
আজ একটু অন্য খবর দেওয়া যাক। কক্রোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ চলছে দেশের নানা প্রান্তে। দিল্লির পর পুনে, পুনের পর লখনৌতে বিরাট সমাবেশ হয়েছে। সমাবেশ হয়েছে অমৃতসরে। হায়দ্রাবাদ, বেঙ্গালুরুতে একটু ছোটো জমায়েত। গতকাল জয়পুরে একটা সমাবেশ ছিল। অভিজিৎ দিপকের উপর হামলা হয়। কলকাতার গোদি মিডিয়ায় এসব দেখবেন না, কারণ, প্রথমত, পশ্চিমবঙ্গে কেউ নিট বা সিবিএসই দেয়না, সবাইকে নির্ঘাত এতদিন জোর করে রাজ্য বোর্ডে পড়তে বাধ্য করা হচ্ছিল। দ্বিতীয়ত, ডিম ছুঁড়লে নিশ্চয়ই দেখাত, কারণ, মিডিয়া এখন 'ডিম-থেরাপি'র জয়গান করে কীকরে একটা নির্দিষ্ট দলের চূড়ান্ত অগণতান্ত্রিক অসভ্যতাকে 'জনরোষ' বলে চালিয়ে দেওয়া যায়, তাতে ব্যস্ত। একটা লোক পুলিশ প্রহরায় একটা ডিম ছুঁড়লেও 'জনরোষ'। বিভিন্ন বিধায়ক বা কাউন্সিলারের আপিসেও কারা নাকি মিডিয়া-সহ ঢুকে পড়ছে, সেটাও জনরোষ। সেখানে কন্ডোম পাওয়া যাচ্ছে, মিডিয়ার জন্য সাজিয়ে রাখা হচ্ছে, পরিষ্কার হাতের লেখায় তোলাবাজির ডকুমেন্ট পাওয়া যাচ্ছে। আর মহিলা হলে সঙ্গে একটু যৌন ইঙ্গিত ফ্রি। ওই কন্ডোম, রেট-টেট সব যোগ করলে যা হয় আর কি।
এর সঙ্গে আছে কোমরে দড়ি দিয়ে ঘোরানো। জাহাঙ্গীর খানকে খালি পায়ে কোমরে দড়ি বেঁধে বারংবার ঘোরানো হচ্ছিল ফলতায়। দেখে বৃটিশ আমলের কথা মনে আসছিল। এবং মিডিয়াও ওয়েস্ট-ইন্ডিয়া-কোম্পানির মিডিয়ার মতো উল্লাস করছিল। তো, খবর যেটা, গতকাল, স্থানীয় মহিলারা এর বিরুদ্ধে পথে নামেন এবং পথ অবরোধ করেন। শুধু মহিলাই লিখলাম, কারণ ভিডিওতে একজন পুরুষকেও দেখতে পেলাম না। কী পরিমান চাপ এবং সন্ত্রাস চলছে, তার খানিকটা আন্দাজ এর থেকে পাওয়া যায়। এই খবর গোদি-মিডিয়ায় পাবেন না। যে সঞ্চালক চোখ গোলগোল করে তিন-মাস আগে পর্যন্ত 'শুধু পশ্চিমবঙ্গে এত হিংসা কেন' বলে অশ্রুপাত করতেন, তিনি আর হিংসা দেখতে পাচ্ছেননা। যাই হোক, এসবের মধ্যেও মহিলারা বিক্ষোভ করছেন, এটা একটুও ছোটো ঘটনা না।
খবর এইটুকুই। কিন্তু একটা কথা এই প্রসঙ্গে বলে নেওয়া ভাল। কিছু বিজেপির সমর্থক এইসব কাণ্ড-কারখানা দেখে একটু আমতা-আমতা করে যা বলছেন, সেটা খুবই হাস্যকর। কেউ বলছেন, "ওরা ক্ষমতায় এলে যা করত, এ তার চেয়ে কমই হচ্ছে"। সিপিএম বা তৃণমূল এর আগে অতীতকালের রেফারেন্স দিত। সিপিএম বলত ৭২-৭৭ আর তৃণমূল বলত ৩৪ বছরের অপশাসন। বিপক্ষের নেতাদের ডিম ছোঁড়েনি এবং পুলিশ দিয়ে কোমরে দড়ি-বেঁধে ঘোরায়নি অবশ্য কেউই। এই প্রথম শুনলাম ভবিষ্যৎকালের রেফারেন্স। "আমার মনে হল অমুক পাড়ায় ঘুরে বেড়ালে আগামী বছর আমাকে মারধোর করতে পারে, তাই এই বছরই আমি ঠেঙিয়ে দিলাম" - এই যুক্তি বিশ্বের কোন জজে মানবে আমি ঠিক জানিনা। কেউ কেউ আবার বলছেন, একটা ক্রিমিনালকে ঘোরানো হচ্ছে, সমর্থন কীসের। তাঁদের জন্য একটাই কথা। "অপরাধ করলে শাস্তি হোক", এই নিয়ে কোনো বিবাদ নেই। একদম ঠিক কথা। কিন্তু আপাতত জাহাঙ্গীরের অপরাধটা কেউ জানে? কোর্টে উঠেছে আদৌ? আমি তো জানিনা। উল্টোদিকে আপনারা যেকোনো মিডিয়ায় ছড়াচ্ছেন, সেগুলোই তো ক্রাইম মনে হচ্ছে। রাস্তায় ডিম ছোঁড়া, যেকোনো অফিসে ভেঙে ঢুকে যাওয়া, বিচারাধীন বন্দীকে দড়ি বেঁধে ঘোরানো, এতদিন পর্যন্ত এইগুলোই তো অপরাধ জানতাম।
আর হ্যাঁ, যে খবরগুলো গোদি মিডিয়ায় পাবেন না, সেগুলো গুরুচণ্ডালি সাইটের পাতায় আমরা দিয়ে চলার চেষ্টা করছি। বহু জিনিস একসঙ্গে ঘটছে। তাল রাখ মুশকিল। আমাদের সাইটটা ওইভাবে খবরের জন্য তৈরিও না। কিন্তু দেওয়া শুরু হয়েছে, রিস্ট্রাকচারও করা হবে। একটু নজর রাখবেন।