এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  দর্শন

  • বৌদ্ধধর্মের আধুনিকতা

    Sandipan Majumder লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | দর্শন | ০১ মে ২০২৬ | ৭৬ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)
  • ভাবলেও অবাক লাগে আড়াই হাজার বছর আগে যে ধর্মের উৎপত্তি আমাদের দেশে হল, যা আমাদের আধ্যাত্নিক এবং দার্শনিক উত্তরাধিকারের অংশ তাকে নিয়ে আমাদের আগ্রহ কত কম। আমাদের দেশে, এমনকি অবিভক্ত বঙ্গ প্রদেশে একদা প্রবল পরাক্রমে রাজশক্তির পৃষ্ঠপোষকতা সহ সেই ধর্ম প্রতিষ্ঠিত হলেও বর্তমানে তার অবশেষ প্রত্নতাত্ত্বিকদের আগ্রহের বিষয়। আদিবাসীদের পালনীয় নিজস্ব ধর্মের বাইরে পশ্চিমবঙ্গের অতি সংখ্যালঘু ( ২০১১ জনগণনা অনুসারে জনসংখ্যার ০.৩১ শতাংশ ) বৌদ্ধ জনসংখ্যাকে সরিয়ে রাখলে প্রধানত হিন্দু আর মুসলিম ধর্মাবলম্বী মানুষই এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ।বাংলায় শ্রীচৈতন্যের মত ধর্মসংস্কারকরা এসেছেন, মতুয়াদের মত জাতিভিত্তিক ধর্মীয় সংগঠন গড়ে উঠেছে কিন্তু সব মিলিয়ে বৈদিক ব্রাহ্মণ্যধর্মের প্রভাবই প্রবল এখানে। অথচ বৈদিক ধর্মগ্রন্থ এবং তাদের মান্যতা দেওয়া ষড়দর্শনের উৎপত্তি যে অঞ্চলে ( পূর্বতন অবিভক্ত পাঞ্জাব থেকে গাঙ্গেয় অঞ্চলের উত্তরভাগ) তার তুলনায় অবৈদিক প্রতিবাদী ধর্মগুলির ( লোকায়ত, বৌদ্ধ, জৈন ) উৎপত্তি আজকের পশ্চিম বাংলা ও বিহার অঞ্চলেই যা পরবর্তী বৈদিক সময়ে মগধ অঞ্চল নামে চিহ্নিত। কাজেই ভৌগোলিকভাবেও আমরা এই দর্শনগুলির উত্তরাধিকারী। এর মধ্যে বৌদ্ধ দর্শনকে আমাদের বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া দরকার কারণ একবিংশ শতাব্দীতে একজন আধুনিক মানুষের চাহিদা, অভাব এবং মূল্যবোধের সংগে সবচেয়ে সঙ্গতিপূর্ণ হতে পারে বৌদ্ধধর্ম। বলার এটাই যে বৌদ্ধধর্ম ঠিক ধর্ম নয়, একটা জীবনপ্রণালী। তাই এর দর্শনও জীবনসম্পৃক্ত এবং পরিবর্তনযোগ্য।

    ধরা যাক একজন সমকালীন মানুষ যিনি ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্পর্কে উদাসীন, অবিনশ্বর আত্মার অস্তিত্বের বিরোধী তাঁকে কী আমরা অধার্মিক বলব ? গড়পড়তা ভারতীয় মানুষ কিন্তু তাই বলবেন কারণ ঈশ্বর আর আত্মার বৈদান্তিক ব্যাখ্যা, প্রায় একচ্ছত্র বিকল্পহীন সাফল্যের জোরে তাঁদের কাছে অমোঘ দৈববাণীর মত মনে হয়। গৌতম বুদ্ধই আমাদের দেখালেন যে নির্গুণ এবং সগুণ ব্রহ্মর সম্পর্কে উদাসীন থেকে, চিরায়ত আত্মার বেদান্তসুলভ ব্যাখ্যার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েও আধ্যাত্মিকতার অনুশীলন করা যায়। বুদ্ধর উপদেশ ব্যবহারিক, যেন তাকে ধর্ম যতটা, মনোবিদ্যাও বলে চলে তার চেয়ে বেশি। যে মনোবিদ্যা মানুষকে দুঃখজয়ের পথ দেখায় আবার নির্বাণলাভের প্রশান্তি অর্জনের কথাও বলে।

