এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • ছোটগল্পঃ দ্যাখ কেমন লাগে

    Sagarmay Mandal লেখকের গ্রাহক হোন
    ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৭২ বার পঠিত
  • দ্যাখ কেমন লাগে
    সাগরময় মণ্ডল

    পাড়ার ভিতরের স্পোর্টিং ক্লাবটা ছাড়িয়ে আরও কিছুটা এগিয়ে গেলে ডানদিকে একটুকরো ফাঁকা জমি। জমির পুব দিকের বাউন্ডারির গায়ে যে দুতলা বাড়ি দেখা যাচ্ছে, ওটা দাসবাবুর। দাসবাবুর অনেকদিনের ইচ্ছে ওই ফাঁকা জমিটা কিনে নেবেন। তার প্রাণের বন্ধু অনিলকে একবার বলেছিলেন, চল দুজনে মিলে জমিটা কিনে নিই। কিন্তু অনিল রাজি হন নি। ফলে দাসবাবুর জমি কেনার ইচ্ছেটা অপূর্ণ থেকে গেল। ফাঁকতালে পাড়ার আর এক ভদ্রলোক জীবনবাবু জমিটা রাতারাতি কিনে নেন। কিনে নিয়েই তিন দিক উঁচু পাঁচিল দিয়ে ঘিরে নিলেন। পুব দিকটা ঘিরতে হয় নি কারণ ওদিকে দাসবাবুর পাঁচিল আগে থেকেই আছে। পাঁচিলের গায়ে দাসবাবুর একটা ছোট আমগাছ বসিয়েছেন। কলমের চারা বলে ছোট গাছেই আম ধরে। আমের জাতও ভালো। তাদের দেশের বাড়ি মুর্শিদাবাদ থেকে এনে বসিয়েছেন। ওখানে ওই আমের নাম শার্দুল্লা, এখানকার লোকে হিমসাগর বলে। বেগমবাহার আর রানিবাহার আমের আরও দুটো কলম বসিয়েছিল, তবে সে দুটো বাঁচে নি। বেঁচে থাকা আমগাছের গোঁড়া দাসবাবুর বাড়িতে থাকলেও গাছের যা কিছু ডালপালা সব জীবনবাবুর নতুন কেনা জমির উপরে। সে নিয়ে জীবনবাবু কিছু আপত্তি করেন নি। ছোট গাছ থাক না, আম ধরলে তিনিও দুএকটা পাবেন নিশ্চয়। জায়গাটা ঘিরে নিয়ে জীবনবাবু রাস্তার দিকে একটা বড় গেটও বসিয়ে দিলেন। যাতে করে ছোট গাড়ি ঢুকতে বেরোতে পারে। ফাঁকা জমি হঠাৎ করে পাঁচিল দিয়ে ঘেরা হয়ে গেলে যা হয়। নানা লোকের নানা কৌতূহল। কে কিনল? কত করে পড়লো? কি করবে? এতো বড় গেট, গ্যারেজ করবে নাকি? ইত্যাদি ইত্যাদি। পাশের বাড়ি হওয়ার সুবাদে দাসবাবুকেই এই সব বেয়ারা প্রশ্নের জবাব দিতে হত। তবে বেশিরভাগ সময়ই তিরিক্ষি মেজাজে পাল্টা প্রশ্ন করে তিনি ব্যাপারটা এড়িয়ে যেতেন। বলতেন, আমি কি করে বলবো? যার জমি তাকে জিজ্ঞাসা করুন।

    কিছদিনের মধ্যে জীবনবাবু পৌরসভাকে বলে একটা জলের লাইন নিয়ে নিলেন। এবার নানা রকম গাছপালা বসিয়ে রীতিমত একখানা বাগান বানিয়ে ফেললেন। ফল ফুলের সঙ্গে শাক-সব্জিরও চাষ শুরু করে দিলেন। অনেকদিন ধরে ফাঁকা পরে থাকা মাটিতে বীজ পড়তেই তা থেকে চারা ফুটে হুহু করে বেড়ে উঠতে লাগলো। তবে জীবনবাবু কেমিক্যাল সার দিতেন না। তবুও গাছের ‘বাড়ন’ বেশ ভালোই হচ্ছে। বিশেষ করে কুমড়ো গাছগুলো তো লক লক করে বেড়ে চলেছে। ফুলও আসছে অনেক। ফলও যে হচ্ছে না তা নয়। লতা পাতায় ঢেকে থাকে বলে বাইরে থেকে বোঝা যায় না এই যা। জীবনবাবু গাছে জল দেবার সময় পাতা সরিয়ে সরিয়ে দেখেন গাছে কুমড়ো ধরেছে কিনা। ফলের দেখা পেলে চোখটা চকচক করে ওঠে, খুব আনন্দ হয়। তিনি সেটাকে ভালো করে ঢেকে একটা চিহ্ন দিয়ে রাখেন, যাতে করে পরবর্তী সময়ে খুঁজে পেতে অসুবিধা না হয়। এমনি করে চারটে কুমড়োকে তিনি চিন্হিত করে রাখলেন। জীবনবাবুর শস্য-শ্যামলা বাগান দেখে দাসবাবুর বুকটা চিনচিন করে।

