এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  সমোস্কিতি

  • স্বাধীনতার স্বাদ

    সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়
    সমোস্কিতি | ২৪ মে ২০২৬ | ১০২ বার পঠিত

  • তৃণমূল কিংবা সিপিএম, আআপ, আরশোলা, কেউ জিতলে বাংলার কী সব্বোনাশ হত ভাবুন। ধরুন, নির্বাচনের রায়টা এরকম হয়নি। এদের একটা জিতেছে। এমনি তো জিততে পারতনা, তাই কীভাবে জিতেছে? ধরুন, প্রথমে সারা দেশে বাঙালি ঠ্যাঙাও রব তুলেছে, কিছু নাগরিককে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠিয়েছে। তারপর অন্তত ৩৫ লাখ বৈধ ভোটারকে বাদ দিয়ে বলেছে, এদের বাদ দিয়েই ভোট হবে। তারপর, প্রধান প্রতিপক্ষের প্রচারযন্ত্রের আপিসে রেড করিয়েছে। ভোটের মধ্যেই কর্তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়েছে, ভোট মিটতেই ছেড়েও দিয়েছে। অন্য কোনো সনাতনী জমানায় এটা কল্পনা করতে পারতেননা, হলে মিডিয়ায় প্রলয়কাণ্ড হয়ে যেত। ডান-বাম-মধ্য সবাই মিলে, বাঙালি-ঠ্যাঙাও রব শুনলেই বলত যুদ্ধাপরাধ হচ্ছে। ৩৫ লাখ ভোটারকে বাদ দেওয়া হবে শুনলেই বলা হত, ফ্যাসিবাদ। প্রতিপক্ষের আপিসে হামলা হলে তো রাষ্ট্রসঙ্ঘের বাহিনী ডেকে আনতে বলা হত। অবাধে গালাগাল, আন্দোলন, পৃথিবী-দখল এইসব হয়ে যেত। কিন্তু এই অসনাতনীদের নিয়ে এসব কিচ্ছু হয়নি। এদের পক্ষে সবই সম্ভব।

    কিন্তু এখানেই শেষ না। ধরুন, তারপর নির্বাচন হয়েছে, এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীতে মুড়ে গণনাকেন্দ্র থেকে বিরোধী প্রার্থী আর এজেন্টদের বার করে দেওয়া হয়েছে। সনাতনী কোনো পার্টি হলে আমি তো পরের দিনের খবরের কাগজের হেডিং কল্পনা করতে পারছি। উপরে পুরো এক লাইন জুড়ে "লজ্জা, লজ্জা লজা"। তারপর ধরুন, ভোটে জিতেই চারদিকে বুলডোজার চালু করা হয়েছে। সংখ্যালঘুর ওবিসি সংরক্ষণ বাতিল করা হয়েছে। সমালোচকদের টপাটপ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুরসভা আর পঞ্চায়েতগুলো গায়ের জোরে দখল করা হয়েছে। পুরসভার অধিবেশনে তালা মেরে দেওয়া হয়েছে।

    এবং এইবার কল্পনা করুন, বিখ্যাত টিভি চ্যানেলে বিশেষজ্ঞরা বসে বসে এসবের মধ্যে বলছেন, "বুইলেন ১৮৭১ সালে সে কী সন্ত্রাস"। তারপর বিরোধী দলের অপকীর্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করছেন। সবশেষে উত্তরমেরুর হিমবাহে কীরকম বিপর্যয় দেখা যাচ্ছে, সেই আলোচনায় ঢুকে যাচ্ছেন। এদিকে শাসক দলের নেতারা কেউ বলছেন ঠ্যাঙাব, কেউ বলছেন, আমি সংখ্যালঘুদের বিধায়ক নই, মুখ্যমন্ত্রী উপনির্বাচনের আগে বিরোধী প্রার্থী সম্পর্কে বলছেন, ভোট শেষ হোক, ওর ব্যবস্থা করব, সেই দায়িত্ব আমার। ওদিকে পাঁচবছর আগে কে কোথায় রগড়ানি দিবস পালন করবেন বলেছিলেন, কে ভোট প্রক্রিয়ায় সন্দেহ-প্রকাশ করেছিলেন, কে ভিডিওয় বিক্ষোভের লাইভ করছিলেন, সব্বাই নাকি প্ররোচনা দিয়েছেন। টিভির বাবুরা সোনা মুখ করে শুনছেন, আর প্রগতিশীলরা দুহাত তুলে আনন্দ করে চলেছেন। বিক্ষোভ দেখাতে গেলেই ধরবে, পৃথিবী দখলের ডাক দেবার তো প্রশ্নই নেই। এমনকি ডিএ হোক বা সরকারি সার্কুলার, সেই নিয়ে যে বলবেন, তারও উপায় নেই।