    আত্মা সম্পর্কে বৌদ্ধ মত অবিনশ্বরতার (জীবাত্মা ও পরমাত্মার মিলনে যার মুক্তি) অনুগামী ভাববাদী মত এবং চার্বাকদের জড়বাদী মত (দেহ আর আত্মা সমার্থক) --- এই দুইয়ের থেকেই আলাদা। মনে রাখতে হবে বুদ্ধ আত্মা কথাটি অনেক জায়গায় ব্যবহার করলেও তাকে soul নয়, self অর্থে বুঝিয়েছেন। মানুষ তার আত্ম- অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে যা অনুভব করে তাকেই সে আত্মন বলে আঁকড়ে ধরে। এর পাঁচটি ভাগ – (১) শারীরিক আকার সম্পর্কে সচেতনতা (রূপ), (২) অনুভূতির অভিজ্ঞতা (বেদনা)। এটি আনন্দ, দুঃখ বা নির্লিপ্তির কারণ হতে পারে, (৩)পঞ্চেন্দ্রিয় এবং মন--- যা দিয়ে আমরা ইন্দ্রিয়জ তথ্য এবং বস্তু সম্পর্কিত ধারণা গড়ে তুলি ( সংজ্ঞা) (৪) কামনা, ইচ্ছা, সিদ্ধান্ত, আকাঙ্খা,প্রবৃত্তি প্রভৃতি অনুভবের জন্য অন্তর্লীন এক গতিজাড্য এবং ইচ্ছা (সংস্কার), (৫) দৃশ্য এবং অন্যান্য ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তু, মানসিক ছবি এবং ধারণা সম্পর্কে সচেতনতার বোধ ( বিজ্ঞান)। এই পাঁচটির প্রত্যেকটিকে বলা হয় স্কন্ধ। এই পাঁচটির সমাহার স্পঞ্চস্কন্ধের বিশেষ বিন্যাসগত সমাহারকে বলা হয় নামরূপ। এই নামরূপ হল এক মনো-শারীরিক গতিশীল সত্তা যা নিজেকে ব্যক্তি হিসেবে অনুভব করে। ব্যক্তির আত্মপরিচিতির বোধ তাই দোদুল্যমান। তার শরীর, অনুভূতি, ইচ্ছাশক্তি অথবা অন্য কোনো মানসিক প্রক্রিয়াকেই সে ‘আমি’ বলে চিহ্নিত করে স্বস্তি পায় না কারণ এই পাঁচটি স্কন্ধের কোনোটিই আত্মা নয়, তারা অনাত্মা। নামরূপের উপাদান এই স্কন্ধগুলি প্রতি মুহূর্তে পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই একত্বের প্রশ্নই ওঠে না কারণ বৌদ্ধ দর্শনে প্রতিটি মুহূর্তের অনিত্যতা প্রতিষ্ঠিত। তাহলে এই পঞ্চস্কন্ধের সমাহারের বিন্যাসগত ঐক্যকে যা চালিয়ে নিয়ে যায় তা হচ্ছে এক ইচ্ছাময়ী গতিশীলতা ( সংস্কারস্কন্ধ)। ফলে ব্যক্তি তার যাত্রা অব্যহত রাখে, তার বাহ্যিক শারীরিক পরিবর্তন সত্ত্বেও। বৌদ্ধ ধর্মে এই যাত্রা পুনর্জন্মর (জন্মান্তর নয় অর্থাৎ একই আত্মার নতুন দেহধারণ নয় ) মধ্য দিয়ে চলতে থাকে যতদিন না সেই ব্যক্তি সচেতন প্রয়াসে নিজেকে এই শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করেন। সেই প্রয়াসে অবশ্য কর্মের গুরুত্বই সবচেয়ে বেশি।


    বৌদ্ধধর্মে কর্মের সংজ্ঞার সঙ্গে নৈতিকতার প্রশ্নটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মানুষের জীবনের যাপনপ্রচেষ্টা তিনভাবে প্রেরণা সংগ্রহ করে –
    (১) কামতনহাঃ ইন্দ্রিয়জ বাসনা এবং তার পরিপূর্তির প্রচেষ্টা
    (২) ভবতনহাঃ অস্তিত্বগতভাবে শুধু টিঁকে থাকা নয়, ব্যক্তিহিসেবে বেঁচে থাকার বাসনা
    , (৩) বিভাবতনহাঃসম্প্রসারণের মাধ্যমে সমৃদ্ধিলাভের ইচ্ছা, সেটা পরিবার, সম্পত্তি, নিজের গুরুত্ব, ক্ষমতাবৃদ্ধি – সবকিছুই হতে পারে।

