই সব ভরে দেওয়ামাত্রই দায়সারাভাবে ঝটকা মেরে কেরিয়ার দুটো তুলে বেরিয়ে গিয়েছিল বরের পেছন পেছন। 

    সপ্তাহে দুইদিন করে একজন ঠিকে কাজের লোক এসে দোতলা বাড়ি ঝাঁট দিয়ে মুছে আসবাবপত্রগুলো ঝেড়েঝুড়ে দিয়ে যায়। নমিতা আগে শুধু বয়স্ক কর্মঠ মহিলা দেখে দেখে রাখত। কিন্তু এখন সবাই ফ্ল্যাটে কাজ করতে চায়, খাটনি কম একটানে ঝাড়মোছ হয়ে যায়। অনেক কষ্টে, বহুলোককে বলে শেষে দিলীপকে পেয়ে ওকেই রেখে দিয়েছে। ওর বয়স কত বলা মুশকিল। দিলীপ নিজেও জানে না, একটু হাবামত আছে। কাজকর্ম বোঝাতে অনেক সময় লেগেছে, কিন্তু একবার বুঝে নেবার পরে একদম যন্ত্রের মত করে যায়। কামাইও খুব কম। দোষের মধ্যে একটু কথা বেশী বলে। যেদিনই আসে ছেলে মেয়ে সবার খবর নেওয়া চাই।  রোজের কাজে নমিতার এখনো সাহায্য লাগে না, নিজেই করে নিতে পারে। ওই তো একজনের রান্না আর বাসনপত্র ধোয়া, নিজেরই কাপড় কেচে নেওয়া। তাও আজকাল মাসে একবার করে দিলীপকে পঞ্চাশ টাকা দিয়ে বিছানার চাদর, মশারি কাচিয়ে নেয়। 

    আজ  দিলীপের আসার দিন। এসে কাজ করে গেলে নাহয় মেয়ের বাড়ি যাবে একবার। কিন্তু না বলেকয়ে গেলে আবার মেয়ের শাশুড়ি খুব বিরক্ত হয়। নমিতার হয়েছে মহা জ্বালা! কাকে কখন কী বললে সব ঠিকঠাক থাকবে বুঝে পায় না। সেদিন মেয়ে চাইছিল খেয়ে নিতে, চোখেমুখে ওর খিদের ছাপছোপ লেগেছিল দেখেছে নমিতা।  বললও দুপুরে খাওয়া হয় নি। কিন্তু জামাই রাগী মানুষ, তাছাড়া জামাইয়ের আগেই মেয়ে খেয়ে বসে থাকবে এ নমিতার ঠিক মনে হয় নি। মেয়েদের অমন ঘোড়ার মত আগে আগে চলন একদম ভাল নয়। স্বামীর জন্য একদিন একটু খিদে চেপে থাকাই উচিৎ। নমিতা নিজে কোনোদিন স্বামীকে না খাইয়ে খায় নি। এই মেয়ের চলন বলন সবই কেমন যেন। কে জানত যে জামাই খাবেই না, এসেই চলে যাবে! অথচ সুনি কেমন ওকেই দোষী করে গেল!  নাঃ, মেয়েকে আগে খেতে না দিয়ে ঠিকই করেছে নিজেকেই বলে নমিতা। তাও মেয়েটার শুকনো মুখচোখ মনে পড়ে বুকটা মোচড়ায়। 

    দিলীপ এসে কাজ শুরু করার আগেই নমিতার রান্না শেষ। নিশ্চিন্ত হয়ে বারান্দায় এসে বসে ভাবে একবার বরং ফোন করেই দেখা যাক। খানিক ইতস্তত করে ওদের বাড়ির ল্যান্ডলাইনেই ফোনটা করে, ধরেন সুনির শ্বশুর। এঁর আবার খুবই মুখমিষ্টি, ‘আরে বেয়ান যে! আমাদের কথা মনে পড়ল এতদিনে’...বলতে বলতেই রিসিভার হাতবদলে শাশুড়ির হাতে। শরীরগতিকের খবর নেওয়া হলে নমিতা সুনিকে চায়। ‘মেয়ে তো আপনার সকালে বেরিয়ে গেছে, ছেলে বেরোনর একঘন্টার মধ্যেই। কেন জানেন না আপনি?’ শাশুড়ির গলায় আবছা বিরক্তি। নাহ নমিতা জানে না, জিগ্যেস করে ‘কোথায়?’ ‘জানি না, বলার প্রয়োজন মনে করে নি’ স্পষ্ট বিরক্তি এবারে। নমিতা বলে ফেলে ‘শাসন করবেন আপনারা ওকে, একি অসভ্যতা!’ বলেই লজ্জায় মরে যায়, এ কি বলে ফেলল!শাশুড়ি অবশ্য খুশিই হন। মেয়ের কানে যাবেই এ কথা, তারপরে কী  হবে সে আর ভাবতে চায় না নমিতা। খুব ভুল কিছু তো বলে নি। 

