এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • লিনিয়ার বাউন্ডেড অটোমেটন

    albert banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ৩৬ বার পঠিত
  • (0) | 1 | 2 | 3 | 4 | 5 | 6 | 7 | 8
    রাজার সীমিত টেপ আর কনটেক্সট-সেনসিটিভ ভাষার রহস্য

    পূর্ব অধ্যায়ে আমরা টুরিং মেশিন আর কম্পিউটারের সীমা নিয়ে কথা বলেছিলাম। রাজা কাকের কাছ থেকে টুরিং মেশিন শিখে খুব খুশি হয়েছিলেন। কিন্তু একটা প্রশ্ন তাঁর মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল। তিনি ভাবলেন, টুরিং মেশিনের তো অসীম টেপ। বাস্তব জগতে তো অসীম টেপ নেই। তাহলে কি বাস্তবের কম্পিউটার টুরিং মেশিনের চেয়ে দুর্বল?

    ঠিক সেই সময় বনের এক প্রকৌশলী রাজার কাছে এল। সে বলল, রাজা, আপনি কি জানেন, টুরিং মেশিনের একটা বিশেষ রূপ আছে, যা বাস্তব কম্পিউটারের অনেক কাছাকাছি? তার নাম লিনিয়ার বাউন্ডেড অটোমেটন।

    রাজা বললেন, লিনিয়ার বাউন্ডেড অটোমেটন? সেটা আবার কী?

    প্রকৌশলী বলল, রাজা, টুরিং মেশিনের টেপ অসীম। কিন্তু লিনিয়ার বাউন্ডেড অটোমেটনের টেপ সীমিত। এর টেপের দৈর্ঘ্য ইনপুট স্ট্রিং-এর দৈর্ঘ্যের সমানুপাতিক। যেমন ইনপুট যদি ১০ ঘর লম্বা হয়, তাহলে এলবিএ-র টেপ হতে পারে ২০ ঘর বা ৩০ ঘর, কিন্তু অসীম নয় ।

    রাজা বললেন, তাহলে তো এটা আমাদের বাস্তব কম্পিউটারের মতো। আমাদের কম্পিউটারেরও তো মেমরি সীমিত।

    প্রকৌশলী বলল, ঠিক তাই। এলবিএ হলো টুরিং মেশিনের একটা বাস্তবসম্মত সংস্করণ। আর এই এলবিএ-র সঙ্গে জড়িয়ে আছে কনটেক্সট-সেনসিটিভ ভাষা।

    এলবিএ-র গঠন

    এলবিএ-র গঠন টুরিং মেশিনের মতোই। তারও একটা টেপ আছে, একটা হেড আছে, আর কিছু সসীম অবস্থা আছে। কিন্তু পার্থক্য হলো, তার টেপের দুই প্রান্তে দুইটা বিশেষ চিহ্ন থাকে। একটাকে বলে বাম সীমানা, আরেকটাকে বলে ডান সীমানা। এলবিএ কখনো এই সীমানার বাইরে যেতে পারে না। আর সীমানার চিহ্নগুলো কখনো বদলাতে পারে না ।

    মানে কী দাঁড়ায়? এলবিএ শুধু সেই জায়গাতেই কাজ করতে পারে, যেখানে ইনপুটটা আছে। তার অতিরিক্ত জায়গা নেই। সে এই সীমিত জায়গার ভেতরেই হিসাব-নিকাশ করে।

    রাজা বললেন, তাহলে এটা তো পিডিএ-র মতোই। পিডিএ-ও তো সীমিত স্ট্যাক ব্যবহার করে।

    প্রকৌশলী বলল, না রাজা, পিডিএ আর এলবিএ-র মধ্যে অনেক পার্থক্য। পিডিএ শুধু স্ট্যাকের ওপর জিনিস রাখতে পারে, কিন্তু এলবিএ পুরো টেপটা ব্যবহার করতে পারে। টেপের যে কোনো জায়গায় সে পড়তে আর লিখতে পারে। এটা পিডিএ-র চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ।

    কনটেক্সট-সেনসিটিভ ভাষা

    রাজা বললেন, তাহলে এলবিএ কী ধরনের ভাষা চিনতে পারে?

