এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  স্কুলের খাতা

  • শিক্ষা: এখন আর দেরি নয়...

    Somnath mukhopadhyay লেখকের গ্রাহক হোন
    স্কুলের খাতা | ০৩ আগস্ট ২০২৬ | ৫৩৩ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • শিক্ষা : এখন আর দেরি নয়….
     
    এই মুহূর্তে আমাদের ক্লাসরুমগুলো ভালো নেই। এক গভীর অন্ধকারে ক্রমশই তলিয়ে যাচ্ছে সরকারি স্কুলগুলো। গোটা দেশ জুড়েই এমন অবস্থা – এ বলে আমায় দেখ, তো ও বলে আমায়। এসব যে খুব সাম্প্রতিক সময়ে ঘটছে এমন কিন্তু মোটেও নয়। এ অবস্থা চলছে অনেক দিন ধরেই, হাল আমলে হয়তো এই ডুবে যাওয়াটা নতুন গতি পেয়েছে। মাত্র কিছুদিন আগে গুরুর পাতায় যদুবাবুর একটি নিবন্ধ প্রকাশ পেয়েছে যার শীর্ষক ছিল - সা বিদ্যা যা বিমুক্তয়ে, যার অর্থ – প্রকৃত শিক্ষা বা জ্ঞান হলো তাই যা মানুষকে মুক্তি দেয়। বিষ্ণু ভক্ত প্রহ্লাদ তার পিতা দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপুকে উদ্দেশ্য করে এই কথাটি উচ্চারণ করেছিলেন। বালক প্রহ্লাদ যে জ্ঞান পথের পথিক হতে চেয়েছিলেন তা ছিল পরম জ্ঞান সাধনার পথ। নিজেকে নতুনভাবে খুঁজে পাবার পথ। সেই পথ থেকে আমাদের শিক্ষা বহুদিন হলো “মার্গাচ্চ্যুতং ভবতি।” সেই পথে আমাদের শিক্ষার ফিরে যাওয়া উচিত কিনা? তা নিয়ে প্রবল আলোচনা হতে পারে।
     
    আমি এই মুহূর্তে সে পথে যাবো না, কিন্তু একথায় তো ভুল নেই যে আমাদের একালের শিক্ষা কাঠামো নড়বড়ে শুধু নয় তা রীতিমতো বিলীয়মান। ২০১৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যবর্তী সময়ে, অর্থাৎ চলতি সরকারের শাসন আমলে সরকারি স্কুলের সংখ্যা এক ধাক্কায় কমেছে ১ লক্ষেরও বেশি। স্বাভাবিক ভাবেই ছাত্র ভর্তির সংখ্যাও ৫৪% থেকে কমে এসেছে ৪৯% এ। স্কুল আছে ছাত্র নেই অবস্থা যেমন আছে তেমনই আছে ভরপুর ছাত্র অথচ স্কুল চালাচ্ছেন মাত্র একজন শিক্ষক বা শিক্ষিকা। পাশাপাশি এই সময়ের মধ্যে অসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেড়েছে রীতিমতো ঝড়ের গতিতে। নদীর এ কুল ভাঙলে ও কুল গড়ার নিয়ম মেনেই এই সময়ের মধ্যে অসরকারি স্কুলের সংখ্যা বেড়েছে ১৬ থেকে ৩২ শতাংশ। আর এই বৃদ্ধির ফলে দেশের মোট বিদ্যালয়ের ৩১ থেকে ৪০ শতাংশ স্কুল এখন অসরকারি মালিকানার নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। এই স্কুলগুলোতে পড়াশোনা করতে হাজির হয়েছে দেশের মোট ছাত্র ছাত্রীদের প্রায় ৪০ % শিক্ষার্থী। অনুপুঙ্খ অনুসন্ধানে দেখা যাবে এই হিসেবের রাজ্য‌ওয়াড়ি চিত্রটিও সর্বত্র সমান নয়। শিক্ষা আমাদের সবচেয়ে যত্নের ক্ষেত্র না হয়ে চরম অবহেলা ও অনাদরের মঞ্চ হয়ে উঠেছে। এই বৈষম্যের বাতাবরণের মধ্যে বেড়ে ওঠা শিক্ষার্থীরা পরবর্তীতে যে রাষ্ট্রিয় বৈষম্যের শিকার হতে বাধ্য হচ্ছে তা বোধহয় বুঝিয়ে বলার অপেক্ষা রাখেনা। স্বয়ং নীতি আয়োগের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন অসঙ্গতি আর ভয়াবহতার কথা, সুতরাং এই প্রতিবেদনকে বিরোধীদের মনগড়া রাজনৈতিক অভিসন্ধি বলে খারিজ করার কোনো উপায় নেই। তিল তিল করে ক্ষ‌ইতে থাকা একটা ব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারা আজ একেবারেই উন্মোচিত হয়ে গেছে। 
     
