দুটি পোস্ট ঘোরানো হচ্ছে : তার একটি আমার বাবা রিক্সাচালক ছিলেন ২০০ টাকা ভাড়া পেয়েও কংগ্রেসের প্রচার করেননি।
প্রশ্ন দুটি: এক, তাঁর বাবা কি কোনো কংগ্রেস সমর্থককে রিক্সা চাপাননি? বা কোনো কংগ্রেস নেতা এসে চলুন হাসপাতাল যেতে হবে বললে রিক্সা ফিরিয়ে দিয়েছেন?
দ্বিতীয়ত, বিকাশ ভট্টাচাৰ্য কি কংগ্রেস বা তৃণমূলের প্রচার করেছেন? পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছেন। একটা নৃশংস খুনের মামলার মূল চক্রান্তকারীকে আড়াল করার জন্য একজনকে ফাঁসানো হচ্ছিল তা থেকে বাঁচিয়েছেন।
আজ যেটা দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল নেতার বেলায় ঘটানো হচ্ছিল কাল সিপিএম নেতাদের বেলায় হবে না?
তৃতীয়ত, চৌঠা মে-র পর তৃণমূলের পতাকা খুলে নেওয়া হয়েছিল। সিপিএমের কেউ কেউ খুবই খুশি হয়েছিলেন। সিপিএম পতাকা সেদিন খোলেনি। আজ কটা এলাকায় সিপিএমের পতাকা রাখতে দিয়েছে?
চতুর্থত, রিক্সাচালকের পুত্রের দেওয়াল ঘুরে আসুন, বিজেপির এই উচ্ছেদ, অত্যাচার, খুনের বিরুদ্ধে কটি পোস্ট পাবেন? পাবেন না। দেখে আসুন ফেসবুক ঘুরে।
দেশের প্রধান শত্রু কারা? কারা দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করছে, হিন্দু মুসলমান পাকিস্তান বাংলাদেশ দিয়ে সব ভোলাচ্ছে, জিনিসপত্রের দাম ১২ বছরে তিন চারগুণ বাড়িয়ে মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলছে, রেল বীমা ব্যাঙ্কে চাকরি নেই।
পঞ্চমত, অধিকারীর ভাইয়ের মামলা লড়েছিলেন বিকাশ ভট্টাচাৰ্য। নন্দীগ্রাম খেজুরি থেকে থেকে ২০০৭ হাজার হাজার পরিবারকে বছরের পর বছর উচ্ছেদ করেছিল কারা? নন্দীগ্রাম ১৪ মার্চের ঘটনার পিছনে কারা? ওই ঘটনা না ঘটলে বামফ্রন্ট আরও ২০ বছর ক্ষমতায় থাকতো।
দেবরাজ কি অধিকারীদের চেয়েও বেশি ক্ষতি করেছেন? তাহলে কাউকে ফেসবুকে পোস্ট করতে দেখিনি তো? বিকাশ ভট্টাচাৰ্য কেন মামলা নিয়েছেন অধিকারী পরিবারের বলে?
অধিকারীদের বিরুদ্ধে ৪ মের পর কোনো পোস্ট নেই রিক্সাচালকপুত্র চক্রবর্তী বাবুর দেওয়ালে। রাজ্যজুড়ে উচ্ছেদ লুঠ চলছে তিনি আনন্দিত ছবি দিচ্ছেন বউয়ের সঙ্গে।
ষষ্ঠত, সিংজি আমডাঙ্গা বীজপুর নোয়াপাড়া ব্যারাকপুর এলাকায় কম সন্ত্রাস চালিয়েছেন? ভিভিপ্যাট পাওয়া গেছে রাস্তায় নোয়াপাড়ায়।
তাঁর হয়েও তো মামলা করেছেন, বিকাশ ভট্টাচাৰ্য। তখন গেল গেল রব তোলেননি তো?
অনেকেরই মনে তীব্র মহিলা মুসলিম গরিব বিদ্বেষ আছে। তৃণমূলের প্রতি বেশি রাগের এটা একটা কারণ। হ্যাঁ, তৃণমূল দুর্নীতিগ্রস্ত।
কিন্তু বাকি বহু দলেও নেতাদের আয় ব্যয় সমান নয়। মাসে যত খরচ করেন তত মাসিক বৈধ রোজগার নয়। কতজনের যত আয় সেই বুঝেই খরচ বলতে পারেন?
বিকাশ ভট্টাচাৰ্য বৈধপথে রোজগার করেন। তাই এত্ত রাগ?
তৃণমূলের মতো দুর্নীতি আরো অনেকেই করেছেন, কিন্তু তাঁদের বেলায় চুপ কেন? আর রাজনৈতিক খুন তৃণমূলের আমলে সবচেয়ে কম। বাম আমলে হাজার কয়েক বামপন্থী কর্মী খুন হয়েছেন। তার ৯০ ভাগের সুবিচার হয়নি কেন? বলতে পারেন?
বিজেপির নেতারা কম দুর্নীতিগ্রস্ত? রাফায়েল, পিএম কেয়ার্স, গুজরাট গ্যাস কেলেঙ্কারি, নিট প্রশ্ন ফাঁস, গোরু পাচার, কয়লা পাচার, তোলাবাজি, জরিমানা আদায়, গুজরাট গ্যাস কেলেঙ্কারি, ওষুধের দাম বৃদ্ধি, বিদেশে গোমাংস পাচার, ব্যাপম চাকরি কেলেঙ্কারি, ইলেকশন বন্ড, নোটবন্দিতে টাকা বদল -- হাজার হাজার দুর্নীতি। সেনিয়ে কথা তো দেখিনা একেবারেই।
বহরমপুরের এক কংগ্রেস নেতা কম খুন করেছেন সিপিএমকে? পার্টির জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মানব সাহা খুন হয়েছিলেন কার হাতে?
তখন তো গেল গেল রব দেখিনি। দেখবোও না।
কারণ অনেকেই মুসলিম মহিলা ও গরিব বিদ্বেষী। তাই হকার উচ্ছেদ নিয়ে কথা নেই, রাজ্য জুড়ে তোলাবাজি জরিমানা, সরকারি কর্মচারী শিক্ষকদের মুখ সেলাই করা নিয়ে কোনো পোস্ট তাঁদের দেওয়ালে নেই। বিকাশ ভট্টাচার্য গোরু খেয়েছেন, ঘুষ খান না, ঘুষ খেতেও দেননি পুরসভায়, ঠিকাদারিরাজ কম চলেছে, নিজের জোরে আয় করেন এই সুযোগে তাঁকে চেপে ধরো।
নীতিবাক্য ১: নিজ চেষ্টায় সফল লোককে কাঙালিমন সহ্য করতে পারে না। গাল দেয় তেড়ে আদর্শের দোহাই পেড়ে।
প্রশ্ন ১: এইসব ফেসবুকিয় বিপ্লবীরা নিজ নিজ বুথের ভোটের হিসাব যদি দিতেন, কত ভোট পাইয়েছেন দলকে। সঙ্গে ২০১১-র হিসেব দিলে মেলাতে সুবিধা হবে কত ভোট পাঠিয়েছেন বাম থেকে রামে। থাকবেন বলে আরামে।