এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  রাজনীতি

  • মমতা, গুলিয়ে দেওয়ার রাজনীতি 

    Bhattacharjyo Debjit লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | রাজনীতি | ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ৬৯ বার পঠিত
  • সুপ্রিমকোর্টে এস.আই.আর নিয়ে রাজ্যের মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সওয়াল শেষে সব থেকে বেশি উচ্ছাসিত হয়েছেন কুণাল ঘোষ। তিনি একশোয় পাঁচশো দিয়েছেন মমতাকে। কিন্তু, এই পাঁচশ নম্বর পাওয়া মমতা আসলে কে সেইটাই জানা ও অজানার মধ্যে বারেবারে সংঘাত ঘটাচ্ছে। কুণাল ঘোষ কোন মমতাকে পাঁচশ দিলেন, সেই মমতা কী এই রাজ্যের মূখ্যমন্ত্রী না কি বিরোধী নেত্রী?
     
    প্রধান বিচারপতিকে মমতার বলা কয়েকটি কথা, প্রশ্নগুলো ভুল নয়। যেমন – এস.আই.আরের কারণে শতাধিক মানুষের মৃত্যু, রাজ্যকে টার্গেট করা, এস.আই.আর শুধু বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া ইত্যাদি। এই প্রশ্নগুলো যতটা ঠিক আবার ততোটাই ভুল রাজ্যের মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ থেকে শুনতে লাগছে। তিনি বিগত দশ বছর ধরে নিজের দুইদিকের সত্ত্বা ধরে রাজনীতি করছেন। সময়ে সময়ে ভোল বদলাচ্ছেন। একদিকে তিনি রাজ্যের মূখ্যমন্ত্রী, রাজনৈতিক ক্ষমতাসীন শক্তিশালী নেত্রী। যাঁর হাতে রাজ্যের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ক্ষমতা আছে, যাঁর পকেটে অনেক আমলারা রয়েছেন, যাঁর সঙ্গে অনেক বড় বড় ব্যবসাদাররা আছেন। আরেকধারে তিনি বঞ্চিত, নিপীড়িত, এমনটাই বোঝাতে চাইছেন। এটা যে পুরোপুরি মিথ্যে, তা নয়। কিন্তু, এটাকেই তিনি 'একমাত্র সত্য' হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। যা সম্পূর্ণ মিথ্যে, এটাকে 'উত্তর সত্য' রাজনীতি বলে। একেই মমতার গুলিয়ে দেওয়ার রাজনীতি, ক্ষমতা ধরে রাখবার রাজনীতির কৌশলগত দিক বলা চলে। 
     
    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মূখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন অবস্থায় প্রথম বিধানসভা নির্বাচন(২০১৬) থেকে শেষ বিধানসভা নির্বাচন(২০২১) পর্যন্ত একই কৌশলের রাজনীতিতে হেঁটেছেন। তিনি ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে লড়েছিলেন পূর্বের সামাজিক ফ্যাসিবাদী সি.পি.আই.এমের জমানার বিরোধিতা করে, ব্যাপক জনগণের মাঝে নিজেকে বিরোধী নেত্রী হিসেবে তুলে ধরে। ২০২১ সালে লড়লেন কেন্দ্রের ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুত্ব ফ্যাসিবাদী বিজেপির বিরোধিতায়। অথচ, কেন্দ্রের এই সরকার যা যা চাইছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাস্তবে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে, বাঙালির রাজনীতিতে তাই তাই করছেন। যেমন – একধারে মূখ্যমন্ত্রী হয়ে তিনি অসংখ্য মন্দির বানাচ্ছেন, তাঁর দল পাড়ার গলিতে, মোড়ে-মোড়ে রাম, হনুমান মন্দির বানিয়ে আর.এস.এসের রাজনৈতিক কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আবার তিনি আরেকধারে বড় বড় কোম্পানি, ব্যবসাদারদের হাতে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত সম্পদ তুলে দিতে চাইছেন, এখানকার জনগণকে ব্যবসাদারদের সস্তার মজুরে পরিণত করতে চাইছেন। পাশাপাশি, রাজ্যের কৃষকেরাও সর্বস্ব হারাচ্ছেন। মমতা এ সবটাই করছেন দুই সময়ে, দুই রূপে। নির্বাচনের আগে তাঁর এক রূপ, জনগণকে তিনি তাঁর আক্রান্ত, বঞ্চিত, নিপীড়িতের দিকটাই প্রধান করে দেখাতে চাইছেন। আর, নির্বাচনের পরে তিনি সেই জনগণের উপরে রাজনৈতিক ক্ষমতার ভয়াবহ নিষ্ঠুরতার জোর দেখাচ্ছেন। এর সব থেকে শ্রেষ্ঠ উদাহরণ: গতবারের বিধানসভা নির্বাচন শেষ হলে তিনি গ্রাম-বাংলা জুড়ে ভয়ংকর সন্ত্রাস নামান, এখানকার প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক, বাম ধারার কর্মী-সমর্থকদের উপরে আক্রমণ করেন। এমনকি, ২০২১-এর বিধানসভার সময় যে, 'নো ভোট টু বিজেপি' উদ্যোগ হয়েছিল, যেখান থেকে সামিরুল ইসলামের মত লোকেরা উঠে মমতার মন্ত্রী হলেন। সেই উদ্যোগের নেতা, কর্মীদের উপরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভা নির্বাচনের পরর্বতীতে আক্রমণ নামালেন। অর্থাৎ, তিনি ক্ষমতা পেয়ে গেলেই তাঁর প্রকৃত ক্ষমতাধারী, স্বৈরাচারী সত্ত্বার দিকটিকেই প্রধান করে তোলেন। এই দিকেই সব থেকে বেশি জোর দেন পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত। 
     