    এমনি এক বিয়োগান্তক প্রেক্ষাপটে উঠে এসেছে আরও এক সমীক্ষার ফলাফল। এই সমীক্ষা অবশ্য খুব সম্প্রতি করা হয়েছে তেমন নয়, গত বছরের শেষের দিকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে হার্ভার্ড গ্রাজুয়েট স্কুল অফ এডুকেশনের বিশিষ্ট মনোবিজ্ঞানী হাওয়ার্ড গার্ডনার এক চমকপ্রদ ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। গার্ডনার সাহেবের মতে – “একটি ক্লাস ঘরের বাঁধা চৌখুপ্পির মধ্যে বসে একজন গুরুঠাকুরকে সাক্ষী রেখে এক‌ই ধরনের পাঠে মশগুল হয়ে থাকার যে সাবেকি ব্যবস্থা এতোদিন ধরে আমাদের শেখার প্রচেষ্টাকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, এবার তাকে বিদায় দেবার সময় এসেছে”। এক‌ই পাঠ সকলে মিলে এক‌ইভাবে মগজস্থ করার যে পদ্ধতি যাকে এতোকাল বিণা বাক্যব্যয়ে শেখা বলে জেনেছি তা একালে একেবারেই অচল হয়ে পড়েছে। এবার একে বাতিল করতে হবে। এর ফলে আগামীদিনে একেবারে চেনা ঢঙের প্রাথমিক শিক্ষাটুকু দেওয়া ছাড়া একালের স্কুলগুলোতে পড়াশোনা একেবারে উঠে যাবে। গার্ডনারের মতে, ১৮ বছর বয়সে পৌঁছলেই একজন ছাত্রের শেখার পর্বটি শেষ হয়ে যাবে এমন নয়, বছর শেষের একটা মাত্র পরীক্ষায় পাওয়া গুটিকয় নম্বরের ভিত্তিতে তাদের মূল্যায়ন করা যাবে না। পদ্ধতিতে বদল আনতেই হবে। গার্ডনার মনে করেন যে এটা আমাদের প্রচল ধারায় একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে চলেছে যেখানে সকলকে এক‌ই পাঠ না শিখিয়ে প্রত্যেকের জন্য স্বতন্ত্র ভাবনার খোরাক জোগাতে হবে। গার্ডনার মনে করেন যে আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে এই পরিবর্তন অনিবার্য হতে চলেছে। ইতোমধ্যেই তাঁর ভাবনা চিন্তা নিয়ে আলাপ আলোচনা চলছে এবং স্বাভাবিক ভাবেই এমন চিন্তা ভাবনাকে অত্যন্ত সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বলে মতামত দেওয়ার লোকজনের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন যে তাঁর কথায় যুক্তি আছে, তাঁকে একেবারে ভ্রান্ত বলে বাতিল করে যাবে না। 
     
    এমন একটা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আমাদের দেশের শিক্ষার তথ্য শিক্ষাব্যবস্থার চেহারার যে প্রতিবিম্বটি চোখের সামনে ভেসে ওঠে তা যে রীতিমতো ভয়াবহ তা বোধহয় আলাদা করে বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন নেই। আমাদের এই সময়ের শিক্ষা কেবলমাত্র সাবেকি, প্রাচীন ধারার নয়, জোড়াতালি দেওয়া এই ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে। ফাঁক ফোকর এতোটাই যে নতুন শিক্ষা নীতির বুলি ছুটিয়ে এই ভাঙনকে ঠেকানো যাবেনা। আমাদের এখানে এখন‌ও স্মৃতি নির্ভর শিক্ষার রমরমা, বাঁধা কিছু প্রশ্ন, বাঁধা কিছু উত্তর মুখস্থ করেই আমাদের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা নামক বৈতরণী পেরিয়ে যায় বছরের পর বছর ধরে। যাঁরা পড়ান এবং যারা পড়ে তাদের উভয়েরই চিন্তা ভাবনার ক্ষেত্রগুলো এক‌ই সুতোয় বাঁধা,ফলে যতোই তাকে নাড়িয়ে দেবার বাহ্যিক আয়োজন করা হোকনা কেন ভেতরের অন্তর্লীন ঝঙ্কারে সেই বাঁধা পর্দায় সুর সাধার পর্ব চলে। আমাদের শিক্ষা নতুন জিজ্ঞাসা,নতুন বোধের জন্ম দিতে পারছে না, আমাদের শিক্ষার্থীরা পড়ে, মুখস্থ করে, পরীক্ষার খাতায় তা উগড়ে দেয় কিন্তু নতুন প্রশ্নের সামনে নিজেকে দাঁড় করাতে শেখেনা। অথচ এমন অসার ব্যবস্থা কবেই বাতিল করে দিয়েছে গোটা দুনিয়ার অগ্রণী দেশগুলো ! আর আমরা তাকেই আঁকড়ে ধরে আছি প্রশ্নাতীত আনুগত্যে।
     
