এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ভ্রমণ  দেখেছি পথে যেতে

  • কাজার ডায়েরি - ২

    লেখকের গ্রাহক হোন
    ভ্রমণ | দেখেছি পথে যেতে | ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯ বার পঠিত
  • | |
    ১৪/০৯/২৬



    তা আজকের দিনটা দিব্বি গেল। কাল রাতে আর বিশেষ কোন অসুবিধে হয় নি। যে যার বিছানায় দিব্বি ঘুমিয়েছে, সক্কাল সক্কাল উঠে কয়েকজন বেরিয়েও গেছে। রাতে ট্যাক্সি ইউনিয়নের নম্বরে ফোন করে বলে রেখেছিলাম আমাকে একটা ছোটমোট দেখে গাড়ি পাঠাতে। এই তো ৫০০ মিটার মত দূরত্ব গুগল অনুযায়ী। স্রেফ নালা নদ্দমা দিয়ে হেঁটে স্যুটকেশ নিয়ে যেতে পারবো না তাই গাড়ি চাই। সে ভদ্রলোক বলেওছিলেন একটা অল্টো পাঠাবেন।



    সাড়ে আটটা নাগাদ তাঁকে ফোন করতে গিয়ে দেখি স্যুইচড অফফ। কি বিপদ! অন্য নম্বরে কল করলাম। অন্য একজন ধরলেন, তিনি এই বিষয়ে কিছুই জানেন না। ব্যপার খুলে বলতে দেখার আশ্বাস দিলেন। অগত্যা আরো একজনকে ফোন করলাম। নাহ তিনি বেরিয়ে গেছেন। আজকে নাকি কোন ট্যাক্সিওলাই স্ট্যান্ডে আসে নি সকাল ৯টাতেও। যাই হোক ওই ইউনিয়ানের দ্বিতীয় জন একজন জিমনিওলাকে যোগাড় করতে পারলেন। ৯.২০ নাগাদ ওসেল রুমে পৌঁছেও গেলাম।



    রুমমেটরা দুজনই জেনজি। মন্যিয়া দিল্লি শ্রুতি ব্যাঙ্গালোরের। ওখানেই প্রাতরাশের ব্যবস্থা। সেসব সেরে মন্যিয়ার সাথে চললাম সল ক্যাফেতে। আজ আমার কেটি শুরু হবে, তবে কোন চাপ নেই যতটুকু পারব ততটুকুই করব। আজ আমার মূল দায়িত্ব প্রচুর জল খাওয়া আর যথেষ্ট বিশ্রাম নেওয়া। ক্যাফেটা কাজা মার্কেটের একদম কোণার দিকে ছোট্ট কিউট এন্ড কোজি। তিব্বতী স্টাইলে সাজানো। লাদাখের মত স্পিতিতেও তিব্বতী প্রভাব খুব বেশী। হবারই কথা অবশ্য। আগে তিব্বতেরই অংশ ছিল।


    কিউট দেখতে ক্যাফেটা





    সল ক্যাফে চালায় স্পিতি ইকোস্ফিয়ার। এদের আরো কিছু প্রোগ্রাম আছে যার জন্য ভলান্টিয়ার নেয়। এরা অবশ্য আজকাল পুরোদস্তুর ট্যুরিজমেও এসেছে। স্থায়ী কর্মী অল্প কয়েকজন। সিনিয়র তাশি, জুনিয়র তাশি, ইগা, নুরবু। বাকী মোটামুটি ভলান্টিয়ার দিয়েই গোটা ট্যুরিস্ট সিজন, এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর চালিয়ে দেয়। আজ আলাপ হল জুনিয়র তাশি আর ইগার সাথে। তিব্বতী মাখন চা খুব ভালবাসি শুনে ইগা ভালবেসে আমায় তক্ষুণি বানিয়ে খাইয়ে দিল। মন্যিয়া প্রথমবার টেস্ট করছে তাই ঝপাঝপ রিল বানিয়ে ফেলল। যঅদিও রিল শেষ হবার পরে বলল ওর খুব একটা সুবিধের লাগে নি কারণ 'ইসমেঁ চায়ে কাঁহা?


    নুন মাখন দেওয়া তিব্বতী চা

    দুপুরে ১টা ১.৩০ নাগাদ আমাদের ওসেল রুমে লাঞ্চ করতে ফেরার কথা। সেই সময় তাশি আর ইগা পালা করে দেখে অর্ডার বিলিং ইত্যাদি। আমাদেরও তাইই করতে হবে কাল থেকে। আমি ভেবেছিলাম খেয়েদেয়ে আবার ফিরবো তাই জ্যাকেট আর জলের বোতল রেখে এসেছিলাম। খাবার পরে জানলাম আজ আর যেতে হবে না। শরীরও বিশেষ জুৎ লাগছিল না। যা বুঝছি অ্যাক্লেমেটাইজড হতে আর দুএকদিন লাগবে। জেনজি দুজন অবশ্য সাড়ে তিনটে নাগাদ লাফাতে লাফাতে বেরিয়ে গেল। আমিও সোয়া চারটে নাগাদ ম্যাপ অন করে বেরোলাম সল ক্যাফের দিকে। যাওয়ার আর আসার সময় দুটো ভিন্ন রাস্তা নিয়েছে মন্যিয়া। ফলে গলি গলি তস্য গলিতে গুলিয়ে গেছে। যাইহোক সেখান থেকে জিনিষগুলো নিয়ে টুকটাক দুতিনটে জিনিষ কিনে গেলাম পিতিক্যাফে।



    এদের হিমালয়ার গার্লিক স্যুপ বেশ বিখ্যাত। মাখন বার্লি রসুন আর কিছু হার্বস দিয়ে বানায়। সর্দির মুখে বা অল্পস্বল্প ঠান্ডা লাগায় অব্যর্থ ওষুধের মত কাজ করে। ততক্ষণে সূর্য ডুবে গেছে, তবে অন্ধকার হতে হতে প্রায় সাতটা। এর মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ অবশ্য রাস্তা ভুল করে এলোমেলো ঘোরাও হয়েছে। ফেরা সময় প্রথমে ম্যাপ অন করি নি কিনা। গার্লিক স্যুপ খেয়ে চাঙ্গা হয়ে ওসেল রুমে ফেরত। রাতের খাবার ছিল রুটি আর ঢ্যাঁড়শভাজা। ঢ্যাঁড়শ তো এখানে ফলেও না, তাও এসব রান্না করার কি দরকার বাপু? আজকের রাতটা জমিয়ে ঘুমোতে হবে।


    হিমালয়ান গার্লিক স্যুপ

    কাল থেকে যুদ্ধ শুরু, কাল তো আবার ইগাও থাকবে না ক্যাফেতে। আমাকে আর মন্যিয়াকেই চালাতে হবে। দিল্লির এই মেয়েটার এটাই প্রথম সোলো ট্যুর। দেখে বেশ ভাল লাগল এত অল্প বয়সেই একা একা ঘুরতে বেরিয়েহ পড়েছে। আজকের সবচেয়ে ভাল ব্যপার হল ওই হতচ্ছাড়া স্পিতি ডায়ারিজ হস্টেলকে মেক মাই ট্রিপে ১ রেটিং দিয়ে বেশ ভাল ডিস্কাউন্ট কুপন পেয়েছি পরের বুকিঙের জন্য। নাহ এবারে ঘুমোতেই হবে।

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    | |
  • ভ্রমণ | ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লড়াকু প্রতিক্রিয়া দিন