

তুঁত গাছে সিল্ক আর অর্জুন গাছে তসর এই পর্যন্ত জানা ছিল, মানে হাতে কলমে দেখাও ছিল। এবারে দেখলাম অন্য জিনিস - কুল গাছে গালা। তাও আবার কত রকম। কুসুম বনে কুসুমী গালা। - ব্যাপারটা খুলেই বলি।
মাঠাবুরুকে টা টা করে আমরা চললাম ঝালদা। সেখানে আছেন জয়দেব মাহাতো। এই অদ্ভুত মানুষটি একজন সাধারণ লাক্ষাচাষী হিসেবে জীবন শুরু করে নিজের উদ্যম, কঠোর পরিশ্রম এবং অনুসন্ধিৎসা নিয়ে আজ এক বিরাট প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছেন। অসংখ্য রাষ্ট্রীয় পুরস্কারে ভরা তাঁর ঝুলি। অরণ্যচারী মানুষের সংগঠন তাঁর করায়ত্ত। বর্তমানে তিনি লাল মাটির জেলাগুলিতে প্রায় তিন হাজার লাক্ষাচাষীর মাস্টার ট্রেনার, ৩৫টি এমন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (SHG) সহায়ক, যারা লাক্ষা দিয়ে অলঙ্কার, কলমদানি, মোমদানির মতো নানা হস্তশিল্প তৈরি এবং বিক্রি করে। জয়দেব বাবুর উঠোনে পৌঁছে আমরা হতবাক। কেন অবাক হলাম, তা বলার আগে এখানে আমরা এলাম কীভাবে, সেই কথাটা আগে বলে নিই। যে লীডারশিপ কোর্সের অংশ হয়ে আমি এখানে এসেছি, সেই কোর্সের মাথায় একজন উপদেষ্টা আছেন - তিনি হলেন শর্মিলাদি। আমাদের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপিকা, অবসরের পরে এখন সারদা মিশনে ‘নীহার’ গড়ে তুলতে তাঁর সমস্ত জীবন নিয়োজিত করেছেন। সারা রাজ্য জুড়েই তাবড় আধিকারিকেরা তাঁর ছাত্র। কাজেই জয়দেব মাহাতোর বাড়ির উঠোনে আমাদের হাজির করা - এ হল তাঁর দুটো ফোনকলের ফলশ্রুতি।
জয়দেব মাহাতোর এই গ্রামের নাম পুটিডিহি - শিকরা পাহাড়ের পাদদেশে ভারি মনোরম এর চারিপাশ। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং ঝাড়খণ্ড অঞ্চলের শত শত গ্রামের নামের শেষে 'ডি' বা 'ডিহি' যুক্ত থাকে - যার মানে হল বসতি বা উঁচু জায়গা। আমাদের গাড়িগুলো যখন পিচ রাস্তা ধরে আসছিল, তখন আশপাশের টিলা আর পাহাড়ের সারি, চাষের খেত, বড় গাছ, ঝোপ ঝাড় সব যেন লুকোচুরি খেলছিল আমাদের সঙ্গে। গুগল ম্যাপে দেখেছিলাম, কাছাকাছি একটা দারুণ ঝর্না আছে, কিন্তু সময়াভাবে সেখানে আর যাওয়া হয়নি। একবারেই কি আর সব হয়? তাই বার বার আসতে হয়। যাই হোক এবারে যেটা দেখলাম, সেই সুযোগ তো আর পাবোনা। কারণ বেড়াতে আসা পর্যটকেরা কোন দিনই কোন জায়গার স্বরূপ চিনতে পারেনা।
আমার মনে হয়, কপালটা বরাবরই চওড়া। একবার চিরচেনা পুরীতে ফিল্ডে গিয়ে ধৌলি পাহাড়ে আমরা সম্রাট অশোকের শিলালিপি দেখতে গেলাম। বিকেলে পৌঁছেছি। দেখি শিলালিপির বিশাল পাথরটা কাচের বাক্সে বন্দী। কারণ কাচের আবরণ দেওয়ার আগে বহু পর্যটক ও স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েরা এই ২,০০০ বছরের পুরনো আদিম পাথরের গায়ে হাত দিত আর চক বা ধারালো জিনিস দিয়ে পাথরের গায়ে নিজেদের নাম বা নানাবিধ কথা লিখে খোদাই করা প্রাচীন ব্রাহ্মী লিপিটি নষ্ট করার চেষ্টা করত। তাই ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ (ASI) এটিকে কাচ ও লোহার গ্রিল দিয়ে ঘিরে ফেলেছে। কিন্তু আবছা আলোয় আমরা যে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিনা। গটমট করে গিয়ে কলেজের চিঠি দেখিয়ে আর ভূগোল বিভাগ বলাতেই একজন কর্মী এসে অন্য সব পর্যটকদের বিস্মিত চোখের সামনে চাবি তালা খুলে আমাদের এক এক করে প্রত্যেককে সেই কাচের খাঁচায় ঢুকে দেখে আসতে দিলেন। সেখানে ঢুকে কী যে মনে হচ্ছিল আমার, শিলালিপিটাকে জড়িয়ে ধরে বসে থাকতে ইচ্ছে করছিল অনন্তকাল। কিন্তু না হাত ছোঁয়ানো যাবেনা। "সব্বে মুনিসে পজা মমা" (সব মানুষই আমার সন্তান) - ইস্কুলে পড়া সেই বাণী স্বচক্ষে দেখলে মনটা একটু গলে তো যাবেই।
এখানে কথাটা মনে পড়ল, কারণ এই লাক্ষা বা জতু দিয়ে এক ভয়ানক ট্র্যাজেডি ধরা আছে মহাভারতের পাতায়। জতুগৃহে নিষাদদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছিল - আর্য রাজপুত্রের জীবনের বিনিময়ে অরণ্যচারী মানুষের জীবন নেওয়া হয়েছিল। ছোটবেলায় যখন জতুগৃহদাহের গল্প পড়েছিলাম, তখন সবচেয়ে খারাপ লেগেছিল একটা জিনিস। মৃত্যু মহাকাব্যে অনেক আছে - কিন্তু তার সঙ্গে মিশে আছে পাপবোধ, অনুতাপ আর বেদনার অনুষঙ্গ। কিন্তু এই নিষাদ হত্যার কোন ক্ষতিপূরণ নেই, কোন অনুতাপ নেই, কোন পাপ নেই। এ যেন সহজ কবির মত সহজ দাহ। আন্তোনিও গ্রামশি বা রণজিৎ গুহের 'সাবঅলটার্ন' দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করে যে ক্ষমতার ইতিহাসে প্রান্তিক মানুষের শরীর চিরকাল "কোল্যাটেরাল ড্যামেজ" বা আনুষঙ্গিক ক্ষতি হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে - যেন এটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। মহাভারতের বারণাবতে নিষাদ পরিবারটির বলি হওয়া ছিল আর্য রাজতন্ত্রের একটি 'রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজি', যেখানে তাদের জীবনের কোনো মূল্য নেই, তাই আর্য ঋষির চোখে পাণ্ডবের কোন পাপও নেই। "সব্বে মুনিসে পজা মমা" - এখানে খাটেনি। আবার মার্কসীয় ঐতিহাসিক বস্তুবাদ বলে—ইতিহাসের চাকা থেমে থাকে না। উৎপাদনের উপায়ের ওপর যাদের একসময় কোনো অধিকার ছিল না, আজ কিন্তু সেই অরণ্যচারী মানুষ জতু চাষ করে প্রাসাদ বানিয়েছে। জয়দেব বাবুর উঠোনে পৌঁছে আমরা অবাক হয়েছিলাম, কারণ যে উঠোনে আমাদের জন্য চেয়ার পাতা ছিল তা গ্রানাইট জাতীয় পাথরে ঢালাই করা। আমাদের মত চারখানা না হোক তিনখানা দল সেখানে ধরে যেত। তাঁর ড্রয়িং রুমের আসবাব গুলো তাকিয়ে দেখার মত। অথচ মানুষটির পোষাক আশাক, চেহারা এতটাই সাধারণ যে বাইরে কোথাও মুখোমুখি হলে আলাদা করে চেনা অসম্ভব। কিন্তু তিনি যখন মেয়েদের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করলেন, ধরে ধরে গাছ আর লাক্ষা চেনাতে শুরু করলেন, তাঁর জ্ঞানের পরিধি দেখে আমরা মুগ্ধ। লক্ষ্মী ও সরস্বতী দুই দেবীই তাঁর গৃহে বাঁধা পড়েছেন। কর্পোরেট ভৃত্য আর্যের পুত্রেরা এখন টাই বেঁধে তাঁর পিছনে ঘুরছে। কারণ জতুর হস্তশিল্প এখন যেমন এথনিক ফ্যাশনের অন্যতম উপাদান, তেমনই নানা শিল্পে এর চাহিদা, এমনকি চিকিৎসা বিদ্যা ও প্রসাধনী তৈরিও অনেক বিষয়ে লাক্ষার ওপরে নির্ভরশীল। যে জতু একদিন ছিল অরণ্যের মানুষকে অনুশোচনাহীন হত্যার উপাদান, আজ সেই জতু - অর্থনীতিতেই অরণ্যের মানুষ শহরের মানুষকে হারিয়ে দিয়েছে। দেখে বেশ আনন্দ হল আমার।
