এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  পরিবেশ

  • আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস - আজ সংকল্প গ্রহণের দিন 

    Somnath mukhopadhyay লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | পরিবেশ | ০৪ জুন ২০২৬ | ১৫৯ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • সাতসকালে হৈ চৈ শুনে বাইরে বেরিয়ে আসতেই মালুম হলো হট্টগোলের কারণটা। আমার প্রতিবেশী এক মায়ে–পোয়ে আলাপন চলছে, তবে কিনা একটু উচ্চগ্রামে। আর সে জন্যই কথাগুলো ঘরের চৌহদ্দি উপচে এদিক ওদিক ছড়িয়ে পড়ছে ঢেউয়ের মতো। অন্যের কথা শোনা গর্হিত জেনেও বলছি, আসুন চুপচাপ ওদের কথায় কান পাতি।
     
    – “সব কিছুই একটা নিয়ম মেনে চলে। সেই নিয়ম ভাঙার খেলায় যদি তুই এখন থেকেই মেতে উঠিস, তাহলে তো আমাদের বাড়ির কোনো শৃঙ্খলাই আর অবশিষ্ট থাকবে না। প‌ইপ‌ই করে তোকে কতবার বারণ করেছি, অথচ তুই রোজ নিয়ম করে এই শৃঙ্খলা ভেঙে চলেছিস। আমার‌ও তো সহ্য করার একটা সীমা আছে! কত কষ্ট করে একটা ছোট্ট বাগান করেছিলাম, তোর খেলার জায়গা ছোট হয়ে যাচ্ছে বলে সেখানকার গাছগুলোকে সব ছারখার করে ফেললি। বাগানের একপাশে কায়দা করে রাজমিস্ত্রিকে দিয়ে ছোট্ট সুন্দর একটা বাঁধানো পুকুর মতো করেছিলাম যাতে কয়েকটা রঙিন মাছ ছাড়বো ভেবে। সেটাকেও নষ্ট করে ফেলেছিস। রাজ্যের আবর্জনা ফেলে তার হাল এখন রীতিমতো বেহাল, অমন নোংরা পচা জলে মাছেরা বাঁচে কখনো? বাড়িতে দু দুটো নীল আর সবুজ রঙের বালতি রাখা রয়েছে ময়লা আবর্জনা তুলে ফেলার জন্য। সেসবে কোনো হুঁশ নেই। সামান্য ময়লা তুলে ফেলতে গিয়ে তুই এই বালতির ময়লা ওই বালতিতে আর ওই বালতির ময়লা এই বালতির ভেতর ফেলছিস। এগুলো কি তুই ইচ্ছে করে করিস? কেন বুঝতে চাস না যে নিয়ম অনুযায়ী চললে আমরা সবাই ভালো থাকি, সুস্থ থাকি, স্বস্তিতে থাকি।
     
    যতদিন সত্যিকারের ছোট ছিলি, কাঁথায় মোড়া অবস্থায় শুয়ে থাকার বয়সে, ততদিন বেশ শান্তিতে ছিলাম সবাই। সকাল সকাল ভরপেট দুধ খাইয়ে, দুটো আলতো চাপড় দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখতাম। কোনো চাপ ছিলনা। বাড়তি কাজের জন্য কত সময় থাকতো হাতে। আর এখন? তোর্ এই দস্যিপনার দাপটে সবকিছু তোলপাড়! আজ এটা ভাঙছিস্ তো কাল ওটা! তোর এই দস্যিপনার জ্বালায় বাড়িসুদ্ধ সব লোকজনের একেবারে পাগলপারা অবস্থা। আশপাশের বাড়িতেও যে তোর্ মতো দাদাগিরি করার ছেলেপুলেদের ভিড়! সবার মুখেই এক কথা – আর তিষ্টোতে পারছিনা। সব নিয়মকানুন নেড়ে ঘেঁটে একসা করে দিচ্ছে ! কেন তোরা বুঝিসনা যে এতোদিনের নিয়ম শৃঙ্খলার বাঁধন টুকু থাকার জন্য‌ই তো আমরা বেঁচে বর্তে আছি।”
     
    উচ্চগ্রামের কথোপকথন একতরফা হলেও বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, আজ মায়ের মেজাজ একেবারে তুঙ্গে চড়ে আছে। আমরা কানাকানি করি – “সত্যিই ছেলেটা বড্ড বাড় বেড়েছে। বসুধার মতো রীতিমতো শান্ত শিষ্ট, সর্বংসহা মহিলার এমন রূপান্তর তো ভাবাই যায়না।”  
     