    আসলে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মূল ধাঁচাটা গড়ে তোলা হয়েছে একটা বাতিল হয়ে যাওয়া কলোনিয়াল ব্যবস্থাপনার ওপর। এই ব্যবস্থা আমাদের আত্মজিজ্ঞাসার সুযোগকে একেবারে শুরু থেকেই ‌দমিয়ে রাখতে চেয়েছে। সবার জিজ্ঞাসা যদি এক হয় তাহলে উত্তর দেওয়া খুব সহজেই সম্ভব। জনে জনে আলাদা প্রশ্ন করলে যে মহাবিপদ! ওরা যতো বেশি জানে,তত কম মানে। সুতরাং বুলডোজার দিয়ে সব প্রশ্ন,সব জিজ্ঞাসা ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও। এই ব্যবস্থার মধ্যে সবকিছুকে ভেঙেচুরে নিয়ে নিজের মতো করে সাজিয়ে নেওয়া কি সহজ ব্যাপার ? গার্ডনার মনে করেন, আগামীদিনে দুনিয়ার সব স্কুলেই কেবলমাত্র কতগুলো প্রাথমিক বিষয়ে শিক্ষার্থীদের তালিম দেওয়া হবে – রিডিং, রাইটিং, ম্যাথস, আর এই সময়ের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে কোডিং আর তারপরেই শিক্ষার্থীরা ব্যস্ত হয়ে উঠবে নিজেদের সুচিন্তিত প্রকল্প রূপায়ণের কাজে, নিজের কাজের মধ্যেই নতুন করে আবিষ্কার করবে নিজেকে, আর শিখবে এই মুহূর্তের উপযুক্ত AI প্রযুক্তি ও তার ব্যবহার।
    গার্ডনার সাহেবের মতামতকে মান্যতা দিলে আমাদের চলতি শিক্ষা ব্যবস্থাকে আলবিদা জানাতে হবে বৈকি।
     
    আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় পুঁজির বিনিয়োগ বাড়ছে। সরকার হাত তুলে দিয়েছে, আর সেই ফাঁক দিয়ে অবাধে ঢুকছে অসরকারি মূলধন। এর কারণে আমাদের দুখিনী সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে নব্য পঠনপাঠন ব্যবস্থার ব্যবধান বাড়ছে, বাড়ছে এক দুর্লঙ্ঘ্য ব্যবধান। ফারাক আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে শিক্ষার উপকরণ হিসেবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যথেচ্ছ ব্যবহার। আমাদের বোঝানো হচ্ছে ওই সব প্রযুক্তি ছাড়া পড়াশোনা,শেখা,বোধ নির্মাণ অসম্ভব,অপূর্ণ। একথা তো অস্বীকার করার উপায় নেই যে শিক্ষা ও প্রযুক্তি দুইই আবহমানকাল থেকে হাত ধরাধরি করে এগিয়েছে। আজ প্রযুক্তিকে শিক্ষার ওপরে ঠাঁই দেবার এক অদ্ভুত প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আজ যেন আমাদের বোঝানো হচ্ছে শিক্ষা মানে প্রযুক্তি আর প্রযুক্তিই উত্তরণের একমাত্র পথ। অভিভাবকরা এই নবায়িত ব্যবস্থাকেই সন্তানদের উত্তরণের উপায় বলে মনে করছেন। ফলে দুই ব্যবস্থার মধ্যে শূন্যতা বেড়েই চলেছে।
     
    শিক্ষার্থীদের দিকে আঙ্গুল তুলে লাভ নেই। আজ হঠাৎ করে চিন্তাশীল হতে বললে হবে কেন? কতগুলো বস্তাপচা বুলি কপচিয়ে গিয়েছি আমরা, বলেছি এই পথেই চলা অভ্যাস করো। আমাদের ব্যবস্থাপনায় উদ্ভাবনের কোনো অবকাশ রাখিনি আমরা, তৈরি করিনি স্বাধীন চিন্তার কোনো বিকল্প পথ। আমাদের শিক্ষকরাও ওই বাঁধা নিয়মের চলনে নিজেদের অভ্যস্ত করেছেন। আজ তাই সংকট তাঁদের সামনে এসে চোখ রাঙাচ্ছে। 
     
    বদলাতে হবে অনেক। সবার আগে বদল আনতে হবে আমাদের এতোদিনের ধারনায়।সময় সংক্ষিপ্ত। তাই উদ্যোগ নিতে হবে আজ,এখন‌ই।
     
     
     
    সোমনাথ মুখোপাধ্যায়।
    আগস্ট ৩.২০০৬.

