এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  রাজনীতি

  • বাংলার অবক্ষয় ও অলিখিত অভিযোগপত্র : কোথায় ভুল হয়েছিল 

    Debajit Ghosh লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | রাজনীতি | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৪৬২ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • প্রথম পর্ব
    শুরুর আগে একটি কথা
    আমি ঐতিহাসিক নই,  আর্কাইভের কাগজপত্র ঘেঁটে সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর অধিকারও দাবি করি না। যা লিখছি তা একটি ভাবনা। সেটা কোথা থেকে এল, বলা দরকার।
    আমি হাওড়ায় বড় হয়েছি। এই প্রবন্ধের দ্বিতীয় পর্বে যে ক্ষয়ের কথা আসবে, সেটা আমার পড়া কোনও বইয়ের বিষয় নয়। সেটা ছিল স্কুলে যাওয়ার রাস্তা, সেই কারখানাগুলো যেগুলো তখনও চলত এবং তারপর আর চলল না, সেই পরিবারগুলো যারা চলে গেল এবং আর ফিরল না।
    পরে দুই দশকের বেশি সময় ধরে কাজ আমাকে নানা দেশে নিয়ে গেছে। বাইরে থাকার একটা নির্দিষ্ট ফল হয়: চোখে পড়ে, অন্য সমাজ কীভাবে ঠিক করে তারা কোন মৃতদের মনে রাখবে, কোন পূর্বসূরিদের উদযাপন করবে, তাদের প্রতিষ্ঠান কীভাবে চলে। হলোকস্ট পশ্চিমের গণস্মৃতিতে একটি স্থায়ী দায়ের মতো বাহিত হয়, প্রতি প্রজন্মে নতুন করে, সিনেমায়, পাঠক্রমে, স্থাপত্যে। আর যে মন্বন্তরে তুলনীয় সংখ্যক আমার নিজের লোক মারা গিয়েছিল, সেটা প্রায় কেউ বহন করে না। কার মূর্তি বসে আর কার ভাগে এক প্যারাগ্রাফ জোটে, সেটাও লক্ষ করেছি। এই ফারাকটা বহু বছর ধরে মাথায় রয়ে গেছে।
    বাকিটা এসেছে পড়াশোনা থেকে, সিনেমা থেকে, জমি আর নদী আর তার ওপর মানুষের বেঁচে থাকা দেখা থেকে, আর বন্ধুদের সঙ্গে অজস্র আলোচনা থেকে। এমনই একটা আলোচনার পরেই বসে এটা লিখতে শুরু করি।
    লেখাটা আমার চেনা বিষয় থেকেও সরে গেছে। আমি সাধারণত লিখি শিক্ষা, জ্বালানি, ভূরাজনীতি আর ঝুঁকি নিয়ে, এবং বিশ্লেষণের বাইরে নিজেকে রাখি। পাঠক এমন জায়গা পাবেন যেখানে আমি সংক্ষিপ্ত বা সরল করেছি; তাই সূত্রের তালিকা শেষে রাখলাম।
     
    প্রথম পর্ব: যে ক্ষতের নাম কেউ দেয়নি
    চল্লিশ থেকে ষাটের দশক: মন্বন্তর, দেশভাগ, এবং আখ্যানের ব্যর্থতা
    বাংলা একসময় উপমহাদেশের মুকুট ছিল। ঊনবিংশ শতকের শেষ আর বিংশ শতকের গোড়ায় এই ভূখণ্ড এমন বিজ্ঞানী তৈরি করেছে যাঁরা পদার্থবিদ্যা আর জীববিদ্যাকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করেছেন, এমন শিল্পোদ্যোগী যাঁরা একটি আধুনিক অর্থনীতি গড়েছেন, এমন সংস্কারক যাঁরা শতাব্দীপ্রাচীন গোঁড়ামিকে চ্যালেঞ্জ করেছেন, আর এমন শিল্পী যাঁরা পৃথিবীকে একটি নতুন নন্দনভাষা দিয়েছেন। কী ভুল হয়েছিল, এই প্রশ্ন তোলা নস্টালজিয়া নয়। এটা একটি সভ্যতার নিজের কাছে জবাবদিহি।
    ক্ষয়টা এক মুহূর্তে ঘটেনি। এটা জমতে জমতে হওয়া ফল: একটি মন্বন্তর যার জন্য কোনওদিন যথাযথ শোক হয়নি, একটি দেশভাগ যা কোনওদিন সম্পূর্ণ বোঝাপড়ায় আসেনি, একটি আখ্যান যাকে পরিকল্পিতভাবে ভুল দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, এবং একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি যা নিপীড়িতের নামে নিপীড়নকেই গভীরতর করেছে।
     
