
তৃণমূল কিংবা সিপিএম, আআপ, আরশোলা, কেউ জিতলে বাংলার কী সব্বোনাশ হত ভাবুন। ধরুন, নির্বাচনের রায়টা এরকম হয়নি। এদের একটা জিতেছে। এমনি তো জিততে পারতনা, তাই কীভাবে জিতেছে? ধরুন, প্রথমে সারা দেশে বাঙালি ঠ্যাঙাও রব তুলেছে, কিছু নাগরিককে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠিয়েছে। তারপর অন্তত ৩৫ লাখ বৈধ ভোটারকে বাদ দিয়ে বলেছে, এদের বাদ দিয়েই ভোট হবে। তারপর, প্রধান প্রতিপক্ষের প্রচারযন্ত্রের আপিসে রেড করিয়েছে। ভোটের মধ্যেই কর্তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়েছে, ভোট মিটতেই ছেড়েও দিয়েছে। অন্য কোনো সনাতনী জমানায় এটা কল্পনা করতে পারতেননা, হলে মিডিয়ায় প্রলয়কাণ্ড হয়ে যেত। ডান-বাম-মধ্য সবাই মিলে, বাঙালি-ঠ্যাঙাও রব শুনলেই বলত যুদ্ধাপরাধ হচ্ছে। ৩৫ লাখ ভোটারকে বাদ দেওয়া হবে শুনলেই বলা হত, ফ্যাসিবাদ। প্রতিপক্ষের আপিসে হামলা হলে তো রাষ্ট্রসঙ্ঘের বাহিনী ডেকে আনতে বলা হত। অবাধে গালাগাল, আন্দোলন, পৃথিবী-দখল এইসব হয়ে যেত। কিন্তু এই অসনাতনীদের নিয়ে এসব কিচ্ছু হয়নি। এদের পক্ষে সবই সম্ভব।
কিন্তু এখানেই শেষ না। ধরুন, তারপর নির্বাচন হয়েছে, এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীতে মুড়ে গণনাকেন্দ্র থেকে বিরোধী প্রার্থী আর এজেন্টদের বার করে দেওয়া হয়েছে। সনাতনী কোনো পার্টি হলে আমি তো পরের দিনের খবরের কাগজের হেডিং কল্পনা করতে পারছি। উপরে পুরো এক লাইন জুড়ে "লজ্জা, লজ্জা লজা"। তারপর ধরুন, ভোটে জিতেই চারদিকে বুলডোজার চালু করা হয়েছে। সংখ্যালঘুর ওবিসি সংরক্ষণ বাতিল করা হয়েছে। সমালোচকদের টপাটপ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুরসভা আর পঞ্চায়েতগুলো গায়ের জোরে দখল করা হয়েছে। পুরসভার অধিবেশনে তালা মেরে দেওয়া হয়েছে।
এবং এইবার কল্পনা করুন, বিখ্যাত টিভি চ্যানেলে বিশেষজ্ঞরা বসে বসে এসবের মধ্যে বলছেন, "বুইলেন ১৮৭১ সালে সে কী সন্ত্রাস"। তারপর বিরোধী দলের অপকীর্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করছেন। সবশেষে উত্তরমেরুর হিমবাহে কীরকম বিপর্যয় দেখা যাচ্ছে, সেই আলোচনায় ঢুকে যাচ্ছেন। এদিকে শাসক দলের নেতারা কেউ বলছেন ঠ্যাঙাব, কেউ বলছেন, আমি সংখ্যালঘুদের বিধায়ক নই, মুখ্যমন্ত্রী উপনির্বাচনের আগে বিরোধী প্রার্থী সম্পর্কে বলছেন, ভোট শেষ হোক, ওর ব্যবস্থা করব, সেই দায়িত্ব আমার। ওদিকে পাঁচবছর আগে কে কোথায় রগড়ানি দিবস পালন করবেন বলেছিলেন, কে ভোট প্রক্রিয়ায় সন্দেহ-প্রকাশ করেছিলেন, কে ভিডিওয় বিক্ষোভের লাইভ করছিলেন, সব্বাই নাকি প্ররোচনা দিয়েছেন। টিভির বাবুরা সোনা মুখ করে শুনছেন, আর প্রগতিশীলরা দুহাত তুলে আনন্দ করে চলেছেন। বিক্ষোভ দেখাতে গেলেই ধরবে, পৃথিবী দখলের ডাক দেবার তো প্রশ্নই নেই। এমনকি ডিএ হোক বা সরকারি সার্কুলার, সেই নিয়ে যে বলবেন, তারও উপায় নেই।
এই হল বিধর্মীদের সরকার। যেকোনো বিরোধীপক্ষ ক্ষমতায় এলেই এইসব হত। খুব বাঁচা বেঁচে গেছেন, গণতন্ত্র এসে গেছে। বিশ্বাস না হলে টিভি দেখে নিন, আর যদি চান্স দেয় তো অংশগ্রহণ করে জয়ধ্বনি করুন।
dc | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ২৪ মে ২০২৬ ১২:৫৬740814