জাঁ লুক গোদারের জন্ম ১৯৩০ সালের ডিসেম্বর মাসে। ফলে প্রথমে পনের বছর বয়সে আর পরে স্থায়ীভাবে উনিশ বছর বয়সে যখন তিনি পারী শহরে এলেন তখন সেখানে বুদ্ধিবৃত্তির জগত শাসন করছেন দার্শনিক ও সাহিত্যিক জাঁ পল সার্ত্র। সেই প্রজন্মের এমন খুব কম ফরাসি বুদ্ধিজীবী পাওয়া যাবে যাঁরা সার্ত্রর দ্বারা প্রভাবিত হন নি। এমনকি সাধারণ জনমানসেও তাঁর একটা বিরাট প্র ভাব তৈরি হয়েছিল। গোদারের প্রথম দিকের ছবিতে সার্ত্রর অস্তিত্ববাদের প্রভাবের কথা অনেকেই বলে থাকেন। চল্লিশের দশকে সার্ত্র সিমোন দ্য বোভোয়াকে নিয়ে যে কাফেতে বসতেন সেটাই প্রায় অফিস ছিল তাঁর। পরে ষাটের দশকে গোদার তাঁর সতীর্থদের সঙ্গে ঐ কাফেতেই বসতেন। সার্ত্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাজি অবরোধের মধ্যে প্রতিরোধের সংগ্রামে অংশ নিয়েছিলেন। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর সাহিত্যের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে সার্ত্র আরও সোচ্চার হন। সার্ত্র তাঁর ‘ এনগেজড লিটারেচার’ এর যে সংজ্ঞা দিয়েছিলেন সেটা অনুসারে যুদ্ধ শেষ হলেও যুদ্ধ পরিস্থিতি চলমান। অকুপেশনের জায়গায় এখন এসেছে সারোগেট অকুপেশন। জার্মানির জায়গায় এসেছে আমেরিকা। ফলে শিল্পী দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারেন না। শিল্পীর উচ্চারিত প্রতিটি শব্দের যেমন অনুরণন আছে, তেমনি তাঁর নীরবতারও অভিঘাত আছে। তিনি চুপ থাকতে পারেন না।
আর কে কী মেনেছেন জানি না ,জাঁ লুক কিন্তু শিল্পীর এই দায়িত্ববোধের কথা আজীবন মেনে চলেছেন। তাঁর প্রকাশভঙ্গী পাল্টেছে, পাল্টেছে ভাষা ও প্রকরণ। কিন্তু দায়িত্ববোধের অবসান হয় নি। দীর্ঘায়ত অবরোধ আর প্রতিরোধের তত্ত্বকে স্বীকার করেছেন বলেই না পুঁজিবাদ, আমেরিকান অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ, ইজরায়েলের জায়নবাদ – তার আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু থেকেছে বরাবর। নয়তো গোদারের পক্ষে কঠিন ছিল না বুর্জোয়া ব্যবস্থার সেলিব্রিটি স্টেটাসকে নিজের অনুকূলে ব্যবহার করা বিশেষত যখন ১৯৫৯ থেকে ১৯৬৭ সালের মধ্যে আট বছরেই তিনি যে পনেরটি ছবি তৈরি করেন তা আমাদের আজও বিস্মিত করে। এই তালিকার শেষ ছবিটিই উইকএণ্ড।
উইকএণ্ড এমন একটা ছবি যেটা দেখার পর কেউ বলবে না, দেখে খুব ভালো বা খারাপ লাগল। কারণ ভালো খারাপের বাইনারি দিয়ে ধরা যায় না যে ছবিগুলির অনন্যতা উইকএণ্ড তাদের মধ্যে একটা। তাই এটা বলাই যায় যে উইকএণ্ডের মত ছবি আগেও হয় নি, পরেও হবে না। গোদারের চলচ্চিত্রপঞ্জীর হিসেবেও এটি একটি আলাদা স্থান দাবি করে। গোদার এই ছবির পর থেকেই ’ রাজনৈতিক ভাষায় রাজনৈতিক ছবি’ করার চেষ্টায় বাণিজ্যিক ছবির জগত ছেড়ে দিয়ে জাঁ পিয়ের গর্যাঁর সঙ্গে যৌথভাবে কয়েক বছর কাজ করবেন। এই ছবির শেষে যে টাইটেল পড়ে ‘ End of story, end of cinema’ তা আক্ষরিকভাবেই সত্য ছিল। গোদার এর পরই বুর্জোয়া সিনেমার নির্মাণ এবং প্রদর্শন ব্যবস্থাকে ত্যাগ করেন। ক্যামেরাম্যান রাউল কুতার সহ তাঁর টিমের সব নিয়মিত কলাকুশলীদের নোটিশও দিয়ে দেন। অনেক পরে যখন ফিরে এসেছিলেন তখন এতটাই দুর্বোধ্য হয়ে ফিরেছিলেন যে এস্টাবলিশমেন্ট তাঁকে আর গ্রাস করতে পারে নি।
