

ছবি: রমিত
এক অস্ট্রিয়ান ব্যাঙ্কে সবে ডিরেক্টর পদে নিযুক্তি হয়েছে ,মাসে একদিন ভিয়েনায় হাজিরা দিতে হবে , তার জন্য বেশ কিছু ইউরো দক্ষিণা । আমার রুটি রুজির প্রধান প্রবন্ধক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাঙ্কের তাতে কোন আপত্তি নেই; তাঁরা বছরে কয়েকটা দিন এই অতিরিক্ত কাজের জন্য ছুটি মঞ্জুর করবেন, টাকা কাটবেন না । তাদের এই মহানুভবতায় আপ্লুত হয়ে মানবিক সম্পদ বিভাগের কর্ত্রী লুইস ব্যাচেলরকে ধন্যবাদ জানাতে গেছি । লুইস বললে , একটা কথা । স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডে আমরা আপনার মাইনের একটা অংশ কেটে মহারানীর প্রাপ্য ট্যাক্স ট্রেজারিতে জমা দিই । এই অস্ট্রিয়ান ব্যাঙ্ক থেকে ইউরোয় যে বাড়তি মাইনে পাবেন সেটা কতো তা আপনি আমাদের জানাতে বাধ্য নন কিন্তু খেয়াল করে ঠিক জায়গায় কর দিতে অন্যথা করবেন না যেন !
ফোনে আমার বড়ো গল্প শুনে ডেরেক বললে , নতুন চাকরি পেয়েছ সেটা খুশির খবর। তবে লাফালাফি করো না, মনে রেখো আয় যেমন বাড়বে, তেমনই তোমার একটা খরচাও বাড়লো ।
এ কোন ফ্যাঁকড়া ? কিসের খরচা? লন্ডন ভিয়েনা আসা যাওয়া, সেখানে গ্র্যান্ড হোটেলে থাকার খরচা তাদের, আমার নয় ।
এসেক্সের হাই অঙ্গার নিবাসী ডেরেক হ্যারিংটন আমার দীর্ঘদিনের পরিচিত বীমা এজেন্ট ; জীবনটুকু বাদে সে আমাদের বাড়িঘর , গাড়ি, ভ্রমণ সবকিছুর ইন্সিউরেন্স করতো । সকলেই জানি বীমা কোম্পানিকে আমরা প্রিমিয়াম গুণে যাই নিয়মিত, কারণ সেটি আমাদের কর্তব্য । আমার কোন বিপদ আপদ ঘটলেই তাঁরা হাতটি গুটিয়ে নেন , দেওয়া পাড়া দিয়ে তাঁরা হাঁটবেন না ; সেটি তাঁদের কর্তব্য । টু পাইস ফাদার মাদার। ডেরেক ছিল একেবারে বিপরীত মেরুর মানুষ , ব্যবসা যেমন বুঝত তেমনই খদ্দেরের প্রয়োজনে বীমা কোম্পানির কাছ থেকে কিমিতি টাকা আদায় করা যায় সে ব্যাপারেও ছিল দঢ় । গল্প অনেক ।
একবার গ্রীষ্মে কেন্টের ওয়েস্টগেট অন সিতে দশ দিনের ছুটি শেষ হলে বিচ হোটেলের বিল চুকিয়ে বেরুতে যাবো, ম্যানেজার এসে বিনীতভাবে বললেন, আপনার সঙ্গে একটু কথা আছে।
সুর শুনেই শঙ্কিত হয়েছি। কথা বার্তায় ইংরেজি ভদ্রতা বা ভণ্ডামির তুলনা নেই। ট্রাফিকের আইনে গোলমাল বা আপনার কোন বেচাল চোখে পড়লেই জার্মান পুলিশ আপনার গাড়ি থামিয়ে জানলায় দাঁড়িয়ে শুভ দিন, শুভ সন্ধ্যা বলে সময় নষ্ট করে না ( কি ভাগ্যে শুভ বিকেলটা জার্মানে চালু নয় )। পুলিসের প্রাথমিক বানী হল , রাউস - বেরো , দ্বিতীয় আদেশ, লাইসেন্স দেখি । এমন কেসে ব্রিটিশ পুলিশ আপনার গাড়ির জানলায় উঁকি দিয়ে অত্যন্ত বিনীতভাবে বলবে, হোয়াট সিমস টু বি দি প্রবলেম, সার ? প্রবলেম যে কি সেটা পুলিস এবং আপনি দু পক্ষেই খুব ভালো করে জানেন, এই লাল বাতি টপকেছেন বা গতি সীমা ভেঙ্গেছেন কিন্তু আলোচনাটা সেখান থেকে শুরু হয় না! তেমনি ইংরেজি কায়দায় দুঃসংবাদ আরম্ভ হয় একান্ত নিরীহ শব্দবন্ধ দিয়ে , মে আই হ্যাভ আ ওয়ার্ড উইথ ইউ, সার? এই যেমন বিনয়ের অবতাররুপী হোটেল ম্যানেজার প্রায় মাথা চুলকেই বললেন ।
