এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ভ্রমণ  দেখেছি পথে যেতে

  • লেটার্স ফ্রম্ লামায়ুরু (পর্ব ১)

    দেবায়ন চট্টোপাধ্যায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ভ্রমণ | দেখেছি পথে যেতে | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৫৩ বার পঠিত
  • Prologue: ভেতরে গাঢ় অন্ধকার | পর্ব ১: পথ গেছে বেঁকে
    পর্ব ১: পথ গেছে বেঁকে

    দুপুরে লামায়ুরু পৌঁছে, সন্ধ্যেবেলা হোটেলের বাইরে বসে গ্রামের স্কুলের পিটি মাস্টারের সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা হলো। মাস্টার হোটেলমালিকের ভাই। কথা উনিই বেশি বললেন, আমরা শুনলাম। লক্ষ্য করলাম, মাস্টার একদম হাসেন না।

    উনি বললেন, একদিনের জন্যে হাঁটাহাঁটি করবেন? জায়গা প্রচুর আছে। গুম্পা দেখে, তার চারপাশে হাঁটতে পারেন।

    আমরা বললাম, গুম্পা বিকেলে একবার দেখে এসেছি। আবার পরশু যাবো। এছাড়া অপশন্?

    মাস্টার বললেন, তাহলে হোটেল থেকে সাতটার মধ্যে বেরিয়ে সোজা পামস্ গ্রামের দিকে চলে যান। লামায়ুরুর লোকেরা সকাল সকাল ওদিকে যায় গরু চড়াতে। সেসব দেখে নাস্তা করে ফিরে আসা যায়। পাম গ্রামের মানুষ খুব ভালো, দুধ থাকলে লস্যি বানিয়ে খাওয়াবে। শীতকালে ওরা নীচে নেমে যায়, গ্রামটা খালি পড়ে থাকে।

    আমরা বললাম, গ্রাম থেকে একটু ওপরে, অতীৎসে গুম্পাটা (অতীশের সঙ্গে নামের মিল লক্ষ্যণীয়) দেখা যায় না? হোটেলের লবিতে টাঙানো ম্যাপটায় দেখলাম।

    উনি বললেন, যাবে না কেন? তবে অনেকটা হেঁটে উঠতে হবে। ওখানে আগে একটা খাবার দোকান ছিল, এখন বোধহয় বন্ধ হয়ে গেছে। তবে পামস্ গ্রামের লোকেরা নিশ্চয়ই কিছু অফার করবে। লস্যি তো বটেই।

    মনে হলো, আমাদের খাওয়ার চিন্তা ওনার খুব। মুখে বললাম, ওদিক থেকে ভিউ্ কেমন?

    মাস্টার বললেন, দারুণ। আপনাদের খুব ভালো লাগবে। গ্রামের ঘরবাড়ি, ক্ষেত-খামার।

    থামিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, আর পাহাড়ের ভিউ্ কেমন? কোনো পীক্ দেখা যায়?

    এমন সময় রিসেপশনের ব্যাকব্রাশ করা ছেলেটা বললো, প্রিন্কিতির দিকে খুব ভালো ভিউ্ আছে।

    মাস্টার একটু চিন্তান্বিত মুখে বললেন, তা আছে। ওয়ান্-লা গ্রামের দিকে গাড়ির রাস্তা হওয়ার আগে লোকজন প্রিন্কিতি পাস্ হয়েই ওয়ান্-লা---লামায়ুরু যাতায়াত করতো। তবে ভিউ যা আছে তা পাস্-এ ওঠার একটু আগে শুরু হয়, আর পাস্ ক্রস্ করলেই শেষ। শুরুর অনেকটা, আর পাস্ ক্রস্ করার পর ওয়ান্-লা পর্যন্ত প্রায় পুরোটাই ক্লোজড, শুকনো নদীর গর্জ-এর মধ্যে হাঁটা।