    ৪)       
    শীতের শেষের দিকের বিকেলগুলো বেশ ফুর্তি ফুর্তি লাগে সুনির। কেমন মনে হয়  এই এক্ষুণি কলেজে সরস্বতীপুজোর আসন সাজাতে যেতে হবে, একটু বাদেই ঠাকুর এসে যাবে হইহই করে। কলেজের পাট তো চুকেছে বেশ ক’বছর আগেই, তাও শেষবারে পুজোর দিনে কলেজ যেতে দেয় নি বাবা। কালকে দাদা ফোন করেছিল, বাবা মারা যাওয়ার পর এই প্রথম। কতদিন হবে? তিন বছর না সাড়ে তিন? রবিবার সকাল হওয়ায় সনৎও বাড়ি ছিল, ফোন নিয়ে বাইরে বেরিয়ে গিয়ে কী এত কথা বলল কে জানে! দাদাদের অবশ্য রাত্তির, তাও দাদা প্রায় দেড়ঘন্টা কথা বলল দুজনের সাথে আলাদা আলাদা করে আবার একসাথেও। ঠিক চারমাস চব্বিশ দিন হল ‘মায়ের বাড়ি’ থেকে ঘুরে আসার। ওই বাড়িকে ‘আমাদের বাড়ি’ ভাবা বন্ধ করেছে সুনি বহুদিন। এই বাড়িও আর ওর নয়। যে কোনওদিন বের করে দেবে কিম্বা বেরিয়ে যেতে হবে। কোথায় যাবে জানে না, ভাবতেও পারে না সুনি। 

    সুনির শ্বশুরবাড়িও মফস্বলে তবে এই জায়গাটা কলকাতার বেশ কাছে। লোকাল ট্রেনে চেপে মিনিট দশ পনেরোর মধ্যেই হাওড়া স্টেশানে পৌঁছে যাওয়া যায়। আর ট্রেনও আছে প্রতি কুড়ি মিনিট কি আধঘন্টায় একটা করে। মায়ের বাড়ি বরং বেশ দূর, মিনিট চল্লিশেক তো লাগেই হাওড়া থেকে। তাছাড়া সব ট্রেন যায়ও না, গেলেও স্টেশানে থামে না। সেইজন্যই আরো কলেজে পড়ার সময়েও সুনি একবারও কলকাতা যায় নি। ঘোরা কিম্বা সিনেমা থিয়েটার দেখার তো প্রশ্নই নেই। ক্লাসের অন্য ছেলে মেয়েরা কেউ ইংরিজি কেউ কম্পিউটার শিখতে যেত, কেউ কেউ আবার সরকারি চাকরির পরীক্ষার কোচিং নিতেও যেত। কিন্তু সুনি কিছুই করে নি। মা’কে বলেছিল কমপিউটার শিখবে, কিন্তু এক ঝামটায় থামিয়ে দিয়েছিল মা। এসবই নাকি ধিঙ্গিপনা, ছেলেদের সাথে গা ঘেঁষাঘেষির ইচ্ছে। সুনির কেমন মনে হয় ওর এই কলেজে যাওয়া, নতুনকিছু শেখা দেখে মায়ের আসলে হিংসে হয়। ‘মায়ের হিংসে’! ছি ছি এসব কি ভাবছে! নিজেকে ধমকায় সুনি। 

    গত ক’মাসে সুনির জীবনটা উল্টেপাল্টে গেছে।  এমনিতে বিয়ের পর থেকেই সনতের সাথে সম্পর্কটা কখনো ফুল কখনো ঢিল রীতিতে চলছে। সনৎ যখন ভাল মেজাজে থাকে তখন ওকে রাণীর মত রাখে, আক্ষরিক অর্থেই। বিছানা থেকে নামতে দেয় না, শাশুড়িকে বলে ওদের খাবার ঘরে দিয়ে যেতে। আর আদর আহ্লাদে মুড়ে রাখে। অথচ ওর ইচ্ছের বিন্দুমাত্র অন্যথা হলে অবলীলায় চুলের মুঠি ধরে শুইয়ে ফেলে পিঠে গুমগুম করে কিল মারতে থাকে। এমনকি সনতের ‘মুখে ক্রিম মেখে বিছানায় এসো’র জবাবে ‘এখন মুখে ক্রিম মাখার দরকার নেই’ এরকম নিতান্ত সাধারণ কথা বলেও চোরের মার খেয়েছে সুনি। আবার পরেরদিনই হয়ত দামী একটা শাড়ি কিনে আনল। তক্ষুণি পরে দেখাতে হবে। প্রথম বছর দুই সুনি ভাবত মানুষটা একটু খ্যাপাটে, কিন্তু ওকে খুব ভালবাসে। তারপর সেইদিনটা ... পেটে লাথির পর লাথি, ওর তখন মাসিক চলছিল। তার আগে ওকে নিয়ে গিয়েছিল শর্মার ফ্ল্যাটে, সেখান থেকেই সোজা মায়ের কাছে গিয়েছিল সেদিন।  