আমরা জয়দেববাবুর লাক্ষা বনে ঢুকলাম, মানে কুল, পলাশ আর কুসুম গাছের বন থুড়ি ফার্ম। সেই বন্ধুর পাথুরে জমির ওপর বিশাল ফার্ম এমনই যত্নে তৈরি, দেখে বন বলে ভুল হয়। কিন্তু আমার ভৌগোলিক চোখে ফার্মের প্যাটার্ন ধরা পড়ে গেছে। ঐ তো কয়েকটা করে গাছ বেড় দিয়ে আঁচড়ের মত নালা কাটা, জল নিকাশের জন্য, এমনই আঁচড় কাটা পাহাড় আর বন দেখেছিলাম সেই ঝাড়বাগদায়। জয়দেববাবু তাঁর বাগানটি দরকারি গাছ ছাড়াও নানা বাহারি এবং দুর্মূল্য বনস্পতি আর লতায় সাজিয়েছেন। গাছ পাগল মানুষ। তাঁর শ্রম আর রুচির তারিফ করতেই হয়। আমার কেবল মনে হতে লাগলো এই বনটি কিছুটা হলেও বারাণাবতের প্রতিশোধ নিতে পেরেছে।
কী দেখলাম, সেটা এবারে বলি। গালা, লাক্ষা, জতু যে নামেই ডাকি, আসলে সেটা হল একধরণের অতি ক্ষুদ্র কীটের কেরামতি। কিন্তু রেশম কীটের থেকে এই কীটের তফাৎ আছে। প্রথম হল আকারের ফারাক। গালা পোকা এত ছোট একটা বিন্দুর মত, আর লাখে লাখে গায়ে গায়ে থাকে, তাই আলাদা করে দেখা খুব মুশকিল। আচ্ছা, লক্ষ লক্ষ পোকার চাঙড় থেকেই কি সংস্কৃতে লাক্ষা কথাটা এসেছে? কিন্তু খালি চোখে রেশম কীট দেখা যায়। বিষ্ণুপুর সেরিকালচার কমপ্লেক্সে আমি অনেকবার দেখেছি। পুরো সুতোর মত লার্ভা থেকে মোটা মৌমাছির মত মথ। ওখানে আমাদের পোকাওলা রেশম গুটি উপহার দিয়েছিলেন অফিসারেরা। আমারটা ছিল চকচকে সোনালি হলদে সিল্কের গুটি। দিনগুণে ওনারা বলে দিয়েছিলেন যেদিন আমরা বাড়ি পৌঁছব, তার পরের দিন গুটি থেকে পোকা বেরোবে। আমার সামনে গুটি ভিজে গিয়ে পোকা বেরিয়ে হাঁটছিল টেবিলে। আমি আস্তে করে তাকে নিয়ে একটা নিচু গাছে বসিয়ে দিয়েছিলাম। আর ওই দুরকম কীট থেকে তৈরি জিনিসটার তফাৎ? গালা হল পোকার ক্ষরিত শক্ত কষ বা রজন, আর রেশম হলো পোকার মুখের লালা থেকে তৈরি সুতো। গালা পোকা যে গাছের ডালে আশ্রয় নেয়, সেই ডাল থেকে রস খায়। তাদের শরীর থেকে এক ধরণের কষ বেরোয় যা গায়ে গায়ে জুড়ে জুড়ে গাছের ডালের চারপাশে আলাদা একটা আস্তরন তৈরি হয়। ঠিক যেন মনে হল বৃক্ষ শাখাগুলি ছাই রঙা, বাদামী বা ধূসর জামা পরে আছে। রঙটা গাছের ডালের সঙ্গে এতটাই মিশ খায়, যে চিনিয়ে না দিলে, আমার মত গাছ কানারা ওটাকে ডালের স্বাভাবিক রঙ বলেই ভুল করবে। জয়দেববাবুর একজন সহকারী একটা ছোট ডাল ভেঙে তার গা থেকে গালার জামাটা ছাড়িয়ে আমাদের দেখালেন।
