এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • এই ডিম ছোঁড়া ব্যাপারটা 

    Jahar Kanungo লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৪ জুন ২০২৬ | ৩৯৭ বার পঠিত
  • ভূতপূর্ব সরকারের এক স্বাত্তিক নিরামিষাশী অফিসার, তাঁর গায়ে ডিম ছুঁড়েছে। নিরামিষ আহার তাঁর ধর্মীয় আচরণের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
    ইচ্ছাকৃত ভাবে তার গায়ে আমিষ দেওয়াকে ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।
    তিনি কি আদালতে কেস করতে পারেন?

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • দীপ | ২৪ জুন ২০২৬ ১৭:৩৮741350
  • চোখের চিকিৎসার অজুহাতে বিদেশ যাত্রা অভিষেকের। আজ থেকে তিনদিন আগে বলেছিলাম টিভিতে, যে বাইরের তিনটি দেশ থেকে উনি পুরো কালোটাকার নেটওয়ার্কটা অপারেট করেন, এবং উনি লাগাতার সেই দেশের নেটওয়ার্কদের সাথে কানেকশনে আছেন, ওনার সহকারী সুমিতকে সেইমতো আন্ডারকভার রাখা আছে, প্ল্যানিং করা হচ্ছে লাগাতার। ক্যাশকে পরোক্ষ মাধ্যমে পাচার করা হতে পারে, ব্যবহার করা হবে একাধিক শেল কোম্পানির একাউন্ট যেখানে সরকারি টাকা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নিয়ে নেওয়া হতো। অভিষেকের এই বীভৎসতার কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও পরাজিত, চলতো লাগাতার পারিবারিক অশান্তি, ঠান্ডা নয় একদম গরম যুদ্ধ মাঝেমধ্যেই দুজনের মধ্যে ডিরেক্ট কথাবার্তা বন্ধ হতো।

    তাই বিদেশ যাত্রার আবেদন নিয়ে প্রথম হাইকোর্টে দ্বারস্থ হন অভিষেকের স্ত্রী, এরপর আজ কাগজে পড়লাম বিদেশ যাত্রার অনুমতি চেয়েছেন অভিষেক স্বয়ং। ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে যে সকল ক্রিমিনাল মাইন্ডেড রাজনৈতিক লিডার এসেছেন অভিষেক তাদের মধ্যে অন্যতম ডেডলিয়েস্ট। ভোটে জেতা হারার সাথে ওনার ক্রাইমের কোনো সম্পর্ক নেই।
     
    অরিত্র দত্ত বণিক
  • দীপ | ২৮ জুন ২০২৬ ১৬:৪৫741500
  • ভৃত্যের কাহিনী
     
    দেখতে ভদ্রলোকের বাচ্চা কিন্তু বাস্তবে একটা আস্ত শয়তান। করতো নকশাল, বাপের নাম ভাঙিয়ে বাম ধরে কলেজে ঢুকেছিলো। তোলা আমল আসতেই পাল্টি।
     
