

আজ কিছু অন্যরকম মানুষের কথা বলা যাক।
রবীন্দ্রসদনে গানের আসর বসেছে। একজন গায়িকা গাইছেন। সুন্দর গায়কী। গাওয়ার পর নেমে এসে সামনের আসনে বসা দুজনকে প্রণাম করতে এলেন। একজন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রতুল গুপ্ত। আরেকজন শিল্পী জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষ। দুজনেই গুরু। একজন শিক্ষা আরেকজন সঙ্গীত জগতের। উপাচার্য প্রতুল গুপ্ত বললেন, বড়ো ভালো গেয়েছো মা। পাশের জন বললেন, থাম। চুপ কর। তুই গানের কী জানিস?
ছাত্রী উপাচার্য দুজনেই হতভম্ব।
জ্ঞানপ্রকাশ মেয়েটিকে বললেন, বড়ো ভালো গেয়েছো।
প্রতুলবাবু বললেন, আমিও তো একই কথা বললাম। থামালি কেন?
দুজনেই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তবু গায়ে লেগেছে। থামতে বলায়।
জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষ বন্ধুর অনুভূতি বুঝেই বললেন, ও কেমন গায় সেটা বিচার করবো আমি। তুই বলার কে? আমি গানের মানুষ। ও কেমন পড়াশোনা করে সেটা তুই বলবি, তুই শিক্ষা জগতের লোক। আমি বললে কি ঠিক শোনাবে?
গল্পটি শোনা বাংলা আকাদেমিতে সুধীর চক্রবর্তীর ভাষণে।
সেখানে সেদিন তিনঘণ্টা টানা বলেছিলেন। তখনো গলা বিশ্বাসঘাতকতা করে নি। গান গেয়েই উদাহরণ দিতেন। দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রজনীকান্তের বহু গান গেয়ে গেয়ে বক্তৃতা করেছিলেন।
কোনটা ঠিক গায়কী কোনটা ভুল-- তাও বলেছিলেন।
এই প্রসঙ্গে শুনিয়েছিলেন আরেকটি গল্প।
রবীন্দ্রগানে সুর সংযোজনের রেওয়াজ এসেছিল সে-সময়। সে প্রসঙ্গ টেনেই চলে গেলেন রবীন্দ্রনাথের জীবনের এক ঘটনায়।
রবীন্দ্রনাথের কাছে একদল এসেছেন তাঁরা রবীন্দ্রনাথের গান 'ইম্প্রোভাইজ' করতে চান। কী বক্তব্য? জানতে চান।
রবীন্দ্রনাথ তাঁদের কিছু না বলে চা খেতে বললেন। চা এলো। কাপ ও প্লেটে।
রবীন্দ্রনাথ জিজ্ঞেস করলেন, অভ্যাগতদের, ভালো কাপ প্লেট কাকে বলে জানেন?