    আসলে মমতা ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসবার পরর্বতী সময় জুড়ে অবাধে লগ্নিপুঁজির চলাচল পেয়েছেন, বিশেষত, ২০১৭-১৮ সালের পর থেকে। এটিকে কাজে লাগিয়ে এ রাজ্যে এক ধরনের নতুন উদীয়মান লুম্পেন ফাটকা, কালোবাজারি, সুদখোর ব্যবসাদার গোষ্ঠীর জন্ম দিতে পেরেছেন — জমি লুঠ, প্রমোটিং, সিন্ডিকেট ও শেয়ারবাজার প্রভৃতির মাধ্যমে। প্রধানত, এই গোষ্ঠীগুলোর দ্বারাই তিনি নিজের রাজনৈতিক আবৃত্ত পরিপূর্ণ করে তুলেছেন। এই গোষ্ঠীগুলো গ্রামের সাথে শহরের সংযোগ স্থাপন করেছে, এর মধ্য থেকে গ্রামের ফড়ে, আধা-শহর ও শহরের সর্বক্ষেত্রে ঠিকাদার গড়ে উঠছে, বেড়ে চলেছে। এই গোষ্ঠীগুলো দেশী-বিদেশী বৃহৎ পুঁজিপতি গোষ্ঠীগুলোর সাথে এ রাজ্যের ব্যবসায়িক সংযোগ স্থাপন করেছে। এই গোষ্ঠীগুলোর চরিত্র একেবারেই সামন্তপ্রভু ও ফাটকা ব্যবসাদার আদানি-আম্বানীদের মতন, এরাও গোটা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে ভয়াবহ সন্ত্রাস, একনায়কত্বরাজ চায়। ফলে, আর.এস.এসের জাতিদাম্ভিক ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুত্ব ফ্যাসিবাদী মতাদর্শ এ রাজ্যে এদেরকে সঙ্গী বানিয়ে এদের পিঠে চড়ে এগোচ্ছে। সেই জন্য বিজেপিও এ রাজ্যে ক্ষমতা দখলে বারেবারে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। মমতা এই ফাটকা, লুম্পেন অর্থনীতির লুম্পেন রাজনৈতিক ও সংস্কৃতির এক বড়সড় নেটওয়ার্ক, আবৃত্ত গড়েছেন, গোটা বাংলা জুড়ে। সেইখানে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরে ঠাঁই পেয়েছে আরও নানা ধরনের রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর অনেকেই। তাই তথাকথিত মুসলীম সংগঠন, দলিত সংগঠন, বিপ্লবী, বাম, গণতান্ত্রিক — গোষ্ঠীগুলোর অনেকেই মমতার ভেতরে নিজেদের 'গুরু'কে দেখতে পাচ্ছেন। অথবা, কেউ কেউ আবার লেনিন বা মাও সেতুংকেও দেখেন। কিংবা, কেউ আবার মমতাকে 'ফ্যাসিবাদ বিরোধী' জোটের সঙ্গীও ভাবছেন। কেউ প্রকাশ্যে, কেউ গোপনে, তফাৎ এখানে। মমতার সারাবছরের রাজনীতি পরিকল্পনা যেমনভাবে এগোয় এরাও প্রায় তেমনভাবে এগোন মমতার কোলে বসে। কিংবা পিঠে চড়ে। উদাহরণস্বরূপ: বলা যেতে পারে — এরাও সারা বছর মমতাকে অতিরিক্ত পরিমাণে 'কম বলার' রাজনীতি অনুশীলন করে থাকেন এবং এ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মমতাকে কিছু 'না বলার' রাজনীতিতে নিজেরাও মেতে উঠেন, অন্যদেরও মাতিয়ে তুলতে চান কেন্দ্রের ফ্যাসিবাদী শক্তি বিজেপির ভয় দেখিয়ে। অথচ, আগের বাম জমানা সরকারের যে কাজের লক্ষ্য ছিল, এখন কেন্দ্রের বিজেপি সরকার যে যে কাজ করছে, তা এ রাজ্যে প্রায় সবটাই মমতার তৃণমূল সরকার করছে। সেই একই অর্থনীতি আরও নোংরা রূপ নিচ্ছে, সেই একই রাজনৈতিক সংস্কৃতি মমতার হাতে পরে আরও ধূর্ত, ফাটকা ও লুম্পেন হয়ে উঠছে। মমতা কখনও কঠোরভাবে শক্ত হাতে, আবার, কখনও ভালোবেসে, আবার, কখনও নিপীড়িত, বঞ্চিত, আক্রান্ত ইত্যাদি সেজে নিজেদের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক এজেন্ডা পরিপূর্ণ করছেন। এসবের মধ্য দিয়ে মমতা রাজ্য-রাজনীতিকে মমতাকেন্দ্রিক রাজনীতিতে পরিণত করেছেন, যার মধ্য দিয়ে তিনি গোটা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে এক প্রকারের নির্মম, নিষ্ঠুরতার ফ্যাসিবাদী কায়দার শাসন চালাচ্ছেন। 
     
    মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এস.আই.আর শেষের মুহূর্তে এসে প্রশ্ন করছেন। প্রশ্ন করা কী তাঁর কাজ? যাঁর হাতে একটা গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ক্ষমতা রয়েছে সে কী প্রশ্ন করতে পারে? তিনি রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী, তাঁর কাজ রাজ্যের জনগণকে রক্ষা করা। প্রশ্ন সবসময়তেই কমজোরীরা করে থাকেন। তিনি কেন্দ্রের কাছে কমজোরী এটা সঠিক। তবে তাই বলে কী তিনি রাজ্যের ক্ষমতায় নেই? আছেন। তিনি চাইলে এস.আই.আর প্রথম থেকেই আটকানোর ব্যবস্থা করতে পারতেন। কিন্তু, তা করেননি। উল্টে রাজ্যের সরকারি কর্মচারী, নিজেদের রাজনৈতিক দলের লোক, 'ভোট রক্ষার ক্যাম্প' বানিয়ে তিনি কেন্দ্রকে সাহায্য করেছেন এ রাজ্যে এস.আই.আরের কাজ সম্পন্ন করতে, এ রাজ্যের নাগরিককে ভয়াবহ বিপদের মুখে ঠেলে দিতে। এখন তিনি সেই বিপদ থেকে সকলকে উদ্ধার করতে নেমেছেন, এমনটাই দেখাতে চাইছেন। শেষ সময় বলছেন, এটা বাদ দেওয়ার প্রকল্প, অনেকে মারা গিয়েছেন এস.আই.আরের কারণে। তিনি একজন মূখ্যমন্ত্রী হয়ে, ক্ষমতাশালী হয়ে এ ধরনের কথা বলেন কোন মুখে, এই প্রশ্ন করবার কার জোর আছে? রাজ্যের কোনো বিরোধী দলের সেই জোর নেই, এই রাজনৈতিক সংকটকে তিনি ব্যাপকভাবে কাজে লাগাতে চাইছেন, বিজেপি বিরোধী হিসেবে শুধু নিজেকেই খাঁড়া করতে চাইছেন এবং তাঁর এইবারের ক্ষমতা ধরে রাখবার রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা দাঁড়িয়ে, ‘বিজেপির হাত থেকে বাংলা ও বাঙালি জাতিকে বাঁচাও’, এই এজেন্ডায়। তাঁর দল বিধানসভা নির্বাচনকে লক্ষ্য রেখে পোস্টার সেঁটেছে — 'আবার বাংলা জিতবে'। অথচ, এই বাংলা কোথায় জিতছে? বাস্তবতায় বাংলার অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি ক্রমশ তলিয়ে যাচ্ছে মমতার হাত ধরে। একের পর এক বাংলা মাধ্যমের সরকারি স্কুল বন্ধ হচ্ছে। বাংলার বিদ্রোহী ইতিহাস উঠে যাচ্ছে বা তা বিকৃতভাবে পড়ানো চালু হচ্ছে। আর, এখানে দেশী-বিদেশী বৃহৎ পুঁজিপতি গোষ্ঠীগুলো, বড় বড় কোম্পানি, ব্যবসাদার ও আর.এস.এসের সম্মিলিত স্বার্থের ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুত্ব ফ্যাসিবাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা ধীরে ধীরে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই মুহূর্তে এস.আই.আরের কারণে যা কিছু ঘটছে, যত জন প্রাণ হারাচ্ছেন তার দায় মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এড়ানোর ক্ষমতা নেই। তিনি এ রাজ্যে এস.আই.আর করাতে কেন্দ্রকে সাহায্য করেছেন, রাজ্যের জনগণের সমস্ত নথি কেন্দ্রের কাছে জমা দিয়েছেন, ক্যাম্প বানিয়ে দায়িত্ব সহকারে। এবার দিল্লিতে বসে আর.এস.এস ও বিজেপি রাজ্যের জনগণ, নাগরিকদের যখন তখন বেনাগরিক করতে পারে, এ রাজ্যে যখন তখন এন.আর.সি হতে পারে, সেই আশঙ্কাই তৈরি হচ্ছে। তারপরেও তিনি এই এস.আই.আর বাতিলের দাবি করে প্রধান বিচারপতির সামনে একটাও কথা বলেননি, প্রশ্ন করেননি। করেছেন প্রধানত, হিয়ারিংয়ের 'লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি' সমস্যাকে সামনে রেখে এবং তাঁর আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু ছিল মূলত, জ্ঞানেশ কুমার ও বিজেপি। মমতার লক্ষ্য একটাই আসছে বিধানসভা নির্বাচনে নিজেদের রাজনৈতিক ক্ষমতাকে বাঁচানো, আখের গোছানো। কারণ, মমতা অনুভব করছে এস.আই.আরের মধ্য থেকে তাঁর গণভিত্তিতে ক্রমশ টান পড়ছে। রাজ্যের অনেক জনগণ এস.আই.আরের বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই প্রতিবাদ করছেন, সেই প্রতিবাদ সময়ের সাথে সাথে আরও অনেককে জড়ো করিয়ে প্রতিরোধ, প্রতিঘাতের রূপ নিয়েছে। এস.আই.আরের আক্রমণ যত বেড়েছে জনগণ ধীরে ধীরে নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্র সরকার ও বিজেপির পাশাপাশি রাজ্য সরকার ও তৃণমূলের বিরুদ্ধেও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছে।
     