    একে কেন্দ্র করে একটা মধুচক্র ছিল। নাটকের জগতে তারাই ছড়ি ঘুরিয়েছে এত দিন। নিজেকে শম্ভু মিত্র কিংবা গিরিশ ঘোষ ভাবতো।
    স্রেফ মমতার পা চেটে এর উত্থান। আগে পর্যটন তারপর শিক্ষা। গোটা দমদম এলাকায় এ আর এর সাঙ্গোপাঙ্গ মিলে কী কী করেছে শুধু দমদমে গিয়ে সাধারণ মানুষ কে জিজ্ঞেস করুন জেনে যাবেন। এর সম্পত্তি যদি কাটমানি আর তোলা বাজির জন্য বাজেয়াপ্ত না হয় তাহলে আর কার হবে? মাঝে আই.টি নোটিশ দিয়েছিল, হিসাববহির্ভূত আয়ের জন্য। সেই সময় ম্যানেজ করে নিয়েছে। এর পাপের সীমানা নেই। মোটা পার্থর থেকে দশগুণ বেশি ক্রাইম করেছে এ। শিক্ষা মন্ত্রী হিসেবে এর একটাই কাজ ছিল, টাকা তোলা। আর এর তাঁবেদার দের লিস্ট দেখে সরকারি কলেজের শিক্ষকদের ট্রান্সফার করা। টাকা ছাড়া কোন কাজ হবে না। ট্রান্সফার বদলে দিতে চাইলেও টাকা। এত টাকা করেছে যে এক সময় লিয়েন ছেড়ে অধ্যাপকের চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছে কিন্তু স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যেমন খুশি টাকা তুলেছে।
    বর্তমান যাদবপুরের ভিসির সাথে এর টেলিফোন কল ভাইরাল হয়েছে। উপযুক্ত টাকা তুলতে না পারায় একে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ থেকে ভাগিয়েছিল। পরিবর্তে সরকারি কলেজের এক ঘুষখোর যার নামে উৎসশ্রী পোর্টালে টাকা খাওয়ার অভিযোগ ছিল তাকে এনে বসিয়েছিল। সি এস সি, পি এস সি, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, প্রাইমারি যাকেই এনে বসিয়েছে একটাই শর্ত টাকা তুলে দিতে হবে। এস এস সি নিয়ে এই হারামজাদা কী করেছে আর নতুন করে বলতে চাই না। একটা জমি মাফিয়ার হয়ে সেই সময় কারা কারা সেই আমলে গলা ফাটিয়েছে, সরকারি কলেজের শিক্ষক হয়ে তৃণমূলের ঝান্ডা নিয়ে দৌড়েছে কিংবা তার বদান্যতায় নানান উচ্চপদে বসে ছড়ি ঘুরিয়েছে সব লিস্ট কিন্তু এস এস সমেত আছে।
    মালটা কে অনেক দিন দেখা যাচ্ছে না দমদমে। পালিয়েছে মনে হয়। এর নামে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট দেখতে চাই, তবে পশ্চিমবঙ্গের অগণিত বঞ্চিত শিক্ষক-অধ্যাপকদের শান্তি হবে।
     
    ফেসবুক
  • albert banerjee | ২৯ জুন ২০২৬ ১২:৩৫741521
  • কাক আকিঁয়ে টা গেল কোথায়?
  • দীপ | ০১ জুলাই ২০২৬ ২০:২২741567
  • তোমরা কুঞ্জ সাজাও গো,
    আজ আমার প্রাণনাথ আসিছে জেলে।
  • albert banerjee | ০১ জুলাই ২০২৬ ২০:৪৫741568
  • রাধারমণ দাস মহাশয়ের কিযেন খবর পড়লাম
    "পৃথিবীতে কোনো শালার ভালো করতে নেই। " প্রাচীন বাংলা প্রবাদ।
  • দীপ | ০২ জুলাই ২০২৬ ২২:৫৪741575
  • "একটা গল্প বলি শুনুন। কলেজ জীবনে শোনা গল্প।

    সম্ভবত, আশির দশকের মাঝামাঝি। বাম সরকারের এক মন্ত্রীর বাড়িতে ভাইফোঁটা দিতে এসেছেন তাঁর বোন। ভদ্রলোক থাকতেন সরকারি আবাসনে। তা বোন এসে দেখলেন, তার ছাদ ফুটো হয়ে জল পড়ছে। ভদ্রলোক খানিকটা অপ্রস্তুত। তারপর হেসে বললেন, জানিয়েছি। মেরামত করে দিয়ে যাবে। পরেরবার আর এমনটা পাবি না।

    কাট টু, ২০২৬ এর বাংলা। এক জনপ্রিয় অভিনেত্রী, নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে সর্বসমক্ষে বলেন তিনি আর্বানায় থাকেন। সেখানে থাকতে যোগ্যতা লাগে। যোগ্যতা ছাড়া আর্বানায় ফ্ল্যাট কেনা যায় না। তিনি একজন জনপ্রতিনিধি। দলে আসার সঙ্গে সঙ্গে টিকিট পেয়ে সাংসদ হয়েছেন। পরে আবার দল ভেঙে অন্য দলের সঙ্গে মার্জ করেছেন। বলেছেন, পুরনো দলে তাঁর কথা নাকি শোনা হত না।

