এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  রাজনীতি

  • নাজি জার্মানি, জাপ সাম্রাজ্যবাদ ও নেতাজী সুভাষচন্দ্র

    Sandipan Majumder লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | রাজনীতি | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ | ৭৭ বার পঠিত
  • সা রে গা মা পা ধানি
    বোম ফেলেছে জাপানি
    বোমের ভেতর কেউটে সাপ
    ব্রিটিশ বলে বাপরে বাপ।

    ছোটোবেলায় শোনা এই ছড়াটা বেশ মজার না ?

    ছড়াটায় জাপানি বীরত্বের জয়গান আছে। ব্রিটিশের নাস্তানাবুদ হওয়ায় আনন্দের চাপা প্রকাশ আছে। ঠিক যেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর অনুগামীর রচিত লাইন। এই ছড়া শুনে কিন্তু আমরা জানতে পারি না কলকাতায় জাপানি বোমার ভয়াবহতার ইতিহাস। অথচ সামান্য গুগল করলেই দেখতে পাব ১৯৪২ সালের ২০ ডিসেম্বর থেকে ১৯৪৪ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত কলকাতায় যেভাবে জাপান বোমা ফেলে খিদিরপুর ডক, ডালহৌসি স্কোয়ার, হাতিবাগান, বজবজ প্রভৃতি অঞ্চলে তার ফলাফলের কথা। অথচ অনেকের ধারণা ছিল নেতাজী সঙ্গী থাকায় জাপানিরা কলকাতা আক্রমণ করবে না। ১৯৪৩ সালের ৭ই ডিসেম্বর অমৃতবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট অনুসারে অসামরিক মানুষদের মধ্যে হতাহতের সংখ্যা প্রায় ৫০০ এবং আহতদের অনেকের আঘাত প্রাণঘাতী। এর মধ্যে বেশির ভাগই ডকের শ্রমিক হওয়ায় হয়তো বাঙালিদের গায়ে অতটা আঁচ লাগে নি। খিদিরপুর ডক দিয়ে সেই সময় চীন এবং মায়ানমারে মিত্রশক্তি অস্ত্রশস্ত্র পাঠাতো। চীনের কাছে ভীষণ বেগ পাচ্ছিল জাপান। তাই খিদিরপুর ডক এবং জিপিও ছিল জাপানের প্রধান টার্গেট।

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্তির আশি বছর পরেও আমাদের আগ্রহের বিষয় দুটি। প্রথমত নেতাজী সুভাষচন্দ্রের মৃত্যুরহস্য এবং দ্বিতীয়ত নেতাজীকে নিয়ে কম্যুনিস্ট পার্টির তৎকালীন অবস্থান। সুভাষচন্দ্র যে সমাজবাদে বিশ্বাস করতেন সেটা গান্ধীবাদী ছিল না, তিনি শ্রেণী সংগ্রামে বিশ্বাস করতেন। কিন্তু তাঁর আপত্তির জায়গা ছিল জাতীয়তাবাদ আর ধর্ম প্রসঙ্গে মার্কসবাদী দৃষ্টিভঙ্গীর নেতিবাচন। সুভাষ সংসদীয় গণতন্ত্রেও ততটা আস্থাশীল ছিলেন না। ফলে নাৎসিদের বর্ণবাদ, অত্যাচার সম্পর্কে আপত্তি থাকলেও ফ্যাসিবাদ আর মার্কসবাদের মিলিত এক অবস্থানে বিশ্বাস করা শুরু করেছিলেন তিনি। নেহেরু বলেছিলেন মার্কসবাদ আর ফ্যাসিবাদের মাঝখানে কোনো জায়গা থাকতে পারে না। সুভাষ কিন্তু ঠিক সেটিতেই বিশ্বাস করতে আরম্ভ করলেন। ফলে কম্যুনিস্টদের সঙ্গে অচিরে তাঁর দূরত্ব তৈরি হল। যখন জানা গেল যে সুভাষ বার্লিনে নাজীদের আশ্রয়ে আছেন তখন এদেশীয় কম্যুনিস্টরা, তাঁর সম্পর্কে চোখা চোখা বাক্যবাণ প্রয়োগ করতে আরম্ভ করলেন। তাঁদের মুখপাত্র নিউ এজে কার্টুন এবং বিভিন্ন লেখায় সুভাষকে তীব্র আক্রমণ করা হল। নিঃসন্দেহে এই আক্রমণ শালীনতা ও পরিমিতিবোধের সীমা লংঘন করেছিল। নেতাজীর দেশপ্রেম, আবেগ ও সততা নিয়ে দেশবাসীর বিন্দুমাত্র সন্দেহ ছিল না। তাই জনগণের অনুভূতি বুঝতে আরও অনেকবারের মত এই সময়েও কম্যুনিস্ট পার্টি ভুল করেছিল। কিন্তু সেই মূল্যায়নের রাজনৈতিক মাত্রা ভুল ছিল না। নেতাজীর নাৎসীদের প্রতি অবস্থান ছিল রাজনৈতিক ভাবে এক হিমালয়প্রতিম ভুল। পরে জাপ সাম্রাজ্যবাদ অক্ষশক্তির সঙ্গে যোগ দেওয়ায় এবং তাদের সাহায্য গ্রহণে সুভাষচন্দ্র বাধ্য হওয়ায় এই ভুল তার পরিণতির দিকে এগিয়ে যায়।