    যে দুর্ভিক্ষ নীতি বানিয়েছিল
    চল্লিশের মন্বন্তরে, ১৯৪৩ সালে, কুড়ি থেকে ত্রিশ লক্ষ বাঙালি অনাহারে মারা যান। সংখ্যাটা নিয়ে গুরুতর বিতর্ক নেই। আশি বছর ধরে যা নিয়ে বিতর্ক, তা হল কারণ।
    বিতর্কের দুটো মেরু। এক পক্ষ বলে, দুর্ভিক্ষ ছিল যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির ফল: জাপানের বর্মা দখলে চালের আমদানি বন্ধ হয়ে যায়, ১৯৪২-এর ঘূর্ণিঝড় উপকূলের ফসল নষ্ট করে, জাহাজ দুর্লভ ছিল, আর প্রাদেশিক খাদ্য প্রশাসন সীমানা পেরিয়ে শস্য সরাতে পারেনি। অন্য পক্ষ বলে, দুর্ভিক্ষ তৈরি হয়েছিল লন্ডনে আর দিল্লিতে: যুদ্ধমন্ত্রিসভা জানত এবং অন্য অগ্রাধিকার বেছে নিয়েছিল, বাঙালি যখন না খেয়ে মরছে তখনও খাদ্য রপ্তানি চলেছিল, ডিনায়াল পলিসির নামে বদ্বীপের নৌকা ধ্বংস করা হয়েছিল, আর জরুরি খাদ্যের আবেদন হয় নাকচ হয়েছে নয় কেটেছেঁটে ছোট করা হয়েছে।
    সৎ অবস্থানটা এই: দ্বিতীয় ব্যাখ্যার পক্ষে প্রমাণ বেশি শক্ত, আর প্রথম ব্যাখ্যা যে বাধ্যবাধকতার কথা বলে তা সত্যি হলেও অজুহাত হিসেবে যথেষ্ট নয়।
    প্রমাণ নির্দিষ্ট। ভাইসরয় ওয়াভেল বারবার জরুরি খাদ্যের জন্য আবেদন করেছেন এবং লন্ডনের প্রতিক্রিয়ায় নিজের ক্ষোভ লিখে রেখে গেছেন। ভারত-সচিব লিও অ্যামেরি, যিনি কোনও অর্থেই সাম্রাজ্যবিরোধী ছিলেন না, নিজের দিনলিপিতে ভারতীয়দের সম্পর্কে চার্চিলের তাচ্ছিল্যপূর্ণ মন্তব্য এবং গান্ধী এখনও মরেননি কেন, এই প্রশ্নটি লিখে রেখেছেন। অস্ট্রেলিয়া আর কানাডা গম দিতে চেয়েছিল, চাহিদামতো পাঠানো হয়নি। সংকটের মধ্যেও ভারত থেকে খাদ্য রপ্তানি বন্ধ হয়নি। ডিনায়াল পলিসিতে হাজার হাজার দেশি নৌকা ধ্বংস করা হয়; এক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে ঠিক সেই জেলাগুলোরই পরিবহণ, মাছ ধরা আর বাজারব্যবস্থা অচল হয়ে যায়, যে জেলাগুলো সবার আগে মরবে।
    এই নথির সঙ্গে সম্প্রতি একটি ভৌত প্রমাণ যুক্ত হয়েছে। ২০১৯ সালে আইআইটি গান্ধীনগরের গবেষকরা Geophysical Research Letters পত্রিকায় একটি গবেষণা প্রকাশ করেন, যেখানে ১৮৭০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ভারতের ছয়টি বড় দুর্ভিক্ষের সময়ে খরার পরিস্থিতি পরীক্ষা করা হয়েছে। ছয়টির মধ্যে একমাত্র ১৯৪৩ সালের আগে খরা ছিল না। বৃষ্টি হয়েছিল। মাটি শুকনো ছিল না। খাদ্য ছিল। মানুষ তবু মরেছিল।
    এটা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে ব্যাখ্যার দায়টা সরে যায়। ফসল নষ্ট না হয়েও যখন গণঅনাহার ঘটে, তখন কারণ থাকে বণ্টনে, দামে আর সিদ্ধান্তে। এই জমিতেই দাঁড়িয়েছিলেন অমর্ত্য সেন, তাঁর Poverty and Famines বইয়ে। ১৯৪৩-এ বাংলায় খাদ্যের প্রাপ্যতা দুর্ভিক্ষহীন বছরগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল না। মানুষ মরেছিল কারণ খাদ্য সামনে থাকতেও তার ওপর তাদের অধিকার, বা এনটাইটেলমেন্ট, ভেঙে পড়েছিল। যুদ্ধকালীন মূল্যস্ফীতি গ্রামীণ মজুরিকে বহু পিছনে ফেলে দেয়, আর সরকার প্রায় যেকোনও দামে চাল কিনেছে কলকাতার যুদ্ধশিল্প, সেনা আর ইউরোপীয় জনসংখ্যার জন্য, এই ঘোষিত নীতিতে যে শহর আগে। তারপর খেতমজুর, জেলে আর তাঁতি দামের কারণে সেই বাজার থেকেই ছিটকে যান, যে বাজারে তখনও চাল ছিল। অনাহার ছিল, আক্ষরিক অর্থেই, একটি প্রশাসনিক ফলাফল।
    একে পরিকল্পিত হত্যা বলা হবে, না অবহেলা, না কার্যকর হয়ে ওঠা বর্ণবিদ্বেষ, তার কিছুটা মেজাজের প্রশ্ন আর কিছুটা অভিপ্রায়ের প্রমাণের প্রশ্ন। মধুশ্রী মুখার্জির Churchill's Secret War ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্তের পক্ষে সবচেয়ে শক্ত নথিভিত্তিক যুক্তি হাজির করে। এই কাজ চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়েছে, মূলত চার্চিল প্রজেক্ট এবং তীর্থঙ্কর রায়ের মতো অর্থনৈতিক ইতিহাসবিদদের দিক থেকে, যাঁরা জোগানের ধাক্কা আর প্রশাসনিক বিভাজনের ওপর জোর দেন। কোন উপাদানের কতটা ওজন, তা নিয়ে গবেষকরা বিভক্ত, এবং সৎ প্রবন্ধের সেটা স্বীকার করা উচিত। কিন্তু দুই পাশেই যা নিয়ে বিতর্ক নেই, সেটাই আসল কথা: এই দুর্ভিক্ষের একটা বড় অংশ ছিল মানুষের তৈরি এবং এড়ানো যেত। নির্দিষ্ট নাম আর নির্দিষ্ট পদে বসা মানুষের সিদ্ধান্তই কষ্ট আর গণমৃত্যুর ফারাকটা গড়ে দিয়েছিল।
    মন্বন্তর শুধু মানুষ মারেনি। এটা সামাজিক আস্থা ধ্বংস করেছে, বাংলার ভিতরেই একটি শরণার্থী শ্রেণি তৈরি করেছে, আর এমন একটি প্রজন্ম রেখে গেছে যাদের ক্ষত কোনওদিন প্রাপ্য গুরুত্ব নিয়ে নথিভুক্ত হয়নি।
    রাজনৈতিক পরিণতি ছিল তাৎক্ষণিক এবং দীর্ঘস্থায়ী। যে কারবারি আর মজুতদাররা আকালে মুনাফা করেছিল, জনস্মৃতিতে তারাই বিপর্যয়ের মুখ হয়ে দাঁড়াল। এটা পুরোপুরি অন্যায্য ছিল না; মুনাফাখোরি সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু প্রধান দায় বাঙালি ব্যবসায়ী শ্রেণির ঘাড়ে চাপানো, সেই প্রশাসনের ঘাড়ে না চাপিয়ে যে মজুতদারিকে একইসঙ্গে যুক্তিসঙ্গত আর প্রাণঘাতী করে তুলেছিল, ছিল একটি মারাত্মক দিকভ্রম। এখান থেকেই সেই ব্যবসাবিরোধী, পুঁজিবিরোধী মনোভাবের বীজ, যা পরের দশকগুলোতে ধ্বংসাত্মকভাবে ফুলেফেঁপে উঠবে। ইংরেজ চলে গেল। রাগটা গিয়ে পড়ল বাঙালি ব্যবসায়ীর ঘাড়ে।
     
    যে আখ্যান কোনওদিন বলা হয়নি
    মন্বন্তরের পরের দশকগুলোতে বাঙালি সাংস্কৃতিক জীবনে এক অসাধারণ বিস্ফোরণ ঘটেছিল। ১৯৪৩ সালে সরাসরি দুর্ভিক্ষের প্রতিক্রিয়াতেই তৈরি হওয়া গণনাট্য সংঘ বাংলাকে তার সবচেয়ে প্রতিভাবান শিল্পীদের কয়েকজনকে দিয়েছে। সলিল চৌধুরী, ঋত্বিক ঘটক আর মৃণাল সেন যেকোনও মাপকাঠিতেই বিশ্বমানের, এবং তাঁরা যন্ত্রণা থেকে মুখ ফেরাননি। ঘটক তো গোটা কর্মজীবন ধরে দেশভাগ আর উচ্ছেদকেই কেন্দ্রীয় আবিষ্ট বিষয় করে রেখেছিলেন।
    ব্যর্থতাটা প্রতিভার ছিল না, সাহসেরও ছিল না। ব্যর্থতাটা লক্ষ্যের।
    একটা তুলনা করা সহজ, আর এড়ানো কঠিন। হলোকস্ট নিয়ে ছবি হয়েছে আনুমানিক চারশো থেকে পাঁচশো; সেটা একটি নিরবচ্ছিন্নভাবে পুনর্নবীকৃত বিশ্বসিনেমার ভাণ্ডার, যার ক্যানন আছে, আর্কাইভ আছে, উৎসব আছে, এবং ছবিগুলো নিয়েই গোটা গবেষণাসাহিত্য আছে। আর বাংলার মন্বন্তর, একই আশি বছরে, ছবি পেয়েছে বড়জোর দশটি। গুরুত্বপূর্ণগুলোর নাম করে ফেলা যায়: ধরতী কে লাল (১৯৪৬), বাইশে শ্রাবণ (১৯৬০), অশনি সংকেত (১৯৭৩), আকালের সন্ধানে (১৯৮০)। একটি বিপর্যয় একটি স্থায়ী বিশ্বব্যাপী স্মৃতিব্যবস্থা তৈরি করেছে। অন্যটি একটি তাকও ভরাতে পারেনি।
    সংখ্যাটা সমস্যার অর্ধেক মাত্র। বাকি অর্ধেক দৃষ্টিভঙ্গি। অশনি সংকেত-এ যুদ্ধ দূরের গুজব, পর্দায় কোনও ইংরেজ প্রশাসক নেই, আর দুর্ভিক্ষ আসে আবহাওয়ার মতো নৈর্ব্যক্তিক অনিবার্যতায়। বাইশে শ্রাবণ দুর্ভিক্ষকে ব্যবহার করে সেই চাপ হিসেবে যা একটি দাম্পত্য ভেঙে দেয়। আকালের সন্ধানে আসলে একটি ছবির দল দুর্ভিক্ষ নিয়ে ছবি করতে গিয়ে ব্যর্থ হওয়ার ছবি। তিনটিই গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকর্ম। কিন্তু এর একটিও কোনও ঔপনিবেশিক প্রশাসককে পর্দায় এনে জবাবদিহি চায় না।
    খলনায়ক যদি কেউ থাকে, সে স্থানীয়: মজুতদার, জমিদার, চালের কারবারি, মহাজন। এই মানুষগুলো ছিল এবং মুনাফা করেছিল। কিন্তু দুই প্রজন্মের বাঙালির কাছে মন্বন্তরের জনস্মৃতি যে কাজগুলো তৈরি করেছে, তাদের সম্মিলিত ফল হল দায়টাকে গ্রামের আর বাজারের স্তরে বেঁধে ফেলা, মন্ত্রিসভার ঘরের স্তরে না তুলে। যে বাঙালি দশটা ছবিই দেখেছেন, তিনি ঠিক জানবেন খিদে একটা পরিবারের কী করে, আর প্রায় কিছুই জানবেন না যে খিদেটা হবে বলে কারা ঠিক করেছিল।
    [ঐচ্ছিক অনুচ্ছেদ, গুরুচণ্ডা৯-র পাঠকের জন্য। রাখতে বা বাদ দিতে পারেন।] একটি পাল্টা যুক্তি স্বীকার করে নেওয়া ভালো, কারণ পাঠক সেটা তুলবেনই। ছবি ছাড়া অন্য মাধ্যমে ব্যতিক্রম ছিল। চিত্তপ্রসাদের ক্ষুধার্ত বাংলা সরাসরি ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রের দিকে আঙুল তুলেছিল, আর ঠিক সেই কারণেই ইংরেজ সরকার বইটির কপি বাজেয়াপ্ত করে পুড়িয়ে দেয়। জয়নুল আবেদিনের রেখাচিত্র আর সুনীল জানার আলোকচিত্র অন্যভাবে একই কাজ করেছিল। প্রশ্নটা তাই এই নয় যে কেউ অভিযোগ তোলেনি। প্রশ্নটা হল, সেই অভিযোগ কেন প্রধান আখ্যান হয়ে দাঁড়াল না, রাষ্ট্রীয় দমনের পর কেন আর ফিরে এল না, এবং যে মাধ্যমটির নাগাল সবচেয়ে বেশি ছিল, সেই সিনেমা কেন সেটা তুলে নিল না।