    অবশ্য, কথার এই ছিরিছাঁদ হলে, তা কেনই বা শোনা হবে, সে জাতীয় প্রশ্ন ওনাকে এখনও কেউ করেনি।"
     
    ফেসবুক
  • দীপ | ০৩ জুলাই ২০২৬ ১০:২৪741582
  • খবরটা শুনে মন থেকে খুশি হয়েছি। এর বিশেষ কিছু কারণ আছে। ২০২২ সালে আমরা আমাদের নৃত্য প্রতিষ্ঠান শ্রুতি পারফর্মিং আর্টস এর দশম বার্ষিক অনুষ্ঠানের জন্য দমদম সুরের মাঠের রবীন্দ্র ভবন হলটি বুকিং করেছিলাম। ফেব্রুয়ারি মাসের ১৫ তারিখের পর দক্ষিণ দমদম পৌরসভার অফিস থেকে আমরা ৬ই জুলাই এর জন্য হল বুকিং করি।
    আমাদের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি যখন প্রায় অন্তিম লগ্নে, তখন দক্ষিণ দমদম পৌরসভা থেকে একটি ফোন আসে "বিশেষ কারণবশত আপনাদের ৬ই জুলাই রবীন্দ্রভবন হলের বুকিং ক্যানসেল করা হয়েছে"। আমরা ওনাদের জানাই প্রোগ্রামের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি আমাদের সমস্ত টিকিট ছাপানো হয়ে গেছে,নিমন্ত্রণ করা হয়ে গেছে,এখন হল ক্যান্সেল করলে আমরা কোথায় যাব। কিন্তু ওনারা জানায় আমাদের কিছু করার নেই আপনি পৌরসভায় এসে কথা বলুন। পরের দিন পৌরসভায় গিয়ে আমরা জানতে পারি প্রাক্তন বিধায়িকা অদিতি মুন্সি মহাশয়া তিন মাসের জন্য হলটি কাউকে দিতে বারণ করেছেন। কারণ সেখানে তার নিজের গানের স্কুলের রিহার্সাল চলবে। যার প্রোগ্রাম ছিল অক্টোবর মাসে। এর জন্য আমাদের জুলাই মাসের হল বুকিং cancel করে দেওয়া হয়। আমরা পৌরসভার কর্মীর প্রায় হাতে-পায়ে ধরে অনুরোধ করি,আমাদের যে কোন একটা দিন হলটা দিতে।এতগুলো বাচ্চা দীর্ঘ ৩-৪ মাস ধরে পরিশ্রম করছে একটা অনুষ্ঠানের জন্য। কিন্তু পৌরসভা থেকে আমাদের জানানো হয় উনাদের কিছুই করার নেই আমাদের যদি কোন নেতা মন্ত্রীর সোর্স থাকে তবেই নাকি আমরা হল পেতে পারি। ওই মুহূর্তে আমরা রবীন্দ্রভবন হলে চলে যাই যদি অদিতি মুন্সির সাথে দেখা হয় তাহলে উনাকে অনুরোধ করব। কিন্তু হলে গিয়ে যা দৃশ্য দেখলাম তাতে আরো অবাক হলাম। পুরো হল ফাঁকা তিন থেকে চারজন স্টেজে গল্প করছে। এটাই নাকি তাদের রিহার্সাল। হলের কর্মীরা জানায় বিগত কিছুদিন ধরে ওনারা এই ভাবেই রিহার্সাল করছে। কোন নির্দিষ্ট টাইম নেই। যখন খুশি আসেন আবার যখন খুশি চলে যান। আমার তখন একটাই প্রশ্ন এর মাঝখানে কি একটা দিন আমাদের দাওয়া যায় না? আমরা তখন অদিতি মুন্সি কোথায় বসেন তার খোঁজ করতে থাকি। যেভাবেই হোক উনার সাথে দেখা করে একটা দিন চাইতে হবে। খবর পাই ওনার বাড়ির নিচেই অফিস ঘরে উনি সকালে বসেন সবার সাথে কথা বলেন (এখানে বলা ভালো উনি নামেই বসেন, সেখানে থাকতেন উনার স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী)। আমি