এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • কনটেক্সট-ফ্রি ভাষা আর পুশডাউন অটোমেটন

    albert banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ৫০ বার পঠিত
  • (0) | 1 | 2 | 3 | 4 | 5 | 6 | 7 | 8
    কাকের স্ট্যাক আর রাজার ব্যালান্সিং সমস্যা

    পূর্ব অধ্যায়ে আমরা রেগুলার এক্সপ্রেশন নিয়ে কথা বলেছিলাম। রাজা জাদুর কলম পেয়ে অনেক ভাষা লিখতে পারছিলেন। কিন্তু কিছুদিন পর তিনি এক অমীমাংসিত সমস্যায় পড়লেন। তিনি চাইলেন এমন একটি ভাষা তৈরি করতে, যেখানে ০ আর ১ সমান সংখ্যক থাকবে, কিন্তু ০ আগে আর ১ পরে থাকবে না, যে কোনো ক্রমেই থাকতে পারে। যেমন ০১, ১০, ০০১১, ১০১০, ০১১০ সবই গ্রহণযোগ্য হবে, কিন্তু ০০১ বা ১১০ গ্রহণযোগ্য হবে না।

    রাজা অনেক চেষ্টা করেও এর রেগুলার এক্সপ্রেশন লিখতে পারলেন না। তিনি তাঁর পুরোনো ডিএফএ দিয়েও চেষ্টা করলেন, কিন্তু ব্যর্থ হলেন। তখন তিনি বুঝলেন, এটা হয়তো রেগুলার ভাষা নয়।

    ঠিক সেই সময় বনের সেই পুরোনো কাক আবার এল। কাক ছিল খুব বুদ্ধিমান। রাজা কাককে ডেকে বললেন, কাক, তুমি তো অনেক কিছু জান। আমাকে একটি ভাষা বানাতে হবে যেখানে ০ আর ১ সমান সংখ্যক থাকবে। কিন্তু ডিএফএ দিয়ে পারছি না। কী করব?

    কাক হেসে বলল, রাজা, এই ভাষা রেগুলার নয়। এর জন্য দরকার স্মৃতি। আপনার পুরোনো রোবটের স্মৃতি নেই। তাই তাকে স্মৃতি দিতে হবে। আমরা আগেই পুশডাউন অটোমেটন নিয়ে কথা বলেছিলাম। সেটাই এখন কাজে লাগবে।

    রাজা বললেন, পুশডাউন অটোমেটন? সেটা আবার কী?

    কাক বলল, সেটা হলো সেই যন্ত্র, যার একটা স্ট্যাক থাকে। স্ট্যাকের ওপর জিনিস রাখা যায়, আবার তোলাও যায়। এভাবেই সে হিসাব রাখে।

    রাজা বললেন, তাহলে এখন আমরা সেটা বানাব?

    কাক বলল, হ্যাঁ। তবে আগে আমাদের বুঝতে হবে, এই ভাষাগুলোর একটা নাম আছে। এদের বলে কনটেক্সট-ফ্রি ভাষা। মানে প্রসঙ্গ-মুক্ত ভাষা। কেন প্রসঙ্গ-মুক্ত? কারণ এখানে কোনো প্রসঙ্গ দেখতে হয় না, শুধু স্ট্রাকচার দেখলেই চলে।

    রাজা বললেন, কনটেক্সট-ফ্রি ভাষা আবার কীভাবে লেখা হয়? রেগুলার এক্সপ্রেশনের মতো করে?

    কাক বলল, হ্যাঁ, কিন্তু একটু আলাদা। এদের লেখার জন্য আছে কনটেক্সট-ফ্রি গ্রামার। এটা এক ধরনের নিয়মের সেট।

    রাজা বললেন, গ্রামার? ব্যাকরণ?