    দু'হাত দিয়ে উনি ইংরেজির V শেপ্ করে দেখালেন।

    আমরা উত্তেজিত হয়ে উঠলাম। নদীর গর্জ মানেই দু'দিকে ভ্যালীর ক্রস্-সেকশন্ দেখা যাবে।

    মাস্টার বললেন, ওদিকে আজকাল আর গ্রামের লোক যায়না। তবে অংরেজরা যান। কিন্তু ওরা হাঁটেন অ্যাডভেঞ্চার করতে। আপনারা তো এমনিই হাঁটবেন --- শখে।

    ------

    এখানে একটু প্রসঙ্গান্তরে যাই।

    দেখেছি, আইআইটি মাদ্রাসের ফিজিক্সের প্রফেসর ভি বালাকৃষ্ণন ক্লাসে পড়াতে পড়াতে মাঝেমধ্যে এটা করেন। এতে নাকি যারা একেবারে খেই হারিয়ে ফেলেছে, তাদের অ্যাটেনশন্ ফেরত পাওয়া যায়। একবার একটা ক্লাসিকাল মেকানিক্সের ক্লাসে infinitesimally small time interval বোঝাতে গিয়ে উনি চোখের পলক পড়ার বায়োলজি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।

    তো, দ্রৌপদী-সহ পঞ্চপাণ্ডব, আদি শঙ্করাচার্য-ইত্যাদিকে বাদ দিলে আমাদের দেশে হিমালয়ে ট্রেকিং বা হাইকিংয়ের ইতিহাস খুব প্রাচীন নয়। ব্রডলী স্পিকিং, এর একটা সেট্ প্যাটার্ন আছে। মোটামুটি এক দশক আগে পর্যন্ত যেটা প্রচলিত ছিল তা হলো: কিছু উৎসাহী মানুষ (অধিকাংশই পুরুষ) প্রথমে নিজেদের উদ্যোগে রূট্ ও যাওয়ার তারিখ ঠিক করতেন। তারপর, সেই পথে আগে ঘুরে এসেছেন, এমন কারোর সূত্রে কোনো স্থানীয় গাইডের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হতো। পোর্টার, কুক্, রেশন্-সহ বাকি সব "বন্দোবস্ত্" সেই করতো।

    এতে প্ল্যানিংয়ের সময় কিছুটা বৌদ্ধিক স্বাধীনতা থাকলেও, যাওয়ার পথের অনেকটা জুড়ে থাকতো কলোনিয়াল্ আস্ফালন। দিনের শেষে, ক্যাম্পে পৌঁছে পোর্টারদের দিয়ে গা-হাত-পা টেপানো আমার নিজে দেখা। পরে ট্রেকাররা খুশি হয়ে একটা-দু'টো সিগারেট বিলোতেন। দিশি-বিলিতি ভ্রমণসাহিত্যের অতি-সরলীকরণে তাদের দৃঢ় বিশ্বাস: পাহাড়ি মানুষ মানেই সৎ, সহজ-সরল, বিশ্বাসী। ওরা টাকার লোভ করে না, ওদের দরকার শুধু সিগারেট আর ওষুধ।

    গত বছরের কথা মনে পড়ে। গাড়োয়ালে ধারাঁসি পাসের পথ। ডিসেম্বর মাস, ঠান্ডা প্রচন্ড। ভোরে উঠে দেখতাম, বোতলে রাখা খাবার জল পর্যন্ত জমে গেছে।

    আমাদের গাইড জোশীমঠের মোহন সিং বিষ্ট্। মোহনজী প্র্যাগ্ম্যাটিক লোক। দরকার ছাড়া কথা বলেন খুব কম। হাঁটার সময় গলায় একটা whistle ঝোলে --- আমরা কখনো চোখের আড়াল হলে সেটা বাজিয়ে আমাদের সজাগ রাখেন। ক্যাম্পে পৌঁছে নিজের টেন্ট পিচ্ করে ভেতরে ঢুকে যান। পোর্টাররা প্লেটে করে খাবার, ফ্লাস্কে গরম জল পৌঁছে দেয়। "মালিক" বলে সম্বোধন করে।

    অথচ, এই মোহন বিষ্টের কথা কতো পুরোনো লেখায় পড়েছি। মোনু নাকি শখের বটানিস্ট্। এই অঞ্চলের প্রচুর ফুল চেনে, এমনকি তাদের বৈজ্ঞানিক নামও বলতে পারে!

