এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  খ্যাঁটন  খানাবন্দনা

  • সুমিত সরকার (1939 - 2026) দের সময়

    বোধিসত্ত্ব দাশগুত্ত
    খ্যাঁটন | খানাবন্দনা | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৭৮ বার পঠিত
  • সুমিত সরকাররা ঠিক কোন পরিস্থিতিতে কোন সময়ে ইতিহাস চর্চা করছিলেন সেটা বোঝার একটা প্রয়াস মনে হয় জরুরী। এবং আকাদেমিক ইতিহাস চর্চায় আদৌ কোনো প্রশিক্ষন না থাকা সত্ত্বেও সামান্য খেয়াল করলে এটা বুঝতে অসুবিধে হয় না যে তাঁদের কাজের পরিধি কোনো ব্যক্তিগত গবেষণা গ্রহে থেমে থাকেনি।  
    (Self published bangla blog using guruchandalis social self publication tool, as of 3rd September 2026) 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • বোধিসত্ত্ব দাশগুপ্ত | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:০৯748337
  • *গবেষণাগ্রহে থেমে থাকেনি।

    কাকতলীয়

    সুমিত সরকার (১৯৩৯-২০২৬) চলে যাওয়ার পরে, এবং অনেকগুলি ইতিহাস বিষয়ে প্রশিক্ষন ও চর্চার অভিজ্ঞতা সঞ্জাত এবং সংবাদধর্মী অবিচুয়ারী পড়ে কয়েকটি অদ্ভুত সম্পর্কহীন এবং একটি ব্যক্তিগত কাকতলীয় কথা আমার মনে হচ্ছিল।

    ১৯৮৪ র পৌষমেলায় সুশোভন সরকারের 'ইতিহাসের ধারা' বইটি, ভূমিকার ঘোষনা অনুযায়ী যেটি লেখাই হয়েছিলো রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য আমার হাতে এসেছিলো পরিবার ও স্থানাঙ্কভাগ্যের হাত ধরে। অধ্যাপক শুভ বসুর বাবা শান্তিনিকেতনের বন্ধু ও ছাত্রদের কাছে সক্রেটিসম প্রবাদপ্রতিম সন্তোষ বসু মশাই বইটি আমাকে উপহার দিয়েছিলেন, সই করে। বন্ধুপুত্র হিসেবে আমার জীবন সম্পর্কে তিনি হয়তো আমার নিজের চেয়ে বেশি উৎসাহী আশাবাদী ছিলেন তবে এই উপহারটির নিহিতার্থ ছিলো, ছোকরা যে পার্টির এবং অন্যান্য বইএর স্টলের আশেপাশে ঘুর ঘুর করছে, তাকে তো একেবারে কবিতা আর গপ্প উপন্যাসের হাতে ছাড়া যায় না !!

    এর চার পাঁচ বছর পরে রামজনমভূমি আন্দোলন শুরু হয়। বীরভূমের দুবরাজপুর/মহম্মদবাজার থেকে, আমাদের বাম ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের লজ্জায় অধোবদন হয়ে দেখতে হয়, কয়েকটি ট্রাকে মন্দির বানানোর জন্য জয় শ্রীরাম লেখা ইঁট যায়। আমি সেদিন একলা একটা দীঘির পারে তালগাছের তলায় বসে খানিকটা কান্নাকটিও করি, যে কার কাছে পৌঁছনো বাকি রয়ে গেলো, কারণ বীরভূমে কোনো গ্রাম শহর ছিল না যেখানে কৃষক সভা পৌঁছয় নি, তবে মানবমনের অতল গহ্বরের তল পেতে আমাদের অনেক বাকি ছিল।

    এর পরে বাবরি ভাঙা পড়ে। 1992 তে বাবরি যখন ভাঙা পড়ে তখন আমি ছাত্র রাজনীতি ছেড়ে ট্রেড ইউনিয়ন করছি সেলস এর চাকরি করতে করতে। তৎকালীন অবিভক্ত বিহারে। এর পরে 1993 এর ডিসেম্বরে চাকরি ছেড়ে এসে, হয় সেবারেরই পৌষে বা 1994 এর শুরুর দিকে আমার হাতে আসে, khaki shorts. তো ঘটনা চক্রে বিংশ শতকের একই পরিবারের দেশের সেরা দুজন ঐতিহাসিকের বিষয়ের গবেষণার ঘেরাটোপ থেকে বেরিয়ে, মানুষের কাছে জনগণের বুদ্ধিজীবী হিসেবে ইতিহাসের সাধারণ চলমানতা এবং একটি বিশেষ সমসাময়িক ঘটনা সম্পর্কে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করার প্রচেষ্টার একটা আন্দাজ আমি ইতিহাসের ছাত্র না হতে পেরেও পাই, এবং যথাক্রমে বীরভূমের ধরম ঠাকুর, রবি ঠাকুর এবং ওরিয়েন্টের কালোহাঁসের আশীর্বাদে দুটি বই আমার পড়ার সুযোগ হয় মাত্র আটবছরের ব্যবধানে, যদি ওই স্বল্প কালবিরতিতেই ভারতবর্ষ সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে।