    ২.
    প্রভাতী আখ্যানের আপাতত এখানেই পরিসমাপ্তি। এবার যে যার কাজে লেগে পড়ি ঝটপট। তবে মাথার মধ্যে পাক খেতে থাকে মা বসুধা আর ছেলে মানবের কথোপকথনের খণ্ড খণ্ড পর্বগুলো। এই মুহূর্তে আমাদের পৃথিবীর সামনে সবথেকে বড়ো সমস্যা হলো বদলে যাওয়া বাতাবরণের সমস্যা। বসুধার কথা মতো মানব যতদিন কাঁথায় মোড়ানো জীবনে অভ্যস্ত ছিল, ততদিন বাড়ির শৃঙ্খলা ভঙ্গের মতো কোনো সমস্যার অস্তিত্ব ছিলোনা। গোল বাঁধলো সেদিন থেকে যেদিন ছোট্ট অসহায় মানব নিজের ইচ্ছে অনুসারে সবকিছুর ওপর নিজের দখলদারি কায়েম করতে উদ্যোগী হলো। এই এগিয়ে যাবার প্রবণতাটা একদমই সহজাত। প্রতিবেশী মানবকটি যে কারণে তার মায়ের কায়েম করা শৃঙ্খলার বেড়ার ভেতরে থাকতে চায়না, মায়ের দেওয়া বিধি নিয়মের বাইরে বেরিয়ে আসাতেই বুঝি তার আনন্দ, ঠিক একই ভাবে মানুষের অগ্রযাত্রার ইতিহাস তৈরি হয়েছে ওই নিয়ম ভাঙার খেলার মধ্য দিয়েই। এটাই যদি স্বাভাবিক হয়ে থাকে তাহলে হৈচৈ করছে কেন সবাই?   
     
    ৩.
    এখানেই নিহিত আছে আরও এক আখ্যান। বাড়ির মানবকটিকে নিজের নিয়মের বশে রাখতে মা প্রয়োজনমতো শাসনের শস্ত্র ধরেন, তাতে করে মানব কিছুদিনের জন্য সমঝোতার পথ বেছে নেয় বটে, কিন্তু তার মন পড়ে থাকে নিয়ম ভাঙার খেলার অলিগলিতে। কিন্তু প্রকৃতি মা তো তেমনটি করেন না। আমাদের কাজের ঔচিত্য আর অনৌচিত্য নিয়ে মুখর হননা। তাহলে? তিনি নিরন্তর সংকেত পাঠান আমাদের উদ্দেশ্যে। তার তন্ত্রগুলোর বিচলন তাঁকেও বিচলিত করে।আর তাই আমাদের সতর্ক করেন নানান উপায়ে, নানান আঙ্গিকে। বাড়ির মায়ের মনোগতির হদিস যেমন পাই তাঁর মুখ ভঙ্গিমায়, ভ্রু যুগলের বিচিত্র বিভঙ্গে, চোখের গহীন চাউনিতে ঠিক তেমন‌ই প্রকৃতির মনের অবস্থার ইঙ্গিত মেলে গ্রীষ্মের অসহনীয় দাবদাহে, বর্ষার বিলম্বিত আগমনে, অতি বর্ষণের কারণে নদীর কুলপ্লাবি বন্যায়, বৃষ্টিহীনতার কারণে সংঘটিত প্রলম্বিত খরায়, বিধ্বংসী অরণ্যগ্নির উদ্দাম বহ্ন্যুৎসবে, যুগ যুগ ধরে মেরু অঞ্চলের সঞ্চিত সুবিশাল হিম স্তূপের আকস্মিক গলনে,আপন স্ফূর্তিতে বেড়ে ওঠা সমুদ্র সলিলের উন্মত্ত তরঙ্গে। আমরা এই সব সংকেতকে বুঝেও না বোঝার ভাণ করে এড়িয়ে যেতে চাই নিজেদের অবিমৃষ্যকারিতার কারণে। আর তাই দিকে দিকে ভাঙনের মাতন। প্রাকৃতিক তন্ত্রের বিনাশী বিশৃঙ্খলা। 
     
