এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  স্মৃতিকথা  শনিবারবেলা

  • মধুবাতা ঋতায়তে

    শারদা মণ্ডল
    ধারাবাহিক | স্মৃতিকথা | ১৮ এপ্রিল ২০২৬ | ১২ বার পঠিত
  • ছবি - Imagen 3

    পরে অবশ্য সব কটা প্রশ্নের উত্তরই জেনেছি আমাদের মত করে, কিন্তু সেই জানাটা এতটাই রোমহর্ষক, যে বলার আগে একটু গুছিয়ে নিতে হবে।

    সেবার মানবাজারে থাকতে পারলে খুবই ভালো হত, কিন্তু আমাদের পুরো টীমকে রাখার মত অতগুলো ঘরওলা হোটেল পাওয়া গেলনা।‌ তাই বাধ্য হয়ে মুকুটমণিপুরে থেকে যাতায়াত করতে হচ্ছিল। অসুবিধে খুব একটা হয়নি। হোটেল খুব সাজানো গোছানো, বেশ সুন্দর। পঞ্চাশ কিলোমিটারের মত দূরত্ব। আমাদের সঙ্গে বাস ছিল, রোজ সওয়া ঘন্টা যেতে, আর ঐরকমই ফিরতে।‌ ফাঁকা পথের দুপাশে পাহাড় আর জঙ্গল। ভালোই লাগত। জার্নিটা গায়ে লাগেনি। ভোরের কুয়াশার চাদর সরে যেত ধীরে ধীরে, আবছা পাহাড়ের ঘুম ভাঙত, সোনালি রোদ ওঠার আগের মুহূর্তগুলো কেমন অদ্ভুত মায়াময়। তাড়াতাড়ি করে সকালের জলযোগ সেরেই বেরিয়ে পড়তাম আমরা। প্রথম যেদিন ঝাড়বাগদায় পা রাখলাম, দিনটা ছিল রবিবার। গ্রামের শুরুতেই বিশাল কলেজ বিল্ডিং। কিন্তু রবিবার বলে সেদিন বন্ধ। কলেজ পেরিয়ে কিছুটা পথ পাকা, কিন্তু একটু এগোলেই সুরকি ঢালা লাল মাটির রাস্তা। আরও এগোলে শুধুই রাঙা মাটির পথ। গ্রামে যখন ঢুকছি, তখন প্রথমেই চোখে পড়ল মাটির আদিবাসী ঘরগুলি, সুন্দর করে নিকোনো দেওয়াল, উঠোন, কোনটায় কিছু ছিমছাম তুলির আঁচড় যেন প্রকৃতির সঙ্গে মিশে আছে এক মন এক আত্মা হয়ে। আমরা গ্রামের মাঝখানটা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছিলাম। ওখান থেকে নানা দিকে ছড়িয়ে পড়লে সার্ভেটা ঠিক ঠাক হয়। নতুবা হয়তো দেখা যাবে, গ্রামের একদিকটাতেই খালি কাজ হয়েছে, অন্য দিকটার কোন স্যাম্পেল নেই। কিন্তু ম্যাপ দেখে মাঝখানে পৌঁছবার পর থেকে যেই এগোলাম, পথের দুপাশের কালচারাল ল্যান্ডস্কেপ বদলে যেতে শুরু করল। এদিকটা দেখলাম বেশ বর্ধিষ্ণু। বড় বড় পাকা বাড়ি। কয়েকটাকে তো অট্টালিকাই বলা ভাল। বাড়িগুলিতে যাঁরা বসবাস করেন, তাঁদের চেহারা মোটেই আদিবাসী মানুষের সঙ্গে মেলেনা। পোশাক আসাক, ভাব ভঙ্গি কিছুতেই মিল নেই। পথের বাঁক ঘুরতেই বেশ বড় চত্বর ঘেরা রাধাকৃষ্ণের মন্দির দেখতে পেলাম। কাজ শুরু করতে গেলে একটা প্রাথমিক ওয়ার্কিং স্টেশন দরকার হয়। মন্দির পেয়ে যাওয়াতে বেশ সুবিধে হয়ে গেল। ওখানেই বসে ছেলেমেয়েদের বিভিন্ন দিকে পাঠানো গেল, আর আমরা স্থানীয় মানুষের সঙ্গে আলাপচারিতা শুরু করলাম।

