

ছবি: রমিত
ব্রিটেন ও আমি
আমার জন্ম অবিভক্ত ভারতের বাংলায়। আমার ছেলেবেলা, কৈশোর ও যৌবন কেটেছে আজকের পশ্চিমবঙ্গে। আমার দীর্ঘ অষ্টাশি বছরের জীবনের প্রথম ঊনত্রিশ বছর গড়ে উঠেছে বাংলার আবহাওয়ায় -বাংলার শিক্ষায়, বাংলার সংস্কৃতিতে। আমি এখনো বাংলায় কথা বলি, বাংলা পড়ি, বাংলায় লিখি, বাংলায় স্বপ্ন দেখি। ছুঁই ছুঁই ষাট বছর ইংল্যান্ডে বসবাসের পরেও আমি ‘ইংরেজ’ হতে পারিনি। আমি মনে প্রাণে সেই বাঙ্গালী। ইংরেজ সমাজের মূল স্রোতের সামিল হতে পারিনি। আমি এক প্রবাসী বাঙ্গালী।
আমার মত বাঙ্গালী বোধ হয় ইংল্যান্ডে অনেক আছে। সত্তর দশক থেকে শুরু করে আজ একবিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগ পর্যন্ত এদেশে বহুসংখ্যক বাঙ্গালী এসেছে পশ্চিমবঙ্গ থেকে। ক্রমে ক্রমে এদেশে একটা ছোট ‘পশ্চিমবঙ্গ’ গড়ে উঠেছে। সুতরাং এখন আর আগের মত বাঙ্গালী সঙ্গ ও মন-কেমন-করা বাংলার সংস্কৃতি বা উৎসবের জন্য হা-পিত্যেস করে বসে থাকতে হয় না। একটা উদাহরণ দিই। ১৯৬৭ সাল ইংল্যান্ডে আমার প্রথম বছর। অক্টোবরের চারদিনের জন্য অপেক্ষা করে ছিলাম। সে চার দিন লন্ডনে হ্যাম্পস্টেড টাউন হলে দুর্গাপূজা। আকর্ষণ শুধু দুর্গাপূজা নয়, আকর্ষণ আরো বড় কিছু। হ্যাম্পস্টেড টাউনহল এই ক’দিন হয়ে উঠত প্রবাসী বাঙ্গালীদের মিলন কেন্দ্র। সবাই আসত হারিয়ে-যাওয়া বন্ধুদের খুঁজে পাওয়ার আশায়, পুরানো বন্ধুদের সঙ্গে আবার কথা বলার ইচ্ছায়। এখানে আমি কয়েকজন কলেজ বন্ধুকে নতুন করে পেয়েছি। “ আরে তুমি কবে এলে? কোথায় আছো ? কি করছ ? “ আলাপটা জমে উঠত। নতুন পরিবারের সঙ্গেও বন্ধুত্ব হয়েছে। ইংল্যন্ডের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাঙ্গালীরা আসত এই উৎসবে, কেননা যে গুটিকতক পূজা সে যুগে এদেশে হত তার মধ্যে এটাই ছিল প্রধান ও অন্যতম। এখানে পুজোর সঙ্গে চার দিন ধরে গান বাজনা হত। আমরা প্রতিদিনই যেতাম। অনু এক দুবার এখানে গানও গেয়েছে। আজকের চিত্র অন্য রকম। আজ লন্ডনের প্রত্যেক বরোতেই একটা দুটো করে পুজো হয়। লন্ডনের বাইরেও যেখানে অল্প স্বল্প বাঙ্গালী বসতি আছে সেখানেই দুর্গাপূজা হয়।
এই পঞ্চাশ ষাট বছরে আমি ব্রিটেনে বঙ্গ সমাজের বৃদ্ধি ও অগ্রগতি দেখেছি; এবং সেই সঙ্গে দেখেছি ব্রিটেনের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিবর্তন। আমি এ সবের সাক্ষী। ভাবলাম আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতা লিখে রেখে যাই উত্তরসূরীদের জন্য। কিন্তু লিখতে বসে উপলব্ধি করলাম যে বিষয়টা এত বিশাল যে আমার আত্মজীবনীর পরিসর তার পক্ষে যথেষ্ট নয়। সে এক অন্য প্রকল্প। আজ লিখে রাখি সেই সব লিপি যে যে ঘটনা আমাকে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত করেছে।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক
আমি যখন ইংল্যান্ডে আসি তার পঁচিশ বছর আগে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়েছে। যুদ্ধের ক্ষতি ও ক্ষতর মোকাবিলা করে ব্রিটেন উঠে দাঁড়িয়েছে। উপনিবেশগুলো আস্তে আস্তে স্বাধীন হয়ে যাছে। ব্রিটেন ক্রমশঃ ইন্ডাস্ট্রি ও ব্যবসা বাণিজ্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে উঠলো এবং সফল হলও বটে। ১৯৫৭ সালে প্রধান মন্ত্রী হ্যারল্ড ম্যাকমিলান এক বক্তৃতায় বলেছিলেন ব্রিটেনে এত ভাল সময় কখনো আসেনি ‘"Indeed let us be frank about it - most of our people have never had it so good.” .