    ৪.
    বহু সহস্র বছর ধরেই আমাদের ধরিত্রী মা প্রত্যক্ষ করছে বাতাবরণের পরিবর্তন। একটা জ্বলন্ত অগ্নি পিণ্ড ধীরে ধীরে শীতল হলো। বাইরের আবরণীটি কঠিন হলেও তার ভেতরের অংশ আজ‌ও অগ্নিগর্ভা। এই শীতলীকরণের ফলে বেরিয়ে আসা গ্যাসীয় উপাদানগুলো নানান পরিবর্তনের পথ বেয়ে একসময় প্রাণবিকাশের উপযোগী হয়ে উঠলো। এই বিবর্তনের প্রতিটি পর্বেই পৃথিবীর গ্যাসীয় আবরণীর বিচিত্র লীলাখেলা প্রত্যক্ষ করেছে পৃথিবী। তাকে সমঝে চলার জন্য সতর্কবার্তা, কার্যক্রমের লক্ষ্য আর লক্ষ্য পূরণের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে বারংবার। আমরা সে সব কথায় কান দিইনি। অনর্থক হৈচৈ করেছি, গড়িমসি করেছি, কোন্ পথে সমস্যার সমাধান হবে তা নিয়ে অযথা বাগারম্বর করেছি, অবহেলা করেছি বাতাবরণের ভারসাম্য রক্ষার কাজকে। আর এসবের কারণেই আজ বিপদের প্রান্ত সীমায় এসে পৌঁছেছে আমাদের বাসভূমি, আমাদের সবার পৃথিবী। 
     
    ৫.
    আজ কিন্তু আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে, সত্যিকারের ঘুরে দাঁড়ানোর সময়। পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে গেছে। ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তিতে বলা হয়েছিল যে আমরা পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির বিষয়টি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে বেঁধে রাখবো শিল্প বিপ্লবের সময়ের তাপমাত্রার সাপেক্ষে। সেই সীমারেখা অতিক্রম করে আমরা এগিয়ে চলেছি নতুন এক লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করতে। এই পরিস্থিতি আমাদের বিপদের ঝুঁকিকে যে আরও বাড়িয়ে তুলবে তা বলা বাহুল্য। জলবায়ুর শৃঙ্খলা বিপর্যস্ত হ‌ওয়ার অর্থ‌ই হলো আমাদের বাসভূমির এতো কালের প্রাণময় জীবনধারা স্তব্ধ হয়ে যাওয়া – এমন পরিণতি কখনোই আমাদের কাছে কাম্য নয়। 
     
    ৬.
    পৃথিবীর বর্ধমান উষ্ণতার আশু বিপদের কথা মাথায় রেখে প্রকৃতি পরিবেশের হাহাকার ধ্বনির প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে, আরও নিমগ্ন হয়ে শুনতে হবে, বুঝতে হবে প্রকৃতির অনুচ্চারিত সংকেতবার্তা। পরিবেশকে পরিশোধনের আয়োজন শুরু হয়েছে গোটা দুনিয়া জুড়েই। নতুন বিধিনিয়মের চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে একটু করে এক সমান্তরাল বিকল্প যাপনে অভ্যস্ত হচ্ছে বিশ্ববাসী। এদেশেও তার আভাস মিলছে ধীরে ধীরে। প্রথাগত জীবাশ্ম জ্বালানি উৎসের পরিবর্তে টেকস‌ই সবুজ শক্তিকে কাজে লাগানো হচ্ছে – বাড়ির ছাদে ছাদে বসছে সৌর বিদ্যুতের প্যানেল, দিগন্ত রেখায় মাথা তুলে দাঁড়াতে শুরু করেছে আধুনিক বায়ুকল। নতুন নতুন পরিবেশ বান্ধব চিন্তা ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে আধুনিক বসতি, যার ভিত্তি হলো বাস্তুতান্ত্রিক সহাবস্থানের মৌলিক আদর্শ। এই ব্যবস্থা হয়তো আগামীদিনে শহুরে তাপ দ্বীপের পরিসরকে অনেকটাই সংকুচিত করবে। বিকাশ আর উন্নয়নের নামে উজাড় হয়ে যাওয়া ধূসর প্রান্তরগুলো আবারও ফিরে পাচ্ছে তাদের হারিয়ে যাওয়া হরিয়ালি। এক্ষেত্রে ব্যষ্টিক প্রয়াস কোনো কোনো ক্ষেত্রে ছাপিয়ে যাচ্ছে সামুহিক উদ্যোগকেও। এ বড়ো আশার কথা, এ বড়ো সুখের কথা। দেরীতে হলেও দুনিয়া জুড়েই এক ইতিবাচক অগ্রগতি লক্ষ করা যাচ্ছে। সবটাই শেষ হয়ে যাবার মতো নয়।
     