ও অনির্বাণ তখনই ঠিক করি পরের দিন অনেক সকালে চলে যাব রাজারহাটে উনার বাড়িতে যাতে তাড়াতাড়ি উনার সাথে দেখা করতে পারি। পরের দিন ভোর পাঁচটায় আমরা বেরিয়ে যাই ওনার বাড়ির উদ্দেশ্যে। ভোর ছটা থেকে উনার বাড়ির সামনে ধরনায় বসি। দুজন এসে আমাদের সাথে কথা বলে যায় ছটা তিরিশ নাগাদ। বলে সময় হলে আসবেন ওনারা দেখা করতে। ভোর ছটা থেকে বেলা 11 টায় ওনার যখন অফিস খোলে তখনো আমরা ঠায় ওখানে বসে আছি। অফিস খোলার সাথে সাথেই বহু মানুষের ভিড় শুরু হয়। তাদের মধ্যে কিছু জন নিজেদের কাজ সেরে নেয় তারপর বারোটা নাগাদ সুযোগ আসে আমাদের। ভেতরে গিয়ে দেখি দেবরাজ চক্রবর্তী একটি বিশাল সোফায় পায়ের উপর পা তুলে বসে আছেন। উনাকে গিয়ে সমস্ত ঘটনা বলি। উনি শুনেই বলেন "এখানে আমার কিছু করার নেই অদিতি নিশ্চয়ই কিছু বুঝেই হল ক্যান্সেল করতে বলেছে সবার"। আমি নিরুপায় হয়ে ওনার সামনে হাতজোড় করে বলি যে কোন একটা দিন যদি আমাদের দেন। তখন উনি বলে আমার কিছু করার নেই আপনি দক্ষিণ দমদম পৌরসভার চেয়ারম্যানের সাথে গিয়ে দেখা করুন,উনি যদি কিছু করতে পারে। সেই মুহূর্তে নিজেকে ভীষণ অসহায়ের মতন লাগছিলো। মানুষের হাতে ক্ষমতা থাকলে মানুষ অসহায় মানুষকে দিয়ে কিনা করাতে পারে। সেই মুহূর্তে আবার ছুটলাম দক্ষিণ দমদম পৌরসভায় চেয়ারম্যানের কাছে। গেলেই তো আর দেখা হয় না। সেখানেও লাগলো আরো কয়েক ঘন্টা। তারপর উনাকে গিয়ে একপ্রকার মিথ্যা কথাই বলে ছিলাম যে আমাকে দেবরাজ চক্রবর্তী আপনার কাছে পাঠিয়েছেন,একটা দিন রবীন্দ্র ভবন হলটা আমাদের দয়া করে দিন। উনি তখন দেবরাজ চক্রবর্তী কে ফোন করে জানেন যে আমরা ওখান থেকেই আসছি। জানিনা কি মনে হয় তাই আমাদের কপালে একটা দিনই বরাদ্দ করেন ১৭ই সেপ্টেম্বর(বিশ্বকর্মা পুজো)। বিশ্বকর্মা পুজোর দিন অনেকেই কাজ করতে চায় না। বিশেষ করে ইলেকট্রিসিয়ান যারা থাকেন, তাছাড়া আরও অনেকেই। তাই অনুরোধ করলাম অন্যদিন দেওয়া যায় না স্যার।ওনারা হয়তো ভেবেছিলেন বিশ্বকর্মা পুজোর দিন ভেবে আমরা হাল ছেড়ে দেব আর কিছু বলব না। তাই ওনারা বলে করলে ওই দিনই করতে হবে না হলে আর কিছু করার নেই। তাই আমরা বাধ্য হয়েই ১৭ই সেপ্টেম্বর নানান প্রতিকূলতা সত্বেও আমাদের দশম বার্ষিক অনুষ্ঠান করি রবীন্দ্র ভবন হলে। সেই দিনই বুঝেছিলাম ক্ষমতার অপব্যবহার কাকে বলে। এরা শিল্পীর কেন কোন অসহায় মানুষকেই দাম দেয় না।এরা শুধু চেনে টাকা। সেই দিন থেকেই অদিতি মুন্সি ও এই দেবরাজ চক্রবর্তী যার কাছে আমি হাত জোড় করে এতটা নত হয়েছিলাম এদের আমি সহ্য করতে পারি না। ঠিক বুঝিয়ে দিল পাপ বাপকেও ছাড়ে না বুঝলেন দেবরাজ চক্রবর্তী।
     