সেই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৬৭ সাল থেকে ব্রিটেনের অর্থনৈতিক অবস্থা ক্রমশঃ উন্নত হতে থাকলো।। তখন লেবার পার্টি ক্ষমতার আসনে; হ্যারল্ড উইলসন প্রধান মন্ত্রী। বেকারিত্ব মাত্র ২.৫%। ইন্ডাস্ট্রি, জনস্বাস্থ্য (N H S) ও শিক্ষা বিভাগে কর্মীর অভাব। অদক্ষ শ্রমিক ও তথাকথিত ‘অপরিষ্কার’ কাজের লোকের জন্য চাহিদা বাড়তে লাগল। স্থানীয় শ্বেতাঙ্গ মানুষ সে সব কাজে আগ্রহী নয়। সরকার অন্য পৃথিবী বিশেষ করে কমনওয়েলথ বা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক দেশগুলো থেকে মানুষ নিয়ে আসতে শুরু করল। ব্রিটেনের অভিবাসী নীতি (Immigration Policy) শিথিল হল।
এ সময় ব্রিটেনের অর্থনীতি প্রায় ৩.৫% হারে প্রতিবছরে বাড়তে লাগল। আমি প্রতিদিন দুটো করে দৈনিক পত্রিকা কিনতাম। জ্ঞান বৃদ্ধি বা সারা পৃথিবীর খবর রাখার তাগিদে নয়, কিনতাম ‘situation vacant’ বা কোথায় কোন চাকরির পদ খালি আছে তা জানবার জন্য। এর জন্য সবচেয়ে ভাল পত্রিকা ছিল, ডেলি টেলিগ্রাফ ও ইভিনিং স্টান্ডার্ড --- প্রথমটি সকালে প্রকাশিত, দ্বিতীয়টি সন্ধ্যায়।
যতদূর মনে পড়ছে ডেলি টেলিগ্রাফ কিনতাম চার পেনিতে। সে যুগের পেনি আজকের পেনি থেকে মূল্য অনেক কম – তখন পাউন্ড-শিলিং-পেন্সের যুগ, ডেসিমলাইজেসনের আগে; পাউন্ডকে তখনো শতভাগে টুকরো করা হয় নি। এই মূল্যমান থেকে অনুমান করা যাবে তখন আজকের তুলনায় ভোগ্যবস্তু কত ‘সস্তা’ ছিল। সাধারণ মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যে খরচ করার পর উদবৃত্ত আয় (Disposable Income) ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। সুতরাং সাধারণ মানুষের সামর্থ্য ছিল ওয়াশিং মেশিন, গাড়ি ইত্যাদি কেনার। গাড়ি কেনার চাহিদা বাড়তে থাকল। ষাট শতাংশ মানুষ ব্রিটেনে নিজস্ব বাড়ীর মালিক। অবশ্য সহজলভ্য মর্টগেজ বাড়ী কেনার সহায়ক হয়ে ছিল। আমার মত সদ্যাগত অভিবাসীও চার বছরের মধ্যেই নতুন দেশে একটা ছোট ফ্ল্যাট কিনতে সমর্থ হয়েছিল।
ষাট ও সত্তর দশকে লক্ষ্য করলাম এক বিরাট সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন। রক্ষণশীল ইংরেজ সমাজে বিপ্লব ঘটে গেল। সাংবাদিকরা আখ্যা দিল ‘Swinging Sixties’ বা উচ্ছল ষাটের দশক। একদিকে যেমন আধুনিকতা, আর্ট বা শিল্প, মিউজিক ও ফ্যাশন যুবসমাজকে আচ্ছন্ন করতে থাকল অন্যদিকে তেমনি আণবিক অস্ত্র বিরোধী আন্দোলন (C N D) দানা বেঁধে উঠল।
ব্রিটেনের অর্থনৈতিক অগ্রগতি স্তিমিত হওয়ার লক্ষণ দেখা গেল না। লেবার সরকার অনেক শিল্প জাতীয়করণ করে নিলো। কিন্তু এই পরিবর্তন সর্বত্র চিরস্থায়ী হয়নি। পরবর্তী কালে মার্গারেট থ্যাচারের আমলে দেখলাম আবার সেগুলো বেসরকারি মালিকানায় চলে এলো। অবশ্য এই রূপান্তর আসতে প্রায় কুড়ি বছর লেগেছিল।