গোদার পারী শহর সম্পর্কে যে দু’ তিনটি কথাই জানুন না কেন তার মধ্যে অবশ্যই ছিল যে তা পুঁজিবাদের পীঠস্থান--- তার ক্ষত, রক্তপাত এবং প্যাথোলজি সমেত আমেরিকানাইজড। ফলে এই উইকএণ্ড এক দম্পতির পারী থেকে গাড়ি চেপে বেরিয়ে নরকযাত্রা শুধু নয় , রক্তের মধ্যে বয়ে চলা নারকীয়তার উদ্ঘাটন। ছবির স্টাইল কিন্তু ডার্ক কমেডি আর অ্যাবসার্ডিটির। ছবির শুরুতেই ওই দম্পতির মধ্যে স্ত্রী করিনের কাছে বন্ধুর ফোন আসে । ফোনেই তারা স্বামী রোল্যাঁর মৃত্যু কামনা করে। তারপর প্রধান টাইটেল পর্দায় পড়ার পরই দেখি আমরা নিচের রাস্তায় দুটি গাড়ির মৃদু সংঘর্ষ। দুই গাড়ির ড্রাইভার আর আরোহীদের মধ্যে সেই নিয়ে হিংস্র ঝামেলা ও মারপিট। এর পরে শুরু হয় করিনের মোনোলগ। একটি জানলার পাশে অন্তর্বাস পরিহিত অবস্থায় টেবিলে বসে লো লাইটে সে তার যৌন অ্যাডভেঞ্চারের কথা বলে তার স্বামী রোল্যাঁকে সে অভিজ্ঞতা সে তার বন্ধু পল এবং মনিকের সঙ্গে দুধ ও ডিম সহযোগে অর্জন করেছে।করিনের বিবরণ শীতল, যান্ত্রিক। হার্ডকোর পর্নোগ্রাফির থ্রিসাম সেক্সের মত । কিন্তু এখানে কোথাও প্রদর্শন নেই, আছে শুধু বিবরণ। তাতেই এটা আরও বেশি অবমানবিক। এরপর আরেকটি মোটরগাড়ি সংক্রান্ত ঝামেলার পরেই রোলাঁ আর করিন গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। উদ্দেশ্য করিনের মৃত্যুপথযাত্রী মায়ের সম্পত্তির উত্তরাদিকারের দখল নেওয়া। শুরু হয় তাঁদের অ্যাডভেঞ্চার। এবার আমরা দেখি এক আশ্চর্য ট্র্যাকিং শটের লং টেক ( সাত মিনিটের বেশি সময়ের ) যাতে একটি ট্র্যাফিক জামের প্রায় কিলোমিটার খানেক অংশকে ধরা হয়। ট্র্যাফিক জ্যামের মধ্য থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করে রোলাঁ ও করিন। চারদিক থেকে ছুটে আসছে কান ফাটানো হর্ণের আওয়াজ। তারই মাঝে আমরা দেখি লোকে গাড়ির ছাদে বসে তাস খেলছে, একটি লোক আরেকটি গাড়ির বাচ্চার সঙ্গে লোফালুফি খেলছে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত একটি গাড়ি উলটে পড়ে আছে, একদল বাচ্চা ছুটোছুটি করছে, একটি ভ্রাম্যমাণ সার্কাস ( বাঁদর, সিংহ, লামা), একটি ফাঁকা বাস, একটি ঘোড়ার গাড়ি, কিছু স্কুলের বাচ্চা, গাছে ধাক্কা মারা আরেকটি গাড়ি, একটি বিরাট লাল হলুদ রংয়ের গ্যাসের ট্যাংকার, দাবা এবং তাস খেলায় রত আরও কিছু মানুষ, একটি ট্রেলারের ওপর মাস্তুলসমেত একটি ইয়ট এবং অবশেষে ট্র্যাফিক জ্যামের উৎস একটি বহুমুখী দুর্ঘটনা যার ফলশ্রুতি দোমড়ানো ইস্পাত, ছিন্নভিন্ন শরীর, রক্ত এবং বর্ণের কোলাজ। যন্ত্রসভ্যতা যাকে অটোমোবাইল সভ্যতাও বলা যেতে পারে তার নৈরাজ্য, উদাসীনতা ও কোলাহল সমেত-- তার দুটি চেনা উপসর্গ ট্র্যাফিক জ্যাম আর দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে এই সাতমিনিটের শটে উন্মোচিত।
