এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  ইস্পেশাল  নজরুল-পক্ষ

  • নজরুলের শ্যামাসঙ্গীত: শ্মশানের অন্ধকারে বিদ্রোহের আগুন

    বেবী সাউ
    ইস্পেশাল | ২৬ মে ২০২৬ | ২৯ বার পঠিত
  • নজরুল-পক্ষের আহ্বান | নজরুলের শ্যামাসঙ্গীত | সীমানা : পাঠ
    আজ ১১ই জ্যৈষ্ঠ - নজরুলজয়ন্তী

    অলংকরণ: রমিত


    "কালী কালী’ মন্ত্র জপি ব’সে শোকের ঘোর শ্মশানে।
    মা অভয়ার নাম গুণে শান্তি যদি পাই এ প্রাণে।।
       এই শ্মশানে ঘুমিয়ে আছে
       যে ছিল মোর বুকের কাছে,
    সে হয়ত আবার উঠবে জেগে মা ভবানীর নাম-গানে।।
    সকল সুখ শান্তি আমার নিল হ’রে যে-পাষাণী,
    শূন্য বুকে বন্দী ক’রে রাখব আমি তারেই আনি’।
       মোর, যাহা প্রিয় মাকে দিয়ে
       জাগি আশার দীপ জ্বালিয়ে,
    মা’র সেই চরণের নিলাম শরণ, যে-চরণে মা আঘাত হানে।।"

    বিদ্রোহী নজরুলের সঙ্গে যদি তুলনা করি ভক্ত নজরুলের? যদি মেলাই কঠোর কঠিন হৃদয়ের সঙ্গে নরম তুলতুলে এক শিশুর হৃদয়কে? যদি গর্জে ওঠা সেই ধূমকেতু যুবকটিকে দেখি "পাষাণী" মায়ের কোলে ছোট্ট শিশুর মতো হয়ে আঁকড়ে ধরেন, মেলে ধরেন নিজেকে? তখন মনে হয়, “বিদ্রোহী” কবিতার আগুন আর শ্যামাসঙ্গীতের ধূপধুনো একসঙ্গে সহাবস্থান করতে পারে না। অথচ নজরুলকে সত্যিকারের বুঝতে হলে এই বিভাজনটাকেই ভাঙতে হয়। কারণ তাঁর লিখিত শ্যামাসঙ্গীতগুলোর ভিতরেই তাঁর বিদ্রোহীরূপটি আরও গভীর, অন্ধকার এবং ভয়াবহ রূপে অবস্থান করছে। বিপজ্জনকও বলা যেতে পারে! তাঁর কালী কেবল পূজার মন্দিরের দেবী নন; তিনি অপমানিত মানুষের ক্রোধ, ইতিহাসের বুকে জমে থাকা অন্ধকার, শোষিতের ঘাম ঝরা রক্ত, সাম্যাবস্থার কল্পনা আবার একইসঙ্গে এক অসহায় শিশুর মায়ের কাছে ফিরে আসার আকুল কান্নাও বটে! এই বিভিন্ন সত্ত্বার মধ্য দিয়েই নজরুলের শ্যামাসঙ্গীত বাংলা সংগীতের ইতিহাসে এত অসামান্য হয়ে উঠেছে।