    প্রকৌশলী বলল, এলবিএ চিনতে পারে কনটেক্সট-সেনসিটিভ ভাষা। এরা চমস্কি হায়ারার্কির টাইপ ১ ভাষা ।

    রাজা বললেন, কনটেক্সট-সেনসিটিভ মানে প্রসঙ্গ-সংবেদী? এটা আবার কী?

    প্রকৌশলী বলল, মানে এই ভাষাগুলো চিনতে হলে প্রসঙ্গ দেখতে হয়। যেমন আমরা আগে aⁿbⁿcⁿ ভাষার কথা বলেছিলাম। এটা কনটেক্সট-সেনসিটিভ ভাষার উদাহরণ। এখানে a, b, c-এর সংখ্যা সমান হতে হবে, আর সেগুলো নির্দিষ্ট ক্রমে সাজানো থাকতে হবে।

    রাজা বললেন, এটা তো পিডিএ-র পক্ষে সম্ভব ছিল না। কারণ পিডিএ একসঙ্গে দুটো জিনিসের হিসাব রাখতে পারে না।

    প্রকৌশলী বলল, ঠিক বলেছেন। পিডিএ শুধু একটা স্ট্যাক ব্যবহার করে, তাই সে একসঙ্গে একটা জিনিসের হিসাব রাখতে পারে। কিন্তু এখানে তিনটা জিনিসের হিসাব দরকার। তাই পিডিএ পারে না। কিন্তু এলবিএ পারে, কারণ সে পুরো টেপটা ব্যবহার করতে পারে ।

    aⁿbⁿcⁿ ভাষার জন্য এলবিএ

    রাজা বললেন, একটা উদাহরণ দাও। কীভাবে এলবিএ aⁿbⁿcⁿ ভাষা চিনবে?

    প্রকৌশলী বলল, ধরুন ইনপুট হলো aaabbbccc। এলবিএ কী করবে?

    প্রথমে সে টেপের একদম বাঁয়ে যাবে। সেখানে প্রথম a দেখে সেটাকে A দিয়ে বদলে দেবে। তারপর ডান দিকে যেতে থাকবে, প্রথম b খুঁজবে। b পেলে সেটাকে B দিয়ে বদলে দেবে। তারপর ডান দিকে যেতে থাকবে, প্রথম c খুঁজবে। c পেলে সেটাকে C দিয়ে বদলে দেবে।

    তারপর সে আবার বাঁয়ে ফিরে যাবে শুরুতে। আবার প্রথম a খুঁজবে, কিন্তু এখন আগের a-টা তো A হয়ে গেছে। তাই পরের a-টা খুঁজবে। সেটাকে A দিয়ে বদলাবে। তারপর আবার b খুঁজবে, B দিয়ে বদলাবে। তারপর c খুঁজবে, C দিয়ে বদলাবে।

    এভাবে চলতে থাকবে। যখন সব a, b, c শেষ হয়ে যাবে, আর টেপে শুধু A, B, C থাকবে, তখন এলবিএ থামবে আর বলবে হ্যাঁ, ভাষার সদস্য ।

    রাজা বললেন, বুঝলাম। এভাবে সে প্রতিবার একটা করে a, b, c মেলায়। শেষ পর্যন্ত যদি সব মিলে যায়, তাহলে স্ট্রিং স্বীকৃত।

    প্রকৌশলী বলল, ঠিক তাই। আর যদি কোনো পর্যায়ে a-র পরে b না পায়, বা b-র পরে c না পায়, তাহলে সে থামবে আর বলবে না।

     এলবিএ আর পিডিএ-র পার্থক্য

    রাজা বললেন, তাহলে এলবিএ আর পিডিএ-র মধ্যে মূল পার্থক্য কী?