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • স্কুলের খাতা | ০৩ আগস্ট ২০২৬ | ৫৩৩ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • অরিন | ০৪ আগস্ট ২০২৬ ০৫:২১742107
  • যথারীতি আবার একটি অত্যন্ত সুলিখিত এবং সুচিন্তিত প্রবন্ধ লিখেছেন।
    আপনার বক্তব্য ও চিন্তাধারার সঙ্গে সহমত।
    একটি টিপ্পনি যদি করা যায়:
     
    "আরও এক সমীক্ষার ফলাফল। এই সমীক্ষা অবশ্য খুব সম্প্রতি করা হয়েছে তেমন নয়, গত বছরের শেষের দিকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে হার্ভার্ড গ্রাজুয়েট স্কুল অফ এডুকেশনের বিশিষ্ট মনোবিজ্ঞানী হাওয়ার্ড গার্ডনার এক চমকপ্রদ ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন।"
     
    কোন সমীক্ষার কথা বলছেন লিখে লিঙ্ক দিলে বুঝতে সুবিধা হত। প্রসঙ্গক্রমে মনে পড়ল গত বছর সেপটেমবার মাসে হাওয়ার্ড গারডনার হারভারড বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ফোরামে অনেকটা এই কথা বলেছিলেন, ভিডিওটির লিঙ্ক দিলাম, ২৩:৩১ মিনিট থেকে দেখুন
     
     
    আপনি তো জানেন যে শিক্ষাজগতে হাওয়ার্ড গার্ডনার বিতর্কিত চরিত্র | 1983 সালে তাঁর লেখা ফ্রেমস অফ মাইণ্ড বইতে তিনি
    multiple intelligence থিওরীর সূত্রে মানুষের নয় রকম ভাবে শেখার কথা বলেছিলেন,
    • Linguistic – facility with words and language
    • Logical-mathematical – reasoning, numbers, abstract patterns
    • Spatial – visualizing and manipulating space and images
    • Musical – sensitivity to rhythm, pitch, and sound
    • Bodily-kinesthetic – control of one's body, physical coordination
    • Interpersonal – understanding and relating to other people
    • Intrapersonal – self-understanding, insight into one's own emotions and motivations
    • Naturalistic – recognizing and categorizing elements in the natural world
    এ নিয়ে পরে বিস্তর জল ঘোলা হয়েছিল যদিও শিক্ষা মহলে ব্যাপারটি মোটামুটি উতসাহের সঙ্গে জনতা মেনে নেয়, যেহেতু গার্ডনার তাঁর তত্ত্বের সমর্থনে সেভাবে কোন তথ্য পেশ করতে পারেননি, ব্যাপারটি বৈজ্ঞানিক মহলে বিস্তর সমালোচিত হয়েছিল, গার্ডনার নিজেও পরে স্বীকার করেছিলেন যে তার তত্ত্ব সেভাবে এমপিরিকাল ঘটনার ওপর নির্ভর করে ছিল না, বরং conceptual ভাবেই ভাবতে হবে | এদিকে শিক্ষা মহলে learning style নিয়ে একসময়ে বিস্তর চর্চা হয়েছিল। পরে গার্ডনার Five Minds for the Future নামে একটি বই লেখেন তাতে
    • The Disciplined Mind – mastery of at least one major school of thought (a discipline, craft, or profession) and a commitment to continuous improvement in it.
    • The Synthesizing Mind – the ability to gather information from disparate sources, understand and evaluate it objectively, and integrate it into a coherent whole that makes sense to oneself and others.
    • The Creating Mind – the capacity to break new ground, put forward novel ideas, pose unfamiliar questions, and come up with fresh ways of thinking or working — going beyond existing knowledge.
    • The Respectful Mind – awareness of and appreciation for differences among individuals and groups, and the ability to work effectively with people who may be different from oneself.
    • The Ethical Mind – fulfilling one's responsibilities as a worker and as a citizen, thinking beyond self-interest about the kind of person, worker, and community member one wants to be.
    এখন বলছেন (তাঁর ব্লগ পোস্টে, দেখুন https://www.howardgardner.com/howards-blog/five-mindsrethinking-education-in-the-era-of-ai-general-intelligence ) তার মধ্যে এ আই এর কল্যাণে শুধু Respectful আর এথিকাল মাইণ্ড টুকু থাকবে।
    যাক সে কথা।
    আরেকজনের কথা প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখযোগ্য যদিও লেখেননি তিনি স্যার কেন রবিনসন, তাঁর বিলেতের প্রাথমিক মাধ্যমিক স্কুলের পঠনপাঠন আর কারখানায় মজুরি কেমন একরকম ব্যাপার (ঘন্টা বাজিয়ে কাজ/ক্লাস শুরু শেষ, ইউনিফর্ম পরা শিশু/শ্রমিক, নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট কাজ/পড়া করা, সময় মেপে খাওয়া) এই নিয়ে বেশ চমৎকার কিছু কাজ আছে। মানে স্কুল তৈরী হয়েছিল কলকারখানায় শ্রমিক তৈরির আখড়া হিসেবে, সে আর বদলায় নি। যেহেতু আমাদের দেশে বিলেতের ধাঁচে ইশকুল তৈরী হয়েছে ঐটেই রয়ে গেছে।
     
