

অলংকরণ: রমিত
নদীয়ার কালিগঞ্জে দলীয় বৈঠক চলাকালীন কৃষ্ণনগর লোকসভার সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে লক্ষ্য করে বিজেপির গেরুয়া বাহিনী সংগঠিত সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। সাংসদের সামাজিক মাধ্যমের হ্যান্ডেলে আমরা প্রায় ৪ ঘণ্টা ধরে এই তান্ডব প্রত্যক্ষ করলাম কীভাবে বিজেপির গুন্ডাবাহিনী দলীয় পতাকা নিয়ে সমবেতভাবে হামলা চালানোর বন্দোবস্ত করেছিল। পুলিশ প্রশাসনের একটি গাড়ি খবর দেওয়ার অনেক পর অকুস্থলে পৌঁছয়। উপস্থিত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা ওই গুন্ডাদের উন্মত্ত ভীড়কে সরিয়ে দেওয়ার কোন চেষ্টা না করে কাঠের পুতুলের মতো আচরণ করে। যা স্পষ্ট করে দেয় যে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব ও পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশ মেনেই কোনরকম হস্তক্ষেপ থেকে পুলিশকে বিরত রাখা হয়েছে।
মহুয়া মৈত্রের সামাজিক মাধ্যমের পোষ্টগুলো এবং এক্স হ্যান্ডেলের পোস্টগুলো যদি পরপর দেখা যায়, তাহলে দেখা যাবে এই মহিলা সাংসদ চিৎকার করছেন, যে তিনি আক্রান্ত। তিনি যে জায়গায় তাঁর দলীয় কর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলেন, সেই ঘরটা জাতীয় সড়কের ওপরে একটি বাড়ির তৃতীয় তলায়। তাঁর ফেসবুক লাইভ থেকে দেখা যাচ্ছিল, যে ঐ ঘরের জানলার বাইরে একদল মানুষ জড়ো হয়েছেন এবং তাঁরাই উস্কানি দিচ্ছে। তাঁদের মুখে সেই কুখ্যাত কিংবা বিখ্যাত ‘জয় শ্রী রাম’ শ্লোগান এবং কারো কারো হাতে বিজেপির পতাকা। তাঁরাই ঐ ৩ তলার ঘর লক্ষ্য করে ডিম এবং পচা সব্জি ছুঁড়ছেন, আর মহুয়া মৈত্র ঐ পরিস্থিতিতে ফেসবুক লাইভে নাম ধরে পুলিশের উচ্চ পদস্থ আধিকারিক, বিজেপির জাতীয় সভাপতি, লোকসভার স্পীকারের নাম ধরে ধরে বলছেন। প্রশ্ন করছেন একজন বিরোধী দলের মহিলা সাংসদের উদ্দেশ্যে কি এই ধরনের আচরণ করা যায়? প্রায় ৪ ঘণ্টা ধরে এই তান্ডব সারা দেশ শুধু নয়, সারা বিশ্ব দেখেছে অথচ আমাদের গোদী মিডিয়া এই ঘটনার বর্ণনা করার সময়ে শিরোনাম লিখেছে, ‘জনরোষের শিকার মহুয়া মৈত্র’। বিষয়টা এখানেই থামেনি। সেই গোদী মিডিয়ার চ্যানেলের পোষ্টে গিয়ে মহুয়া আবারও লিখেছেন, ‘আপনারা এটাকে জনরোষ বলে চালাতে চাইলেও, বিষয়টা পরিকল্পিত সন্ত্রাস’ তিনি আরও লিখেছেন যে এই পরিকল্পিত সন্ত্রাসের কাছে তিনি মাথা নোয়াবেন না। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন বিদেশী খবরের চ্যানেলগুলো যেমন বিবিসি, আলজাজিরা, নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং দি গার্ডিয়ানকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, যে ভারতে একজন মহিলা বিরোধী দলের সাংসদকে কী করে হেনস্থা করা হচ্ছে, তাঁরা যেন দেখে এবং খবর করে।