    তবে এখনও অনেকের মনে প্রশ্ন থাকবে যে, ভয়াবহ বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়ার পরে নিজের ভুল বুঝতে পেরে এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী সত্যি জনগণের পাশে দাঁড়াতে চাইছেন? সত্যি কী বিজেপি বিরোধী নেত্রী হয়ে উঠছেন? যদি এমনটাই হয় তাহলে তিনি সরাসরি এস.আই.আর ও এন.আর.সি বাতিলের দাবিতে রাস্তায় নামবেন। নিজের রাজনৈতিক আখের বাঁচানোর চার দেওয়ালের সওয়াল জবাবের মুখরোচক রাজনীতি কম করে জনগণের স্বার্থে সিএএ, ২০০৩(পড়ুন, যে আইনের সাথে প্রধানত এনআরসি যুক্ত, যে আইনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সায় ছিল।) বাতিলের দাবিতে আওয়াজ তুলবেন এবং তিনি নব্বইয়ের দশকের শেষ থেকে গোটা বাম জমানায় ‘বাংলাদেশী অনুপ্রবেশে’র প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে যে ভয়ংকর অপরাধ করেছেন, যার মাশুল আজ জনগণ গুনছেন, তার জন্য জনগণের কাছে প্রথমেই ক্ষমা চাইবেন। নয়তো, মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিকৃষ্টমানের ধূর্তামির রাজনৈতিক কৌশল, গুলিয়ে দেওয়ার মমতাকেন্দ্রিক ফ্যাসিবাদী কায়দার রাজনীতি ভাঙবার সময় খুব শিগগিরই ঘনিয়ে আসছে। এমনভাবে চললে তার ফল আসছে বিধানসভা নির্বাচনে নানাভাবে খানিকটা হলেও দেখা যেতে পারে।

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • আলোচনা | ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ৬৯ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভালবেসে মতামত দিন