ষাটের দশকের এই দ্রুত পরিবর্তনের যুগে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য যা তা হল নরনারীর যৌন স্বাধীনতার আন্দোলন। এন এইচ এস (National Health Service) থেকে আইন সঙ্গত ভাবে গর্ভনিরোধ পিল (Contraceptive Pill) পাওয়া যেত। GP (General Practitioner) বা এন এইচ এস ডাক্তার বিবাহিত বা অবিবাহিত নির্বিশেষে সকল নারীকে পিল দিতে পারতেন। Abortion Act of 1967 নারীকে আঠাশ সপ্তাহের মধ্যে গর্ভপাত করার অধিকার দিল এবং নারী আন্দোলনের ফলে কর্মক্ষেত্রে পুরুষ ও মহিলার সমান অধিকার ও সমবেতন আইন গৃহীত হল (Equal Pay Act of 1970)। দেখলাম এই দুই আইন ব্রিটেনের সামাজিক মানচিত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনে দিল।
সামাজিক ব্রিটেন ও বর্ণবৈষম্য
ব্রিটেনের ইমিগ্রেশন ইতিহাস দীর্ঘদিনের। ব্রিটেনের জন্মকাল থেকে বিভিন্ন দেশের মানুষ এ দেশে এসে বসবাস করছে। আমি সে ইতিহাস লিখতে বসিনি। গত ষাট সত্তর বছরে এ দেশের অভিবাসী (Immigrant) সম্প্রদায় স্থানীয় সমাজকে অকল্পনীয়ভাবে প্রভাবিত করেছে। বাঙ্গালী সমাজ ও আমিও তার ব্যাতিক্রম নয়। রাজনীতি, অর্থনীতি ও বৃহত্তর সমাজকে সরকারের ইমিগ্রেশন নীতি কোন না কোনভাবে ছুঁয়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলির জনপ্রিয়তা নির্ভর করেছে এই ইমিগ্রেশন পলিসি বা নীতির উপর।
Race Relations, Racial Discrimination বা বর্ণবৈষম্য ব্রিটিশ সমাজের এক অন্তর্নিহিত দুর্বলতা। মাঝে মাঝে এ বিষধর সর্প ফণা তুলে আমদের চমকে দেয়। আমি আমার ইংল্যান্ডের জীবনকালে একবার এর শিকার হয়েছি, শুধু একবারই। কিন্তু সর্বতোভাবে আমাকে প্রত্যক্ষভাবে এর মুখোমুখি হতে হয়নি। আমার চারপাশে এর ঘৃণিত রূপ আমাকে পীড়া দিয়েছে। তবে বৃটিশ সমাজ সামগ্রিকভাবে অভিবাসীদের প্রতি অতি সদয়, সহানুভূতিশীল ও ন্যায়পরায়ণ। তা যদি না হত তবে আমার মত লক্ষ লক্ষ নিরীহ প্রবাসীরা মোটামুটি শান্তিতে বসবাস করতে পারত না বা উন্নতি করতে পারত না।
তবে একথা স্বীকার না করে উপায় নেই যে এই বৈষম্য ও ঘৃণা মাঝে মাঝে তার বিষাক্ত হাওয়ায় পরিবেশ দূষিত করেছে। পঞ্চাশ-ষাটের দশকে এটা প্রকটভাবে দেখা দিয়েছিল; ক্রমে ক্রমে অজস্র প্রতিবাদ, হানাহানি, মিছিল পার হয়ে আইন তৈরি করে বর্ণ বৈষম্যকে শাস্তিমূলক করা হয়েছে। তবু সমাজের কিছু অংশের এই মনোবৃত্তিকে উপড়ে ফেলা যায় নি।
আমি যখন এদেশে এসেছি তখনো পর্যন্ত কালো লোক ও আইরিশকে বাড়ি ভাড়া নিতে অনেক বাধা পেতে হত “It Was Standard To See Signs Saying, ‘No Blacks, No Dogs, No Irish’ “। “ তখন নিয়মিত বিজ্ঞাপন দেখা যেত এই মর্মে ‘কালো মানুষ নয়, কুকুর নয়, আইরিশ নয়‘ “।
আজকের দিনে অবশ্য এমন বিজ্ঞাপন আইনত দণ্ডনীয়। ইমিগ্রেশন বিরোধীদল গুলো, যেমন সেকালে ন্যাশনাল ফ্রন্ট বা একালে টমি রবিনসনের দল, ইংলিশ ডিফেনস লীগ বা বি এন পি, জনসভা, মিছিল ও বক্তৃতা করে দূষিত আবহাওয়ার সৃষ্টি করেছিল।
এমন কি প্রতিপত্তিশালী বর্ষীয়ান নেতাও জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিতে শুরু করলেন। টোরি পার্টির এমন এক নেতা, ইনখ পাওয়েল, (Enoch Powell), ২০ এপ্রিল ১৯৬৮-র এক বক্তৃতা দেশকে চমকে দিয়েছিল। আমি অস্বস্তি বোধ করেছিলাম, কিঞ্চিত ভীতও বটে। পাওয়েল সাহেব বলেছিলেন,
“ As I look ahead, I am filled with foreboding; like the Roman, I seem to see 'the River Tiber foaming with much blood'.”