    চারদিক অন্ধকার করে আসা সেই তীব্র যন্ত্রণা এখনো মাঝে মাঝে টের পায়। মায়ের বাড়ি থেকে আসার দুদিন পরে সনতের ফোনটা বিছানায় পড়ে ছিল, টুং করে মেসেজ ঢোকার আওয়াজে অলসভাবেই ফোনটা তুলে নজর বুলিয়েছিল সুনি আর অমনি গ্যালারিভর্তি থরে থরে সাজানো দলা দলা মাংস, ফর্সা কালো শ্যামলা মেয়েশরীরের মাংস ঝাঁপিয়ে এসেছিল। এই দুদিনে নরমে গরমে শর্মার প্রস্তাবে ওকে রাজী করানোর চেষ্টা চালিয়েছে সনত। চোখেমুখে আটকে যাওয়া মাংসের দলা থেকে চোখ সরার আগেই চুলের গোছায় এক হ্যাঁচকা টানে মাটিতে পড়া...লাথির পর লাথি যতক্ষণ না ও সম্পূর্ণ অজ্ঞান হয়। কেউ তোলে নি, একগ্লাস জলও দেয় নি। সনতের বারণ ছিল। নুলিমাসী এসে ওর চারপাশ দিয়ে ঘর মুছে গেছে। মাঝরাতে টলতে টলতে উঠে গিয়ে রক্তেভাসা কাপড় ধুয়ে নিজেকে ধুয়ে বারান্দায় মেঝেতে শুয়ে পড়েছিল। পরের দিন সকালে সনৎ বেরিয়ে যাবার পরে বেরিয়ে গিয়ে মাথায় কদমছাঁট দিয়ে আসে। 

    ৫) 
    শীতের শেষদিক হলেও রাতের দিকে ঠান্ডাটা এখনো ভালই কামড় দেয়। নমিতা তাই দিলীপকে দিয়ে লেপ তোষকগুলো রোদে দেওয়ায়, বিকেলে নিজেই টেনে হিঁচড়ে তুলে নেবে। প্রায় পাঁচমাস হতে চলল সুনিরা ঘুরে যাওয়ার, সনৎ তো নয়ই সুনিও আসে নি আর। নমিতার ফোনও আজকাল ধরে না মেয়ে, বাজারের ফোনবুথ থেকে করলে ধরে বটে, তবে কথা বলে না। চুপ করে কিছুক্ষণ ধরে থেকে কেটে দেয়। অথচ নমিতা তো ওর ভালর জন্যই বলেছে,পরামর্শ দিয়েছে। মেয়েদের অত স্বাধীনচেতা হলে চলে নাকি? মেয়েরাই তো সংসার ধরে রাখবে, টিকিয়ে রাখবে। জামাই একটু রাগীমানুষ সে তো শুরু থেকেই জানা। রেগে গেলে হাত টাত একটু চলেই অমন পুরুষমানুষের, তাই বলে তার কোন কথাই না শুনে উলটোপথে চললে তার রাগ বাড়বে না তো কি! আত্মীয়স্বজন, পাড়াপড়শি কারো কাছে মুখ দেখাবার উপায় রাখছে না। মেয়ের ওপর ক্ষোভে রাগে দাঁত কিড়মিড় করে নমিতা। 

    সুনিদের সেদিন না খেয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পরে নমিতা ভেবেছিল সুনি নিজেই ফোন করে সব খবর দেবে। আগে তো কখনো এরকম হয় নি, না আসতে পারলে জামাই আগেই বলে দেয়। কদিন দেখে ওদের বাড়ি ফোন করে শোনে মেয়ে বেরিয়েছে, কোথায় গেছে তা শ্বশুর শাশুড়িকে বলে যায় নি। একটু পরে মেয়েকে ফোন করে শোনে সে পার্লারে গেছে চুল কাটাতে, এখন কথা বলতে পারবে না। অবাক হয়ে জিগ্যেস করেছিল সনৎ জানে কিনা? ‘না কেউ জানে না’ বলেই কেটে দিয়েছিল সুনি। এরকম স্বামীকে, শ্বশুরবাড়ির কাউকে না বলে বেরোনর কথা নমিতা দুঃস্বপ্নেও কল্পনা করতে পারে না। কিন্তু দূঃস্বপ্নের তো তখন সবে শুরু। তখনও জানত না মেয়ের কীর্তি। বিকেলেই শাশুড়ি কল করে জানালেন মেয়ে মাথায় বাটিছাঁট দিয়ে এসেছে। আগেকার দিনের বিধবাদের মত। সাথেই ‘আপনার মেয়েকে এবার আপনিই একটু শাসন করুন, আগে তো কিছুই করেন নি মনে হয়’।      

