তথ্যনিষ্ঠ আলোচনায় রামকৃষ্ণ ও ব্রহ্মানন্দের দৃষ্টিতে নারী।
-------------------------------------------------------------------
রামকৃষ্ণ—"তোমরা উপবাস করে এসেছ কেন ? খেয়ে আসতে হয়।মেয়েরা আমার মার এক একটি রূপ কি না ; তাই তাদের কষ্ট আমি দেখতে পারি না ; জগন্মাতার এক একটি রূপ। খেয়ে আসবে, আনন্দে থাকবে।”
এই বলিয়া শ্ৰীযুক্ত রামলালকে বধূদের বসাইয়া জল খাওয়াইতে আদেশ করিলেন। ফলহারিণী পূজার প্রসাদ, লুচি, নানাবিধ ফল, গ্লাশ ভরিয়া চিনির পানা ও মিষ্টান্নাদি তাঁহারা পাইলেন। ঠাকুর বলিলেন, “তোমরা কিছু খেলে, এখন আমার মনটা শীতল হলো ; আমি মেয়েদের উপবাসী দেখতে পারি না।”
-রামকৃষ্ণ কথামৃত
আজ স্বামী ব্রহ্মানন্দ— শ্রীরামকৃষ্ণদেবের মানসপুত্র, সর্বত্যাগী সন্ন্যাসী, সর্বপূজ্য, সর্বমান্য মহারাজ কী আকুল আগ্রহে, কী অকৃত্রিম স্নেহে, কী অপ্রত্যাশিত যত্নে আমাকে আপনার করিয়া লইলেন! ... মনে হইল— এই কি বাপের স্নেহ, না এ তার চেয়েও বেশি আর কিছু? চোখের জল রাখিতে পারিলাম না— সারা জীবনের আক্ষেপ যেন অশ্রুধারার সঙ্গে সঙ্গে গলিয়া মাটিতে পড়িতে লাগিল! মনে হইল, এই তো জুড়াবার স্থান, এই তো এমন একজন দরদি আছেন— যাঁর কাছে আমি পতিতা নই, অস্পৃশ্যা নই, ঘৃণিতা নই। মহারাজের মেয়ে আমি। স্নেহপূর্ণ করুণাস্বরে মহারাজ বলিলেন, “ঠাকুরকে ডাকো মা, কোনো ভয় নেই— তিনি তো এই জন্যই এসেছিলেন— নাম করো— প্রথমটা দু-দিন একটু কষ্ট হবে, তারপর ঠাকুরই সব ঠিক করে দেবেন— কোনো ভয় নেই মা, কোনো ভয় নেই। দেখবে— বড় আনন্দ হবে, বড় মজা হবে।"
-তারাসুন্দরী দেবী ( তৎকালীন প্রখ্যাত অভিনেত্রী)