    এই ধরনটা শুধু সিনেমার ছিল না, গোটা সংস্কৃতির ছিল। বাংলার শিল্পীরা যন্ত্রণাটাকে ঔপনিবেশিক জবাবদিহির ভাষায় না ফেলে শ্রেণির ভাষায় ফেলেছেন। যে নীতিকাঠামো দুর্ভিক্ষ তৈরি করেছিল, যা পাঁচ সপ্তাহে দেশভাগের রেখা টেনেছিল এমন একজনকে দিয়ে যিনি আগে কোনওদিন ভারতে আসেননি, যা এক শতাব্দী ধরে বাংলার শিল্পক্ষমতা শুষে নিয়েছিল, সেটা রইল পটভূমিতে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম বাঙালি বড় হল নিজেদের দুঃখকে অভ্যন্তরীণ শ্রেণিশোষণ হিসেবে বুঝে, আর সেই বাইরের যন্ত্রটা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা ছাড়াই যা ওই শোষণের শর্ত তৈরি করে দিয়ে চলে গিয়েছিল।
    কথাটা এই নয় যে এই শিল্পীদের প্রচারপুস্তিকা বানানোর দায় ছিল। কথাটা হল, বাংলার হাতে আসা সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যমটি, পৃথিবীর অন্যতম সেরা কারিগরদের হাতে থেকেও, দায় কার, এই প্রশ্নের দিকে কোনওদিন ঘোরানো হল না।
    সত্যজিৎ রায়: কৃতিত্ব এবং একটি বড় হারানো সুযোগ
    এই সময়ের আলোচনা সত্যজিৎ রায়ের মুখোমুখি না হয়ে সম্পূর্ণ হয় না। তিনি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রকারদের একজন, এবং সেই মর্যাদা তাঁর প্রাপ্য, কোনও শর্ত ছাড়াই। ঠিক সেই কারণেই প্রশ্নটা বৈধ: সেই উচ্চতা দিয়ে তিনি কী করলেন। রায় বাংলাকে অতুলনীয় সংবেদনশীলতায় নথিবদ্ধ করেছেন। যা তিনি প্রায় করেননি, তা হল নিজের আন্তর্জাতিক মঞ্চটি ব্যবহার করে বাংলার সঙ্গে যা করা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে মামলাটি লড়া। তাঁর সময়ের আর কোনও বাঙালির এমন শ্রুতি ছিল না।
    তিনি তাঁর দুর্ভিক্ষের ছবিটি করেছিলেন। অশনি সংকেত একটি মানবিক ও সুন্দর কাজ, এবং একইসঙ্গে ওই ধরনটির সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ। ছবির নৈতিক মনোযোগ খিদে কীভাবে মর্যাদা, জাত আর একটি দাম্পত্যকে বদলে দেয় তার ওপর, এমন সংযমে করা যা খুব কম পরিচালক পারতেন। কিন্তু যে যন্ত্র খিদেটা তৈরি করেছিল, সেটা পুরোপুরি পর্দার বাইরে থেকে যায়। একজন দর্শক ছবিটা দেখে উঠে যেতে পারেন এটুকুও না জেনে যে তিনি যা দেখলেন তাতে কোনও সরকারের কোনও সিদ্ধান্তের ভূমিকা ছিল।
    এটা একটি বৈধ শৈল্পিক সিদ্ধান্ত, এবং কাজটি অসামান্য। কিন্তু ঠিক যে মুহূর্তে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলার সবচেয়ে শক্তিশালী কণ্ঠ বাংলার সবচেয়ে বড় আধুনিক বিপর্যয়ের দিকে ফিরল, তিনি এমন একটি ছবি করলেন যা সেই দর্শকের কাছে কিছুই দাবি করল না যার কাছে দাবি করাটা সবচেয়ে জরুরি ছিল। তিনি অভিযোগের বদলে অন্তর্জগৎ বেছে নিলেন, আর সেই শূন্যস্থান ভরাট করার মতো তুলনীয় শ্রুতি নিয়ে আর কেউ ছিল না।
     
    যাঁদের উদযাপন হল আর যাঁদের ভুলে যাওয়া হল
    বাংলা তার কিছু নায়ককে উদযাপন করেছে। ১৮৯৩ সালে শিকাগোয় বিবেকানন্দর ভাষণ ছিল পশ্চিমের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে দাঁড়িয়ে একটি সভ্যতার আত্মঘোষণা। তিনি যাকে মানুষ-গড়া বলতেন, একটি তেজি, স্বনির্ভর, বাস্তবে নিযুক্ত সমাজ গড়ার সেই ডাক ছিল ঠিক সেই প্রাতিষ্ঠানিক শক্তির ডাক যা বাংলার দরকার ছিল। তাঁকে উদযাপন করা হয়েছে; ডাকটিকে প্রতিষ্ঠানে পরিণত না করে নান্দনিক করে তোলা হয়েছে। আশ্রম বেড়েছে; কারখানা বাড়েনি।
    শ্রীঅরবিন্দ আইসিএসের ঝলমলে কেরিয়ার ছেড়েছিলেন, আলিপুর বোমার মামলায় কারারুদ্ধ হয়েছিলেন, এবং পন্ডিচেরিতে গিয়ে ভারতীয় সভ্যতার সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী দার্শনিক পুনর্গঠনগুলোর একটি নির্মাণ করেছিলেন। তাঁকে প্রথম শ্রেণির ঋষি হিসেবেই গ্রহণ করা হয়েছে। যা সঞ্চারিত হয়নি তা হল তাঁর জীবনপথের ইঙ্গিতটি: ঔপনিবেশিক কাঠামোকে বৌদ্ধিকভাবে হারিয়ে দেওয়ার রসদ বাংলার ভিতরেই ছিল।
    সুভাষচন্দ্র বসুর ক্ষেত্রটি সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি এসেছিলেন ঠিক সেই ভদ্রলোক শ্রেণি থেকে, যে শ্রেণি ব্রিটিশ মাপকাঠির কাছে মাথা নোয়াত আর নিজের লোকদের করুণা করত। তিনি নোয়াননি। দুবার কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচিত হন, দ্বিতীয়বার ১৯৩৯-এ গান্ধীর নিজের প্রার্থীকে হারিয়ে, তারপর পদ্ধতিগত কৌশলে কোণঠাসা হন, এবং শেষে স্বাধীনতা আন্দোলনের সবচেয়ে দুঃসাহসিক জুয়াটি খেলেন। বাংলায় সুভাষ পূজিত। কিন্তু তাঁর কর্মজীবনের শিক্ষাগুলো, শৃঙ্খলা, সংগঠন, আর ক্ষমতার সঙ্গে আপস না করে মুখোমুখি হওয়ার ইচ্ছা, বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতি নেয়নি।
    তএঁদের সবাইকেই গ্রহণ করা হয়েছে প্রতিভা বা সাধু হিসেবে, এমন একটি অবস্থানের উদাহরণ হিসেবে নয় যা সবার জন্য খোলা। তাঁদের মাথা না নোয়ানোটা দূর থেকে প্রশংসিত হয়েছে, রীতি হিসেবে গৃহীত হয়নি।
     