    A মন্তব্য করে, তখন ও ছিল শুধুই মোনু, আর এখন মালিক সাহাব!

    কুক্ ভগৎ সিং-কে নির্দেশ দেওয়া আছে, ক্লায়েন্টদের দুপুরে প্যাকড্ লাঞ্চ-সহ তিনবেলা খাবার দেওয়া চাই। সন্ধেবেলা ডিনারের আগে স্যুপ্। আর দু'বেলা চা-কফি তো আছেই। আমাদের তিন নেপালী পোর্টার রবি, গোপীরাজ (ওরা মজা করে বলে, গোবিরাজ) আর যুগ বাহাদুরের (ওদের উচ্চারণে, যুপ্ বাহাদুর) পিঠে তাই মালও চলে প্রচুর। পায়ে গামবুট পড়ে পিঠে প্রকান্ড মোট নিয়ে ওরা চড়াই ভাঙে, পথে ক্রস্ করলে ওদের জোরে জোরে শ্বাস নেওয়ার শব্দ শুনতে পাই।

    লাটা খড়ক ক্যাম্পের একমাত্র জলের সোর্স, ক্যাম্পসাইট থেকে একটু নীচে নেমে জঙ্গলের মধ্যের ধারাটা একেবারে জমে গেছে। জঙ্গলে দিনের আলো ঢোকে না, তাই ভরদুপুরেও বরফ গলে না। পোর্টারদের ওপর দায়িত্ব পড়ে, আইস্ অ্যাক্স দিয়ে সেই বরফের চাঁই ভেঙে ঝোলায় ভরে নিয়ে আসার। বরফ গলিয়ে জল তৈরি হয়, তাতে জুনিপারের কাঠপোড়া গন্ধ পাওয়া যায়। ওরা হাসে; বলে, হার্বাল পানি।

    গোটা সন্ধ্যেটা ওরা সেই কাঠের আগুনের চারদিকে ভাবলেশহীন হয়ে বসে থাকে। সকলেরই বয়স কুড়ি-তিরিশ, তবে দিনের রোদ আর রাতের আগুনের তাপে চোখেমুখে বয়সের ছাপ পড়েছে। যুগ বাহাদুর শুধু এক-দু'বার ওঠে। আমাদের টেন্ট ছাড়িয়ে চলে যায় রিজ্-টার শেষ প্রান্তে, যেখান থেকে হাজার ফীট্ নিচে লাটা আর সুভ্ই গ্রামের টিমটিমে আলোগুলো দেখা যায় --- ফোনের নেটওয়ার্কের লোভে। দূর থেকে শুনতে পাই, ওর নেপালের গ্রামে থাকা মা-র সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছে।

    ট্রেক্ শেষ করে জোশিমঠে ফিরে ঠিক করি: এভাবে আর নয়। কারোর মর্জির গোলাম হয়ে, এবং কাউকে আমাদের মর্জির অধীন করে এপথে আসা, আর না। এবার থেকে শুধু সেই পথেই যাওয়া, যে পথে আমরা স্বাবলম্বী, স্বাধীন। ইন্ আদার ওয়ার্ডস্, মনের মতো একটা পথের বাঁকে ঠিক ততক্ষণ দাঁড়াবো, যতক্ষণ আমাদের ইচ্ছে করছে দাঁড়াতে।

