এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  গপ্পো  ইদবোশেখি

  • ডোম

    বেবী সাউ
    গপ্পো | ১১ এপ্রিল ২০২৬ | ২৮ বার পঠিত
  • অলংকরণ: রমিত


    — ছাড়ো তো! যেও না, এত সত্য জানার তো কোনও প্রয়োজন নেই আমাদের...

    — তবুও সত্যকে জানতে হয় বৈশালী! তুমি তাকে অস্বীকার করতে পারো না...

    — আমি অস্বীকার করছি না... কিন্তু জেনেও কোনো লাভ নেই... বরং আজ তুমি মাগুর মাছটিকে মেরে কেটে পরিস্কার করে দাও... আমার কাজ একটু হালকা হয়! বাচ্চাদের কিছু দেশি মাছ খাওয়ানো উচিত।

    — কিন্তু আমাদের বাচ্চাদের বিষয়ে আমাদের নিশ্চিন্ত হওয়া উচিত... ভবিষ্যৎ গুছাতে সহজ হবে...

    — না... না... তুমি আজ কোথাও যাবে না! এসো না আজ আমরা ছুটি উপভোগ করি। বাচ্চারা যা যা খেতে পছন্দ করে বানাই... তুমি আমি কতদিন হয়ে গেল সময় কাটাই না... ব্যস্ততা আমাদের কাছ থেকে অনেক কিছু কেড়ে নিয়েছে... কেড়ে নিচ্ছে!

    বৈশালী সেদিন আমাকে যেতে না দিলেও, তার কয়েকদিন পর চামড়া ফ্যাক্টরি থেকে ফেরার পথে, আমি আমার কৌতুহলকে গুরুত্ব দিয়ে একবার ঢুকে পড়ব ভাবলাম...

    আমার মধ্যে এত সাহস ছিল না যে একা একা যাই। এতবড় মহাপুরুষ, যার হাতে এই দুনিয়ার জন্ম-মৃত্যু নির্ভর করছে...একা যেতে ভয় করেই...তাই আমি ক'দিন আগে থেকেই জয়রামকে বলে রেখেছিলাম, যাতে সে একটু বুধবারের সন্ধেটা ফাঁকা রাখে! এবং সময় বের করে সে আমার জন্য খানিকটা সময় অপেক্ষা করে। আমার ফ্যাক্টরি তার গুদামঘরের কাজের চেয়ে পরে বন্ধ হয়। জয়রাম খুব একটা না বলেনি। শুধু প্রথম প্রথম হ্যাঁ — না এর দোলাচলে সে খানিকটা ঝুঁকে পড়েছিল বটে! খানিকটা ভয়ও যে পায় নি তা নয়! কিন্তু তার মনেও প্রচুর কৌতুহল ছিল!

    — বিজু, তুই বল... এভাবে আগে থেকে জেনে নেওয়াটা আমাদের কি স্বস্তিতে থাকতে দেবে!?

    — বৈশালীও আমাকে এই কথাটাই বলেছিল, কিন্তু আমার মনে হয় ঠিক উল্টোটা!

    — কীরকম?

    — ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানতে পারলে আমাদের কাজ কমে যাবে, ভাবনাও....শেষ সময়টা জানতে পারলে যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে না... ঠিক ততদিনের জন্যই আমরা আমাদের গুছিয়ে রাখব!
    জয়রাম আমার কথায় খুব একটা যে আশ্বস্ত হল, তেমনটা নয়। কিন্তু আমার কথা শুনে যতটা না তার মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছিল, তার চেয়ে বেশি হয়েছিল আশেপাশের মানুষের ক্রমাগত খবর শুনে শুনে।

    চারপাশে অন্য কোনও খবর ছিল না। যদিও বা কেউ জেনে-বুঝে অন্য কিছু দিয়ে কথা আরম্ভ করত, যেমন ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা, শালীর বিবাহ, আত্মীয়স্বজনদের নিন্দা-চর্চা কিন্তু একটা সময় পরে দেখা যেত তারা সেই অলৌকিক পুরুষের বিচারধারা নিয়েই কথা শুরু করে দিয়েছে। এবং সম্ভাব্য তারিখ!