সেই ওয়ার্ডটা কি খুলে না বলে তিনি হাঁটতে শুরু করলেন, সেই ঘরের দিকে যেখানে আমার বারো বছরের মেয়ে ঐন্দ্রিলা আর তার দুই বান্ধবী থেকেছে । এবার অত্যন্ত নরম সুরে বললেন, সার চার পাশটা একবার দেখুন । দেখলাম । সুর রিয়ালিসটিক ছবির মতো লালচে , বেগুনি , নানা রঙের ধারায় ঘরের আবছা হলদে দেওয়াল চিত্রিত হয়ে আছে । এ যেন স্টুডিও , আতেলিয়ে , কোন শিষ্য অঙ্কনের খসড়া করে গেছেন , যামিনী রায় বা বত্তিচেলি একটু পরেই মূল ছবিতে হাত দেবেন। । এই চিত্র প্রদর্শনী মন দিয়ে দেখছি , এমন সময় কর্ণ কুহরে প্রবেশিত হলো ম্যানেজারের বাণী – এবার বাথরুমটাও যদি ..
অগত্যা । সেখানকার স্বল্প পরিসরের দেওয়ালেও টেকনিকলর চিত্রণ পর্যাস।
আলোচনা , বাদ বিসম্বাদ , এঁর সঙ্গে কথা বাড়ানো সকলই বৃথা।
বললাম, হাউ মাচ?
এতো সহজে রাজি হবো আশা করেন নি। হাত কচলিয়ে ম্যানেজার বললেন, সার , এই ধরুন দেওয়ালগুলো ঘষতে হবে , আবার দু পোঁচ রঙ লাগানোর ব্যাপার আছে। কাজ শেষ না হওয়া অবধি অন্তত তিনদিন কোন গেস্ট রাখতে পারবো না , মানে এই হাই সামারে সে রুম রেন্ট লোকসানের খাতায় যাবে। । তা সব মিলিয়ে ধরুন দেড়শো পাউনড ( সাল ১৯৯৪)।
ঐন্দ্রিলা, ভিকি, নাতালি কাচুমাচু মুখ করে রিসেপশনে দাঁড়িয়ে । মেয়ের বন্ধুদের কিছু বলা যায় না। ঐন্দ্রিলাকে আলাদা ডেকে জিজ্ঞেস করলাম এই অসাধ্য তারা কীভাবে সাধন করেছে। ঐন্দ্রিলা বললে, ভিকির আইডিয়াতে চুল রঙ করতে গিয়েই!
আর্গুমেন্ট সাসটেনড ।
পরের প্রশ্ন ডেরেককে, ফোনে । নিবাত নিষ্কম্প প্রদীপের কথা পড়েছি । যিনি কিছুতেই বিচলিত হন না তাঁকে কি বলে ? স্থিতধী ? ডেরেককে আমি কোন অবস্থায় উত্তেজিত হতে দেখিনি ।
-আমার এখন কি করনীয় , ডেরেক?
-হোটেল বুক করেছিলে কীভাবে ?
-কুটস ব্যাঙ্কের মাস্টার কার্ডে ।
-রিসেপশনে আলোচনা নয়। আপাতত হোটেলের প্রার্থিত দেড়শো পাউনড মিটিয়ে দিয়ে ছেলে মেয়ে তাদের বন্ধুদের নিয়ে গাড়িতে উঠে আমাকে ফোন করো । আর হ্যাঁ , পেমেন্টটা করবে সেই একই কার্ডে ।
মিনিট পনেরো বাদে আবার ফোন করলাম।
-লোকসান উদ্ধারের দুটো রাস্তা আছে ওল্ড বয় ; হোটেল বুক করার সময়ে তুমি কুটস কার্ড ব্যবহার করে হোটেল বুক করেছো অর্থাৎ সেই কার্ডে একটা প্রোডাক্ট কিনেছো। আমি তাদের ক্লজ পড়ে দেখলাম কেনার ছ সপ্তাহের মধ্যে প্রোডাক্টের কোন ক্ষতি, মানে অ্যাকসিডেন্টাল ড্যামেজ হলে ক্রেডিট কার্ড কোম্পানি সেটি পূরণ করতে দায়বদ্ধ । পোরসিলিনের কাপ প্লেট ভাঙলেও সে দাবি গ্রাহ্য হবে। তারা কোন আপত্তি করলে আমি হাল ধরব।
-বাঁচালে , আর অন্যটা?