    গ্রামে আসার পথে গুগল ম্যাপে একটা বিষয় খেয়াল করেছিলাম - বনভৈরবীর থান। ব্যাপারটা কী সেটা জানার ইচ্ছে ছিল। ঐ বিষয়ে জানতে চাইলাম। আসলে আমরা তো সবুজ বন কীভাবে ফিরে এল, সেটাই জানতে এসেছি। বনভৈরবী কি কোন বিশেষ দেবী? কিন্তু দেবীর কথা জানতে গিয়ে প্রেক্ষাপট হিসেবে দশটা অন্য কথাও উঠে পড়ে। স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে যা যা শুনলাম, তার জন্য ঠিক প্রস্তুতি ছিলনা আমাদের। যাই হোক, সাধ্য মত গুছিয়ে বলার চেষ্টা করছি।

    যাঁদের সঙ্গে আমরা কথা বলছি, তাঁরা সব উৎকল ব্রাহ্মণ, যথেষ্ট সচ্ছল, ছেলেমেয়েরা বেশিরভাগই বিদেশে থাকে, তা সে লেখাপড়া করতেই হোক বা জীবন জীবিকার জন্য। যতজনের নাম জানতে পারলাম, সকলেরই পদবী মাহান্তি। ওঁরা নিজেরাই বললেন যে এখানে কয়েক হাজার যদি মাহান্তি থাকে, তবে সকলেই পূর্বপুরুষের কারণে কোন না কোন ভাবে আত্মীয়। কয়েকশো বছর ধরে এই মাহান্তিরা এখানে বসবাস করছেন। কিন্তু পুরুলিয়ার এই প্রত্যন্ত জঙ্গলে ঢাকা বন্ধুর এলাকায় ধনী ব্রাহ্মণ পরিবারগুলি বাস করতে এলেন কেন? সময় চলে যাচ্ছে, কিন্তু আমরা মেতে উঠেছি অতীতের গল্পে। করতে এসেছি ভূগোল চর্চা, পাতা খুলছে ইতিহাসের। এই পর্বে যা বলব, তা আমার কোন প্রামাণ্য ইতিহাস জ্ঞান নয়, রাধা কৃষ্ণের মন্দিরে বসে শোনা গল্প।

    বহু বছর আগে নাকি এখানে ছিল জৈন ধর্মাবলম্বী মানুষের বাস। কালক্রমে তাঁরাই এলাকার শাসক হয়ে ওঠেন। কে না জানে শাসন আর শোষণ একই মুদ্রার দুই পিঠ। স্থানীয় জনজাতি, বিশেষ করে হো সম্প্রদায়ের প্রজারা অষ্টম-নবম শতকে এই জৈন শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। এই সময়ে অনেক জৈন পরিবার ঝাড়বাগদা ও সংলগ্ন স্থান পরিত্যাগ করে অন্যত্র চলে যান।