“ আমি যখন সামনে তাকিয়ে দেখি, তখন আমি এক ভয়ংকর বিপদের ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে উঠি, আমার মনে হয় আমি দেখছি টাইবার নদী অতিরিক্ত রক্তে ফেনিত হয়ে উঠেছে।“ *
* অনুবাদ ---লেখক।
টোরি পার্টির তদানীন্তন দলপতি এডোয়ার্ড হীথ এই বক্তৃতার পর পাওয়েল সাহেবকে দল থেকে বহিষ্কার করে দিয়েছিলেন। কিন্তু আমি আশ্চর্য হয়ে দেখলাম, পরের সর্বজনীন নির্বাচনে, টোরি পার্টি দুর্বল অবস্থায় থেকেও জয়লাভ করল এবং সরকার গঠন করল। ‘রক্তনদী টাইবার‘ বক্তৃতা নিশ্চয়ই জনগণকে প্রভাবিত করেছিল।
বিচ্ছিন্ন ভাবে লন্ডনে প্রায়শই বর্ণ বৈষম্য প্রণোদিত হত্যা ও জীবনহানি হত। কিন্তু একটা হত্যা সারা দেশকে স্তম্ভিত করেছিল এবং আমাকে বিশেষভাবে স্পর্শ করেছিল। স্টিফেন লরেন্স নামে এক কালো কিশোর নৃশংসভাবে দিনের আলোয় নিহত হয়েছিল। এই কেস বহুদিন চলেছিল এবং কখনো নিঃসন্দেহভাবে এর নিষ্পত্তি হয় নি, যদিও কুড়ি বছর পর দুজন হত্যাকারীর শাস্তি হয়েছিল। স্টিফেন লরেন্সের মা, ডোরীন লরেন্স এতকাল ধরে ন্যায্য বিচারের জন্য যুদ্ধ করে গিয়েছিল। সাধারণের চোখে মেট্রোপলিটন পুলিশ বর্ণ পক্ষপাতিত্ব দোষে দুষ্ট বলে বিবেচিত হয়েছিল। ডোরীন লরেন্স এখন ব্যারোনেস ডোরীন লরেন্স, হাউস অফ লর্ডসের সভ্যা। এই ঘটনা আমকে ভীষণ বিচলিত করেছিল --- আমি স্টিফেনের হত্যা নিয়ে একটা কবিতা লিখেছিলাম আমার যন্ত্রণা প্রকাশ করে।
কালো আঙ্গুর সাদা আঙ্গুর।।
(স্টিফেন লরেন্স স্মরণে)
Stephen: The Murder That Changed a Nation
On 22 April 1993, a black teenager, Stephen Lawrence, was brutally murdered at a bus stop by a group of white youths in an unprovoked attack.
Due to failures in the police investigation, the killers walked free.