কুল, কুসুম, পলাশ প্রভৃতি গাছের ডালে সফলভাবে লাক্ষা চাষ করা যায়। এর মধ্যে কুসুম গাছে সবচেয়ে ভালো মানের লাক্ষা উৎপন্ন হয়। আবহাওয়ায় তাপ আর বাষ্প পেলে চার মাসেই কেল্লা ফতে। নাহলে সেই আট মাস। রেশম কীট, তসর গুটি কতই না নাড়াচাড়া করেছি, এবারে যে পেলাম লাক্ষাকীট, অতি ক্ষুদ্র, তাকে হয়তো দেখেও আগে বালি ভেবে ঝেড়ে ফেলেছি। চিনতে পারিনি। পোকাটা পরজীবী, আবার রোগ হলে তাকে খায় দশগুণ বড় কীট। ঐ শত্রু আক্রান্ত গালার লাঠি ভাঙলেই পাকানো পোকা আর তার পেট ভর্তি গালার লাল রস। কিছু এমন আলাদা করে রাখা রোগাক্রান্ত গালা দেখলাম। ঐ পোকা দেখে খুব রাগ হয়। গাছের ডাল সমেত ব্রুড ল্যাক, ছাড়ালে কেমন হয় দেখলাম। আবার বড় বড় বোতামের মত বাটন শেল্যাক, চৌরি লাক্ষা বা লাল খয়েরি দানাদার লাক্ষাও হাতে নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করার সুযোগ হল। গাছ থেকে সোজা বোতামে পরিণত হবার পথে যে যন্ত্রপাতিগুলি লাগে সেগুলো চর্মচক্ষে চাক্ষুষ করব, একথাও কি ভেবেছি কোনোদিন! গোল চালের কুঁড়েঘরের আকৃতির মাটির ভাঁটা যেখানে গালা গলে, সিমেন্ট মাখার মেশিনের মত দেখতে ক্রাশার, বিশালাকৃতি ওয়াশার সবই ঘুরে দেখালেন জয়দেব মাহাতো। তাঁর মতে গালা তৈরির জয়যাত্রার উত্তরোত্তর বৃদ্ধি কেউই আটকাতে পারবেনা। তবে ঝড় ঝাপটা সাইক্লোনের প্রকোপ বাড়ছে, গাছের ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে এই যা সমস্যা। মাহাতো বাবুর প্রাসাদোপম বাড়ি, বিশালাকার অলঙ্কৃত অফিস, রাজকীয় আসবাব, মন্দির আয়তনের তুলসী মঞ্চ তাঁর মুখের কথার প্রমাণ দেয় বটে। বাড়ির সামনেই শেল্যাক ক্লাস্টার স্যাংশন করেছেন সরকার বাহাদুর। তবে জয়দেব বাবু সরকারের ওপরে তেমন প্রসন্ন নন বলেই মনে হল। শুধু অন্য কোন স্টেক হোল্ডারের দেখা পাওয়া গেলনা, এইটুকু আফশোস। অল্প সময়ে সার্বিক চিত্র পাওয়া সম্ভব নয়। তবু যেটুকু পাওয়া গেল তাও বা কম কী।
শুনলাম বাংলাদেশে সাম্প্রতিক হট্টগোলে সেখানে গালা রপ্তানী নাকি কমে গেছে, তাই ওখানকার নৌকো শিল্প অসুবিধেতে পড়েছে। ওদেশেও লাক্ষাচাষ হয়, তবে চাষ যা হয় চাহিদা তার চেয়ে বেশি, তাই সমস্যা। কাঠের নৌকোর তলায় জল প্রতিরোধী গালার প্রলেপ দরকার হয়। এও শুনলাম ভারত থেকে বিশাল পরিমাণ লাক্ষা যায় পশ্চিম এশিয়ায় - এপথের মূল দরজা বা গেটওয়ে হল দুবাই। এছাড়া ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া সব জায়গাতেই লাক্ষা রপ্তানী হয়।
হাতে সময় বেশি ছিলনা, কারণ রাতেই ফেরার ট্রেন। বেশ অনেকখানি বিস্ময় আর ভালোলাগা মনের মধ্যে নিয়ে পুটিডিহি গ্রামকে বিদায় জানাতে হল। ফেরার পথে চড়িদার ছৌ মুখোশের গ্রাম ঘোরা হল এক চক্কর। মুখোশ দেখে মেয়েরা ভারি খুশি। আমি অবশ্য এর আগেও অনেকবার চড়িদা এসেছি, সেই গল্প বলছি পরে। রাত গভীর আর আকাশ তারায় ভরে গেলে রেলগাড়ি এলো কু ঝিকঝিক করে আমাদের বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাবার জন্য। বাড়ি ফিরেছি, রোজকার কাজেও যোগ দিয়েছি, তবু কুয়াশা ঘেরা মাঠা সুন্দরী প্রায় রোজই স্বপ্নে আসে, কবে আবার যাব মনটা আকুলি বিকুলি করে।
হীরেন সিংহরায় | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩:৫৫742507