শিক্ষক দিবস
সকাল থেকেই আপনাদের ফোনে মেসেজ আসছে
হ্যাপি টিচার্স ডে, হ্যাপি টিচার্স ডে
ছবিতে স্যার সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন মুচকি হাসছেন
স্যার যদুনাথ ও হাসছেন ইতিহাস বইয়ের পাতা থেকে,
পাহাড় থেকে সমতট সবাই বলছে হাসিমুখে
টিচার্স ডে টিচার্স ডে টিচার্স ডে
আঙুলে চকের গুঁড়ো মাখা জীবিত শিক্ষক শুনছেন,
“ভালো থাকবেন স্যার, প্রণাম নেবেন”।
রজনীগন্ধার মালা পরা মৃত শিক্ষক শুনছেন,
“স্যার যেখানেই থাকুন ভালো থাকবেন”।
উদ্ধত তর্জনীর সামনে দাঁড়িয়ে থাকা
জীবন্মৃত শিক্ষকেরা শুনছেন,
“মাস্টারমশাই আপনি কিন্তু কিছু দেখেননি, শোনেননি, বলেননি…”
ক্রমে ক্রমে উপহারের পেন, ডায়েরি, জিডি, ফুলের তোড়া, ঠান্ডা হুমকি, ঠান্ডা খাবারের প্যাকেট,
সবই জমতে থাকে, প্রিয় শিক্ষকের জন্যে,
জমতে থাকে আশাবাদ, ভালোবাসা, সৌহার্দ্য
এবং আরো অনেক কিছুই।
জমতে থাকে হতাশা, ভয়, আশঙ্কা, ঘরের কোণায় ধুলোর মতন
জমতে থাকে ফুটপাথ জুড়ে বসে থাকা শিক্ষকের ভিড়,
জমতে থাকে চাকরি যাওয়া শিক্ষকের লিস্ট,
জমতে থাকে নামমাত্র ভ্যাকেন্সির অভিশাপ
জমতে থাকে শিক্ষক বিহীন স্কুলের নাম
এই সব জমার খরচ দেখবে কোন রাঙা বিকেল, কে জানে?
তবে এইসব বিরক্তিকর কথা
আজ তোলা থাকনা,
আজ শুধুই আনন্দের দিন,
ঐ যে শোনা যাচ্ছে,
স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় একযোগে গলা তুলে বলছে
আজ টিচার্স ডে, টিচার্স ডে, টিচার্স ডে,
ভালো করে কান পেতে শুনুন তো স্যার আরেকবার
ওরা কি বলছে আরো টিচার দে, টিচার দে, টিচার দে, ?
@প্রদীপের দৈত্য