albert banerjee কে?
albert banerjee কী? ক্ষত। ক্ষত চেনার গন্ধ। যার ঘা শুকায় না, তার ঘামে মেশে পুঁজের গন্ধ, কাঁচা মাংসের গন্ধ, যে গন্ধ আমি চিনি নাকের ছিদ্র ফুলিয়ে, চোখের তারা ফিরিয়ে, জিভের ডগায় তুলে, স্বাদ নিই – লবণাক্ত, তিক্ত, পচা আঙুরের রসের মত, যাতে মিশেছে মৃত্যুর চিনি, বিষের মধু, আর সেই মিষ্টি বিষ আমাকে টানে, আমাকে ডাকে, বলে, “এসো, এসো, এই পথে হাঁটো, এই দরজায় ঠেকো, এই বিছানায় শুয়ো, এই দেহের ভিতর খোঁজো সেই সূত্র, যার শেষে আছে সে, যে অভিশপ্ত, যে চিরন্তন ঘুরে বেড়ায়, যার কপালে ক্ষত, যার ঘা শুকায় না, যেমন শুকায়নি আমার ঘা, যেটা তাকে দেওয়া তীর ছুঁড়েছিল, যে তীর আমার বুকে ... ...
নো ... ...
আমি বসে আছি প্রাসাদের সবচেয়ে উঁচু কক্ষে, যেখানে রাজা বসতেন সিংহাসনে, এখন সিংহাসন খালি, তার গায়ে ধুলো, মাকড়সার জাল, আর আমি মেঝেতে বসে, পা ছড়িয়ে, হাতে একটি একটি শিরার টুকরো, যা আমি কেটে রেখেছিলাম আমার শেষ শিকারের গলা থেকে, এখন তা শুকিয়ে গেছে, কালো, শক্ত, আমি তা ঘোরাই আঙুলে, যেন এটি একটি আংটি, একটি অলংকার, একটি স্মৃতিচিহ্ন। আমি পৌঁছে যাই পাহাড়ের গোড়ায়। পাহাড় উঁচু, কালো, যেন আগ্নেয়গিরির ছাই জমে জমে তৈরি হয়েছে, যেন কোনো এক প্রাচীন যুদ্ধের দানবের দেহ, যে মরে গেছে, কিন্তু তার দেহ পচে না, শুধু দাঁড়িয়ে আছে, সাক্ষী হয়ে, ইতিহাসের সাক্ষী, যন্ত্রণার সাক্ষী, আমার সাক্ষী। আমি উঠতে শুরু ... ...
গণনা শুরু করি। আঙুলে নয়, দাঁতে, প্রতিটি কামড়ের সাথে একটি সংখ্যা জুড়ে দিই, যেন আমি জপমালা গুনছি, যেন আমি তপস্যা করছি, যেন আমি প্রার্থনা করছি, কিন্তু প্রার্থনা কার কাছে? দেবতা যারা দেখেছিল, শুনেছিল, হেসেছিল, চুপ ছিল, তাদের কাছে? না, তারা আমার চেয়েও শূন্য, তারা আমার চেয়েও মৃত, তারা আমার চেয়েও বেশি রক্তচোষা, কারণ তারা চুষেছে ভক্তের রক্ত, খেয়েছে বলির মাংস, পুড়িয়েছে যজ্ঞের আগুন, আর বলেছে, “এটা ধর্ম, এটা ন্যায়, এটা তোমার কর্তব্য।” আমি তাদের কর্তব্য খেয়ে ফেলেছি, তাদের ধর্ম গিলে ফেলেছি, তাদের ন্যায় চিবিয়ে থুতু দিয়েছি, এখন আমার দাঁতে লেগে আছে দেবতার মাংসের আঁশ, সেই আঁশ ছাড়াতে চাটছি জিভ দিয়ে, ... ...
আমি চোখ খুলি। ঘর অন্ধকার। জানালার বাইরে সূর্য ওঠে, ডুবে যায়, আবার ওঠে, আবার ডুবে যায়, অনেকবার, যেন সময় একটি তাল, যা আমি শুনি, কিন্তু মানি না আমি সময়ের বাইরে, স্মৃতির ভিতরে, ক্ষুধার শিখরে, তৃষ্ণার গহ্বরে, ভালোবাসার বীভৎসতায়, ঘৃণার মাধুর্যে, মৃত্যুর অনন্ত কোলাহলে, আমি জীবনের নিস্তব্দ আর্তনাদে। আমি চোখ বন্ধ করি। ছবি থামে। আমি আবার চোখ খুলি। ছবি আবার শুরু হয়, কিন্তু এবার ভিন্ন। এবার আমি দেখি এক নারী, সে আমার মতো, তার চোখে আগুন, তার মুখে রক্ত, তার হাতে ধনুক, তার পায়ে কাঁটা। সে যুদ্ধ করছে। কাদের সাথে? সবাইয়ের সাথে। পুরুষের সাথে, দেবতার সাথে, রাক্ষসের সাথে, নিজের সাথে। সে জিতছে, ... ...
