

এক ঘুমে রাত কাবার। ভোর রাতে ওঠা। ছোট মাতাজী ভার নিয়েছেন সকলকে ঘুম থেকে ডেকে দেবেন। পড়ি কি মরি কি করে রেডি হয়ে বাইরে এসে দেখি - সেই আবছা কুয়াশা ঘেরা মাঠাবুরুর জঙ্গলের মাঝে ফাঁকা জায়গায় সারি বেঁধে প্রার্থনা শুরু করেছে মেয়েরা। আহা সেই ব্রহ্ম মুহূর্তে ওই সংস্কৃত মন্ত্রোচ্চারণ আর প্রার্থনা সঙ্গীত এক অপার্থিব পরিবেশ তৈরি করেছিল। সে যে না দেখেছে, না শুনেছে তার পক্ষে অনুভব করা সম্ভব নয়।
প্রার্থনার পর মর্নিং ওয়াকে নিয়ে যাবেন ট্রেনার। মেয়েরা চলে গেছে আগে, আমি টুকিটাকি কাজের জন্য পিছিয়ে পড়েছিলাম। ভোররাতে বনের গন্ধ, হাওয়া সব কিছু আলাদা। সারা জীবনে যা ফিল্ড সার্ভে করেছি, গুণলে হয়তো একশো পার হয়ে যাবে। তরাই বা সুন্দরবন, মালভূমি, রাঢ় বা হিমালয়ের বরফে ঢাকা পাইনের সারি - সব জঙ্গলের আলাদা আলাদা ভাষা আছে, ভিন্ন ভিন্ন রং, গন্ধ, রূপ আছে - আর এই সবকিছু দিনের বিভিন্ন সময়ে, ভিন্ন ঋতুতে বদলে বদলে যায়। সূর্য ওঠার আগে ঊষার নরম আলো, সেই শিশিরে ভেজা বন, পাখির ডাক সব মিলিয়ে এক অপার্থিব তান যেন আমার অবয়ব ভেদ করে চরাচরে ছড়িয়ে পড়ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে মনতোষ বন্দ্যোপাধ্যায় - প্রাকৃতিক ভূগোলের এক প্রবাদ প্রতিম অধ্যাপক আমাদের বলতেন - প্রকৃতির সামনে গিয়ে দাঁড়ালেই ও দুহাত বাড়িয়ে দেয়, গল্প করে, ছবি দেখায়, ও কী বলছে শোনার মন তৈরি কর। সবার কপালে মনের চোখ আছে - ওটা খুলে তাকানোর চেষ্টা কর। তাঁর কথাগুলি তো কেবল কথা ছিলনা, তা ছিল বেদ - যা আমরা শ্রুতিতে বহন করে চলেছি।
হবিট হাউস থেকে লাল মাটির উঁচু নিচু অপরিসর পথ গিয়েছে বেঁকে, চলেছি আমি একলা পথিক স্বপ্ন চোখে এঁকে। বন কিন্তু খুব গভীর নয়, মাঝে মাঝেই কিছুটা করে ঘাস লতাপাতা ঢাকা ফাঁকা জায়গা - মাঠের মত, পাশে কিছু ঝোপঝাড়ও আছে। কিন্তু এমন তো হবার কথা নয়। আমি ঐ ফাঁকা জায়গাগুলো ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলাম। হুম, ঘাসের মধ্যে পায়ের চাপে তৈরি হওয়া পথের মত মনে হল - একটা নয়, বেশ কিছু পায়ে চলা পথ রয়েছে নানা দিশায়। তবে আর কী - ফাঁকা জায়গাগুলি যে মানুষের নিষ্ঠুর বন কাটার ফল সেটায় কোন সন্দেহ নেই। তবে স্বীকার করছি যে শিশির ভেজা বুনো মাটির সোঁদা গন্ধে তখন আমি এতটাই মশগুল যে বন কাটা হচ্ছে বুঝেও খুব একটা মনোকষ্ট হলনা। আর একটা মজার ব্যাপার হল, যখনই বনের মধ্যে ঢুকছি, ঠাণ্ডা হাওয়ায় দোলা