-তোমাকে যে ট্রাভেল ইন্সিউরেন্স বেচেছি, সেখানেও কোন অনিচ্ছাকৃত এবং আকস্মিক ক্ষতিজনিত ব্যয় কোম্পানি বহন করতে পারে। হোটেলের বাথরুমে চুল রঙ করার সঙ্গত অধিকার তোমার মেয়ের অবশ্যই আছে আর তা করতে গিয়ে যদি দেওয়ালে কার্পেটে রঙ ছড়িয়ে যায় সেটা অ্যাকসিডেন্টাল ড্যামেজের আওতায় পড়ে। আমার মতে ক্রেডিট কার্ড কোম্পানির কাছ থেকে দেড়শ পাউনড আদায় করাটা হবে পুরোপুরি লিগাল ক্লেম। অন্যথায় দুনিয়ার হোটেলের দেওয়ালে দেওয়ালে ছবি এঁকে তার জরিমানা উশুলের দাবি করে তোমার ভ্রমণ বীমার রেকর্ড খারাপ না করাই ভাল।
ডেরেকের প্রতি আমার আস্থার অভাব কোনদিন ছিল না । তবে এই আমার বাড়তি চাকরি, তাতে অর্থাগম বাড়বে জানি । খরচা বাড়বে কিসের ? একি অশুভ ইঙ্গিত?
-ভেবো না তোমার পকেট কাটছি।মনে রেখো কোম্পানি লিমিটেড কিন্তু কোম্পানির ডিরেক্টরের লায়াবিলিটি আনলিমিটেড (আমার মনে হল এ যে সীমার মাঝে অসীম তুমি! তার ইংরেজি হয় না !)। তোমাদের মতন আট দশ জন ডিরেক্টর একটা টেবিলের চার পাশে বসে হয়তো অনেক কিছু ভেবে কখনো না ভেবে সিদ্ধান্ত নেয়; তার ফল সুদূর প্রসারী হতে পারে । প্রত্যেক ডিরেক্টর ব্যক্তিগতভাবে দায়ী ( পারসোনালি লায়েবল) । কে তোমার কোন কাজের জন্যে ক্ষতিপূরণ দাবি করবে , হিসেব পত্র সময়মত না দিলে সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কের ইন্সপেক্টর অথবা বাথরুমের পরিচ্ছন্নতা ঠিক নেই বলে ভিয়েনা পৌরসভার হেলথ ডিপার্টমেনট, কে যে কোথায় কোনখানে কোন অপরাধের জন্য ক্ষতিপূরণ চাইবে বা মামলা ঠুকে দেবে সেটা জানো না, অনুমান করার কোন ক্ষমতা তোমার নেই । ক্রিকেটে ব্যাটিঙের সময় তুমি জানো বাম্পার বা লোপ্পা দল যাই হোক না কেন সেটা আসে বোলারস এন্ড থেকে । এখানে কোন নির্দিষ্ট এন্ড নেই। বল মিড অফ কেন বাউনডারির বাইরে থেকে এসেও তোমার মাথায় পড়তে পারে ( ডেরেক তার পাড়ার সানডে ক্রিকেটের মাস্তান ব্যাটসম্যান ছিল) । তোমাদের বোর্ড মিটিঙে চেয়ারম্যান বলেছিলেন বলে বা ভুল হয়ে গেছে সার , ভালো ভেবেই তো মত দিয়েছি এসব বলে পার পাবে না। ফাইনানশিয়াল টাইমস অবধি যাবার দরকার নেই; অস্ট্রিয়ান ব্যাঙ্কের ভারতীয় মূলের এক অপদার্থ ডিরেক্টরের কার্যকলাপের বিষয়ে ভিয়েনার কোন ট্যাবলয়েড পত্রিকা দুটো গুল্প হাওয়ায় ভাসিয়ে দিলে তোমার ঘুম এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তি দুইই ছুটে যেতে পারে। সব রোগের প্রতিষেধক নয়, আমরা সম্ভাব্য বিপদ আপদের টীকা বেচি, দিস ইজ নোন অ্যাজ ডিরেক্টরস লায়াবিলিটি ইন্সিউরেন্স ।