    নতুন চিন্তাভাবনার সময় হয়েছে।
     
  • সৌমেন রায় | ০৪ আগস্ট ২০২৬ ১০:২৭742109
  • মাস্টারমশাই একটি বাস্তব অবস্থা তুলে ধরেছেন।তত্ত্বকথা বিশেষ জানিনা। শুধু সাহেব কথিত বেসিক শিক্ষা ( রিডিং,রাইটিং, ক্যালকুলেটিং) টুকুতে যে বিপুল ফাঁকি থেকে যাচ্ছে সেখানে তত্ত্বের থেকে অন্য সমস্যা অনেক বেশি। সেটি আগে হোক। জল প্রথমে গোড়ায় ঢালা প্রয়োজন।
  • Somnath mukhopadhyay | ০৪ আগস্ট ২০২৬ ১০:৪২742111
  • @ সৌমেন রায় 
    মতামত পাওয়া গেলে ভালো লাগে। দীর্ঘদিন ছেলেপিলেদের সঙ্গে সময় কাটানোর পর আজ বুঝতে পারছি যে আমাদের শিক্ষার বিসমিল্লাতেই বড়ো ফাঁক রয়েছে। ব্যতিক্রম কি নেই? অবশ্যই আছে। তবে সাধারণ স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ওই প্রাথমিক বিষয়গুলো নিয়েই বিস্তর অপূর্ণতা রয়েছে। সরকার নানান পরিকল্পনার কথা বলেন বটে কিন্তু রেমেডিয়াল ব্যবস্থা কতদূর সফল হলো তার কোনো খোঁজ রাখে না। যাঁরা ছাত্রদের তালিম দেন তাঁরাও যে এই বিষয়ে সচেতন তা মনে হয় না। যেভাবেই বলি, যতোবারই বলি শিশু শিক্ষা অবহেলিতই থেকে যায়।
  • Somnath mukhopadhyay | ০৪ আগস্ট ২০২৬ ২০:৫৩742113
  • @ অরিন বাবু 
    অত্যন্ত জরুরি কতোগুলো কথা তুলে ধরার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। গার্ডনার সাহেবের কথা গত বছর‌ই প্রথম শুনি তার এক সাক্ষাৎকারের সূত্রে। ২০৫০ সালের মধ্যে সব ক্লাসঘর লোপাট হয়ে যাবে জাতীয় কথা বলেছিলেন সম্ভবত। আপনি বিপুল পরিমাণ তথ্য পাঠিয়েছেন। ওগুলোর সদগতির চেষ্টা করবো। আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এতোটাই স্থবির হয়ে পড়েছে যে নিছক তাত্বিক আলোচনা করে তাকে চাগিয়ে তোলা বোধহয় অসম্ভব। আমরা আলোচনাটুকু চালিয়ে যেতে পারি মাত্র।
    কেন রবিনসনের চিন্তা ভাবনা নিয়ে লেখার ইচ্ছে আছে ভবিষ‌্যতের কোনো এক সময়ে। ভালো থাকবেন। এবার বেশ কিছুদিন পর কথালাপের সুযোগ হলো।
  • #+: | ০৬ আগস্ট ২০২৬ ২১:৩১742128
  • এখনও শিক্ষা নিয়ে কেউ এমন গভীরভাবে চিন্তা ভাবনা করছেন কেউ দেখে ভালো লাগলো। যে সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন সেগুলো ক্রমশই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। ১৪৭ কোটি মানুষের দেশে শিক্ষার বরাদ্দ বাজেটের ২. ৬%। এতে তো নুন আনতে পান্তা ফুরোয় অবস্থা। স্কুল স্তরের শিক্ষাকে আরও মজবুত ভিতের ওপর দাঁড় না করালে এই শূন্যতা পূরণ হবে না। 
  • Somnath mukhopadhyay | ২৬ আগস্ট ২০২৬ ১৯:০৩742388
  • #+:
    শিক্ষা প্রসঙ্গে আলোচনা করলেও পাঠক জোটানো মুশকিল হয়ে পড়ে। ধৈর্য ধরে পড়ে মতামত দিয়েছেন। এজন্য ধন্যবাদ জানাই।
  • Ranjan | ২৮ আগস্ট ২০২৬ ০৬:০২742401
  • এই লেখাটি কেন আগে পড়িনি?
     
    হয়তো আমাদের দেশে এখন ব্যবস্থা নিয়ে নাড়াচাড়া চিন্তা ভাবনা শুরু হয়েছে l কিন্তু মুখে যাই বলি সবাই এত আর্থিক असुरक्षा নিয়ে ব্যতিব্যস্ত যে পড়াশুনা के চাকরি বা আর্থিক লাভের মাধ্যম ছাড়া কিছু ভাবি না l
    ফলাফল চোখের সামনে l
     
    চারদিকে রোবট l সবাই একরকম ভাবে, এক ভাষায় কথা বলে l সেটাকেই প্রগতি ও দেশপ্রেমের पराकाष्ठा ভাবে l
    অন্যরকম চিন্তা ভাবনা দেখলেই হাঁসের পাল ठोकर মারতে আসে l
     