লেগে পাতার খসখস, নবীন আলোয় জেগে ওঠা, পশুপাখি, পোকামাকড়ের ডাক - সব মিলিয়ে এমন একটা যেন হৈ চৈয়ের আওয়াজ আর সঙ্গে একটা কেমন যেন খিল খিল আবার কখনও হা হা করে হাসির আওয়াজ - বার বার ধাঁধা লেগে যাচ্ছিল আমার মেয়েরা কি খেলাধুলো করছে? এ কি তাদেরই হাসির আওয়াজ? কিন্তু যতবারই ঐ শব্দ লক্ষ্য করে এগিয়ে যাচ্ছি, ততবারই দেখছি অরণ্য গভীর হচ্ছে, এবারে দিক হারাব। তাড়াতাড়ি সতর্ক হয়ে সেই লাল মাটির পথে ফিরে আসতে হয়েছে। রহস্যময় মাঠাবুরু এখনও তার কুয়াশার ওড়না মুখ থেকে সরায়নি। অবগুন্ঠনের আড়াল থেকে ও আমায় এ কি যাদু শব্দ শোনাল - ও যে এখনও আমার কানে বাজছে।
তখন কিছু মনে হয়নি, পরে মনে হল আমি কি হায়নার হাসি শুনলাম নাকি সত্যি সত্যি! একা একা এ কী সর্বনাশ করতে যাচ্ছিলাম। অযোধ্যা পাহাড়ের জঙ্গলে হায়না থাকে বটে, মাঠাবুরুতে থাকায় আপত্তি কি? পরে ওই কলেজের একজন স্টাফ বললেন, ‘জানেন, রাতে একদম ঘুমোতে পারিনি, খালি মনে হচ্ছে বাইরে কেউ খিল খিল করে হাসছে, ঠিক মানুষের মত নয়, ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।’ শুনে তো আমার আক্কেল গুড়ুম। রাতে হায়না এসেছিল হয়তো দেখা করতে, আমি ঘুমোচ্ছি বলে চলে গেছে। ভোরে একা পেয়ে আমার সঙ্গে আড়াল থেকে বাৎচিত করে গেছে। ফিল্ডে আসার এই হচ্ছে মজা, বিপদ চারিদিকে থাকে বটে, তবে পান থেকে চুন খসলেই হা রে রে রে বারণ শোনার আপদ থাকেনা।
যাকগে খুঁজতে খুঁজতে অবশেষে মেয়েদের খুঁজে পেলাম। তারা তখন মাঠাবুরুর এক উত্তুঙ্গ শিখরের সামনে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে আদেশানুসারে মহানন্দে খালি হাতের ব্যায়াম করছে। দূর থেকে দেখে ভারি মজা লাগে আমার। তখনও জানিনা আরও কী অপেক্ষা করে আছে সবার জন্য। ব্যায়াম শেষে মেয়েরা যখন হুড়োহুড়ি করে ছোট মাতাজীর ফোনে পোজ দিয়ে ছবি তুলতে ব্যস্ত, হঠাৎ একটা লাল আভা এসে লাগে চোখের পাতায় - তীক্ষ্ণ তবু মধুর। চমকে পিছনে তাকিয়ে দেখি মাঠাবুরুর সেই চেতানো বুকের পিছে পিঠের দিক থেকে সুয্যিমামা উঁকি দিয়েছে। এই ভৌগোলিক জীবনে ভারত জুড়ে কতবারই তো দাঁড়ালাম কত সান রাইজ আর সান সেট পয়েন্টে। তবু যুগ যুগান্ত ধরে চলা এই অরুণোদয়, যতবার আসে যেন চিরনূতন।
