এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  উপন্যাস

  • অ্যান্টি পং : (উপন্যাস: পর্ব - ১)

    নির্ঘাৎপাগল লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ০৩ আগস্ট ২০২৬ | ৩৮ বার পঠিত
  • দেশের নাম ওশিয়ানিয়া। দেশটা ভারতবর্ষের পাশেই আর তার ফলেই অনেক কিছু ব্যাপারে ভারতবর্ষের সঙ্গে তার মিল রয়েছে। দিন কতক পরে সেখানে স্বাধীনতা দিবস। দেশের ৭৫ তম। সেই নিয়ে দেশ জুড়ে নানান ধরণের উৎসব পালনের পরিকল্পনা নিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে অরাজনৈতিক সংগঠন, ক্লাব, স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি, কো-অপারেটিভ সোসাইটি, অফিস, থানা, আদালত, নানান ফ্ল্যাট কমপ্লেক্স ইত্যাদি। কেন্দ্রীয় সরকার ঘটা করে পালন করছে ‘আজাদী কী অমৃত মহোৎসব’।
    সেই দেশেরই এক আধা গ্রাম আধা শহর মিউনিসিপ্যাল এলাকা, নাম মার্লিনস্পাইক। সুবীরবাবু সেই এলাকার একজন বাসিন্দা। তিনি রিটায়ার্ড ইনকাম ট্যাক্স অফিসার। ভোর ভোর তার পটি করবার দীর্ঘদিনের অভ্যেস। অথচ আজকে ভোরে পটি করতে উঠে দেখেন পুরো কিচাইন হয়ে গেছে। দেখেন যে তার বাড়ির দুটো পায়খানার প্যানই হাওয়া আর সেখানে পটি ভাসছে। পাশের দেওয়ালে কালো রঙের স্প্রে দিয়ে লেখাঃ
    ‘আমাদের দাবী মানতে হবে। চাল, ডাল, ভোজ্য তেল, ওষুধ, পায়খানার প্যান থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সমস্ত জিনিস সামান্য কয়েকজন মুনাফাখোর শিল্পপতির হাতে তুলে দেওয়া যাবে না। ব্যাঙ্ক ও অন্যান্য সরকারি সংস্থার বেসরকারিকরণ করা চলবে না। ধর্ম নিয়ে ব্যবসা বা রাজনীতি করা চলবে না। দেশের মানুষের প্রয়োজনে আরও আরও কর্মসংস্থান করতে হবে। কৃষক ও শ্রমিক আইন ও অন্যান্য আইন মানবিক করতে হবে। দেশের সবার জন্য চাই শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ন্যায় বিচার, কর্মসংস্থান ও বাসযোগ্য পরিবেশ। দেশের ইতিহাস পাল্টানো যাবে না। নয়ত আন্দোলন চলবে; ঘরে ও বাইরে। ইতি, অ্যান্টি পং’।

    “অ্যান্টি পং! এরা আবার কে রে বাবা!”, চোখের চশমা খুলে জলের ঝাপটা মেরে লেখাটা আবার পড়লেন সুবীরবাবু। সেই কলেজের সময় থেকে ভোরে ওঠার অভ্যেস। এখন বাজে প্রায় ভোর ৫টা।

    আর চার-পাঁচটা দিনের মতো ভোরে উঠে পটি করে, তারপর চা বানিয়ে গিন্নীকে ডেকে দুজনে মিলে আয়েস করে চা পান করেন সুবীরবাবু। তারপর মর্নিং ওয়াক। সঙ্গে বাজারের ব্যাগটা নিয়েই বেরোন। পথে বাজার আর ফুল টুল কিনে বাকিদের সঙ্গে গল্পগাছা করতে করতে বাড়ি ফিরে আসেন। এই তার সকালের রোজনামচা।