    বাংলা সাহিত্যের কাছে, শাক্তপদের দীর্ঘ ইতিহাস আছে। কালীর সঙ্গে বাঙালির সম্পর্ককে কমলাকান্ত, রামপ্রসাদ সেন এমন অন্তরঙ্গতায় নিয়ে গিয়েছিলেন, তা বাংলা কাব্যে এক বিপ্লবের মতো তো বটেই! কারণ সেসময় ব্রাহ্মণ্যবাদ, মানুষের মনের কু-সংস্কার প্রবলভাবে বিদ্যমান ছিল। আর সেখান থেকেই জন্ম নিয়েছিলেন নজরুলের কালী-ভাবনা। শাক্তপদাবলীর ভাবনা তাঁর শ্যামা-সঙ্গীতে প্রবলভাবে ফুটে উঠেছে। তার সঙ্গে মিশেছে যুগধর্ম, সাম্যবাদী ভাবনা এবং জাত-পাতের গণ্ডি ছাড়িয়ে এক আশ্চর্য গভীর ভক্তিরস। তাঁর কাছে মা কালী দূরের অলৌকিক দেবী নন; বরং বাঙালি সমাজের, সংসারের সাধারণ এক নারী... মা... অভিমান করা যায়, কাঁদা যায়, ঝগড়া করা যায়। পরে আবার মুখ ফুলিয়ে পাষাণী বলে গালিও দেওয়া যায়! এই অম্ল-মধুর সম্পর্ক আমরা রামপ্রসাদের কালীর মধ্যেও পাই। কিন্তু নজরুলের কালী যেন আরও আধুনিক, আরও আবেগের এবং জলজ্যান্ত মানবী-রূপে আমাদের কাছে আবির্ভূত হন। সেই মাতৃভক্তির ভিতরে আরও তীব্র তন্ত্রচেতনা, গভীর আধ্যাত্মিকতা, দার্শনিকতা যোগ জড়িয়ে থাকে!

    "ভক্তি আমার ধূপের মতো
    ঊর্ধ্বে ওঠে অবিরত,
    শিবলোকের দেব-দেউলে
    মা’র শ্রীচরণ পরশিতে।

    অন্তরলোক শুদ্ধ হলো
    পবিত্র সেই ধূপ-সুবাসে,
    ওরে, মা’র হাসিমুখ চিত্তে ভাসে
    চন্দ্রসম নীলাকাশে।"

    সময় নিয়ে যদি ভাবি, তখনও আশ্চর্য লাগে। সেই উত্তাল সময়, যখন দেশভাগ, জাতিদ্বন্দ্ব, পরাধীনতার গ্লানি সমস্ত কিছু ঘিরে রয়েছে এই বাংলার বুকে, নজরুল তখন একের পর এক কালজয়ী শ্যামাসঙ্গীত লিখছেন.... তখন বাংলার আকাশ বদলে গেছে। ঔপনিবেশিক দাসত্ব, শ্রমিক-আন্দোলন, সাম্রাজ্যবাদ, বিপ্লব, কারাবাস, দুর্ভিক্ষ, রাজনৈতিক বিদ্বেষ—সব মিলিয়ে সময় তখন ভিতরে ভিতরে জ্বলছে। ফলে নজরুলের কালীও আর কেবল ভক্তির দেবী হয়ে থাকেন না। তিনি সময়ের নিজস্ব এক বিস্ফোরক শক্তিতে পরিণত হন। নজরুলের কালীকে বোঝার জন্য তাঁর ব্যক্তিগত জীবনটাও জানা জরুরি। দারিদ্র্য, অপমান, কারাবাস, সন্তানের মৃত্যু, স্ত্রীর দীর্ঘ অসুস্থতা—এই সমস্ত অভিজ্ঞতা তাঁকে ভেতর থেকে ছিন্নভিন্ন করে তুলেছিল। তাই হয়ত তাঁর শ্যামাসঙ্গীতগুলো নিছক ধর্মীয় সংগীত হয়ে থাকে নি। এগুলি এক আহত মানুষের আত্মস্বীকারোক্তি হয়ে উঠছিল যেন। অপমান-দুঃখ-কষ্টের সংসারে তিনি যেন আশ্রয় খুঁজছেন চিরশিশু হয়ে। কালী তাঁর মা। অদ্ভুত ব্যাপার, যে মানুষ “আমি চিরবিদ্রোহী বীর” লিখে পৃথিবীকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন, সেই তিনিই আবার কালীর পায়ের কাছে এসে একেবারে শিশুর মতো ভেঙে পড়েন। যেন সমস্ত বিদ্রোহের শেষে মানুষ শেষ পর্যন্ত শুধু মাকেই ডাকে। সমস্ত যুদ্ধ শেষে যেভাবে মানুষ ভাঙা কুঠুরির ভেতর আঁচল পেতে থাকা মায়ের কাছে ফেরে... ঠিক তেমন— “আমার কালো মেয়ের পায়ের তলায় / দেখে যা আলোর নাচন” শুধু ভক্তির নয়, বাংলা সংস্কৃতিরও এক গভীর শেকড়কেও মনে করিয়ে দেয়।