হেঁটে হেঁটে ফেরার পথে বড় মাতাজীর সঙ্গে নানা বিষয়ে আলোচনা হচ্ছিল। আমাদের ছাত্রীরা বেশিরভাগই শহুরে। কিছু কিছু মেয়ে আছে বটে যাদের গ্রামে বাড়ি, কলেজের হোস্টেলে থাকে। তবে যেখানেই থাকুক, এই জঙ্গলে মোবাইল ফোন ছেড়ে সত্যিকারের প্রকৃতির সঙ্গে কাটানো ওদের জন্য এক দুরন্ত অভিজ্ঞতা, যা সারা জীবনের পাথেয় হয়ে থাকবে। তবে শহর ছেড়ে এসেছি বললেই কী আর শহরের ছোঁয়া বাঁচানো যায়? এই যে হবিট হাউসে আমরা আছি, এও তো শহরের মানুষের বিনোদনের জন্যই বানানো - বলা যায় ঐ পাতালঘর নামক রিসর্টটি গ্রামীণ ল্যান্ডস্কেপের মধ্যে তৈরি হওয়া একটি ‘শহুরে স্পেস’ (Urban Outpost)। এই বিষয়টাকেই ভূগোলে বলে প্ল্যানেটারি আর্বানিজম (Planetary Urbanism)। বিখ্যাত ফরাসি চিন্তাবিদ অঁরি লেফেভার (Henri Lefebvre) এবং পরবর্তীতে নীল ব্রেনার (Neil Brenner) দেখিয়েছেন যে, আজকের দিনে শহর আর কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানায় আটকে নেই। শহরের থাবা আজ গ্রামীণ সীমানাকে গ্রাস করে নিয়েছে। প্রযুক্তির জাল এতটাই ব্যাপক, আজ গ্রামের ছেলে বা মেয়ের হাতেও স্মার্টফোন, সেও শহরের ফ্যাশন দেখছে, এআই (AI) নিয়ে ভাবছে। ফলে ভৌগোলিক দূরত্ব থাকলেও মনস্তাত্ত্বিকভাবে গ্রাম আর শহর আলাদা কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নয়। তাই আজ আর সেই গ্রাম দিয়ে শহর ঘেরার ধারণা চলেনা। শহর আজ তার পুঁজি, প্রযুক্তি আর সংস্কৃতি দিয়ে গ্রামকে ঘিরেছে। এই উল্টো প্রক্রিয়াকে আমরা বলি ‘রারবানাইজেশন’ (Rurbanization)। তবে এই রারবানাইজেশন মানেই যে খুব খারাপ হচ্ছে তা কিন্তু নয়। হ্যারল্ড কার্টারের (Harold Carter) একটা বই আছে - ‘The Study of Urban Geography’। সেখানে তিনি মূলত কেভিন লিঞ্চের (Kevin Lynch) ‘Mental Map’ বা ‘Cognitive Mapping’ (স্থানিক জ্ঞান মানচিত্র)-এর ধারণাকে ব্যবহার করে শহুরে মানুষের স্থানিক সচেতনতা ব্যাখ্যা করেছিলেন। আমি যখন প্রথমবার বইটা পড়ি বেশ চমৎকৃত হয়েছিলাম। সেখানে অনেক পয়েন্টের মধ্যে মোদ্দা যে পয়েন্টটা তোলা হয়েছিল সেটা হল জঙ্গলের আদিবাসী মানুষ মেন্টাল ম্যাপের সাহায্যে বনের যে কোন জায়গায় আপনাকে নিয়ে যেতে পারে, কিন্তু সেই পথটা এঁকে দেখাতে পারেনা। কিন্তু আমাদের এই শহুরে কলেজের মেয়েরা একটু চেষ্টা করে পাহাড়ের ওরিয়েন্টেশন শিখে নিলে তারা কিন্তু সেটাকে কাগুজে ম্যাপে পরিণত করতে পারবে। কারণ ছোট থেকে তারা আকার, আকৃতি, রেখা এসব বিষয়ে তালিম পেয়েছে। এ হল মানুষের মনে এক ধরণের মূর্ত অভিজ্ঞতা বনাম বিমূর্ত জ্যামিতির খেলা।