    সারাদিনের এই হাড়ভাঙা খাটুনির পর, চামড়া ফ্যাক্টরির দুর্গন্ধ পেরিয়ে এসে, আমাদের হাতে বেঁচে থাকার মতো খুব বেশি সময় ছিল না। কিংবা জীবন সম্পর্কে এত আগ্রহও না! দিনের ক্ষিদে দিনেই মিটে যেত বটে! কিন্তু পরের দিনের চিন্তায় রাতে ভালো ঘুমটুকু পর্যন্ত হত না। ফলে সে জন্ম হোক কিংবা মৃত্যু বেশি কিছু চিন্তা না এলেও মৃত্যু সম্পর্কে একটা ভয় সবসময়ই মাথার ভেতর কাজ করত।

    তারপর আবার শোনা যাচ্ছিল এসআইআর শুরু হল বলে! এবং সমস্ত টিভি চ্যানেলগুলো চিৎকার চেঁচামেচি করে বুঝিয়ে দিচ্ছিল যে, মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন-মধ্যবিত্তদের ওপর তার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে। এত এত আগের বছরগুলোতে, মা-বাবার পরিচয় সংগ্রহ করে রাখা, না-রাখার উপর আমাদের অস্তিত্ব মেনে নেওয়া বড় সহজসাধ্য ব্যাপার ছিল না। ফলে, কোনও অনিশ্চিত পরিবেশে পরিচয়হীন হয়ে জীবন কাটানোর ভয় আমাদের ক্রমাগত অস্থির করে রাখত। আর সে সময়ই অলৌকিক পুরুষের এই মহান ভবিষ্যৎ বাণী...

    'জিতে হি মর জানা' ব্যক্তির ভেতর আর কীভাবে মৃত্যু ভয় ঢোকানো যায়, না ভাবলেও আমাদের চলত, তার চেয়েও অধিক চিন্তার বলয় সবসময় মাথার ওপর চক্কর চালাত ক্রমাগত।
    এসব ভাবতে ভাবতে আমাদের সামান্যতম সুরক্ষার জন্য আমরা একটা বলয় তৈরি করে নিয়েছিলাম— আকণ্ঠ মদপান। কিন্তু বৈশালীকে বিয়ের পর, আমার সেই অভ্যাসটাও বন্ধ হয়ে গেছিল বৈশালীর শরীরের উত্তাপে। মদের চেয়েও বৈশালী বেশি নেশা ধরিয়ে দিতে পেরেছিল আমাকে। আর সেই নেশা হোক কিংবা উত্তাপ— ইয়ান এবং জোহরা এসে গেছিল আমাদের ঘরে। আমরা জীবনকে নিয়ে খুশি ছিলাম। এবং এখুনি কিছুতেই মৃত্যুর মতো কঠিন বিচ্ছেদকে চাইতাম না।




    হঠাৎ করে, সারা শহর পালটে যেতে আরম্ভ করল। কেউ আর সুন্দর ফুল নিয়ে কথা বলত না। জল, মাটি, বায়ুদূষণের কথাও বন্ধ হয়ে গেছিল। এমনকি বেকারত্ব, গ্যাস কিংবা পেট্রোল ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি বিষয়ক কথা বলত খুব কম। নার্সারিতে গিয়ে ফুলের গাছ সংগ্রহ করার চেয়ে তারা টিভিতে "মৃত্যুর সংবাদ" শুনতে বেশি পছন্দ করত। অলৌকিক পুরুষ বললেন, "মৃত্যুর এই লহর স্বাভাবিক, লক ডাউনের কোনও প্রয়োজন নেই। বরং একে মেনে নিয়ে আমাদের আরও বেশি বেশি কাজ করে যেতে হবে! মৃত্যুর আগে পৃথিবীকে সাজিয়ে দিয়ে যেতে হবে..."
    এটা সবার কাছে ভয়ের যেমন একটা কারণ ছিল, রোমাঞ্চকর কাহিনি কিংবা রহস্যময় অভিজ্ঞতার চেয়ে কম ছিল না। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার অলৌকিক পুরুষের প্রতিটি কথা সত্য হয়ে যাচ্ছিল। তাঁর দেওয়া একেকটা মৃত্যুর তারিখ মিলে যাচ্ছিল। যারা প্রথম প্রথম তাচ্ছিল্যের সঙ্গে হেসে উড়িয়ে দিত, কুসংস্কার বলে উড়িয়ে দিচ্ছিল তারাও বিশ্বাস করতে শুরু করছিল তাঁকে! গোপনে গোপনে সেসব নাস্তিক লোকজনও জেনে নিয়েছিল কখন, কোন সময় সম্মুখীন হতে হবে আসল সত্যের! বৈজ্ঞানিক, ডাক্তাররাও এই দলে নাম লিখিয়েছিলেন...