    তবু স্বাধীন চিন্তার দীপ জ্বালিয়ে রাখতে হবে l
    আপনার परिश्रम ও লেখার सम्यक মূল্যায়ন করার ক্ষমতা আমার নেই l
    শুধু পড়ে যাই l ভাবি-- কেউ তো একজন---!
  • Somnath mukhopadhyay | ২৮ আগস্ট ২০২৬ ১৩:৪৭742407
  • ধন্যবাদ রঞ্জন দা, অনেক অনেক ধন্যবাদ। আজকাল শিক্ষা সম্পর্কে আলোচনা করতে ভয় হয়। এখন এই ভাবনায় জড়িয়ে পড়ার মানুষ কম ফলে এসব নিয়ে কথা বললে পাঠক জোটানো বেশ মুশকিল। ভাগ্যিস গুরু পাঠকপ্রিয়তা দেখে লেখকদের গ্রেডিং করেনা! করলে নির্ঘাত বাদ পড়তে হতো।
     
    একটু আগে আমাদের শিক্ষার ডিজিটালাইজেশন বিষয়ে একটি ছোট লেখা লিখছিলাম। আমাদের মগজ বন্ধক রাখার আয়োজন প্রায় সম্পূর্ণ। মগজহীন মস্তিষ্ক নিয়ে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে হবে।
     
    সম্প্রতি নীতি আয়োগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে আমাদের শিক্ষার সিস্টেমেই গলদ।যে শিক্ষায় আমরা সবাই ডিগ্রি লাভ করছি তা কখনোই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে না। গতানুগতিক ধারার শিক্ষার বাজারদর নেই। আবার চর্বিত চর্বণ!
     
    ভালো থাকবেন।
  • সত্যেন্দু সান্যাল | ২৯ আগস্ট ২০২৬ ১৮:২১742414
  • সোমনাথ বাবু,
    আপনার সুচিন্তিত লেখাটি পড়ে ভালো লাগলো।
    আপনার এই বিষয়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা আছে লিখেছেন, ফলতঃ আপনার উতকন্ঠা সমীচিন।
    তবে শিক্ষা, অর্থকরী বিদ্যা এবং দেশের অর্থনৈতিক অবস্থান নিয়ে আরো বিস্তৃত আলোচনা প্রয়োজন।
    অরিন বাবুর মতামত এর খেই ধরে বলি, আমাদের ব্রিটিশ যুগের শিক্ষা ব্যবস্থা কেরানী এবং ব্রাউন সাহেব তৈয়ার করার জাঁতাকল ছিলো। আজকের শিক্ষা ব্যবস্থা কি তৈয়ারী করার জাঁতাকল মনে হয়?
    সরকার যদি সমস্ত প্রাইভেট স্কুল কলেজ অধিগ্রহন করে, সমস্ত কোচিং ক্লাস নিষিদ্ধ করে দেয়, শিক্ষার খাতে বরাদ্দ তিন গুন করে সমস্ত পড়াশোনা সবার জন্য ফ্রী করে দেয় তা হ'লেও কি "শিক্ষা"-র উতকর্য হ'বে?
    এর সঙ্গে Skill Set, বর্ত্তমান Geo-Political আবহ, Demand-Supply Equation এর সামঞ্জস্য নির্ধারন দুরূহ সমস্যা মনে হয় আমার। তবে প্রযুক্তির নাগপাশ থেকে বাহির হয়ে আসা কঠিন।
  • Somnath mukhopadhyay | ২৯ আগস্ট ২০২৬ ১৯:৩০742415
  • সত্যেন্দু বাবু 
    নমস্কার নেবেন। আপনার মতামত জেনে ভালো লাগলো। আলোচনার দীর্ঘ অবকাশ রয়েছে। কোনো একক মত‌ই শিরোধার্য করার কারণ নেই। আমি আমার দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতার ওপর ভর করেই নিবন্ধটি লিখেছি। এদেশের শিক্ষা লক্ষ্যচ্যুত হয়েছে একথা বলার সময় বোধহয় সমাগত। উৎকৃষ্ট শিক্ষা তো কতগুলো শর্তের ওপর নির্ভর করে না তারজন্য একটা সদর্থক মানসিক ভিত্তির‌ও প্রয়োজন আছে। সেই ভিতটাই এখন নড়বড়ে হয়ে গেছে। অনেক অনেক কথা বলার আছে। প্রযুক্তি একটা "পাশ" ওর থেকে বেরনোর উপায় নেই।  গুরুর পাতায় লেখাগুলো পাবেন। সময় করে নেড়েচেড়ে দেখতে পারেন। ভালো থাকবেন।
  • সত্যেন্দু সান্যাল | ২৯ আগস্ট ২০২৬ ২১:৫৯742421
  • সোমনাথ বাবু,
    হ্যাঁ, এই বিষয়ে আপনার বিস্তর লেখা রয়েছে দেখছি। কয়েকটি পড়লাম।
    আপনার লেখা "শিক্ষার সফলতা, সফলতার শিক্ষা" প্রবন্ধটির সূত্র ধরেই আলোচনার বিস্তার হ'তে পারে।
    কোটায় প্রদত্ত জগদীপ ধনখড়ের সমাবর্ত্তন ভাষন নিয়ে প্রবন্ধটি ও এক দিগদর্শক।
    খুব ভয়ে ভয়ে একটি ভিডিও লিঙ্ক দিলাম।
    নীতি আয়োগের এই সদস্য RSS সদস্য বা BJP সমর্থক কি না আমি জানিনা।
     