কার্টার বা লিঞ্চের তত্ত্বে মেন্টাল ম্যাপের মূল উপাদান পাঁচটি: Paths (পথ), Edges (প্রান্ত), Districts (অঞ্চল), Nodes (সন্ধিস্থল), এবং Landmarks (চিহ্ন)।
বনের আদিবাসী মানুষের মেন্টাল ম্যাপ তৈরি হয় বনের গন্ধ, মাটির স্পর্শ, গাছের ডালের বাঁক বা পাখির ডাকের মতো সংবেদনশীল অভিজ্ঞতা দিয়ে। বলা যেতে পারে এ হল একধরণের Navigational Knowledge —যা ছোট থেকে বনের মাঝে ঘুরে ঘুরে বেঁচে থাকার তাগিদে তৈরি। তাঁরা বনে দিক হারান না, কারণ তাঁরা জঙ্গলকে বাইরে থেকে দেখেন না, তাঁরা জঙ্গলেরই অংশ। কিন্তু মানচিত্রের গ্রিড (X, Y কোঅর্ডিনেট) বা টপোগ্রাফিক্যাল চিহ্নের বিমূর্ত জ্যামিতিতে তা প্রকাশ করার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তাঁদের নেই।
অন্যদিকে আমাদের এই শহরের কলেজের মেয়েরা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় বড় হয়েছে। তারা যখন পাহাড়ে এসে ওরিয়েন্টেশন (ওরিয়েন্টিং ম্যাপ ও কম্পাস ব্যবহার) শেখে, তখন তারা তাদের চারপাশের বাস্তব স্থানকে (Physical Space) জ্যামিতিক স্কেল, দ্রাঘিমাংশ, অক্ষাংশ এবং চিহ্নে অনুবাদ করতে পারে। একে বলা হয় মনের মধ্যে কার্টোগ্রাফিক র্যাশনালিটি তৈরি হওয়া। এই র্যাশনালিটি আত্মস্থ হলে তারা অভিজ্ঞতাকে কাগজে প্লট করে একটি ‘অবজেক্টিভ ম্যাপ’ তৈরি করতে পারে। এই পারাটুকু খুবই ভালো। আমি বহুবার বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ছেলেমেয়েদের সঙ্গে নিয়ে পায়ে হেঁটে এইরকম ম্যাপ বানিয়েছি, তা সে বিষ্ণুপুরের তাঁতীদের পাটরাপাড়াই হোক বা অন্ধ্র প্রদেশের আরাকু ভ্যালি। আরাকুতে তো একে ক্যাডাস্ট্রাল ম্যাপে লেখা ভাষা বা হরফ বুঝতে পারছিনা, আবার স্থানীয় লোক কিছু বলতেও পারছেনা। যাই হোক এইভাবে ম্যাপ বানাতে পারলে ছেলেমেয়েরা ভীষণ আনন্দ পায়, আমিও খুশি হই। তবে আধুনিক ক্রিটিক্যাল কার্টোগ্রাফি (Critical Cartography) বলে, মানচিত্র এতটাও মঙ্গলজনক, নির্দোষ বা নিরপেক্ষ নয়। মানচিত্র হলো ক্ষমতার ভাষা (Language of Power)। আদিবাসী মানুষের নেভিগেশনাল ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও, ঔপনিবেশিক বা আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা তাঁদের জমি কেড়ে নিতে পেরেছে, কারণ তাঁদের কাছে ‘কাগুজে দলিল’ বা ‘ম্যাপ’ ছিল না।