কেউ বললেন, সুন্দর হলে। কেউ অন্যরকম উত্তর দিলেন।
রবীন্দ্রনাথ কোনো কথা না বলে দুটো চা ঢেলে দিলেন দুটো প্লেটে। একটায় উপচে গেল। আরেকটায় স্থির। কানায় কানায় পূর্ণ টলটল করছে উপচে যাচ্ছে না।
রবীন্দ্রনাথ বললেন, দ্বিতীয়টা হল আসল কাপ প্লেট। এক কাপ চা ঢাললে প্লেটে তা টলটল করবে, উপচে যাবে না, কমও হবে না। আমার গানও তাই। যতটুকু দরকার ততটাই লিখেছি সুর স্বর আর সঙ্গীত মিলিয়ে।
আপনাদের যদি দরকার হয় নিজেরা গান লিখুন, তাতে সুর দিন। আমার গানে কারিকুরি করতে যাবেন না।
এটাও সুধীরবাবুর কাছেই শোনা।
সুধীরবাবু আমার একবার চরম বিপদের কারণ হয়েছিলেন। আমি কৃষ্ণনগর সরকারি কলেজে পড়াতে যাই। যে কলেজে তিনি দীর্ঘকাল অধ্যাপনা করেছেন। অধ্যাপক মহলে ঈর্ষার কারণে নানা সত্যমিথ্যা গল্প চালু ছিল তাঁকে নিয়ে। কিন্তু আমি তো তাঁর লেখা পড়ে মুগ্ধ। আর এটুকু কিছুকাল পড়িয়েই বুঝেছি, সহকর্মীদের চোখ দিয়ে সহকর্মী ও বৌয়ের চোখ দিয়ে স্বামীকে বা স্বামীর চোখ দিয়ে বৌকে বিচার না করাই ভালো।
সরকারি কলেজে ফাইল হয়। ফাইলের ওপরে দেখি সুধীর চক্রবর্তীর নাম কেটে আমার নাম বসানো। আমি চলে গেলে যিনি আসবেন, তাঁর নাম বসবে। দেখে তো আমি থ। ভাগ্যিস তখনও তাঁর ভাষণ শুনিনি, শুনলে তো পড়াতেই পারতাম না হীনম্মন্যতায়।
তো ২০০০ খ্রিস্টাব্দের ১৩ জুন। পরীক্ষার পাহারা দিচ্ছি ১০ নম্বর ঘরে। আমার সঙ্গে ডিউটি পড়েছিল শুভলক্ষ্মী পাণ্ডে দিদির। ইতিহাসের অধ্যাপিকা। প্রচুর বই পড়তেন। শুভদির হাতে সেদিন দেখি 'নির্বাস'। সুধীর চক্রবর্তীর লেখা। শুভলক্ষ্মীদি সুধীরবাবুর খুব প্রিয় জানতাম। শুভলক্ষ্মীদিকে বললাম, বইটা দাও। পড়ি। তোমার এখন থাকার দরকার নেই। আমি হলে আছি।
তখন কড়া পাহারা দেওয়ার জন্য আমার খুব কুখ্যাতি। একটা ছেলে দেখি, দেখতে সুদর্শন, খুব বিরক্ত করছে। টুকলি উদ্ধার করলেও আবার ম্যানেজ করে ফেলছে। আমি চেয়ার থেকে উঠে ওর পাশে গিয়ে বসে বই পড়তে শুরু করলাম। ছেলেটি আর টুকতে পারলো না।
পরীক্ষা শেষ। ফিরছি। কলেজ গেট থেকে রিক্সা ধরলে ছয় টাকা। আর নেদেরপাড়ার মোড় থেকে ধরলে শেয়ারে মেলে। দেড় টাকা করে তিন টাকা। কম বেতন। হাজার আষ্টেক টাকা। তার উপর 'ভাষা ও চেতনা সমিতি' করি। সংগঠনের খরচ চালিয়ে মাসের শেষে পকেটে কিছু থাকে না। তখন কৃষ্ণনগরে শেয়ারে রিক্সা চাপা যেতো। এ-নিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রে একটা বিখ্যাত গান আছে।
রিক্সায় ফিরছি। দেখি একদল ছেলে আমাকে দেখে খুব গাল দিচ্ছে। তাকিয়ে দেখি, সেই ছেলেটি মধ্যমণি। তা স্টেশনে এসে পিছনের দোকানের কাছে দাঁড়িয়েছি। ছেলেটি দলবল নিয়ে হাজির। আমাকে খুব গালাগাল চললো। বললো, ওদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিয়েছি টুকতে না দিয়ে। কয়েকজন ওদের সমর্থন করলেন। ছি ছি টুকতে দেয় নি, ছেলেগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে। আমি প্রতিবাদ করলাম, কী বলছেন, এভাবে পরীক্ষা হয়।