    এবার আসি বিগত বছর বিশেকের কথায়। এখন বেঙ্গালুরু বা দিল্লীতে কর্পোরেট অফিসওয়ালা, অর্গানাইজড ট্রেকিং ইন্ডাস্ট্রির যুগ। এদের প্রধান ক্লায়েন্ট হলো অন্তত দু'-তিনটে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের মালিক/মালকিন, এইসব শহরের-ই বাসিন্দা কিছু চাকরিজীবী তরুণ-তরুণী। ঝকঝকে ওয়েবসাইট আর জবরদস্ত সোশ্যাল মিডিয়া প্রেজেন্সের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে: নিজেকে ঠিক ঠিক চিনতে হলে এভরিওয়ান মাস্ট্ ট্রেক্, অতএব একটাও ছুটি গোয়ায় গিয়ে নষ্ট করা নয়। তাছাড়া, আজকাল গোয়ায় ছুটি কাটাতে গেলেও বোধহয় এজেন্সির মাধ্যমে করা একটা ট্রেকের চেয়ে বেশি প্ল্যান করতে হয়।

    কনিষ্ক লাহিড়ী তাঁর ২০২১-য়ে লেখা একটা দুর্দান্ত ব্লগে একটা রাফ্ হিসেব দিয়েছেন। সেই সূত্র ধরে আমি একটা রিসেন্ট হিসেব দিই। এবছরের (২০২৬) ২৩শে আগস্ট থেকে ১৮ই সেপ্টেম্বরের মধ্যে উত্তরাখণ্ডের বিখ্যাত ভ্যালী অফ্ ফ্লাওয়ার্স্ ট্রেকে Indiahikes-এর টিম যাচ্ছে ২১টা। প্রতিটা দলে গড় ক্লায়েন্ট ২১ জন। অর্থাৎ, মাসখানেকেরও কম সময়ে, শুধুমাত্র Indiahikes-ই ওই পথে নিয়ে যাচ্ছে প্রায় ৪৫০ মানুষ। ট্রেক্ লিডার, পোর্টার, কুক্, খচ্চরওয়ালা --- সব মিলিয়ে সংখ্যাটা নিদেনপক্ষে ৫০০-র কাছাকাছি।

    একটা উদাহরণ দিই। এইসব এজেন্সীরা তাদের ক্লায়েন্টদের কোমরে ঝোলানোর একটা পাউচ দেয়, প্লাস্টিক বা অন্যান্য নোংরা ফেলার জন্য। ভাবনাটা নিঃসন্দেহে ভালো। কিন্তু সন্দেহ যেন থেকেই যায়: এরকম একটা ফ্র্যাজাইল্ পরিবেশে, মাত্র এক-দু'মাসে কয়েক হাজার জনের হাঁটা-থাকা-খাওয়া-বাহ্যে যাওয়ার ecological বা geomorphic footprint-য়ের সম্যক মূল্যায়ন কি আদৌ হয়েছে? কোমরের পাউচে নোংরা ফেলা আর প্লাস্টিকের বদলে স্টীলের থালাবাসন ব্যবহার করাই কি পাহাড়ের পরিবেশকে সুস্থ রাখার জন্য যথেষ্ট? আফটারঅল্, দেশটা ভারত --- প্রত্যেকে যে ব্যবহৃত প্লাস্টিক কোমরের পাউচেই ফেলছে, তার গ্যারান্টি-ই বা দিচ্ছে কে?

    মাত্র ক'দিন আগে তুলে নেওয়া হলো উত্তরাখণ্ডের বুগিয়ালগুলোয় আট বছর যাবৎ হয়ে থাকা ক্যাম্পিং ব্যান্। এবারের বাজেটে অর্গানাইজড ট্রেকিং-কে উৎসাহও দেওয়া হয়েছে যথেষ্ট। ভাবনা হয়, প্যান্ডোরার বাক্স একবার খুলে গেলে, বন্ধ করবে কে?

