

অলংকরণ: রমিত
রাস্তার শেষে ফুলের দোকান। তারপর ষাট ডিগ্রি মত ঘুরে ঠিক পাশেই মাংসের দোকানটি।
ফুলের দোকানে কাঠের ত্যাড়াব্যাঁকা টেবিলে ডাঁটিসহ গোলাপ, ডালিয়া, মল্লিকা। রকমারি গ্ল্যাডিউলাস, বেগুনী অর্কিড - থরে থরে ফুটে আছে। হেলিয়ে রাখা আছে সাদা দ্যুতি গোল পদ্মচাকা। হলুদ-কমলা গাঁদার ঝুলন্ত সারির পাশেই সবজে জলছড়া দেওয়া রজনীগন্ধা স্টিক। স্তুপাকার ডবল-জুঁই মালা। বড়, মেজ তোড়াদের আশপাশে দুচারটে সবুজ পাতা, জিপসির পিড়িংফুল গোঁজা। ওতে যেমন রহস্য ঘনিয়ে ওঠে, মধ্যমণিদের তেমনি আরো টাটকা দেখায়।
পাশে মাংসের দোকানেও ড্রামস্টিক, বিরিয়ানি, ব্রেস্টকাট, কারিকাট, কিমা নানান মাপের নানা কাটিং। মেটে আলাদা। পালক একপাশে ডাঁই। বাতাসে তীক্ষ্ম বঁটি এবং ভোঁতা পাথরের অপেক্ষা। কাটিং তাজা রাখতে জলের ছিটে দেওয়া চলে। বাতাসে ঘন হয়ে থাকে ধাতব গন্ধ।
পুরুষটি এসে বিরিয়ানিকাট খরিদ করে নিয়ে গেল। নারীটি নিলো ডাবল জুঁইএর চারটি মালা। আইব্রাউ না করা চোখে কাজল নেই। তবে কি ছবিতে? চুলে নয়? কে জানে! সদ্য তরুনীটি ম্যাড়মেড়ে টিশার্ট প্যান্টে শিস দিতে দিতে আসে। কুকুরের স্পেশাল অর্ডারি চিকেন নিয়ে চলে যায়। শেভ করা লাজুক প্রেমিক অনেক ভেবে একটি কমলা গোলাপকলি বেছে নেয়।
চাঁদিতে ঝুঁটি বাঁধা প্রীতি নামের বালিকাটি যার সামনের দুখানা দাঁতের বাঁদিকেরটি পড়ে গেছে - সন্ধ্যে নামলে দোকান দুটির পসরাতে ধূপ ঘুরিয়ে যায়। কান আর চোখ তার সবে গজাতে শুরু করেছে - দাঁত পড়ে যাওয়া সামাল দিতেই বোধহয়। অবাক মুখে, বড় বড় চোখ করে রাস্তার বামদিকের শুন্ডি আর ডানদিকের হাল্লাকে রোজ দেখে ও শোনে সে; দুই দোকানীর কাছেই মানুষের চাহিদা হুবহু এক।
'ফ্রেশ হবে তো? ফ্রেশ'? জানতে চায় ভিড়ের মুখগুলি।
রাতে দোকানদুটিতে চাবি পড়ার আগে, রাস্তার পিছনের দিকের বারোয়ারি ল্যান্ডফিলে মুখ থুবড়ে পড়তে থাকে প্লাস্টিকে মোড়া বাসি লুজফুল, শুকনো মালা; দেহাবশেষ, হাড় ও পালক। ফ্রেশ প্লাস্টিকেরা এভাবে ফ্রেশ রয়ে যায়; শতকের পর শতক।
dc | 2a09:bac3:3f45:a8c::10d:***:*** | ০২ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:১৫739640