    ফেসবুক
  • দীপ | ০৩ জুলাই ২০২৬ ১০:২৬741583
  • এদের জানোয়ার বললে জানোয়ারদের অপমান করা হয়!
  • দীপ | ০৩ জুলাই ২০২৬ ২২:১১741592
  • দেবরাজ গ্রেফতার হয়েছে।
    পরিচয় প্রাক্তন বিধায়িকা অদিতি মুন্সির স্বামী,আমার স্মৃতিতে যা মনে পড়ে বাংলা রিয়েলিটি গানের শো তে নাম সংকীর্তন করে নাম কামিয়েছিলেন তারপর ২১ এ নিউটাউন থেকে জিতে বিধায়ক।
    আমার বাড়ি থেকে বহুদূরে এলাকা তাই বিশেষ কোন পরিচয় যোগাযোগ স্বার্থ রাগ ঘৃণা কিছুই জানার কথা নয়,বলা ভালো আমার জ্ঞানে এনাদের কথাও কোনদিন আসেনি।
    এই ভোটের আগে থেকে নানা পোর্টাল আর খবরের চ্যানেলে যা শুনতে ও জানতে পারি পাহাড়সম দুর্নীতির গল্প,যাকগে সেটা পরের আলোচ্য বিষয়।
    এখন যেটা আমি বলতে যাচ্ছি সেই ঘটনাটা গত বছরের ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে,তখন আমি নিউটাউন এর Chittaranjan National Cancer Institute এ কর্মরত।প্রতিদিন নানা সময়ে নানা ধরনের রোগী আসেন জাতিধর্মবর্ণ আর্থসামাজিক অবস্থা নির্বিশেষে।
    যাদের আর্থিক অবস্থা একদমই করুণ তাদের জন্য NC এর সুবিধা রয়েছে,এর জন্যে লাগে এলাকার বিধায়ক/সাংসদ/মন্ত্রী কিম্বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিশনার/অফিসার এর ইনকাম সার্টিফিকেট আর ক্ষেত্রবিশেষে সুপারিশ পত্র দিলে প্রায় বিনামূল্যে ক্যান্সার এর যাবতীয় চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
    এমনই একজন মহিলা এসেছিলেন মৃত্যুযন্ত্রণা নিয়ে(যদি ভুল না হই Ca Cervix Stage III), স্বামী কাঠের মিস্ত্রি(কাজ ছিলনা সেই সময়ে),বাড়িতে নাতনি কে নিয়ে ডিভোর্সি মেয়ে,আয়ের একমাত্র উৎস ছেলে(বেসরকারি ফার্মে সামান্য বেতনে কাজ করে)।
    প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ব্যথা সামান্য কমিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় নার্ভ ব্লক দিয়ে Radiation+Chemo এর সাইকেল শুরু করা হবে,বলা বাহুল্য তাদের সামর্থ্যের বাইরে। Pan 40 টা পর্যন্ত আমাদের হসপিস ফান্ড থেকে প্রদান না করলে তারা কিনতে অপারগ ছিলেন।এমনকি এক পাক্ষিক রেশন ও দেওয়ার ব্যবস্থা করানো হয়েছিল ওষুধ পথ্যের সঙ্গে(পরে জেনেছিলাম পুরো পরিবার অনেকটা নির্ভর ছিলেন তার ওপর)
    বলা বাহুল্য যখন তারা আর্থিক অবস্থার কথা জানান, অফিসের লোক ডেকে NC এর আয়োজন করে দেয়ার কথা বলি।এরপর ১ মাস তারা ফলো আপে আসেননি।CNCI আর RAH এর সমন্বয়ে ফলো আপ মিস করা রোগীদের বাড়ি বাড়ি ভিজিট হয়। অগত্যা পৌঁছালাম আমরা।