    ঘরে রয়েছে এক ছেলে ও এক মেয়ে। দুজনেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া শেষ করে ফেলেছে। ছেলে বিক্রম টিউশনি করে আর চাকরির পরীক্ষায় বসে।যদিও ২০১৪/১৫ নাগাদ স্কুল শিক্ষকের পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেও চাকরি পায় নি সে। কিন্তু যাদের যাদের নাম তালিকার প্রথমদিকে থাকা সত্ত্বেও বাদ গেল তারা তাই নিয়ে সবাই মিলে মামলা করেছে। সঙ্গে মল্টলেকে চলছে ধর্না। সেই ধর্না মঞ্চেও মাঝেসাঝে যেতে হয় বিক্রমকে। গতকাল সেখান থেকেই দেরী করে ফেরায় এখনও ঘুমাচ্ছে সে।

    বাথরুম থেকে ফিরে ডাইনিং টেবিলে বসে সুবীরবাবু ভাবছেন। মেয়ে রাই আবার এইসব পথে হাঁটেনি। সটান বি.এড. করে ঢুকে পড়েছে কাছের একটা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে। কোভিড থাকায় গত দু’বছর ইন্টারনেটেই পড়িয়েছে। অভ্যাসটা তাই যায় নি। ঘুম থেকে ওঠবার ইতিহাস যদি দেখা যায় তাহলে দেখা যাবে যে সুবীরবাবু ঠিক যতটা তাড়াতাড়ি ওঠেন, ছেলেমেয়েরা ওঠে ঠিক ততটাই দেরি করে। কিন্তু আজ পায়খানার প্যান দুটোর এই হাল কে করল রে বাবা! আর এই ‘অ্যান্টি পং’-ই বা কে? কোন হতচ্ছাড়া? ভাবছেন সুবীরবাবু।

    কাগজে নানা রকমের গ্যাং-এর খবর বেরোয়। কামতাড়া, ভামতাড়া, শরতপুর, নাইজেরিয়া, রোমানিয়া ইত্যাদি সব গ্যাং নানারকমের এটিএম বা নেট ব্যাঙ্কিং জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ইত্যাদি তিনি কাগজে পড়েছেন। কিন্তু পায়খানার প্যান চুরির ঘটনা তো আগে কখনও শোনেন নি। কালো রঙে দেওয়ালে যা লেখা আছে তাতে খারাপ কিছু তো চোখে পড়ল না তার। আবার একবার ওয়াসরুমে গেলেন। আহা! কত সাধ করে, কত খরচ করে কমোডগুলো বসিয়েছিলেন। হায়! হায়! হায়! তার নিজের পায়ের হাঁটুতে আবার ব্যাথা। ডাক্তার তাই নিয়ম করে হাঁটতে বলেছেন। বলেছেন সঙ্গে যোগব্যায়ামও করতে। দিন কতক পরে স্থানীয় ক্লাবে ৭৫ বছরের স্বাধীনতা দিবসের নানান অনুষ্ঠান আছে আর তিনি এবার প্রেসিডেন্ট বলে অনেক দায় দায়িত্বও আছে। যদিও ক্লাবের ছেলেরা আছে, কিন্তু একটা কিছু গোলমাল হলে তাকে আর সেক্রেটারিকে নিয়ে শেষে টানাটানি পড়ে যাবে।

    কিন্তু কোন ‘অ্যান্টি পং’ হতচ্ছাড়া এটা কী সর্বনাশ করলে বলতো? সেতো আবার ঘটা করে লিখে রেখেছে দেখছি। কিন্তু এই সমস্ত গোলমাল তো সারা দেশ জুড়ে ঘটছে, তাহলে শুধুমাত্র তার বাড়ির প্যান ভেঙে চুরি করে সারা দেশের কোন ভালোটা হবে শুনি? সমস্ত গোলমাল চলছে সমস্ত দেশ জুড়ে আর ভেঙে চুরি গেল তার বাড়ির পায়খানার প্যান! বাহ! বাহ রে ‘অ্যান্টি পং’! তোর বাহাদুরিটা বোঝা গেছে। উফফ!

    ওদিকে পেটের ভিতর থেকে থেকে থেকে একটা চাপ দিচ্ছে। কমোড দুটো ভেঙে খুলে নেওয়া জায়গাটা আলো জ্বালিয়ে আবার একবার ভাল করে দেখলেন। নাহ! পুরো প্যান সমেত হাওয়া। এতো আজব ব্যাপার!

