এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • Supreme Leader - সর্বোচ্চ নেতা এবং ...

    Amitava Sen লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৭ মার্চ ২০২৬ | ২৩ বার পঠিত
  • ১৯২৫ সালে রেজা শাহকে প্রধান মন্ত্রী করেছিলেন ইরানের পার্লামেন্টের সদস্যরা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্র শক্তি রেজা শাহকে হঠিয়ে তাঁর ছেলে, ২২ বছর বয়সের মহম্মদ রেজা শাহ পহেলভীকে তখতে বসায় ১৯৪১ সালে। তখন থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতা সব মহম্মদ রেজা শাহর হাতে। মধ্যেখানে ১৯৫৩ সালে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন বটে সামরিক অভ্যুত্থানে, কিন্তু রাখে ন্যাটো মারে কে? আমেরিকা ও ব্রিটেনের সহায়তায় দ্রুত ক্ষমতায় ফেরেন শাহ। এনার আমলে ভালো কি হয়েছিলো, খারাপ কি ছিল, সেটা আজকের বিষয়বস্তু নয়। শাহ একনায়ক ছিলেন আর একনায়কদের ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখার মত যা যা গুণ থাকে, শাহের তা ছিল না - এই বদনাম কেউ দিতে পারবে না।

    ১৯৭৯ র গণ অভ্যুত্থানে শাহ পালালেন আমেরিকায়। এখনো তাঁর ছেলে ওদেশেই থাকেন। তাঁর জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হলো ইসলামিক প্রজাতন্ত্র - নেতৃত্বে আয়াতুল্লাহ খোমেইনি। খোমেইনি তৈরি করলেন বিপ্লবী কাউন্সিল ও Islamic Revolutionary Guard Corp (IRGC), একটি আধা সামরিক বাহিনী, ইসলামিক শাসনের পরিপন্থীদের দাওয়াই দিয়ে সঠিক রাস্তায় আনার জন্য।

    ১৯৭৯ র বিপ্লব, ইসলামী বিপ্লব নামে খ্যাত হলেও সেই জনজাগরণে কিন্তু বামপন্থী, লিবারাল, ট্রেড উনিয়ন, ব্যাপক ছাত্র-যুব সমাজ সবাই ছিলেন। কিন্তু শাহ আমেরিকায় পালিয়ে যাবার পরে, আয়াতুল্লাহ খোমেইনির হাতেই সমস্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়। 

    বিপ্লবের কিছুদিন পরে খোমেইনি একটা কিম্ভূত শাসন ব্যবস্থা পত্তন করেন। সেখানে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ও পার্লামেন্ট বা মজলিস থাকবে বটে, কিন্তু ১০০% ক্ষমতা থাকবে ধর্মগুরুদের হাতে। এই হাঁসজারুই আজ লেখার বিষয়বস্তু।

    ইরানের তিনটি প্রতিষ্ঠান গঠিত হয় নির্বাচনের মাধ্যমে। রাষ্ট্রপতি (President), ২৯০ আসনের মজলিস-ই-শূরা-ই-ইসলামী (Islamic Consultative Assemby সোজা কথায় Parliament) এবং মজলিস-এ খোবরেগান-এ রাহবারি (Assemby of Experts)। এছাড়া আছেন সর্বোচ্চ নেতা, শিয়া ধর্মগুরু, যিনি অবশ্যই একজন আয়াতুল্লাহ। যাঁর সম্মতি ছাড়া মজলিস বা রাষ্ট্রপতি কোনো কিছুই করতে পারবেন না। সর্বোচ্চ নেতাই সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ।