    কাক বলল, হ্যাঁ, ব্যাকরণ। যেমন আমরা বাংলা ব্যাকরণে বাক্য গঠন করি, তেমনি এখানে স্ট্রিং গঠন করি।

    রাজা বললেন, বুঝিয়ে বলো।

    কাক বলল, ধরুন আপনি চান ০ আর ১ সমান সংখ্যক থাকবে, যে কোনো ক্রমে। এর জন্য আমরা একটা গ্রামার লিখতে পারি এইভাবে:

    S → ০S১ | ১S০ | SS | ε

    এই নিয়মগুলোর মানে কী? S হলো শুরু চিহ্ন। প্রথম নিয়ম বলে, S-কে বদলে দেওয়া যায় ০S১ দিয়ে। মানে আগে ০, তারপর আবার S, তারপর ১। দ্বিতীয় নিয়ম বলে, S-কে বদলে দেওয়া যায় ১S০ দিয়ে। তৃতীয় নিয়ম বলে, S-কে বদলে দেওয়া যায় SS দিয়ে, মানে দুটো S পাশাপাশি। চতুর্থ নিয়ম বলে, S-কে বদলে দেওয়া যায় ফাঁকা দিয়ে।

    এই নিয়মগুলো ব্যবহার করে আমরা যেকোনো সমান সংখ্যক ০ আর ১-এর স্ট্রিং বানাতে পারি।

    রাজা বললেন, যেমন ০১ বানাব কীভাবে?

    কাক বলল, প্রথমে S নিন। তারপর প্রথম নিয়ম ব্যবহার করে লিখুন ০S১। তারপর S-কে ফাঁকা দিয়ে বদলে দিন। তাহলে পাবেন ০১।

    রাজা বললেন, আর ১০১০ বানাব?

    কাক বলল, প্রথমে S নিন। তারপর দ্বিতীয় নিয়ম ব্যবহার করে লিখুন ১S০। তারপর S-কে আবার SS দিয়ে বদলান। তাহলে পাবেন ১SS০। এখন প্রথম S-কে ০S১ দিয়ে বদলান, দ্বিতীয় S-কে ফাঁকা দিয়ে বদলান। তাহলে পাবেন ১ ০S১ ০। এখন S-কে ফাঁকা দিয়ে বদলালে পাবেন ১০১০।

    রাজা বললেন, বুঝলাম। এটা তো মজার। কিন্তু এই গ্রামার কি সবসময় কাজ করে?

    কাক বলল, এই গ্রামার শুধু সমান সংখ্যক ০ আর ১-এর জন্য কাজ করে। আরেকটি উদাহরণ দিই। ধরুন আপনি চান ব্যালান্সড প্যারেনথেসিস। যেমন (()), ()(), (())() ইত্যাদি। এর জন্য গ্রামার হবে:

    S → (S) | SS | ε

    এটার মানে হলো, S-কে বদলে দেওয়া যায় বন্ধনীর মধ্যে আরেকটা S দিয়ে, অথবা দুটো S পাশাপাশি দিয়ে, অথবা ফাঁকা দিয়ে।

    এই গ্রামার দিয়ে আমরা যেকোনো ব্যালান্সড প্যারেনথেসিস বানাতে পারি।

    রাজা বললেন, তাহলে বুঝলাম, কনটেক্সট-ফ্রি গ্রামার হলো এক ধরনের নিয়মের সেট, যা দিয়ে আমরা জটিল ভাষা বানাতে পারি।

    কাক বলল, ঠিক তাই। আর এই গ্রামারগুলোই পুশডাউন অটোমেটন চিনতে পারে।

    এবার আমরা পুশডাউন অটোমেটন নিয়ে একটু গভীরে যাই। আগের অধ্যায়ে আমরা কাকের সাহায্যে পুশডাউন অটোমেটন বানিয়েছিলাম সমান ০ আর ১-এর জন্য। সেখানে আমরা নিয়েছিলাম:

    শুরুতে স্ট্যাকের ভেতর Z0।
    ০ পড়লে স্ট্যাকের ওপর X রাখব।
    ১ পড়লে স্ট্যাক থেকে X তুলব।
    শেষে স্ট্যাক খালি থাকলে স্বীকৃত।

    কিন্তু এটা কাজ করে যখন সব ০ আগে আর সব ১ পরে। আমাদের নতুন ভাষায় তো ০ আর ১ যে কোনো ক্রমে আসতে পারে। তখন কী হবে?