    আমিও সেদিনের পর থেকে নিজেকে বড় বেশি পালটে ফেলেছিলাম। জানিনা, বৈশালী বিষয়টা লক্ষ্য করেছে কি না। কিন্তু বৈশালীকে সবকিছু না বলা পর্যন্ত আমি কিছুতেই স্বস্তি পাচ্ছিলাম না।
    তবু আমাকে চেপে থাকতে হয়েছিল! এই কঠোর সত্য, বিশেষ করে ইয়ানের ব্যাপারটা বলা এত সহজ ছিল না।

    সহ্যের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছিলাম। আমি ইয়ানের প্রতি আমার মায়া-মমতা-স্নেহ কমে যাচ্ছিল। জোহরাকেই বেশি ভালোবাসতে আরম্ভ করেছিলাম।




    শহরের আনাচে-কানাচে অন্য কিছু আলোচনা ছিল না বললেই চলে। শুধু সেই মহান পুরুষ এবং তাঁর অলৌকিক বই সম্পর্কে সবাই কথা বলে যাচ্ছিল। আমরাও। আমি বৈশালীর কাছে কথা ক'টি লুকিয়ে রাখলেও, সেই অলৌকিক পুরুষ সম্পর্কে কথা বন্ধ করিনি। তাঁর বক্তব্য, টকশো, জনগণকে "ভাই এবং বোনেরা..." বলে বক্তব্য আরম্ভ সব কিছু আমাদের ভালোলাগায় আচ্ছন্ন করে রাখত!

    — জানো তো, তিনি নাকি মৃত্যু সম্পর্কেও সব বলে দিতে পারেন!

    — মৃত্যু সম্পর্কে বলা এমন কিছু বিশাল ব্যাপার না।

    বৈশালী আমার দিকে তাকিয়ে বলল। সে শুকনো কাপড়গুলোকে ভাঁজ করে গুছিয়ে রাখছিল। তিনটে সারি, এদিকে ইয়ানের, জোহরার এবং আমার...কথা বলার সময়ও তার হাত কাজ করে যাচ্ছিল।

    — মানে?

    — আরে! তুমি তো জানো বৈজয়ন্ত... মৃত্যু নিশ্চিত এবং অমোঘ...

    — কিন্তু সেই মৃত্যু কখন কীভাবে ঘটবে বলা যায়? তুমি কী যে বল না বৈশালী!

    — কেন যায় না... স্পষ্ট তো! আমরা এর আগে মৃত্যু সম্পর্কে ভাবিনি বলেই... যক্ষ্মা, ক্যান্সারের ডাক্তার তো একথা আগেই বলে দিতেন... ডেট দিয়ে দেন না, বলো?

    — কী বলতে চাইছ তুমি? অলৌকিক নন তিনি?

    — বলতে চাইছি তুমি চামড়ার ফ্যাক্টরিতে কাজ করেও সহজ নও কেন?

    সেদিনও আমি বৈশালীকে মৃত্যুর তারিখ জানাতে পারি নি। নাকি আমাদের ছেলে মেয়ের! আমি চুপ থাকতে বাধ্য হচ্ছিলাম। আর আমার পেটের ভেতর গ্যাসটিক- অ্যাসিডিটির সমস্যা শুরু হচ্ছিল। আমি হিসেব করে দেখেছিলাম... বৈশালীর যদি ফেব্রুয়ারি ১৭ তারিখ... তারমানে আমার... তিন বছর তিন মাস পরে...

    আমি মনে মনে ভেবে দেখলাম, এই বিরহ সহ্য করা আমার কাছে খুবই বেদনার একটা বিষয় হবে। আমি এর আগে যত মৃত্যু, মায়ের, বাবার, ক'জন আত্মীয় স্বজন এমনকি আমার একজন প্রিয় বন্ধুর মৃত্যুও দেখেছি, সবই ছিল অনিশ্চিত এবং হঠাৎ করেই।

    শুধু মায়ের মৃত্যুর আগে, মা বলেছিলেন, কালো কালো চেহারার কিছু আত্মা নাকি রোজ দাঁড়িয়ে থাকে তাঁর পায়ের কাছে। তিনি দেখতে পান। তারা তাঁকে ইশারায় ডাকে। কিছু বোঝানোর চেষ্টা করে। কিন্তু তিনি যেহেতু তাদের কথা এবং ইশারাকে সমর্থন করেন না, তাদের দিকে ফিরে তাকান না। শুধু স্পষ্ট বুঝতে পারেন তারা আছে। তারাও চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে! আমরা বাড়ির আর কেউ তাদের উপস্থিতি বুঝতে পারি না। আমরা অবিশ্বাসের সুরে মাকে বোঝাতে চেষ্টা করতাম, এটা তাঁর মনের ভুল!

    কিন্তু সেই কালো আবছায়াদের দেখে মায়ের মুখ কেমন শুকিয়ে কালো হয়ে যেত! এবং কিছুতেই আমাদের কাছ ছাড়া করতে চাইতেন না। আমরা দিনরাত তাঁর কাছে সময় সময়ে বসে থাকতাম। একদিন ভোরে আমরা যখন আর বসতে না পেরে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম, মা চিৎকার করে বৈশালীকে একবার ডেকে ঘাড় কাত করে ফেললেন... অস্পষ্ট স্বরে শুধু বললেন, ওরা...ওরা...