    প্রকৌশলী বলল, পিডিএ-র শুধু স্ট্যাকের ওপরেই কাজ করতে পারে। সে স্ট্যাকের উপরের অংশ ছাড়া নিচের অংশ দেখতে পায় না। কিন্তু এলবিএ পুরো টেপটা দেখতে পায়। সে টেপের যে কোনো জায়গায় গিয়ে পড়তে পারে, লিখতে পারে ।

    আরেকটা পার্থক্য হলো, পিডিএ সাধারণত ননডিটারমিনিস্টিক হয়। এলবিএ ডিটারমিনিস্টিক বা ননডিটারমিনিস্টিক দুটোই হতে পারে। কিন্তু ডিটারমিনিস্টিক এলবিএ-র ক্ষেত্রে একটা বড় সমস্যা আছে, সেটা পরে বলছি ।

    তৃতীয় পার্থক্য হলো, পিডিএ-র স্ট্যাকের আকারের কোনো সীমা নেই। কিন্তু এলবিএ-র টেপের আকার সীমিত। এটা বাস্তব কম্পিউটারের মতো।

    এলবিএ-র শক্তি আর সীমা

    রাজা বললেন, এলবিএ কি সব ভাষা চিনতে পারে?

    প্রকৌশলী বলল, না। এলবিএ শুধু কনটেক্সট-সেনসিটিভ ভাষা চিনতে পারে। কনটেক্সট-সেনসিটিভ ভাষার চেয়ে জটিল ভাষা এলবিএ চিনতে পারে না। যেমন রিকার্সিভলি এনুমারেবল ভাষার অনেকগুলোই এলবিএ-র বাইরে ।

    কিন্তু মজার কথা হলো, এলবিএ-র শক্তি নিয়ে একটা বড় অমীমাংসিত সমস্যা আছে। সেটার নাম ফার্স্ট এলবিএ প্রবলেম।

    রাজা বললেন, সেটা আবার কী?

    প্রকৌশলী বলল, প্রশ্নটা হলো: ননডিটারমিনিস্টিক এলবিএ আর ডিটারমিনিস্টিক এলবিএ কি সমান শক্তির? মানে ননডিটারমিনিস্টিক এলবিএ যা চিনতে পারে, ডিটারমিনিস্টিক এলবিএও কি তা চিনতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তর আজও কেউ জানে না ।

    রাজা অবাক হয়ে বললেন, এত বড় সমস্যা আজও অমীমাংসিত?

    প্রকৌশলী বলল, হ্যাঁ। ১৯৬৪ সালে কুরোদা এই প্রশ্নটা তুলেছিলেন। তারপর অনেক বছর কেটে গেছে, কিন্তু উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি। শুধু এটুকু জানা গেছে যে স্যাভিচের থিওরেম বলে, ননডিটারমিনিস্টিক এলবএ ন² জায়গায় ডিটারমিনিস্টিকভাবে চালানো যায়। কিন্তু n জায়গায় চালানো যায় কি না, সেটা জানা যায়নি ।

    আরেকটা সমস্যা ছিল সেকেন্ড এলবিএ প্রবলেম। সেটা ছিল, এলবিএ-র ভাষা কি কমপ্লিমেন্টের নিচে ক্লোজড? মানে কোনো ভাষা যদি এলবিএ চিনতে পারে, তাহলে তার উল্টো ভাষাও কি এলবিএ চিনতে পারে? এই সমস্যার সমাধান হয়েছে ১৯৮৭ সালে, ইমারম্যান আর সেজেলেপচেনি নামের দুই বিজ্ঞানী প্রমাণ করেছেন যে হ্যাঁ, ক্লোজড ।

     এলবিএ আর চমস্কি হায়ারার্কি

    রাজা বললেন, তাহলে চমস্কি হায়ারার্কিতে এলবিএ-র অবস্থান কোথায়?

    প্রকৌশলী বলল, চমস্কি হায়ারার্কির চারটি স্তরের কথা মনে আছে? টাইপ ৩ রেগুলার, টাইপ ২ কনটেক্সট-ফ্রি, টাইপ ১ কনটেক্সট-সেনসিটিভ, টাইপ ০ রিকার্সিভলি এনুমারেবল।

    এলবিএ হলো টাইপ ১-এর অটোমেটন। অর্থাৎ এলবিএ যা চিনতে পারে, সেটাই কনটেক্সট-সেনসিটিভ ভাষা। আর কনটেক্সট-সেনসিটিভ ভাষা যা, তা এলবিএ চিনতে পারে ।