    কাক বলল, তখন আমাদের পদ্ধতি বদলাতে হবে। এখন আমরা ০ পড়লে স্ট্যাকের ওপর X রাখব। ১ পড়লে দেখব, স্ট্যাকের ওপর যদি X থাকে, তাহলে তুলব। আর যদি X না থাকে, তাহলে Y রাখব। মানে ১ বেশি থাকলে স্ট্যাকের ওপর Y রাখব। আবার ০ পড়লে দেখব, স্ট্যাকের ওপর যদি Y থাকে, তাহলে Y তুলব। আর যদি Y না থাকে, তাহলে X রাখব।

    এভাবে স্ট্যাকের ওপর সবসময় শুধু X অথবা শুধু Y থাকবে। X মানে ০ বেশি আছে, Y মানে ১ বেশি আছে। শেষে স্ট্যাক খালি মানে সমান সংখ্যক।

    এটাই হলো পুশডাউন অটোমেটনের মূল কৌশল।

    এবার আমরা আরেকটি উদাহরণ দেখি। ধরুন, ভাষা হলো a^n b^n, মানে প্রথমে n সংখ্যক a, তারপর n সংখ্যক b। এটা আমরা আগেই দেখেছি। এর জন্য পুশডাউন অটোমেটন:

    শুরু অবস্থা q0।
    q0-তে a পড়লে স্ট্যাকের ওপর A রাখব, আর q0-তেই থাকব।
    q0-তে b পড়লে দেখব, স্ট্যাকের ওপর A আছে কি না। থাকলে তুলব আর q1-এ যাব।
    q1-তে b পড়লে দেখব, স্ট্যাকের ওপর A আছে কি না। থাকলে তুলব আর q1-তেই থাকব।
    q1-তে কোনো a পড়লে ভুল।
    শেষে q1-এ থাকব আর স্ট্যাক খালি থাকলে স্বীকৃত।

    এখানে q1 হলো সেই অবস্থা, যেখানে b পড়া শুরু হয়েছে। একবার b পড়া শুরু হলে আর a আসতে পারে না।

    এভাবে পুশডাউন অটোমেটন কাজ করে।

    এবার আসি একটি মজার বিষয়ে। পুশডাউন অটোমেটন দুই রকমের হতে পারে। ডিটারমিনিস্টিক আর ননডিটারমিনিস্টিক। ডিটারমিনিস্টিক পিডিএ-তে প্রতিটি অবস্থা থেকে প্রতিটি ইনপুটের জন্য ঠিক একটা ট্রানজিশন থাকে। ননডিটারমিনিস্টিক পিডিএ-তে একাধিক ট্রানজিশন থাকতে পারে।

    আমাদের a^n b^n ভাষার জন্য ডিটারমিনিস্টিক পিডিএ আছে। কিন্তু কিছু কনটেক্সট-ফ্রি ভাষা আছে যাদের জন্য ডিটারমিনিস্টিক পিডিএ নেই, শুধু ননডিটারমিনিস্টিক পিডিএ আছে। যেমন সমান সংখ্যক ০ আর ১ যে কোনো ক্রমে, এই ভাষার জন্য ডিটারমিনিস্টিক পিডিএ বানানো কঠিন। কারণ আমরা জানি না কখন কোনটা তুলব।

    কিন্তু ননডিটারমিনিস্টিক পিডিএ দিয়ে সেটা করা যায়। ননডিটারমিনিস্টিক পিডিএ অনুমান করে কাজ করে। সে অনুমান করে, এই ০টা হয়তো আগের ১-এর সঙ্গে মিলবে, নাকি পরে কোনো ১-এর সঙ্গে মিলবে। এভাবে একাধিক পথে গিয়ে শেষে যদি কোনো পথ সফল হয়, তাহলে স্ট্রিং স্বীকৃত।

    এটা অনেকটা এনএফএ-র মতো, তবে স্ট্যাকও আছে।

    এখন আমরা বুঝতে চেষ্টা করি, কনটেক্সট-ফ্রি ভাষার সম্পর্ক কীভাবে রেগুলার ভাষার সঙ্গে। প্রতিটি রেগুলার ভাষাই কনটেক্সট-ফ্রি। কারণ রেগুলার ভাষার জন্য ডিএফএ আছে, আর ডিএফএ-কে আমরা পিডিএ হিসেবেও ভাবতে পারি, যেখানে স্ট্যাক ব্যবহার করা হয় না। কিন্তু উল্টোটা সত্যি না। সব কনটেক্সট-ফ্রি ভাষা রেগুলার নয়।

    যেমন a^n b^n ভাষা রেগুলার নয়, কিন্তু কনটেক্সট-ফ্রি।

    এখন প্রশ্ন হলো, সব ভাষা কি কনটেক্সট-ফ্রি? না। কিছু ভাষা আছে যারা কনটেক্সট-ফ্রি নয়। যেমন a^n b^n c^n, মানে সমান সংখ্যক a, b, c। এই ভাষা কনটেক্সট-ফ্রি নয়। এর জন্য আরও শক্তিশালী যন্ত্র দরকার, যেমন টুরিং মেশিন।