    খানিকক্ষণ পরে তাঁর চোখে মুখে আশ্চর্য এক প্রশান্তি ছেয়ে গেল। মৃত্যুর প্রশান্তি!

    বৈশালী মারা যাওয়ার সময়ও সেই আশ্চর্য প্রশান্তি তার চোখে মুখে থাকবে?

    আমার মৃত্যুর সময় একমাত্র জোহরা ছাড়া কেউ আমার কাছে থাকবে না। ইয়ানের মৃত্যুর তারিখও আমি জানতে পেরেছি এবং এটা বৈশালীর মৃত্যুরও আগে। আমাকে একা একা মরতে হবে ভেবে, মনের ভেতর কেমন একটা বিষণ্ণতা ছেয়ে গেল!

    ইয়ানের মৃত্যুর তারিখ আমাকে পাগল করে দিত। কিন্তু ততদিনে শহরে, আমাদের চারপাশে মৃত্যু ব্যাপারটাই বড় সহজ হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে। যে ভয় জন্ম নেওয়ার কথা ছিল, সেটা মুছে মানুষ এখন বিদায় সম্বর্ধনা পালন করতে বেশি পছন্দ করছে। এবং বিষয়টি অনুষ্ঠানের মতো হয়ে উঠছে।

    যেমন সেদিন, আমাদের জর্জসাব, যিনি সবাইকে কথার তোড়ে ফুড়ুৎ করে উড়িয়ে দিতেন এতদিন, আজ তিনিই সেই অলৌকিক পুরুষের কথা শুনে, কোনও তর্কে না গিয়ে, "মৃত্যুর ভবিষ্যৎ বাণী" বিষয়টাকে একবাক্যে মেনে নিলেন।

    তার আগে অবশ্য, দেশের সবচেয়ে বড় টিভি চ্যানেলের কর্ণধার, সাংবাদিক, পুলিশ, মেয়র, এমপিদের মৃত্যুর তারিখ ঘোষিত হয়েছিল, বলাবাহুল্য সবার মৃত্যুর তারিখ এবং সময় সফল ভাবেই মিলে গেছে।

    এবং অলৌকিক পুরুষ যখন বললেন, "এই ভূমি, জঙ্গল এবং জল সবকিছুই মৃত্যু-দেবতার হওয়া উচিত, কেননা, মৃত্যুই একমাত্র সত্য!"

    জর্জসাবও সেই কথা মেনে বন্ডে সাইন করে দিলেন। সর্বোচ্চ আদালতের জর্জসাব বলে কথা! কত পাওয়ার তাঁর! আর নিয়ম যদি একবার চালু হয়ে যায়, সেই নিয়ম বন্ধ করা সহজ নয় কিছুতেই।

    স্টার পেপারের এক রিপোর্টার যখন, তাদের বহুমূল্য পেপারের জন্য জর্জসাবের ইন্টারভিউ নিল, তখন তিনি এই কথাগুলো বলছিলেন। যাইহোক, ভাবনার পরতে পরতে ভাবনা জড়িয়ে থাকে! ঘটনাও।

    জর্জসাব মহান অলৌকিক পুরুষকে ক্ষমতাবান পুরুষ বলেই মানেন। এবং তিনি আমাদের দেশের ভবিষ্যত পাল্টাতে পারেন এই সাদা ধবধবে দাড়ি-গোঁফের মহান পুরুষই, এটা বিশ্বাস করেন। তিনি একথা পেপারে তা নির্দ্ধিধায় স্বীকারও করেছেন। অবশ্য বিরোধী পক্ষ কানাকানি করছিল, জর্জসাব এসব তাঁর ছেলের ভবিষ্যতের বিনিময়ে করছেন। যাইহোক, আলোচনা সমালোচনা তো বিদগ্ধজনের সঙ্গেই হবে!

    বিস্ফোরণের মতো আরেকটি খবর তিনি সেদিন টিভি চ্যানেলকে দিলেন, তাঁর মৃত্যুর তারিখ! তিনি এও ঘোষণা করলেন যে, মৃত্যু ব্যাপারটাই বিধি নির্ধারিত! নিশ্চিত! সত্য! এখানে কারো কোনও জাজমেন্ট চলে না। দেশের সমস্ত নাগরিকদের উচিত সমস্ত মহান পুরুষের দেওয়া মৃত্যুকে সহজভাবে মেনে নেওয়া। এমনকি গণতন্ত্র এবং ইত্যাদি... ইত্যাদি ক্ষেত্রেও
    তিনি খালিল জিব্রানের “দ্য বিউটি অফ ডেথ” কবিতাটি থেকে খানিকটা আবৃত্তি করলেন,

    "Let me sleep, for my soul is intoxicated with love and
    Let me rest, for my spirit has had its bounty of days and nights;
    Light the candles and burn the incense around my bed, and
    Scatter leaves of jasmine and roses over my body;
    Embalm my hair with frankincense and sprinkle my feet with perfume,
    And read what the hand of Death has written on my forehead."