    আমি প্রথম কুয়ারী পাস্ যাই ২০১৬-য়। অর্গানাইজড্ ট্রেকিং ততদিনে শুরু হয়েছে বটে, তবে এতোটা বাড়বাড়ন্ত হয়নি। আসলে, সোশ্যাল মিডিয়াও তখন ছিল শুধুই ফেসবুক-নির্ভর। আজকের ইনস্টাগ্রাম আর রেডিট্ মার্কেটিংয়ের দিনে দাঁড়িয়ে তখনকার ফেসবুক-কেও লং-ফর্ম বলে মনে হয়!

    সেবার খুল্লাড়া ক্যাম্পসাইটে দু'রাত থাকি। সকালে উঠে ট্রাইপড্ লাগিয়ে নিশ্চিন্তে কামেট্ আর নীলকন্ঠের গায়ে সূর্যোদয়ের ছবি তুলি।

    সে পথে আবার ফিরে যাই সাত বছর পর --- ২০২৩-য়ের ডিসেম্বরে। খুল্লাড়া ক্যাম্পসাইট বরফে ডুবে, তবু বড় বড় উইন্টার ট্রেক্ দলের ভিড়ে গমগম করছে। সন্ধ্যেবেলার অন্ধকারে বরফের মধ্যে দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে বার বার পা ঢুকে যায় ল্যাট্রিন পিট্-য়ে। ভাবি, এই পাহাড়টার নীচে, তুগাসি গ্রামে ব্যবহারের জল নিশ্চয়ই এই পাহাড়েরই ঢালের কোনো ধারা থেকে পাইপে করে সরবরাহ করা হয়!

    রাতে তাঁবুতে শুয়ে আওয়াজ পাই --- দু'টো দলের ক্লায়েন্টদের মধ্যে টয়লেট টেন্টের মালিকানা নিয়ে বচসা বাঁধে।

    ------

    এবার গ্রীষ্মের ছুটিতে লাদাখে, সিন্ধুর অববাহিকা মার্খা নদীর উপত্যকায় ট্রেক্ করবো বলে স্থির হয়। এই সিদ্ধান্তের পেছনে বেশ কয়েকটা কারণ থাকে।

    প্রথমত, লাদাখ কখনো যাইনি। আবার, ইউরোপে গ্রীষ্মের ছুটি অগাস্টে --- উত্তরাখন্ড, হিমাচল, বা সিক্কিমে তখন ঘোর বর্ষাকাল। দু'য়ে দু'য়ে চার হয়। গ্রেট্ হিমালয়ের ওপারে থাকার দরুণ লাদাখের আবহাওয়া অনেকটাই ট্রান্স-হিমালয়ের মতো, বৃষ্টি হয় খুব কম। অগাস্টে ট্রেক্ করার তাই কোনো অসুবিধে থাকে না।

    মার্খা উপত্যকায় ট্রেক্ করতে কোনো পথপ্রদর্শক লাগে না বলেই শুনি। অল্পবিস্তর ম্যাপ দেখতে জানলেই চলে। তাছাড়া, প্রত্যেক দিনের শেষে পৌঁছতে হবে কোনো না কোনো গ্রামে। সেখানেই থাকা, খাওয়া। অর্থাৎ, তাঁবু, রেশন, বা জ্বালানি বয়ে নিয়ে যাওয়ার কোনো দরকার নেই।

    ঠিক হয়, লেহ্ পৌঁছে একদিন রেস্ট নিয়ে বেরিয়ে পড়বো মার্খা ভ্যালীর পথে। কিন্ত লম্বা ফ্লাইটের ধকল নিয়ে লেহ্ পৌঁছে অল্টিটুডে-র সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারিনা। প্রথম দু'দিন আশা না ছাড়লেও, রোজই সকালে উঠে মাথা ধরে আছে দেখে উই হ্যাড্ টু টেক্ দ্য হার্ড কল্। প্রকৃতি যেন মনে করিয়ে দেয়, সে আমাদের গোনাগুনতি ছুটির তোয়াক্কা করে না।