    এই নামগুলোর বাইরে পড়ে আছেন প্রতিষ্ঠান-নির্মাতাদের একটি দল, যাঁদের অবহেলা বাঙালির ইতিহাসে সাংস্কৃতিক সঞ্চারণের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতাগুলোর একটি।
    মহেন্দ্রলাল সরকার ১৮৭৬ সালে ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স প্রতিষ্ঠা করেন, এশিয়ার প্রথম বিশুদ্ধ বিজ্ঞানগবেষণার প্রতিষ্ঠান। উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী ১৯২২ সালে ইউরিয়া স্টিবামিন দিয়ে কালাজ্বরকে পরাস্ত করেন, এবং প্রাপ্য নোবেল পাননি। প্রফুল্লচন্দ্র রায় একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের রসায়নবিদ আর জাতীয়তাবাদী শিল্পোদ্যোগী; বেঙ্গল কেমিক্যালস আজও তার স্মারক। মেঘনাদ সাহার আয়নন তত্ত্ব জ্যোতির্পদার্থবিদ্যা বদলে দিয়েছে। সত্যেন্দ্রনাথ বসুর নামে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের মৌলিক কণার অর্ধেকের নাম। প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশ ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট গড়েন এবং স্বাধীন ভারতের পরিকল্পনা-কাঠামোকে আকার দেন। জগদীশচন্দ্র বসু বেতারবিজ্ঞান আর উদ্ভিদশারীরবিদ্যা, দুটিতেই ঐকমত্যের কয়েক দশক আগে কাজ করেছেন। আশুতোষ মুখোপাধ্যায় লাগাতার ঔপনিবেশিক বাধার বিরুদ্ধে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাপ্রতিষ্ঠানে দাঁড় করিয়েছেন। রাজেন্দ্রনাথ মুখার্জি আর বীরেন মুখার্জি উপমহাদেশ জুড়ে শিল্প গড়েছেন। অমিয়কুমার দাশগুপ্ত ছিলেন আন্তর্জাতিক মাপের অর্থনীতিবিদ।
    এঁরা নিছক সফল ব্যক্তি ছিলেন না। এঁরা প্রতিষ্ঠান-নির্মাতা, যাঁরা বুঝেছিলেন স্থায়ী অগ্রগতির জন্য এমন সংগঠন দরকার যা কোনও একক মানুষের আয়ু ছাড়িয়ে টিকে থাকে। বৌদ্ধিক উৎকর্ষের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক নির্মাণ মেলানোর এই আদর্শটি বাংলার সংজ্ঞাসূচক উত্তরাধিকার হিসেবে সঞ্চারিত হয়নি। বরং নায়কতালিকা সংকুচিত হয়ে এসে ঠেকেছে কয়েকটি নামে, যার শীর্ষে একক মহীরুহ রবীন্দ্রনাথ।
    একই সংকোচন গবেষণাগারের বাইরেও ঘটেছে। বাংলার সংস্কার আর সাহিত্যের ঐতিহ্য যে একটিমাত্র নামে গুটিয়ে আনা হয়, তার চেয়ে অনেক প্রশস্ত। রামমোহন আর বিদ্যাসাগর শুধু সংস্কারক ছিলেন না, ছিলেন স্কুল, ছাপাখানা আর পাঠ্যবইয়ের নির্মাতা; বর্ণপরিচয় বাংলা ভাষায় লেখা আর যেকোনও বইয়ের চেয়ে বেশি শিশুকে বাংলা শিখিয়েছে। মাইকেল মধুসূদন অমিত্রাক্ষরে বাংলা কবিতার খোলস ভেঙে দিয়েছেন, আর বঙ্কিমচন্দ্র আধুনিক ভারতীয় উপন্যাসের জন্ম দিয়েছেন। শরৎচন্দ্র ছিলেন তাঁর শতাব্দীর সবচেয়ে পঠিত বাঙালি লেখক, আর ইংরেজ সরকার তাঁর পথের দাবী রাজদ্রোহের অভিযোগে বাজেয়াপ্ত করেছিল। কাজী নজরুল ইসলাম যা লিখেছিলেন তার জন্য জেলে গিয়েছিলেন, এবং এটাই এই প্রবন্ধের সবচেয়ে জরুরি পাল্টা উদাহরণ: অভিযোগটা তোলা হয়েছিল, আর রাষ্ট্র তার জবাব দিয়েছিল কারাগার দিয়ে। বিভূতিভূষণ, তারাশঙ্কর আর মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় গ্রাম আর নদীকে লিখেছেন এমন বাস্তবতায় যাতে রোমান্সের দরকার হয়নি। জীবনানন্দ বাংলা পঙ্‌ক্তিকে নতুন করে গড়েছেন। বেগম রোকেয়া ১৯০৫ সালে সুলতানার স্বপ্ন লিখেছেন এবং তারপর মুসলিম মেয়েদের জন্য স্কুল খুলেছেন, যে সমন্বয়ের কথাই এই প্রবন্ধ বারবার বলছে। কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায় ভারতের প্রথম মহিলা স্নাতকদের একজন এবং পাশ্চাত্য চিকিৎসায় প্রথম ভারতীয় মহিলা চিকিৎসক। রাধানাথ শিকদার পৃথিবীর উচ্চতম শৃঙ্গের উচ্চতা মেপেছিলেন, আর তাঁকে কেউ মনে রাখে না। বিধানচন্দ্র রায়, চিকিৎসক এবং মুখ্যমন্ত্রী, শূন্য থেকে দুর্গাপুর, কল্যাণী আর হাবড়া গড়েছিলেন; বাংলায় সেটাই শেষবার কেউ পরিকল্পনা করে শহর বানিয়েছে।
    খেলাধুলো একই গল্প বলে, সবচেয়ে বিশুদ্ধ চেহারায়। শৈলেন মান্না ১৯৪৮-এর অলিম্পিকে খালি পায়ে ভারতের নেতৃত্ব দিয়েছেন, আর ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তাঁকে পৃথিবীর সেরা দশ অধিনায়কের একজন হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। চুনী গোস্বামী ১৯৬২-র এশিয়ান গেমসে ভারতকে ফুটবলে সোনা এনে দিয়েছেন, আবার ক্রিকেটে বাংলাকে রঞ্জি ফাইনালে তুলেছেন; এই জোড়া কীর্তি পৃথিবীতে প্রায় কারও নেই। আরতি সাহা ১৯৫৯ সালে ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে এশিয়ার প্রথম মহিলা হন। মিহির সেন ১৯৫৮-তে চ্যানেল পেরোন, আর তারপর এক বছরের মধ্যেই পক প্রণালী, জিব্রাল্টার প্রণালী, দার্দানেলিস, বসফরাস আর পানামা খাল সাঁতরে পার হন, যা আজও কেউ পুনরাবৃত্তি করতে পারেননি।
    এঁরা প্রত্যেকেই স্বনির্মিত, এবং এটা বাংলার প্রশংসা নয়। এঁদের তৈরি করেছে প্রতিভা আর জেদ, কোনও ব্যবস্থা নয়; আর এঁদের পরে আর একজনও তৈরি করার মতো কোনও ব্যবস্থা গড়া হয়নি। মিহির সেন ব্যারিস্টারও ছিলেন এবং রেশমের রপ্তানি ব্যবসা চালাতেন। সত্তরের দশকের বাংলায় সেই ব্যবসা ভেঙে পড়ে, আর যে মানুষটি এক বছরে পাঁচটি সমুদ্র পেরিয়েছিলেন তিনি প্রায় নিঃস্ব অবস্থায় মারা যান। বাংলা সাঁতারুকে উদযাপন করেছিল। ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কিছু শেখেনি।
    রবীন্দ্রনাথ আধুনিক যুগের শ্রেষ্ঠ মনগুলোর একজন। কিন্তু একজন মানুষ, তিনি যত মহৎই হোন, একটি সভ্যতার আত্মপ্রতিমার গোটা ভার বইতে পারেন না। এই সংকোচনে সমাজটি সেই বৈচিত্র্যময় আদর্শগুলো পেল না যা তার দরকার ছিল: বিজ্ঞানী, শিল্পোদ্যোগী, প্রতিষ্ঠান-নির্মাতা, প্রশাসক। রবীন্দ্রনাথ উদযাপন করেছেন গ্রাম, কবিতা আর অন্তর্জীবনকে। বাংলার দরকার ছিল গবেষণাগার, কারখানা, আদালত আর হিসাবের খাতাকেও উদযাপন করা।
     
