এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • কালবেলার রৌদ্রছায়া - ২৫

    Anjan Banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৫ জুলাই ২০২৬ | ১৫৫ বার পঠিত
  • ( ২৫ )  

    সাজিদা চ্যাটার্জী বাড়ি কাজ করতে এল। আজ মুখে কেন কথা নেই।   বাসন মাজা,  কাপড় কাচা 
    শেষ হলে বালতির জলে ফিনাইল ফেলে ঘর মুছতে লাগল।  মুখে কোন কথা নেই।  অন্যদিন অনেক বকবক করে।  এর বাড়ির,  ওর বাড়ির নানাজনের কূটকচালি শোনায়।  আজ একদম চুপচাপ।  কী যেন চিন্তা করতে করতে ঘরের মেঝেতে ন্যাতা টেনে চলেছে।  
    ঘরের গিন্নী দেবশ্রী বললেন, ' কিরে সাজিদা...  আজ এত চুপচাপ ?  বরের সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে নাকি ?  '
    সাজিদা একটু সময় নিল, তারপর মাথা নীচু করে 
    ঘর মুছতে মুছতে বলল, ' আলি কাল ব্যাঙ্গালোর চলে গেছে....  ননদের বাড়ি...  '
    ----- ' সেকি...  কেন রে!  ' 
    ----- ' ছেলেগুলো খুব ঝামেলা করছিল... আমাদের তো কাগজপত্র কিছু নেই।  মার কোলে চড়ে বর্ডার পেরিয়ে একবছর বয়সে ইন্ডিয়ায় এসেছিলাম। আমাদের পাড়ায় আমরা শুধু তিনঘর মুসলিম।  আগে সি পি এম,  পরে টি এম সি  করতাম আমরা।  আলি পার্টি ওয়ার্কার হয়ে গেল।  কী করবে....  বাঁচতে তো হবে।  এখন কী যে করি ....  মেয়েটাকে কলেজে ভর্তি করতে হবে।  আমি চলে গেলে মেয়েকে তো একলা রেখে যেতে হবে।  কোথায়,  কার কাছে যে রাখি...  খুব চিন্তায় পড়েছি...  নাকি ওকে ব্যাঙ্গালোরে পাঠিয়ে দেব,  কিছু বুঝতে পারছি না....  ' 
    দেবশ্রী গালে হাত দিয়ে বললেন, ' ওমা...  এ ক'দিনের মধ্যে এত কান্ড !  এসব কারা করছে ? '
    ----- ' ওই যে বলছে আমরা অনুপ্রবেশকারি... মানে বিদেশী।   পঁচাশি সালের আগের কাগজ চাই।  ওসব কিছু আছে নাকি আমাদের  দূ...র।  আমার ছেলেমেয়ের অবশ্য সব কিছু আছে।  কিন্তু তাতে কী হবে দূ..র... আমরা তো অন্নপূর্ণা ভান্ডারও পাব না...  ' 
    ------ ' এসব কী কথা গো ...  অনুপ্রবেশকারি আবার কী ?  কথাটা শুনছি বটে খুব।  তোকে সেই কবে থেকে দেখছি,  তুই কিনা অনুপ্রবেশকারি না কী বলে,  তাই !  এ তো আচ্ছা গেরো....  '
    বলে, দেবশ্রীদেবী হাঁক পাড়লেন, ' ওগো শুনছ...  সাদিজা কী সব বলছে...  '
    ----- ' কী হলটা কী ?  ',  বিমলানন্দবাবু ঘরে এসে ঢুকলেন।  
    ---- ' সাজিদা বলছে ওদের নাকি এদেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে,  ওরা নাকি অনুপ্রবেশকারি,  মানে বিদেশী...  ' 