    আবার ষোড়শ শতকের শেষ দিকে সম্রাট আকবর মানসিংহকে বিহারের সুবেদার করে পাঠান। পথে মানসিংহ ঝাড়বাগদার কাছেই মানবাজারে তাঁর শিবির ফেলেছিলেন। সেই সময়ে জৈন পরিবারের এক রূপসী কন্যাকে দেখে তিনি বিবাহ করতে চান। তবে মতান্তরে মানসিংহ না হয়ে তৎকালীন মানভূমের রাজাও কন্যাটির পাণিপ্রার্থী হতে পারেন। যিনিই হয়ে থাকুন, রক্ষণশীল জৈন সমাজ এই প্রস্তাব একেবারেই ভালো মনে নেয়নি, বরঞ্চ তাঁরা এতে খুবই ক্রুদ্ধ হন। এই দুই কারণে এই জৈন রাজা এবং তাঁদের গোষ্ঠীর লোকেরা সকলে এই এলাকা ত্যাগ করে চলে যান। থেকে যান শুধু উপজাতি মানুষেরা। ইতিহাসের চাকা ঘোরে। কেটে যায় আরও কয়েকশো বছর।

    অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি বাংলার মাটি কেঁপে ওঠে বর্গী অশ্বারোহীদের আক্রমণে (১৭৪১ -১৭৫১)। দিল্লিতে তখন দুর্বল মোগল বাদশা মুহাম্মদ শাহ (১৭১৯-১৭৪৮ খ্রিষ্টাব্দ) এবং পরে আহমদ শাহ বাহাদুর (১৭৪৮-১৭৫৪ খ্রিষ্টাব্দ)। বাংলার মসনদে রয়েছেন নবাব আলিবর্দী খান। ঝাড়বাগদা সহ মানভূমের বেশ কিছু অংশ তখন গড় পঞ্চকোট রাজার অধীনে। খাতায় কলমে নবাবের অধীন হলেও, অনুগত করদ রাজ্য হওয়া এই এলাকার কোনদিনই পোষায়নি। নবাবের সঙ্গে নরমে গরমে সম্পর্কটা চলছিল, কিন্তু বাধা পড়ল গড় পঞ্চকোটের পথ ধরে বর্গীর দল ঢুকে পড়ায়। পঞ্চকোট রাজার দুই শক্তিশালী সেনাপতি মানবাজার নিবাসী ভীম আর লাল নন্দর ওপরে ভার পড়ে বর্গীদের মোকাবিলা করার। এঁরা উৎকল ব্রাহ্মণ এবং সম্ভবত রাজপুরোহিত পরিবারের সদস্য। ইতিহাস বলে যুদ্ধ হয়েছিল বিভিন্ন সীমান্তে, যার ফলে শেষ পর্যন্ত রাজা রাজধানী ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। কিন্তু ভীম আর লাল যেখানে যুদ্ধ করছিলেন, সেই ফ্রন্টে তাঁরা দুর্দান্ত বর্গী হানাদারদের পরাস্ত করতে পেরেছিলেন। এই অসামান্য বীরত্বে মুগ্ধ হয়ে পঞ্চকোটের রাজা তাঁদের ‘মাহান্তি’ উপাধি দেন। পরবর্তীকালে লাল মাহান্তি নিজের বাড়িতেই ঘুমের মধ্যে দস্যুদের আক্রমণে নিহত হন। আর বৃদ্ধ বয়সে ভীম মাহান্তি ঝাড়বাগদায় রাধাকৃষ্ণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেন - তাঁর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়। এই দুই ভাইয়ের সন্তান সন্ততিরাই এখন ছড়িয়ে পড়েছেন এলাকায়। আর যে আদিবাসী সম্প্রদায় প্রথম থেকেই এই এলাকার বাসিন্দা, তাঁরা অনেকেই নিজের জাতিগত পেশার সঙ্গে আশপাশের রাজাদের পাইক হিসেবে কাজ করতেন। ঝাড়বাগদা গ্রামের এক অংশ আদিবাসী অধ্যুষিত আর পাশেই অপর অংশে উৎকল ব্রাহ্মণদের অট্টালিকা - এমন তীব্র বৈপরীত্য কীভাবে এল, সেই রহস্য অনেকটাই পরিষ্কার হল।