    নাজি জার্মানিতে নেতাজী
    _____________________

    হিটলার ভারতীয়দের সম্পর্কে অত্যন্ত নিচু ধারণা পোষণ করতেন। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম তার কাছে ছিল শৌর্যশালী অ্যাংলো-নর্ডিকদের বিরুদ্ধে নিকৃষ্ট হিন্দুদের বিদ্রোহ। তাঁর মতে ভারতে ব্রিটিশ শাসন ছিল আর্যদের কৃতিত্ব যাতে একটি ছোটো দ্বীপরাষ্ট্র কোটি কোটি মানুষের এক প্রাচীন সভ্যতার ওপর প্রভুত্ব বিস্তার করেছে। সুভাষচন্দ্র চেয়েছিলেন হিটলারের সঙ্গে দেখা করে তাঁর ‘মেইন ক্যাম্ফ’ বইতে ভারতীয়দের প্রসঙ্গে যে অবমাননাকর উক্তিগুলো আছে সেগুলো প্রত্যাহার করতে বলবেন। কিন্তু তা সম্ভব হয় নি। ভারতে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে আজাদ হিন্দ সরকারের সঙ্গে জার্মানি একটা যৌথ বিবৃতি দিন, এমনটা নেতাজী বারবার চাইলেও হিটলার তাতে সই করেন নি। হিটলার শেষ পর্যন্ত চেয়েছিলেন যদি ইংল্যাণ্ড আক্রমণ না করলে চলে। পুর্ব ইওরোপ এবং রাশিয়ার স্লাভদের ওপর আধিপত্য করা তাঁর পাখির চোখ ছিল। হিটলার, গোয়েবলস এবং অন্য নাজি নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা অবশ্য সুভাষের ভালোই হয়েছিল। ইটালিতে মুসোলিনি তাঁকে সাদরে বরণ করেছিলেন।

    সুভাষচন্দ্র অবশ্য ১৯৩০ সালে কলকাতা কর্পোরেশনের এক বক্তৃতায় সমাজতন্ত্রের ‘ন্যায়, সমতা, প্রেম’ ইত্যাদি আদর্শগত ভিত্তির সঙ্গে ইওরোপীয় ফ্যাসিবাদের ‘দক্ষতা ও শৃঙ্খলা’ মেলানোর কথা বলতে শুরু করেছিলেন। অবশ্য তখন চার্চিল বা মহাত্মা গান্ধীর মত মানুষও ফ্যাসিবাদের ভয়ংকরতা অনুধাবন করতে পারেন নি। সুভাষ কিন্তু তাঁর দেশপ্রেমিক সত্তাকে নাজিদের কাছেও নত করেন নি। হিটলারের সেনাপতি হেরম্যান গোয়েরিং ১৯৩৪ সালে ডেইলি মেলের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মহাত্মা গান্ধীকে ‘বলশেভিক এজেন্ট’ বলেন। সুভাষ সঙ্গে সঙ্গে জার্মান সরকারের কাছে তাঁর তীব্র প্রতিবাদ জানান। কিন্তু ঐ বছরই ভিয়েনায় বসে রচিত তাঁর ‘The Indian Struggle’ গ্রন্থে তিনি আবার ফ্যাসিবাদ আর কম্যুনিজমের সমন্বয়ের পক্ষে সুপারিশ করলেন। ১৯৩৬ সালে হিটলার যখন এক বক্তৃতায় ‘শ্বেতাঙ্গ আধিপত্য’র পক্ষে সওয়াল করেন তখন কিন্তু সুভাষ তীব্র প্রতিবাদ করে এমনকি জার্মানির সঙ্গে বাণিজ্য বয়কটের আহ্বান রাখেন। নাজি জার্মানির সম্পর্কে এরকম মোহভঙ্গের ঘটনা সুভাষের ক্ষেত্রে বারবার হয়েছে। আবার একই সঙ্গে কিন্তু তিনি শুধু নাজিবাদ নয়, কম্যুনিজমের প্রতিও তার নৈকট্য ঘোষণা করে এসেছেন।