    " আমায়      আঘাত যত হানবি শ্যামা ডাকব তত তোরে।
          মায়ের ভয়ে শিশু যেমন লুকায় মায়ের ক্রোড়ে।।
    ওমা      চারধারে মোর দুখের পাথার
    তুই      পরখ্ কত করবি মা আর,
    আমি      জানি তবু পার হ’ব মা চরণতরী ধ’রে।।
    আমি    ছাড়বো না তোর নামের ধেয়ান বিশ্বভুবন পেলে,
    আমায়    দুঃখ দিয়ে নাম ভুলাবি, নই মা তেমন ছেলে।
          আমায় দুঃখ দেওয়ার ছলে
          তুই স্মরণ করিস পলে পলে,
    আমি      সেই আনন্দে দুখের অসীম-সাগর যাব ত’রে।।"

    ঔপনিবেশিক আধুনিকতা আমাদের শিখিয়েছিল আলো মানেই শুভ্রতা, সৌন্দর্য মানেই উজ্জ্বলতা। নজরুল সেখানে অন্ধকারের ভিতর আলো খুঁজলেন। তাঁর কালী কালো। শ্মশানবাসিনী। ভয়ংকর। কিন্তু সেই ভয়ংকরীর পায়ের নীচেই আলো নাচছে। মুক্তি কখনও নিরাপদ জায়গা থেকে আসে না; তা জন্ম নেয় অন্ধকার, ক্ষত, ধ্বংস আর বিপদের ভিতর থেকে। এইখানেই নজরুলের শ্যামাসঙ্গীতের ভিতর দিয়ে তাঁর সাম্যবাদী চেতনা প্রবেশ করে। তিনি সরাসরি মার্কসবাদী তত্ত্বের ভাষায় কথা বলেননি, কিন্তু তাঁর কালী আসলে ক্ষমতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো মানুষের দেবী। তিনি রাজপ্রাসাদের দেবী নন; তিনি শ্মশানের দেবী। পথের মানুষের দেবী। ভিখারির মা। যে সমাজ ব্রাহ্মণ্যবাদ আর শ্রেণিবিভাগের প্রাচীর তৈরি করেছিল, সেই সমাজের বাইরে দাঁড়িয়ে কালী বরাবরই ছিলেন এক বিপজ্জনক শক্তি। নজরুল সেই শক্তিকেই নতুন ঐতিহাসিক অর্থ দিলেন। তাঁর কালী যেন ঔপনিবেশিক বাংলার জমে থাকা অপমানের ভিতর থেকে উঠে আসা গভীর কালো অগ্নিশিখা।