    চুরি করবি কর। কর। সোনা আছে, দানা আছে, বাসনকোসন, টিভি, কম্পিউটার আছে। কিন্তু সেইসব ছেড়ে পায়খানার প্যান কী দোষ করল রে বাবা! ভাবছেন সুবীরবাবু।
    একবার ভাবলেন যেখানে গু ভাসছে, সেখানেই করে ফেলবেন। কিন্তু প্ল্যান ক্যান্সেল করলেন। ওয়াসরুম থেকে আবার বেরিয়ে খানিকক্ষণ পায়চারি করলেন। গিন্নির কথা মনে পড়তেই মাথা ঘুরে গেল। সে বেচারা একেই বাতের রুগী, তায় আবার বসতে পারে না। দীর্ঘদিন হাঁটুর সমস্যায় ভুগছে। আজ সে পায়খানা করবে কী করে! উফফ! আবার মাথায় হাত দিয়ে ডাইনিং টেবিলের চেয়ারে জল পান করে বসলেন। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অগ্নিমূল্য, কোভিডে এত মানুষ মারা গেল। তিনি নিজেও ভুগেছিলেন কিন্তু ভোরে উঠে যদি কেউ দেখে তার বাড়ির দু’দূটো কমোডই কেউ ভেঙে দিয়ে গেছে, মাথা কি আর ঠিক থাকে? একটা অন্তত ঠিকঠাক রেখে যা। ডাকাত বা ছিনতাইবাজদের বললেও শুধু জাঙিয়া পরিয়ে বা জামাপ্যান্ট না খুলে বাড়ি ফেরার টাকাটা অন্তত ছেড়ে দেয়। আর এ তো আস্ত দু দুটো কমোডের প্যান!

    সুবীরবাবুর সমস্ত রাগ গিয়ে পড়ল ছেলেমেয়ের ওপর। ইস! দেখ, কেমন ভোঁস ভোঁস করে ঘুমাচ্ছে। বাড়িতে একটা এত বড় চুরি হয়ে গেল সেখানে কোনও ভ্রূক্ষেপ নেই? অমানুষ, সব অমানুষ। এই বুড়ো বাপটার কথা একবার চিন্তা করার সময় নেই ওদের। খালি কাজ আর বাকি সময় মোবাইলে খুটুর খাটুর।

    উফফ! আবার চাপ দিচ্ছে। ধ্যাত! আজ শালা সকালটাই মাটি হয়ে গেল। গতকাল শালা এসে দার্জিলিং চায়ের একটা কৌটো উপহার দিয়ে গেছে। গতকাল খাওয়াদাওয়াও হয়েছিল ব্যাপক। আজ ভেবেছিলেন পটি টটি করে সেই চা বানিয়ে গিন্নীকে তুলে চা পান করে একদম ফুরফুরে মেজাজে মর্নিং ওয়াকে বেরোবেন। তা না, আবার একগাদা খরচ!! ওষুধপত্র, ধোপা-নাপিত, কেবল টিভি, ইলেক্ট্রিক বিল সমস্ত তো লেগেই আছে। তার ওপর আছে চিকিৎসা, তেলের দাম, গ্যাসের দাম, ইন্সিওরেন্সঃ সব জায়গায় খরচ বেড়ে গেছে। কী অবস্থা দেশটার। একদম যেন তার ওয়াসরুমের মতো।

