এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  পরিবেশ

  • কিছু হায়দ্রাবাদী সমস্যা।( দ্বিতীয় পর্ব  )

    Somnath mukhopadhyay লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | পরিবেশ | ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৮ বার পঠিত
  • কিছু হায়দ্রাবাদী সমস্যা। ( দ্বিতীয় পর্ব। )
     
    হায়দ্রাবাদের ঝকঝকে তকতকে কংক্রিটের মোড়কে ঢাকা পড়া শরীরে বাসা বাঁধছে নতুন নতুন সমস্যা। রসময় পঞ্চভূতের ভূতেদের এখন বড়‌ই করুণ অবস্থা। নদীর বেহাল অবস্থার কথা গত পর্বেই জানিয়েছি, এবার বরং দু- চার কথা বলি এই উদীয়মান নগরীর বাতাস নিয়ে। 
     
    একটা ছোট্ট অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরি। হায়দ্রাবাদ এসে বিরিয়ানি খাবনা এমনটা কি হতে পারে? বিস্তর তত্বতলাশ করে বেছে নেওয়া এক খানদানি বিরিয়ানি হাউজের গিয়ে হাজির হলাম। দোকানের সামনে সার দিয়ে রাখা নানান কিসিমের গাড়ি। ঐ ভিড়ের মধ্যে আমি বোকার মতো এ্যাম্বাসেডর গাড়ি খুঁজতে গিয়ে আমার সহযাত্রীদের কাছে বেদম বকা খেলাম। খাওয়া দাওয়ার পর্ব মিটিয়ে ফিরে এসে গাড়ির সামনে দাঁড়াতেই রীতিমতো ধাক্কা খেলাম। সাদা রঙের গাড়ির বনেট আর ছাদের ওপর উড়ে আসা ধুলোবালির আস্তরণ পড়ে সাদা গাড়ি বিলকুল কালো হয়ে গেছে। মাত্র ঘন্টা খানেকের মধ্যে এই হাল ! বুঝতে পারি শহরের বাতাস অবাঞ্ছিত উপাদানের খপ্পরে পড়েছে।
     