    “মহাকালের কোলে এসে গৌরী হল মহাকালী”— এখানে সময়চেতনার খোঁজ পাই আমরা। কোমল গৌরীর ভিতরে যে ভয়ংকর মহাকালী লুকিয়ে আছেন, সেটি কেবল পুরাণের কাহিনি নয়; ইতিহাসের পাতা থেকে তুলে আনা হয়েছে যেন। যেন সময় নিজেই শান্তি থেকে তাণ্ডবে রূপান্তরিত হচ্ছে। এই কালী ধ্বংস করেন এবং আমরা জানি, পুরাতনের ধ্বংস ছাড়া নতুন পৃথিবী জন্মাবে না। এই ভাবনা তাঁর বিদ্রোহী সত্তার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের ঈশ্বর অনেক বেশি আলোর, ধ্যানের, শান্তির! কিন্তু নজরুলের কালী উঠে আসেন অন্ধকার থেকে। তাঁর চারপাশে শ্মশানের আগুন, ডমরুর শব্দ, করোটির মালা, রক্তমাখা জিভ। এই ভয়ংকর দৃশ্যের ভিতর দিয়েই নজরুল মুক্তির স্বপ্ন দেখেন। কারণ তিনি জানতেন, সভ্যতার সমস্ত সৌন্দর্যের নীচে জমে থাকে হিংসা, দাসত্ব, অপমান থেকে মুক্তি পেতে হলে খড়্গের আঘাতে ছিন্নভিন্ন করতে হবে সেই শেকলকে। আবার সেই অন্ধকারকে স্বীকার না করলে মুক্তিও সম্ভব নয়। তাঁর বহু শ্যামাসঙ্গীতে যুদ্ধের চিত্র আছে। “রণে নেমেছে রে কার বামা”, “দিগম্বরী এলোকেশী”, “শ্মশানে জাগিছে শ্যামা”—এই গানগুলির ভেতরে লুকিয়ে আছে গভীর দর্শন যেমন তেমনি ছন্দ, ভাষা মাধুর্য। রণং দেহি ভাব ইত্যাদি মিলিয়ে আশ্চর্য এক ইমেজের জন্ম দেয়। ফলে তা শুধু নিছক ধর্মীয় উন্মাদনা হয়ে থাকে না, বরং আরও গভীর হয়ে মনের ভেতর দাগ কাটে। মনে হয় যেন ভারতের সেই উত্তাল, রাজনৈতিক সময় নিজেই নিজের ভাষা খুঁজছে। তাঁর কালী এখানে মৃত্যু কিংবা ধ্বংসের দেবী নন; ইতিহাস ভেদ করে জন্ম নেওয়া গতির দেবী। পুরনো পৃথিবীকে ভেঙে নতুন পৃথিবীর জন্য জায়গা করে দিচ্ছেন তিনি।অথচ এই ভয়ংকরীর মধ্যেই আবার অদ্ভুত কোমলতা আছে। আছে মাতৃরূপ। আশ্রয়। ব্যাকুল দ্বিধাগ্রস্থ মানুষ আকুল-ব্যাকুল হয়ে তাঁর কাছে এসে শান্তির প্রশান্তি খুঁজে ফেরে।

    "আমার অহঙ্কারের মূল কেটে দে কাঠুরিয়ার মেয়ে,
    কত নিরস তরু হ'ল মঞ্জুরিত তোর চরণ-পরশ পেয়ে।।
    রোদে পুড়ে জলে ভিজে মা দিয়েছি ফুল ফল
    শাখায় আমার, নীড় বেঁধেছে বিহঙ্গের দল।
    বটের মত সারা দেহ মাগো মায়ার জটে আছে ছেয়ে।।
    ও মা মূল আছে তাই বৈতরণীর কূলে আছি পড়ি
    নইলে হ'তাম খেয়াঘাটের পারাপারের তরী।
          তুই খড়গের ভয় দেখাস মিছে
          মুক্তি আছে এরি পিছে মাগো
    তোর হাসির বাঁশি শুনতে পাবো অসির আঘাত খেয়ে।।"

    নজরুলের ভক্তি কখনও গদগদ নয়। বরং তার মধ্যে এক গভীর মানবিক ভাঙন কাজ করে। তাঁর বহু গানে মনে হয়, মানুষটি আর কোথাও আশ্রয় পাচ্ছেন না। তাই শেষ পর্যন্ত কালীর কাছেই ফিরে আসছেন। এই জায়গাটাই তাঁকে রামপ্রসাদ থেকে আলাদা করে। রামপ্রসাদের ভক্তি অনেক বেশি অন্তর্মুখী; নজরুলের ভক্তি ইতিহাসের দগদগে ক্ষতের ভিতর দিয়ে তৈরি। নজরুলের শ্যামাসঙ্গীতের আরেকটি বড় দিক তার সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ। একজন মুসলমান কবি হয়ে তিনি কালীর গান লিখছেন—এই ঘটনাটাই আজকের সময়েও রাজনৈতিক। কারণ তাঁর কাছে ধর্ম কোনো প্রাচীর নয়; বরং মানুষের মুক্তির ভিন্ন ভিন্ন ভাষা। তাঁর আল্লাহ ও কালী একে অপরের শত্রু নন। তাঁরা মানবিকতার প্রতীক হয়ে ওঠেন। তাঁর কালী আমাদের বলেন অন্ধকারকে ভয় না পেয়ে তার ভিতর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার কথা। মুক্তির দরজা আলোয় নয়, ঝড়-ঝঞ্ঝা, অন্ধকারেই খুলে যায়।