    শেষপর্যন্ত পড়ে থাকা দিন তিনেকের জন্য লামায়ুরুর প্ল্যান হয়। নতুন জায়গা দেখার আগ্রহের চেয়ে বরং মার্খা যেতে না পারার অপ্রাপ্তিই মন ভারী করে রাখে বেশি।

    লামায়ুরু স্কুলের পিটি মাস্টারের কথায় আমার মুখে অহংকারের কালো ছায়া পড়েছিল। অন্তত A আমাকে পরে তাই বলেছিল। ঠিক করেছিলাম, যাবো প্রিন্কিতি লা-র পথেই।

    ডিনার করে রুমে এসে হরিশ কাপাডিয়ার বই খুললাম। লামায়ুরু থেকে পদুম্ যাওয়ার পথের প্রথম পাস্ এই প্রিন্কিতি লা। অবশ্য, প্রিন্কিতি লা ক্রস্ করে ওয়ান্-লা গ্রাম থেকে অন্যত্রও যাওয়া যায়। পাসের উচ্চতা ১২,৩০০ ফিট। কেদারনাথের চেয়ে ৫০০ ফিট বেশি।

    ভোরের অ্যালার্ম দিয়ে শুতে যাই। উত্তেজনায় রাতে ভাল করে ঘুম আসেনা।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    Prologue: ভেতরে গাঢ় অন্ধকার | পর্ব ১: পথ গেছে বেঁকে
  • ভ্রমণ | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৫৩ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    একক - Debayan Chatterjee
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:৫৯742448
  • আহা আহা মার্খা ভ্যালি যেতে হবে ভেবে রেখেছি বছর তিনেক। দুবার লাদাখ ঘুরে আসা হল কিন্তু মার্খা ভ্যালি আর ওই লামায়ুরুর একটু আগে কারকিৎচু ভ্যালি এখনো যাওয়া হয় নি।
     
    ফ্লাইটে লেহ গেলে তিনদিন লেহতে অবশ্যই কাটাতে হয় নাহলেই গড়বড়। সড়কপথে মানালি থেকে গেলেও প্রায় ওইরকমই। শ্রীনগর থেকে সড়কপথে কার্গিল লামায়ুরু আর্যগ্রাম হয়ে গেলে অ্যাক্লেমেটাইজেশানটা হয়েই যায় অনেকটা।
     
    ইন্ডিয়া হাইক পুরো বাসভর্তি ভর্তি লোক নিয়ে গিয়ে বারো বানিয়ে ফেলছে। সে অবশ্য লাদাখেও এপ্রিকট ফেস্টিভালের সময় এক একটা এজেন্সিই ৪৫০ -৫০০ লোক নিয়ে যায়। লাদাখে জল নেই বেশী। তার মধ্যে এত ট্যুরিস্ট মানেই এত সিস্টার্ন ফ্লাশের ব্যবহার আর জল ফুরিয়ে যাওয়া।
  • kk | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:১৪742450
  • দেবায়ন অনেকদিন পরে লিখছেন দেখে ভালো লাগলো। সিরিজ চলুক। পড়ছি।
  • দেবায়ন চট্টোপাধ্যায় | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩:৫৫742459
  • @দ: Fully agreed! মার্খা সামনের বছর অগাস্টে আবার চেষ্টা করবো -- এবার হাতে আরো একটু বেশি সময় নিয়ে।
     
    @kk: বহুদিন পর আপনার মন্তব্য পেয়ে ভালো লাগলো। সত্যিই বহুদিন পর লিখছি। দেখা যাক সেই সারল্য-টা re-manufacture করা যায় কিনা!
  • ফুটকড়াই | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:১৬742461
  • হ্যাঁ অনেকদিন পর আপনাকে গুরুতে দেখে ভাল লাগল
  • দেবায়ন চট্টোপাধ্যায় | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:০৭742468
  • @ফুটকড়াই: আপনার যে এখনো আমাকে মনে আছে জেনে খুব ভালো লাগলো!
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। দ্বিধা না করে প্রতিক্রিয়া দিন