সভ্যতার মুদ্রার অন্য পিঠটা ঘুরিয়ে দেখলে চেনা ধারণার বদল হয়। আমাদের ছেলেমেয়েরা যে ওরিয়েন্টেশন শিখে সেটাকে কাগুজে ম্যাপে পরিণত করতে পারছে— সেই জ্ঞান আসলে যে কোন স্থানকে তার নিজের নিয়ন্ত্রণে আনার এক বুদ্ধিবৃত্তিক হাতিয়ার। অ্যাকাডেমিক ভূগোলে আমরা এই কাগজের ম্যাপটাকেই ‘উচ্চ জ্ঞান’ বলে মান্যতা দিই, আর আদিবাসীর মেন্টাল ম্যাপ বা মনশ্চক্ষে ভাসমান পথকে ‘সহজাত প্রবৃত্তি’ বলে খাটো করি। কিন্তু ক্রিটিক্যাল জিওগ্রাফি বলে, দুটোই সমান দামী স্থানিক জ্ঞান (Spatial Knowledge), শুধু প্রকাশের মাধ্যম আলাদা। কলেজের স্টুডেন্ট পায় এক্সপ্লিসিট জ্ঞান যা একই সঙ্গে থিওরিটিক্যাল ও টেকনিক্যাল। আর বনের মানুষ অর্জন করে ইমপ্লিসিট জ্ঞান যা প্র্যাকটিক্যাল ও ইনটুইটিভ। ইমপ্লিসিট জ্ঞান আনে প্রকৃতির সাথে একাত্মতা আর ছাত্রের আছে কোন স্থানকে ডিকোড ও মেজার করার ক্ষমতা। এখন প্রশ্ন হল, সেই জ্ঞান অর্জন করতে গিয়ে তারা কি মানুষের লক্ষ লক্ষ বছরে অর্জিত আদিম ‘পর্যবেক্ষণ, ঘ্রাণ ও স্পর্শের’ দ্বারা মেন্টাল ম্যাপ তৈরি করার অনুভব হারিয়ে ফেলছে? কিছুটা তো হারাচ্ছে বটেই। আমাদের হাতের নাগালেই এমন অনেক জায়গা আছে, যেখানে ইন্টারনেট চলেনা অর্থাৎ প্রযুক্তির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। এখনকার ছাত্রছাত্রীদের এমন দশা ফোনটি না চললে তারা ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে যায়। প্রযুক্তি নিয়ে সক্ষম হতে গিয়ে আজ তারা প্রযুক্তি ছাড়া অক্ষমে পরিণত হয়েছে। এই খামতি বা ফাঁকটুকু ভরাট করার জন্যই এই মোবাইল ফ্রি হয়ে পাহাড় চড়ার আয়োজন।
নানান কথা ভাবতে ভাবতে, আলোচনা করতে করতে ফিরে এলাম হবিট হাউসে। গতরাতের পরিপূর্ণ ঘুমের পরে মন ভরা তৃপ্তি, নিজেদের রিনিউ আর রিসেট বাটন অন করে ফিরে এসেছি আস্তানায়। সামনে গামলায় ভেজানো ছোলা আর পাশের বাটিতে নির্ভেজাল আখের গুড়। চোখে পড়া মাত্র পেট গুড়গুড় - আরে এযে ভয়ানক খিদে পেয়ে গেছে - এতক্ষণ কিছু মালুমই হয়নি। কবি তো তবে ঠিকই বলেছিলেন - এই দুনিয়ার সকল ভালো, আসল ভালো নকল ভালো, কিন্তু সবার চাইতে ভালো পাঁউরুটি আর ঝোলাগুড় থুড়ি ভেজা ছোলা আর এখো গুড়। মুঠো করে নিয়ে কিছুটা পেটপূর্তির পরে পেলাম গরম ধোঁয়া ওঠা চা। পৃথিবীতে গুড়-ছোলা-দুধ চা যে অমৃত সেটা এতদিন কেন যে বুঝিনি কে জানে। এর পরে লুচি তরকারি, তার পরে সেই মোক্ষ, যার জন্য এতদূর আসা - সেই কাঙ্ক্ষিত রক ক্লাইম্বিং - মানে সত্যি সত্যি পর্বতারোহণের প্রথম ধাপ। রোদ উঠেছে ঝিলমিলিয়ে। ধড়াচুড়ো পরে লতাঝোপ সরিয়ে কাঁটা বাঁচিয়ে আর চোরকাঁটায় মাখামাখি হয়ে গিয়ে দাঁড়ালুম মাঠার এক নেড়া ঢালের সামনে।