    ছেলেমেয়েরা ফিরতে শুরু করেছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রশ্নোত্তর সার্ভের কাজ অনেকটাই শেষ। বায়োডাইভারসিটি রেজিস্টারের কাজ শেষ হয়েছে। অভিজ্ঞতা থেকে একটা জিনিস আমরা শিখেছি। অকুস্থলে পৌঁছনোর আগেই এখন আমরা রেজিস্টার বুকলেটটা রেডি করে আনি। আন্তর্জালের সাহায্য নিয়ে, পশুপাখি, পোকামাকড়ের ছবি আর বৈশিষ্ট্য সব ঐ বুকলেটে তালিকা করা থাকে। নিজেরা পর্যবেক্ষণ করে করে সব রকমের বায়োডাইভার্সিটি চিনে নথিভুক্ত করার সময় তো থাকেনা। তাই আমরা স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতা আর ধারণার ওপরে নির্ভর করি। পশুপাখি, পোকামাকড়ের ছবি দেখিয়ে আর বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জেনে নেওয়া হয় যে কোনটি এই এলাকায় দেখা যায় আর কোনটি যায়না। এমনকি তালিকার বাইরে যদি কিছু থাকে সেটাও জানার চেষ্টা করা হয়। এতে দ্রুত কাজ করা যায়। বেলা পড়ে এসেছে, ছেলেমেয়েরা গ্রামে ভালোই আতিথেয়তা পেয়েছে। আমরাও আন্তরিক আহ্বান পেয়ে মন্দির চত্বর থেকে উঠে গিয়ে মাঝখানে এক অট্টালিকায় রসগোল্লা সমেত জলযোগ করে এসেছি। আজকের মত হোটেলে ফেরার পালা। আবার পরের দিন আসতে হবে। ইন্সট্রুমেন্ট সার্ভে বাকি আছে। বনভৈরবীকেও দেখা বাকি। শুনলাম ওখানে খুব প্রাচীন মূর্তি কিছু ছিল - এলাকার লোক বলেছেন - সম্ভবত সেগুলি সেই জৈন আমলের। কিন্তু বনের মধ্যে অরক্ষিত সেই সব বিগ্রহ আজ আর নেই, বাংলার গ্রামে গ্রামে ব্যক্তিগত কোন মন্দিরটিই বা অ্যান্টিক সংগ্রহ সুরক্ষিত রাখতে পেরেছে? সবই এখন হয়তো কোন বিদেশি বৈঠকখানার শোভাবর্ধন করছে।

    হোটেলের ঘরে রাতে যখন আমরা সেদিনের কাজের পর্যালোচনা করছি, তখন কিছু ছেলেমেয়ে এমন কিছু কথা বলল, যে আমরা একটু চমকে গেলাম। ওরা যখন আদিবাসী বাড়িগুলিতে সার্ভে করতে গিয়েছিল, তখন কিছু লোক, এদিকে আসুন, এরা কিছু বলতে পারবেনা বলে ওদের টেনে অন্যদিকে নিয়ে গেছে। ঐসব বাড়িতে যারা প্রশ্নের উত্তর দিতে শুরু করেছিল, তারাও চুপ করে গেছে। যার ফলে যতজন ঐ পাড়ায় গিয়েছিল, তাদের কাজ হয়নি। মানে তারা কাজ করেছে বর্ধিষ্ণু এলাকায় এসে। যারা প্রথম থেকেই ওদিকে গিয়েছিল, তাদের কোন অসুবিধে হয়নি। এবারে আমরা প্রমাদ গুণলাম, যে আদিবাসী পাড়ার কোন তথ্যই সংগ্রহ করা যায়নি। ডাটাশীট হয়ে গেছে একপেশে। কিন্তু আগামীকালও তো একই ঘটনা ঘটতে পারে। কী করা যায়, আমাদের কপালে চিন্তার কয়েকটা ভাঁজ পড়ে গেল।