    হরিপুরা কংগ্রেসে ১৯৩৮ সালে সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর দীর্ঘ বক্তৃতায় তিনি লেনিন থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছিলেন, ব্রিটিশ কম্যুনিস্ট পার্টির প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন। ফরওয়ার্ড ব্লক প্রতিষ্ঠার পর কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে তীব্র তিক্ততার সময় ১৯৪০ সালে জেল থেকে মুক্তি পেয়ে নেতাজী গান্ধীজীর কাছে প্রস্তাব দেন গান্ধীর সীমাবদ্ধ অসহযোগ আন্দোলনে নিঃশর্ত সমর্থন করার। গান্ধী, দুঃখের বিষয়, তাঁর প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। এইসময় নেতাজী তার ভাই শরৎ বসুকে লিখেছিলেন যে আমি মাঝে মাঝে বুঝতে পারি না যে ব্রিটিশ আমলাতন্ত্র নাকি গান্ধীর ক্ষমতাতন্ত্র — ভারতের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের পক্ষে কোনটা বেশি ক্ষতিকারক। বোঝাই যায় নেতাজী যে ঘটনা পরম্পরায় অক্ষশক্তির সঙ্গে হাত মেলাতে বাধ্য হলেন সে ব্যাপারে গান্ধী এবং কংগ্রেস নেতৃত্বের দায় একেবারে ছিল না তা নয়।

    নেতাজীর যুদ্ধ পরিকল্পনা বাস্তবোচিত ছিল না। তিনি ভেবেছিলেন জার্মানি তাঁকে অন্তত ৫০০০০ আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত সেনা দিয়ে সাহায্য করবে। জার্মানি যে সেনা আদৌ দেবে না অথবা দিলেই বা তারা কীভাবে ভারতে পৌঁছাবে সেসব তিনি ভাবেন নি। ব্রিটিশ ভারতের সেনাবাহিনীতে তখন ৭০০০০ ব্রিটিশ সৈন্য ছিল আর ভারতীয় সৈন্য ছিল ১৮০০০০। নেতাজী ধরে নিয়েছিলেন যে একবার আক্রান্ত হলে ভারতীয় সৈন্যরা সবাই নেতাজীর সঙ্গে যোগ দেবে! তাঁর মতে তাই ইংরেজ বাহিনীকে হারানো ততটা কঠিন হবে না। জাপান যে সিঙ্গাপুরকে আক্রমণ করবে তাঁর এই অনুমান অবশ্য সঠিক প্রমাণিত হয়েছিল। কিন্তু এই লড়াইতে যে আমেরিকা এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন যোগ দেবে সেকথা অবশ্য তিনি ভাবতে পারেন নি তখনও। গোটা ব্যাপারটা ইংরেজ বনাম জার্মান যুদ্ধ, সহায়ক হিসেবে বড়জোর অক্ষশক্তির অংশ হিসেবে জাপানের কথা তিনি ভেবেছিলেন। অথচ জার্মানি তখনও হিসেব কষে যাচ্ছে সুভাষকে ভারতীয় রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে বসিয়ে তার আদৌ কোনো লাভ হবে কিনা। তাদের মাথায় তখন ঘুরছে অপারেশন বার্বারোসা -- ঝটিতি আক্রমণে সোভিয়েত ইউনিয়ন দখল। দীর্ঘদিন ধরে বার্লিনে স্বাধীন একটি সরকার প্রতিষ্ঠাকরতে চাইলেও সুভাষকে সেই অনুমতি জার্মানরা দেয় নি। মাঝখান থেকে ১৯৪১ সালের ২২শে জুন জার্মানি যখন সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ করে তখন সুভাষ প্রচণ্ড বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। তাঁর নিজস্ব সোভিয়েত প্রীতি তো ছিলই। তা বাদে ভারতের সবকটি রাজনৈতিক দল, ফরোয়ার্ড ব্লক সমেত, সোভিয়েত ইউনিয়নের পক্ষে এবং জার্মানির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করে। অবশ্য কিছুদিন পর সরকার না হোক, ফ্রি ইণ্ডিয়া সেন্টার এবং ফ্রি ইন্ডিয়া রেডিও বার্লিনে স্থাপনে সফল হন সুভাষ। তখনও ভারতে কেউ জানে না যে তিনি কোথায় আছেন। ঐ বছরই নভেম্বর মাসে সেই তথ্য প্রকাশিত হয়ে পড়লে ভারত, ইংল্যাণ্ড এবং আমেরিকায় সুভাষকে নাজীদের কোলাবোরেটর, কুইসলিং বানিয়ে ভয়ানক প্রচার শুরু হয়। ভারতীয়দের স্বাধীনতা নিয়ে হিটলারের মেইন ক্যাম্ফের বক্তব্য তুলে ধরে প্রচার করতে ব্রিটিশদের আরও সুবিধা হয়। কয়েকদিনের মধ্যেই ৭ই ডিসেম্বর তারিখে জাপান পার্ল হারবার আক্রমণ করলে পরিস্থিতি আবার পালটে যায়। ১১ই ডিসেম্বর হিটলার আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। এদিকে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় জাপানী বাহিনী ব্রিটিশের বিরুদ্ধে দ্রুত এগোতে থাকে। ব্রিটিশের পরাজয় সম্পর্কে সুভাষ আরও নিঃসংশয় হয়ে ওঠেন এই সময়।