    ফোনেই চেঁচিয়ে উঠেছিল নমিতা ‘অলক্ষ্মী অসভ্য মেয়ে ওইভাবে চুল কেটেছিস কেন?’ খুব ঠান্ডাগলায় কেটে কেটে মেয়ে বলেছিল ‘হাতের মুঠোয় চুলের গোছা যাতে না আসে সেইজন্য এভাবে কেটেছি।‘ তারপর যান্ত্রিক গলায় সাধারণ খবর দেবার মত করে বলে গিয়েছিল পেটে লাথি মারার কথা, প্রতিঘন্টায় ওর দুটো করে প্যাড নেবার কথা, কিছুতেই ব্লিডিং একমুহূর্তও না কমার কথা। যন্ত্রণার কথা, কষ্টের কথা বলে নি। শ্বশুর ফোনটা নিয়ে নেন, চাপাগলায় ওদিকে কিছু বলে নমিতাকে খুব মিষ্টি করে বলেন ওঁরা তো স্বামী স্ত্রীর ঝগড়ায় নাক গলাতে চান না,তাই এসব কিছুই জানতেন না। এক্ষুণি বৌমাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাচ্ছেন উনি। সুনি তো ওঁদেরও মেয়ের মত, নমিতা যেন চিন্তা না করে। সুনি বেরো্য নি শ্বশুরের সাথে। পরেরদিন অন্য একটা নতুন নম্বর থেকে ফোন করেছিল। শুধু চুল কাটানোই নয়, আগেরদিন নিজের একজোড়া কানের দুল বিক্রি করে দিয়ে একটা নতুন ফোন কিনেছে আর নতুন নম্বরও নিয়েছে। 

    ক্যামেরাওলা ফোন, আরো কি কি সব করা যায়, নতুন উঠেছে আজকাল। জামাইয়ের অমন ফোনই আছে, তাতে জমা ছবিগুলোর কথাও বলেছিল সুনি। পুরোটা শুনতে পারে নি নমিতা, ‘চুপ কর লক্ষ্মীছাড়ি, এসব কাউকে বলতে নেই।‘  চেঁচিয়ে উঠেছিল। সুনি রাগে নি, চেঁচায় নি কেমন অদ্ভুত গলায় টেনে টেনে বলেছিল ও আর ওখানে থাকতে চায় না, চলে আসবে নমিতার কাছে। আরো অনেক ব্যপার আছে, আগেই বলত, কিন্তু ভেবেছিল যদি মিটে যায়। মেটা আর সম্ভব নয়। এসে তারপরে চাকরি বাকরি কিছু একটা খুঁজে নেবে। ভয়ে হাত পা ছেড়ে আসছিল নমিতার এ কি অলক্ষুণে কথা! স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসলে আর পাড়ায় মুখ দেখাতে পারবে নমিতা? আত্মীয়স্বজনরাই বা কি বলবে! ছি ছি। কদিন পরে মেয়ের শ্বশুর ডেকে  পাঠিয়েছিলেন। নমিতা গিয়েছিল দিলীপকে নিয়ে। আজকাল একা যেতে অসুবিধে হয়। গিয়ে ভাল করে মেয়েকে বুঝিয়েছিল। সেই থেকেই সুনি আর কথা বলে না ওর সাথে।

    ৬) 
    ছয় বছর কেটে গেছে। সুনন্দিনী বেরোবার জন্য তৈরী হয়ে বাটিতে ভুচুমের খাবার রেখে বাটিটা ছোট্ট বারান্দার কোণায় বসিয়ে তালা মেরে বেরিয়ে পড়ে। ভুচুম ঠিক সময় করে এসে গ্রিলের ফাঁক গলে ঢুকে খেয়ে যাবে। একটা এনজিওতে রিসেপশনিস্ট কাম অফিস ম্যানেজারের কাজ করে সুনন্দিনী, অফিস এখান থেকে আড়াই কিলোমিটারের মত। হেঁটেই যাওয়া আসা করে ও, কাজটা শুনতে যত জমকালোই হোক, বেতন পায় হাজার সাতেকের মত। তাতে এই বাজারে টেনেটুনে চলে যায়, মানে ও চালিয়ে নেয় আর কি। এদের কাজ হল সংসারে মারধোর খাওয়া অত্যাচারিতা যে সব মেয়েরা বেরিয়ে আসতে চায়, কিন্তু বেরিয়ে যাদের থাকার কোন জায়গা নেই,   ওরা তাদের সাময়িক আশ্রয়, আইনী সাহায্য এইসব দেয়। সুনন্দিনীকেও ওরাই সাহায্য করেছিল, ওর তখন যে কোন একটা চাকরি দরকার। ওদের ওখানেই কাজের অফার করায় হাতে চাঁদ পেয়েছিল। 