    বিমলবাবু সব শুনলেন।  তাকে তেমন বিচলিত মনে হল না।  হাবভাব দেখে মনে হল,  এমন তো হওয়ারই কথা ছিল।  
    ভাবলেশহীনভাবে বললেন, ' অ...  খুব মুশ্কিলের ব্যাপার।  তা কী করবি ভাবছিস ?  ' 
    সাজিদা ঘর মুছতে মুছতে বলল, ' ভাবছি মেয়েটাকে কলেজে ভর্তি করে এখানে একটা হোস্টেলে রেখে আমি আর আলি ব্যাঙ্গালোরে গিয়ে থাকব।  আর কী উপায়।  লিমার তো কাগজ আছে...  '
    বিমলবাবু নির্বিকারভাবে সংক্ষেপে বললেন, ' গুড ডিসিশান।  এটাই ঠিক হবে...  '  
    দেবশ্রীদেবী বিভ্রান্ত এবং উৎকন্ঠিত মুখে তাকিয়ে রইলেন সাজিদার মুখে।  তার চিন্তা শুধু সাজিদার বিপাকে পড়া নিয়ে না। আর একটা গুরুতর দুশ্চিন্তা হল,  সাজিদা চলে গেলে তার ফাঁক  ভরাবেন কাকে দিয়ে।  সংসার অভিজ্ঞা গৃহিনী  দেবশ্রীদেবী বিলক্ষণ জানেন যে সাজিদার মতো মেয়ে হাজারে একটা মেলে,  শুধু কাজকর্ম নয়,  কথাবার্তা,  আচার ব্যবহার সবদিক দিয়ে।  এ ঠিক মালতি, শেফালি, বাসন্তীর মতো নয়।  বেশ একটু  অন্যরকম। 
    তিনি হতাশ গলায় বললেন, ' কী হবে তা'লে...  '
    তার স্বামী তার উদ্বেগের উৎস আদৌ আন্দাজ করতে পারলেন না।  
    তিনি বললেন, ' কী আর হবে...  দেখা যাক না, এ তো আর ওর তো একার হচ্ছে না।  কিছু একটা ব্যবস্থা হবে নিশ্চয়ই ....  চিন্তা করিস না...  '
    বলে তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন। 
    সাজিদা কিন্তু দেবশ্রীর মনের কথা পড়তে পারল।  
    সে বলে উঠল, ' আরে...  তুমি অত চিন্তা ক'র না ...  আমি গেলে তোমাকে ভাল লোক দিয়ে যাব মাইমা....  '
    দেবশ্রীর হতাশা অবশ্য তাতে কাটল না।  সে বলল, ' তা তো দিবি...  কিন্তু সে কি আর তোর মতো হবে ? '
    সাজিদা নিজের এত দুশ্চিন্তার মধ্যেও দেবশ্রীদেবীকে সান্ত্বনা দিতে থাকে,  ' দূ..র...  তুমি এত চিন্তা ক'র না তো...  এক্ষুণি তো যাচ্ছি না...  দেখি কী হয়।   এখন মনে হচ্ছে আগের ওরাই ভাল ছিল।  এরা শুধু হিন্দু মুসলমান করে,  যেন আর কোন চিন্তা নেই...  শুধু এটাই আছে ...  '
    দেবশ্রীদেবী একটা ছোট শ্বাস ফেলে বললেন,  ' কী জানি বাবা, বুঝি না কিছু...  দেখ কী করবি...  ' 

       
       অনুমিত মনোমিতার দিকে তাকিয়ে রইল মোবাইল স্ক্রিনে।  ভাবল,  মেয়েটার বেশ দম আছে
