প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যে বর্তমান বাংলাদেশ ও হিন্দুসমাজ।
"প্রাণগোপালরা দেশ ছাড়ে না; তাদের দেশছাড়া করা হয়।
বাংলাদেশ থেকে হিন্দুরা কখনো স্বেচ্ছায় যায়নি।
তাদের বারবার ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
১৯৪৬–৪৭ এ ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
১৯৬৫ তে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
১৯৭১ এ গণহত্যা করে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
২০০১ এ আবার ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
এবং আজও ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশের সনাতনী সমাজের শ্রেষ্ঠ সন্তানরা; বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক, শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা, মানবসেবক; এই মাটিতে থেকেও এই মাটির মালিক হতে পারেনি।
তারা বারবার অপমানিত হয়েছে, নিঃস্ব হয়েছে, তবু দেশ ছাড়েনি।
৭১'এর মুক্তিযুদ্ধে তারা ঘর, পরিবার, সব হারিয়েও এই বাংলাকেই বেছে নিয়েছিল।
তবু আজ তারা “বিদেশি”, “অপ্রয়োজনীয়”, “মুছে ফেলার মতো” হয়ে গেছে।
বাংলার গর্ব আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়, জগদীশ চন্দ্র বসু, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, জীবনানন্দ দাশ; এই নামগুলো খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মুছে ফেলা হয়েছে।
ইতিহাস থেকে মুছে ফেলাই এখন নীতি।
যাঁরা এই দেশ গড়েছেন; তাঁদের স্মৃতি মুছে ফেলেই রাষ্ট্র নির্মাণ চলছে।
প্রথম বীরশ্রেষ্ঠ হিসেবে ঘোষিত হয়েও জগৎজ্যোতি দাসের নাম হারিয়ে গেছে।
জাতীয় পতাকার রূপকার শিব নারায়ণ দাস আজ বিস্মৃত।
পাকিস্তান গণপরিষদে প্রথম বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব দেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত; তাঁর নাম জানে না নতুন প্রজন্ম।
কারণ ইচ্ছে করেই তাদের নাম জানানো হয়নি।
এই মাটিতে হিন্দু নেতৃত্বের পরিণতি একটাই; হয় দেশছাড়া, নয় মৃত্যু।
এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে ডা. প্রাণগোপাল নিঃস্বার্থভাবে হিন্দু-মুসলিম সবার চিকিৎসা করেও আজ দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।
তিনি অপরাধী নন; তিনি সংখ্যালঘু।
দেশ না ছাড়লে তাঁর পরিণতিও হতো দীপু দাস বা এসআই সন্তোষ চৌধুরীর মতো।
এটাই এই রাষ্ট্রের নিয়ম—
সংখ্যালঘু হলে তুমি নিরাপদ নও,
যত বড় মানুষই হও না কেন।
প্রাণগোপালরা দেশ ছাড়েন না।
তাঁদের দেশছাড়া করা হয়।
এটা অভিবাসন নয়।
এটা রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা।
এটা পরিকল্পিত নিঃশেষকরণ।"