এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  স্কুলের খাতা

  • সাতসকালের খবর এবং স্মৃতিপথে হাঁটাহাঁটি (দ্বিতীয় পর্ব)

    Somnath mukhopadhyay লেখকের গ্রাহক হোন
    স্কুলের খাতা | ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ১২২ বার পঠিত
  • প্রথম পর্ব | দ্বিতীয় পর্ব
    সাতসকালের খবর এবং স্মৃতিপথে হাঁটাহাঁটি (দ্বিতীয় পর্ব)
     
    একদিনের কথা 
     
    স্কুল শুরুর প্রথম ঘন্টা পড়েছে অর্চনাদির ব্যস্ত হাতে। এখন সবাই স্তব্ধ হয়ে নিজের নিজের জায়গায় বসে চুপচাপ মনঃসংযোগ করবে। এটাকে বলা হতো বাক্ সংযমের পর্ব। এরপরেই বাজবে দ্বিতীয় ঘন্টা। দুইয়ের মধ্যে ব্যবধান ঠিক পাঁচ মিনিটের। ঘন্টা পড়তেই ছেলেরা সব ক্লাস ঘর ছেড়ে বেরিয়ে বারান্দায় সারি দিয়ে দাঁড়াবে প্রার্থনার জন্য। লাইনগুলো সোজা হয়েছে কিনা তা দেখার কাজ চলছে মাস্টারমশাইদের ( দাদা) তত্ত্বাবধানে। হঠাৎ নজরে এলো এক ফিটফাট,ধুতি পাঞ্জাবি পরা মানুষ লাইনের ভেতর দিয়ে এগিয়ে আসছেন। তাঁকে ওভাবে আসতে দেখে ছুটে যাই। বিনম্র কন্ঠে,নম্র বচনে বলি – ঘন্টা পড়ে গেছে। এখন আপনি ওপরে যেতে পারবেন না। একটু অপেক্ষা করতে হবে। 
     
    সেদিন আমাদের প্রার্থনা পরবর্তী খবরের আসর খানিকটা দীর্ঘ সময় ধরে চলেছিল বেশ খানিকটা লম্বা সময়। আসলে এক খবর থেকে আরেক খবরে পৌঁছে যাওয়া,এক বিষয়ের সুতোয় টান পড়তেই অন্য বিষয় হুড়মুড়িয়ে সামনে এসে দাঁড়ায় আরও একটা বিষয়। এ এক মুক্ত ভাবনার আসর। যে ছাত্রটি ক্লাসে মাথা নিচু করে মাস্টারমশাইদের নজর এড়ানোর চেষ্টা করে,তারাও রীতিমতো সরব এই খোলা মনের মেলায়। সেদিন হেডমাস্টার মশাইয়ের হস্তক্ষেপে আসর ভাঙে আমাদের। এতক্ষণ অপেক্ষা করে থাকা সেই অধ্যাপক অভিভাবক মশাইতো বেজায় খুশি এমন একটা প্রানবন্ত আলোচনার আসরে উপস্থিত থাকার জন্য। 
     
    একদিন প্রতিদিন 
    ‌ 
    বেশ লম্বা একটা সময় পর্যন্ত আমাদের স্কুলের শুরুটা ছিল এমনই। ১৯৬৫ সালে আমাদের স্কুলের পত্তন হলো। অনেক অনেক স্বপ্ন ভরে দিয়েছিলেন হেডমাস্টার মশাই ও তাঁর হাতে গড়া ব্যাটেলিয়ন। সবটুকুই ভরা ছিল এমনটা নিশ্চয়ই নয়, ফাঁক ফোঁকর‌ও কিছু ছিল স্বাভাবিক নিয়মেই, তবে তা ঢেকে রাখতে আমাদের দাদা দিদিরা ছিলেন সদা তৎপর। দিনের শুরুতে প্রার্থনার পর্বের পর‌ই ছিল খবরের আসর। হেডমাস্টার মশাইয়ের ইচ্ছে ছিল তাঁর গুণধর ছাত্ররা চোখ কান খোলা রেখে বড়ো হবে। সেকালে বিনোদনের এমন অঢেল আয়োজন তো ছিলই না – রেডিও ছিল বটে, তবে সেটার সুইচ অন অফ করার অধিকার ছিল একমাত্র অভিভাবকদের। সবাই মিলে শুক্রবার আটটার সময় বেতার নাটক শুনতাম। ১৯৭১ এর বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় খবর শোনাটা একরকম অভ্যাসে পরিনত হয়েছিল। এমন একটা আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা মানেই অজস্র খবর। সেইসব খবরের চর্চা হতো স্কুলের খবরের আসরে। হেডমাস্টার মশাই খুব আবেগঘন কণ্ঠে মুক্তিযুদ্ধের কথা, মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের কথা শোনাতেন। অনেক সময়ই ঐ আলোচনার আসর ইতিহাস ভূগোল রাজনীতি অর্থনীতি সংস্কৃতির তথ্যের এক আশ্চর্য ককটেলে পর্যবসিত হতো। বেশ উপভোগ্য বিষয় ছিল এমন কর্মকাণ্ড। কেউ যদি খবর না আনতো তাহলে তার শাস্তি ছিল স্কুলের খবরের কাগজটা পড়ে অন্তত দুটি খবর ক্লাস টিচারকে বলা। 
     