    এর মধ্যে চীনের জাতীয়তাবাদী নেতা চিয়াং কাই শেক ভারতে এসে কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের অক্ষশক্তি তথা ফ্যাসিবাদবিরোধী দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। ১৯৪২ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি সিঙ্গাপুরের পতন ঘটে জাপানের হাতে। চার্চিল একে ব্রিটিশ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরাজয় বলে স্বীকার করেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী তোজো পরদিন এক রেডিওভাষণে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি তাঁর পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন। ২৮শে ফেব্রুয়ারি ফ্রি ইন্ডিয়া রেডিওতে সুভাষচন্দ্র তাঁর প্রথম জাতির উদ্দেশে ভাষণে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার আহ্বান ছাড়াও নাম না করে নেহেরু এবং কংগ্রেস নেতৃত্বকে অ্যাংলো-আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদের দালাল হিসেবে চিহ্নিত করেন। ৮ই ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৩ সুভাষচন্দ্র জার্মান সাবমেরিনে চেপে এক দুঃসাহসিক অভিযানে নামেন যা তাকে এপ্রিল মাসে জাপানি সাবমেরিনে পৌঁছে দেয়। অক্টোবর মাসে সিঙ্গাপুরে তিনি স্বাধীন ভারতের অস্থায়ী সরকার গঠন করেন।১৯৪৪ সালের মার্চ মাসে জাপান এবং আই এন এ একযোগে বার্মা থেকে ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলে আক্রমণ শানায়। কিন্তু ততদিনে যুদ্ধের গতিপথ অক্ষশক্তির বিরুদ্ধে চলে গেছে। হিটলার বার্লিনে বসে সেখবর শুনে বিদ্রুপ করে বলেছিলেন, আইএনএ ভেড়ার পালের মত ছত্রভঙ্গ হয়েছে।

    জাপ সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের বর্বরতা
    ------------------------------------

    ১৬০০ সাল নাগাদ কোরিয়ায় একটি ব্যর্থ সামরিক অভিযানের পর প্রায় আড়াইশ বছরেরও বেশি সময় ধরে জাপান বাকি পৃথিবী থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন রেখেছিল। জাপান ঘুম ভেঙ্গে দেখল বাকি পৃথিবী অনেক এগিয়ে গেছে। পাশ্চাত্যের শিল্পোন্নত, সামরিক শক্তিতে বলীয়ান জাতিগুলিকে আদর্শ মানল জাপান। উনবিংশ শতাব্দীর শেষে চীনের কিং সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সু্যোগে চীনের উপকূল এলাকায় ইংল্যাণ্ড, ফ্রান্স, জার্মানী এবং রাশিয়া দখলদারি শুরু করে। জাপান ততদিনে একটি নতুন সাম্রাজ্যবাদী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছে। ১৮৯৪-৯৫ সালের চীন-জাপান যুদ্ধে চীনকে হারিয়ে জাপান কোরিয়ার ওপর তার আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে এবং চীনের মাঞ্চুরিয়া এবং শাংতুং প্রদেশ দখল করে। ১৯০৪ সালে রাশিয়ার নৌবাহিনীকে পরাস্ত করে এই ক্ষমতাকে আরও সংহত করে জাপান। ১৯১০ সালে সরাসরি কোরিয়াকে নিজের সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করে নেয় তারা। ঐ শতকের দ্বিতীয় দশকের শেষ ভাগ থেকে চিয়াং কাই শেকের নেতৃত্বে চীন বেশ ঐক্যবদ্ধ এবং শক্তিশালী হতে আরম্ভ করে। সেই সময় চীনে জাপানি পণ্য বয়কটের একটা ঢেউ এসেছিল জাতীয়তাবাদীদের মধ্যে। এটাকে অজুহাত করে জাপান মাঞ্চুরিয়ায় ঢুকে পড়ে এবং ১৯৩২ সালের জানুয়ারি মাসে সেটাকে নিজের সাম্রাজ্যের অংশ হিসেবে ঘোষণা করে। এরপরও জাপানি পণ্য বয়কট না থামায় জাপানি সৈন্যরা সাংহাইতে ঢুকে পড়ে এবং চিয়াং কাই শেককে পণ্য বয়কটের কর্মসূচী প্রত্যাহার করতে বাধ্য করে।