    তো।  ঠিক কী চাইছে বোঝা মুশ্কিল তার পক্ষে।  সে তো এ সব নিয়ে চিন্তা করেনি কোনদিন।  কিন্তু  এখন একটু চিন্তা করতে ইচ্ছা করছে।  সেও ত জেন জি-র মধ্যে পড়ে।  বোঝা দরকার।  এসব বোঝাটা জরুরি ব্যাপার। কেই বা বোঝাবে কেই বা জানাবে তাকে।  তার বন্ধুরা, যেমন পবন বা সঞ্জীব তো এসব নিয়ে মাথা ঘামাবে না।  তারা জেন এক্স  ওয়াই জেড এসব কিছু না।  তারা কোন  জেনারেশান অফ মাস নয়,  বোঝে শুধু জেনারেশান অফ ক্যাপিটাল।  এসব পবন, সঞ্জীব,  রাকেশের জিনিস নয়,  এটা অনুমিত ভালমতো বুঝতে পারল।  এটা ওই মেয়েটার জিনিস।  ও আবার থিয়েটারও করে।  মায়ের সঙ্গে একদিন বাড়িতে এসেছিল।  ওর দেখা আবার কিভাবে পাওয়া যাবে ভাবতে লাগল অনুমিত।  তার মনে হল,  আগের মতো ওভাবে আর যাওয়া যায় না।  কেন যাওয়া যায় না সেটা ঠিক মাথায় এল না এই মুহুর্তে।  তারপর ভাবল, অসুবিধের কী আছে মায়ের সঙ্গে তো পরিচয় আছে।  অনুমিত মোবাইল বন্ধ করে বিছানায় চিৎ  হয়ে শুয়ে পড়ল।  ঘুরন্ত সিলিং ফ্যানের দিকে তাকিয়ে নানা কথা ভাবতে লাগল।   

       বাঁধন পাল নানারকম মালপত্তর নিয়ে সুভাষ গিরি, বিজয়দের তল্লাটে এসে পৌঁছল।  এখানে সে বছরে তিন চারবার আসে। একটা মুদিখানার দোকানে তার জানা শোনা হয়েছে।  সেখানে সে মালপত্তর রাখে কিছুক্ষণের জন্য। আর একটু  বেলা পড়লে ওই দোকান থেকে একটা ভাঁজ করা টেবিল বার করে পাতে রাস্তার একধারে।  তার ওপর জিনিসপত্র সাজায়। হাতা,  খুন্তি, সাঁড়াসি,  বেলন চাকি ধরনের সব রান্নাঘরের জিনিসপত্র। 
    পথের ধারে দোকান সাজিয়ে বসে থাকে খরিদ্দারের আশায়। 

       বিজয় গিয়েছিল জঙ্গলের দিকে।  সুখিরামদের খবর নিতে।  লিপ্পা বলে একটা মেয়ের শরীর খুব খারাপ হয়েছে।  কোন মেয়েলি রোগ বলে মনে হচ্ছে।  ক'দিন ধরে পেটে ব্যথা।  মাঝে মাঝে রক্তস্রাব হচ্ছে।  সদরে নিয়ে গিয়ে ডাক্তার দেখানো দরকার। কাল সকালে লিপ্পাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে যাবে বলে ঠিক করেছে।  গনেশ আর মাদলকে বলে রেখেছে।  সুখি এখন বেশ সুস্থ হয়ে উঠেছে।  সেও যেতে চাইছিল লিপ্পার সঙ্গে।  
    বিজয় বারণ করল।  সারাদিনের ঝক্কি নেওয়ার মতো অবস্থায় এখনও আসেনি।  না যাওয়াই ভাল। 

      বিজয় খবর পেয়েছে কলকাতায় বুলডোজার চালিয়ে হকার তোলা চলছে।  পার্টির প্রতিরোধ ও আন্দোলন চলছে। তার কাছে শীতলদার ফোন এসেছিল উত্তর কলকাতা জেলা কমিটি থেকে।  পরশুদিন দমদম স্টেশনে কর্মসূচী আছে।  তাকে যাবার জন্য বলেছে।  