    পায়চারি করে আবার চেয়ারে বসলেন সুবীরবাবু। ভাবলেন, আচ্ছা! পাশের বাড়ির লাহাবাবু আবার লোক লাগিয়ে এইসব করান নি তো! দেখি তো, বলে সুবীরবাবু সদর ঘরে গিয়ে দেখলেন যে দরজা হাট করে খোলা। সর্বনাশ! চোর দেখছি তালাও ভেঙেছে। কিন্তু, কই না তো! তালা তো ভাঙেনি। তালা তো দেখছি কোলাপ্সেবল গেটেরও ঝুলছে! কী কান্ড! ঘরের দরজারও তালা ভাঙেনি! তাহলে দেখছি ‘মাষ্টার কী’ দিয়েই কাজ সেরেছে! উফফ! আর চাপ সহ্য করা যাচ্ছে না। পায়জামায় হয়ে যাবে মনে হচ্ছে। এত কি শালা চেপে রাখা যায়? তবে মনে হচ্ছে এ নির্ঘাত ওই পাশের ফ্ল্যাটের ওই লাহাবাবুর কাজ। হ্যাঁ, একদম। কাল ওকে ওর পলিটিক্যাল পার্টি নিয়ে একদম ঝেড়ে কাপড় পরিয়ে দিয়ে এসেছিলেন। মনে হচ্ছে তারই বদলা নিতে সে লোক লাগিয়ে এইসব করিয়েছে। কিন্তু লাহার দল তো স্লোগান দিয়েছিল যে বদলা নয়; বদল চাই। দাঁড়া! আজ ওর ফ্ল্যাটেই পটি করবো আর তবেই আমার হাড়মাস জুড়োবে।

    তাড়াতাড়ি দেরাজ থেকে চাবি নিয়ে সদর দরজা আর কোলাপ্সেবল গেট আটকে সুবীরবাবু উপস্থিত হলেন লাহাবাবুদের গ্রাউন্ড ফ্লোরে। ঘড়িতে তখন ভোর সাড়ে-পাঁচটা।

    সুবীরবাবু চেয়ে দেখলেন যে রাস্তাঘাট তখনও একদম প্রায় ফাঁকা। দু’একটা বাইক আর গাড়ি চলে গেল এইমাত্র। খানিকক্ষণ আগে কয়েক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে। পাখি ডাকছে। হাওয়া দিচ্ছে আর সঙ্গে পায়খানার চাপে গায়ে কাঁটা দিচ্ছে। উফফ! এ যেন ডাইনোসরে তাড়া করবার থেকেও বেশি!

    ভালো করে চেয়ে দেখলেন যে লাহাদের কোলাপ্সিবল গেটের তালাও খোলা আর ঝুলছে, সঙ্গে গেটটাও হাট করে খোলা। গেটের পাশে ওর ষ্টেশনারী দোকানটা অবশ্য বন্ধ। ব্যাপারটা কী! এখানেও কি আবার? থাকতে না পেরে ভিতরে ঢুকে লাহার দরজার বেল বাজালেন সুবীরবাবু।
    মিনিট দেড় বাদে ফ্যাকাশে ও ব্যাজার মুখে হাতে একটা কালো ভারী পলিথিনের প্যাকেট নিয়ে দরজা খুললেন লাহাবাবু। “কী ব্যাপার?”
    “সর্বনাশ হয়ে গেছে। সরো”।
    “আহা! কী হয়েছে বলবে তো?”
    “আরে!, পারছি না…সরো”। লাহাকে ধাক্কা মেরে একেবারে দুদ্দার করে ওদের বাথরুমে গিয়ে সুবীরবাবু দেখলেন যে সেখানকার কমোডটাও একদম ভাঙা আর দেওয়ালে ঠিক সেই একই কথা লেখা আছে।

    **************************************

    স্থানীয় থানার ওসি নিত্যানন্দ হুই সবে মাত্র পটি টটি সেরে চা পান করতে করতে সকালের কাগজে চোখ বুলোচ্ছিলেন। এখন প্রায় আটটা বাজে। গতকাল একটা ভুয়ো কল সেন্টারের মালিককে ধরতে গিয়ে খুব নাজেহাল হতে হয়েছে। তার ওপর দিন কতক পরে আবার স্বাধীনতার ৭৫ বছর। ক’দিন ধরেই কেন্দ্রীয় সরকার আর রাজ্য সরকার থেকে নানান ফরমান এসেছে। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে আবার তার আরও কয়েকটা ক্লাবে পতাকা তোলবার কথা। থানাতেও এই নিয়ে নানান অনুষ্ঠান রয়েছে।আর এইজন্য চুলটা এবার নতুন কায়দায় ছাঁটিয়েছেন।