    হায়দ্রাবাদের আরও একটা পরিসংখ্যান সামনে রাখি। এই মুহূর্তে হায়দ্রাবাদ মেট্রোপলিটনের জনসংখ্যা ১.১৩ কোটি। বিগত কয়েক বছর ধরে এই জনসংখ্যা ক্রমবর্ধমান। আমাদের মাথায় রাখতে হবে যে কিছুদিন আগেও অবিভক্ত অন্ধ্রপ্রদেশের রাজধানী শহর ছিল হায়দ্রাবাদ, ফলে এখানে লোকজনের সমাগম হ‌ওয়াটা কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়। অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানা দুটি স্বতন্ত্র রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পরেও জনসংখ্যা ক্রমবর্ধমান। হাইটেক স্মার্ট সিটির বাসিন্দা হতে সকলেই উন্মুখ। এই কারণেই বছর পিছু ২.৪৩% হারে জনসংখ্যা বাড়ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে 
    তাল মিলিয়ে পাশাপাশি বেড়ে চলেছে গাড়ির সংখ্যা। ১৭৩৬৪৫০৭ - এক কোটি তিয়াত্তর লক্ষ চৌষট্টি হাজার পাঁচশো সাত । সংখ্যাটা রীতিমতো চমকে ওঠার মতোই, অন্তত জনসংখ্যার সাপেক্ষে। কে নেই এই সরকারি তালিকায়? হায়দ্রাবাদে সরকারি নথিভূক্ত অটোরিকশার সংখ্যা ৫১৪৮৮৩ টি , চুক্তিবদ্ধ কন্ট্রাক্ট ক্যারেজ ৮৬৪৪ টি, ইলেকট্রিক রিকশা কার্ট ৩০৬ টি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাস ৩১২২৫ টি, মাল বহনের গাড়ি ৬৫৬৪১৩ টি, ম্যাক্সি ক্যাব ২৬৯৬৮ টি,মটোর ক্যাব ১৪৪২১৫ টি, প্রাইভেট মটোর গাড়ি ২৩৪৭৪৭৯ টি , মটোর সাইকেল ১২৭৫২৫৬৪ টি, প্রাইভেট সার্ভিস ভেহিকেল ৩১৭৮ টি , স্টেজ ক্যারেজ ৯০৭১ টি, ট্রাক্টর ও ট্রেইলার ৭৭৪৬৫৯ টি এবং অন্যান্য গাড়ি ৯৪৯০২ টি। সবমিলিয়ে ১৭৩৬৪৫০৭ টি। প্রতি মাসে এই সংখ্যাটির পরিবর্তন হচ্ছে। শহরের কোর এরিয়ার ক্ষেত্র পরিসর ২১৭ বর্গ কিলোমিটার, গ্রেটার হায়দ্রাবাদ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন এলাকার ক্ষেত্রমান ২০৫৩ বর্গ কিলোমিটার এবং হায়দ্রাবাদ মেট্রো এলাকার পরিসর ৭২৫৭ বর্গ কিলোমিটার ।
    ভেবে দেখুন,এই স্বল্প পরিসরের মধ্যে বিপুল পরিমাণ ধুলো আর ধুঁয়া উড়িয়ে যান্ত্রিক শকটেরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ফল যা হওয়ার তাই হচ্ছে। ক্রমশই চড়ছে দূষণের মাত্রা, সাতসকালেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের মান।
    খুব সম্প্রতি পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ড এর তত্ত্বাবধানে শহরের বাতাসের হাল হকিকত সম্পর্কে একটি গবেষণার কাজ পরিচালনা করা হলো আই আই টি কানপুরের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায়। শহরে এতো বিপুল সংখ্যক যানবাহনের চলাচলের কারণে বায়ুদূষণ কতটা হচ্ছে সে বিষয়ে খোঁজখবর করাই ছিল এর মুখ্য উদ্দেশ্য। এই সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, শহরকে বেষ্টন করে ঘিরে থাকা আউটার রিং রোড এলাকায় সালফার ডাই অক্সাইডের নির্গমন মাত্রা প্রতিদিন ১৮১০১ কেজি ; অন্যদিকে গ্রেটার হায়দ্রাবাদ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন এলাকায় এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দিনপিছু ১০৭০১ কেজি।এই হার গবেষকদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে।
    তাঁদের মতে এর পেছনে যানবাহনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গ্রেটার হায়দ্রাবাদ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন এলাকায় সালফার ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় পেছনে ৯১% দায়ি হলো যানবাহন চলাচল। অন্যদিকে আউটার রিং রোড এলাকায় ৯২% সালফার ডাই অক্সাইডের উৎস হলো শিল্প। গবেষকরা আরও জানিয়েছেন যে PM - 10 নিঃসরণের বিষয়টি শহরের ৩৩% দূষণের কারণ, বাকিটা আসে অন্যান্য উৎসসূত্রে, যায় মধ্যে SO2 বা সালফার ডাই অক্সাইড অন্যতম।
    বাতাসে আগ্রাসী মাত্রায় সালফার ডাই অক্সাইডের উপস্থিতি চিন্তার বিষয় হয়ে উঠেছে চিকিৎসকদের কাছে। জীবাশ্ম জ্বালানির যথেচ্ছ দহনের ফলে বাতাসে SO2 র উপস্থিতির হার বাড়ছে যার ফলে ক্রমশই বাড়ছে রেসপিরেটরি অর্গানের সমস্যা – গলার সমস্যা, শ্বাসনালীর প্রদাহ, হাঁপানি এবং ফুসফুসের কার্যকারিতা হ্রাসের সমস্যা। বাতাসে সালফার ডাই অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে গেলে পরিবেশের ওপর তার বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বাতাসের জলীয় বাষ্পের সঙ্গে বিক্রিয়ায় তৈরি হয় সালফিউরিক অ্যাসিড। বৃষ্টির জলের সঙ্গে তা নেমে আসে মাটিতে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ক্ষেতের ফসল, নদীর জল, মাটি। উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার সূত্রপাত এখানেই।
     