    বিজয়  এখন চায়ের দোকানে একটু বসবে,  ওই যেখানে দেবাশিসের  সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল।  বিকেল পাঁচটা বাজে।  বাঁধনের পশরার সামনে  
    দুজন মহিলা দাঁড়িয়ে বেলন চাকি,সাঁড়াশি  বাছাবাছি করছে।  বিজয় উল্টোদিকে রাস্তায় পা ঠেকিয়ে সাইকেলে বসে বাঁধন পালের দোকানের দিকে তাকিয়ে রইল।  এই বাঁধন পাল লোকটাকে তার বেশ লাগে।  মাঝে মাঝেই এখানে আসে।  ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ী।  আরও কত জায়গায় যায়।  শুনেছে ওর পরিবার পরিজন বলতে তেমন  কেউ নেই।  ওর দোকানের বেচাকেনার দিকে তাকিয়ে রইল।  হঠাৎ  একটা শোরগোল ভেসে উঠল মাছের বাজারের দিক থেকে।  
    বিজয় ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল ত্রিশ চল্লিশ জনের একটা দল চলন্ত ঘূর্ণি স্রোতের মতো এদিকে  এগিয়ে আসছে।  গোলমালের আওয়াজটা ওখান থেকেই উঠে আসছে।  দঙ্গলটা এদিকেই এগোচ্ছে।  
    হঠাৎ প্রশান্ত দাসকে দেখতে পেল।  অবাক কান্ড গেরুয়া একফালি কাপড় জড়িয়ে রেখেছে গলায়।  কোন পদ্মফুল আঁকা আছে কিনা ঠিক বোঝা যাচ্ছে না।  হয়ত কাপড়ের ভাঁজে ঢাকা পড়ে গেছে। অঞ্চল কমিটির মেম্বার  চঞ্চল প্রধানকে পুলিশ  কলার পাকড়ে থানার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।  চারপাশ থেকে অনেকে চোর চোর বলছে।  খিস্তি খেউড় উঠে আসছে জোর গলায়  ।  বিজয় দেখল প্রশান্ত দাসও চোখ মুখ খিচিয়ে তেড়ে গালাগালি করছে।  তিন তারিখ রাত্রেও যে চঞ্চলের এক  গ্লাসের ইয়ার ছিল তাকে গালাগালি দিয়ে ভূত ভাগিয়ে দিচ্ছে। বলল, ' আরে তোরা কেউ ডিম আনিসনি ডিম...  '।  দুটো ডিম এসে পড়ল।  একটা চঞ্চলের মাথায়,  একটা কাঁধের কাছে।  সে দুহাত দিয়ে মুখ ঢাকার চেষ্টা করতে লাগল।  প্রশান্ত দু হাত নেড়ে নেড়ে কাকে কী সব বলছে,  যেন কস্মিনকালেও চঞ্চলের পার্টিতুতো ভাই ছিল না সে।  
    বিজয় তাকিয়ে রইল দূর থেকে।  ভাবতে লাগল, বাঙলার মাটিতে কোন ফসলের চাষ শুরু হল এবার।  প্রশান্তরা তো সেই  একই গাছের একই ফলের বীজ।  তাহলে আর নতুন ফসল ফলবে কী করে।  এ মাটি বিষাক্ত হয়ে গেছে।  এ শুধু  বিষফলই ফলাতে পারে।  পোকা ধরে গেছে এ জমিতে। যারা ছিল শুধু তারাই বাঁচতে পারে এ দূষিত জমিতে রঙ বদলে বদলে।  আর কেউ নয়।  