    চর্চার কাল বিষয়ক

    সভ্যতার বা সংস্কৃতির প্রতিযোগিতার আবহ থেকে বেরিয়ে স্বাধীনতাকামী এবং সদ্যস্বাধীন দেশের যুক্তিনির্ভর ইতিহাস চর্চা কেমন হবে এবং তা গণতান্ত্রিক অংশগ্রহনকে সমৃদ্ধ করবে কিনা এই প্রশ্ন যাঁদেরকে ইতিহাস চর্চায় আনছে তাঁদের মধ্যে সুমিত অন্যতম।

    (ক্রমশঃ)
  • বোধিসত্ত্ব দাশগুপ্ত | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:০৯748338
  • *সভ্যতার এবং জাতির
  • বোধিসত্ত্ব দাশগুপ্ত | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:৪৯748339
  • তো জ্ঞানচর্চার জগতে ইতিহাসের ধারার প্রথম প্রকাশ কাল, ১৯৪৪ এবং খাকি শর্টস এর প্রকাশকাল 1993 এর মধ্যে কি কি পরিবর্তন হচ্ছে। প্রথমে যেটা বুঝতে হবে দেশ স্বাধীন হবার পরে উচ্চ শিক্ষায় একটা সরকারি উৎসাহ আসছে, এবং জাতীয় ইতিহাস রচনার তাগিদটা ভাঙা দেশে হচ্ছে বলে একটা বিপদ যে আসছে না তা না, কিন্তু একই সঙ্গে বড় করে সামাজিক ইতিহাস ইত্যাদি চর্চা শুরু হচ্ছে। যাতে জাতি বা রাষ্ট্র বা জাতি রাষ্ট্র বা আন্তর্জাতিক সভ্যতার ইতাস প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনের দায় হয়তো অলক্ষ্যে বা সচেতন ভাবেই কমছে খানিকটা এবং আরো কিছুদিন পরে দেখা যাচ্ছে কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের প্রগতিশীল আভ্যন্তরীন সংস্কারের তাগিদ থেকে যে থিওরি চর্চা আরম্ভ হচ্ছে সেটার অনেকটাই ইতিহাস চর্চার আঙিনাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের উচ্চ শ্রেণীকক্ষ আর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাপূর্ব স্তরগুলির জন্য নির্মোহ ইতিহাসের একটা প্রসার হচ্ছে।

    অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আপামর কিন্তু আকাদেমিক ইতিহাস চর্চার মুখাপেক্ষী হয়ে থাকছে না, কারণ সকলেই জানে জাতি রাষ্ট্রে অতীত নির্মাণ থামে না, তার মনে কিম্তু ইতিহাস অর্থাৎ একধরণের আলোকজ্জ্বল গৌরবজনক অতীতের বিষয়ে বাছাই এর কাজ করে দিচ্ছে অধ্যয়নের জগতের বা ইরের সংস্কৃতি চর্চা। আলোক খুঁজলে অন্ধকারের খোঁজ ও বাড়াতে হয় তাই তার অভাব কিছু থাকছে না।

    (ক্রমশঃ)
  • বোধিসত্ত্ব দাশগুপ্ত | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:৪৪748341
  • আর কি ঘটছে?