    সকলেই কি রোজ খবরের কাগজ পড়তো? একদমই না। অনেকেই ফাঁকি দিতো। আসলে এমন আয়োজন সবার পছন্দের হবে এমনটাও নয়। তবে যারা খুব ভালোভাবে খোলা মনে ব্যবস্থাটাকে গ্রহণ করেছিল,তারা অন্যদের থেকে এগিয়ে গেল তরতরিয়ে। খবরের কাগজ ছিল আমাদের বিশ্বদর্শনের এক কার্যকর মাধ্যম। অবশ্য এই সু-অভ্যাস গড়ে তোলার পেছনে ছাত্রদের বাড়ির পটভূমির‌ও একটা বড়ো ভূমিকা ছিল।সব কিছুই তো আর স্কুলের পক্ষে শেখানো সম্ভব নয়। এটা ঠিক যে সেকালে টেলিভিশন, স্মার্টফোন, ট্যাবলেট - এ সবের অস্তিত্ব ছিলোনা। তাই হয়তো বিশ্ব দর্শনের জন্য এই কাগুজে জানালার পাশে বসে থাকার অভ্যাস গড়ে তোলা সহজ হয়েছিল আমাদের পক্ষে। পরবর্তী কালে সরস্বতী পুজোর সময় স্কুলের বার্ষিক প্রদর্শনীতে এই কাগুজে জ্ঞান আমাদের ছেলেপিলেদের ভীষণ সাহায্য করতো। শিক্ষা জীবনের শুরুতে নির্মিতির এমন অভিনব উদ্যোগ , আয়োজন আমাদের ছাত্রদের মানসিক বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশে যে কতটা সাহায্য করেছে তা বলে বোঝানো যাবে না। কোলকাতা তথা দেশের প্রথম ক্যুইজ প্রতিযোগিতা বোর্নভিটা ক্যুইজ কম্পিটিশনে আমাদের স্কুলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ঘটনা যে কাকতালীয় ছিলোনা, তার পেছনে ঐ খবরের ক্লাসের ভূমিকা ছিল এই কথা আমি হলফ করে বলতে পারি। এমন একটা পরিবেশে কেটেছে আমার শিশু কিশোরবেলা । ফলে বিরাট কেউকেটা হতে না পারলেও একটা অন্যরকম মন আর ভাবনা নিয়ে দিব্যি কাটিয়ে দিলাম। 
     