    আগপর পার্টি হল পাটগাছের বীজ।  যে জমিতে পাট চাষ করা হয়,  সেখানে অন্য কোন ফসলের  চাষ করা যায় না।   একটা চলিত শাস্ত্রীয় কথা আছে।  সেই কথাটা মনে পড়ে গেল বিজয়ের।  একটা দেহের মৃত্যুর পর আত্মা নাকি শুধু দেহটা পাল্টে নেয়। যেটা চলছে ক'দিন ধরে সেটা ঠিক এরকমই গল্প।   তারা চলে গেছে, তবু তারাই রয়ে গেল।  আত্মা নাকি অবিনশ্বর।  পাটের জমিতে অন্য ফসলের চাষ হয় না।  চাষী যতই চেষ্টা করুক পাটের যে গুণাগুণ তা মাটিতে মিশে যায়।  

       বাঁধন পাল গরীব ফেরিওয়ালা।  সে গোলমাল দেখে তাড়াতাড়ি মালপত্র গোছাতে শুরু করল।  বলা তো যায় না, কখন আচমকা লুটপাট শুরু হয়ে যাবে।  সে গরীব মানুষ।  ক্ষতি হলে সামলাবে কী করে।  সে ভুক্তভোগী।  একবার এরকম এক চক্করে পড়েছিল বর্ধমান স্টেশনের কাছে। রাস্তার ওদিকে সাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে বিজয় হাত নাড়িয়ে  বলল, ' কিছু হবে না,  কিছু হবে না....  যাবার দরকার নেই ...  '
    বিজয়ের আওয়াজ  শুনে বাঁধন একটু থমকে গেল।  মাল গোটানো থেমে গেল।  বিজয়ের সঙ্গে বাঁধনের তেমন পরিচয় নেই। তবে শুনেছে ও কমুনিস্ট করে।  বাঁধন রাজনীতির খবর  একেবারেই  রাখে না।  তবে এখানে দু একজনের মুখে শুনেছে বিজয়বাবুর নাকি বুকে দম আছে। সে  যাই হোক,  বাঁধন আপাতত তার মত পরিবর্তন করল।  ওখান থেকে উঠল না।   
    চঞ্চল সমেত জটলাটা থানার দিকে এগিয়ে গেল।   প্রশান্তও চলল গলায় হলদে মতো একটা চাদর জড়িয়ে হাত পা ঝঁকিয়ে তোড়ে গালাগালি দিতে দিতে।  ও হরি...  বিজয়ের চোখে পড়ে গেল হঠাৎ।  ভিড়ের মধ্যে মিশে আছে প্রসূন প্রামাণিক আর ওই যে...  দেবাশিস।  দেবাশিস অবশ্য 'বেইমান '  নয়।  বিজয়কে দেখে ভিড় থেকে খসে গিয়ে একগাল হেসে  বিজয়ের দিকে এগিয়ে এল।  কাছে এসে কী জানি কেন জবাবদিহির সুরে বলল, ' এ...ই এমনি...  দেখছিলাম... ওদিকে  চা খাচ্ছিলাম ...  দেখলাম যাচ্ছে...  ফালতু বাওয়াল...  হ্যাঃ '
    দেবাশিস বলল, ' কী মনে হচ্ছে দাদা ?  '
    ----- '  অ্যাঁ কী...  কী ব্যাপারে বল তো ?  ' 
    ---- ' এই যে বদলটা হল ?  '
    ----- ' ও আচ্ছা ...  ওটা তো এক্ষুণি বলা মুশ্কিল।  ক'টা দিন গেলে বোঝা যাবে। তোমার কী মনে হয় ?  '
    ----- ' কি জানি...  কী করে বলব ...  ক'টা দিন যাক...  ' 
    বিজয় আর কথা না বাড়িয়ে  বলল, ' কলকাতায় আমাদের ডেকেছে পার্টির উত্তর কলকাতা কমিটি থেকে...  '
    -----  'কেন ?   ' 
    ---- ' হকার উচ্ছেদ নিয়ে প্রোটেস্ট চলছে।  দমদম আর যাদবপুরে।  সেই নিয়ে কিছু বলবে বোধহয়...'