বেশ কয়েকটা উদ্ভট পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ঐ দম্পতি তাঁদের গাড়িটা হারায়। ফাঁকা গ্রাম্য পথের পাশে বসে তারা পরস্পরকে দোষারোপ করে । এই সময় এক পথচারী সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় পথের পাশে একটা শুকনো নালার মধ্যে করিনকে ধর্ষণ করে। পাশে বসে থাকা রোল্যাঁ ভ্রুক্ষেপও করে না। ধর্ষণের দৃশ্যটাও অবশ্য নিরুত্তাপ ক্যামেরার বাইরেই সংঘটিত হয়। শুধু করিনের আপত্তির আওয়াজ ভেসে আসে। এই ছবিতে সমস্ত ল্যাটারাল শটের পাশাপাশি এক সিকোয়েন্সে ৩৬০ ডিগ্রীতে বার বার ক্যামেরা প্যান করিয়ে এক দৃশ্যগ্রহণ আছে। এখানে এক খামারবাড়ির প্রায় পরিত্যক্ত উঠোনে এক ভ্রাম্যমাণ পিয়ানোশিল্পীর দ্বারা ধারাভাষ্য সহ মোৎজার্ট বাজানো হয় । গোটা ছবি থেকে এই দৃশ্যের সার্কুলার মুভমেন্টকে একেবারে আলাদা করে দেখা যায়। এটা কি ধ্রুপদী শিল্পের প্রতি অবিচ্যুয়ারি ? মনে রাখতে হবে যে এটি কোনো কনসার্ট হলে কিন্তু অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।
এই দম্পতি তারপর অপহৃত হয় একদল ‘হিপী কাম বিপ্লবীদের দ্বারা। করিন নিজেকে বাঁচানোর জন্য তাদের দলে যোগ দেয়। একটি বড় শুয়োরকে হত্যা করে রান্না করা হয়। জানা যায় যে করিনের স্বামী রোল্যাঁকে হত্যা করে তার মাংসও রান্না করা হয়েছে। অর্থাৎ দলটি নরমাংসভোজীও বটে। করিন আগ্রহের সঙ্গে রোল্যাঁর মাংস খায়। এটাই ছবির শেষ শট।
বুর্জোয়া সমাজের ভয়ানক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আগ্রাসী লোভ, হিংসা, নৈরাজ্য, যৌনবিকৃতি --- সবমিলিয়ে যে অসুস্থতা তাতে সব চেয়ে বেশি যা ঘটে ঘটে তা হল মানুষের বিমানবিকীকরণ
( Dehumanaisation )। উইকএণ্ড প্রয়োজনীয় স্টাইলাইজেশন এবং ব্রেখটীয় অতিরঞ্জনের মধ্য দিয়ে সেটাই দেখায়। তাই এই ছবিতে যখন Weekend শব্দটিকে ভেঙ্গে গোদার We end লিখে টাইটেল দেন তখন তিনি গোটা মানবসভ্যতার কথা বলেন না, এই We মানে পূঁজিবাদী সভ্যতা আর সংস্কৃতির ধাঁচায় পিষ্ট মানুষ যাদের যাপিত ‘সভ্যতা’র বিনাশ আসন্ন।
কিন্তু গোদার যা দেখিয়েছেন এই পর্যন্ত তা ব্রিলিয়ান্ট হলেও একেবারে অভিনব নয়। বুর্জোয়াদের এই অবনমন এবং অবক্ষয়ের রূপ অনেকদিন ধরেই উঠে আসছে। বুর্জোয়ারা নিজেরাই একে সাংস্কৃতিক পণ্য করেছে, একে উপভোগ করেছে। এবার সেখানে প্রতিবাদী বিপ্লবীদের যে চেহারা দেখানো হয় সেটারও একটা জনগ্রাহ্য রূপ আছে যাকে বুর্জোয়ারা ইতিমধ্যেই আত্তীকৃত করে বসে আছে। ফলে গোদার একটা অদ্ভুত পথে হাঁটলেন। যে হিপি কাম গেরিলা কাম নরমাংসভোজীদের তিনি দেখালেন তাঁদের বুর্জোয়ারা অ্যাপ্রোপ্রিয়েট করতে পারবে না।প্রথাগত বিপ্লবীদের কাউন্টার পয়েন্টে না রেখে গোদার এদের রাখলেন।
কে এরা? এরকম হয় নাকি ? না বুর্জোয়া দর্শকও পারবে না এটা হজম করতে। অস্বস্তিকর কাঁটার মত বিঁধে থাকবে তার চেতনায় এই অচেনা ‘বিপ্লবীরা’ যাদের শ্লোগান ‘ We can overcome the horror of the bourgeoisie by more horror’ .