    এই সম্পর্কটা ১৯৬০-এর দশকে প্রমাণিত হয়। প্রথমে জন মাইহিল ডিটারমিনিস্টিক এলবিএ নিয়ে কাজ করেন। তারপর পিটার ল্যান্ডওয়েবার প্রমাণ করেন যে ডিটারমিনিস্টিক এলবিএ-র ভাষা কনটেক্সট-সেনসিটিভ। তারপর কুরোদা দেখান যে ননডিটারমিনিস্টিক এলবিএ-র ভাষাও কনটেক্সট-সেনসিটিভ, আর সব কনটেক্সট-সেনসিটিভ ভাষার জন্য ননডিটারমিনিস্টিক এলবিএ আছে ।

     এলবিএ-র বাস্তব প্রয়োগ

    রাজা বললেন, এলবিএ-র বাস্তব জীবনে কী প্রয়োগ?

    প্রকৌশলী বলল, এলবিএ নিজে সরাসরি ব্যবহার না হলেও এর ধারণা অনেক জায়গায় কাজে লাগে।

    প্রথমত, কম্পাইলার ডিজাইনে। কিছু প্রোগ্রামিং ভাষার বৈশিষ্ট্য কনটেক্সট-সেনসিটিভ। যেমন C ভাষায় ভেরিয়েবল ডিক্লেয়ার করার আগে ব্যবহার করা যাবে না, এটা কনটেক্সট-সেনসিটিভ প্রোপার্টি। কম্পাইলার যখন এই চেক করে, তখন সে কার্যকরভাবে এলবিএ-র মতো কাজ করে ।

    দ্বিতীয়ত, প্রাকৃতিক ভাষা প্রক্রিয়াকরণে। মানুষের ভাষার কিছু গঠন কনটেক্সট-সেনসিটিভ। যেমন "সে তাকে তার বইটা দিল" - এখানে "সে", "তাকে", "তার" এই তিনটির মধ্যে সম্পর্ক বুঝতে প্রসঙ্গ দরকার।

    তৃতীয়ত, ডাটাবেস কোয়েরি অপ্টিমাইজেশনে। কিছু জটিল কোয়েরি কনটেক্সট-সেনসিটিভ প্যাটার্ন ফলো করে।

    চতুর্থত, বায়োইনফরমেটিক্সে। ডিএনএ সিকোয়েন্সের কিছু প্যাটার্ন কনটেক্সট-সেনসিটিভ ।

     আরেকটি উদাহরণ: aⁿbⁿcⁿdⁿ

    রাজা বললেন, আরও জটিল ভাষার উদাহরণ দাও।

    প্রকৌশলী বলল, ধরুন ভাষা aⁿbⁿcⁿdⁿ, মানে সমান সংখ্যক a, b, c, d। এটাও কনটেক্সট-সেনসিটিভ ।

    এলবিএ কীভাবে এটা চিনবে? আগের পদ্ধতিই কাজ করবে। প্রথমে একটা a খুঁজে A করবে, তারপর b খুঁজে B করবে, তারপর c খুঁজে C করবে, তারপর d খুঁজে D করবে। এভাবে চলতে থাকবে। শেষে সবগুলো A, B, C, D হলে স্বীকৃত।

    এটা পিডিএ-র পক্ষে সম্ভব না। কারণ পিডিএ একসঙ্গে চারটা জিনিসের হিসাব রাখতে পারে না। কিন্তু এলবিএ পারে, কারণ সে টেপের ওপর চিহ্ন এঁকে হিসাব রাখে।

     এলবিএ আর ডিটারমিনিজম

    রাজা বললেন, তুমি আগে বলেছিলে ডিটারমিনিস্টিক এলবিএ-র সমস্যার কথা। সেটা একটু বুঝিয়ে বলো।

    প্রকৌশলী বলল, দেখুন, আমরা জানি যে ননডিটারমিনিস্টিক এলবিএ আর ডিটারমিনিস্টিক এলবিএ সমান কি না, সেটা অমীমাংসিত। কিন্তু আমরা এটাও জানি যে, সব কনটেক্সট-সেনসিটিভ ভাষার জন্য ননডিটারমিনিস্টিক এলবিএ আছে। কিন্তু ডিটারমিনিস্টিক এলবিএ দিয়ে সব কনটেক্সট-সেনসিটিভ ভাষা চেনানো যায় কি না, সেটা আমরা জানি না ।

    এটা কম্পিউটার বিজ্ঞানের একটা বড় উন্মুক্ত সমস্যা। পি ভার্সাস এনপি সমস্যার মতো বিখ্যাত না হলেও, এটাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

    রাজা বললেন, তাহলে কি ডিটারমিনিস্টিক এলবিএ দুর্বল হতে পারে?