খানিকটা জানা ছিল : অফিসে প্রবেশ করা থেকে সন্ধ্যায় প্রস্থানকাল অবধি আমাদের জানমালের দায়িত্ব ছিল জার্মানিতে কনটিনেনটাল ব্যাঙ্ক , লন্ডনে সিটি ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাঙ্কের ওপরে। যেমন এ টেবিল থেকে ও টেবিলে যেতে গিয়ে খোঁচা লেগে যদি আমার সুট ছিঁড়ে যায় বা আমার অসতর্ক পদক্ষেপে যদি বড়ো সায়েবের ঘরের বাইরে সাজানো মিঙ ডাইনাসটির মহার্ঘ্য ফুলদানি চুরমার হয় তার ক্ষতিপূরণ কোন গৌরি সেন নয়, দেবে আমার অন্নদাতা ব্যাঙ্ক। অবশ্যই আপন তিজোরির পয়সায় নয় ; কর্মী বৃন্দের অকল্পনীয় ক্ষতিসাধনের সম্ভাবনা মনে রেখে , এমনি সব অভাবনীয় উৎপাতের ব্যয় সামলানোর জন্য কেনা থাকে ইন্সিউরেন্স পলিসি । মোক্ষম উদাহরণ দেখেছিলাম একবার সিটি ব্যাঙ্কে –ইংল্যান্ডের গরম কালে আমাদের একটা অতিরিক্ত দায়িত্ব ছিল খদ্দেরের আপ্যায়ন , যেমন তাদের লরডসে ক্রিকেট , হেনলি রিগাটা, গ্লাইনবোরনে অপেরা , অ্যাসকটে ঘোড়দৌড়ে নিয়ে যাওয়া । আর উইম্বলডন টেনিস- সেখানে একদিন আমাদের বিভাগের সহকর্মীনি এক শাঁসালো মক্কেলকে নিয়ে গেছেন । খেলা হয়েছে সামান্যই ; জুলাই মাসের দুপুরে যথারীতি তুমুল বৃষ্টি নামে । সেই দৈব দুর্যোগের কারণে জলমগ্ন উইম্বলডন চত্বরে ঘোরা ফেরা করতে গিয়ে তাঁর মহার্ঘ্য জুতো নষ্ট হয়েছে বলে তিনি তার মূল্য ( ৬৫ পাউনড , ১৯৮৬ সালে ) দাবি করেন এবং ব্যাঙ্ক তৎক্ষণাৎ সেটি মিটিয়ে দেয় ; কারণ এই অঘটনটি ঘটেছে কাজের সময়ে এবং ব্যবসায়ের খাতিরে।
আমার এই প্রগাড় জ্ঞান প্রদর্শনে বিন্দুমাত্র ইম্প্রেসড না হয়ে ডেরেক বললে সেটা সামগ্রিক ইন্সিউরেন্সের আওতায় পড়ে যার নাম অফিসারস লায়াবিলিটি, সব প্রতিষ্ঠান সেটা কেনে । তবে যে কোন বড়ো ফার্ম তাদের ডিরেক্টরদের জন্য পারসোনাল লায়াবিলিটি ইন্সিউরেন্স কিনে থাকে । জেনে নাও এঁরা কেনেন কিনা। অন্যথায় , ফর্ম পাঠালাম , সই করে ফেরত দিও।
ডেরেকের সুপরামর্শ অনুযায়ী খোঁজ নিয়ে জানলাম আমার কর্মদাতা সেটির ব্যবস্থা করে রেখেছেন যদিও তার অঙ্কটা বিরাট কিছু নয় , যাকে বলে নাথিং টু রাইট হোম অ্যাবাউট ।গোটা দশেক ব্রাঞ্চ নিয়ে আমাদের ব্যাঙ্ক , ব্যক্তিগতভাবে আমার একার পক্ষে সে ব্যাঙ্কের অথবা অস্ট্রিয়ান অর্থনীতির বিপুল ক্ষতিসাধনের সম্ভাবনা অত্যন্ত সীমিত ।
কবচ কুণ্ডল মাদুলি : ফার্স্ট ব্র্যান্ডস
দিন গোনার দিনের প্রথম পর্বে দেখেছি ফার্স্ট ব্র্যান্ডস নামক এক গাড়ির ওয়াইপার , ব্রেক প্যাড ইত্যাদির নির্মাতা একটি ইনভয়েসরূপি কুমিরছানাকে পাঁচ বার দেখিয়ে কখনো বা কাল্পনিক সেলস ইনভয়েস বানিয়ে ধার করে ব্যাঙ্ক এবং অন্যান্য ইনভেসটরের গলায় প্রায় দশ বিলিয়ন ডলারের দেনা ঝুলিয়ে দিয়ে দেউলে হয়েছে। পাঁচ দশকের পশ্চিমি ব্যাঙ্কিং অভিজ্ঞতায় কতবার দেখলাম ঠেলায় পড়লে যখন কর্পোরেটের আপাত দুর্ভেদ্য ম্যানেজমেন্ট, বিশাল অট্টালিকা ও কাঁচের দেওয়াল চুরমার হয়ে যায় তখন সেই একদা পরাক্রান্ত কোম্পানির ভেতরের অনেক গলদ , ত্রুটি সর্বসমক্ষে প্রকট হয়; রাজা বস্ত্রহীন হয়ে পড়েন। লেমান ব্রাদার্স বা এনরনের ব্যাল্যান্স শিটে গভীর অসুখ ছিল, তাদের নেতারা প্রচুর দেনা বাড়িয়ে এলো পাথারি ব্যাটিং করে যাচ্ছিলেন , ত্রৈমাসিক টেলিফোনে কনফারেন্স