গোদার কিন্তু ততদিনে দেখে ফেলেছেন যে প্রচলিত বিপ্লবীরা এই ব্যবস্থার বিপ্রতীপ র্যাডিকাল অবস্থানে থাকেন না। বুর্জোয়া গণতন্ত্র যে ফ্রান্স তথা ইওরোপকে ফ্যাসিবাদের বীভৎসতা থেকে বাঁচায় নি সেকথা সার্ত্র যেমন মনে রাখতেন, গোদারও তার ব্যতিক্রম নন। এবার গোদার কেবল এই ব্যবস্থার অমানবিকতা কে চিহ্নিত করেই থেমে থাকতে পারেন না। বুর্জোয়া ব্যবস্থার প্যাথোলজি যে প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিতে পারে তাকে আন্দাজ করতে পারেন। এমনিতেই গোদারের পূর্বানুমান করার ক্ষমতা যে কতটা সেটা ১৯৬৮ র যুব বিদ্রোহের এক বছর আগেই নির্মিত ‘লা শিনোয়াজ ‘ ( The Chinese ) ছবিতে দেখা গিয়েছিল। এই ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে বুর্জোয়া হরর কী জিনিস জানার জন্য আমাদের বেশি ভাবতে হয় না। গাজায় ইজরায়েলি বোমায় দলা পাকিয়ে যাওয়া নারী শিশু সমেত ৮৩০০০ মৃতদেহ থেকে কলকাতার বাইপাসের ধারে গ্রাম থেকে আসা শ্রমিকদের পুড়ে যাওয়া দেহাংশের স্তুপ--- বুর্জোয়া হরর যে কি জিনিস আমরা জানি, এমনকি ভুলে থাকতেও জানি। এর প্রতিক্রিয়া আমরা যা চাই তা তো হয় না । মার্ক্স , লেনিন বোঝা, সংসদীয় গণতন্ত্র বোঝা প্রতিক্রিয়া সবসময় হয় না । আমরা সেই প্রতিক্রিয়াই চাই যা আমরা ভুলে থাকতে পারি। আমাদের চমকে দিয়ে তাই উঠে আসে হামাস, আইসিস, জঙ্গলের বিপ্লবী,ধার্মিক সন্ত্রাসীরা। তাঁদের প্রতিটি হত্যাকাণ্ডে অলিখিতভাবে রক্তের অক্ষরে লেখা থাকে ৫৯ বছর আগে তৈরি একটি ছবির সংলাপ ‘’We can overcome the horror of the bourgeoisie by more horror’’ -- আমরা চাই বা না চাই।
এই ছবিতে মানুষ আর পশুর মাঝে ব্যবধান নানাভাবে ঘুচিয়ে দেখানো হয়েছে। ট্র্যাফিক জ্যামের দৃশ্যে আমরা খাঁচায় বন্দী বাঁদর, সিংহ আর লামা দেখেছিলাম। সেই জ্যামে গাড়ির মধ্যে আটকে থাকা মানুষগুলোকেও একই রকম বন্দী মনে হচ্ছিল। পরে ছাল ছাড়ানো খরগোস, একটি বড় শুয়োরকে হত্যা করে রান্না করা এবং সেই মাংসে মানুষের মাংস মিশিয়ে খাওয়া --- বিমানবিকীকরণ সমাপ্ত যেখানে মানুষ পশুর মতই পণ্য এবং আস্বাদনযোগ্য। পুঁজিবাদের বীভৎসতাকে এভাবে উন্মোচিত করার পর গোদারের আর কি করার ছিল এই ব্যবস্থাকে পরিত্যাগ করে বিকল্পের সন্ধান করা ছাড়া। গোদারের পথ জ্ঞানমার্গের পথ। সেইপথে হাঁটার জন্য তিনি নিজের পূর্বাশ্রমকে অস্বীকার করার আগে (‘’ এতদিন আমি যেসব ছবি বানিয়েছি সব বুর্জোয়া’’, ছেড়ে যাওয়ার আগে তাঁর উক্তি ) এটাই তাঁর শেষ ছবি। এর দুবছর বাদে মুক্তিপ্রাপ্ত তাঁর ছবির নাম তাই le gei Savoir বা ‘জানার আনন্দ’ । উইকএণ্ডের সঙ্গে একই বছরে নির্মিত লা শিনোয়াজ ছবিতে সেই ছাত্রবিপ্লবীর কথা মনে পড়বে হয়ত যে বোর্ডে একগাদা বুদ্ধিজীবীর নাম লিখে তারপর নামগুলি মুছতে আরম্ভ করে। প্রথম যে নামটি মোছা হয় সেটি জাঁ পল সার্ত্রর। যে নামটি শুধু পড়ে থাকে সেটি বের্টোল্ট ব্রেখট। জাঁ লুক গোদার তার অস্তিত্ববাদী অনুধ্যান ত্যাগ করে, রাজনৈতিক ভাষার সন্ধানে যাত্রা করবেন এরপর।
পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।