আমরা টুকছি তোর বাপের কী? বাকিরা তো কিছু বলে না, তোর কেন এতো-- বলে মারতে শুরু করলো দলবল মিললে। কিছুদিন আগেও ছাত্র রাজনীতি করেছি, সাংবাদিকতা পেশা ছেড়েছি, কিন্তু করছি, আমিও রুখে দাঁড়ালাম। দু এক ঘা পাল্টা দিলাম।
সবাই বিপক্ষে। শুধু এক গরিব মহিলার কন্ঠস্বর শোনা গেল, কলেজের মাস্টারকে মারছে। আর তুমরা দেঁড়িয়ে দেঁড়িয়ে দেখছো। মেয়েছেলের অধম সব।
'মেয়েছেলের অধম' বলাতে হয়তো কয়েকজন রেলযাত্রীর সম্বিৎ ফিরলো।
এরপর থানায় ডায়েরি হলো। কাগজে বের হলো। কিছুই হলো না। শেষে অন্নদাশঙ্কর রায়, অশোক মিত্র, হীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়, শঙ্খ ঘোষসহ ৩০জন লেখক শিল্পী চিঠি লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুকে। এ চিঠি লেখায় উদ্যোগ নিয়েছিলেন নবব্যারাকপুর একুশে স্মরণ মঞ্চের মানিকদা, অধীরদা আর প্রেমাদা।
ছেলেটি ধরা পড়ল পরে। আবার ছাড়াও পেল। আমি ক্ষমা করে দেওয়ায়। সে আরেক গল্প। পরে বলবো।
এই 'নির্বাসে' একটি ঘটনার কথা লেখেন সুধীর চক্রবর্তী। অশোক মিত্র চিঠি লেখেন সুধীরবাবুকে বিশদ জানতে চেয়ে। আমি সুধীরবাবুর বাড়ি গিয়ে সে চিঠি পৌঁছে দিই। এক বিকেলে। অশোক মিত্র চেয়েছিলেন, যে কাহিনি তিনি লিখেছেন, যাঁদের নিয়ে লিখেছেন তাঁদের ঠিকানা ও যোগাযোগ করতে।
তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে।
সে উত্তর আসে নি।
এটা বেদনাদায়ক।
সত্যের সঙ্গে গল্প মিশে গেলে মুশকিল।
২০০৬এর ১৫ সেপ্টেম্বর ১৫ সেপ্টেম্বর চন্দননগর সরকারি কলেজে বাংলা বিভাগের প্রথম পুনর্মিলন উৎসবের আয়োজন করেছি। উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানালাম। এলেন। বললেন ঘণ্টাখানেক। এরপর কথা হয়েছে 'আরেক রকম' পত্রিকায় লেখা নিয়ে। অশোক মিত্রের হয়ে তাগাদা দিয়েছি।
কথা হয়েছে কলেজ স্ট্রিটের মেস জীবন নিয়ে, বাউল সঙ্গ নিয়ে।
কথা এখনও হবে।
মনে মনে। ১৫ ডিসেম্বর ২০২০ এ চলে গেলেন।
ইমানুলদা না?
হ্যাঁ, আপনি?
আমি দীপঙ্কর, কল্যাণীর দীপঙ্কর চক্রবর্তী।
কথা হচ্ছিল টাটা ক্যান্সার হাসপাতালে। আমি গেছি বাংলাদেশের এক বিশিষ্ট লেখক ও প্রকাশক মাজহারুল ইসলামের এর ভাইঝিকে দেখতে। তিনি এসেছেন প্রিয়তমা স্ত্রীর জন্য।