    এটা প্রমাণ করার জন্য আছে পাম্পিং লেমার মতোই আরেকটি লেমা, যার নাম কনটেক্সট-ফ্রি ভাষার পাম্পিং লেমা। সেটা একটু জটিল, কিন্তু মূল কথা হলো, কনটেক্সট-ফ্রি ভাষারও সীমাবদ্ধতা আছে।

    এবার আমরা বাস্তব জীবনে ফিরে আসি। কনটেক্সট-ফ্রি ভাষার ব্যবহার কোথায়?

    প্রথম এবং প্রধান ব্যবহার হলো প্রোগ্রামিং ভাষার সিনট্যাক্স বর্ণনা করতে। প্রতিটি প্রোগ্রামিং ভাষার জন্য একটা গ্রামার থাকে। যেমন C ভাষার জন্য আছে ANSI C গ্রামার। এই গ্রামার দিয়ে বোঝানো হয় কিভাবে if-else লিখতে হবে, কিভাবে লুপ লিখতে হবে, কিভাবে ফাংশন ডিফাইন করতে হবে।

    দ্বিতীয় ব্যবহার হলো কম্পাইলার ডিজাইনে। কম্পাইলারের যে অংশ পার্সিং করে, সেটা এই গ্রামার ব্যবহার করে। পার্সার নামের এই অংশটা ইনপুট কোড নিয়ে চেক করে, সেটা গ্রামার মেনে চলে কি না।

    তৃতীয় ব্যবহার হলো HTML আর XML পার্সিং। এই ভাষাগুলোতে ট্যাগ ওপেন আর ক্লোজ করতে হয়। সেটা কনটেক্সট-ফ্রি গ্রামার দিয়ে বোঝানো যায়।

    চতুর্থ ব্যবহার হলো ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং-এ। মানুষের ভাষার ব্যাকরণ অনেকটাই কনটেক্সট-ফ্রি, তাই সেগুলো প্রসেস করতে এই তত্ত্ব কাজে লাগে।

    পঞ্চম ব্যবহার হলো ডেটা ফরম্যাট ভ্যালিডেশনে। যেমন JSON বা YAML ফরম্যাট চেক করতে কনটেক্সট-ফ্রি গ্রামার ব্যবহার করা যায়।

    এখন আমরা যদি আমাদের পুরোনো ইমেল রিডারের উদাহরণে ফিরে যাই, তাহলে দেখতে পাব, ইমেল ঠিকানা রেগুলার এক্সপ্রেশন দিয়েই চলে। কিন্তু যদি আমরা ইমেলের বডি পার্স করতে চাই, যেমন ইমেলের ভেতর থেকে সব লিংক বের করতে চাই, তাহলে হয়তো রেগুলার এক্সপ্রেশনই যথেষ্ট। কিন্তু যদি আমরা ইমেলের HTML পার্স করতে চাই, তাহলে কনটেক্সট-ফ্রি গ্রামার দরকার।

    এখন আমরা আরেকটি উদাহরণ দেখি। ধরুন, আমরা একটি ক্যালকুলেটর বানাতে চাই, যে ২+৩*৪ এর মতো এক্সপ্রেশন হিসাব করবে। এই এক্সপ্রেশনের গ্রামার হবে:

    E → E + T | T
    T → T * F | F
    F → ( E ) | সংখ্যা

    এখানে E হলো এক্সপ্রেশন, T হলো টার্ম, F হলো ফ্যাক্টর। এই গ্রামার দিয়ে আমরা গাণিতিক এক্সপ্রেশন বানাতে পারি। যেমন ২+৩*৪ বানাতে:

    E থেকে শুরু। প্রথম নিয়ম E → E + T ব্যবহার করি। তাহলে পাই E + T। এখন প্রথম E-কে T দিয়ে বদলাই, তারপর T-কে F দিয়ে, তারপর F-কে ২ দিয়ে। তাহলে পাই ২ + T। এখন T-কে T * F দিয়ে বদলাই। তাহলে পাই ২ + T * F। এখন T-কে F দিয়ে বদলাই, F-কে ৩ দিয়ে। তাহলে পাই ২ + ৩ * F। এখন F-কে ৪ দিয়ে বদলাই। শেষে পাই ২ + ৩ * ৪।