    তা বেশ।  কিন্তু সর্বোচ্চ নেতা কিভাবে তখতে বসবেন? এটা কি বংশানুক্রমিক? মোটেই না। মজলিস-এ খোবরেগান-এ রাহবারি (Assembly of Experts), যার কথা একটু আগেই হলো, সেটি একটি নির্বাচিত সভা, তাতে থাকেন ৮৮ জন সদস্য। এরাই নির্বাচন করেন সর্বোচ্চ নেতাকে। প্রয়োজনে এঁরা সর্বোচ্চ নেতাটিকে ঘাড় ধাক্কাও দিতে পারেন।  তাহলে আর সমস্যা কোথায়, পুরো গণতান্ত্রিক কাঠামো তো। একটু খাড়ান, গল্প বাকি আছে। নির্বাচনের সময় মজলিস-এ খোবরেগান (Assembly of Experts) এ ঢোকার জন্য ভোটে লড়তে হলে, সেই প্রার্থীকে আগে অনুমোদন পেতে হবে শূরা-য়ে নেগাহবান (Guardian Council) এর। এই Guardian Council এর সম্মতি না পেলে পার্লামেন্টের পাশ হওয়ায় কোনো বিল আইনে পরিণত হবে না। ব্রেশ ব্রেশ। তা এই  শূরা-য়ে নেগাহবান (Guardian Council) কিভাবে তৈরি হয়? এতে থাকেন ১২ জন সদস্য। ৬ জনকে বেছে নেন সর্বোচ্চ নেতা আর বাকি ৬ জনকে প্রধান বিচারপতি। যাক তাহলে একটা কন্ট্রোল তো রইলো। একটু দাঁড়ান। প্রধান বিচারপতি হবার উপায় কি, এটা জেনে নিলেই ছবিটা পরিষ্কার হবে। প্রধান বিচারপতিকে বাছাই করেন সর্বোচ্চ নেতা! বলতে ভুলেছি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে যারা প্রার্থী হবেন তাদের অবশ্যই আগে NoC পেতে হবে শূরা (Guardian Council) থেকে।

    আচ্ছা ধরুন মজলিস (Parliament) আর  শূরা-য়ে নেগাহবান (Guardian Council)  মধ্যে মতবিরোধ হলো। মজলিস কোনো বিল পাস করতে চায়, শূরা তাতে রাজি নয়। তখন এটা যাবে  মাজমা-ই তাশখিস-ই মাসলাহাত-ই নেজাম (Expediency Discernment Council) এর কাছে। এখানে ৪৫ জন সদস্য। এদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এই Expediency Council সর্বোচ্চ নেতাকে বুদ্ধি দেয়। তা কোন ৪৫ জন এই Council এ থাকবে, সেটা কি করে ঠিক হবে? উত্তর সোজা। সর্বোচ্চ নেতা নিজে ঠিক করেন কারা হবেন এই Council এর সদস্য।

    ইরানে রাষ্ট্রপতি দুবার এর বেশি হওয়া যায় না। যদিও সর্বোচ্চ নেতাদের ক্ষেত্রে এরকম কোন বাধা নিষেধ নেই। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৯ ক্ষমতায় ছিলেন আয়াতুল্লাহ খোমেইনি। তারপর থেকে আয়াতুল্লাহ খামেনেই। 

    এবার বোঝা গেল, কোন কারণে, সর্বোচ্চ নেতা হলেন সর্বোচ্চ।

    এইরকম বকচ্ছপ গণতন্ত্র যাঁর মাথা থেকে বেরিয়েছিল, তিনি নিশ্চিত বাংলা জানতেন আর অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন সুকুমার রায় পড়ে:

    ঠিকানা চাও? বলছি শোন; আমড়াতলার মোড়ে
    তিন-মুখো তিন রাস্তা গেছে তারি একটা ধ'রে,
    চলবে সিধে নাক বরাবর, ডান দিকে চোখ রেখে;
    চলতে চলতে দেখবে শেষে রাস্তা গেছে বেঁকে।
    দেখবে সেথায় ডাইনে বায়ে পথ গিয়াছে কত,
    তারি ভিতর ঘুরবে খানিক গোলকধাঁধাঁর মত।
    তারপরেতে হঠাৎ বেঁকে ডাইনে মোচর মেরে ,
    ফিরবে আবার বাঁয়ের দিকে তিনটে গলি ছেড়ে।
    তবেই আবার পড়বে এসে আমড়া তলার মোড়ে
    তারপরে যাও যেথায় খুশি - জ্বালিয়ো নাকো মোরে।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • dc | 2402:3a80:463:da65:50b7:b0a9:197e:***:*** | ০৭ মার্চ ২০২৬ ১৬:৩১739001
  • ভালো লেখা। খামেনেইকে আমেরিকা আর ইজরায়েল মিলে টপকে দেওয়ার পর, আপাতত অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্ট খামেনেইএর ছেলে মুজতবাকে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা ঘোষনা করেছে (অন্তত নিউজে এসেছে)। তবে ইরান সরকার এই খবর অস্বীকার করেছে, তার কারন হতে পারে তাহলে ছেলেকেও না অ্যাসাসিনেট করে দেয়। এখনও সিচুয়েশান পুরোপুরি ফ্লুইড।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। মন শক্ত করে মতামত দিন