দীপঙ্করদাই প্রথম মানুষ যিনি মানিকতলা খালপাড়ের পাঠশালার বাচ্চাদের জন্য সোয়েটার কিনতে সহায়তা করেছিলেন ২০১৬ র শীতে। তাঁর পরের নামটিও কল্যাণীর। তিনি ড. শান্তনু ঝা। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। কল্যাণী পুরসভাকে প্ল্যাস্টিক মুক্ত করে দেশের সেরা পুরসভা বানান। তাঁর সঙ্গে তর্ক হয়। কিন্তু মতান্তর মনান্তরে রূপান্তরিত হয় নি। শান্তনুদা, এবং বন্ধু কিশোর সেনগুপ্তরা মিলে বাংলাকে উপহার দিয়েছেন এক আশ্চর্য নাট্যদল, কল্যাণী নাট্য চর্চাকেন্দ্র। কিশোর সবসময় আমাদের পাশে থাকেন। ওঁর সব সহায়তাই পৌঁছায় বউয়ের নাম করে। ২০২১এর জানুয়ারিতে অগ্নিদগ্ধ বাগবাজারের জন্য এক গাড়ি বোঝাই করে নতুন পাঞ্জাবি সালোয়ার কামিজ শাড়ি নিয়ে এসে হাজির দীপঙ্করদা। দীপঙ্করদাও কল্যাণী নাট্যচর্চা কেন্দ্রের শিল্পী। তাঁর স্ত্রী ছবিদিও তাই ছিলেন। নিজের বসতবাড়ি বেচে দিয়ে ভাড়া থাকেন। স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য।
ছবিদি ফ্রেমে বাঁধানো ছবি হয়ে গেছেন।
কিন্তু রেখে গিয়েছিলেন আশ্চর্য এক জীবনসঙ্গী ও স্বজন বন্ধুদের।
শান্তনুদা পাঠিয়েছেন, পলাশি থেকে পার্টিশান বইটি।
আমি ছবি তুলতে ভুলে যাই। তাই শান্তনুদা কিশোর দীপঙ্করদা-- কারো সঙ্গে আমার ছবি নাই।
দীপঙ্করদা আর নেই। বাড়ির কাছে এক দুর্ঘটনায় পড়ে বড় আঘাত পান। বাড়ি ফেরেন। তারপর একদিন চলে গেলেন ছবিদির কাছে। মনে মনেই কথা বলি।
গ্রাম বাজার শহর সবজায়গায় কিছু মানুষ থাকেন --যাঁরা একেবারেই অন্যরকম--আলাদা। কত কত মুখ ভাসে সামনে। কিছু দেখা কিছু শোনা। শোনা কথা আগে বলি। আমাদের থেকে কিছুটা দূরের গ্রাম ক্ষেমতা। সেখানে ছিলেন দাউদ। অসাধারণ লাঠি খলতে পারতেন। কিংবদন্তি ছিল, পুলিশের গুলি একাধিকবার ঠিকরে গেছে তাঁর লাঠিতে। তাঁর জীবিকা নিয়ে নানা কানাঘুষো ছিল। গ্রাম বাংলায় সাধারণ উৎসব বলতে ছিল দুটো। এক, ওলাইচণ্ডী বা কোনও দেবতা বা দেবী বা পীরের মেলা। দুই, গাজন বা চড়ক। ইদ বকরিদ ছিল ধর্মীয়। এখন হচ্ছে দুর্গাপূজা। গ্রামে দুর্গাপূজা খুব কম হতো। ১৯৭৭-এ সারা রাজ্যে দুর্গাপূজা হতো ১২০০। এখন সেটা ৪৫০০০ এর বেশি। ক্ষেমতায় গাজনে দারুণ লাঠি খেলা হতো। গাজন হতো চৈত্র সংক্রান্তির দিন। দূর দূর থেকে লোকে লাঠি খেলা দেখতে ভিড় জমাতো চরম রোদ উপেক্ষা করে।
ক্ষেমতায় ছিলেন এক হাজি সাহেব। তাঁকে ঘিরে গল্প ছিল--তিনি পাঁঠা কোরবানি দেন। মুসলমানরা পাঁঠা খায় না বলেই ধারণা ছিল। এই গল্প সত্য কিনা আমি মেলাইনি। শুনেছি। আর একটি গল্প ছিল--তিনি এক কোরবানির মাংস আরেক কোরবানিতে খান। মাংস ভাল করে ভেজে দড়ির শিকেতে নাকি টাঙ্গিয়ে রাখা হতো। তারপর মাঝে মাঝে আবার ভেজে --এইভাবে এক বছর। তার স্বাদ নাকি অমৃত। আমি খাইনি--শুনেই খুশি।
তবে আরেক মাংস খাওয়ার গল্প বলি।
রাজ কলেজ হোস্টেলে থাকি। তার পাশেই হঠাৎ কলোনি। সেখানে একবার আগুন লাগে। ছেলেদের নিয়ে বালতি হাতে দৌড়াই। আগুন নেভে। তারপর চলে আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধান। জানা গেল--লাগেনি। লাগানো হয়েছে। কে লাগিয়েছে? বাদল। নিজের ঘরেই আগুন লাগিয়েছে।
কেন লাগিয়েচো?