    দ্বিতীয় চীন-জাপান যুদ্ধের সময় জাপান চীনের তৎকালীন রাজধানী নানজিং দখল করে ১৯৩৭ সালের ১৩ই ডিসেম্বর। তারপর সেই শহরের সাধারণ নিরস্ত্র নাগরিকদের হত্যা ও ধর্ষণ করতে আরম্ভ করে। আধুনিক পৃথিবীতে একমাত্র বাংলাদেশে পাকিস্থানের সেনারা যা করেছিল তার সঙ্গে তুলনীয় এই নারকীয় কাণ্ড। মাত্র ছয় সপ্তাহের মধ্যে জাপানিরা কত মানুষকে হত্যা করেছে সেই সংখ্যা সঠিকভাবে নির্ণীত হয় নি। কিন্তু আনুমানিক সংখ্যা প্রায় তিন লক্ষের কাছে ঘোরাফেরা করেছে। বহু মহিলাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে, অনেক সময় শিশু সন্তান সহ। যুদ্ধবন্দী সৈন্যদের আন্তর্জাতিক নিয়ম না মেনে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে। মারার আগে অনেক সময় নির্যাতিতের অঙ্গচ্ছেদ করা হয়েছে বা বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে মারা হয়েছে। মৃতদের যথোচিত সৎকার করা হয় নি। জাপানিদের রেকর্ড অনুসারে তারা সাতান্ন হাজার মৃতদেহ সমাধিস্থ করেছিল। কিছুটা স্বাভাবিকতা ফেরার পর বেঁচে থাকা মানুষরা ধীরে ধীরে প্রায় দু লক্ষ ষাট হাজার মৃতদেহকে সমাহিত করেন। এর বাইরেও আরও অনেক দেহ ছিল।

    জাপান যুদ্ধবন্দীদের সঙ্গে যে নির্মম ব্যবহার করত সেটা তাদের হাতে বন্দী মিত্রশক্তির সৈন্যদের মৃত্যুহার দেখলেই বোঝা যায়। এই মৃত্যুহার ছিল গড়ে ২৭ শতাংশ। অথচ অপর দুই নাজি শক্তি জার্মানি আর ইতালির অধীনে যুদ্ধবন্দীদের (আগে ইওরোপে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় অনেক বেশিদিন বন্দী থাকলেও) মধ্যে মৃত্যুর হার মাত্র চার শতাংশ। সান্দাকোন নামে একটি যুদ্ধবন্দী শিবিরে প্রধানত অস্ট্রেলিয়ান যুদ্ধবন্দী ছিলেন প্রায় ২৫০০। তাঁদের মধ্যে বাধ্যতামূলক শ্রম, অনাহার, বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর পর মাত্র ছয় জন বেঁচেছিলেন। জাপানিরা এই যুদ্ধ চলাকালীন ইন্দোনেশিয়ায় ২১ জন অস্ট্রেলীয় নার্সকে হত্যা করে আর ৩২ জনকে জাপানি অফিসারদের মনোরঞ্জনের জন্য গণিকাবৃত্তিতে বাধ্য করে। নিউ গিনিতে জাপানি সৈন্যদের বিরুদ্ধে নরমাংসভক্ষণের অভিযোগ ওঠে। জাপান জৈব অস্ত্র তৈরির জন্য ইউনিট ৭৩১ নামে একটি কেন্দ্র স্থাপন করে যার কার্যকলাপ প্রকাশ্যে আসে ১৯৮০ সালের পর। জানা যায় জাপান যুদ্ধ চলাচালীন একটি কেন্দ্র তৈরি করে তাদের অধিকৃত চীনের মাঞ্চুরিয়ায় তাদের পুতুল রাজ্যে। প্রতি বছর প্রায় ৬০০ জন বিদ্রোহী চৈনিককে ধরে এখানে জীবন্ত গিনিপিগের মত তাদের শরীরে কলেরা,প্লেগ, টাইফয়েড প্রভৃতি জীবাণু ঢুকিয়ে পরীক্ষা করা হত। মারা যাওয়ার পর তাদের শব ব্যবচ্ছেদ করে পরীক্ষা চলত। এমনকি ফ্রস্টবাইটের অভিঘাতের পরীক্ষা নেওয়া হত ভিকটিমকে মাইনাস কুড়ি ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় রেখে। ১৯৪০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কিছু বন্দীর উপর বিষাক্ত গ্যাস প্রয়োগ করে তার প্রতিক্রিয়াও দেখা হয়। শুধু চীনেই নয় বা যুদ্ধবন্দীদের সঙ্গেই নয়। কোরিয়ায় প্রায় দুই লক্ষ মেয়েকে যৌন দাসী বানিয়ে জাপান তার যৌন বুভুক্ষু সেনাদের মনোরঞ্জনের জন্য যে অপকর্ম করেছিল সেটাও নজিরবিহীন। ১৯৯১ সালে কোরিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান তার জন্য জাপানের ক্ষমাপ্রার্থনা এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি না জানালে আমরা হয়ত সেকথাও জানতে পারতাম না।