    আজ মনে হয় মানুষের জীবনের একেবারে শুরুর দিনগুলোকে একটু অন্যরকম ছন্দে মাতিয়ে দেওয়া উচিত। জীবনের এতো রঙ, রূপ, রস, গন্ধ যদি না মানুষের জীবনকে ছুঁয়ে না যায় তাহলে সে জীবন পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে না। সবটা আমরা করতে পেরেছি এমন দাবি করলে পাঠকদের চোখা চোখা প্রশ্নের সামনে পড়তে হবে। আসলে যে সময়টাতে আমরা বেড়ে উঠেছি, সেই সময়টাতে আমাদের পারিবারিক শিক্ষার সঙ্গে স্কুলের শিক্ষা ধারার খুব একটা মৌলিক পার্থক্য ছিলোনা, সঙ্গতি ছিল দুই ধারার মধ্যে। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ‌ও ছিল পারিবারিক কৃষ্টি সংস্কৃতিরই প্রতিরূপ। ফলে জীবনকে নানা ভাবে চেখে দেখার অফুরান সুযোগ আমাদের ছিল। জীবনের পরিসর ছিল অনেক অনেক সুবিস্তৃত। তাই খবরের কাগজ পড়ার মধ্যেও আমরা বুঝিবা মানুষ হবার প্রেরণা খুঁজেছি পাগলের মতো করে। হায়! সেদিনের সোনা ঝরা সকাল আর নিঝুম সন্ধ্যাগুলোই যে এই সময়ের ক্যানভাস থেকে হারিয়ে গেছে চিরকালের মতো! এই সময়টা খারাপ নয়, এই সময়টা এইসময়ের‌ই মতো। কাগজের জন্য কাঁদলেও চোখে আর জল ঝরবে না। নতুন যাপনের উষ্ণতার কারণে সেই জল অনেকদিন হলো শুকিয়ে গেছে।
     
    শেষ পাতের মিঠা খবর 
     
    আজ শেষ করবো খবরের ক্লাস নিয়ে একটা মজার স্মৃতি দিয়ে। আমি তখন ছাত্র। নতুন নতুন স্বপ্ন নিয়ে জন্ম নিয়েছে এক নতুন ভাবনার স্কুল,তাই আমাদের ঘষামাজা চলছে জোর কদমে। প্রার্থনার পর্ব মিটতেই নিয়মমাফিক শুরু হয়েছে খবরের ক্লাস। লাইনের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন আমাদের দাদা - দিদিরা। দু একটা খুচরো খবর শোনার ফাঁকে সশরীরে সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন কমান্ডার ইন চিফ- স্বয়ং হেডমাস্টার মশাই। এই অবসরে আমাদের স্কুলের এক অভিনব নিয়মের কথা বলি। একেবারে শুরুর দিন থেকেই স্কুলে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ছাত্রদের আলাদা করার ব্যবস্থা ছিলোনা। যে গ্রেড ব্যবস্থা নিয়ে একালে এতো হৈচৈ, এতো আলোচনা , নতুন কিছু কায়েম করা হলো বলে প্রচারের ঢক্কা নিনাদ - সেই গ্রেড ব্যবস্থা প্রথম দিন থেকেই লাগু ছিল আমাদের স্বপ্নের ছোট্ট স্কুলে। আরও একটা অদ্ভুত নিয়ম ছিল ( এ নিয়ম আর কোথাও আছে বা ছিলো বলে শুনিনি ) – আমাদের রোল নম্বর ঠিক করা হতো উচ্চতার ক্রমানুসারে । অর্থাৎ সবথেকে খাটো ছাত্রের রোল নম্বর এক, আর সবথেকে লম্বা ছাত্রটির ঠাঁই হবে লাইনের একদম শেষে। এরফলে সারি দিয়ে দাঁড়ালে আমাদের লাইন হতো সকলের নজরকাড়া। সে যাইহোক আবার প্রার্থনার লাইনে ফিরি।
     
    হেডমাস্টার মশাই সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন দেখেই অনেকের ততক্ষণে কাঁপুনি শুরু হয়ে গিয়েছে। এটা নজর এড়ায়নি হেডমাস্টার মশাইয়ের‌ও। সবকিছু খানিক পর্যবেক্ষণ করে, বাজখাই গলায় বলে ওঠেন – …ন্ত , তুমি কী খবর এনেছো? বেশ কিছুক্ষণ আমতা আমতা করে… ন্ত উত্তর দেয় — গতকাল আমাদের বাড়িতে ঠাম্মা পিঠে বানিয়েছেন। উত্তর শুনে প্রার্থনার লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সকলেই হো হো করে হেসে ওঠে। হেসে ওঠেন হেডমাস্টার মশাই সহ অন্যান্য দাদা দিদিরাও। গল্প এখানেই শেষ? না। লাইন গড়িয়ে বিকেলে তা পৌঁছে যায়…. ন্তর বাড়ি। পিঠে বানানো হয়েছে শুনে হেডমাস্টার মশাই ও আর‌ও দুজন দাদা সটান পৌঁছে গেছেন তাদের বাড়িতে। ভরপেট পিঠে,পায়েস খেয়ে তবে ছুটি। বাড়ির সকলেই মহা খুশি এমন অভাবনীয় ঘটনায়। এমন অপ্রত্যাশিত অতিথিকে পেয়ে। খবরের ক্লাসের মাহাত্ম্য আছে বলতেই হবে !
     