    বর্তমানের বিষাক্ত সাম্প্রদায়িক সময়ের দিকে তাকালে নজরুলের এই অবস্থান আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাঁর সুরের ভুবনও বিস্ময়কর। শাস্ত্রীয় রাগ, কীর্তন, লোকসংগীত, মার্শাল রিদম, ইসলামী সুরধ্বনি—সবকিছু মিশিয়ে তিনি এমন এক সংগীতভাষা তৈরি করেছিলেন, যার আগে বাংলা সঙ্গীত জগৎ পায়নি। তাঁর গানের মধ্যে যেমন ভৈরবীর ধ্যান আছে, তেমনই আছে সৈনিকের পদশব্দ। আবার তাঁর ভাষা—সংস্কৃত, আরবি, ফারসি, লোকভাষা—সব মিলিয়ে যেন বিশ্ব তথা ভারতের বহুসংস্কৃতিকে তুলে ধরতে সক্ষম হয়। নজরুল নারীকে শুধু মাতৃত্বের প্রতীক হিসেবে দেখেননি। শক্তির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর কালী পিতৃতান্ত্রিক ভদ্রসমাজের অনুগত নারী নন। তিনি এলোকেশী, দিগম্বরী, ভয়ংকরী। এই কালী সভ্যতার ভদ্র মুখোশ ছিঁড়ে ফেলেন। ফলে তাঁর শ্যামাসঙ্গীতের ভিতরে নারীশক্তির এক গোপন রাজনৈতিক পাঠও আছে। তন্ত্রসাধনার প্রভাব তাঁর বহু গানে ছড়িয়ে আছে। শ্মশান, করোটি, নিশা, রক্ত—এই সমস্ত প্রতীক তিনি নিছক অলংকার হিসেবে ব্যবহার করেননি। এগুলি আসলে তাঁর অস্তিত্বচেতনার অংশ। মৃত্যু তাঁর কাছে শেষ নয়; রূপান্তর। তাই তাঁর কালী ভয় দেখান না, বরং ভয়কে অতিক্রম করতে শেখান। আজকের সময়েও নজরুলের শ্যামাসঙ্গীত এত জীবন্ত থাকার কারণ সম্ভবত এইখানেই। আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করছি, যেখানে মানুষ ক্রমশ একা, আতঙ্কিত, বিভক্ত হয়ে পড়ছে। ধর্ম মানুষকে মুক্ত না করে অনেক সময় আরও সংকীর্ণ করে তুলছে। রাজনীতি মানুষের ভিতরে ঘৃণা তৈরি করছে। এই সময় দাঁড়িয়ে নজরুলের কালী এক জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে দাঁড়ান। অন্ধকারকে অস্বীকার করে মুক্তি আসে না। ভয়কে চোখের দিকে তাকাতে হয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হয়। আবার সমস্ত যুদ্ধের শেষে মানুষকে মায়ের কাছেই ফিরে আসতে হয়। এই কারণেই নজরুলের শ্যামাসঙ্গীত কেবল ধর্মীয় সংগীত নয়; বাংলা সংস্কৃতির ভিতরে জমে থাকা বিদ্রোহ, বেদনা, প্রেম, আধ্যাত্মিকতা ও সাম্যের এক দুর্লভ শিল্পরূপ। তাঁর কালী কখনও মহাশ্মশানের আগুন, কখনও বিপ্লবীর হাতে ওঠা খড়্গ, কখনও নিঃস্ব মানুষের আশ্রয়, কখনও আহত সন্তানের মা। এই বহুরূপী অন্ধকারের ভিতর দিয়েই নজরুল বাংলা সাহিত্যজগতকে এক অভূতপূর্ব আধুনিকতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। নজরুলকে নিয়ে সবচেয়ে বড় ভুলগুলির একটি হল তাঁকে কেবল আবেগের কবি হিসেবে দেখা। যেন তিনি উচ্চকিত, বিদ্রোহী, বিস্ফোরণ, উচ্ছ্বাস। অথচ তাঁর শ্যামাসঙ্গীত মন দিয়ে পড়লে বোঝা যায়, এই আগুনের নীচে এক গভীর দার্শনিকবোধ কাজ করছে। তিনি শুধু ভক্ত নন, শুধু বিপ্লবীও নন; তিনি মূলত এক অস্তিত্বসচেতন মানুষ। ফলে তাঁর কালীও নিছক ধর্মীয় প্রতীক হয়ে থাকেন না। তিনি জীবন ও মৃত্যুর মাঝখানের সেই অন্ধকার অঞ্চল, যেখানে দাঁড়িয়ে মানুষ নিজের মুখোমুখি হয়। এই জায়গাটাই নজরুলকে আধুনিক করে তোলে। আর আমরা জানি, আধুনিকতার সবচেয়ে বড় অভিজ্ঞতা হল বিচ্ছিন্নতা। মানুষ ক্রমশ ঈশ্বর, সমাজ, প্রকৃতি— সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। ঔপনিবেশিক নগরসভ্যতা সেই বিচ্ছিন্নতাকে আরও তীব্র করে করেছিল। বিভ্রান্তময় সমাজ, রাজনৈতিক দমন, অর্থনৈতিক বৈষম্য, সাংস্কৃতিক অপমান— সব মিলিয়ে মানুষ তখন ভিতরে ভিতরে এক ভয়াবহ শূন্যতার মধ্যে বাস করছে। নজরুল সেই শূন্যতাকে সরাসরি দেখেছিলেন। তাঁর শ্যামাসঙ্গীত সেই কারণেই এমনভাবে ব্যথাতুর হৃদয়ের আশ্রয় হয়ে ওঠে। সেখানে ভক্তি আছে, কিন্তু সেই ভক্তি শান্ত নয়; বরং আহত। সেখানে প্রেম আছে, কিন্তু সেই প্রেমের মধ্যে ধ্বংসের ছায়া লেগে আছে। তাঁর বহু গানে এমনও মনে হয়, যেন সমস্ত সভ্যতার ভাঙনের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি একা, নিঃস্ব, নিস্তব্ধ। চারপাশে ইতিহাসের ধুলো উড়ছে। সাম্রাজ্যবাদ মানুষের আত্মমর্যাদা কেড়ে নিয়েছে। ধর্ম মানুষকে বিভক্ত করছে। সমাজ মানুষকে ছোট করছে। সেই অবস্থায় কালী তাঁর কাছে হয়ে ওঠেন এক চূড়ান্ত আশ্রয়। কিন্তু এই আশ্রয় নিরাপদ নয়। কারণ নজরুলের কালী আদুরে দেবী নন। তিনি ভয়ংকর। তিনি মানুষকে বদলে দেন। তাঁর কাছে গেলে আগের মানুষ হয়ে ফিরে আসা যায় না।