    অতি বিশেষায়িত হচ্ছে প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞানচর্চা, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে অর্থনীতিচর্চা। এতটাই বিশেষায়িত হচ্ছে যে জীবনের সাধারণ দার্শনিক প্রশ্নগুলি বা রাষ্ট্রের চরিত্রের সম্পর্কে বিতর্কগুলির চর্চা যে কলাবিদ্যায় হচ্ছে তাতে সেটা যেন তার আগের শতকের দর্শন বা ধর্মচর্চার সেকুলার রূপ, যেখানে সাধারণ্যের তার্কিক অংশগ্রহনই মূল বৈশিষ্ট্য। এবং এই বৈপরীত্যটা বিভিন্নভাবে আখ্যায়িত হচ্ছে। শিক্ষায় শুধু না, রাষ্ট্রের নতিতে ও প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক অন্তর্ভুক্তির পক্ষ এবং শিল্পোন্নত রাষ্ট্র ও সামাজিক জীবনে প্রায়োগিক উচ্চশিক্ষার পক্ষ দুটি শিবির তৈরী হয়ে যাচ্ছে। এটাকে প্রথমে মজা করে বিজ্ঞান বনাম মানববিদ্যার তর্ক হিসেবে দেখা যেত কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে গোটা বিজ্ঞান প্রযুক্তি গবেষণার পরিসরটাতেই ধনতন্ত্র গভীরতর নিয়নাত্রন চাইছে এবং মানববিদ্যা চর্চা হয়ে উঠছে একধরণের সন্দেহজনক বিদ্যাচর্চা। অক্সফোর্ড, সোর্বোন বিশ্ববিদ্যালয়গুলি শুরুতে ছিলো নানাবিধ বিবাদী তার্কিকদের জায়গা। মধ্যেখানে বিল গেটস বলেছিলেন মুনাফাহীন বিদ্যাচর্চা, প্রাইভেট সেক্টর তেমন ভালো পারবে না কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলির আর বর্ণ আধিপত্যের সমর্থকরা এমনকি অনেক সাধারণ রক্ষনশীল যাঁরা কড়া রাষ্ট্রের পক্ষে, তাঁরা মনে করছেন উচ্চশিক্ষা গবেষণা কেন্দ্রগুলি বড় কোম্পানীর নিজস্ব সম্পত্তি হয়ে উঠলেই ভালো, বাকি বিষয় চর্চা খরচার খাতায়। তো এসব আপদ সুমিতরা কিছুটা দেখে গেছেন। এবং শুধু তাই না কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের আভ্যন্তরীন বিবাদ মেটানোর উপায় হিসেবে গণ আন্দোলনের ভূমিকাকে ক্রমশঃ খর্ব হতে দেখে গেছেন। এর মধ্যে উচ্চতম পর্যায়ে মানববিদ্যা চর্চা করা খুব সহজ কাজ না।

    (ক্রমশঃ)
  • বোধিসত্ত্ব দাশগুপ্ত | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:২৪748342
  • আরেকটা ঘটনা ঘটছে। শোনা যায় 1956 র বুদাপেস্ট, 1968 র প্রাগের ছাত্র আন্দোলন সুমিতদের প্রজন্মকে সোভিয়েত সম্পর্কে আশাহত করলেও একই সঙ্গে যৌবনের এবং খেটে খাওয়া মানুষের গণ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠানবিরোধিতা সম্পর্কে উৎসাহহিত করেছিল। ইগলটনরা যদিও মজা করে বলতেন ছয়ের দশকে ছাত্র আন্দোলন তীব্র হবার মূল কারণ হলো দুটো (after theory র দুটো আলাদা অংশ থেকে paraphrased), প্রথমতঃ ছাত্রছাত্রীরা বুঝতে পারলো, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ও আসলে ধনতন্ত্রের আর মিলিটারির কাজে লাগছে আর তাছাড়া দেখা গেলো কয়েকটি বই পড়া ছাড়া ছাত্রদের তেমন কোনো কাজ নেই তাই আন্দোলন অন্তত ভালো!! ছাত্র আন্দোলন, বুদ্ধিজীবীদের যখন সমাজ পরিবর্তনের কাজে নেতৃত্ব দিতে গেছে তখন বলাবাহল্য রাষ্ট্রের অত্যাচার তাদের উপর নেমে এসেছে। যুদ্ধ বিরোধী আন্দোলন আর বর্ণবৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে দক্ষিন আফ্রিকায় দেখা গেছে সহায়কের ভূমিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের লড়াই এর ভূমিকা সদর্থক। কিন্তু ভারতে সবসময়ে এই মডেলে স্বাভাবিক ভাবেই কাজ হয়নি। স্ববিরোধিতা ছিলো, মহিলাদের নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে প্রগতিশীল রাজনীতির ভেতরে অনেক সময় লেগেছে ও লাগছে। এই কাজ শেষ হবার আগেই এসেছে নতুন রক্ষনশীলতার ব্যাপক প্রসারের, উচ্চশিক্ষা বিরোধী প্রচারের জনপ্রিয়তা। যে জ্ঞানচর্চা প্রগতিশীল কল্যাণমূলক রাষ্ট্রকে অন্ততঃ সংশয়ে ফেলতে পারছিলো সে এখন রাষ্ট্রের প্রধান বৌদ্ধিক বিরোধী বলে পরিচিত এবং পরিচিত অর্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্তিত্ব বিপন্ন। বিদ্বানদের খানিকটা অপ্রস্তুত ঠেকেছে সর্বাত্মক আক্রমণের সামনে। এর মধ্যে পড়াশুনো করেছেন সুমিত, ও তাঁর আগে পরের ইতিহাসবিদ সহকর্মীরা, ছাত্রছাত্রীরা, তাঁর পাঠকেরা। কাজটা সোজা না।