কবিতাটি এই লিঙ্কে পড়তে পারবেন।
সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা প্রশমিত হওয়ার কোন লক্ষণ দেখা গেল না, বরং উত্তরোত্তর অবনতির দিকে যেতে লাগল। অবশেষে সর্বদলীয় সম্মতিতে ১৯৬৮ সালে Race Relations Act অনুমোদিত হল। এই আইনের ফলে বাসস্থানের অধিকার, চাকুরীর অধিকার ও সামাজিক অধিকার থেকে কোন মানুষকে তার বর্ণ, জাতি ও জন্মসূত্রের কারণে বঞ্চিত করা অপরাধ ও শাস্তিযোগ্য গণ্য হল। এই আইনের কিছু কাল পরেই ১৯৭১ সালে Immigration Act অনুমোদিত হল। এই দুই আইনের ফলে অভিবাসী সম্প্রদায়ের নাগরিক অধিকার আরো জোরদার হল। তবু বর্ণ বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ মাঝে মাঝে মাথাচাড়া দিয়ে উঠত।
এই সময় ব্রিটেনে বর্ণ বৈষম্য দূরীকরণ ও নাগরিক অধিকার উন্নত করার অভিপ্রায়ে বেশকিছু বেসকারি সংস্থা দেখা গেল। আমি এই Civil Rights Movement-র ইতিহাস নিয়ে আলোচনা এখানে করছি না। আমার উদ্দেশ্য বর্ণ বৈষম্য ও বাঙ্গালী সমাজ এবং সে বিষয়ে আমার অভিজ্ঞতা। অনেক সংস্থার মধ্যে একটি সংস্থা আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল তার কারণ এই সংস্থার কর্ণধার ছিল এক বঙ্গসন্তান।
সংস্থাটির নাম রানিমিড ট্রাস্ট (Runnymede Trust) এবং সেই বঙ্গসন্তানের নাম দীপক নন্দী। দীপক কলকাতার ছেলে, সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের ছাত্র। Runnymede Trust এক ব্রিটিশ সংস্থা ১৯৬৮ সালে স্থাপিত হয়, যারা বর্ণ বৈষম্য ও নাগরিক অধিকারের চিন্তক সমিতি (Think Tank)।। দীপক ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র; এ দেশে এসে পড়াশুনার সঙ্গে সঙ্গে বর্ণ বৈষম্য তর্কে-বিতর্কে বিশেষ অংশ গ্রহণ করত। দীপক নন্দী রানিমিড স্ট্রাস্টের প্রথম ডাইরেক্টর।
এই সময়ে দুটি ঘটনা আমাকে প্রচন্ডভাবে আলোড়িত করে ও যন্ত্রণা দেয়। প্রথমটি ইনখ পাওয়েলের ‘রক্ত নদী’ (River of Blood) বক্তৃতা যার কথা আমি আগে বলেছি। অন্যটি মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের হত্যা। বোধ হয় রানিমিড ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা, জিম রোজ ও এন্থনি লেসটার (Jim Rose and Anthony Lester) আমারই মত বিচলিত হয়েছিল এবং দীপক নন্দীও। মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের সেই বিখ্যাত উক্তি “আমার একটা স্বপ্ন আছে” (‘I have a dream’) আমাকে নাড়া দিয়েছিল। অনুপ্রাণিত আমি একটা কবিতা লিখেছিলাম।
বার বার স্বপ্ন।।
(মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র স্মরণে)
কবিতাটি এই লিঙ্কে পড়তে পারবেন।
যুগে যুগে মনুষ্য জাতি স্বভূমি ত্যাগ করে অচেনা অজানা দেশে পাড়ি দিয়েছে। কালে কালে এই পরিযায়ী মানুষেরা নিজ বাসস্থান ত্যাগ করে পরবাসে যাওয়ার কারণ পালটিয়েছে। একদা এশিয়া মাইনর, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের মানুষ ভারতবর্ষকে নিজের দেশ করে নিয়েছিল। কবির ভাষায়
‘হেথায় আর্য, হেথা অনার্য, হেথায় দ্রাবিড় চীন-