    "আমায় যারা দেয় মা ব্যথা আমায় যারা আঘাত করে,
          তোরই ইচ্ছায় ইচ্ছাময়ী!
    আমায় যারা ভালবাসে বন্ধু ব’লে বক্ষে ধরে, -
          তোরই ইচ্ছায় ইচ্ছাময়ী!!
          আমার আপমান করে যে
          মাগো তোরই ইচ্ছা সে যে
    আমায় যারা যায় মা ত্যেজে যারা আমার আসে ঘরে,
          তোরই ইচ্ছায় ইচ্ছাময়ী॥
    আমার ক্ষতি করতে পারে অন্য লোকের সাধ্য কি মা;
    দুঃখ যা পাই তোরই সে দান, মাগো সবই তোর মহিমা!
          তাই পায়ে কেহ দলে যবে
          হেসে সয়ে যাই নীরবে,
    কে কারে দুখ্ দেয় মা কবে তোর আদেশ না পেলে পরে
    তোরই ইচ্ছায় ইচ্ছাময়ী!!"

    তাঁর রচিত শ্যামাসঙ্গীতগুলোয় তন্ত্রচেতনার গুরুত্বও উপলব্ধি হয়। বাংলার শাক্তধর্মের ভিতরে বরাবরই একটা অ্যান্টি-এস্টাবলিশমেন্ট সুর ছিল। ব্রাহ্মণ্য শুচিবায়ুর বিপরীতে শ্মশান, রাত্রি, রক্ত, করোটি, নিশাচর প্রতীক... এসব যেন সভ্যতার প্রান্তিক অন্ধকারকে আধ্যাত্মিক মর্যাদা দেয়। নজরুল এই তন্ত্রচেতনাকে আধুনিক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অর্থে ব্যবহার করেছিলেন। তাঁর কালী সেই সমস্ত শক্তির প্রতিনিধি, যাদের সভ্যতা ভয় পায়। তাই তাঁর গানে শ্মশান বারবার ফিরে আসে। শ্মশান শুধু মৃত্যুর জায়গা নয়; এটি এক মহাসাম্যের ভূগোলরূপে অবস্থান করে। সেখানে রাজা ও ভিখারি এক হয়ে যায়। শরীরের সমস্ত অহংকার পুড়ে ছাই হয়ে যায়। বর্তমান পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে এই শ্মশান-চেতনা নতুন অর্থ পায়। কারণ আজকের সভ্যতা ক্রমাগত বৈষম্য তৈরি করছে। ধনী আরও ধনী হচ্ছে, ক্ষমতাবান আরও ক্ষমতাবান। মানুষের মধ্যে বিভাজন বাড়ছে। সেই সময়ে নজরুলের কালী যেন আবার মনে করিয়ে দেন—শেষ পর্যন্ত মৃত্যু সমস্ত শ্রেণিবিভাগ ভেঙে দেয়। এই কারণেই তাঁর শ্যামাসঙ্গীতের ভিতরে সাম্যবাদী চেতনা এত গভীরভাবে কাজ করে। কিন্তু এটি দলীয় রাজনীতির সাম্যবাদ নয়। বরং মানুষের অস্তিত্বগত সমতার ধারণা। তিনি জানতেন, যে সভ্যতা মানুষকে অপমান করে, জর্জরিত করে, কষ্ট দেয়, তাকে ধ্বংস করতেই হবে। তাঁর কালী সেই ধ্বংসের শক্তি। আবার সেই ধ্বংসের ভিতর দিয়েই নতুন পৃথিবীর সম্ভাবনাও জন্ম নেয়।