    ওদিকে দাসবাবুর আমগাছেও আম ধরেছে। সেগুলোও বেশ বড় হয়েছে এবং কিছুদিনের মধ্যে পেকেও যাবে। পাঁচিলের পাশ দিয়ে হাঁটতে গেলে আমগুলো মাথায় ঠেকে  যায়। জীবনবাবু চাইলে সেগুলো পেড়ে ফেলতে পারেন, কিন্তু পাড়েন না। হাজার হোক পরের গাছ তো। সে তার নিজের কুমড়ো নিয়েই খুশি। সেগুলোও পেকে এলো বলে। গায়ে সোনালি রং ধরেছে। গাড় সবুজের পাশে সোনালি রং, বেশ দেখতে লাগছে। আর কয়েকটা দিন গেলেই তুলে ফেলবেন।

    একদিন সকালে কুমড়ো গাছে জল দিতে গিয়ে জীবনবাবু দেখেন দাসবাবুর পাঁচিলের ধারের দুটো কুমড়ো কেউ বোঁটা ভেঙে তুলে নিয়েছে। বাকি দুটোর কাছে গিয়ে দেখলেন, সে দুটো আছে। দাসবাবুর আম গাছের দিকে তাকিয়ে দেখলেন, আমগুলো আগের মতই রয়েছে। শুধু তার কুমড়ো দুটোই নেই। তিনি তো রাগে মাথা গরম করে চেঁচিয়ে উঠলেন। তার চিৎকার শুনে কয়েকজন লোকও জড়ো  হয়ে গেল। তারা জীবনবাবুর বাগানে ঢুকে সরজমিনে দেখলেন, সত্যি তো কুমড়োর ডাঁটা ভাঙা। নিশ্চয় কেউ চুরি করেছে, নইলে অমন করে লতাগুলো ছিঁড়ত না। কিন্তু প্রশ্ন হোল, চোর যদি চুরি করতে বাগানে ঢুকে থাকে, তাহলে হাতের কাছে এতো ভালো আম থাকতে সে শুধু কুমড়ো কেন চুরি করবে! চুরি করলে আগে সে আম চুরি করবে। সেগুলো দামী এবং বয়ে নিয়ে যাওয়াও সহজ। তাহলে বোঝাই যাচ্ছে, কে কুমড়ো চুরি করেছে। সবাই ফিসফিস করে জীবনবাবুর কানে তাদের সন্দেহের কথা জানালো। কিন্তু জীবনবাবু বিশ্বাস করতে পারছেন না, দাসবাবু এমন কাজ করবেন কেন? তিনি তো বেশ সজ্জন ব্যক্তি বলেই এলাকায় পরিচিত। লোভ, বুঝলেন না দাদা লোভ। লোভ মানুষকে দিয়ে কত কাজ করিয়ে নেয়। এই বলে লোভে পড়ে কত ভালোমানুষ কবে কোথায়, কি খারাপ কাজ করেছে তার ফিরিস্তি শুনিয়ে জীবনবাবুর কান ভারি করে লোকজন চলে গেল। এতো গোলমালের মধ্যেও দাসবাবু কিন্তু একবারও বাড়ির বাইরে এলেন না। জীবনবাবু যখন চিৎকার করেন, তখন তিনি বাথরুমে। বাথরুম থেকে বেরিয়ে জামা কাপড় পাল্টে জীবনবাবুর কাছে আসতে গিয়ে দেখেন সেখানে অনেকেই পৌঁছে গেছেন এবং তাদের আলোচনা থেকে বুঝলেন যে তারা তাকেই চোর ঠাওরেছে। কি বলতে কি বলে ফেলবেন ভেবে তিনি আর বেরলেন না। ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে  ঘরে বসে রইলেন। সবাই এক এক করে চলে গেলেন। জীবনবাবুও যাবার সময় বাকি কুমড়ো দুটোকেও তুলে বগল দাবা করে নিয়ে গেলেন। আর কার ভরসায় রেখে যাবেন!