শক-হুন-দল পাঠান মোগল এক দেহে হল লীন।’
ব্রিটেনেও তেমনি বহু কাল ধরে পৃথিবীর বহু দেশ থেকে বহু জাতি এসে বাসা বেঁধেছে। প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৫০০ থেকে শতাব্দী ৪৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই দেশ যাকে আমরা গ্রেট ব্রিটেন বলি সেই দেশের বাসিন্দা ছিল কেল্ট (Kelt) সম্প্রদায়।
একসময় প্রায় ৪০০ বছর ধরে এংলো-স্যাক্সন সম্প্রদায় -- উত্তর নেদারল্যান্ড, জার্মানি ও দক্ষিণ স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলো থেকে অভিবাসী মানুষ দলে দলে এ দেশে এসে বসবাস করতে শুরু করে।
তারপর টেমসের স্রোতে অনেক জল বয়ে গেছে। আফ্রিকা, এশিয়া বিশেষ করে কমনওয়েলথ দেশগুলো এবং ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলো থেকে মানুষ এলো ব্রিটেনে। এদের বেশিরভাগ মানুষ এসেছে ব্রিটিশ সরকারের আমন্ত্রণে, শ্রমিক রূপে। তবে কেউ কেউ এসেছে নিজ দেশের উৎপীড়ন থেকে রক্ষা পেতে, কেউ কেউ উদ্বাস্তু হয়ে, কেউ বা ভাগ্যানুসন্ধানে। কেউ কেউ উচ্চশিক্ষার্থে ছাত্র হিসেবে।
আমি যখন এদশে আসি তখন ব্রিটেনের জনসংখ্যা ছিল ৫৫ মিলিয়ন। আজ ব্রিটেনের জনসংখ্যা প্রায় ৬৮ মিলিয়ন। জনসংখ্যা স্ফীতির মূল কারণ বহিরাগত মানুষের আগমন। পৃথিবীর দূর প্রান্ত থেকে বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষ এসেছে এই ছোট দ্বীপে। আমার এই ষাট বছরের কর্মজীবনের ও সমাজজীবনের অভিজ্ঞতায় আমি পৃথিবীর বহুদেশের মানুষ দেখেছি এই দেশে। বহু ভাষা, বহু সংস্কৃতি, যেন এক ক্ষুদ্র ইউনাইটেড নেশন। লন্ডনই সবচেয়ে জনপ্রিয়, তাই এই শহরেই অভিবাসীদের ঘনত্ব বেশী। ভাবতে অবাক লাগে যে রাজধানী শহর লন্ডনে শ্বেতাঙ্গ ব্রিট্রিশ নাগরিকের সংখ্যা মাত্র ৩৭%। শ্বেতাঙ্গ ব্রিট্রিশই সংখ্যালঘিষ্ঠ সম্প্রদায় এ শহরে।
আমি এই শহরেই বাস করি কিন্তু কর্মসূত্রে ব্রিটেনের সর্বত্র আমি ঘুরে বেড়িয়েছি, সেজন্য এদেশের ইমিগ্রান্ট সম্প্রদায়কে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছি। আমার বিশেষ আগ্রহ প্রবাসী পশ্চিমবঙ্গ সমাজের বিবর্তন অনুধাবন করা।
প্রবাসী পশ্চিমবঙ্গের বাঙ্গালীরা প্রধানত লন্ডন ও এর শহরতলীতে বসবাস করে। স্বাধীনতার পরে বা পঞ্চাশ দশকে যারা এসেছিল তারা ছিল দুই শ্রেণীর। এক শ্রেণী ছিল ছাত্র, যাদের দুভাগে ভাগ করা যায় – এক, ধনী পরিবারের সন্তান; দুই, মেধাবী ছাত্র বৃতি নিয়ে। এরা, দুচারজন ব্যতিক্রম ছাড়া, সকলেই ভারতবর্ষে ফিরে গিয়েছিল। দ্বিতীয় শ্রেণী এসেছিল পেশাদারী বৃত্তির অভিজ্ঞতা অর্জন করতে, বা ভাগ্যাণ্বেষণে বা নিছক কর্ম সন্ধানে। এদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষই কয়েকবছর ইংল্যান্ডে থেকে দেশে ফিরে যায়।
এই ধারার পরিবর্তন লক্ষ করলাম ষাট দশকের মাঝামাঝি। ধনী ও মেধাবী ছাত্ররা আগের মতই আসতে থাকল। দ্বিতীয় শ্রেণী, বাঙ্গালী (পশ্চিমবঙ্গের) আগন্তুক সংখ্যা বিপুল ভাবে বেড়ে গেল। এদের কিছুসংখ্যক সোজাসুজি ব্রিটেনে আসার সুযোগ পায়নি, তারা আগে এসেছিল জার্মানি ও ইউরোপের অন্যান্য দেশে এবং পরে ইংল্যান্ডে এসেছে। যে পার্থক্যটা লক্ষণীয় সেটা হল এই ষাট-সত্তর দশকের নবাগতদের গরিষ্ঠ সংখ্যা এদেশেই থেকে গেল।