কল শুনেছেন নিউ ইয়র্ক টাইমস , ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের ইনভেস্টিগেটিভ জারনালিস্টরা – কোন প্রশ্ন করেন নি। বারনি মেডফ নামক এক প্রবাদ প্রতিম ফান্ড ম্যানেজার আম জনতাকে ৬৫ বিলিয়ন ডলারের ধোঁকা দিয়ে জেলে গেছেন ; বছরের পর বছর দারুণ রিটার্ন দিয়েছেন , নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে একটিও শেয়ার কেনা বেচা না করেই ।এতো বড়ো ফান্ডের আইন বিভাগ চালাতেন সত্তর বছর বয়েসের এক উকিল, একটি শপিং মলের অফিস থেকে । কারো চোখে পড়ে নি ? গরু পালালেই হাহাকার? *
বিগত কয়েক দশকে ডিরেক্টরবর্গের ব্যক্তিগত দায় বাঁচানোর বীমা একটি প্রথায় প্রচলিত হয়েছে ; সব পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি সেটি করে থাকে -আমার চেলারা যেন থাকে দুধে ভাতে। মনে রাখবেন ২০০৭/৮ সালের সাব প্রাইম সঙ্কট, ব্যাঙ্কিংয়ে বিপুল অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের দরুন আমেরিকা ইংল্যান্ড জার্মানিতে কোন গণ্যমান্য নগণ্য ব্যাঙ্কার জেলে যাননি, বড়জোর বোনাসে ঘাটতি পড়েছে ( বরণীয় ব্যতিক্রম আইসল্যান্ড )। প্রাইভেট, বিশেষ করে ছোট মাপের কোম্পানি, যাদের ত্রৈমাসিক ব্যাল্যান্স শিট , ইনভেস্টর কনফারেনসের ভিত্তিতে শেয়ারের দাম ওঠানামা করে না , জনজীবনে ব্যাপক সর্বনাশ ঘটানোর ক্ষমতা কম, তারা এই বীমার বাজারেও নামে , তবে কেনে স্বল্প মূল্যের পলিসি। আদার ব্যাপারী ।
ফার্স্ট ব্র্যান্ডস দেউলিয়া ঘোষিত হয়েছে চ্যাপ্টার ইলেভেন মোতাবেক অর্থাৎ দোকান খুলে রেখে পুনর্গঠন করে ধার শোধের ধান্দা করার অনুমতি আছে । ঝাঁকের কইয়ের মতন এবার সেখানে আবির্ভূত হয়ে ছানবিন শুরু করলেন দামী উকিলেরা। তাঁদের প্রাথমিক লক্ষ পালের গোদাকে ও তার সাঙ্গোপাঙ্গদের ধরে বেঁধে কৈফিয়ত চাওয়া – কে কোন জালিয়াতি করেছে , হলফনামা লেখো, কে সাগরেদ ছিল , মোডাস অপারেনডি ।
দেউলে কোম্পানির কাগজপত্র দেখে শুনে , ঘটি বাটি বেচে ঋণ উদ্ধার করতে জে পি মরগান বা জেফেরিজের র মতো ঘ্যামা ঘ্যামা ওয়াল স্ট্রিট ব্যাঙ্কাররা ব্যস্ত; ইনভয়েস কপি করে একের জায়গায় পাঁচ দেখিয়ে কোম্পানির ব্যাল্যান্স শিট ফাঁপিয়ে ফুলিয়েছিলেন যে সব উচ্চপদস্থ কর্মী তাঁরা নিজেদের আখের গোছানোর জন্যও কিছু মহতী প্রকল্প রচনা করেছিলেন। তাদের কীভাবে লোকসমক্ষে এনে শাস্তি দেওয়া যাবে ? জানা যাচ্ছে সে গুড়ে বালি । অচ্ছে দিন ফুরোলে বুরে দিনও যে আসতে পারে সেই বিবেচনায় ফার্স্ট ব্র্যান্ডের সি ই ও সহ প্রধান কুশীলবেরা দুনিয়ার সবচেয়ে খ্যাতনামা ইন্সিউরেন্স কোম্পানির কাছে বিশাল মূল্যের বীমা কিনে রেখেছিলেন, যার নাম ডিরেক্টরস লায়াবিলিটি ইন্সিউরেন্স –সেই কবচ কুণ্ডলের মহিমা অপার –
•ডিরেক্টরদের বিরুদ্ধে আনা যে কোন দাবির মোকাবিলা করতে উকিল আদালতের সমস্ত খরচা
•যদি প্রতিবাদীর কোন দাবি আদালত মান্য করে তজ্জনিত সমূহ ব্যয়