    তবে বর্ত্তমানের GenZ বিষয়ে আপনি লিখেছেন ~
    শিক্ষার্থীদের দিকে আঙ্গুল তুলে লাভ নেই। আজ হঠাৎ করে চিন্তাশীল হতে বললে হবে কেন? কতগুলো বস্তাপচা বুলি কপচিয়ে গিয়েছি আমরা, বলেছি এই পথেই চলা অভ্যাস করো। আমাদের ব্যবস্থাপনায় উদ্ভাবনের কোনো অবকাশ রাখিনি আমরা, তৈরি করিনি স্বাধীন চিন্তার কোনো বিকল্প পথ।
    একই সঙ্গে খেয়াল করে দেখুন ভারতে Startup Ecosystem কিন্তু যথেষ্ট সক্রিয় হয়ে উঠেছে। পৃথিবীতে তৃতীয় বৃহত্তম।
    অতএব আরো বিস্তারিত চিন্তা ভাবনার অবকাশ আছে শিক্ষার "সফলতা" বিষয়ে।
    আমি তো শিক্ষা জগতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নই, আমাদের মতামত ভিন্ন হ'তেই পারে, আপনার insights সেই জন্যই জরুরী।
    সম্পূর্ন অন্য এক দৃষ্টান্ত টেনে বুদ্ধদেব গুহ লিখিত মাধুকরী উপন্যাসের দিগা পাঁড়ে চরিত্রের উল্লেখ করছি।
    "শিক্ষা"-র রকমফের আছে, চরিত্রটি তারই নিদর্শন।
    আবার Competition এবং "লোভ" নামক রিপুর বশবর্ত্তী প্রজন্মের সঠিক দিগদর্শন কি?
    নূসরত ফতেহঃ আলি খানের মতো বলি, "তুম এক গোরখ্ ধান্দা হো"।
    ভালো থাকবেন, লিখতে থাকুন।
  • Somnath mukhopadhyay | ৩০ আগস্ট ২০২৬ ০৭:০০742423
  • সত্যেন্দু বাবু,
    নতুন চিন্তার প্রবাহে অবগাহনের অবকাশ করে দেবার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
  • সত্যেন্দু সান্যাল | ৩০ আগস্ট ২০২৬ ২১:১৪742429
  • সোমনাথ বাবু
    খোলা মনে আমার মতামত পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
    এই বিষয়ে আরো কিছু ইনপুটস পরে দেবো।
    পরিবেশ বিষয়ে ও আপনি উতসাহী।
    নেপালের বিধ্বংসী বন্যার পর এই বিষয়ে সংযুক্ত প্রয়াস অত্যন্ত জরুরী।
    চর্চা চলুক।
    নমস্কারান্তে।
  • Somnath mukhopadhyay | ৩০ আগস্ট ২০২৬ ২২:২০742431
  • জবাবের অপেক্ষায় ছিলাম।
    মন খুলে রাখলে
    বাতাস স্বচ্ছন্দ গতিতে,
    মন ধুয়ে যায়।
     
     
    পরিবেশ অবশ্যই আমার পছন্দের বিষয়। বেশ কিছু লেখা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অন্যান্য পত্রিকার পাতায়। গুরুর পাতাতেও পাবেন। ভালো থাকবেন সান্যাল মশাই।
  • Somnath mukhopadhyay | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২:৫৫742463
  • আবারও দরজায় টোকা দেবার জন্য ধন্যবাদ। ওঁরা দুজন সহোদর নন। ওদের এক‌ই সঙ্গে বড়ো হ‌ওয়া, এক‌ই গুরুর কাছে নাড়া বাঁধা,তাও দুজনের মধ্যে যোজন প্রমাণ পার্থক্য! প্রতিভা থাকলেও একজন বিশ্ব বন্দিত অন্যজন নিজের দেশেই প্রবলভাবে নিন্দিত। প্রতিযোগিতা ভালো কিন্তু তা যদি বিশেষ কোনো রিপু তাড়িত হয় তাহলে তার পরিণতি হয়তো এমন‌ই হয়ে থাকে। আর সাফল্য বিষয়টি নিতান্তই আপেক্ষিক। আজকের সফলতা পরবর্তী জীবনে ফিকে হয়ে যায় ভিন্নতর প্রেক্ষাপটে। এটাই জীবন!
  • সত্যেন্দু সান্যাল | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:৩৫742469
  • সোমনাথ বাবু,
    এবারে ১৯২০ সালে প্রকাশিথ একটি কবিতা শোনা হউক ~
     
     
    এই আইরিশ কবি এক সময়ে রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলী পড়ে মুগ্ধ হয়েছিলেন, পরে ওঁর মোহভঙ্গ হয়।
     
    Turning and turning in the widening gyre
    The falcon cannot hear the falconer;
    Things fall apart; the centre cannot hold;
    Mere anarchy is loosed upon the world,
     