    যখন এই বাসনাগুলি পূরণের পথে বাধা তৈরি হয় তখন উৎপন্ন হয় ঘৃণা। লোভ এবং ঘৃণাও ব্যক্তির জীবনের চালিকাশক্তি যা ভয়ানক পরিণাম ডেকে আনতে পারে। আমাদের প্রকৃত কুশল করবে এবং স্থায়ী শান্তি এনে দেইয় যা কিছু, তার সম্পর্কে অজ্ঞানতা (অবিদ্যা) এবং বিভ্রান্তি (মোহ) এই ক্ষতিকারক বাসনাগুলিকে বাড়িয়ে দেয়। এর কারণ সংসারের প্রকৃতিতে সব বস্তু আর অভিজ্ঞতার মধ্যেই নিহিত আছে দুঃখবোধ আর যন্ত্রণা। সেই দুঃখবোধ হতে পারে সঙ্গে সঙ্গে লব্ধ অথবা ততক্ষণ পর্যন্ত অলব্ধ যতক্ষণ পর্যন্ত ঈপ্সিত বস্তু বা বিষয় থেকে আমাদের আনন্দবোধ পুরোনো হয়ে বা অতিতৃপ্তির ফলে হারিয়ে না যায়। আসলে বৌদ্ধমতে সংসারের (সংসার বলতে কিন্তু আমরা যে সংসার বুঝি তা নয়, সংসার এখানে মানুষের ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জগতের সঙ্গে সংপৃক্তি) বৈশিষ্ট্যই তো এই অনিত্যতা এবং অনাত্মতা (শাঁসহীনতা)। এই অনিত্যতা এবং অনাত্মতাকে স্বীকার করলেই মানুষের মোহ, অহং এবং স্বার্থপরতার অবসান ঘটতে পারে। কারণ সে তখন বুঝতে পারে আত্মন বলে যাকে সে আঁকড়ে ছিল, যার জন্য জানপ্রাণ কবুল করেছিল তা আসলে অনস্তিত্ববান। কিন্তু সেটা বুঝলেই তো আর হবে না। তার জন্য অনুশীলন করতে হবে নৈতিকতার যাকে বুদ্ধদেব সাজিয়েছেন অষ্টাঙ্গিক মার্গে যেগুলি হল সম্যক দৃষ্টি, সম্যক সংকল্প, সম্যক বাক্য, সম্যক কর্ম, সম্যক জীবিকা, সম্যক প্রচেষ্টা, সম্যক স্মৃতি ও সম্যক সমাধি।

    বৌদ্ধ ধর্মে মুক্তির পথ খুঁজতে হয় নিজেকে,নিজের মধ্যে। আর কোনো ধর্মগ্রন্থের বাণী অনুসরণ করে তা পাওয়া যায় না। কারণ এখানে শুধু পথের নির্দেশ দেওয়া আছে। নিজের মত করে পথ কেটে নেওয়ার স্বাধীনতা আছে প্রত্যেকের। কিন্তু নিজে নির্বাণ লাভ করলেই হয় না। তারপরও অন্যের নির্বাণ লাভে সাহায্য করার জন্য জীবনধারণ করার শিক্ষা গৌতম বুদ্ধ নিজেই দিয়ে গিয়েছেন। পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে নির্বাণ লাভ করার পরও অন্যদের পথনির্দেশ করার জন্য তিনি আরও পঁয়তাল্লিশ বছর কাটিয়েছেন পৃথিবীতে। নির্বাণলাভের আগে এই উপযুক্ত হয়ে ওঠার দশাকে বলা হয় বোধিসত্ত্ব দশা। মহাযান সম্প্রদায় এই বোধিসত্ত্ব দশাকেই সবচেয়ে গুরুত্ব দেন এবং নিজেরাও ‘বুদ্ধত্ব’ অর্জন করতে চান। তাঁরা মনে করেন প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই এই বৌদ্ধত্ব অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। সব মানুষকে মুক্তির পথ দেখানোটা জরুরী। থেরবাদীদের মত শুধু নিজের নির্বাণের জন্য চেষ্টা করা (অর্হৎ হয়ে) কোনো কাজের কথা নয়। তাই বলা হয় বুদ্ধরা উল্লম্বভাবে শুধু নয়, আনুভূমিক ভাবে বৃদ্ধি পান এবং বুদ্ধত্ব অর্জন করতে পারেন এমন মানুষের সংখ্যা অসীম।