এই ঘটনা সারা বিশ্বের সামনে বাংলার মাথা আরো নীচু করে দিলেও, বিজেপির রাজ্য সভাপতি তাঁর স্বভাবসিদ্ধ তাচ্ছিল্য সহকারে এই ঘটনাকে তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব বলে চালানোর চেষ্টা করেছেন। একজন মহিলা সাংসদ কে এইভাবে হেনস্থা করার চেষ্টা তার কাছে অসুবিধার মনে হয়নি। তাঁর কথা অনুযায়ী, কেউ পকেটে ডিম নিয়ে ঘুরছেন কি না, পুলিশের পক্ষে কি জানা সম্ভব? মেটাল ডিটেক্টর আবিষ্কৃত হলেও, কোনও ডিম ডিটেক্টর এখনও পাওয়া যায়নি, সেইজন্য নাকি এই ধরনের আক্রমণ বন্ধ করা যাচ্ছে না। যেখানে একটি ডিমের দাম বাজারে এখন ৮ টাকা, সেখানে মানুষের হাতে এত ডিম যদি থাকে ছোঁড়ার জন্য তাহলে তো বলতে হয়, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময়ে মানুষের আর্থিক অবস্থা বেশ সচল ছিল। কারণ এখনো তো এই সরকার ১.৩০ কোটি মহিলাকে সবে অন্নপূর্ণা যোজনার প্রতিশ্রুত ৩০০০ টাকা দিয়েছে। আগের সরকারের অসংখ্য মহিলাই নানান কারণে বাদ পড়েছেন। তাহলে মানুষ এত ডিম কিনছে কী করে? আবার যখন সেই মানুষদের হাতে আবার বিজেপির দলীয় পতাকা দেখা যাচ্ছে, সেই লোকগুলোও নিশ্চিত নতুন বিজেপি, তাহলে তাঁদের চিহ্নিত করাটা যেমন পুলিশের কাজ, তেমন তো সেটা বিজেপির রাজ্য সভাপতিরও কাজ। তা না করতে পারলে, তিনি তো ব্যর্থ হিসেবেই চিহ্নিত হবেন। বুঝতে হবে তিনি বিজেপির তৃণমূলীকরণ আটকাতে পারছেন না। নাকি সচেতনভাবেই এটা করা হচ্ছে, যাঁরা বিজেপির কাছে মাথা নোয়াবে না, তাঁদের হেনস্থা করা হবে আর কাকলি ঘোষ দস্তিদার, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, জুন মালিয়া বা সায়নি ঘোষদের মত যাঁরা মাথা নুইয়ে দিচ্ছেন, তাঁদের ওপর কোনও আক্রমণ হবে না। এই অলিখিত নির্দেশ দেওয়া আছে।
আজকের সময়ে বিরোধী রাজনীতিবিদ বা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের দিকে ডিম ছুড়ে মারা হলে, তাঁদের সহযোগীরা কখনও কখনও নাটকীয়ভাবে হামলাকারীদের নাৎসি আমলের সঙ্গে তুলনা করছেন। বক্তব্য বা বয়ানটি এমনভাবে সাজানো হচ্ছে যাতে এই ঘটনাকে নিছক দুর্বৃত্তপনা হিসেবে নয়, বরং রাজনৈতিক ভীতি প্রদর্শন, রাজপথে সহিংসতা এবং ১৯৩০-এর দশকের জার্মানির কথা মনে করিয়ে দেয় এমন এক বাকস্বাধীনতা দমনের ঘটনা হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। যদিও আজকের বাংলার শাসকদল বিষয়টা মানতে রাজি নয়, তাঁরা বলছে এটা মানুষের স্বতঃস্ফুর্ত জনরোষ, কিন্তু আদপে কি বিষয়টা তাই?
বাংলার বিধানসভায় সদ্য পাশ হয়েছে বিজেপির আনা কুখ্যাত গুন্ডাদমন বিল। যেখানে যে কোনো কল্পিত 'গুন্ডামির' অভিযোগে যে কোন নাগরিককে গ্রেপ্তার করে বিনা বিচারে এক বছর জেলবন্দী করার আইনি স্বীকৃতি রাখা আছে। অন্যদিকে, পূর্বতন শাসক, বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীকে ডিম ছুঁড়ে সামূহিকভাবে প্রকাশ্যে হেনস্থা ও আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। আর বিজেপির সভাপতি এই ডিম্বাঘাত সংস্কৃতির প্রসঙ্গে মিঠে সুভাষিত প্রচার করে চলেছেন। এই ক্রমবর্ধমান গেরুয়া সন্ত্রাসের রাজনীতির প্রতিবাদ না জানালে আগামীদিনে কিন্তু এই আগুনে অনেককেই পুড়তে হতে পারে। যাঁরা নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করছেন তাঁরাও যে আক্রান্ত হবেন না, তা নিশ্চয়তা আছে কি? ঐ হামলাবাজদের ও তাদের সরাসরি উস্কানিদাতাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহনের জোরালো দাবি জ্জানানো উচিৎ সকল রাজনৈতিক দলের। তার জন্য তাঁকে তৃণমূলের সমর্থক হতে হবে না। গণতন্ত্রের স্বার্থেই এটা করা উচিৎ। সামাজিক মাধ্যমে হয়ত তা হচ্ছেও, কিন্তু শুধু বিবৃতি দিয়ে হবে না, এই বিষয়টা নিয়ে বেশী বেশী করে কথা বলার প্রয়োজন এবং তা কোনও ‘কিন্তু, এবং বা পর্যন্ত’ না ব্যবহার করেই বলতে হবে। ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের শ্লোগান ছিল ‘বদলা নয়, বদল চাই’, তা সত্ত্বেও নানান জায়গায় বামপন্থী কর্মীদের ওপর আক্রমণ হয়েছে এবং তা চূড়ান্ত সমালোচিতও হয়েছে। কিন্তু আজকে যখন কেন্দ্রে রাজ্যে একই দলের সরকার, তখন না কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা আসছে, না স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিনিধিরা আসছেন। বিষয়টা যেন ‘নিউ নরমাল’ বলে মেনে নেওয়া হচ্ছে। সবচেয়ে খারাপ প্রচলিত গণমাধ্যমগুলোর ভূমিকা। তাঁরা ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার বদলে বিরোধী দলের অন্তর্দ্বন্দ্ব নিয়েই ভাবিত বেশী মনে হচ্ছে।
মনে পড়ে যাচ্ছে গুজরাটের কথা। ভারতের প্রাক্তন সংসদ সদস্য এহসান জাফরিকে উত্তেজিত হিন্দু জনতা তাঁর বাড়ি থেকে টেনে বের করে নৃশংসভাবে মারধর করে এবং পুড়িয়ে হত্যা করে। গুজরাটের আহমেদাবাদে গুলবার্গ সোসাইটি হত্যাকাণ্ডের সময় ২০০২ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি তাঁর এই মৃত্যু ঘটে। সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক গঠিত একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) পরবর্তীতে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, বাড়ির বাইরে সমবেত ভিড়ের দিকে আত্মরক্ষার্থে জাফরি তাঁর রিভলবার থেকে গুলি চালানোর পরই সহিংসতা তীব্র আকার ধারণ করে এবং জনতা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। উদ্ধারের জন্য পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে বারবার ফোন করা সত্ত্বেও কোনো সাহায্য না আসায় শেষ পর্যন্ত তাঁর এবং আরও ৬৮ জন বাসিন্দার মৃত্যু ঘটে। বাংলায় মহুয়া মৈত্রের সঙ্গে যা হয়েছে, তা যেন সেদিনের গুজরাটের ঐ নৃশংস ঘটনার একটা ছোট্ট অংশ। আগামীদিনে যে এই ঘটনা অন্য বিরোধী দলের ক্ষেত্রে বা যাঁরাই বিজেপি বিরোধী, তাঁদের বিরুদ্ধে হবে না, কে বলতে পারে?
জনগণ তৃণমূলকে হারিয়েছে তাদের বহু সদস্যের বিপুল চুরি আর তোলাবাজির জন্য। অনেক বিধায়ক ও কাউন্সিলার এক শ্রেণীর সমাজ বিরোধীদের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন, সেই জন্যেই তাঁরা আজ পরাজিত। গত নির্বাচন যদি তাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনরায় হয়ে থাকে, তাহলে ওই তৃণমূলের সবচেয়ে বড় বড় রাঘব বোয়ালরা ও মস্তানেরা এখনও কীভাবে দিব্যি তাদের কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে? এদের মধ্যে অনেকে বিশাল অঙ্কের টাকা নিয়ে অসাধু প্রমোটারদের প্রচুর বেআইনি বাড়ির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। কোনও শাস্তি তো হচ্ছে না। তাঁদের কাউকে কাউকে বর্তমান শাসকদলের বিধায়ক-মন্ত্রীদের আশেপাশে দেখা যাচ্ছে কেন? তাঁরা কি বিজেপির বি টিম গঠন করে হঠাৎ ধপধপে সাদা হয়ে গিয়েছেন? এর জন্যে কি কোনো অ্যাডমিশন ফিস দিতে হয়েছে? বাজারে কত রকমের কত কথা শোনা যাচ্ছে। বিজেপি কি বুঝতে পারছে না যে এঁদের সঙ্গে রফা করে তারা জনাদেশকে অপমান করছে ?তাঁদের রাজ্য সভাপতির কথা অনুযায়ী এরা সবাই তৃণমূল, যাঁরা মহুয়া মৈত্রকে আক্রমণ করতে গিয়েছিল, তাহলে তাঁদের গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশকে কিছু কেন বলছে না সরকার, সেটা তো রাজ্য সভাপতি বলতে পারেন। অবশ্য তাঁর একটা যুক্তি আছে, এই সরকারকে কোনও নির্দেশ দিতে তিনি পারেন না, তিনি তাঁর দলকে নির্দেশ দিতে পারেন। অবশ্যই ঠিক বলেছেন, তাহলে সেটাই তিনি করুন, না হলে তাঁর সুললিত গলায় গম্ভীর ভাষণের তো কোনও মূল্যই থাকছে না। অনেকেই উচ্ছসিত হচ্ছিলেন যখন তৃণমূলের নেতা মন্ত্রীদের ডিম ছুঁড়ে মারা হচ্ছিল। বহু সিপিআইএম কর্মী খুব উল্লাসিত হচ্ছিলেন। বেশিদিন হয়নি এখন দেখা যাচ্ছে মীনাক্ষী মুখার্জির দিকেও ওই ডিম এবং পাথর তেড়ে আসছে। আসলে জনরোষের নামে বিজেপির পরিকল্পিত মবতন্ত্র কখন যে বিরোধীদের মুখ বন্ধ করার জন্য ব্যবহৃত হবে তা বোঝা যাবে না। মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ তো সরাসরি হুমকি দিয়েছেন, এবার বুদ্ধিজীবি ও কমিউনিষ্টদের ওপর ডিম ছুঁড়তে হবে। সে তো হবেই, ওঁদের যে কোনও বুদ্ধিজীবি নেই, তা না বলে দিলেও চলত। তবে বিষয়টা মোটেও আর হাসি ঠাট্টার পর্যায়ে নেই। বিষয়টা ক্রমশ জটিল হচ্ছে। সেই জন্যই এই ডিম ছোড়ার এবং এই মবতন্ত্রের বিরোধিতা করতে হবে।
কবীর সুমন এক সময়ে একটা গান লিখেছিলেন ‘একখানা ইঁট যদি পাওয়া যেত, নোংরা মুখখানা করতাম থেঁত, ভাবতে ভাবতে গেল একজন, ক্ষত বিক্ষত ছেলেটার কাছে, যেন দু’জনের শ্ত্রুতা আছে... দেখছে জনতা বলছে সাবাস। মাঝে মধ্যেই এখানে ওখানে পিটিয়ে মারার ব্যস্ত শ্মশানে পুড়ছে কে? প্রশ্ন অনেক উত্তর নেই এই অসহ্য সময়টাকেই কাঁদতে দে ’ গণপিটুনি এক সময়ে ভয়ঙ্কর বেড়ে গিয়েছিল, সেই সময়ে কবীর সুমন এই গানটা তৈরি করেছিলেন। আজকে বহু সরকার এসেছে এবং গেছে, কিন্তু অবাক হতে হয় যে অপরাধীরা কী সহজ ভাবে এক দল থেকে নতুন সরকারের দলে চলে যায়। অপরাধ তো চলতেই থাকে। শুধু পৃষ্ঠপোষক আর পোশাক পাল্টে যায়। সরকার কি বুঝছে না এই গুন্ডাশ্রেণীই তাদের ডোবাবে?
শেষ করা যাক একটা আশার খবর দিয়ে। এখন বাংলায় সাধারণ মানুষ ডিম ছোড়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে! দীঘায় এক সরকারি কর্মীর মাথায় ডিম ভাঙা হলে, তাঁর পাশের সাধারণ মানুষজন বিরোধিতা করে।এই খবরটা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত যাতে এই জনতা বুঝতে পারে যে সভ্য সমাজে ডিমতন্ত্র বলে কিছু হয় না! কোনো ডিম শনাক্তকারী যন্ত্রের প্রয়োজন নেই। বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলছেন, পুলিশের কাছে ডিম শনাক্ত করার যন্ত্র নেই, আর ওদিকে বিজেপির নেতা বলছে, তার কাছে নাকি ডিম ছোড়ার নির্দেশ আছে। সরকার গুন্ডা দমন আইন আনছে, আর ওদিকে সরকারের মন্ত্রী গুন্ডাদের ভাষায় কথা বলছেন। দুটো তো একসঙ্গে চলতে পারে না। একমাত্র গণপ্রতিরোধই এই মব ভায়োলেন্স থামাতে পারে। ব্যস।