    বাবা নাম রেখেছিল বটে সুনন্দিনী তবে তা শুধু স্কুল কলেজের খাতাপত্রে মার্কশিটেই ছিল। বাড়িতে তো বটেই কলেজে বা শ্বশুরবাড়িতেও ও স্রেফ সুনিই ছিল। তারপর শর্মাজির কাছে নিয়ে যাওয়া, শর্মাজির প্রস্তাব, সনতের ফোনভর্তি ল্যাংটা মেয়েদের ছবি, লাথির পর লাথি আর তলপেটে অসহ্য যন্ত্রণা, একগ্লাস জল কেউ দেয় নি। ওর ‘বিধবাছাঁট’ মাথা আর রোজ দুপুরে বেরিয়ে যাওয়া। রোজ রাতে ফিরে সনতের মার। রোজ সকালে সনতের উথাল পাথাল আদর।  ওকে বোঝানোর জন্য মা’কে ডেকে এনেছিল ওরা। ও কিচ্ছু বুঝতে পারত না। সবাইকে কেমন অচেনা লাগত, চারপাশটা আবছামত। সবাই বলত সনৎ ওকে খুব ভালোবাসে। খুউব। সুনিরও সকালে মনে হত সত্যিই ভালবাসে। সনৎ বেরিয়ে গেলেই মনে হত ওই ছবির মেয়েদের সাথে কোথায় কখন দেখা হয় সনতের? বাড়িতে টিকতে পারত না, বেরিয়ে কলকাতা চলে যেত, রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াত। দিলীপকে নিয়ে মা এসেছিল ওকে বোঝাতে।               

    মা বলেছিল সংসার ভেঙে এলে বাড়িতে ঢুকতে দেবে না। মা বলেছিল আগে একটা প্রেম করেছে, এখন বিয়ে করা সংসার ভাঙতে চাইছে নিশ্চয়ই কোন প্রেমিকের জন্য। মা বলেছিল মাসিদের কাছে মুখ দেখানো যাবে না। মা বলেছিল ‘সনৎ যে তোকে ছোঁয় এই তো কত ভাগ্য তোর।’  মুখ টিপে শক্ত হয়ে বসেছিল সুনি। চীৎকার করে উঠতে চেয়েছিল, ধাক্কা মেরে মা’কে সামনে থেকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিল। পারে নি।  দিলীপ বলে উঠেছিল ‘দিদিকে নিয়ে চলেন, দিদিকে দেখে ভাল ঠ্যাকে না।‘  কাজের লোকের আস্পর্ধা দেখে সবাই রে রে করে উঠেছিল। মা শেষে দাদাকে বলেছিল। আর দাদাও কি আশ্চর্য অভিষেকের কথা তুলেছিল। পলিটিকাল সায়েন্সের গ্র্যাজুয়েট সুনির চাকরির কোন সুযোগও কোথাও নেই। হয় ঘাড় গুঁজে ওখানে থাকা নয়ত আত্মহত্যা এই দুইয়ের বাইরে আর কোন বিকল্পই যখন কোথাও নেই, তখনই বৈশালীর ফোনটা এসেছিল। বৈশালি রাঠোড়, ওর বৌদি, বিয়ের পরেও পদবী বদলায় নি বলে মা যাকে ‘রাক্ষুসি’ বলে।  

    বৈশালি ওকে ‘ভাবী’ বা ‘বৌদি’ ডাকতে দেয় নি কোনোদিন, বরাবর নাম ধরে ডাকতে বলেছে। সে নিজেও সুনিকে সুনন্দিনী বলে ডাকে। সুনির সুনন্দিনী হয়ে ওঠাও বৈশালির হাত ধরে, তারই পরামর্শে। সেই অন্ধকার দিনগুলোতে সমানে ওকে সাহস যুগিয়ে গেছে, থাকার জায়গা খুঁজে দিয়েছে ওই বিদেশে বসেই, এই এনজিওর সাথে যোগাযোগ করিয়েছে। প্রতিদিন একবার করে ওর মনে হত ও পারবে না  বেরোতে ওই নরক থেকে, ওর তো কেউ কোত্থাও নেই। প্রতিদিন বৈশালি ফোনে ওকে বোঝাত একটা দুটো সম্পর্ক ভাঙা কোন দোষের ব্যপার নয়, বরং অন্যায়কে মেনে নেওয়া প্রশ্রয় দেওয়া অনেক বড় দোষ। বলত পরিচিত সবাই যদি অন্যায়কে অন্যায় বলে নাও মানে তবু অন্যায়টা অন্যায়ই থাকে, ন্যায় হয়ে যায় না। বুঝিয়েছে চারখানা ভুল সম্পর্কের পরে একটা ঠিক সম্পর্ক হতে পারে, হতে পারে একটা ভীষণ সুন্দর জীবন। কিন্তু তার জন্য ভুল সম্পর্ক ভেঙে ফেলতে হয়। যা ভুল তা মেনে নিয়ে চালিয়ে যেতে নেই। 
             