    শহরাঞ্চলের বাতাসের স্বাস্থ্যের হালচাল বুঝতে শীতকাল খুব জরুরি। দেশের রাজধানী দিল্লির বাতাসের ভয়াবহ অবস্থা আমাদের সকলের কাছেই এক পরম উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। আকাশছোঁয়া অট্টালিকার ১৫ বা কুড়ি তলায় থাকা আবাসিকদের অনেকেই মনে করেন যে হায়দ্রাবাদের বাতাসের গুণমান নিয়ে এখনোই খুব বেশি করে গেল গেল রব তোলার দরকার নেই কেননা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের মান যথেষ্ট অনুকূলেই আছে। বিজ্ঞানীরা অবশ্য একথা মানতে নারাজ, কেননা তাঁরা মনে করেন এমন ইনডেক্স মান যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য নয়। তাঁদের মতে বাতাসে ভাসমান ধূলিকণা বিষয়ে যথাযথ পরিমাপ করা না হ‌ওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে সমস্যার গভীরতা উপলব্ধি করা কখনোই সেভাবে সম্ভব হয় না। এই মুহূর্তে সাধারণ নাগরিক মানুষ এটাকে খুব গভীরভাবে না মানলেও আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই তা ভয়ানক সমস্যা হিসেবে দেখা দিতে পারে।
     
    হায়দ্রাবাদের পরিবেশ সংক্রান্ত গবেষণার সঙ্গে বিশেষভাবে যুক্ত সংস্থা Centre for Sustainable Environment and Education এর ডঃ দরগা শাইক জানান, যে অতিমারি কালে সারা দুনিয়ার সঙ্গে সঙ্গে হায়দ্রাবাদের দূষণ মাত্রা অনেকটাই কমে এসেছিল। কিন্তু অতিমারিকালের সতর্ক সময় পার হয়ে আসার পর থেকেই দূষণ মাত্রার গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। হায়দ্রাবাদের দুটি অংশের নাগরিক যাপন ও নাগরিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে দুস্তর ব্যবধান। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের মহল্লার সঙ্গে হাইটেক হায়দ্রাবাদের কোনো মিল খুঁজে পাওয়া সহজ নয়। পুরনো মহল্লার ভাঙা চোরা রাস্তাঘাট , গাছপালাহীন শুষ্ক ধূসর খোলা জমি থাকার কারণে বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ বেশি। অন্যদিকে উন্নয়নের নেশায় মশগুল হাইটেক হায়দ্রাবাদের নির্মাণ পর্ব এখনও শেষ হয়নি। এখানে খোঁড়াখুঁড়ি , ভাঙাভাঙি, নির্মাণ সামগ্রী যেমন সিমেন্ট,বালি ইত্যাদির আনা নেওয়ায় ফলে বিপুল পরিমাণ ধুলোবালি প্রতিদিন বাতাসে মিশছে এবং বায়ুদূষণ ঘটাচ্ছে। শীতকালে এইসব উপাদানের কারণে বাতাস শ্বাসকষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গগনচুম্বী অট্টালিকার আবাসিকরা এই সমস্যা প্রাথমিকভাবে টের না পেলেও মাটির কাছাকাছি থাকা মানুষজন এই সমস্যা হাড়ে হাড়ে পাচ্ছেন দিনযাপনের সূত্রে। 
     