    ৭.
    আজ ৫ জুন, ২০২৬। সারা পৃথিবী জুড়েই আজ উদযাপিত হচ্ছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস। এই বছর ( ২০২৬ ) বিশ্ব পরিবেশ দিবসের আয়োজক দেশ হলো রিপাবলিক অফ আজারবাইজান। রাজধানী বাকুতে এই অনুষ্ঠানের সূচনা করা হবে। পূর্ব ও পশ্চিম গোলার্ধের সন্ধিস্থলে অবস্থিত মধ্য এশিয়ার এই দেশটি তার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জলবায়ুগত বৈচিত্র্যের কারণে এক সম্পন্ন জীববৈচিত্রের অধিকারী। ২০১৫ সালের প্যারিস পরিবেশ চুক্তির শর্তগুলো যথাযথ রূপায়ণের ব্যাপারে এই দেশটি অত্যন্ত সদর্থক প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। পারস্পরিক দ্বন্দ্বের নীতিকে দূরে সরিয়ে রেখে এক সুস্থিত, টেকস‌ই জীবন যাপনের অবসর তৈরি করার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে এই দেশটি। বিশ্ব পরিবেশ দিবসের আয়োজক হিসেবে আজারবাইজানকে বেছে নেওয়ার পেছনে পরিবেশ রক্ষায় দেশটির অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকার খুব বড়ো ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
     
    ৮.
    হালফিল সময়ে আজারবাইজানের সরকার দেশটিকে এক নতুন সাজে সাজানোর কাজ করে চলেছে নিরলসভাবে। দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের বৈচিত্র্যময়তাকে অক্ষুন্ন রেখেই চলছে আগামীদিনের সুস্থিত রাষ্ট্র গড়ার কাজ।দেশটিতে খণিজ তেলের বিপুল ভাণ্ডার থাকা সত্ত্বেও দেশে সবুজ অর্থনীতি এবং অচিরাচরিত শক্তি উৎসকে আরও বেশি করে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে সে দেশের সরকার। পরিবহন পরিষেবায় আনা হয়েছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। পেট্রোল বা ডিজেল চালিত ইঞ্জিনের বদলে আনা হয়েছে ইলেকট্রিক ভেহিকল। কৃষি, শিল্প, নগরায়ন – সব ক্ষেত্রেই আধুনিক টেকস‌ই পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এইসব কার্যক্রম দেশের সার্বিক উন্নয়নের সাথে সাথে পরিবেশ বান্ধব যাপনের অঙ্গীকারকে সত্যি সত্যিই অর্থবহ করে তুলছে। দুনিয়াজোড়া পরিবেশ আন্দোলনের ক্ষেত্রে আজারবাইজান আজ এক সম্ভ্রান্ত রাষ্ট্রের নাম। যোগ্য দেশের হাতেই ব্যাটন তুলে দেওয়া হয়েছে তাতে সন্দেহ নেই।
     
    ৯.
    পরিবেশ নিয়ে সারা বিশ্বে আজ যে নতুন করে ভাবনার মন্থন তার পেছনে ভারতের একটা বড়ো ভূমিকা রয়েছে। ১৯৭২ সালের ১৪ জুন তারিখে সংযুক্ত রাষ্ট্রসংঘের উদ্যোগে সুইডেনের স্টকহোম শহরে আয়োজিত পৃথিবীর প্রথম পরিবেশ সম্মেলনে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী এক মর্মস্পর্শী ভাষণ দিয়েছিলেন। তার সূত্র ধরেই পরবর্তী সময়ে বিশ্বজুড়ে পৃথিবীর রাষ্ট্রনায়কদের পরিবেশ ভাবনা নতুন খাতে ব‌ইতে শুরু করে। পরিবেশের অবনমন নিয়ে টনক নড়ে গোটা দুনিয়ার।