    (ক্রমশঃ)
  • বোধিসত্ত্ব দাশগুপ্ত | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১:০৫748343
  • অতঃপর

    একটা সময়ে আমরা গবেষণারত মানববিদ্যার ছাত্রছাত্রীদের উত্যক্ত করার উদ্দেশ্যে বলতাম, তোদের কলেজে তো আবার মশারিকে বলে কনস্ট্রাক্ট। বা সোশিওলোজির বন্ধুদের মার্কস পরবর্তী ফরাসী বামপন্থার প্রতি আকর্ষণকে কটাক্ষ করে বলতাম দেরি করে এলো তাই নাম হলো দেরিদা। জ্ঞানচর্চার জগতের মতবিরোধের মধুর জগতে সদ্য রণজিত গুহ পড়া ছাত্রের সঙ্গে হাবিব পড়া ছাত্রের মুখ দেখাদেখি বন্ধ হতে পারতো। এমনকি বিষয়টা মধুরতা ছাড়িয়ে অসভ্যতা ও মারামারিতেও যেতে পারতো, বামপন্থীদের অআভ্যন্তরীন কোন্দলে তো রাজনৈতিক খুন বা জাতীয় বা আন্তর্জাতিক চক্রান্ত সবই হয়েছে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়কে অগম্য এবং অপ্রয়োজনীয় বিনোদনের জায়গা হিসেবে ও দেখেছে মানুষ। কিন্তু মানববিদ্যা চর্চার উপরে, অন্তর্ভুক্তির ধারণার উতরে আজকের সর্বাত্মক এবং সর্বব্যাপী আক্রমণ প্রযুক্তি গবেষণার ন্যূনতম স্বাধীনতাও আস্ত রাখবে বলে মনে হচ্ছে না। বলা যায় না লেখাপড়া বস্তুটা হয়তো উদয়ন মাস্টারের গুহায় ফিরে যাবে, এটা অন্ততঃ সুমিতকে দেখে যেতে হয় নি, আমরা একসময়ের রাজনৈতিক কর্মীরাও হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছি। এবং একটি বিশেষ কথা বলেই শেষ করছি। রণজিৎ গুহর মৃত্যুর পরে কিছু প্রখ্যাত ঐতিহাসিক যেহন ভাবে ওঁকে আক্রমণ করেছিলেন সেরকম অভব্য আক্রমণ হয়তো সুমিত সরকার মহাশয়ের ক্ষেত্রে এখনো চোখে পড়ে নি। ইতিহাস মানেই যে অতীত গৌরবচর্চা নয় এই কথাটা হয়তো নানা ধরনের মানুষের কাছে পৌঁছেছে ভারতীয় ভাষায় তাঁর কাজ অনুবাদের মাধ্যমে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে পৌঁছতে না পারা আর কায়েমী স্বার্থে গেট ডিঙোতে অনিচ্ছুক প্রাক্তন বাম রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে এটুকু সুমিত ও তাঁর সমসাময়িক যুক্তিবাদী ঐতিহাসিকদের কাছে ও সর্বার্থেই গণতন্ত্র চর্চায় বছর চল্লিশেকের মুহুর্তটার জন্য আমরা তাঁদের কাছে দূর থেকেই কৃতজ্ঞ। চিন্তার স্বাধীনতা, যুক্তিবোধের সারেন্ডার করবে না নাগরিকরা। আশা করি। তাঁরা তাঁদের ইতিহাস লিখবেন।
  • বোধিসত্ত্ব দাশগুপ্ত | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১:১১748344
  • আমার আর কোনো বক্তব্য নেই আপাতত, সুমিতবাবুর কাজ নিয়ে যে সব কথা বা লেখা শুনেছি বা পড়েছি তাঁর মৃত্যুর পরে, বিশেষজ্ঞ ঐতিহাসিক বা সাংবাদিক বা ছাত্রছাত্রীদের কাছে, তার লিঙ্ক কিছু পেলে এখানে রেখে দেবো।
  • বোদাগু | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২:৪৩748346
  • ট্রিবি উট ভিডিও -
    রবীশ কুমার
     