আমি তার কাছে যাই, শুয়ে পড়ি তার পাশে, আমার মাথা রাখি তার বুকে, যেখানে আর হৃদয় ধমকায় না, যেখানে শুধু হাড়, শুধু চামড়া, শুধু একটি গর্ত, যার ভিতর থেকে এখনো গন্ধ বেরোয়, রক্তের গন্ধ, মাংসের গন্ধ, মৃত্যুর গন্ধ। তার চোখ বন্ধ করি, যেগুলো ইতিমধ্যেই বন্ধ, আমি তার ঠোঁটে চুমু দিই, যেগুলো ইতিমধ্যেই ঠাণ্ডা, আমি তার হাত ধরি, যেগুলো ইতিমধ্যেই শক্ত, আমি তাকে জড়িয়ে ধরি, যেন সে এখনও বেঁচে, যেন সে এখনও স্পন্দিত, যেন সে এখনও আমার, শুধু আমার, চিরকাল আমার, আর কেউ না, আর পাঁচজন না, আর কোন রাজা না, আর কোন যোদ্ধা না, শুধু আমরা, দুই মৃতদেহ, দুই শূন্যতা, দুই ... ...
আমি মন্দির ছেড়ে বেরিয়ে আসি। রাত শেষ হচ্ছে না, এখনও গভীর, এখনও অন্ধকার, এখনও সময় আছে আরও শিকারের। আমি যাই প্রাসাদের অভ্যন্তরে, যেখানে সে ঘুমায়, আমার পঞ্চম স্বামী, যে ছোট, যে শিশু, যে নির্দোষ, যে আমার ভালোবাসা চেয়েছিল, কিন্তু পারেনি, কারণ ভালোবাসা দেয়ার মতো তার হৃদয় ছিল না, ছিল শুধু করুণা, শুধু দয়া, শুধু এক ধরনের স্নেহ, যা আমাকে অপমানিত করত, আমাকে ছোট করত, আমাকে করত একটি পুতুল, একটি খেলনা, একটি বোঝা। আমি তার ঘরে ঢুকি। সে ঘুমিয়ে, তার মুখ শান্ত, তার হাত বিছানায় ছড়ানো, তার নিঃশ্বাস মৃদু। আমি তার বিছানার পাশে দাঁড়াই, তাকিয়ে থাকি। সে এত ছোট, এত ভঙ্গুর, এত ... ...
আমি এখন রক্ত চাই। আমি আগুনের মেয়ে, কিন্তু আগুন নিভে গেছে। নিভিয়েছে তারা, যারা বলে ‘ধর্ম’, ‘ন্যায়’, ‘কর্তব্য’। আমি সেই শব্দগুলো চিবিয়ে খেয়েছি, গিলেছি, বমি করেছি, আবার খেয়েছি, এখন আমি শুধু রক্ত চাই, গরম, সজীব, ধমকানো রক্ত, যা আমার ঠোঁটে লেগে আমাকে জাগায়, আমাকে বলে, “তুই আর রাজ্ঞী নই, তুই শিকারিনী, তুই রাতের বাঘিনী, তুই শূন্যতার দেবী, যার পূজা হয় মৃতদেহের ওপর, যার মন্ত্র হয় আর্তনাদ, যার প্রসাদ হয় মাংস।”সে মরে গেছে। আমি দেখেছি। আমি দাঁড়িয়েছিলাম রথের উপরে, দূর থেকে, আমার চোখে ধুলো, আমার মুখে রক্তের গন্ধ, আমার কানে তার শেষ নিঃশ্বাসের শব্দ – একটি ক্ষীণ “হা”, যেন সে বলতে ... ...
সে এখনো দাঁড়িয়ে আছে নাকি সে কখনো দাঁড়ায় নি আমি নিশ্চিত নই কারণ আমার ঘড়িতে সময় নেই ঘড়ির কাঁটা দুটো একে অপরকে অতিক্রম করেছে বারবার তৈরি করেছে অসংখ্য ছেদ আমি সেই ছেদগুলোর ভিতর হাঁটছি এক ছেদ থেকে আরেক ছেদে পা ফেলছি আর প্রতিবার দেখছি একই দৃশ্য ভিন্ন ক্রমে ভিন্ন সাজে যেন কেউ একটি ছবির টুকরো গুলিয়ে দিয়েছে আমি সেই টুকরো জোড়া দেওয়ার চেষ্টা করছি অথচ জোড়া লাগাতে চাইছি না আমি কেবল টুকরোগুলোর দিকে তাকিয়ে আছি উদাসীন চোখেআমার বাম হাতের তালুতে পানের দাগটি ছিল ছিল মানে একসময় ছিল এখন নেই এখন আমার তালু ফাঁকা আমি দাগটির স্মৃতি খুঁজি কোন ক্রমে দাগটি ... ...
সে আসে না। আমি জানি। আসবে না। আজ রাতে যুদ্ধের আগের রাত, যেখানে সবাই প্রার্থনা করে, অস্ত্র ঘষে, বর্ম পরে, মন্ত্র পড়ে। আমি দাঁড়িয়ে বারান্দায়, হাতের তালুতে আগুন জ্বালিয়ে, সেই আগুনে পুড়িয়ে দিই তার নাম, যে নাম আমি কখনো উচ্চারণ করিনি, যে নাম আমার হৃদয়ের ভিতর খোদাই করা, রক্তাক্ত, যার প্রতিটি রেখা একটি যুদ্ধের দিন, একটি হারানো রাত, একটি অপূর্ণ আলিঙ্গন।আমি জানি সে মরবে। আমি জানি আগামীকাল সূর্য ডুবার আগেই তার রক্ত মাটি ভিজাবে, তার রথের চাকা আটকে যাবে কাদায়, তার তীর ফুরিয়ে যাবে, তার হাত কাঁপবে, তার চোখ খুঁজবে আমাকে, আর আমি দাঁড়িয়ে থাকব দূরে, একটি স্তম্ভের আড়ালে।আগামীকাল অনেক ... ...