    ভারতীয় সৈন্যদের সঙ্গে জাপান কী করেছিল সেটাই বা আমরা কজন জানি? ১৯৪২ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশরা জাপানের কাছে সিঙ্গাপুর হারানোর পর তাদের চল্লিশ হাজার যুদ্ধবন্দী ভারতীয় সৈন্যের মধ্যে ত্রিশ হাজার আইএনএ তে যোগ দেয়। কিন্তু যারা যোগ দেয় নি তাদের ইন্দোনেশিয়া, নিউ গিনি প্রভৃতি জায়গায় ভয়ানক সব শ্রমশিবিরে পাঠানো হয়। এদের ওপর আর সব ধরণের অত্যাচার তো বাদই দিলাম, মাঝে মাঝেই এদেরকে জীবন্ত টার্গেট রেখে শুটিং প্র্যাকটিসের কাজে ব্যবহার করত জাপানি সেনারা। কোনো কারণে গুলিতে না মরলে তাদের বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে মেরে ফেলা হত। যে সমস্ত বন্দীরা জেনিভা কনভেনশন অনুযায়ী প্রাপ্তব্য অধিকার দাবি করতেন তাদের চাবুক দিয়ে মারা হত। এই যুদ্ধবন্দীদের মধ্যে ক্যাপ্টেন, লেফটেন্যান্ট পদমর্যাদার অফিসাররাও ছিলেন। তাদের সঙ্গেও একই রকম ব্যবহার করা হত। এই অধিকারের জন্য লড়াই করতে গিয়ে ১৪ নম্বর পাঞ্জাব রেজিমেন্টের ষষ্ঠ ব্যাটেলিয়নের ক্যাপটেন নিরপাল চাঁদ প্রাণ দিয়েছিলেন। তাঁর শিরোচ্ছেদ করা হয়েছিল। এরকমই আরেকজন ছিলেন মতীন আহমেদ আনসারি। নতিস্বীকার না করায় তাকেও শিরোচ্ছেদ করে হত্যা করা হয়।