    "আমাকে ঘুমাতে দাও, কারণ আমার আত্মা প্রেমে মত্ত, আর
    আমাকে বিশ্রাম নিতে দাও, কারণ আমার সত্তা দিনরাতের প্রাচুর্য উপভোগ করেছে;
    আমার শয্যার চারপাশে মোমবাতি জ্বালার... ধূপ জ্বালাও, এবং
    আমার দেহের উপর জুঁই ও গোলাপের পাতা ছড়িয়ে দাও;
    লোবান দিয়ে আমার চুলে সুগন্ধি মাখাও আর আমার পায়ে সুগন্ধি ছিটিয়ে দাও,
    আর আমার কপালে মৃত্যুর হাত যা লিখেছে তা পড়ো।"

    রিপোর্টার থেকে আমজনতা সবাই অবাক হয়ে জর্জের জ্ঞান-বিদ্যার তারিফ শুরু করে দিল ততক্ষণে! সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানটি লাইভ ইন ছিল। এবং অনুষ্ঠানটি যাতে সবাই দেখার সৌভাগ্যপ্রাপ্ত হন, সেদিন স্বঘোষিত ছুটি অ্যালাউ করছিল সরকার। অবশ্য যারা ছুটি নিতে পারে নি, তারা পরে রিলের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো দেখে নিয়েছিল। এই সাক্ষাৎকারের ফলে, যারা জর্জসাবকে চিনত জানত না, মানে অতি সাধারণ মানুষ, যারা খাদ্যের চিন্তা করতে করতে অন্য কিছু ভাবার, জানার কথা চিন্তা করে না, তারাও চিনে গেল। অলৌকিক পুরুষের মৃত্যুর তারিখ নিয়ে ভবিষ্যৎ বাণীর বড় এক প্রমাণ হয়ে উঠলেন জর্জসাব!

    যাইহোক, তিনি শহরের একজন গণ্যমান্য ব্যক্তি! শুধু কুসংস্কারকে শিলমোহর দিয়েছেন বলে অন্যান্য বুদ্ধিজীবীদের কাছে খানিকটা খাটো হয়ে গেছেন বটে! কিন্তু মৃত্যুর আগে তিনি এসব হালকা ঝুট-ঝামেলা মিটিয়ে দেওয়ার সিন্ধান্ত নিলেন। কয়েকদিন পরে, শহরে ঘোষণা করে দিলেন, মৃত্যুর তারিখে তিনি একটা বিরাট পার্টি রাখতে চান। দু'শো আড়াইশো পদ। পানের এলাহি আয়োজন। এবং নাগরিকদের পান-ভোজন, আনন্দ দেখতে দেখতে তিনি মৃত্যু বরণ করতে চান। এই তাঁর শেষ ইচ্ছা!




    বৈশালী চলে গেলে আমাকে আবার মদের কাছে, নেশার কাছে ফিরতে হবে।

    মদের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাচ্ছে। সবাই সবার মৃত্যুর তারিখ জেনে গেছে। এবং মৃত্যুকে স্বাভাবিকভাবে নিতে গিয়ে তারা আকণ্ঠ মদপানকেই রাস্তা ভাবতে শুরু করেছিল। নেশা মানুষকে বাস্তব থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং অনেক কিছু ভুলিয়ে তুরীয়ানন্দে ভেসে যেতে সাহায্য করে!

    আমি আবার ইয়ানের মৃত্যুর কথা ভাবছিলাম। কিন্তু জোহরার মৃত্যুর তারিখ পাওয়া গেছে প্রায় তেষট্টি বছর পর। এখন জোহরার বয়েস পাঁচ। জোহরা যেন আমাদের চেয়ে আলাদা! আমি আজকাল বড় বেশি করে জোহরার জন্য ভাবছি, যাতে আমাদের মৃত্যুর পরে সে ঠিকভাবে জীবনকে চালিয়ে নিতে পারে!

    সবচেয়ে আগে মৃত্যুর তারিখ ইয়ানের, তারপর বৈশালী, আমার এবং জোহরার... আমি কেন জানি না, ইয়ানের প্রতি আজকাল আর টান, স্নেহ অনুভব করি না। বরং বেশি বেশি করে জোহরাকে ভালোবাসতে থাকি। বৈশালীর জন্য কষ্ট হয়। নাকি নিজের জন্য? বৈশালী চলে গেলে আমি আর জোহরা প্রচন্ডরকম অসুবিধার মধ্যে পড়ে যাব। বৈশালী গৃহকার্য এবং টাকা আয় আমার চেয়ে বেশি করে বৈশালী। তার জন্যই আমাদের সংসারে স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়ে উঠছিল।

    বৈশালী চলে যাওয়ার তিন বছর তিনমাস আমাকে অন্য কাজ খুঁজে জোহরার জন্য কিছু টাকা জমিয়ে রাখতে হবে। জোহরা তখনও বেশ ছোট থাকবে। ততদিনে টাকা ইনকামের কোনও সঠিক পথ নাও খুঁজে পেতে পারে!