    সহযোগিতা করতে না হওয়ার দাম
    বাংলার বদ্বীপ পৃথিবীর উর্বরতম ভূখণ্ডগুলোর একটি, তিনটি বড় নদীর পলিতে পুষ্ট এবং মাছে সমৃদ্ধ। বড় মাপের সামাজিক সহযোগিতা সাধারণত প্রয়োজন থেকে জন্মায়, আর যেসব সমাজকে টিকে থাকতে নিবিড় সমন্বয় করতে হয় তারা শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান আর ঘন সামাজিক পুঁজি গড়ে তোলে। বাংলার প্রাচুর্য, তার সব আশীর্বাদ সত্ত্বেও, হয়তো সেই তাড়নাটাই কমিয়ে দিয়েছিল।
    যুক্তিটাকে নিয়তিবাদে নিয়ে যাওয়া ঠিক হবে না। মহারাষ্ট্র, গুজরাট আর পঞ্জাবও উর্বর ছিল এবং অনেক শক্তিশালী বণিকসংস্কৃতি তৈরি করেছে। ভূগোল অবদান রাখে, ব্যাখ্যা দেয় না। পূর্ণতর ব্যাখ্যায় যোগ করতে হবে ঔপনিবেশিক বাংলার রাজনৈতিক অর্থনীতি: ১৮৫৭-র পর শিল্পবিনাশ, হোম চার্জেসের মাধ্যমে পুঁজির নিষ্কাশন, বস্ত্রশিল্পের ধ্বংস, এবং ঔপনিবেশিক অভিকর্ষকেন্দ্র সরার সঙ্গে পৃষ্ঠপোষকতার পশ্চিমমুখী স্থানান্তর। প্রাচুর্যের সঙ্গে নিষ্কাশন মিলে সেই সহযোগিতার প্রয়োজন ও সক্ষমতা দুটোই কমিয়ে দিয়েছিল, যা একটি সহনশীল সমাজ গড়ে তুলতে পারত।
     
    দেশভাগ: প্রথম অঙ্গচ্ছেদ
    ১৯৪৭ সালে বাংলাকে দু-টুকরো করা হল। সিরিল র‍্যাডক্লিফ, যিনি নিয়োগের আগে কোনওদিন ভারতে আসেননি এবং পাঁচ সপ্তাহে কাজ শেষ করেন, যে রেখা টানলেন তা জনগোষ্ঠী কেটে দিল, পরিবার ভাগ করল, নদীব্যবস্থা দু-ভাগ করল, আর শিল্পকে তার কাঁচামালের অঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন করল।
    কম আলোচিত হল পশ্চিমবঙ্গের ওপর এর সামাজিক পরিণতি। যে হিন্দু মধ্যবিত্ত অখণ্ড বাংলায় পেশাগত ও বাণিজ্যিক জীবনে প্রাধান্য রাখত, তারা কলকাতায় এল সর্বস্বান্ত ও উত্তেজিত অবস্থায়, পুঁজি বা প্রাতিষ্ঠানিক ভিত ছাড়াই। এসেছিল ক্ষোভ নিয়ে, যা ন্যায্য ছিল, এবং যা তাৎক্ষণিকভাবে উপলব্ধ ছিল সেইসব রাজনীতির জন্য যারা স্পষ্ট খলনায়ক আর সহজ ব্যাখ্যা দিতে পারত।
    কমিউনিস্ট পার্টির শিকড় বাংলায় ১৯৪৭-এর অনেক আগেই গভীর, বিশের দশকের সংগঠন থেকেই। দেশভাগ বামপন্থী রাজনীতি তৈরি করেনি; করেছে একটি বিশাল নতুন উদ্বাস্তু জনগোষ্ঠীকে উত্তেজিত করা এবং সংগঠিত বামকে এমন একটি নির্বাচনী ভিত্তি দেওয়া যা তার আগে ছিল না। বাম এই উত্তেজনা তৈরি করেনি; ঔপনিবেশিক নীতি ও তার পরিণাম সেটা তৈরি করেছিল, আর বাম দক্ষতার সঙ্গে তার সুযোগ নিয়েছে।
    দেশভাগের আখ্যানও, মন্বন্তরের আখ্যানের মতোই, বাংলার বুদ্ধিজীবী শ্রেণি কোনওদিন সম্পূর্ণভাবে বুঝে ওঠেনি। যে রাগ দেশভাগের স্থপতিদের দিকে যেতে পারত, তা আরেকবার ঘুরে গেল ভিতরের লক্ষ্যের দিকে। যে সমাজ নিজের ক্ষতের নাম স্পষ্ট করে বলতে পারে না, সে সেই ক্ষত সারাতেও পারে না।
     
    এটি তিন পর্বের প্রবন্ধের প্রথম পর্ব। দ্বিতীয় পর্ব ষাটের দশক থেকে আজ পর্যন্ত দীর্ঘ ক্ষয়ের হিসেব নেবে: রাজনৈতিক দখল, হাওড়া ও হুগলির শিল্পাঞ্চলের পতন, একদা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানগুলোর ভিতর থেকে ফাঁকা হয়ে যাওয়া, এবং যে নিষ্ক্রমণ এই তিনটিকেই গভীর করেছে। তৃতীয় পর্ব আসবে সেই প্রশ্নে যেটাই শেষ পর্যন্ত আসল, অর্থাৎ কী করা যায়, এবং যুক্তি সাজাবে সেই বদলের পক্ষে যা বাংলা কোনওদিন করেনি: ভোগের সংস্কৃতি থেকে নির্মাণের সংস্কৃতিতে।
     
    সূত্র প্রসঙ্গে
    এই প্রবন্ধে বিতর্কিত দাবি আছে, এবং সেগুলো কোথা থেকে আসছে তা দেখার অধিকার পাঠকের। তালিকায় সেই কাজও আছে যা যুক্তিটিকে সমর্থন করে, এবং সেই কাজও যা তাকে চ্যালেঞ্জ করে। যে যুক্তি তার সেরা বিরোধিতার সামনে পরীক্ষিত হয়নি, সেটা লেখার মতো যুক্তি নয়।
     
    মন্বন্তর প্রসঙ্গে
    Amartya Sen, Poverty and Famines (Oxford, 1981). অধিকারের বিপর্যয়, খাদ্যাভাব নয়।
    Famine Inquiry Commission, Report on Bengal (1945). সমকালীন সরকারি তদন্ত।
    Madhusree Mukerjee, Churchill's Secret War (Basic Books, 2010). লন্ডনের ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্তের পক্ষে সবচেয়ে শক্ত নথিভিত্তিক যুক্তি।
    Janam Mukherjee, Hungry Bengal (Oxford, 2015).
    Cormac O Grada, Famine: A Short History (Princeton, 2009). চরম দাবিতে সংশয়ী।
    Tirthankar Roy, The Economic History of India. জোগানের ধাক্কা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার যুক্তি।
    The Churchill Project, Hillsdale College. চার্চিলের সংগঠিত সপক্ষ যুক্তি।
    Leo Amery, The Empire at Bay: The Leo Amery Diaries 1929-1945 (Hutchinson, 1988).
    Vimal Mishra et al., 'Drought and Famine in India, 1870-2016', Geophysical Research Letters 46 (2019).
    সিনেমা ও সাংস্কৃতিক স্মৃতি প্রসঙ্গে
    Bhaskar Sarkar, Mourning the Nation: Indian Cinema in the Wake of Partition (Duke, 2009).
    চিত্তপ্রসাদ, ক্ষুধার্ত বাংলা (১৯৪৩), যা ঔপনিবেশিক সরকার বাজেয়াপ্ত করে পুড়িয়ে দেয়; জয়নুল আবেদিনের রেখাচিত্র; সুনীল জানার আলোকচিত্র।
    দেশভাগ, ভদ্রলোক ও ঔপনিবেশিক অর্থনীতি প্রসঙ্গে
    Joya Chatterji, Bengal Divided (Cambridge, 1994) এবং The Spoils of Partition (Cambridge, 2007).
    Prafulla K. Chakrabarti, The Marginal Men (Naya Udyog, 1990).
    Tithi Bhattacharya, The Sentinels of Culture (Oxford, 2005).
    Amiya Kumar Bagchi, Private Investment in India 1900-1939 (Cambridge, 1972).
    ঔপনিবেশিক নিষ্কাশন নিয়ে উৎসা পট্টনায়ক, এবং পাল্টা যুক্তি Tirthankar Roy, How British Rule Changed India's Economy.