আশির দশকে দেখছি, কুড়ি বছর পরে আমার প্রজন্মের বাঙ্গালীরা এদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, বাড়ী করেছে, সংসার শুরু করেছে, ছেলে মেয়েরা ইউনিভারসিটিতে পড়াশুনা করছে। আজ ব্রিটিশ সমাজের সকল কর্মক্ষেত্রে দ্বিতীয় প্রজন্মের বঙ্গ সন্তানের দেখা যাবে। ডাক্তার, ইঙ্গিনীয়ার, সলিসিটর, ব্যারিস্টার, সরকারি পরিষেবার কর্মী, শিক্ষক, অধ্যাপক, বিজ্ঞানী, ইন্ডাস্ট্রি ও টেকনোলজির নিম্নস্তর থেকে উচ্চস্তর পর্যন্ত; শিল্প, সঙ্গীত, নাটক, সাংবাদিকতায়, রাজনীতিতে --- কর্মক্ষেত্রের সকল শাখায় বাঙ্গালীর উপস্থিতি।
আমি একদা এক দুরূহ কর্মে ব্রতী হয়েছিলাম। এদেশে উপরোক্ত পেশায় যে সব বংগসন্তান* গুরুত্বপূর্ণ কর্মে লিপ্ত আছে তার একটা তালিকা তৈরি করার। বলা বাহুল্য যে সে কাজ এত বিশাল যে সে পরিকল্পনা সূর্যের আলো দেখে নি। দ্বিতীয় প্রজন্ম যারা এদেশে পড়াশুনা করেছে ও এদেশের সমাজ ব্যবস্থার মধ্যে বড় হয়েছে তারা, তাদের যোগ্যতার শিখরে পৌঁছুবার একমাত্র অন্তরায় ছিল বর্ণ বৈষম্য ও অন্ধ সংস্কার। অধুনা আশার আলো দেখা যাচ্ছে; ক্রমে ক্রমে সেই সব বাধা বিপত্তি অপহৃত হচ্ছে। গায়ের রং আর মেধা ও যোগ্যতাকে রুখে রাখতে পারছে না। এদেশে পড়াশুনা করা দ্বিতীয় প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা নিজগুণে গুরুত্বপূর্ণ পেশায় সফল হতে থাকল। আগে বলেছি সফল বঙ্গসন্তানের তালিকা দীর্ঘ। তবু দু একটা উদাহরণ না দিয়ে পারছি না।
*বঙ্গসন্তান অর্থে পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতীয় বাঙ্গালী .
শামি চক্রবর্তী (Sharmishta Chakrabarti, Baroness Chakrabarti CBE PC)
বঙ্গসন্তান, পিতা ও মাতা বাঙ্গালী। ব্যারিস্টার, রাজনীতিক, লেবার পার্টির সমর্থক। শ্যাডো এটর্নী জেনেরাল ছিলেন। হাউস অফ লর্ডসের সদস্যা।
ঈশা গুহ (Isa Tara Guha, জন্ম ২১ মে ১৯৮৫), পিতা মাতা : বরুণ ও রমা গুহ, কলকাতা। ইংল্যান্ড ক্রিকেটার, জাতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের সদস্যা। টিভি ও রেডিও ক্রিকেট কমেন্টটেটর। নিউরোলজিতে এমফিল।
লিসা নন্দী (Lisa Eva Nandy, জন্ম 9 আগস্ট ১৯৭৯)
পিতা ও মাতা : দীপক নন্দী ও লুইজ বাইয়ার্স। পূর্বতন শ্যাডো বিদেশ মন্ত্রী। বর্তমান লেবার সরকারের সংস্কৃতি, মিডিয়া ও ক্রীড়া মন্ত্রী। পিতা দীপক নন্দী রানিমিড ট্রাস্টের প্রথম ডাইরেক্টর, আগে আলোচনা করেছি।
পল্লব ঘোষ (Pallab Kumar Ghosh, ১৯৬২ সালে ভারতবর্ষে জন্ম) বাবা মা দেবীপদ ও মঞ্জু ঘোষের সঙ্গে ১৯৬৩ সালে ইংল্যান্ডে আসে।
১৯৮৪ সাল থেকে বি বি সি-র বিজ্ঞান সাংবাদিক। চাঁদে যে প্রথম পা ফেলেছিল সেই নীল আর্মস্টং, ওয়ার্লড ওয়াইড ওয়েব-র স্রস্টা টিম বারনার্স-লী ও মহাজাগতিক বিষয়ক বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিঙ-কে টিভি-তে মুখোমুখি সাক্ষাৎকার নিয়েছে।
বাংলার সংস্কৃতি, বাংলার স্বকীয়তা কতদিন থাকবে?