    গুরুর পাতায় "গেরুয়া তাণ্ডব", ফেক GDP, CJP-র জয় ইত্যাদি নিয়ে নানা মতামত পড়ি এবং ইয়েটস এর সতর্ক বার্ত্তা স্মরনে আসে। কল্কি অবতারের জন্য উদগ্রীব অপেক্ষার সময়।
  • Somnath mukhopadhyay | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২:১৭742472
  • কল্কিদেব আসিয়া কি সকল সমস্যার সমাধান করিবেন?
  • সত্যেন্দু সান্যাল | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:১৩742478
  • সোমনাথ বাবু,
    Billion Dollar Question, যার উত্তর আমার জানা নেই।
    ভারতে নিত্যই নব নব কল্কি অবতারের আবির্ভাব হচ্ছে।
    মাস তিনেক আগে CJP অর্থাত ককরোচ জনতা পার্টির আবির্ভাবে অনেকে মনে করেছিলেন দিন আগত ঐ।
    ওমা, কাল দেখছি CJP-Democratic পার্টির উদ্ভব।
    ১৯৫২-র লোকসভা নির্বাচনে ১৪টি পার্টি অংশগ্রহন করেছিলো। গত নির্বাচনে এইটি বেড়ে ৬৭ হয়েছে।
    এমনটি কি India Offers Unity In Diversity-র প্রত্যক্ষ প্রমান, না এক অমোঘ Balkanization এর অশনি সংকেত?
    বিপ্র বহুধা বদন্তি।
    গতকালই গুরুর পাতায় জনৈক দেবজিৎ ঘোষের proposed তিন পর্বের প্রবন্ধের প্রথমটিতে এই মন্তব্যটি মনে ধরলো
    "যে সমাজ নিজের ক্ষতের নাম স্পষ্ট করে বলতে পারে না, সে সেই ক্ষত সারাতেও পারে না।" মতামতটি অব্যর্থ।
    দেবজিৎ বাবু অবশ্য বাংলার অবক্ষয় প্রসঙ্গে লিখেছেন, ভারতের নয়।
    নিজের Elitism সম্বন্ধে সচেতন রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, "যে আছে মাটির কাছাকাছি / সে কবির বানী লাগি কান পেতে আছি"।
    বর্ত্তমান সংসদে ৫৪৩ জন সাংসদের ৯৩% ক্রোড়পতি, নিজস্ব বয়ান অনুযায়ী। এঁরা মাটির কাছাকাছি কি?
    ভারতে ৮২ কোটি মানুষ খাদ্য ভর্ত্তুকির আওতায়।
    রাত কত হল?
    উত্তর মেলে না।
    কেননা, অন্ধ কাল যুগ-যুগান্তরের গোলকধাঁধায় ঘোরে, পথ অজানা,
    পথের শেষ কোথায় খেয়াল নেই।
    এই শিষুতীর্থে কল্কি অবতার এলে ভিরমি খাবেন কি?
     
    জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছান্তে
  • সত্যেন্দু সান্যাল | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:২৫742479
  • শিষুতীর্থে typo-র জন্য ক্ষমাপ্রার্থী, শিশুতীর্থ হবে।
  • Somnath mukhopadhyay | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:০৭742481
  • সত্যেন্দু বাবু
    খেরোর খাতায় "রবীন্দ্রনাথ ও এক শহুরে শান্তিনিকেতনের কথা"
    শীর্ষক আমার একটি লেখা আছে। পড়ে দেখে মতামত জানানোর অনুরোধ রইলো।
    খেরোর খাতায় শিক্ষা নিয়ে বেশ কয়েকটি লেখা রয়েছে। দেখতে পারেন। ভালো থাকবেন।
  • সত্যেন্দু সান্যাল | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:৫৭742482
  • সোমনাথ বাবু,
    খেরোর খাতায় গিয়ে প্রবন্ধের "রবীন্দ্রনাথ ও এক শহুরে শান্তিনিকেতনের কথা" টাইপ করে এই উত্তর পেলাম ~
    "দুঃখিত: উপরের তথ্য দিয়ে সন্ধান করে কিছু পাওয়া গেল না। অন্য শব্দ ব্যবহার করে বা অন্য বিভাগ নির্বাচন করে দেখতে পারেন।
    If you can retrieve it and send it, I shall be grateful.
    কল্কি অবতারs can wait !!!!!
    পড়ে অবশ্যই আমার টু পাইস জানাবো।
    পড়ার আগেই বলি শান্তিনিকেতন এর বর্ত্তমান অবস্থা এবং দেবজিৎ ঘোষের বাঙালির অবক্ষয়ের অনুসন্ধানে সমাপতন দৃশ্যমান। দেবজিৎ Institution Building এ আমাদের অবনতির উল্লেখ করেছেন।
     
    Since this is increasingly becoming a personalized conversation, you may, if you think fit, write to me @ my personal e-mail address.
    neytas2003@yahoo.com
    With every good wish.
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। না ঘাবড়ে মতামত দিন