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    প্রথম পর্ব
  • আলোচনা | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৪৬২ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Debanjan | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:২৪742455
  • দেবজিৎদা, আবার খুবই খেটে খুবি ভালো কাজ করেছেন আপনি l খুবই প্রাসঙ্গিক কথাও বলেছেন l. রণজিৎ রায় The Agony of West Bengal (1971) এই বইটা লিখেছিলেন post-partition বাংলার আর্থিক পতনের ইতিহাস নিয়ে l এই বইটাতে পরিষ্কার বলা হয়েছিলো যে post-partition বাংলা, দিল্লি থেকে যেসব আর্থিক প্রণোদনা পেয়েছে তা post-partition পাঞ্জাবের থেকে qualitatively ও quantitatively অনেকটাই কম l এটি কি বাঙালীর চামড়া ফর্সা রঙের না হবার জন্যই ? এছাড়া আপনি শিল্প ও সিনেমা নিয়ে যা বলেছেন সেপ্রসঙ্গে বলি বাঙালির post-partition সিনেমা শিল্প মূলতঃ আর্থিক অভাবে খুবই ক্ষতিগ্রস্ত এবং আর্থিক স্বনির্ভরতা না থাকলে কোনো কিছুই করা সম্ভব নয় l এপ্রসঙ্গে এটাও বলাই যায় এদেশে partition বা organized mass violence জাতীয় বিতর্কিত বিষয় নিয়ে নিজের কথা সিনেমার মধ্য দিয়ে মন খুলে বলা চিরকালই খুবই কঠিন l দেখুননা ১৯৪৮ সালের হায়দরাবাদে operation polo তে অনেক নিরীহ মানুষের মৃত্যু হয় এনিয়ে এতো অর্থ খ্যাতি প্রতিপত্তি সম্পন্ন তেলুগু সিনেমা শিল্প কটি সিনেমা করেছে ? যে ইন্ডাস্ট্রি বাহুবলী বা পুস্পা বা কান্তারা বা টক্সিক জাতীয় সিনেমা তৈরী করতে পারে তারা ১৯৪৮ সালের নিজেদের গণহত্যার কথা কেন বলতে পারে না ? ১৯৬২ সালের ভারত চীন যুদ্ধের পরে কোলকাতা থেকে ভারতে জন্মানো চীনা নাগরিকদের শুধুমাত্র চীনা হবার কারণে রাজস্থানের দেওলী কন্সেন্ট্রেশন ক্যাম্পে তৎকালীন ভারত সরকার নির্বাসন পাঠায় এই নিয়ে কটা সিনেমা বানানো হয়েছে ? ১৯৮৩ সালের অসমের নেলী গণহত্যা, ১৯৮৪ সালের বা তার পরবর্তী anti-sikh violence নিয়ে বা ২০০২ গুজরাট নিয়ে কটা সিনেমা দেখেছি আমরা ? এদেশে চিরকালই নিজের মন খুলে বিতর্কিত বিষয়ে কথা বলা খুবই কঠিন l
  • Debajit Ghosh | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:২৫742458
  • দেবাঞ্জন,
    মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আপনি একসঙ্গে অনেকগুলো ঘটনা মিলিয়ে ফেলেছেন, যার প্রত্যেকটির জন্যই আলাদা করে সূক্ষ্ম বিচার আর আলাদা উত্তর দরকার। ওগুলো নিয়ে বরং আলাদাভাবেই আলোচনা করা উচিত। পরে কোনো একসময় করা যাবে।
    তবে এই লেখার বিষয়ে থাকি। ১৯৪৭-এর পর ইংরেজ চলে গিয়েছিল, আর স্বাধীন ভারতে লন্ডনকে, বা তৎকালীন প্রশাসকদের, দোষ দেওয়ায় কারও পেশাগত ঝুঁকি কিছুই ছিল না। বরং ওটাই ছিল সবচেয়ে নিরাপদ নিশানা। আর পঞ্চাশের দশকের বাংলা তখনও দেশের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক কেন্দ্র, তখন ভালো ছবিও হচ্ছিল, অতএব টাকাও বাধা ছিল না।
    এই কারণেই নীরবতাটা ধাঁধার মতো লাগে। ভয় দিয়েও ব্যাখ্যা হয় না, টাকা দিয়েও নয়। তাই আমার মনে হয়, উত্তরটা আছে আমরা গল্পটাকে কোন কাঠামোয় বসিয়েছিলাম তার মধ্যে, আমরা কী বলতে ভয় পেয়েছিলাম তার মধ্যে নয়।
  • সত্যেন্দু সান্যাল | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১:৫০742470
  • দেবজিৎ বাবু,
    আপনি এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন বিষয়ের অবতারনা করেছেন যা আমার মতো (স্বাধীনতার বর্ষে জন্মানো, পঞ্চাশ বছরের বেশী বাংলার বাইরে কাটানো) বাঙালির মনের প্রশ্ন।
    বিষয়টি বহুমাত্রিক, কার্য্য-কারন সম্পর্কের অনুসন্ধান জটিল।
    সঙ্গত কারনেই আপনার অনুসন্ধান বিস্তৃত না করে কয়েকটি বিষয়ে সীমাবদ্ধ রেখেছেন।
    যেমন ক্রমবর্দ্ধমান ধার্মিক বিভাজন আপনার যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ন মনে হয়নি।
    ন্যারেটিভ নির্মান বরাবরই এক চিত্তাকর্ষক বিষয়। তবে "ক্ষত"-র diagnosis বিষয়ে আপনার "যে সমাজ নিজের ক্ষতের নাম স্পষ্ট করে বলতে পারে না, সে সেই ক্ষত সারাতেও পারে না।" মতামতটি অব্যর্থ।
    আপনার পরবর্ত্তী দুই পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।
    নমস্কারান্তে
  • Debanjan | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৬:০৭742476
  • দেবজিৎদা, আপনি বলেছেন যে পঞ্চাশের দশকে অন্ততঃ আর্থিক সমস্যা বাঙালি সিনেমায় সেভাবে ছিলোনা যেহেতু সেসময়ে বাংলার অর্থনীতি তুলনামূলক ভাবে শক্তিশালী ছিলো কিন্তু আমার হঠাৎই এপ্রসঙ্গে মনে পড়ে গেলো যে এই গুরুচন্ডালিতেই সৈকতবাবু স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলা সিনেমাতে সমস্যা নিয়ে বলেছিলেন যে পোস্ট পার্টিশন পশ্চিম বাংলাতে প্রচুর বাঙালী মালিকানাধীন ব্যাংক ফেল করলো (সময়কাল হয়তো পঞ্চাশ বা ষাটের দশকেই হবে ) এবং এর ফলে পশ্চিম বাংলার সিনেমাসৃষ্টি নিয়ে মূলধনের খুব সমস্যা হয়ে পড়ে l সৈকতবাবুর লেখাটা গুরুচন্ডালিতেই দুই বা তিন বছর আগেই বেরিয়েছিলো কিন্তু খুঁজতে সময় লাগবে l দেখি পেলেই দেব l
  • সত্যেন্দু সান্যাল | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৮:১২742483
  • Debanjan,
    I had read this সৈকতবাবুর লেখাটা you mention.
    It was certainly very detailed and interesting.
    But I think it missed out on some very interesting developments.
    One was the influx of cinema related talent from Lahore.
    Another was the boom in Hindi cinema produced in the South.
    Congress ruled Tamil Nadu between 1947 to 1967 In many of these years South produced Hindi films OUTNUMBERED the Bollywood output.
    Of course, with DMK coming to power and Hindi Hatao, things changed.
    But still, cinema from South did not face a similar অবক্ষয়।
    Just my two paisa opinion.
  • Debanjan | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:১৮742484
  • @ সত্যেন্দুবাবু, I am desperately looking for the url. "the boom in Hindi cinema produced in the South" এর বিষয়েও অনেক জানবার ইচ্ছা রইলো l
  • সত্যেন্দু সান্যাল | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:৫৬742485
  • দেবাঞ্জন বাবু,
    এই মাদ্রাজি অভিযানের শুরু ১৯৪৮ সালে নির্মিত "চিত্রলেখা"।
    AI generated তথ্য ~
     