    ৭)   
    সুনন্দিনী যেদিন বাড়ি ছেড়েছিল, সেদিন শ্বশুর শাশুড়ি দুপুরে বিশ্রাম করছেন দেখে চুপি চুপি সদর দরজা ভেজিয়ে রেখে একটা ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে এসেছিল। স্টেশনে এসেও বারেবারে মনে হয়েছে ওঁরা জেগে ওঠার আগেই ফিরে যায়। কলকাতায় ওর থাকার কোন জায়গা ছিল না, বৈশালির এক বন্ধুর বাড়ি কয়েকদিন থেকে পুনা চলে আসে। কলকাতায় থাকার কদিন প্রতি মুহূর্তে ভয় হত এই বুঝি সনৎ এসে মারতে মারতে নিয়ে যাবে ওকে।  পুনার ট্রেনের টিকিটটা দাদা কেটে দিয়েছিল। ওয়াঘোলিতে এনজিওর ছোট আশ্রয়কেন্দ্রে এসে ওঠে, ওরাই ডিভোর্স ফাইল করায়, কেসের তারিখে কলকাতা যাওয়া আসা, ওখানে কোন  গেস্ট হাউসে ওঠা সমস্ত খরচ বৈশালি দিয়েছে। ওরই পরামর্শে এককালীন টাকা নিয়েছে সুনন্দিনী। দাদাও বলেছিল ‘দেখবি ওই খোরপোষ কিছুদিন গেলেই বন্ধ করে দেবে, ক’বার ছুটবি কোর্টে?’ পরে জেনেছে মা সবকিছু দাদাকে বলেও নি, শুধু সাংসারিক অশান্তি তাই সুনি চলে আসতে চাইছে বলেছিল। 

    প্রথম দুটো বছর খুব কষ্ট গেছে। কোর্টে কেস চলছে, সমানতালে চলছে সনতের হুমকি, গালিগালাজ। ফোন নাম্বার যেটা দিয়েছিল কেস করার সময় সেটা  কেস না মেটা পর্যন্ত বদলাতে বারণ করেছিলেন উকীলবাবু। প্রতিদিন একটা কোন নতুন নম্বর থেকে ফোন করে গালাগালি করত, হুমকী দিত সনৎ। বলত তুলে নিয়ে গিয়ে কুচি কুচি করে কেটে মাটিতে পুঁতে দেবে, কেউ কোনোদিন খোঁজ পাবে না। কখনো শাশুড়ি, কখনো মা’ও। শেষে এনজিওর আরেক কর্মী অতুল ওকে নম্বর ব্লক করা শেখায়। কি একটা যেন নামিয়ে ফোনে ব্লক করার ব্যবস্থা করে দেয়। এখনকার ফোনে তো ওসব অমনিই আসে, কিন্তু ছ’বছর আগে সে ব্যবস্থা ছিল না ওর ফোনে। আর ও অত জানতও না। কতকিছু যে শিখল এই ক’বছরে! প্রথমদিকে তো মারাঠি একদম বুঝত না। এদিকে লোকে হিন্দির সাথেও মারাঠি মিশিয়ে বলে। ইংরিজি কিছুটা বুঝতে পারলেও বলতে একদমই পারত না।  সিনেমা দেখে দেখে হিন্দীটা বুঝত, বলতেও পারত। 

    কাজের জায়গায় অতুলই তখন ওকে একটু একটু করে হিন্দীতে বুঝিয়ে দিত। ওর কথাও অন্যদের বুঝিয়ে দিত। কতবার ভেবেছে জীবনটা শেষ করে দিলেই ল্যাঠা চোকে, কিন্তু আবার মনে হয়েছে সে তো দেওয়াই যায় তার আগে দেখিই না কদ্দুর কী করা যায়। কেসের শেষদিকে জজসায়েব ওকে চেম্বারে ডেকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন সনৎকে একবার শেষ সুযোগ দিতে চায় কিনা। ও চুপ করেছিল, উত্তর দিতে পারে নি সহজে। কতকিছু বলবে ভেবেও বলতে পারে নি কিছুই। উনি ওকে একমাস সময় দিয়েছিলেন ভাবতে। একমাস বাদে সুনি নয় গিয়েছিল সুনন্দিনী, স্পষ্ট পরিস্কার গলায় ‘না’ বলেছিল। তারপরেই ডিভোর্সের রায় দেন জজ, সাথে এককালীন থোক টাকা দেবার আদেশ। সে টাকাও সহজে দেয় নি ওরা। উকীলবাবু একবার থানা একবার কোর্ট করে পুরো টাকাটা বার করে দেন। ও তো প্রথমে বলেছিল টাকা চাই না, দাদা আর বৈশালীর বোঝানোয় বলেছিল মাসে মাসে নেবে। 

    ভাগ্যিস শেষে এককালীন নিতে রাজী হয়, ঠিকই বলেছিল ওরা প্রত্যেক মাসে সনৎ কিছুতেই দিত না। মা’কে ও আজও  মন থেকে মাফ করতে পারে নি। আগে অবাক হয়ে ভাবত কারুর নিজের মা এমন হতে পারে! তবে যে বলে সারা পৃথিবী মুখ ফিরালেও নাকি ‘মা’ই নাকি শেষ আশ্রয়! অথচ সমস্তকিছু জেনেও কি অবলীলায় ওর প্রতিদিন মার খাওয়া, সনৎএর অন্য মেয়েদের সাথে সম্পর্ক সবকিছু উড়িয়ে ওকেই মানিয়ে নিতে বলত! এখন আর অবাক লাগে না। এনজিওতে আসা নানা মেয়েদের গল্প শুনে বুঝেছে আসলে খুব কম মা’ই মেয়েদের দিকটা দেখে,বোঝে। এই তো গত শীতেই দাদা আর বৈশালি এসেছিল মা’কে নিয়ে। সুনন্দিনীর এই এক কামরার বাসায় অত লোক ধরবে না বলে কাছেই একটা হোটেলে উঠেছিল দাদারা। মা খুব বুড়ো হয়ে গেছে, পিঠটা পড়ে গেছে কুঁজো হয়ে চলে। অনেকটা নরমও হয়েছে। ওর গালে হাত বুলিয়ে দেখছিল। কিন্তু সুনন্দিনী সহজ হতে পারে নি।        