    — তুমি ফেব্রুয়ারির ১৪ তারিখ চলে যাবে বৈশালী...

    আমি চামড়া ফ্যাক্টরিতে যাওয়ার আগে, দাড়ি কামাতে কামাতে কথা ক-টি বলেই ফেললাম। আমার হাতে ধারালো ব্লেড। কিন্তু চিবুক ঠোঁট কাটল না। বেশ সহজভাবেই আমি কথা ক'টি বলে নিজেকে হালকা করে ফেললাম।

    বৈশালীও বেরোবে। জোহরার জন্য দুপুরের খাবার বানিয়ে টেবিলে রাখছে। নড়বড়ে তিন পায়া টেবিল। ইয়ান স্কুল থেকে ফিরে, দুপুরের খাবার জোহরাকে খাইয়ে দিতে পারে আজকাল।

    বৈশালী তার নিজের এবং আমার টিফিনবাক্স রেডি করে ফেলেছে ততক্ষণে। এবং সস্তা ছিটের শাড়ির কুঁচি ঠিক করতে করতে বলল,
    — জানি...এবং তুমি তার তিন বছর তিন মাস পরে...

    আমি চমকে উঠলাম। আমি এতদিন জানতাম বৈশালীর মায়াভরা মন এই খবর কিছুতেই মেনে নিতে পারবে না। কিন্তু আমরা দু'জন দু'জনকেই যা লুকিয়ে এসেছি সবটাই স্পষ্ট হয়ে পড়ল যখন তখন দেখলাম ইয়ানের মৃত্যুর খবরও সবাই জানে। এমনকি ইয়ানও।

    এমনকি সে জানাল, তাদের স্কুলে অলৌকিক পুরুষের লেখা বইয়ের প্রতিটি খণ্ড লাইব্রেরিরুমে রাখা এবং কম্পিউটারেও আপলোডেড। নাম দিয়ে সার্চ করলে সবকিছু স্পষ্ট জানা যায়। মহান পুরুষের কাছে ভিড় ঠেকাতে এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে ইদানিং। ইয়ান এবং তার বন্ধুরা সবাই সবার মৃত্যুর তারিখ জানে। বৈশালী জানে। এবং আমিও। জোহরা জানে, তাকে একটা দীর্ঘ সময় এই দুনিয়ায় কাটাতে হবে আমাদের তিনজনকে ছেড়ে।

    — বৈশালী তুমি সব জানো... আমার উচিত ছিল তোমাকে জানানো। কিন্তু আমি সাহসী নই, তুমি তো জানো...
    — আমিও তোমাকে ভেঙে দিতে চাইনি... তাই...
    — জোহরার জন্য আমাদের বেশি করে টাকা রেখে যাওয়া উচিত এবং এমন কাউকে দায়িত্ব দিয়ে যাওয়া উচিত যে আরও দশ বছর এই দুনিয়ায় থাকতে পারবে...
    — আমার ইয়ানের জন্য কষ্ট হয়... বেচারা এখনো পর্যন্ত একবারও ফ্রুটস কেক খায়নি...
    — ইয়ান কোথায়?
    — ছবি আঁকছে— মৃত নদী এবং পুড়ে যাওয়া জঙ্গল...মৃত পরিবেশের...স্কুলের প্রজেক্ট... যাতে বাচ্চারা কিছুতেই মৃত্যুকে আর ভয় না পায়!




    জয়রামের বৌ সুজাতার মৃত্যুর তারিখ আমার সেদিনই জেনে এসেছিলাম। এবং সেটা ঘটে যাওয়ার আগে সুজাতা কোনও একটি "বিদায় সম্বর্ধনা" দেখতে চাইল। এই বিদায় সম্বর্ধনা খুব করে পালন হচ্ছে আজকাল। শহরের মানুষজন মৃত্যুর উদযাপন করছে। জয়রাম, আমার মতো মানুষজনের তো জন্মদিন পালনের মতো টাকা থাকে না, সেখানে মৃত্যুর উদযাপন!

    কিন্তু আমাদের পূর্বপুরুষেরা মৃত্যু পথযাত্রীর ইচ্ছাপূরণের কথা বলে গেছেন। এবং ব্রিটিশ সরকারও তাদের রাজত্বকালে এই নিয়ম মেনে এসেছে। ফাঁসির আগে আসামির শেষ ইচ্ছের কথা জেনে নিয়ে তা অবশ্যই পালন করা হত।

    জয়রামও উঠে পড়ে লেগে গেল সেই ইচ্ছাপূরণ করতে। আর সৌভাগ্যবশত জর্জসাবের মৃত্যুর তারিখ আগামী পরশু। সে একটি ক্যাটারার পার্টির সঙ্গে কথা বলে রান্নার কাজে ভিড়ে গেল এবং সুজাতাকেও নিয়ে নিল সঙ্গে। পরশুর দু'দিন পরে সুজাতার তারিখ। মৃত্যুর!