    আগের পর্বেই জানিয়েছি যে বিকাশ তথা উন্নয়নের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকা হায়দ্রাবাদ তার এযাবৎকালের ভূমি ব্যবহার ব্যবস্থাপনার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটিয়েছে। এরফলে পঞ্চভূতের সকল ক্ষেত্রেই টালমাটাল অবস্থা দেখা যাচ্ছে। এলিভেটেড রোড ওয়েজ বরাবর তড়তড়িয়ে ছোটা গাড়ি শহরের কোর এলাকায় ঢুকে তৈরি করছে সুতীব্র যানজট।স্থানু হয়ে থাকা গাড়ি থেকে ছড়িয়ে পড়ছে সালফার ডাই অক্সাইড এবং নাইট্রোজেন অক্সাইডের মতো দূষণকারী গ্যাস। এইসব উপকরণের উপস্থিতি বাড়িয়ে তুলছে বড়ো রকমের পরিবেশদূষণের আশঙ্কাকে। এরফলে বাদ যাবেনা দত্তানগর এবং নারায়ণগুডার মতো একান্তভাবে গড়ে ওঠা আবাসিক এলাকা, আই ডি এ জিডিমেটলার মতো শিল্প এলাকা, চারমিনার - ঘান্সিবাজারের মতো বাণিজ্যিক এলাকা, হায়দ্রাবাদ ইউনিভার্সিটির মতো অপসৃত সবুজ প্রেক্ষাপটের এলাকা কোনোকিছু।সব‌ই দূষণের দাপটে একাকার হয়ে যাবে। একথা তো মানতেই হবে যে এইকালে উন্নয়ন আর দূষণ হাতে হাত রেখে চলতেই ভালোবাসে। শ্যাম না কুল কাকে বেছে নেবো আমরা তা বোধহয় একান্তই আমাদের সিদ্ধান্ত।
     
    অত: কিম্ …..
     
    পাঠকদের মনে হতেই পারে যে দূষণের গপ্পো তো অনেক শুনলাম এবার এই সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়ার উপায়গুলো নিয়ে দু চার কথা বলুন। আসলে উন্নয়ন+ ভোগবাদী জীবন+ প্রকৃতি পরিবেশের ভারসাম্য বিষয়ে নিস্পৃহ মানসিকতা = পরিবেশ মানের অবনমন। আমাদের সচেতন সক্রিয়তাই পারে এই অবস্থায় পরিবর্তন আনতে। আধুনিক সময়ে সাইবারাবাদ হয়ে ওঠা হায়দ্রাবাদ‌ও এই নিয়মের ব্যতিক্রম নয়। বিজ্ঞানীদের মতে সমস্যার তীব্রতা নিয়ন্ত্রণে আনতে যা যা করা উচিত, সেগুলো হলো –
     
    ১.হায়দ্রাবাদের নির্মিয়মান বহুতল ভবনের নির্মাণকাজের বিষয়টিকে আরও কড়া আইনের আওতায় আনতে হবে। কেবলমাত্র সবুজ নেট দিয়ে বাড়ির কাঠামোকে ঢেকে রাখাটাই এক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়, নিয়মিত ব্যবধানে তার ওপর কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করতে হবে।
     
    ২.রাস্তার ভাঙাচোরা অংশগুলো দ্রুত সারিয়ে নিতে হবে। প্রথাগত ঝাঁটা দিয়ে রাস্তা ঝাড়ার পরিবর্তে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার করতে হবে যাতে বাতাসে ভেসে বেড়ানো ধুলাবালির পরিমাণে লাগাম টানা যায়।
     
    ৩.গণপরিবহন ব্যবস্থার প্রসার চাই। চালু রুটগুলোকে সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে নতুন যাত্রাপথের প্রসার ঘটাতে হবে। সাইকেল চলাচলের উপযোগী পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। বাড়াতে হবে পদচারীদের হাঁটাহাঁটি করার সুবিধা।
     