    ৮) 
    একতলাটা ভাড়া দিয়ে দোতলায় উঠে গেছে নমিতা। এখন আর নিজের রান্না বাসনধোয়াটুকুও সবদিন করতে পারে না। ছাদে একটা ঘর তুলে দিলীপকে সেখানে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়ে গেছে ছেলে। সেও ওই রাক্ষুসি বৌএর বুদ্ধিতেই। ছেলে তো একেবারে ভেড়ার মত বৌএর আঁচলে বাঁধা। আঁচলই বা কোথায় রাক্ষুসি শাড়ি মোটেই পরে না, ওই রাক্ষুসি হাতে করে সুনির সংসারটা ভেঙে দিল গো। নিজে দিব্বি ঘর করছে আর নমিতার মেয়েটা স্বামীর ঘর ছেড়ে কোথায় চাকরি করে খাচ্ছে! বাথরুমে যেতে যেতে আপনমনে বিড়বিড় করে নমিতা। দিলীপ শুনতে পেলেই আবার হাঁউমাউ শুরু করবে। কি কুক্ষণে যে ওকে নিয়ে মেয়ের শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিল নমিতা। বেয়াই বেয়ানের সামনেই বলে কিনা দিদিকে নিয়ে চলুন! আস্পর্ধা কত! নমিতার পেটের মেয়ে ও বোঝে না মেয়ে ভাল আছে না খারাপ আর তুই কোথাকার আবড়া হাবড়া; একটা কাজ দশবার বললে তবে বুঝিস, তুই অমনি দেখেই বুঝে গেলি! 

    ওখান থেকে ধমক দিয়ে বের করলে কি হবে সারারাস্তা নমিতার মাথা খেতে খেতে এসেছে। কি না দিদির মুখচোখ দেখে ওনার ভয় হচ্ছে দিদি বেশীদিন বাঁচবে না। কই এই তো ছ’বচ্ছর হয়ে গেল দিব্বি ডাটেপাটে আছে। নমিতারই বরং সারাজীবনটা গেল হয় স্বামীর নয় ছেলের মন যুগিয়ে চলতে। এই তো কমাস আগেই ছেলে এসেছিল, সেই নিয়ে গিয়েছিল মেয়ের ওখানে। সেই কদমছাঁট চুল এখন কাঁধ পর্যন্ত ফ্যাশানি কাটিং করে ছেড়ে রেখে, কমদামী কিন্তু বেশ রঙচঙে সালোয়ার কামিজ আর ঝুটো গয়নায় ঝলমল করে অফিস যায়, ঘুরে বেড়ায় মেয়ে। টরটর করে সেখানকার ভাষায় কথা বলে। ছেলে বলেছিল মেয়ের কাছে কয়েকমাস থেকে আসলে ভাল লাগবে। তা নমিতা কিছু বলার আগেই মেয়ে ফট করে বলে দিল ‘নাহ মা’র সাথে আমি আর থাকতে পারবো না।‘ হয়ত সেই সময় দিলীপের কথা শুনে কয়েকদিন বাড়িতে এনে রাখলে ভালই হোত। হয়ত আবার শ্বশুরবাড়িতে যেত। 

    স্বামী নেই, নমিতা একা মেয়েমানুষ, মেয়ে যদি সংসার না করতে পারে সবাই নমিতাকেই দুষত কিনা! শ্বশুরবাড়ির দিকে আত্মীয়স্বজন তো বিশেষ কেউ ছিলই না, স্বামী এক সন্তান ছিলেন। থাকার মধ্যে নমিতার বোনেরা আর তাদের পরিবার পরিজন। তারাও তো আজ কয় বছর হল, কেউই আসে না। বছরে একবার ওই বিজয়াদশমীর পরে পরে ফোনে কথা হয়। তাও সবার সাথে হয় না। এই যে মেয়ে আসত কোর্টের তারিখ পড়লে, কোনোদিন একবার উঁকি মেরেও মা’কে দেখতে আসে নি, এনজিওর ব্যবস্থা করে দেওয়া কোথায় যেন উঠত। পাড়ার লোকে কম জিজ্ঞাসা করেছে? কতরকমের প্রশ্ন তাদের। আর ওই হয়েছে এক দিলীপ! চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে বলে ‘দিদি যা করেছে বেশ করেছে। মরে যেত ওখানে থাকলে’। পাড়ার লোককেও দুমদাম মুখের উপরে বলে দেয়। ওই রাক্ষুসি বৌ এসে আরো মাথায় চড়িয়ে গেছে। এই বৌটাই হয়েছে যত কুবুদ্ধির গোড়া। 