    বন্দীশিবিরে নিজস্ব ধর্মরক্ষার স্বাধীনতা ছিল না। হিন্দুদের গোমাংস না খাওয়া এবং মুসলিমদের রোজা রাখার অধিকার স্বীকার করত না জাপানিরা। লম্বা চুল আর পাগড়ির জন্য শিখদের অবর্ণনীয় নির্যাতন ভোগ করতে হত। এছাড়াও নিউ গিনির বন্দীশিবির থেকে স্বাস্থ্যবান বন্দীদের হত্যা করে নরমাংস ভোজন করত জাপানিরা, এরকম অভিযোগ বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে পাওয়া যায়। শেষ পর্যন্ত জাপানী বন্দীশিবিরগুলি থেকে মাত্র সাড়ে পাঁচ হাজার ভারতীয় বন্দী অর্ধ্মৃত অবস্থায় ফিরতে পারেন। তাদের একমাত্র অপরাধ ছিল সেনাবাহিনীর আনুগত্যের শপথ মেনে তাঁরা আই এন এ তে যোগদান করেন নি। এই আনুগত্য ভাঙ্গতে না পেরে নিউ ব্রিটেনের কোমোরিয়ামার বন্দীশিবিরে ৫/১১ শিখ রেজিমেন্টের সব সদস্যকে জাপানিরা হত্যা করে। ভারতে আন্দামানে ঢোকার পর জাপানিরা চরম অত্যাচার করে বলে জানা যাচ্ছে। প্রায় ২০০০ মানুষকে হত্যা করে তারা যার মধ্যে রয়েছে হ্যাভলক এবং তারমুগলি দ্বীপে সংগঠিত গণহত্যায় মৃতরা। হত্যাপদ্ধতির নিষ্ঠুরতা শুনলে মনে হয় এ ব্যপারে জাপানিদের তুলনা নেই। এরকম অনেক নিষ্ঠুরতার বিবরণ পড়ার পরও আমি এখানে লিখতে পারি নি। টাইপ করতে গিয়ে হাত থমকে গেছে কীবোর্ডে। এখন প্রশ্ন হল, জাপানিদের এই বীভৎস অত্যাচারের কথা তুলনায় এত কম আলোচিত কেন। এর একটাই কারণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর যে ঠান্ডা যুদ্ধ শুরু হয়ে যায় তাতে জাপানকে আমেরিকা অনুগত শক্তি হিসেবে পেয়ে যায়। ফলে জার্মানিতে হলোকাস্ট এবং যুদ্ধাপরাধের জন্য যে বিশদ বিচার হয় ন্যুরেমবার্গ বিচারের মত --- তার সমতুল্য কিছুই জাপানের ক্ষেত্রে হয় নি। আরেকটি কারণ জাপানের হাতে নির্যাতিত হয়েছিল এশিয়ার মানুষ — কোরিয়া এবং চীনের প্রধানত। এদের নিয়ে ইউরোপ আমেরিকার মাথাব্যথা ছিল না। ফলে নীচু পর্যায়ের কিছু সেনাবাহিনীর সদস্য নামখোয়াস্তে কিছু শাস্তি পেলেও জাপানের সাম্রাজ্যবাদী অপরাধের বিচার তখন হয় নি বললেই চলে।অনেক পরে বিবেকবান গবেষকদের উদ্যোগে (এর মধ্যে Yuki Tanaka-র মত জাপানি গবেষকও আছেন) এসব সত্য সামনে আসতে থাকে।

    নেতাজী সুভাষচন্দ্রঃকীভাবে দেখব তাঁকে
    _________________________

    ফ্যাসিবাদের সঙ্গে হাত মেলানো শুধু রাজনৈতিক ভুলই নয়, নৈতিক দিক থেকেও নিন্দাযোগ্য কাজ। কিন্তু ফ্যাসিবাদকে চিনতে অনেক বিশিষ্ট মানুষই প্রথম দিকে ভুল করেছিলেন, এমনকি রবীন্দ্রনাথও তার ব্যতিক্রম নন। সুভাষচন্দ্রের ব্যাপারটা কিন্তু আলাদা। তিনি প্রথম থেকেই জাতিগঠনের জন্য ফ্যাসিজমের ‘কিছু ভালো দিক’ দেখে তার প্রতি তত্ত্বগতভাবে আকৃষ্ট ছিলেন। হয়ত কংগ্রেস এবং মহাত্মা গান্ধীর অবস্থানের জন্য কোণঠাসা হয়ে তিনি দেশত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং বার্লিন পৌঁছোনোর পর তাঁর পক্ষে আর অবস্থান পরিবর্তনের কোনো সুযোগ ছিল না কিন্তু নাজিদের প্রতি তাঁর পক্ষপাত তার পরেও ঘোচে নি। ১৯৩৮ সালে কংগ্রেস সভাপতি থাকাকালীনই তিনি বোম্বেতে গোপনে নাজি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। আবার অক্ষশক্তি যুদ্ধের বিভীষিকা পৃথিবীময় ছড়িয়ে দেবার পরও ১৯৪৪ সালে টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বক্তৃতায় তিনি তখনও কম্যুনিজম আর ফ্যাসিজমকে মেলানোর কথা বলছেন। আমাদের মনে পড়বে রবীন্দ্রনাথ ১৯১৬ সালে তাঁর প্রথম জাপান সফরের বক্তৃতায় জাপানের উগ্র জাতীয়তাবাদ এবং আক্রামক প্রবৃত্তির সমালোচনা করে সমালোচিত হয়েছিলেন যে বক্তব্য তাঁর ‘Nationalism’ বইয়ের অংশ। ১৯৩৭ সালে দ্বিতীয় চীন জাপান যুদ্ধে জাপানের আগ্রাসনের সমালোচনা আবার করেন রবীন্দ্রনাথ। অথচ সুভাষচন্দ্রের এই বিষয়ে কোনো বক্তব্য আমরা পাই না। হয়ত তাঁর ধারণা ছিল যে জাপানের সহায়তায় দেশকে স্বাধীন করলে তখন স্বাধীনভাবে নিজেদের নীতিনির্ধারণ ও বক্তব্য প্রকাশের সুযোগ পাওয়া যাবে। কিন্তু জার্মানি হোক আর জাপান — ভারতের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে কোনো সদর্থক দৃষ্টিভঙ্গী কোনো ফ্যাসিস্ট শক্তির কখনই ছিল না। ফ্যাসিস্টদের আক্রামক জাতীয়তাবাদ শুধু নিজের দেশের স্বার্থের কথাই ভাবত। সেকথা সবচেয়ে ভালো ভাবে টের পেয়েছিলেন বার্মার বিপ্লবী নেতা আউন সান (বর্তমানে সেখানে গৃহবন্দী রাজনৈতিক নেত্রী আউন সান সু কির পিতা)। তিনিও নেতাজী সুভাষের মত জাপানের সহায়তায় ইংরেজ তাড়িয়ে দেশ স্বাধীন করার স্বপ্ন দেখেছিলেন,অনেকটা সফলও হয়েছিলেন। কিন্তু যখন দেখলেন যে জাপানিরা সেখানে পুতুল সরকার বসিয়ে নিজেদের শাসন চালাতে বেশি আগ্রহী তখন তাঁকে নতুন করে অ্যান্টি ফ্যাসিস্ট ফ্রন্ট বানিয়ে জাপানিদের বিরুদ্ধেই লড়তে হয়েছিল। বিশ্বযুদ্ধে জাপানের পরাজয় ঘটায় তিনি সফল হন। নয়ত বার্মার ভাগ্যে কী ঘটত কে জানে। অক্ষশক্তি জিতলে ভারতবর্ষও যে অনুরূপ দুর্ভোগের মধ্যে পড়ে নতুন করে পরাধীন হত না সে সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