    খুব সম্ভব বুধবার ছিল সেদিন।
    একটা টালির ছাদের বাড়ি, প্লাস্টার খসেপড়া দেওয়াল আর উনুনের ঝুলের আস্তরণ আর ড্রেনের বিশ্রী গন্ধ,কে বলবে মডার্ন সিটি নিউ টাউনের প্রদীপের নীচে এই আঁধার! কারও এক রজনীর বারের বিল কোন পরিবারের আয়ের দ্বিগুণ।
    ডাক্তারসুলভ রাগ দেখাতে গিয়ে হঠাৎ স্বামী হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন পাশে ছেলেটি দাঁতে দাঁত চেপে কান্না আটকে রাখতে চেষ্টা করছে।
    তাদের নিজ এলাকার বিধায়কের সেই সামান্য সার্টিফিকেটটি জোগাড় করতে না পারার অপারগতা তার সাহসের অন্তিম বাঁধটা আর বেশিক্ষণ আস্ত রাখতে দিতে চাইছেনা।
    জানতে পারলাম যাদের ভোটে বলীয়ান হয়ে এত দাপট, ৮-১০ বার ঘুরেও মেলেনি তার দেখা,খাতায় কলমে সহধর্মিণী পদাধিকারী হলেও আমাদের দেশে কারা কলম চালায় আমরা সকলেই জানি।
    সেলিব্রিটি পোষার মূল্য তো দিতেই হবে।একদিন দেখা করতে গিয়ে অপমান। শেষে উনার কোন চ্যালা শুধু দেখা করাতেই দাবি করে মোটা অংকের টাকা!! গরীব মানুষের সম্বল তো প্রাণটুকু আর সম্মান,সেটুকু কেড়ে নিলে কি থাকে আর!
    আমি দেখেছি বড় বড় গুণ্ডা দুর্নীতিবাজ নেতা মন্ত্রীরা তাদের এলাকার রোগীদের ফান্ডের টাকা অনেকক্ষেত্রে নিজেরও টাকা দিয়ে পাঠিয়েছে,কিন্তু কখনো শুনিনি কেউ ফিরিয়ে দিয়েছে বা ন্যূনতম সার্টিফিকেট দিতে অস্বীকার করেছে।
    যাইহোক শেষে অন্য ব্যবস্থা করে উনার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে দুই মাসে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যান।
    এই যে মানুষটি একমাস শুধু চিকিৎসা শুরু না হওয়ায় মৃত্যুযন্ত্রণা পেয়েছেন,তার জীবন প্রলম্বিত করার শেষ চেষ্টাটুকু শুরু করা যায়নি সময়ে অতি যৎসামান্য কারণে, ওই যে ছেলেটি উদয়াস্ত আপ্রাণ চেষ্টা করছিল শুধু নিজের মায়ের জন্য তার ওই অপমান কষ্টের কি হিসেব হবেনা?
    শুধু এটুকুর জন্য তো কোন শাস্তি যথেষ্ট নয়,না জানি এমন কতশত মানুষ আছেন। ওপিডি আওয়ার শেষ হয়েও অতিরিক্ত সময় বসে থাকি না জানি কোন মানুষটা আমার জন্যে বঞ্চিত হবে এই ভয়ে,রাস্তায় দশটাকা কুড়িয়ে পেলে নিজে খরচ করতে ভয় পাই,দিয়ে দি কোন দুঃস্থ এর হাতে। এরা কীভাবে পারে এসব করতে! কোটি টাকা তারপর শত আবার হাজার ভাবতেও মস্তিষ্ক ক্ষান্ত দিয়ে দেয়।
    কিছু হিসেব তো দিতেই হবে,হয় এখন নয় পরে....
     
    ✍️মেহেদি
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আলোচনা করতে মতামত দিন