বাদল নিরুত্তর।
জবাব দেয় বাদলের বউ, আমাকে পুড়িয়ে মারতে।
বাকিরা সমস্বরে সমর্থন করেন।
কেন করেচো?
বাদলকে মুখে চিনি। হাসপাতালে খাবার দেয়। ভালো ছেলে। মুশকানো চেহারা।
বাদল আমাকে আড়ালে নিয়ে যায়। জানা গেল, বাদল 'নিষিদ্ধ' পল্লীর একজনকে নিয়ে এসে বিয়ে করেছেন। ওঁর চেয়ে বয়সে বড়। শ্যামলা। ডাঁটো বাঁধুনি। গৌরকিশোর ঘোষের 'প্রেম নেই'-এর কালোশশী যেন। বাদলের অভিযোগ--বউ এখনও পেশা ছাড়েনি। বিকেল হলেই স্টেশনের দিকে ছোটে। শরীর বেচে। কিন্তু বাদলকেও শরীর দেয়। কিন্তু চুমু খেতে দেয় না।
বউকে আলাদা ডেকে কথা বলি। তাঁর বক্তব্য চমকপ্রদ। বাদল একপয়সা রোজগার করে না। খাবে কী! বাদল তো বিনে পয়সায় হাসপাতালে কাজ করে। ভাত দেয়। দুপুর রাত হাসপাতালেই খায়। বউ কী খাবে? যুক্তিসঙ্গত কথা। এরমাঝে বাদল এসে হাজির।
এসে বলে, তুই দাদাকে বলে, আমাকে চুমু খেতে কেন দিস না।
আমি ঝামেলায় পড়ি। সরে যেতে চাই। বাদলের বউ আমাকে থামায়, ভাই তুমি এর বেচের করো। ও শ্মশানে গিয়ে মানুষের পোড়া মাংস খায়। সে জেনে আমি ওকে চুমু খেতে পারি?
সেকী বাদল?
জানা যায়, অনেক কথা। বাদলের জন্ম হাসপাতালে। মা ফেলে চলে যান। হাসপাতালেই মানুষ। পড়ালেখা নাই। হাসপাতালেই থাকতো। বড় হতে খাবার দেওয়ার কাজে লাগিয়েছে। বিনি পয়সায়। পেট ভাতে। খাবার দেয় খায়। তারপর একদিন মহাজন টুলি যায়। এই মেয়েকে ভালো লাগে। ঘর বাঁধে। পরে বউ জানতে পারে শ্মশানে গিয়ে বাজি ধরে মানুষের পোড়া মাংস খায়। ১০ টাকা পায়। সেই টাকা মদ খেয়ে ফুটিয়ে দেয়।
বাদল কথা দেয়, আর মানুষের পোড়া মাংস খাবে না। কিন্তু নেশার টানে কথার খেলাপ করে। বউ কথা দিয়েছিল, আর দেহ বেচবে না। সেও কথা রাখতে পারে না। তারপর একদিন কোথায় হারিয়ে যায়।
ওই আগুন লাগার ঘটনায় যাওয়া শুরু। আস্তে হঠাৎ কলোনির সঙ্গে আমার নিবিড় যোগাযোগ গড়ে ওঠে। আমি সন্ধ্যায় পাঠশালা খুলি। কলেজের ছেলেমেয়েদেরও নিয়ে যাই বিকেল বিকেল। এবং পাড়ার ঘরের লোক হয়ে ঊঠি। প্রতিদিন সন্ধ্যায় ওই পাড়ায় যাই। সুখে দুখে মিশে থাকি ন'টা বছর। বর্ধমান ছাড়ার আগে পর্যন্ত।