•যে কোন নিয়ন্ত্রক সংস্থার দ্বারা আনীত কোন অভিযোগ বা তদন্তের সম্যক আইনি প্রতিরোধ
•যে কোন বেআইনি কাজ ( রংফুল অ্যাকট ) যেমন বিশ্বাস ভঙ্গ , ভুল ভ্রান্তি , অসত্য হিসেব দেওয়া , অন্যায় ট্রেডিং – এসবের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রতিরক্ষা
ব্যাঙ্কার ও ইনভেস্টরদের যৌথ কমান্ড ফার্স্ট ব্র্যান্ডসের অফিসে অবতীর্ণ হওয়া মাত্র ডিরেক্টরদের আইনি প্রতিরক্ষা বাহিনী যুদ্ধে নামলেন- তাঁরা জানালেন সম্মুখ সমর নয় , কোন ডিরেক্টরের গায়ে হাত দেওয়া দূরের কথা, ডেকে পাঠানো যাবে না,। তাঁরা কেউই সরাসরি বাক্যালাপ করবেন না। জে পি মরগান বা ব্ল্যাকরকের ব্যাঙ্করাপটসি লইয়ারদের আপাতত আলোচনা করতে হবে ফার্স্ট ব্র্যান্ডের সিনিয়র অফিসারদের সুরক্ষা দলের সঙ্গে - তাঁদের মধ্যে প্রধান সুবিখ্যাত আইনি সংস্থা ব্রাউন রাডনিক এবং কোল শোলৎস । জে পি মরগান , জেফরিজের ঋণ উদ্ধারকারী উকিলেরা চমকে গেলেন – ওহাইওর এই প্রাইভেট কোম্পানির পক্ষে দাঁড়িয়েছেন আমেরিকার এতগুলি খ্যাতনামা আইনজ্ঞ যাদের একদিনের ফি লক্ষ ডলার । এ টাকা আসে কোথা হতে ? এমনও দিন আসতে পারে ভেবেই কি ফার্স্ট ব্র্যান্ডের পরিচালক বৃন্দ তাঁদের অস্ত্রাগারে তূণীর সঞ্চয় করে রাখছিলেন?
মালিক এবং সি ই ও প্যাট্রিক জেমসের জন্ম কেরালায় , শিক্ষা মালয়েশিয়ায় ওহাইয়াওতে বাণিজ্য বিস্তার । আমেরিকান কোম্পানির চিফ একজিকিউটিভ প্রজাতির মধ্যে প্যাট্রিক জেমস এক বিরল ব্যতিক্রম ; ইলন মাস্কের মতো তিনি কোন সামাজিক মাধ্যমের ঝরোখায় প্রাত্যহিক দর্শন দিতেন না , জানা গেছে জেমসের নির্দেশ অনুযায়ী এক জাসুসি টেক এজেন্সি অনবধানবশত মুদ্রিত তাঁর যে কোন ছবি ইন্টারনেট থেকে বিলুপ্ত করেছে । ফার্স্ট ব্র্যান্ডসের কোম্পানি সেমিনারে মোবাইল আনা বারণ ছিল। তাঁর বালক বয়েসের স্কুল ইয়ার বুকের একটি মাত্র ছবি পাওয়া যায় ।মেঘের আড়াল থেকে লড়াই করে, ধার দেনা বাড়িয়ে তিনি একের পর এক গাড়ির আনুষঙ্গিক নির্মাণকারী কোম্পানি অধিগ্রহণ করেন ।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে জানি যে কোন ফান্ড রেইজিং রোড শোতে ঘটে প্রভূত জনসমাগম , প্রেস , টিভি ব্যাঙ্কিং জগতের তারকা সমবেত হন ,কোম্পানি সি ই ওর মুখের দুটো কামড় বা বাইট নেবার জন্যে জেফ বেজোসের ওয়াশিংটন পোস্ট হতে মারডখের ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের ঘাগু রিপোর্টার ঘোরাঘুরি করে থাকেন। অথচ জেফরিজ নামক মহান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কের ছ বিলিয়ন ডলারের লোন মেলায় দেখা গেল না ফার্স্ট ব্র্যান্ড সি ই ওকে। হয়তো তাঁর শ্রীমুখ কেউ কখনো দেখেনি বলে তিনি ভিড়ের মধ্যে মিশে রইলেন ? কোন ভাষণ অবধি দিলেন না? নিবেশকরা কোন প্রশ্ন না করেই বস্তা বস্তা ডলার ঢেলে দিলেন মোটর গাড়ির হাতল , ব্রেক প্যাড বানানোর এই প্রাইভেট কোম্পানিতে?