    এই গ্রামার দিয়ে আমরা শুধু স্ট্রিং বানাই না, বরং এক্সপ্রেশনের গঠনও বুঝতে পারি। এই গঠনকে বলে পার্স ট্রি। এই পার্স ট্রি থেকে আমরা হিসাব করতে পারি।

    এখন এই গ্রামার চিনতে পারে এমন একটি পুশডাউন অটোমেটন বানানো যায়। সেটা একটু জটিল, কিন্তু সম্ভব।

    এভাবে কনটেক্সট-ফ্রি গ্রামার আর পুশডাউন অটোমেটন আমাদের জটিল ভাষা বুঝতে সাহায্য করে।

    এবার আমরা গল্পে ফিরে যাই। রাজা কাকের কাছে কনটেক্সট-ফ্রি গ্রামার আর পুশডাউন অটোমেটন শিখে খুব খুশি। তিনি এখন সমান সংখ্যক ০ আর ১-এর ভাষা বানাতে পারেন। তিনি আরও জানতে পারলেন, এই ভাষার নাম কনটেক্সট-ফ্রি ভাষা।

    রাজা বললেন, কাক, তুমি কি আমাকে আরেকটি উদাহরণ দিতে পারো?

    কাক বলল, অবশ্যই। ধরুন, আপনি চান একটি ভাষা যেখানে a, b, c এই তিনটি অক্ষর আছে, এবং a যতবার আছে, b ততবার আছে, c ততবার আছে। যেমন abc, aabbcc, aaabbbccc ইত্যাদি। এটা কি কনটেক্সট-ফ্রি?

    রাজা বললেন, মনে হয় কনটেক্সট-ফ্রি।

    কাক বলল, না, এটা কনটেক্সট-ফ্রি নয়। এটা প্রমাণ করা যায় পাম্পিং লেমা দিয়ে। এই ভাষার জন্য কনটেক্সট-ফ্রি গ্রামার নেই। এর জন্য দরকার আরও শক্তিশালী যন্ত্র।

    রাজা বললেন, তাহলে বুঝলাম, কনটেক্সট-ফ্রি ভাষারও সীমাবদ্ধতা আছে।

    কাক বলল, হ্যাঁ। আর সেই সীমাবদ্ধতা কাটাতে পরে আমরা টুরিং মেশিন দেখব।

    রাজা বললেন, টুরিং মেশিন আবার কী?

    কাক বলল, সেটা পরবর্তী অধ্যায়ের বিষয়। সেখানে আমরা অসীম স্মৃতি সম্পন্ন যন্ত্র দেখব, যা প্রায় সব ভাষাই চিনতে পারে।

    এভাবে রাজা কনটেক্সট-ফ্রি ভাষা শিখলেন। এখন তিনি জানেন, রেগুলার ভাষা আর কনটেক্সট-ফ্রি ভাষার মধ্যে পার্থক্য কী। তিনি জানেন, ডিএফএ দিয়ে যা হয় না, পিডিএ দিয়ে তা হয়। কিন্তু পিডিএ-ও সব পারে না।

    এখন আমরা অধ্যায় ৫ শেষ করি এই জেনে যে:

    প্রথমত, কনটেক্সট-ফ্রি ভাষা হলো সেই সব ভাষা যাদের পুশডাউন অটোমেটন দিয়ে চেনানো যায়।
    দ্বিতীয়ত, কনটেক্সট-ফ্রি গ্রামার হলো এই ভাষাগুলো লেখার উপায়।
    তৃতীয়ত, রেগুলার ভাষা সবই কনটেক্সট-ফ্রি, কিন্তু উল্টোটা সত্যি নয়।
    চতুর্থত, a^n b^n, ব্যালান্সড প্যারেনথেসিস, গাণিতিক এক্সপ্রেশন এরা কনটেক্সট-ফ্রি ভাষার উদাহরণ।
    পঞ্চমত, a^n b^n c^n কনটেক্সট-ফ্রি নয়।

    পরবর্তী অধ্যায়ে আমরা টুরিং মেশিন আর কম্পিউটেবিলিটি নিয়ে কথা বলব। সেখানে আমরা দেখব, কী কী সমস্যা সমাধান করা সম্ভব আর কী কী অসম্ভব।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    (0) | 1 | 2 | 3 | 4 | 5 | 6 | 7 | 8
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় মতামত দিন