সত্তর দশকে যে সব বাঙ্গালী এদেশে এসেছে তারা প্রায় সকলেই মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে। দেশের মধ্যবিত্ত পিতা মাতার মত এরাও এদের ছেলেমেয়েদের অনুপ্রাণিত করেছিল শিক্ষার পথ ধরে উন্নতি করতে। ফলে দেখা গেল ব্রিটেনে আগত অন্যান্য অভিবাসী সম্প্রদায়ের থেকে তুলনামূলকভাবে ভারতীয় বাঙ্গালীরা বেশী সফল হয়েছে। ভারতবর্ষেও বাঙ্গালী জাতি ধনী সম্প্রদায় নয়। এদেশেও তাই অভিবাসী বাঙ্গালী প্রজন্ম বহু-কোটিপতি ধনীর তালিকায় নেই কিন্তু তুলনামূলকভাবে তারা বেশী পেশাদারী কর্মে নিযুক্ত ও অবস্থাপন্ন সম্প্রদায়।
আমার মনে যে প্রশ্ন এখন দেখা দিয়েছে তা হল বাংলার সংস্কৃতি ও বাংলার স্বকীয়তা কতদিন ব্রিটেনে বজায় থাকবে। তৃতীয় প্রজন্মের বাঙ্গালীরা কি শুধু নামেই “বাঙালি ” থাকবে ?
কোন জাতির ভাষা সেই জাতির সংস্কৃতির প্রধান অংশ। ভাষা যদি লুপ্ত হয়ে যায় তবে সংস্কৃতি লুপ্ত হয়ে যাবে। টিঁকে থাকবে হয়ত শুধু তার কিছু আচার আচরণ, কিছু সামাজিক বিধি নিষেধ। ষাটের দশকে যখন এদেশে আসি তখন একটা জিনিষ লক্ষ্য করে আমরা অবাক হয়েছিলাম। সেকালে বাঙ্গালী বাবা-মারা ছেলেমেয়েদের বাংলা ভাষা শেখাতে চাইত না বা আগ্রহী ছিল না। তাদের কোন কোন পরিবারকে আমার প্রশ্নের উত্তরে বলতে শুনতাম, ওরা ইংরেজিতে পড়াশুনা করে, একই সঙ্গে বাংলা বললে ওরা বিভ্রান্ত (confused) হয়ে পড়বে। এ যুক্তি বিজ্ঞানসম্মত নয়। শিশুরা একই সঙ্গে একাধিক ভাষা শেখার ক্ষমতা রাখে। আমরা আমাদের ছেলেদের, অংশুমান ও কিংশুককে সচেতনভাবে বাংলা শিখিয়েছিলাম। ওরা স্বচ্ছন্দে সাবলীলভাবে বাংলা বলতে পারে। কুড়ি পঁচিশ বছর পরে আমাদের বাড়ীর আড্ডায় আমার বন্ধুবান্ধবের ছেলেমেমেয়েদের আক্ষেপ করতে শুনেছি বাংলা বলতে না পারার জন্য। এই অক্ষমতার জন্য ওরা ওদের বাবা মাকে দোষারোপ করেছে।
সুতরাং সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে ভাষা ভুলে গেলে চলবে না। আশঙ্কা আছে তৃতীয় প্রজন্মে মিশ্র বিবাহে ও স্থানীয় সংস্কৃতির প্রভাবে বঙ্গসংস্কৃতি সংকুচিত হবে এবং কালে ইতিহাস হয়ে যাবে না। তবে আশার আলো আছে। পঞ্চাশ বছর ধরে দেখে আসছি বঙ্গবাসীরা নিয়মিত এদেশে পাড়ি দিচ্ছে। ইদানীং কালে কম্পিউটার ও প্রযুক্তিবিদ্যায় অভিজ্ঞ ছেলে মেয়েদের আগমন বেশি। এই ধারা যদি অটুট থাকে তবে নতুন বাঙ্গালী সম্প্রদায় পুরানো রুগ্ন সংস্কৃতিতে প্রাণসঞ্চার করতে পারবে। নতুন পুরানোর সংমিশ্রণে বঙ্গসংস্কৃতি জীবিত থাকবে আবহমান কাল। প্রশ্ন হল এই স্রোত – পশ্চিমবঙ্গ থেকে ব্রিটেনে আগমন – কতদিন অব্যাহত থাকবে।
পরিবর্তন অনেক হয়েছে। দশ বছর আগেও যা অচিন্ত্যনীয় ছিল তার সাক্ষী হলাম। ১০নং ডাউনিং স্ট্রীটের দরজায় দেওয়ালীর প্রদীপ। ব্রিটিশ প্রধান মন্ত্রী ভারতীয় বংশোদ্ভূত, দ্বিতীয় প্রজন্মের ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান, অশ্বেতাঙ্গ। কাঁচের ছাদ আস্তে আস্তে ভাঙ্গছে। আফ্রিকার কালো মহিলা রক্ষণশীল টোরি পার্টির নেতা। এ কি ক্ষণিকের বুদবুদ, না নবসূর্যোদয়? আগামী দিনের সমাজের ইঙ্গিত?
আমি আশাবাদী।
----
ক্রমশ: