এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  আলোচনা   শিক্ষা

  • ধন্য শিক্ষাব্যবস্থা 

    দীপ
    আলোচনা | শিক্ষা | ০৮ জুলাই ২০২৬ | ১৮৪ বার পঠিত
  • ভারতে সবচেয়ে বেশি বেসরকারি কোচিং সেন্টার গড়ে উঠেছে জয়েন্ট ও ডাক্তারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করানোর জন্য। প্রত্যেক বছর বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী জয়েন্টের কোচিং নেয়। এই পরীক্ষার জন্য অসংখ্য প্রাইভেট কোচিং সেন্টার গজিয়ে উঠেছে।‌ আকাশ, ফিটজি, বাইজু, নারায়ণা, দীক্ষা; এই কোম্পানিগুলো এই কোচিং দেয়। ফিস বছরে লক্ষাধিক টাকা। কলকাতায় এদের একাধিক সেন্টার আছে।
    প্রতিবছর রাজস্থানের কোটাতেও অসংখ্য ছাত্রছাত্রী জয়েন্টের কোচিং নিতে যায়। বছরে লক্ষাধিক টাকা। থাকা খাওয়ার খরচ আলাদা।
    পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার পর এবার ভর্তির পালা। প্রত্যেক বছর ভারতে ১০/১২ লাখ ছাত্রছাত্রী ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে ভর্তি হয়। প্রথম দিকের ছাত্রছাত্রীরা আই আই টি, যাদবপুর, শিবপুরে ভর্তি হয়। এরপর বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ।
    আই আই টি তে চার বছরে পড়ার খরচ ১৫/১৬ লাখ টাকা। স্কলারশিপ পেলে কিছুটা সুরাহা হয়। যাদবপুর, শিবপুরে অনেকটাই কম।
    দক্ষিণ ভারতের বেসরকারি কলেজেও খরচ আই আই টির মতো অথবা তার‌ও বেশি।
    এরপর আছে ম্যানেজমেন্ট কোটা। বড়োলোকের আদুরে ছেলেমেয়েরা পঞ্চাশ লক্ষ থেকে এক কোটি টাকা খরচ করে এইসব আসনে ভর্তি হয়।
    বিপুল অর্থের অধিকারী না হলে এইসব জায়গায় পড়ানো সম্ভব নয়!
    বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করার জন্য‌ই এই খরচ। কর্পোরেট গোষ্ঠীরা শিক্ষাকে ব্যবসায় পরিণত করেছে।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • দীপ | ১৩ জুলাই ২০২৬ ২২:৩৬748020
  • ১০ বছরে বন্ধ ৯৪ হাজার স্কুল, রিপোর্টে উদ্বেগ"
     
    নবনীতা মণ্ডল
     
    নয়াদিল্লি, ১০ জুলাই : সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল ছবিটা বেআব্রু হয়ে গেল নীতি আয়োগের রিপোর্টে। ২০২৬-এর ওই রিপোর্ট অনুযায়ী গত ১০ বছরে দেশে বন্ধ হয়ে গিয়েছে প্রায় ৯৪ হাজার স্কুল। এই হিসাব ধরলে দিনে ২৫টি করে সরকারি স্কুল বন্ধ হচ্ছে দেশে। নীতি আয়োগের সাম্প্রতিকতম রিপোর্টে সরকারি শিক্ষার এই উদ্বেগজনক ছবি ধরা পড়েছে।
     
    হাজার হাজার সরকারি স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার মানে এই নয় যে, লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়েছে। ওই রিপোর্টে বিপরীত ছবিটাও উঠে এসেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, ব্যাঙের ছাতার মতো বেসরকারি স্কুল গজিয়ে উঠেছে একের পর এক। ওই ১০ বছরে দেশে বেসরকারি স্কুলের সংখ্যা ২.৮৮ লক্ষ থেকে লাফিয়ে বেড়ে হয়েছে ৩.৩৯ লক্ষ। ‘স্কুল এডুকেশন সিস্টেম ইন ইন্ডিয়া’ শীর্ষক ওই রিপোর্ট অনুযায়ী মোট স্কুলের প্রেক্ষিতে ১৯ থেকে বেড়ে হয়েছে ২৩ শতাংশ।
     