    এবার দাসবাবু বাইরে এসে দেখলেন। তাই তো, কুমড়ো দুটো তো তার পাঁচিলের গায়েই ছিল। কিন্তু নিল কে? আর চুরি করতে এসে আম ফেলে শুধু কুমড়ো নিয়ে চলে যাবেই বা কেন? এতে লোকে তো বলবেই, নিজের গাছের আম, তাই রয়ে গেছে, পরের গাছের কুমড়ো, তাই চুরি গেছে। যে কোন সাধারণ মানুষ তো তাই ভাববে। এতো বেশ ফ্যাসাদে  পড়া গেল। চিন্তা করতে থাকেন কে এমন করতে পারে। কিন্তু কারো কথা মাথায় এলো না। ভেবে ভেবে মাথার চুল ছিঁড়ে ফেলার জোগাড়।

    জীবনবাবু এখনও বাগানে আসেন। দাসবাবুকে কোনদিন ভালো মন্দ কোন কথা বলেন নি। বরং পাকা আম তার জমিতে পরে থাকলে সেগুলো যত্ন করে দাসবাবুর পাঁচিলের উপরে তুলে রাখেন, কিন্তু সামনা-সামনি গিয়ে সেগুলো নিয়ে আসতে দাসবাবুর সাহস হয় না। তার যেন নিজেকে কেমন পাগল পাগল লাগে। মনে হয় তার পাশে দাঁড়ানোর কেউ নেই। সবাই তাকে চোর বলে সন্দেহ করছে। কিন্তু তার কিই বা করার আছে। হতচ্ছাড়া চোর যদি তাকে ফাঁসানোর জন্য তার গাছের আম চুরি না করে তাহলে সে কি করতে পারে! জনসমক্ষে বের হতে দাসবাবুর ভয় হয়। যদি কেউ তার দিকে আঙুল তুলে বলে ওই দেখ কুমড়ো চোর যাচ্ছে, তিনি সহ্য করতে পারবেন না। হাট বাজারও লুকিয়ে লুকিয়ে যেতে হয়। এ অবস্থা সহ্য করা যায় না। নানা রকম ভাবনার মধ্যে হঠাৎ তার মাথায় এলো, আচ্ছা আমগাছটাকে কেটে ফেললে কেমন হয়! না রহেগা বাঁশ, তো না বাজেগা বাঁশরি। যেমন ভাবা তেমনি কাজ। পরের দিন সকাল বেলা, একটা কাটারি নিয়ে চলে গেলেন আমগাছ কাটতে। দু’একটা ডাল কাটার পরে গাছের গোঁড়ায় কোপ মারতে যাবেন এমন সময় সদর দরজায় কে যেন কলিং বেল বাজাল। কাজে বাধা পড়ায় একটু বিরক্তি ভাব নিয়েই সদর দরজার দিকে এগিয়ে গেলেন। গিয়ে দেখেন একমুখ হাসি নিয়ে রামশরন দাঁড়িয়ে আছে। সে আগে দাসবাবুর বাড়িতে টুকটাক লেবারের কাজ করতে আসতো। গ্রিল পরিস্কার করা, গ্রিলে রং লাগানো এইসব। পুজোর আগে গ্রিল পরিস্কার করার সময় দাসবাবুর একটা হাতঘড়ি চুরি গেল। টেবিলে রাখা ছিল, তারপর আর পাওয়া যাচ্ছিল না। দাসবাবুদের ধারণা এ কাজ রামশরনের। যদিও সে বারবার চুরির কথা অস্বীকার করে। কিন্তু দাসবাবুরা তাকেই দোষী সাব্যস্ত করে। থানা পুলিশ হয় নি, কিন্তু বেশ বকাঝকা করে তাকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় সে দারুন সঙ্কটের মধ্যে পড়ল। চোর অপবাদ জোটায় তাকে আর কেউ কাজে ডাকতো না। আর্থিক অনটন সামলাতে না পেরে সে বিহারে তার দেশের বাড়ি চলে যায়। তারপর আজ আবার দাসবাবুর বাড়িতে এসেছে। সে দাসবাবুকে দেখে নমস্কার করল, নমস্তে বাবুজি। দাসবাবু বললেন, কি ব্যাপার, এই সাত সকালে! কি মনে করে? দেশ থেকে কবে এসেছিস?
    - এক হপ্তা হোবে। একগাল হেসে জবাব দেয় রামশরন।
    হাসি দেখে দাসবাবুর পিত্তি জ্বলে যায়। বলেন, তা কি দরকার? টাকা পয়সা দিতে পারবনা।
    - টাকা মাংতে আসি নি।
    - তবে?
    - ম্যায় রাস্তা পে যা রহা থা। যাতে যাতে আপকো আমকা পের কাটনে কো দেখা তো চলা আয়া।
    - চলা আয়া! তা চলে এলি কেন?
    - আপ উ পের কো মত কাটিয়ে। পের কা কোই গলতি নেহি হ্যায়।
    - মানে?
    - মানে জীবনবাবুকা ও দোনো কদ্দু ম্যায়নে চোরি কিয়া।
    - তুই চুরি করেছিস?
    - হাঁ বাবু।
    - হাঁ বাবু! জানিস, তোর ওই কদ্দু চুরির জন্য আমাকে কত বিড়ম্বনা সহ্য করতে হয়েছে?
    - জানি তো বাবু।
    - জানিস! তাহলে তুই চুরি করলি কেন? আর চুরি যদি করতেই হত, তবে আমার গাছের আমগুলো কেন একসঙ্গে চুরি করলি না? তাহলে তো আমাকে চরের অপবাদ সইতে হোত না।
    - ওটা তো হামার পেলান (প্ল্যান) ছিল বাবু।
    - প্ল্যান ছিল! মানে?
    - মানে, জব আপকা ঘর সে ঘড়ি খো গিয়া থা উস টাইম আপনে জবরদস্তি মুঝে চোর বানা দিয়া থা। ঘর সে নিকাল দিয়া থা। লেকিন ম্যায়নে ও চোরি নেহি কিয়া থা।
    - সে তো জানি, ঘড়ি তো টেবিলের তলায় রাখা ডাস্টবিনে পড়ে গেছিল। পরে পেয়েছি।
    - আপকা ঘড়ি তো মিল গয়া। লেকিন হামারা কিয়া হুয়া? আপনে তো মেরা ইজ্জত পর গোলি মার দিয়া আর পেট মে লাথ। মুঝে চোর সমঝকে সব লোগ কাম দেনে মে ইনকার কর দিয়া। বলতে থে, হাম চোর কো কাম নেহি দেঙ্গে। মেরা রুটি রোজগার, ধান্দা সব বন্দ হো গিয়া। মুঝে গাঁও মে বাপাস জানা পরা। মেরা আঁখ মে নিদ নেহি থা, পেট মে দানা নেহি থা।
    - তাই তো রে। বড় ভুল হয়ে গেছিল। আক্ষেপের সুরে দাসবাবু বললেন।
    - বাপাস আনে কা বাদ, ম্যাইনে দেখা জীবনবাবুকা খেতি মে কদ্দু হ্যায় আর আপকা পের মে আম হ্যায়। মেরা দিমাগ মে এক সোচ আয়া। ম্যায়নে কদ্দু চুরা লিয়া আর আমকো ছোড় দিয়া। জিসসে এইসা লাগেগা যো আপনে হি কদ্দু চুরা লিয়া।