    প্রকৌশলী বলল, হতে পারে। কিন্তু কেউ প্রমাণ করতে পারেনি। আবার সমানও হতে পারে। এটা এখনও রহস্য।

     এলবিএ আর লুপিং

    রাজা বললেন, এলবিএ কি কখনো লুপে পড়তে পারে? মানে চিরকাল চলতে থাকে?

    প্রকৌশলী বলল, হ্যাঁ, পারে। কিন্তু টুরিং মেশিনের চেয়ে এখানে একটা সুবিধা আছে। এলবিএ-র টেপ সীমিত, অবস্থা সীমিত, আর টেপের চিহ্নও সীমিত। তাই একটা এলবিএ-র সম্ভাব্য অবস্থার সংখ্যা সসীম ।

    মানে কী দাঁড়ায়? কোনো এলবিএ যদি অনেকক্ষণ চলে, তাহলে সে একসময় তার আগের কোনো অবস্থায় ফিরে আসবেই। তখন সে লুপে পড়ে গেছে বুঝা যায়। টুরিং মেশিনের ক্ষেত্রে এটা বলা যায় না, কারণ তার টেপ অসীম।

    তাই এলবিএ-র লুপিং ডিটেক্ট করা সম্ভব, টুরিং মেশিনের নয়। এটা একটা বড় সুবিধা।

     এলবিএ-র সীমাবদ্ধতা

    রাজা বললেন, এলবিএ-র সীমাবদ্ধতা কী কী?

    প্রকৌশলী বলল, প্রথম সীমাবদ্ধতা হলো, এলবিএ সব ভাষা চিনতে পারে না। কিছু ভাষা আছে যেগুলো কনটেক্সট-সেনসিটিভ নয়। যেমন রিকার্সিভলি এনুমারেবল ভাষার অনেকগুলো এলবিএ-র বাইরে ।

    দ্বিতীয় সীমাবদ্ধতা হলো, এলবিএ-র টেপের আকার ইনপুটের দৈর্ঘ্যের সমানুপাতিক। যদি কোনো ভাষার জন্য ইনপুটের দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক বেশি জায়গার দরকার হয়, তাহলে এলবিএ তা চিনতে পারবে না।

    তৃতীয় সীমাবদ্ধতা হলো, ডিটারমিনিস্টিক এলবিএ-র শক্তি নিয়ে আমরা নিশ্চিত নই। হয়তো ডিটারমিনিস্টিক এলবিএ ননডিটারমিনিস্টিক এলবিএ-র চেয়ে দুর্বল।

     রাজার শেষ প্রশ্ন

    রাজা অনেকক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর বললেন, তাহলে আমাদের বনের ভাষাগুলো কোন স্তরে পড়ে?

    প্রকৌশলী বলল, রাজা, আপনার বনে অনেক ভাষা আছে। শেষে ০১-ওয়ালা ভাষা টাইপ ৩, রেগুলার। সমান সংখ্যক ০ আর ১-ওয়ালা ভাষা টাইপ ২, কনটেক্সট-ফ্রি। aⁿbⁿcⁿ-ওয়ালা ভাষা টাইপ ১, কনটেক্সট-সেনসিটিভ। আর হাল্টিং প্রবলেমের ভাষা টাইপ ০-ও নয়, সেটা অ-নির্ণয়যোগ্য।

    রাজা বললেন, তাহলে এলবিএ হলো টাইপ ১-এর যন্ত্র। এটা টুরিং মেশিনের চেয়ে দুর্বল, কিন্তু পিডিএ-র চেয়ে শক্তিশালী।