    During the 1950s and 1960s, South Indian studios—principally based in Madras (now Chennai)—produced a vast number of Hindi-language films, often rivaling or exceeding Bombay's output for specific markets, driven by massive commercial success and state-of-the-art studio infrastructure. [1]

    The Rise of Madras as a Production Hub
    • The Chandralekha Turning Point: S.S. Vasan’s epic Tamil film Chandralekha (1948) became a massive nationwide hit. Its unprecedented financial success inspired Madras studios to make lavish, pan-Indian films. [1, 2, 3]
    • The Hollywood of the East: Kodambakkam in Madras emerged as a massive production cluster housing major state-of-the-art studios like Gemini Studios, AVM Productions, and Vijaya Vauhini Studios. [1, 2]

    Why They Produced Hindi Films
    • Expanding the Market: South-based moguls like S.S. Vasan and A.V. Meyyappan realized that remaking their successful Tamil and Telugu films in Hindi allowed them to tap into the lucrative North Indian and nationwide box office. [1, 2]
    • Direct Remakes: Many iconic 1950s and 1960s Hindi hits—such as Paigham (1959), Ram Aur Shyam (1967), and Pyaar Kiye Jaa (1966)—were direct Hindi remakes or adaptations of proven South Indian blockbusters. [1, 2, 3]
    • Logistical Synergy: Bombay-based actors, playback singers, and music directors frequently flew to Madras to work on these bilingual or direct Hindi productions, making Kodambakkam a fully functional alternate capital for Hindi cinema production. [1]
    আরো তথ্য এইখানে ~
     
    Indian film studios during the studio era
    Titles are generated by AI from Meta
    Portrait of A.V. Meiyappan is displayed on the wall of “National Museum of Indian Cinema “ at Mumbai under the section of “The rise of studio system “.
    The studio era that had emerged during the silent period, reached its peak as the 'talkie' era ripened until the Second World War (1939-1944), which changed the course of Indian film history. Some of the major film studios / companies were Imperial, Sagar, Krishna, Sharada, Ranjit, Saroj (all Mumbai-based); Prabhat (Pune); Madan, Radha, Aurora (Kolkata), which were launched during 'silent' time, while New Theatres emerged in the early talkie era. New studios such as Bombay Talkies, Prakash, Wadia, Paramount, Minerva etc. were established in Mumbai, while several prominent studios including Saraswati Cinetone, Kohlapur Cinetone, Shalini and Huns pictures came up in Pune and Kolhapur. In South, some of the major studios were AVM, Gemini, Prasad, Pakshiraja, Vauhini and others. Madras United Artists Corporation was an independent banner. Traditionally, directors, technicians, artists and other staff were on the payroll of the studio they worked for. Some of these studios were really giant establishments. New Theatres of Kolkata, at its peak, had more than two hundred people on its payroll.
     
    No photo description available.
     
     
     
     
    • সত্যেন্দু সান্যাল | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:১১742486
    • দেবাঞ্জন বাবু,
      নীচের আখ্যানটি সন্দীপন দেব এর একটি লিখন থেকে, "পথের পাঁচালি" প্রসঙ্গে। Released on 24th August, 1955.
      মাদ্রাজি ভদ্রতা।
       
      The film was contracted to run for six weeks in a Calcutta theatre chain. It was taken off when the contractual period ended, even though it was running to full houses, because the chain had been booked months ago to ­release ­renowned South Indian producer-­director S.S. Vasan’s Insaaniyat, starring Dilip Kumar and Dev Anand. The day after Pather Panchali was taken off, Ray was woken up by an early-­morning visitor. It was Vasan. Vasan told Ray that he had watched Pather Panchali the night before and “If I had known that this was the film Insaaniyat was going to replace, I would have certainly withheld its release. You have made a great film, sir.”
    • Debajit Ghosh | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২:৩৬742488
    • সত্যেন্দু বাবু,
      ধন্যবাদ, এবং বিশেষ করে ধন্যবাদ এই কারণে যে আপনি ওই বছরেই জন্মানো একজন মানুষ হিসেবে লেখাটি পড়েছেন।
      সাম্প্রদায়িক বিভাজনের প্রসঙ্গে আপনি ঠিক বলেছেন। ওটা এই লেখায় নেই, এবং সেটাকে আমি ঘাটতি হিসেবেই মেনে নিচ্ছি। বাদ দেওয়াটা সচেতন সিদ্ধান্ত ছিল, কারণ বিষয়টা এত বড় যে শুধু ছুঁয়ে গেলে তার প্রতি অবিচার হত। ১৯০৫ থেকে ১৯৪৬-এর কলকাতা আর নোয়াখালি পেরিয়ে আজ পর্যন্ত, ওর জন্য আলাদা একটা প্রবন্ধ দরকার।

      আর আমি নিজেকে সেটা লেখার যোগ্য বলেও মনে করি না। শুরুতেই বলেছি, আমার পর্যবেক্ষণ দাঁড়িয়ে আছে নানা সংস্কৃতির দিকে তাকিয়ে দেখার ওপর: তারা কীভাবে নিজেদের ইতিহাস রক্ষা করে ও উদযাপন করে, কীভাবে গল্প এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে পৌঁছয়, আর আমরা সম্ভবত কোথায় বাসটা মিস করেছি।

      একটা কথা যোগ করি, যাতে হয়তো আপনার আপত্তি আর আমার যুক্তি এক জায়গায় আসে। সাম্প্রদায়িক বিভাজন প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যাখ্যা নয়। এই লেখা যে ধরনটার কথা বলছে, ওটা তারই সবচেয়ে বড় উদাহরণ। মন্বন্তর আর দেশভাগের ক্ষোভ যাঁদের সিদ্ধান্তে সেসব ঘটেছিল তাঁদের দিকে যায়নি। সেটা ঘুরে গিয়েছিল পাশের বাড়ির দিকে। কিছুটা নিয়েছিল ব্যবসায়ী, বাকিটা প্রতিবেশী। দোষ প্রতিবারই বসেছে যে সবচেয়ে কাছে আর সবচেয়ে চোখের সামনে, তার ওপর; দূরের আর কম চেনা কারণের ওপর কখনও নয়।(We should have analysed the roles of Chruchill, frederick Lindemann, Lord Linlithgow, Lord Wavell, John herbert, Radcliffe etc and also other Indian leaders and administrators from other states. We should have also remembered our heroes who are institution builders and passed on to our next generation, that we missed)
      নমস্কারান্তে
    • Debajit Ghosh | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২:৫৪742490
    • দেবাঞ্জন, সত্যেন্দ্র বাবু, দুজনকেই ধন্যবাদ।
       
      ব্যাঙ্ক ফেল করার প্রসঙ্গটি ভালো, এবং এই খুঁটিনাটি আমার এতটা জানা ছিল না। কুমিল্লা ব্যাঙ্কিং কর্পোরেশন, নাথ ব্যাঙ্ক, বেঙ্গল সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক এবং আরও কয়েকটি ১৯৪৭ থেকে পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝির মধ্যে বসে যায়, আর বাংলায় সিনেমার টাকা ঠিক ওই পথ দিয়েই আসত।(আজ অনেক তা সার্চ করে পড়লাম ) প্রযোজনার পুঁজি সত্যিই কঠিন হয়ে পড়েছিল, সেটা আমি মানছি।