    দাসবাবু অবাক বিস্ময়ে রামশরনের দিকে তাকিয়ে ভাবলেন, ব্যাটা পেটে পেটে এতো বুদ্ধি ধরে! নিশ্চয় কেউ পরামর্শ দিয়েছে। রামশরন আবার বলল, লোগো নে এইসা হি সোচা। আব পাতা চলা বাবু, চোরি নেহি করনে কি বাবজুদ, কিসিকো চোর বলনে সে উসকা দিমাগ মে ক্যাইসা উলটপালট চলতা হ্যায়।
    - হ্যাঁরে রামশরন। তুই আমাকে খুব শিক্ষা দিলি বাপ। এবার যা, আমার গাছ থেকে আমগুলো চুরি করে আমাকে চোর অপবাদ থেকে মুক্তি দে তো।
    - জরুর দেঙ্গে। আজ রাতকো কাম হো জায়েগা। সুবে সভি লোগো দেখেঙ্গে আপকা আম ভি চোরি হো গিয়া। আপ নিশ্চিন্ত রহিয়ে।
    তাদের দুজনের মুখে হাসির ঝিলিক খেলে গেল। একজন চোর অপবাদের হাত থেকে মুক্তি পাবে বলে, আর অপরজন প্রতিশোধ নিতে পেরে।

    সমাপ্ত
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভ্যাবাচ্যাকা না খেয়ে প্রতিক্রিয়া দিন