    আদিত্য সরকার
     
     
    নীলাদ্রি ভট্টাচার্য
  • বোদাগু | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:৫৮748347
  • ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস হিন্দী, সুমিত সরকার ট্রিবি উট
     
  • | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৩:৩১748349
  • তিনটে দিক ছিল মনে হয় সুমিত সরকারের ইতিহাসচর্চায় - বামপন্থী প্রভাব, পোস্টকলোনিয়াল-সাবাল্টার্ণ ইতিহাস চর্চা আর দক্ষিণপন্থার বিরোধিতা। প্রথমটি, যাকে বলে যান্ত্রিকতা বর্জিত, কিন্তু সামাজিক ইতিহাস চর্চা। ঐ, মডার্ণ টাইমস বইটি যার প্রমাণ। দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে, সাবল্টার্ন ইতিহাস লেখার সঙ্গে যুক্ত হয়ে, প্রথম থেকেই, পরে বেরিয়ে আসেন। দীপেশ চক্রবর্তীর লেখায় দেখলাম, দীপেশ ও গৌতম ভদ্রর লেখাকে নিয়ে ওনার সমালোচনা ছিল, আসল শত্রু যে দক্ষিণপন্থাই সেই বিষয়ে। কিন্তু ডিবেটটা ঠিক কী ছিল ? দীপেশ-ভদ্রর লেখা দক্ষিণপন্থাকে প্রশ্রয় দেবে, সেরকম মত ? কীরকম ?

    আর, ঐ পাতলা বইটি, অনুষ্টুপের, 'কলিয়ুগ, চাকরি ও ভক্তি', রামকৃষ্ণ-সারদা মা কে কেন্দ্রে রেখে উনিশ শতকীয় বাঙালী জীবনের সামাজিক ইতিহাস, কেরানীকুল ও তাদের ক্রাইসিস, দাম্পত্য জীবন ও তার ক্রাইসিস, ঐ দুই ধার্মিক মানুষ কীভাবে উনিশ শতকের মানুষকে আস্থা বা ঠেকনা দিচ্ছে। ধর্ম আর ভক্তি দিয়েই যাদের চেনা হচ্ছিল তাদের মধ্যে দিয়ে সামাজিক ইতিহাস লেখা। এখনো, ভাল স্মৃতি আছে বইটির, আমার কাছে, এখনো যখন এটা সেটা লিখি হয়ত ঐ বইটি ছায়া ফেলে থাকে।
  • বোদাগু | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:১৪748354
  • @ক আমার এই ভাটের ভাবনার ব্লগটাতে ইচ্ছে করেই সুমিত সহ অন্যদের আকাদেমিক কাজের সম্পর্কে আমি সরাসরি মন্তব্য করি নি। কারণ সে বিষয়ে আমার যোগ্যতা আছে বলে মনে করি না। কারণ আমি লেখাপড়া ঠিকভাবে জানি না।
    সুশোভন এবং সুমিত দুজনের দুটি wider audience এ জন্য দুটি চটি লেখার মধ্যে যে কাল বিরতি বা সুমিতের জীবৎকাল এবং লেখালিখির যে সময় তখন বিশ্ববিদ্যালয়, উচ্চশিক্ষা, সরকারি উচ্চশিক্ষা এব রাষ্ট্রের চরিত্র কিরকম করে বদলে গেলো সেটা দেখতে চেয়েছি একজন প্রাক্তন রাজনৈতিক কর্মী হিসবেে। আমাদের কাছে পৌঁছনোর দায়িত্ব অনেকটাই তাঁরা পালন করেছিলেন, আমরা অভিজ্ঞতা দিয়ে তাঁদের কাজেফ জগতটা বোঝার চেষ্টা অন্তত করেছি এটুকুর রেকর্ড রাখার জন্যই এই ট্রিবিউট।
    সাধারণ ভাবে বলা যেতে পারে, এনলাইটেনমেন্ট এর সঙ্গে কলোনী সম্প্রসারন এবং ধনতন্ত্রের অত্যাচার আলাদা করে দেখা কঠিন, ভারতের থেকে আফ্রিকায় আরো কঠিন। অন্য দিকে ট্রাডিশনাল নলেজ সিস্টেমের নামে ধাষ্টামো হচ্ছে এটা সবাই দেখছে। অন্য নানা সমস্যা আছে। যেমন আভ্যন্তরীন ও আন্তর্জাতিক মাইগ্রেশন এবং সেটলমেন্ট, এটা লেখাপড়া না করেও বলা যাচ্ছে তাই বলে দিলাম।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঝপাঝপ মতামত দিন