    ----- ' ও...  তা ভাল...  আমার মতোই তো গরীব ওরা...  ওদের দিকটাও...  মানে ইয়ে, একটু দেখতে হবে...  ' দেবাশিস জামার হাতায় ঘাম  মোছে। 
    ----- ' হমম্,  তাই তো...  কিন্তু সময়টা যে খুব ভয়ঙ্কর।   জোট বাঁধার দরকার...  '  

     শিঞ্জিনীদের গ্রুপের  আজকে একটা মিটিং আছে বিকেল পাঁচটা থেকে।  তৈরি হয়ে সাড়ে চারটে নাগাদ ঘর থেকে বেরল সে।  গাড়ি বের করল না।  
     রাস্তা থেকে ক্যাব ধরে নেবে ঠিক করল।  সিঁড়ি  দিয়ে নামার মুখে অনুমিতের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল।  অনুমিত বলল, ' বেরচ্ছ ?  '
    ----- ' হ্যাঁরে... গ্রুপের মিটিং আছে ...  '
    অনুমিত একটু চুপ করে থেকে বলল, ' থিয়েটারের সেই মেয়েটা আসবে ?  ' 
    ----- ' কোন মেয়েটা বলতো ...  '  
    ----- ' ওই যে তুমি যাকে বাড়িতে নিয়ে এসেছিলে... '
    ----- ' ও আচ্ছা, মনোমিতা... না না সে কেন আসবে?   ও তো আমাদের মেম্বার না।  তাছাড়া ও বোধহয়  দিল্লী গেছে...  '
    অনুমিত বলে ফেলল,  ' কেন...  কক্রোচ পার্টির ব্যাপারে...  যন্তর মন্তরে ? '
    শিঞ্জিনী একবার হাতঘড়িতে তাকিয়ে নিয়ে বলল, 
    ' তাই হবে হয়ত। জানি না ঠিক।  আচ্ছা আমি আসছি এখন, দেরি হয়ে যাচ্ছে...  পরে কথা বলব 
    ... '
    শিঞ্জিনী বেরিয়ে গেল। অনুমিতের মনে হল,  বাবা তো বেশ কিছুদিন হল কাজকর্মের ব্যাপারে কিছু বলে না !  বোধহয় পলিটিক্স নিয়ে চিন্তায় ডুবে আছে। সে ভাবতে লাগল,  তার এখন কী করা উচিৎ।  বসে বসে ভাবতে লাগল।  এই সময়ে সঞ্জীবের, মানে সঞ্জীব খান্নার একটা ফোন এল।
    ----- ' হ্যাঁ সঞ্জু  বল...  '  
    ---- ' হ্যাঁ,  শোন...  সাতটার মধ্যে একবার আসতে পারবি।  আমাদের এক স্টেক হোল্ডার আসবে।  একটা বড় প্রোজেক্ট লঞ্চ করবে  শর্টলি।  তোর সঙ্গে কথা বলিয়ে দিতাম।  তোর জন্য বিফিটিং হবে মনে হয় ....  '
    এ সব সিরিয়াস কাজের কথা শুনে অনুমিতের ঘুম ঘুম পেতে লাগল।  কী যে সব বলে সঞ্জীব।  এসব কি তার কাজ নাকি।  সঞ্জীবকে সেদিন কাজ টাজের ব্যাপারে কিছু  বলেছিল,  তখন একটু অন্য মুডে ছিল বলে আবেগবশত বলে ফেলেছিল।  ওসব আঁটোসাটো ব্যাপার কি তার জিনিস নাকি?  
    সঞ্জীবও যেমন।  
    অনুমিত বলল, ' হ্যাঁ...  ট্রাই করব যেতে।  আসলে 
    শরীরটা তেমন ঠিক নেই...  আচ্ছা দেখছি দেখছি...  ' 
    সঞ্জীব কাজের মানুষ।  তার হাতে সময় কম।   বলল, ' ঠিক আছে,  দেখ...  যদি আসিস কথা হবে...  ' 

       ( ক্রমশ )  
    ********************************************
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খারাপ-ভাল মতামত দিন