    নজরুলের শ্যামাসঙ্গীতকে যদি মন দিয়ে শোনা যায়, তবে বোঝা যাবে সেখানে এক অদ্ভুত শব্দনাট্য কাজ করছে। “ডমরু গুরু গুরু”, “খড়্গ ঝনন ঝন”, “রণরঙ্গিণী”, “দিগম্বরী”—এই শব্দগুলি কেবল অর্থ বহন করে না; তারা শরীরে আঘাত করে। তাঁর গানের ধ্বনি যেন তাণ্ডবের ছন্দ তৈরি করে। মনে হয়, ভাষা নিজেই বিস্ফোরিত হচ্ছে। এই ধ্বনিচেতনা বাংলা গানে একেবারে নতুন ছিল। একইসঙ্গে তাঁর গানে গভীর লোকজ সুরও আছে। এই দিকটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নজরুল কখনও কেবল উচ্চাঙ্গ সংস্কৃতির কবি ছিলেন না। তিনি পথের মানুষের ভাষা শুনেছেন। লেটো গান, কীর্তন, বাউল, ইসলামী সুর, সৈনিকদের মার্চিং রিদম—সবকিছু তাঁর ভিতরে মিশে গিয়েছিল। ফলে তাঁর শ্যামাসঙ্গীতও অভিজাতদের ভক্তির সংগীত হয়ে ওঠেনি। বরং তা হয়ে উঠেছে জনতার সংগীত। এইখানে তাঁর সাংস্কৃতিক বিপ্লব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলা সাহিত্যে দীর্ঘদিন ধরে শুদ্ধতার এক ধারণা তৈরি হয়েছিল। ভাষা, ধর্ম, সংগীত— সবকিছুকে আলাদা আলাদা খোপে রাখা হয়েছিল। নজরুল সেই বিভাজন ভেঙে দেন। তাঁর ভাষায় যেমন সংস্কৃত শব্দ আছে, তেমনই আরবি-ফারসি শব্দও সহজভাবে সহজাত অর্থ নিয়ে এসেছে। তাঁর সুরে রাগসংগীত আছে, কাওয়ালির দোলাচল আছে। তাঁর কালী শাক্ততত্ত্বের দেবী, উপনিবেশিত মানুষের বিদ্রোহী শক্তিও। ফলে তাঁর শ্যামাসঙ্গীত বাংলা সংস্কৃতির বহুত্ববাদী আত্মার এক দুর্লভ দলিল। আজকের সময় দাঁড়িয়ে এই জায়গাটাই সবচেয়ে বেশি জরুরি। কারণ আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যেখানে সংস্কৃতিকে ক্রমাগত সংকীর্ণ করে ফেলা হচ্ছে। ধর্মকে পরিণত করা হচ্ছে পরিচয়ের অস্ত্রে। মানুষকে শেখানো হচ্ছে, তার ইতিহাস একরৈখিক, তার সংস্কৃতি বিশুদ্ধ, তার পরিচয় একমাত্রিক। নজরুলের শ্যামাসঙ্গীত এই ধারণার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। একজন মুসলমান কবি কালীর গান লিখছেন—এটি কেবল সাহিত্যিক ঘটনা নয়; এটি রাজনৈতিকও। এটি মনে করিয়ে দেয় যে বাংলা শুধু একরৈখিক সংস্কৃতি নয়। শক-হূণ-পাঠান-মোঘল-বৌদ্ধ-শিখ-দ্রাবিড়-অস্ট্রিক সবার মিশ্রিত রূপ নিয়ে সাম্যাবস্থার আদানপ্রদান আছে।