    পরদিন একটু সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হল। যে পথ দিয়ে গ্রামে ঢুকতে হয়, তার প্রথমেই পড়ে আদিবাসী পাড়া। আমরা চারটি অপেক্ষাকৃত ডাকাবুকো ছাত্রকে সেকেন্ডের ব্যবধানে আদিবাসী পাড়ায় বাস থেকে নামিয়ে দিলাম। আর বাকিরা বাসে করে সোজা এগিয়ে সেই মন্দির চত্বরে গিয়ে দাঁড়ালাম। ওদিককার মানুষের সঙ্গে বেশ একটা বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছিল। মানবাজারে আমরা উপযুক্ত হোটেল পাইনি ঠিকই, বাড়ি থেকে যদি কখনও বেড়াতে আসি, একবার কোন মাহান্তি পরিবারে ফোন করে দিলেই ঝাড়বাগদায় থাকার ব্যবস্থা ওনারা করে দেবেন এমন আশ্বাসও পেয়েছিলাম। আর সেই ডাকটি যথেষ্ট আন্তরিকই ছিল, নেহাৎ বলার জন্য বলা নয়।

    আজ আমরা যাবো বনভৈরবীর থানে। ঝাড়বাগদা কলেজের এক অশিক্ষক কর্মচারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা গেল। কলেজের প্রিন্সিপাল ফোন নাম্বার দিয়েছিলেন যাতে প্রয়োজনে কোন সাহায্য পাওয়া যায়। ভদ্রলোক এলেন। কথা বলে ঠিক হল, উনি গোটা পাঁচেক টোটো ব্যবস্থা করে দেবেন। তাতেই ঠেসে ঠুসে আমরা সবাই ধরে যাবো। কিন্তু একজন গাইড লাগবে যে। ভদ্রলোকের পক্ষে আমাদের সঙ্গে ঘোরা সম্ভব নয়, কারণ তাঁর কলেজ আছে। আমাদের ছেলেমেয়েরা কিন্তু ব্যবস্থা করে ফেলল। গতকাল বাড়ি বাড়ি ঘুরে সার্ভে করার সময়ে তারা কিছু সমবয়সী বন্ধু যোগাড় করে ফেলেছে। ফোন নম্বরও আদান প্রদান হয়ে গেছে। তাদেরকে ফোন করতেই তারা হাজির, পথ দেখিয়ে নিয়ে যাবে। কিন্তু বনকে বুঝে, চিনে তার ভেতর দিয়ে চূড়ায় পৌঁছতে গেলে শক্তপোক্ত অভিজ্ঞ গাইড লাগবে। ওদের দ্বারা সেটা সম্ভব নয় - তারা নিজেরাই বলল সে কথা। এই কাজ করতে পারেন এমন মানুষ, যিনি পেশাগতভাবে বনরক্ষার কাজ করেন। তাঁর বাড়িটাও চিনিয়ে দিল। কিন্তু তিনি গেছেন মানবাজারে সাংসারিক প্রয়োজনে। ফিরতে বেলা হবে। কলেজের ভদ্রলোক গেছেন টোটো যোগাড় করতে। অগত্যা অপেক্ষা ছাড়া উপায় নেই।

    অন্য সময় হলে সকালে গ্রামে পৌঁছেই আমরা টগবগিয়ে হাঁটা দিতাম দেবী বনভৈরবীর উদ্দেশে। তারপর যা হত দেখা যেত। এখানে দেখছি প্রায় সব মানুষই নিজেদের ইতিহাস নিয়ে সচেতন, আর সকলেই বেশ গল্পের খনি। কিন্তু এত টোটো যোগাড়, সঙ্গী যোগাড়, আলাপ আলোচনার একটাই কারণ। আমার চারটে ছেলে ফেরেনি এখনও। কিছু কালক্ষেপের খুব দরকার।



    চলবে...
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • ধারাবাহিক | ১৮ এপ্রিল ২০২৬ | ১২ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভেবেচিন্তে মতামত দিন