    ৪. প্রথাগত জীবাশ্ম জ্বালানি বাহিত যানবাহনের পরিবর্তে ইলেকট্রিক ভেহিকলের ব্যবহার বাড়াতে হবে। আরও বেশি সংখ্যায় চার্জিং স্টেশন, ইলেকট্রিক ভেহিকেল কেনার জন্য সহজ শর্তে ঋণ প্রদান ইত্যাদির সুযোগ বাড়াতে হবে। ডিজেল চালিত গাড়ি সংখ্যা কমিয়ে আনতে হবে দ্রুততার সঙ্গে।
     
    ৫. বাতাসে উপস্থিত দূষক পদার্থের পরিমাণ পর্যবেক্ষণের জন্য আরও কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যে সমস্ত এলাকায় দূষণের মাত্রা দ্রুত গতিতে বেড়ে চলেছে সেই সব অঞ্চলে আরও বেশি সংখ্যায় মনিটরিং সেন্টার স্থাপন করতে হবে। যে সব এলাকায় শিল্পের সংখ্যা বেশি সেইসব এলাকায় নিয়মিত ব্যবধানে মনিটরিং করতে হবে এবং স্বচ্ছ উপায়ে তথ্য প্রকাশ করতে হবে। দূষক সম্পর্কিত তথ্য পরিচ্ছন্ন উপায়ে জানাতে হবে।
     
    ৬. নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। বায়ুদূষণের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাধারণ মানুষকে সচেতন করা খুবই জরুরি। পরিস্থিতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন না হলে এই ধরনের সমস্যাকে কাটিয়ে ওঠা অসম্ভব।
     
    ৭. বাড়াতে হবে সবুজের পরিসর। এমনিতেই গরমের সময় হায়দ্রাবাদে তিষ্টনো দায়, তার ওপর সবুজ সরিয়ে ধূসর কংক্রিটের জঙ্গল হায়দ্রাবাদকে হিট আইল্যান্ডে পরিণত করেছে। স্থানীয় বা দেশীয় প্রজাতির গাছপালাকে প্রাধান্য দিয়ে নতুন করে বনায়ন করা খুব জরুরি।
     
    ৮. বাতাসের গুণমান বজায় রাখার জন্য প্রয়োজন জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নীতি প্রণয়নের। গ্রহণ করতে হবে নতুন ক্লাইমেট স্ট্র্যাটেজি যাতে করে পরিবেশ সমস্যার একেবারে গভীরে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব হয়।
     
    এই পর্যায়ক্রমিক নিবন্ধের কেন্দ্রে রয়েছে তেলেঙ্গানার রাজধানী হায়দ্রাবাদ। তবে যে সমস্ত সমস্যার কথা ঠাঁই পেয়েছে এই আলোচনায় তা একান্তই হায়দ্রাবাদের সমস্যা এমনটা কখনোই নয়। ভারতের যে কোনো প্রান্তের যে কোনো শহরে গেলেই এই সমস্ত সমস্যায় জর্জরিত এক নগর সংকীর্তন শুনতে পাব। নদীর অপমৃত্যু, দূষিত বাতাস, অপরিস্রুত পানীয় জলের জোগান,পর্বত প্রমাণ আবর্জনা – এই সবকিছুর দেখা মিলবে যে কোনো প্রান্তে। বেড়াতে গিয়ে এই সব ফাঁক ফোকরের খোঁজ করা নিশ্চয়ই খুব কথা নয়। তবে ঐ যে বলেছি ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভাঙে… আর এতো নিজামী হায়দ্রাবাদ মাত্র।
     
     
    ঋণ স্বীকার 
     
    বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন।
    তেলেঙ্গানা রাজ্যের পরিবহণ দফতরের পরিসংখ্যান।
     
                              ( লক্ষ থাকুক পরবর্তী পর্বে )
     
     
     
     
     
     
     
     
     
     
     
     
     
     
     
     
     
     
     
     
     
     
     
     
     
     

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • আলোচনা | ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৮ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খারাপ-ভাল প্রতিক্রিয়া দিন