    এই কারণেই নজরুলের কালী এত সমকালীন। তিনি কোনো নিরাপদ দেবী নন। তাঁকে রাষ্ট্র ব্যবহার করতে পারে না, ভদ্রসমাজ সহজে গ্রহণ করতে পারে না। তিনি বিপজ্জনক। তিনি সভ্যতার মুখোশ খুলে দেন। তিনি মনে করিয়ে দেন যে সমস্ত ভদ্রতার নীচে জমে থাকে আসলেই হিংসা, লোভ, ক্ষমতার লালসা। অথচ একইসঙ্গে তাঁর মধ্যে অসীম মমতাও আছে। এই দ্বৈত সত্তা শ্যামাসংগীতগুলোকে আরও সচেতন সাহিত্য করে তুলেছে। নজরুলের কালী খড়্গ হাতে তাণ্ডব করেন, আবার তিনিই আহত মানুষের মাথায় হাত রাখেন। তিনি দরকারে ধ্বংসের খড়্গতুলে ধরেন, স্নেহময়ী জননীর মতো মাতৃক্রোড়ও বিছিয়ে দেন। তিনি জীবন্ত। স্বাভাবিক এবং চিরন্তন বাঙালি মাতৃরূপ! দরকারে নিষ্ঠুর, কিন্তু করুণাময়ও। সম্ভবত এই কারণেই নজরুলের শ্যামাসঙ্গীত এখনও মানুষের মনকে এত গভীরভাবে ছুঁয়ে যায়। ধর্মের গণ্ডি অতিক্রম করে মানুষের ভয়, আকাঙ্ক্ষা, ক্রোধ, প্রেম, অপমান এবং মুক্তির গান হয়ে ওঠে। বাংলা সংগীতের ইতিহাসে অনেক ভক্তিগীতি লেখা হয়েছে। তাও একেকবার মনে হয়, নজরুলের শ্যামাসঙ্গীতের মতো এতটা শারীরিক, জ্যান্ত, রাজনৈতিক, বিপজ্জনক, বিদ্রোহী এবং একইসঙ্গে মানবিকগুণ সমৃদ্ধ সংগীত খুব কমই আছে।


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
    নজরুল-পক্ষের আহ্বান | নজরুলের শ্যামাসঙ্গীত | সীমানা : পাঠ
  • ইস্পেশাল | ২৬ মে ২০২৬ | ২৯ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে প্রতিক্রিয়া দিন