    এই হল বিধর্মীদের সরকার। যেকোনো বিরোধীপক্ষ ক্ষমতায় এলেই এইসব হত। খুব বাঁচা বেঁচে গেছেন, গণতন্ত্র এসে গেছে। বিশ্বাস না হলে টিভি দেখে নিন, আর যদি চান্স দেয় তো অংশগ্রহণ করে জয়ধ্বনি করুন।




    আরশোলারা অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রাণী। তার প্রথম কারণ হল, ওরা দলবেঁধে থাকে এবং নোংরার মধ্যে ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু ওয়াশিং মেশিনে বিশ্বাস করেনা। যেন গায়ে ময়লা টয়লা লাগেনা, আস্ত পরমহংস। কিন্তু দুটো ডানা থাকলেও আরশোলা পাখি না, ছটা পা থাকলেও পিঁপড়ে না। সনাতনী হাবভাবের আড়ালে ওরা আসলে আমেরিকান এজেন্ট। সেই জন্য ওদের বৈজ্ঞানিক নাম পেরিপ্ল্যানেটা আমেরিকানা। কথাটা ল্যাটিন, যার আসল মানে হল, একদিন পুরো প্ল্যানেটই কিন্তু আমেরিকা করে দেব।

    শুধু আমেরিকানই নয়, আরশোলারা বিধর্মীও। ইদে গোমাংস খায়, ওদের বিখ্যাত দোকানের নাম আরশোলান। সেখানে নিয়মিত শোলা-জিহাদ চলে। মেয়েদের ধরে নিয়ে গিয়ে টপাটপ টোপর পরিয়ে দেওয়া হয়, একে বলে শোলার সাজ। জুরাসিক যুগ থেকেই এই প্রথা চালু, যখন সনাতনী ডাইনোদের ফৌত করে আরশোলারা ক্ষমতা দখল করে। তখন দক্ষিণ ভারতে ওদের বিরাট সাম্রাজ্য ছিল, যার নাম শোলা সাম্রাজ্য। রাজধানীর নাম ছিল শোলাপুর। নেতার নাম ছিল গব্বর সিং। সেই নিয়ে পরে একটা বিখ্যাত সিনেমাও হয়েছে, যার নাম শোলে।

    সুখের কথা এই, যে, শোলা সাম্রাজ্য কখনই চিরস্থায়ী হয়না। একসময় আরশোলারা কানে কুমন্ত্র দিয়ে প্রচুর মানুষকে কুপথে চালিত করতে সক্ষম হয়েছিল। সেখান থেকেই শোলা-পরামর্শ কথাটার উদ্ভব। কিন্তু শোলে থেকেই উঠে এসেছিলেন ঠাকুর সাহাব, যাঁর দশটি হাত। সেখান থেকেই বাংলায় ঠাকুর পুজো চালু হয়। বাংলার প্রিয়তম ঠাকুর রবীন্দ্রনাথও লিখেছিলেন, যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা শোলো রে। এখানে শোলো মানে সোলো, অর্থাৎ একার গান, যা শোলার বিরুদ্ধে একাই গাইতে হয়। তারপরই বাংলায় নবজাগরণ হয়। আমরা এই নবজাগরণের সন্তান। তাই আসুন, আরশোলা দেখলেই তাড়া করি। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে দেখলেই ব্যান করি। আর সামনে পেলে ধরে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিই। যদি কেউ ওয়াশিং মেশিনে ঢুকতে চায় তো ভালো, নইলে বাকি গব্বর সিংদের আর সহ্য করা হবেনা।


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • সমোস্কিতি | ২৪ মে ২০২৬ | ১০২ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • dc | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ২৪ মে ২০২৬ ১২:৫৬740814
  • আর অনেকদিন আগে আরশোলারা দলে দলে একটা সিনেমা দেখতে যেত। এতো বেশী যেত যে সিনেমাটার আসল নাম কেউ আর মনে রাখেনি, নাম হয়ে গেছিল শোলে।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঠিক অথবা ভুল প্রতিক্রিয়া দিন