      তবে দুটো প্রশ্নকে আলাদা রাখতে চাই। পুঁজির অভাব ব্যাখ্যা করে কতগুলো ছবি হয়েছিল। যেগুলো হয়েছিল, সেগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি কেন ওইরকম ছিল, তা ব্যাখ্যা করে না। রায় পথের পাঁচালী বানিয়েছিলেন প্রায় বিনা পয়সায়, শেষ করেছিলেন রাজ্য সরকারের ঋণে, আর কান-এ পুরস্কার পেয়েছিলেন। বিমল রায় ১৯৫০-এ নিউ থিয়েটার্সের গোটা দল নিয়ে বম্বে চলে যান, আর তিন বছরের মধ্যে বানান দো বিঘা জমিন, উচ্ছেদ নিয়ে ছবি যেখানে কারণটা পর্দাতেই স্পষ্ট। সাহসের অভাব ছিল না, বিষয়ের অভাবও না।

      বৃহত্তর প্রসঙ্গে, পঞ্চাশের কলকাতায় তখনও উত্তরপাড়ায় হিন্দুস্তান মোটরস, আইটিসি, শ কর্পোরেশন, বেঙ্গল কেমিক্যালস, পাটের বলয়, আর বার্ন, জেসপ, ব্রেথওয়েট রেলের কামরা বানাচ্ছে। ১৯৫২-র ফ্রেট ইকুয়ালাইজেশন ক্ষতি করেছিল, অভাবও সত্যি ছিল, যেমন গোটা উন্নয়নশীল দুনিয়াতেই ছিল। তবু ছবি হচ্ছিল, গণনাট্য সংঘ রমরমা, পত্রিকা আর থিয়েটার জীবন্ত, আর বম্বের প্রতিভার একটা বড় অংশই বাঙালি।
      দক্ষিণের তুলনাটা বরং আমার পক্ষেই যায়। মাদ্রাজ শুধু ছবি বানিয়ে যায়নি। ওরা সিনেমাকে ব্যবহার করেছে নিজেদের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আত্মপ্রতিষ্ঠার জন্য। বাংলা সিনেমা দিয়ে বিদেশে পুরস্কার এনেছে। দুটোই কৃতিত্ব। কিন্তু একটাই একটা সমাজের আত্মবিশ্বাস গড়েছে।

      আমার বক্তব্য এটাই। আমরা নিজেদের নায়কদের জনপ্রিয় করিনি(কয়েক জন কে বাদ দিলে ), আমাদের অধপতনের Root Cause খুঁজিনি আর তার ভিতরেই কোথাও সমাজের আত্মবিশ্বাসটাকে মরে যেতে দেওয়া হয়েছে। অন্য সংস্কৃতিরা নিজেদেরটা কীভাবে রক্ষা করে দেখেছি বলেই মনে হয়, এটা হওয়ার দরকার ছিল না।
    • Debajit Ghosh | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩:০৩742491
    • One Disclaimer (একটি স্বীকারোক্তি)
      লেখাটি মূলত ইংরেজিতে লেখা এবং আমার সাবস্ট্যাকে প্রকাশিত। বাংলায় আনতে AI-এর সাহায্য নিয়েছি, তারপর নিজে মিলিয়ে দেখে কিছু সংশোধন করে এখানে প্রকাশ করেছি। ভাষার কোথাও আড়ষ্টতা থেকে গেলে সেই দায় আমার।
    • সত্যেন্দু সান্যাল | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০০:৪০742495
    • দেবজিৎ বাবু,
      সাম্প্রদায়িক বিভাজন বিষয়ে চর্চা না করাটা একদম সঠিক সিদ্ধান্ত। আপনার লিখনের অভিষ্ট অন্য।
      এবং এই বিষয়ে আপনার "যে সমাজ নিজের ক্ষতের নাম স্পষ্ট করে বলতে পারে না, সে সেই ক্ষত সারাতেও পারে না।" এই মন্তব্যটি জম্পেশ।
      সম্পূর্ন অন্য এক ট্যানজেন্টে গিয়ে বলি আজ বেলজিয়াম এর প্রধানমন্ত্রী (who was a professional historian earlier) প্রদত্ত ভাষনের কিছু অংশ শুনছিলাম। মাত্র সোয়া কোটি মানুষের দেশ, অথচ GDP-তে ২৫ নম্বরে। এবং তার ৮০% এক্সপোর্ট হয় পৃথিবীজুড়ে।
      এই প্রসঙ্গটি আনলাম এই প্রসঙ্গে কারন আপনি ১৯৫২-র ফ্রেট ইকুয়ালাইজেশন যে ক্ষতি করেছিল বলেছেন।
      ভেবে দেখুন বাংলার Sen Raleigh Cycles তখন একটি Premium Product.
      অথচ আজ দেখুন পাঞ্জাবের Hero Cycles পৃথিবীর সর্ব বৃহৎ Cycle Manufacturer, সেই ১৯৮৬ সাল থেকে। পৃথিবীর ৭০টি দেশে রপ্তানি হয়। AI কি বলছে ঐ মুঞ্জল ভাইদের বিষয়ে~
      1947: Following the partition of India, the family migrated to India and relocated their business base to Ludhiana, Punjab, facing extreme financial hardships.
      1956: With a small government license and a modest bank loan of ₹50,000, they officially established The Better India as Hero Cycles to manufacture complete bicycles. Initially producing just 25 to a few hundred cycles a day, output scaled rapidly due to a focus on durable, affordable local transport
      Sen Raleigh can be an interesting case study for অবক্ষয়। Root Cause.কোথায়?
      লিখুন, লিখুন, জমিয়ে লিখুন, অপেক্ষায় রইলাম।
    • Debanjan | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:৫০742496
    • @দেবজিৎদা ও সত্যেন্দুবাবু, ১৯৪৩ এর দুর্ভিক্ষ নিয়ে বলতে গিয়ে মনে পড়ে গেলো একটা কথা l ছিয়াত্তরের মন্বন্তর দুর্ভিক্ষ নিয়েও নবজাগরণের বাংলার মনীষীরা প্রায় কিছুই লেখেননি l বঙ্কিম আনন্দমঠে মোটামুটি মুসলমান রাজশক্তিকে দোষারোপ করেই ক্ষ্যামা দেন এব্যাপারে যেহেতু তার সরকারি চাকরী বাঁচাতে হতো তার উত্তরসূরিরাও তথৈবচ l আমার নিজের মনে হয় কোলকাতা বাবু কেন্দ্রিক বাংলা বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় সেভাবে গ্রামবাংলার "ছোটোলোক" গরীব মানুষের কষ্ট নিয়ে ভাবেনইনি l হয়তো তাদের ভাবার প্রয়োজনই হয়নি যেহেতু নিজেদের কিছুই হয়নি l অথচ সব মন্বন্তর দুর্ভিক্ষ ক্ষতি হত গ্রামবাংলার গরীব মানুষেরই l এই এস্পেক্ট টা নিয়েও আলোচনার অবকাশ আছে l
    • Debanjan | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:০৪742497
    • @দেবজিৎদা, "মাদ্রাজ শুধু ছবি বানিয়ে যায়নি। ওরা সিনেমাকে ব্যবহার করেছে নিজেদের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আত্মপ্রতিষ্ঠার জন্য। বাংলা সিনেমা দিয়ে বিদেশে পুরস্কার এনেছে। দুটোই কৃতিত্ব। কিন্তু একটাই একটা সমাজের আত্মবিশ্বাস গড়েছে।" বেশ ভালো বলেছেন l এটাই কি প্রমাণ করে যে তামিলদের sub-nationalism বোধ অনেক শক্তিশালী বাঙালীর তুলনায় ? আমার নিজের মনে হয় এটাই কারণ যে বাঙালী sub-nationalism সেভাবে গড়েই ওঠেনি l হয়তো এটাই সত্য যে বাঙালী ভদ্রলোক কিছু করে শুধুমাত্র নিজের বা বড়জোর নিজের মত কয়েকজনের স্বার্থের জন্যে, জাতির স্বার্থে নয় l এনিয়েও আপনি লিখুন l পারবেন আপনিই পারবেন l
    • মতামত দিন
    • বিষয়বস্তু*:
    • কি, কেন, ইত্যাদি
    • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
    • আমাদের কথা
    • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
    • বুলবুলভাজা
    • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
    • হরিদাস পালেরা
    • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
    • টইপত্তর
    • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
    • ভাটিয়া৯
    • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
    গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


    মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
    পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ক্যাবাত বা দুচ্ছাই মতামত দিন