    আমিও এর আগে কখনো "বিদায় সম্বর্ধনা" দেখিনি। জয়রাম আমার মনের সুপ্ত বাসনা জানতে পেরে আমাকে কাবাবের জন্য নরম থাই মাংসের দায়িত্ব দিল। চামড়ার ফ্যাক্টরিতে কাজ করি যখন, এসব ক্ষেত্রে আমার খানিক যোগাযোগ আছে। ফলে বিষয়টা অত কঠিন নয়! আমি বৈশালীকেও নিয়ে যেতে চাইছিলাম, কিন্তু সে আজ ইয়ানের জন্য ফ্রুটস কেক বানানোর জন্য রেডি হচ্ছিল।




    জর্জসাবের বিরাট বাংলো। সাদা ধবধবে পাথর বিছানো। অফহোয়াইট এবং হালকা নীল রঙের গোলাপে পুরো বাগানটাকে সাজানো হয়েছে। লাইটগুলো এমনভাবে বসানো হয়েছে মৃদু আলো জোছনার মতো শীতল অনুভূতি এনে দিচ্ছে। বাগানে বিরাট পার্টি। শহরের গণ্যমান্য সব ব্যক্তি উপস্থিত। হবেন নাই বা কেন, জর্জসাব ছাড়া গণ্যমান্যদের চলত নাকি! এরা সবাই জর্জসাবের গুণগ্রাহী। রাজনৈতিক নেতা, অধ্যাপক, কলেজের ভিসি, পুলিশের বড়বাবু এমনকি আইএস অফিসার, ইউনিয়নের নেতা থেকে শহরের ডন সবাই হাজির। ছিঁচকে চোরের নেতাকেও দেখলাম। দু'চারজন অভিনেত্রীও এসেছেন। আজ পোশাকের রং অফহোয়াইটের সঙ্গে নীলের কম্বিনেশন। আমি জীবনে এত সুন্দর এবং এত বিরাট পার্টি কখনো দেখিনি। আমার তো স্বর্গ স্বর্গ ফিল হচ্ছিল। জ্যান্ত মানুষের স্বর্গে পৌঁছে যাওয়ার ফিল!

    সবাই ফিসফিস করে বলছে, আজ সেই মহান পুরুষও আসতে পারেন! কেননা, এটি শহরের সবচেয়ে বড় মৃত্যু! সুজাতা আমাকে এসে বলল, সাড়ে তিনশো পদ তৈরি হয়েছে। মিষ্টি আলাদা। পানীয়ের জায়গাটা এখনো বন্ধ করে রাখা হয়েছে। জর্জসাব এলে খোলা হবে!

    এতরকম পদ...

    আমরা তিনজন প্লেট হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছি। খাচ্ছি। অপূর্ব স্বাদ! জোহরাকে আনতে পারলে ভালো হত!

    সন্ধে ছাড়িয়ে রাত। রাত ছাড়িয়ে ভোর। সবাই কিছু না কিছু খেয়ে যাচ্ছে এবং জর্জসাব তখনও আসেন নি। আমি একজন বয়কে জিজ্ঞেস করলাম,
    — ভোর চারটে সাতচল্লিশে টাইম দেওয়া হয়েছে...

    জর্জসাব এলেন। সাদা ধবধবে সিল্কের পাজামা পাঞ্জাবিতে তাঁকে ফেরেস্তা লাগছিল। তাঁকে বৃদ্ধ, ন্যুব্জ তো লাগছিলই না, বরং তরতাজা তরুণ যুবকের মতো। তিনি আসতেই সবাই শান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল!

    তিনি মাইক্রোফোন নিলেন, শান্ত স্বরে বললেন, "আজ আপনাদের সবাইকে একসঙ্গে দেখে আমার খুব আনন্দ হচ্ছে... মহান অলৌকিক পুরুষ ঠিকই বলেন, মৃত্যুই একমাত্র পারে বিরোধীপক্ষকে মিটিয়ে 'এক রাষ্ট্র'-এর সমতা নিয়ে আসতে... আপনারা সবাই মহান পুরুষের প্রতি আস্থাশীল থাকুন! দেশকে এগিয়ে যেতে দিন... আমি আর কিছুক্ষণের মধ্যে মৃত্যুর কোলে নিজেকে সমর্পণ করবো। তার আগে আমি নিজের হাতে নিজের মৃত্যুকে সেলিব্রেট করতে চাই... যাতে মৃত্যু আরও সুন্দর হয়ে ওঠে"