    এইমাত্র হুইবাবুর গিন্নি গরম গরম পরোটা আর মাংস দিয়ে গেলেন। আহ! বাচ্চুর দোকানের রেওয়াজি খাসির মাংসটা পুরো একঘর। কাগজটা ভাঁজ করে সবে একটা পরোটা ছিঁড়ে মাংস দিয়ে মুখে পুড়েছেন, মোবাইল উঠল বেজে। দেখলেন যে এস.আই. পাড়ুই ফোন করেছে। নিজেই বিড়বিড় করে বললেন, “উফফ! জ্বালালে দেখছি ছেলেটা। পই পই করে গতকাল বুঝিয়ে এলাম যে আজ কলসেন্টোরের মালিককে কোর্টে পুট আপ করতে হবে। তারপর আজ আবার কোথায় যেন ধর্ণা আর মিছিল আছে…”, চিবিয়ে গলা দিয়ে খাবারটা গিললেন। আরও বিরক্ত হয়ে নিজেই বিড়বিড় করতে করতে বললেন, “এদিকে প্রতারক, এক্সট্রা ম্যারাইটাল প্রেম আর মদ খেয়ে মারপিট যেন সুনামির মতো বাড়ছে। ধ্যাত শালা! একটুও শান্তি নেই”। সামনে টেবিলে রাখা জলের গ্লাসে হাত চুবিয়ে পাশে রাখা টাওয়াল দিয়ে হাত মুছে দ্বিতীয়বার আসা কলটা ধরলেন। বললেন, “হ্যালো, কী হল আবার? একটুও কি সামলাতে পারো না, নাকি?”

    “সর্বোনাশ কান্ড হয়ে গেছে স্যার”। পাড়ুই ওপাশ থেকে ফোনে বললেন।

    “মানে!”

    “গতকাল রাতে আমাদের থানা এলাকার প্রায় ৫০% বাড়িতে বা ফ্ল্যাটে কে বা কারা ঢুকে হয় কমোড আর বাংলা পায়খানার প্যান চুরি করেছে, নয়তো ভাঙচুর করেছে স্যার…”, পাড়ুই-এর গলাটা কাঁদো কাঁদো শোনাল।

    “সেকী! কেন? আরে! কাঁদছেন কেন?”

    “কাঁদব না স্যার? আশেপাশের অনেকে থানায় ভিড় জমিয়ে ফেলেছে। লম্বা লাইন”।

    “কেন?”

    “পটি করতে এসেছে। অসম্ভব অবস্থা স্যার। লোকজন বাড়ছে। ধাক্কাধাক্কি ধ্বস্তাধস্তি চলছে থানায়”। আবার কেঁদে ফেললেন।

    “আবার কাঁদছেন?”

    “সকাল থেকে আমার… মানে, আমার, পটি হয় নি স্যার”।

    “হোয়াট! আপনার কি কন্সপিটেশনের ধাত নাকি?”

    “কই না তো… তবে কে জানে কাজের চাপে…”

    “আরে ব্যাপারটাকে পজিটিভলি নিন। যত কম পায়খানায় যাবেন তত ঝঞ্ঝাট থেকে মুক্তি”।

    “কিন্তু থানা?”

    “দাঁড়ান যাচ্ছি। আর দমকলকে একটা খবর দিন। জল কামান…, আর হ্যাঁ, চেয়ারম্যানকে জানিয়েছেন?”

    “হ্যাঁ স্যার। তিনিও আসছেন”।

    লাইন কেটে দিলেন ওসি হুই। পরোটা-মাংস রইল মাথায়। খাবারের দিকে একবার জুলজুল করে তাকিয়ে একটা ঢেঁকুর তুললেন। “নাহ, দেখছি এখান থেকে বদলি নিতেই হবে”।

    (চলবে)
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ধারাবাহিক | ০৩ আগস্ট ২০২৬ | ৩৮ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঝপাঝপ মতামত দিন