    এই বছর কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবেশ দপ্তর মিশন লাইফ শীর্ষক যে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তার অন্যতম অঙ্গ হলো এক পেড় মাকে নাম অর্থাৎ মায়ের নামে একটি করে গাছ লাগানোর উদ্যোগ। নাগরিকদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানানো হয়েছে ওই দিনটিতে মায়ের নামে একটি করে গাছ লাগানোর। আশা করছি এই কর্মসূচি সফল হবে। রেকর্ড সংখ্যক গাছ লাগানো হয়েছে – এমন ঘোষণা করেই যদি কর্মসূচির সফল রূপায়ণের দাবি তোলা হয় তাহলে কিন্তু এই মহতী উদযাপনের মূল উদ্দেশ্যটাই বিফলে যাবে। মাথায় রাখতে হবে এই দেশের মায়েরাই একদা ঘাতকদের কুঠারের সামনে দাঁড়িয়ে গাছের গুঁড়ি আঁকড়ে ধরে রেখে চিপকো আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন। আজ পৃথিবী বিপন্নতার প্রান্ত সীমায় এসে পৌঁছেছে। পৃথিবীর বাতাবরণ আজ কলুষিত। আমাদের কৃত কর্মের ফলেই পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের তাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। তাকে আবার বসবাসের উপযোগী করে তুলতে হলে প্রকৃতির শাশ্বত অনুশাসনের নিবিড় অনুশীলন করতে হবে। এর বিকল্প কিছু নেই।
     
    ১০.
    শেষ করবো মহাভারতের অনুশাসন পর্বের কথা দিয়ে। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটেছে। লোকক্ষয়,প্রিয়জন হানি, বিপুল পরিমাণ সম্পদের অপচয় – এসবের মধ্য দিয়ে। শাসনের অধিকার অর্জন করেও একফোঁটা শান্তি নেই যুধিষ্ঠিরের মনে। ব্যাসদেবের পরামর্শে যুধিষ্ঠির শরশয্যায় শায়িত পিতামহ ভীষ্মের কাছে গেলেন সদুপদেশ লাভের জন্য। তিনি তখন‌ও দক্ষিণায়ণের শেষে উত্তরায়ণ পর্বের সূচনার অপেক্ষায় ছিলেন। ভীষ্ম যুধিষ্ঠিরকে রাষ্ট্র পরিচালনা বিষয়ে কতগুলো অনুশাসনের কথা বললেন।
     
    আমাদের বেহিসেবী জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে আজ নতুন অনুশাসনের শৃঙ্খলায় বাঁধতে হবে। প্রিয় ধরিত্রী আজ সংকটের শরশয্যায় শায়িত। এমন পরিণতির জন্য দায়ী আমরাই।তাই তাকে আবার বসবাসের উপযোগী করে তুলতে হলে যথার্থ পরিবেশানুগ যাপনে নিজেদের অভ্যস্ত করে তুলতে হবে। আজ কান পেতে ধরিত্রীর মর্মবাণী শোনার সময় এসেছে। আমরা যেন সজাগ হ‌ই।
     

    সোমনাথ মুখোপাধ্যায় 
    বিশ্ব পরিবেশ দিবস 
    ৫ জুন, ২০২৬
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • আলোচনা | ০৪ জুন ২০২৬ | ১৫৯ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Somnath mukhopadhyay | ০৫ জুন ২০২৬ ১৪:৩৬741026
  • কিছুই পড়া যাচ্ছে না।
  • সৌমেন রায় | 2409:*:*:*:*:*:*:* | ০৫ জুন ২০২৬ ১৫:৫৬741027
  • আশার কথা আছে এটাই আশার কথা।
  • ritabrata gupta | 106.*.*.* | ০৫ জুন ২০২৬ ১৭:৪৬741029
  • কি যে হবে জানিনা . বড়ো ভয় লাগে . যে হারে সবুজ শেষ হয়ে যাচ্ছে ! মানুষের তাও চৈতন্য নেই !
    সবকিছু ভালো থাকলেই ভালো .
  • Somnath mukhopadhyay | ০৫ জুন ২০২৬ ২১:৪৪741033
  • ভয় পেয়ে পিছিয়ে এলে চলবে না। বুক চিতিয়ে লড়াই করতে হবে সকলে মিলে। আমাদের ছোট ছোট প্রয়াস থেকেই জন্ম নেবে এক প্রত্যাশিত পরিবর্তনের সম্ভাবনা। এই লড়াই জারি থাকুক।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খারাপ-ভাল মতামত দিন