এখন দেখা গেল নিজে দূরে থেকে শুধু আড়াল রেখে প্যাট্রিক তাঁর ভাই এডওয়ার্ড , সকল কাজের কাণ্ডারি নাইজেল ক্রেইটন ও আরও কতিপয় ডিরেক্টরের রক্ষার্থে পারসোনাল লায়াবিলিটি ইন্সিউরেন্সের একটি নিউক্লিয়ার শিল্ড বানিয়েছিলেন, তার ফেস ভ্যালু পাঁচশ মিলিয়ন ডলার । তুলনামূলকভাবে আমার চেনা কোন ক্ষুদ্র অস্ট্রিয়ান ব্যাঙ্ক নয় , ম্যানহাটানের ম্যাডিসন বা পার্ক এভিনিউর ব্যাঙ্ক অথবা ডিয়ারবর্ণ মিশিগানের ফোরড কোম্পানিতেও ডিরেক্টরের জন্য এমন মূল্যের বর্ম কেনা হয় না। আরেকটি সমস্যা হল , একদিনে যেমন পাঁচ শতাংশের বেশি কোন কোম্পানির শেয়ার কেনা বেচা হতে পারে না , তেমনই ইন্সিউরেন্স বাজারে এক ধাক্কায় একদিনে বা সপ্তাহে অর্ধেক বিলিয়নের পলিসি কেনা যায় না। নিউ ইয়র্কের বিখ্যাত বীমা এজেন্ট মারশ বছর দশেক যাবত নানান ইন্সিউরেন্স আন্ডাররাইটারের ( যারা গ্যারান্টি দেবেন) দুয়োরে দুয়োরে ঘুরে কিস্তিতে কিস্তিতে এই বিশাল বান্ডিলটি একত্র করেছিলেন। তাঁরা জানেন এমন বৃহৎ পলিসিতে কোন বীমা কোম্পানি একা সই করবে না, সকলেই চায় আরও পাঁচজনের গলায় ঘণ্টি বাঁধতে। মূলত মাল আমদানি করার পরে কোনো দেশ সেটা ডলারে পেমেন্ট করবে কিনা ( কানট্রি রিস্ক ) সেই ঝুঁকিটি সুরক্ষা করার মানসে লন্ডনে লয়েডস ইন্সিউরেন্স বাজারে আমাদেরও আসা যাওয়া ছিল; লয়েডস আন্ডাররাইটার প্রথমেই জানিয়ে দিতেন কোন ঝুঁকির কতো শতাংশ তাঁরা নিজেদের খাতায় রাখবেন এই সঙ্গে জানতে চাইতেন আর কোন ফার্ম পলিসিতে সই করেছে।
ফার্স্ট ব্র্যান্ডের এই সুবৃহৎ বীমার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন কোন বীমা কোম্পানি? জে পি মরগানের উকিলরা সেই লিস্টি দেখে আরও চমকালেন।
এক নম্বরে ওয়ারেন বাফেটের বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে , তারপরে চাব ( যাদের তালা চাবি আপনারা দেখে থাকতে পারেন), বৃহত্তম আমেরিকান বীমা সংস্থা আমেরিকান ইন্সিউরেন্স গ্রুপ বা এ আই জি !
হিউস্টন, টেকসাসের কোর্টে মামলা উঠলে জানা গেলো বীমাকারিদের তালিকা আরও দীর্ঘ - সেখানে আছে জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডের বৃহৎ ইন্সিউরার যথাক্রমে আলিয়ান্তস এবং জুরিখ গ্রুপ । এ একেবারে ইন্সিউরেন্স দুনিয়ার হু ইজ হু ।
কেউ লক্ষ করেন নি মাঝারি আকারের একটি প্রাইভেট কোম্পানি ক্রমশ বীমার পলিসি কিনে যাচ্ছে কেবলমাত্র ডিরেক্টরদের বাঁচানোর জন্যে ?
কালবেলা পড়লে জানা গেলো সি ই ও ওপর তলার কিছু ডিরেক্টরের সঙ্গে শলা পরামর্শ করে জালি ইনভয়েস পেশ করে ঋণ বাড়িয়েছেন , সরাসরি জালিয়াতি, ক্রমশ টাকা সরিয়েছেন, নিজেদের নামে বাড়ি, মূল্যবান জলযান বা ইয়ট কিনেছেন যেগুলি পাওনাদারের ধরা ছোঁয়ার বাইরে । টাকা সরাবো আমি , আবার ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান বলে বাড়িয়ে দেবো বীমার পলিসি ?