    ওই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৪-’১৫ শিক্ষাবর্ষে দেশে সরকারি স্কুলের সংখ্যা ছিল ১১.০৭ লক্ষ। ২০২৪-’২৫ সালে তা কমে হয়েছে ১০.১৩ লক্ষ। অর্থাৎ সরকারি স্কুলের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বাধ্য হয়েই সাধারণ ঘরের পড়ুয়ারাও চড়া ফি দিয়ে বেসরকারি স্কুলের দিকে ঝুঁকেছে। ফলে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার কফিনে আরেকটি পেরেক পোঁতা হল বলে আশঙ্কা উসকে দিচ্ছে নীতি আয়োগের রিপোর্টটি।
     
    সরকারি স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার সপক্ষে পরিকাঠামোর সংযুক্তিকরণ অর্থাৎ ছোট স্কুলকে বড় স্কুলের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার যুক্তি খাড়া করেছে কেন্দ্র। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি মারাত্মক। এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে গ্রামীণ এলাকায়। বিশেষ করে ছাত্রীরা ঘরের কাছের স্কুল না পেয়ে দূরবর্তী স্কুলে যেতে বাধ্য হওয়ায় মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিচ্ছে। এর চেয়েও উদ্বেগের বিষয় হল, দেশে প্রায় ৭,৯৯৩টি স্কুল এখন পড়ুয়াশূন্য।
     
    এই শূন্য-নথিভুক্ত বা জিরো এনরোলমেন্ট স্কুলের তালিকায় দেশে শীর্ষে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের নাম। এই ধরনের স্কুলের সংখ্যা বাংলায় ৩,৮১২। ছাত্রহীন এই স্কুলগুলো খাতা-কলমে চালু থাকায় সরকারি অর্থের অপচয় তো হচ্ছেই, বেআব্রু হচ্ছে শিক্ষা প্রশাসনের কঙ্কালসার চেহারাও।
     
    রিপোর্টে স্কুলছুটের দেওয়া খতিয়ানও শিউরে ওঠার মতো। প্রাথমিক স্তরে (প্রথম থেকে পঞ্চম) স্কুলছুটের হার ০.৩ শতাংশ হলেও, নবম-দশম শ্রেণিতে পৌঁছতে না পৌঁছতেই একলাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১.৫ শতাংশ। অর্থাৎ, অষ্টম শ্রেণি পার করার পর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে হুড়মুড় করে বেরিয়ে যাচ্ছে লাখ লাখ পড়ুয়া। এজন্য শিক্ষার অধিকার আইনের বয়সসীমা (১৪ বছর) শেষ হয়ে যাওয়া এবং দারিদ্র্যকে দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
     
    শুধু পরিকাঠামোই নয়, শিক্ষার গুণগতমান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নীতি আয়োগ। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ক্লাস নাইনের বহু পড়ুয়া আজও শতকরা, ভগ্নাংশ বা অনুপাতের অঙ্ক বোঝে না। মুখস্থবিদ্যার দাপটে তলানিতে ঠেকেছে বাস্তব বুদ্ধি। পরিকাঠামোর হাল এমনই যে, দেশের প্রায় অর্ধেক সরকারি মাধ্যমিক স্কুলে বিজ্ঞান গবেষণাগার নেই। এই সংখ্যা পশ্চিমবঙ্গেও কম নয়।
     
    উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশে সবচেয়ে বেশি (প্রায় ৪০ হাজার) স্কুল বন্ধ হয়েছে। কেরল বা পুদুচেরি কিছুটা আলো দেখালেও দেশের সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থা এখন খাদের কিনারায়। জিডিপি-র ৬ শতাংশ শিক্ষাক্ষাতে বরাদ্দের দাবি ১৯৬৪ সাল থেকে উঠলেও ২০২৬ সালেও তা ৪.৬ শতাংশে থমকে আছে। নীতি আয়োগের এই রিপোর্ট চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার কারখানা চরম সংকটে পড়ে আছে।
     
    প্রাথমিক স্তরে শেখার ঘাটতি পরবর্তী শ্রেণিতেও থেকে যাচ্ছে, যা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ বলে রিপোর্টে দাবি করেছে নীতি আয়োগ।"
     
    এই সময় পত্রিকা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লাজুক না হয়ে মতামত দিন