    জর্জসাবের তরুণী স্ত্রী একটা শ্যাম্পেনের বোতল এগিয়ে দিলেন। জর্জসাব খুললেন। মুখে ছোঁয়ালেন... ফেনায় ফেনায় ভরে গেল চারপাশ এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর ঘাড় কাত হয়ে এলিয়ে পড়ল একদিকে।




    জর্জসাবের মৃত্যু দেখে আসা ইস্তক আমার মধ্যে আর বিন্দুমাত্র মৃত্যুভয় ছিল না। এমনকি ইয়ানকেও মৃত্যুর সহজতা সম্পর্কে বুঝিয়ে ফেলতে পেরেছিলাম। ঠিক ছিল, বৈশালী, জোহরা, ইয়ান এবং আমি মিলে ইয়ানের মৃত্যু উদযাপন করবো। যদিও আমার ইচ্ছে ছিল অনুষ্ঠানটিকে আরেকটু বাড়িয়ে আমার কয়েকজন কাছের বন্ধুকে ডাকি। আমি এর আগে কখনো কাউকে কোনও পার্টিতে ডাকতে পারি নি। কেননা, হাতে অন্যকে ডেকে খাওয়ানোর মতো পয়সা কখনোই জমা করতে পারি নি আমি। তাই এই সুযোগে কয়েকজন যদি আসেন!

    কিন্তু বৈশালী আমাকে বারণ করে দেয়। সে মনে মনে ইয়ানের জন্য শান্ত মৃত্যু ঠিক করে রেখেছিল। বৈশালীর কষ্ট ভেবে আমিও মেনে নিই। বরং আমার মৃত্যুর সময় কিছু একটা করবো ভেবে, আনন্দিত হয়ে উঠি!

    আমরা চারজন মোমবাতি জ্বালিয়ে, ধূপবাতি জ্বালিয়ে খুব সুন্দর করে সাজিয়ে তুললাম ছোট্ট বাড়িটাকে। এমনভাবে এই দু'কামরার বাড়িটিকে কখনো সাজানো হয় নি। আজ বেশ সুন্দর লাগছে। মনের ভেতর একটা ভালোলাগাও কাজ করছে!

    ইয়ানের মৃত্যুর সময় সকাল এগারোটা পঞ্চান্ন!

    বৈশালী সকালেই স্নান করে সুন্দর একটা ফ্রুটস কেক বানিয়ে ফেলেছে। ইয়ান আজ তার সবচেয়ে সুন্দর জামাটি পরেছে। জোহরা আজ সকাল থেকে একবারও কাঁদে নি। একটা সুন্দর ঝুঁটিও বেঁধেছে কোনও কান্না ছাড়াই।

    ইয়ান স্বাভাবিক আছে। বৈশালী নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে। আমি অন্যমনস্ক হয়ে মাঝে মধ্যে রাস্তার দিকে তাকাচ্ছি। কিছুতেই এই দমবন্ধ পরিবেশে থাকতে ইচ্ছে না। কিন্তু উপায় নেই...

    আমরা বসে আছি বৃত্তাকারে। জোহরা আমার কোলে। আমার পাঞ্জাবীর বোতামটা নিয়ে খেলা করছে। ইয়ান এবং বৈশালী পাশাপাশি। ইয়ান আজ কেক নিয়ে এত লোভ দেখাচ্ছে না। মোমবাতির জ্বলন্ত শিখার ভেতর নিজের আঙুল দিয়ে "মাছ ধর ধর..." টাইপের একটা খেলা খেলছে...

    এগারো চল্লিশ নাগাদ বৈশালী উঠে বাথরুমে গেল। আমি জোহরাকে আরও জোরে জাপটে ধরলাম। ইয়ান তেমনভাবেই খেলা করে যাচ্ছে।

    বারোটা পাঁচে বৈশালী বাথরুম থেকে বেরিয়ে এলো। সে আমার দিকে অবিশ্বাস্য চোখে কিছু ইশারা করল।

    আমি তাকিয়ে দেখি, গলে যাওয়া মোম দিয়ে ছোট ছোট বৃষ্টি ফোঁটা বানাচ্ছে ইয়ান...

    — বাবা দেখো, দেখো... এভাবে জল বানিয়ে ফেলতে পারলে কোনও নদী, জঙ্গল কখনো মরবে না। আমি এগুলো আমার ড্রয়িং খাতায় জুড়ে দেব...

    লৌকিকভাবে হ্যাঁ সূচক বাক্যে দুলে উঠল আমাদের মাথা...


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • গপ্পো | ১১ এপ্রিল ২০২৬ | ২৮ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    ঘ - শর্মিষ্ঠা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। দ্বিধা না করে প্রতিক্রিয়া দিন