    বৌদ্ধদর্শনে শূন্যতার ধারণার গুরুত্ব অসীম। থেরবাদী মতে ধ্যানের মাধ্যমে এই শূন্যতাকে অনুভব করতে হয়। কিন্তু মহাযান মতে নাগার্জুনের মত বিরাট দার্শনিকের তত্ত্বায়নে এই শূন্যতার ধারণা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন প্রতিটি বস্তুই তার ‘স্বভাব’চ্যুত অর্থাৎ শূন্য। এর মানে কোনো বস্তুই স্বাধীন, অনড়, অপরিবর্তনশীল নয়--- তা অন্যসাপেক্ষ, অস্থায়ী, সতত পরিবর্তনশীল। নির্বাণে মহাজাগতিক এই শূন্যতার সঙ্গে অন্তস্থ শূন্যতার মেলবন্ধনকে অনুভব করতে হয়। এখানে শূন্যতার মানে কিন্তু অনুপস্থিতি নয়, এক অতীন্দ্রিয় বোধ। এই কারণেই মহাযানপন্থীরা বলেন যে প্রতিটি মানুষের মধ্যে এই অতীন্দ্রিয় বোধ আছে। বৌদ্ধ দর্শনকে খণ্ডন করবার বাসনায় আদি শংকরাচার্য মহাযানপন্থীদের এই শূন্যতাবাদকে এক কথায় বিনাশবাদী (Nihilist) বলে সমালোচনা করেন। চতুর্দশ শতাব্দীর গ্রন্থ বেদান্তসারে বলা হয়েছে যে মাধ্যমিক দর্শনের আত্নন হচ্ছে অ-সৎ অর্থাৎ অনস্তিত্ববান। নাগার্জুন আর চন্দ্রকীর্তি কিন্তু স্পষ্টই বলেছেন যে তাঁরা বৈনাশিক নন। তাঁদের মধ্য পন্থা বিনাশবাদ আর সারাৎসারবাদের ( essentialism) দুই চরমপন্থী অবস্থানকেই অস্বীকার করে। ভালো লাগল, যে বৈদান্তিক দর্শনের একজন প্রচারক হয়েও সমকালীন একজন অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাগ্মী সর্বপ্রিয়ানন্দ তার একটি বইতে শংকর সমেত বেদান্তবাদীদের এই সমালোচনাকে অন্যায্য বলেছেন।