    প্রকৌশলী বলল, ঠিক তাই। আর সবচেয়ে মজার কথা হলো, এলবিএ বাস্তব কম্পিউটারের অনেক কাছাকাছি। কারণ বাস্তব কম্পিউটারেরও মেমরি সীমিত।

    রাজা বললেন, তাহলে আমরা যদি বাস্তব জগতে কাজ করি, তাহলে এলবিএ-র ধারণাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

    প্রকৌশলী বলল, অবশ্যই। এলবিএ আমাদের শেখায়, সীমিত মেমরি দিয়ে কী কী সম্ভব, আর কী কী সম্ভব নয়।

     অধ্যায়ের শেষ কথা

    এই অধ্যায়ে আমরা শিখলাম লিনিয়ার বাউন্ডেড অটোমেটন সম্পর্কে। এটা টুরিং মেশিনের একটা বিশেষ রূপ, যার টেপ সীমিত। এলবিএ চিনতে পারে কনটেক্সট-সেনসিটিভ ভাষা, যারা চমস্কি হায়ারার্কির টাইপ ১-এর ভাষা।

    এলবিএ-র সবচেয়ে বিখ্যাত উদাহরণ aⁿbⁿcⁿ ভাষা, যা পিডিএ চিনতে পারে না। এলবিএ কীভাবে এই ভাষা চিনবে, তার পদ্ধতি আমরা দেখেছি।

    এলবিএ নিয়ে দুটো বড় সমস্যা আছে। প্রথমটা হলো ডিটারমিনিস্টিক আর ননডিটারমিনিস্টিক এলবিএ কি সমান? এই প্রশ্নের উত্তর আজও অজানা। দ্বিতীয়টা ছিল কমপ্লিমেন্টের সমস্যা, যার সমাধান হয়েছে ১৯৮৭ সালে।

    এলবিএ বাস্তব কম্পিউটারের কাছাকাছি, তাই এর ধারণা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে খুব কাজে লাগে। কম্পাইলার ডিজাইন, প্রাকৃতিক ভাষা প্রক্রিয়াকরণ, বায়োইনফরমেটিক্স-এর মতো জায়গায় এলবিএ-র ধারণা প্রয়োগ করা হয়।

    এখন আমরা চমস্কি হায়ারার্কির পুরো ছবিটা পেয়ে গেছি। টাইপ ৩-এর জন্য ডিএফএ, টাইপ ২-এর জন্য পিডিএ, টাইপ ১-এর জন্য এলবিএ, আর টাইপ ০-এর জন্য টুরিং মেশিন। প্রতিটি স্তর আগের স্তরের চেয়ে শক্তিশালী।

    রাজা এবার বুঝলেন, তাঁর বনের সব ভাষার জন্য আলাদা আলাদা যন্ত্র দরকার। সহজ ভাষার জন্য ডিএফএ, একটু জটিল ভাষার জন্য পিডিএ, আরও জটিল ভাষার জন্য এলবিএ। আর সবচেয়ে জটিল ভাষার জন্য টুরিং মেশিন, যদিও সেটা বাস্তবে বানানো কঠিন।

    তিনি তাঁর প্রকৌশলীদের ডেকে বললেন, এখন থেকে আমরা প্রতিটি ভাষার জন্য সঠিক যন্ত্র বেছে নেব। যে ভাষা রেগুলার, তার জন্য ডিএফএ বানাব। যে ভাষা কনটেক্সট-ফ্রি, তার জন্য পিডিএ বানাব। আর যে ভাষা কনটেক্সট-সেনসিটিভ, তার জন্য এলবিএ বানাব।

    এভাবেই রাজার বনে অটোমেটা তত্ত্বের সপ্তম অধ্যায় শেষ হলো। এখন তিনি জানেন, শুধু টুরিং মেশিন নয়, তার চেয়ে দুর্বল কিন্তু বাস্তবসম্মত আরও অনেক যন্ত্র আছে। আর এই যন্ত্রগুলো নিয়েই  কাজ করতে হয়।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    (0) | 1 | 2 | 3 | 4 | 5 | 6 | 7 | 8
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। না ঘাবড়ে প্রতিক্রিয়া দিন