    এই যে এতক্ষণ ধরে দু - দুটো পর্বে খবরের কাগজ পড়া নিয়ে এতো কথা বলে ফেললাম, তার কারণ আমাদের রক্তের মধ্যে যেন বিষয়টা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল সেই কৈশোরক জীবন পর্বে। কোনো জোরজুলুম নয়, ভালোবেসেই একটা অনন্য ভালোলাগার জন্ম দেওয়া। আগের পর্বে যে কথা কটি খানিকটা আভাসে ইঙ্গিতে বলেছি,আজ মুক্ত কন্ঠে বলি– হেডমাস্টার মশাই, আপনার শেখানো পথ আজ‌ও আমাদের পথ চলার পাথেয়। অন্যরা ইতস্ততা করে অন্যপথে হাঁটলেও আপনার তৈরি ছাত্ররা আজ‌ও সেই পথেই হাঁটছে। আপনার চলে যাবার তৃতীয় বর্ষে এ এক বিনম্র শ্রদ্ধার্ঘ্য। 
     
    সোমনাথ মুখোপাধ্যায় 
    জানুয়ারি ০৪. ২০২৬
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    প্রথম পর্ব | দ্বিতীয় পর্ব
  • স্কুলের খাতা | ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ১২২ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • অরিন | ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৪০737592
  • খুব সুন্দর করে লিখেছেন, হৃদয়স্পর্শী লেখা। 
    খবরের কাগজ পড়া অভ্যেস এবং তাকে নিয়ে চর্চা প্রয়োজনীয়। কিন্তু আমাদের ছোটবেলা (আপনার লেখা পড়ে মনে হয় আমরা একই সময় বড় হয়েছি, খুব বেশী হলে বছর পাঁচেক আগে-পরে) আর এখনকার শিশুদের খবরের কাগজ পড়ার মধ‍্যেকার একটা তফাত আছে। এখন মতামত যেমন প্রচুর, লেখাও তেমন বিস্তর। পুরনো দিনের বলিষ্ঠ সম্পাদকীয় এবং উত্তর সম্পাদকীয় স্তম্ভ গুলো এখন হারিয়ে গেছে। 
  • Somnath mukhopadhyay | ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:২৯737595
  • অরিন বাবুকে অনেক ধন্যবাদ জানাই। সাতসকালেই মন্তব্য করেছেন দেখে বুঝতে পারছি কতটা উন্মুখ হয়ে ছিলেন দ্বিতীয় কিস্তির লেখার জন্য। সমবয়সী হ‌ই বা না হ‌ই সমমনস্ক তো বটেই। ওতেই কাজ চলে যাবে। ভালো থাকবেন। 
  • অভীক পাল | 2409:40e0:25:18c4:f467:8fff:fe23:***:*** | ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:৫২737603
  • আপনি খুব সুন্দর ভাবনার প্রতিস্থাপন করেছেন দাদা। খবরের কাগজের সান্নিধ্যে ছাত্রদের আনাতে গেলে সেটা ভালোবেসে আনাতে হবে, যাতে ছাত্ররা নিজেরাই খবরের কাগজের মর্ম মনে পড়ে। তবে অতীত ঘাটতে গিয়ে মনে পড়ে প্রয়াত সুকান্ত কারকুনের ইংরেজি খবরের কাগজের সান্নিধ্যে ছাত্রদের আনার সাংঘাতিক পদ্ধতি, যা একেবারেই সঠিক পদ্ধতি ছিলো না। 
  • Ritabrata Gupta | 106.219.***.*** | ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:০৬737604
  • অসাধারণ  লেখাটি  !  একই  বিদ্যালয়ে  পড়েছি  আমরা .  সেই  আমার  ছাত্রজীবনে  ফিরে  গিয়েছিলাম .  অসাধারণ .  পরবর্তীকালে  আপনার  মতো  শিক্ষাগুরু  পেয়ে  আমরাও  ধন্য  হয়েছি !  স্কুলের  জন্য  এই  ভালোবাসাটুকু  বুকের  মধ্যে  রেখে  দিতে  চাই  !
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভালবেসে মতামত দিন