    আত্ম-ঔদাসীন্য একটা মহৎ গুণ যা অহং ও স্বার্থপরতা কমাতে সাহায্য করে। নশ্বরতাবোধও তাই। কার্ল মার্কস কথিত হৃদয়হীন জগত আর আত্মাহীন পারিপার্শ্বিকতার মধ্যে মানুষের নিজের মানবত্ব বাঁচিয়ে রাখার লড়াই আধ্যাত্মিকতা ছাড়া আর কি ? ফলে বৌদ্ধধর্মের প্রাসঙ্গিকতা প্রতিদিন বাড়ছে মোহ, রূপ, রহস্য আর মুগ্ধতার ধারাবাহিক হন্তারক এই পৃথিবীতে। একজন আধুনিক যুক্তিবাদী মানুষ কীভাবে দেখবেন এই ধর্মকে? প্রথমত আধুনিক মানুষ যেহেতু এখন প্রাতিষ্ঠানিকতার বাইরে ধর্মকে গ্রহণ করতে ইচ্ছুক তাই বৌদ্ধধর্ম থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা তার কাছে সবচেয়ে সুবিধাজনক কারণ বৌদ্ধধর্ম কোনো প্রাতিষ্ঠানিকতার নিগড়ে আবদ্ধ নয়। বি আর আম্বেদকর যেমন বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করার পর তাকে নিজের মত গড়েপিটে নিয়ে নাম দিয়েছিলেন নবযান বৌদ্ধধর্ম। আম্বেদকর বৌদ্ধধর্মের ‘পুনর্জন্মের’ ধারণা মানেন নি। বৌদ্ধধর্মে এই পুনর্জন্মের ধারণা এসেছে কার্যকারণশৃঙ্খল ধারণা বা প্রতীত্যসমুৎপাদ (Dependent Origination) তত্ত্বের মাধ্যমে। এটি অনুসারে এই নিয়ম জগতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করে চলেছে। কারণ থেকে যে কার্য উৎপন্ন হয় তা আবার নতুন কারণ হিসেবে কার্য উৎপন্ন করে। তাই বৌদ্ধ মতে জগতের স্রষ্টা ঈশ্বরের কল্পনা করতে গেলে আবার ঈশ্বরের স্রষ্টা কাউকে থাকতে হবে। চেতনা, সংস্কার এবং কর্মফলে বিশ্বাস করে বৌদ্ধধর্ম। সেই কর্মফল অপ্রাপ্ত থাকতে পারে না বলেই পুনর্জন্মে বিশ্বাস করেন তাঁরা। কিন্তু এটি দুটি জন্মে একই আত্মার দেহধারণ বলেন না। তাঁদের মতে এ হল – বর্তমান জীবন থেকে কৃতকর্ম অনুযায়ী নতুন জীবনের উদ্ভব। যেভাবে একটি প্রদীপের শিখা থেকে আরেকটি প্রদীপ জ্বালিয়ে নেওয়া যায়। প্রদীপের শিখা বা নদীর জল যেমন প্রতিমুহূর্তে পৃথক হলেও তাকে অবিচ্ছিন্ন মনে হয় জীবনপ্রবাহও তেমনি। একে আধুনিক মানুষ বোধহয় এভাবেই দেখতে পারেন যে এক প্রজন্মের চেতনা, সংস্কার, সুকর্ম এবং দুষ্কর্মের উত্তরাধিকার পরবর্তী প্রজন্ম পায়। আজকের দেশভাগ বা পরিবেশ ধ্বংস পরের প্রজন্মের মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠে। এক প্রজন্মের নারীদের মুক্তির লড়াই পরের প্রজন্মের নারীদের মুক্তির পথ প্রশস্ত করে। আম্বেদকর বোধিসত্ত্বের ধারণাকে গ্রহণ করে সমাজের মুক্তির জন্য কাজ করার কথা বলেছেন। সকলের মুক্তির মধ্যে নির্বাণের ধারণাকে কল্পনা করে অতীন্দ্রিয় বোধ থেকে তিনি এই ধারণাকে মাটিতে নামিয়ে এনেছেন। মার্ক্স বলেছিলেন মানুষ যতদিন নিজেকে খুঁজে না পাচ্ছে অথবা আবার হারিয়ে ফেলছে ততদিন ধর্মই তার আত্মচেতনা। মানুষের আত্ম-আবিষ্কারের সেই লক্ষ্যে বহুদূর পর্যন্ত বৌদ্ধদর্শন আমাদের এগিয়ে দিতে পারে।

    সূত্রনির্দেশঃ
    (১) Companion Encyclpedia of Asian Philosophy: Edited by Brian Carr and Indira Mahalingam, Routledge, London, 1997
    (২) বৌদ্ধ দর্শনের রূপরেখা: জিতেন্দ্র লাল বড়ুয়া, বাংলা অ্যাকাডেমি, ঢাকা, ২০০১
    (৩) গৌতম বুদ্ধের জীবন ও ধর্ম:ড জিতেন্দ্র লাল বড়ুয়া, প্রজ্ঞা প্রকাশনী, ঢাকা, ২০১৩
    (৪) Fullness & Emptiness, Vedanta and Buddhism: Swami Sarvapriyananda,Vedanta Society of New York, 2025
    (৫) Buddha and His Dhamma: B.R. Ambedkar,Prabhat Prakashan, 2024
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • আলোচনা | ০১ মে ২০২৬ | ৭৬ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Debanjan Banerjee | ০১ মে ২০২৬ ১৬:২৬740393
  • ভীষণ ভালো লেখা l অনেক ধন্যবাদ লেখককে l
  • kk | 2607:fb91:4c8d:6ee5:cc07:7950:8f5e:***:*** | ০১ মে ২০২৬ ২০:০৬740399
  • ভালো লাগলো এই লেখাটা খুব। কয়েক জায়গায় বানান ভুল আছে। একটু দেখে ঠিক করে নিলে খুব ভালো হয়।
  • Sandipan Majumder | ০১ মে ২০২৬ ২২:২৭740421
  • শূন্যতা বানানটা বারবার ভুল হয়েছিল। ঠিক করে নিলাম। ধন্যবাদ।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। মন শক্ত করে মতামত দিন