ঋণদাতা ক্ষিপ্ত ।
খাতাপত্রের পরীক্ষা শুরু হতেই প্রশ্ন উঠেছে –
দু নম্বরি ইনভয়েস দেখিয়ে ধার নেওয়ার প্ল্যান থেকে চুরি জোচ্চুরি করে যে সি ই ও এবং ডিরেক্টররা ডুবিয়েছেন যে কোম্পানিকে , সেই ফার্স্ট ব্র্যান্ডস নিজেরই পয়সায় দীর্ঘদিন যাবত প্রিমিয়াম দিয়ে জবরদস্ত সেলফ ডিফেন্স পলিসি তৈরি করে রেখেছে , দামী আইনজ্ঞদের ফৌজ লড়াইয়ে নামতে প্রস্তুত। এঁদের কর্মকাণ্ডের কোন আভাস পান নি দুনিয়ার তাবড় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কার , হেজ ফান্ড ম্যানেজাররা ? এঁদেরই হাতে কষ্টার্জিত সম্পদ জমা দিয়ে আম জনতা সুখনিদ্রা যায় ?
গুণীজনেরা বলেছেন, ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হয় কিন্তু তার চিত্রনাট্য বদলায়।
নিতুই নব ।
পুনশ্চ:
জানুয়ারি ২৬, ২০২৬
ম্যানহাটানে , নিউ ইয়র্কের সাদারন ডিসট্রিক্ট কোর্টে প্যাট্রিক জেমস ও তাঁর ভাই এডওয়ার্ড জেমসের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রুজু হয়েছে জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে – অভিযোগ হিসেবের খাতায় বিবিধ প্রকারের জালিয়াতি , এক অর্থে সাত বছর যাবত কয়েক বিলিয়ন ডলারের পনজি স্কিম চালানো হয়েছে । ফাইনানশিয়াল অফিসার পিটার ব্রুমবের্গস সকল অপরাধ কবুল করে রাজসাক্ষী হয়েছেন। আমেরিকার খ্যাতনামা ইন্সিউরেন্স কোম্পানি এ আই জির অগাধ আর্থিক বদান্যতায় প্যাট্রিক ও এডওয়ার্ডের পক্ষে নিউ ইয়র্কের দামী উকিলরা শিগগির আদালতে নেমে সওয়াল জবাব শুরু করবেন।
অতিরিক্ত সংযোজনা
জার্মানিক ইউরোপে , যেমন অস্ট্রিয়া জার্মানি সুইজারল্যান্ডে থাকে দুই স্তরের বোর্ড অফ ডিরেক্টর; ম্যানেজমেন্ট বোর্ড যেখানে সি ই ও , চিফ ফাইনানশিয়াল অফিসার (সি এফ ও) অপারেশন হেড একত্র বসেন । তাঁরা রিপোর্ট করেন আমাদের সুপাভাইজরি বোর্ড মেম্বাররা বসেছি তাদের উলটোদিকের টেবিলে। সুপারভাইজরি বোর্ড প্রতিষ্ঠানের দিনগত কার্যকলাপে কোন অংশ নেন না।
অ্যাংলো সাক্সন দুনিয়াতে কোম্পানির বোর্ড একটি – সেখানে পাশাপাশি বসেন কোম্পানির সঞ্চালকবৃন্দ (সি ই ও , সি এফ ও ইত্যাদি) এবং বাইরের নন একজিকিউটিভ ডিরেক্টররা , সংখ্যায় তাঁরা অন্তত দ্বিগুণ । ব্যক্তিগত ভাবে অ্যাংলো স্যাক্সন বোর্ডের গঠন এবং তার কার্যকরীতার বিষয়টি আমার কাছে অত্যন্ত পরস্পর বিরোধী মনে হয়েছে । হয়তো ছোটা মুহ বড়ি বাত কিন্তু এই বিষয় নিয়ে সত্বর একটি দীর্ঘ বিতর্কিত আলোচনা করার বাসনা আছে।
পুকুর কেন একটি বিশাল হ্রদ চুরির করার উৎকৃষ্ট আমেরিকান দৃষ্টান্ত দেখতে পাবেন নেটফ্লিক্সের ডকুমেন্টারিতে - Madoff-The Monster of Wall Street
হাতে বেশি সময় থাকলে দেখুন The Wizard of Lies ছবিটি ; উস্তাদোঁ কে উস্তাদ বারনি মেডফের চরিত্রে রবার্ট দে নিরোর অসামান্য অভিনয় ।