    ওদিকে সুনন্দিনী বাসায় ফিরে আজ  ঝটপট ম্যাগী বানিয়ে নেয়। রাতে আর কিছু লাগবে না। ভুচুম বারান্দায় উঠে আসে। অন্যদিন সুনন্দিনী বারান্দায় বসে ভুচুমের পেট চুলকে দিতে দিতে এটা সেটা গল্প করে। ভুচুম এমনভাবে মাথা  নাড়ায়, পটপট করে ল্যাজটা নাড়ায়, কান খাড়া করে ঘাড় হেলায় মনে হয় সব বুঝতে পারছে। অফিসের দেওয়া ল্যাপটপটা খুলে বসে আজ। ওদের এনজিও স্যুইডেন থেকে একটা গ্রান্ট পেতে পারে। তার জন্য অন্য সব কাগজপত্রের সাথে যে সব মেয়েদের সাহায্য করা হয়েছে তাদের কিছু ‘কামব্যাক স্টোরি’ও লাগবে। সুনন্দিনীকে ডেকে ডিরেকটর বলেছেন ওর গল্প যেন এই ডকুমেন্টে অবশ্যই যায়। প্রথমে ও খুব দ্বিধায় ছিল, ওর কথা কি আর দশজনকে জানানোর মত কিছু! সবাই মিলে ওকে বলে ও এক আশ্চর্য্য মেয়ে, অসাধ্য সাধন করেছে ও। সত্যিই তো, ওর রাস্তা যদি আরো কজনকে রাস্তা দেখায়, অবশ্যই লিখবে ও। নতুন সাদা ওয়ার্ড ডকুমেন্ট খুলে সুনন্দিনী লিখতে শুরু করে...।
     
    # লেখাটি ২০২৫ এর বইমেলায়  জয়ঢাক প্রকাশনীর দ্বাদশ ফিনিক্স বইতে প্রকাশিত। 
     
    ## এটা একজন সাহসী মেয়ের সত্যি গল্প। সেই মেয়ে সাহস করে অত্যাচারী বর, ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসতে পেরেছিল। সে আমাকে তার জীবনের ঘটনা বলে অনুরোধ করেছিল আমি যেন পরিচয় গোপন করে ওর কথা আমার পরিচিত সবাইকে জানাই। পরিচয় গোপনের কারণ ও জেনেছে শর্মাজিদের জাল সারা ভারতে ছড়ানো, তাই ভয় পায়। ভয় পায় সনৎকেও আজও।  আমি মেয়েটির এবং বাকীদের নাম  বাসস্থান বদলে দিলাম। খুব খুশী হব যদি  সুনন্দিনীর কামব্যাক স্টোরি প্রদীপের মত ছুঁয়ে আলো জ্বালাতে পারে ওরই মত মার খাওয়া মেয়েদের জীবনে। 

    মার খেয়ে, শারীরিক মানসিক অত্যাচার সয়ে আবার ঘুরে দাঁড়িতেচগে, জীবনের ঝুঁটি পাকড়ে ধরে নিজের হাতে নিয়েছে জীবনের দায়িত্ব এমন বারোজন সাহসিনীর সত্যি কাহিনী নিয়ে জয়ঢাক থেকে ২০২৫এর বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছিল দ্বাদশ ফিনিক্স বইটি। এই বারোজন ফিনিক্সপাখীর একজন সুনন্দিনী। ও ছাড়াও বাকী এগারোজনের অনেককেই আমি চিনি, জানি তাদের লড়াই, জেদ,  হতাশা, ভাঙতে ভাঙতে কোনরকমে সবটুকু শক্ত জড়ো করে  ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা।  গার্হস্থ্য হিংসার আগুন থেকে বেরিয়ে আসা এই বিজয়িনীদের কাহিনিগুলো ছড়িয়ে যাক বাংলাভাষী মানুষের ঘরে ঘরে। 

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • বাকিসব | ০৭ মার্চ ২০২৬ | ৩৫ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • dc | 2402:3a80:463:da65:50b7:b0a9:197e:***:*** | ০৭ মার্চ ২০২৬ ২০:০৬739007
  • খুব ভালো লাগলো পড়তে, আরও ভালো লাগলো এটা জেনে যে সত্যি ঘটনা। আমি এরকম একজনের কথা জানি, মেদিনিপুরের মেয়ে, বিয়ে করে চেন্নাইতে এসেছিল, স্বামী তাকে বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তারপর চেন্নাইতে একটা ছেলের সাথে আলাপ হয়, সেই ছেলেটার সাথে মেয়েটি পালিয়েছিল। আরও নানান ঘটনা ঘটার পর এখন দুজন মিলে একসাথে আছে। এরকম ঘটনা অনেক হয়, বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই খারাপ হয়, কিন্তু দুয়েক সময়ে ভালো হয়। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। কল্পনাতীত মতামত দিন