    ফলে নেতাজীর অতুলনীয় দেশপ্রেম, দুর্দমনীয় সাহস আর অপরিসীম আত্মত্যাগকে পূর্ণ শ্রদ্ধা জানিয়েও বলা যায় ফ্যাসিবাদের প্রতি তাঁর কিছু মোহ এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাঁকে এক বিরাট ভুল সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। তাঁকে বুঝতে গেলে এই গোটা পরিপ্রেক্ষিতটি মাথায় রাখা প্রয়োজন।





    তথ্যসূত্রঃ

    (১) Bose in Nazi Germany, Romain Hayes, Random House India 2011
    (২) Asiatic Land Battles: The Expansion of Japan In Asia, Trevor Nevitt Dupuy, Franklin Watts Inc,1963
    (৩) Hidden Horrors:Japanese Wae Crimes in World War II, Yuki Tanaka, Routledge 2018
    (৪) Japanese  ate Indian POWs, used them as live targets in WWII, Manimugdha  S Sharma, The Times of  India, Jun 2, 2023 
    (৫) Nationalism, Rabindranath Tagore, Macmillan & Co
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • আলোচনা | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ | ৭৭ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • MP | 2401:4900:3f02:9e94:b8ad:30d4:9cdc:***:*** | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:০১738139
  • ভীষণ তথ্যসমৃদ্ধ ও উচ্চ গবেষণামূলক একটি লেখা উপহার দেবার জন্যে লেখককে অজস্র ধন্যবাদ। তবে একটা প্রশ্ন, ১৯৩৮ সালের ১৮ জুন, তৎকালীন জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি রূপে সুভাষচন্দ্র বসু সেসময়ে চীনে জাপানী আগ্রাসনের কঠোর সমালোচনা করেন ও দিনটাকে all india china day হিসেবে ঘোষণা দেন। (তথ্যসূত্রঃ "India, China and the World a connected history" by তানসেন সেন ২০১৭ এডিশন, পৃষ্ঠা ৩২৫) তাহলে এমন কি হলো যে এই ঘোষণার মাত্র কয়েকবছরের মধ্যেই সেই সুভাষ তার ভূরাজনীতি একশ আশি ডিগ্রি বদলে সেই জাপানী সাম্রাজ্যবাদের পক্ষেই যোগ দিলেন? কারণ কি শুধুই কংগ্রেসে নিজের রাজনীতির ব্যার্থতা ও হতাশা?
  • lcm | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:২৭738140
  • এমপি-র প্রশ্নের উত্তর কিছুটা ১৯৩৮ সালের হরিপুরা কংগ্রেসে সুভাষ বসুর ভাষণে আছে - 
     
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভেবেচিন্তে মতামত দিন