
গর্গ আজ জামিন পেল। কিন্তু বিপদ কিছুই কমেনি। লক্ষ্য করে দেখবেন, বিন্দুমাত্র বিরোধিতা হলেই ছলছুতো করে মুখ বন্ধ করার চেষ্টা চলছে। পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ভয়ানক চেষ্টা করেও, প্রায় চোখের জল ঝরিয়েও আক্রমণ থেকে রেহাই পাননি। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর এবং মজার ব্যাপার হল, স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে আরজিকর কাণ্ডে রাতের পর রাত জেগেও রেহাই পাননি। কবে সমাজ মাধ্যমে 'হাহা' লিখেছিলেন, সেইসব খুঁড়ে এনে এফআইআর হয়েছে। লোকজন ফেসবুক লাইভ করার জন্য, অথবা স্রেফ বক্তব্য রাখার জন্য আটক। কে কোন কাজটা ঠিক করেছেন, কী ভুল করেছেন, সেটা এখানে পয়েন্টই না, কারণ, এগুলো তো ন্যায়বিচার হচ্ছেনা। "তোরা আমাদের বিরুদ্ধে বলেছিস, এবার দ্যাখ ক্যামন লাগে" চলছে। এটাকে গণতন্ত্র বলেনা। পাকিস্তান-টাকিস্তানে এরকম হয়। বাংলায় যাঁরা এটা করছেন, এবং যাঁরা নাচছেন, তাঁরা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার নাটবল্টু হিসেবে কাজ করছেন।
সবচেয়ে হতাশাজনক যেটা, সেটা হল, সোশাল মিডিয়ায় যাঁরা "প্রগতিশীল" বলে পরিচিত, তাঁদের কারবার। দেখে মনে হচ্ছে, এখনও তাঁরা তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে লড়ে চলেছেন। বিকাশ ভট্টাচার্য তৃণমূলের দুজনের পক্ষে আজ হাইকোর্টে সওয়াল করেছেন, সেই নিয়ে হাহাকার। এর একটাই মানে, যে, "দ্যাখ ক্যামন লাগে" স্বৈরাচারী আচরণগুলোকে তাঁরা সমস্ত মুখোশ খুলে ফেলে সমর্থন করছেন। কারণ, এ খুব পরিষ্কার, তৃণমূলের লোকজন প্রচুর দুর্নীতি করে থাকতেই পারে, কিন্তু যা হচ্ছে, তা ন্যায়বিচারের চেষ্টা নয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। আগেই বললাম, জমানা বদলের পর, এই সমস্ত কারবার আগে পাকিস্তান-টানে হত, সেটাই বাংলায় আনার চেষ্টা চলছে। আগে এটা কখনও হয়নি। "কেউ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে চোর বলতে পারেনি", "আমাদের নেতাদের জেলে ভরতে পারেনি", এগুলো কোনো কথাই নয়। পারেনি নয়, ওগুলো করা হয়নি। যেভাবে ৭৭ সালে কংগ্রেস নেতাদের জেলে ভরা হয়নি। শাসক দলের চারটি লোককে জড়ো করে স্লোগান দিলে, ফালতু কেসে জেলে ভরলে আটকাত কে? এগুলো করা হয়নি, কারণ ওটাই ভারতীয় গণতন্ত্র। সেটাকে ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে, বিকাশ ভট্টাচার্য তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন, ঠিক করেছেন। উল্টোদিকে যাঁরা ভাবছেন তৃণমূল এখনও সরকারে, আর এরা হল মিত্রশক্তি, তাঁরা স্বস্তিকার উদাহরণটা দেখে নিতে পারেন। অবশ্য দেখেও কিছু হবে কিনা বলতে পারবনা।
:|: | 2607:*:*:*:*:*:*:* | ২২ মে ২০২৬ ২৩:৩৮740782