এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  ভ্রমণ  শনিবারবেলা

  • তবিলদারের দুনিয়াদারি ২০ - রিও পর্ব তিন

    হীরেন সিংহরায়
    ধারাবাহিক | ভ্রমণ | ০৭ মার্চ ২০২৬ | ৪৮ বার পঠিত
  • ছবি: রমিত



    গার্ল ফ্রম ইপানিমা

     


    ফ্রাঙ্কফুর্টে ফ্রেসগাসের ওঙ্কেল মাক্স পাবে বিয়ার সেবনের বাসনায় সবেমাত্র আসন গ্রহণ করেছি, স্টেট ব্যাঙ্কের সহকর্মী আলফ্রেড গ্যারমান জিজ্ঞেস করলে, পঞ্চাশ ফেনিগ খুচরো আছে? আমি বললাম, আগাম দাম দিতে হবে নাকি? আলফ্রেড বললে, না, জুক বক্সে লাগাবো। 

    পুরনো হলিউডি সিনেমায় দেখেছি রেস্তোরাঁ বা পাবের কোণায় মাঝারি সাইজের কোমর অবধি উঁচু একটি আলোকিত আলমারি, যার গায়ে অনেক বাতি জ্বলছে, দেখে রেডিওগ্রাম মনে হয়। তার খোপে খোপে নানান গানের নাম লেখা, এবার নির্দিষ্ট মূল্যের মুদ্রা দিয়ে গুঁজে দিয়ে সঠিক বোতাম টিপলে আপনার পছন্দের গান বেজে উঠবে। তার ভাঁড়ার ক্ষুদ্র,, পঁচিশটি গান সাজানো আছে থাকে থাকে। পরে দেখেছি এই পছন্দ করে গান বাজানোর আরেকটা রেলা ছিল- আপনি কয়েন দিয়েই তৎক্ষণাৎ আপনার আসনে গিয়ে বসে চোখ বন্ধ করে শুনতেন না। বরং গান শুরু হবার পরে সে যন্ত্রের সামনে অলসভাবে দাঁড়িয়ে, সমঝদারের ভঙ্গিতে এদিক ওদিক তাকাবেন! আপনি কোন লেভেলের সঙ্গীত বোদ্ধা সেটা পাবলিক বুঝুক! যাই বেছে থাকুন না কেন, আপনার প্রিয় গানটি না শুনে তাদের উপায় নেই, কেননা ততক্ষণে তারস্বরে স্পিকারে বাদ্যযন্ত্র বেজে উঠেছে। পাবের লোককে শুনতে হবেই, তাদের ভালো লাগুক আর না লাগুক। পুজোর সময়ে পাড়ার মাইকের মতন- যে গান বাজছে তাই শুনবেন। তবে এক্ষেত্রে পয়সা দিচ্ছেন আপনি। ইতরজনকে সঙ্গীত উপহার দিচ্ছেন, তাদের পছন্দ অপছন্দের কোন খাতির নেই। 

    প্রসঙ্গত,আজকের জেনারেশন জেড হয়তো জুক বক্স নামক এককালের স্টেট অফ দি আর্ট সঙ্গীত শ্রবণ যন্ত্র অথবা এই সেদিনের ওয়াকম্যানের নাম শোনেননি; তাঁরা দেখি সর্বদা কানের ভেতরে সাদা রঙের খড়কে কাঠির মতো কিছু গুঁজে আই ফোন থেকে বেতারে নিঃসৃত সুরের মাধুরীতে মৌজ হয়ে এদিক ওদিক না তাকিয়ে মোটরগাড়ি চালকদের উপেক্ষা করে ব্যস্ত রাস্তা পার হয়ে থাকেন। 

    তখন জার্মান বুঝি সামান্য। কিন্তু জুক বক্সে প্রথম লাইভ শোনা, আলফ্রেডের নির্বাচিত গানের টাইটেল মনে আছে; সাদা কালো টেলিভিশন আমলের গায়িকা ভিভি বাখের “ডাস মেডশেন ফন ইপানিমা”। এ দেশের মিউজিক সিন সম্বন্ধে আমি সম্পূর্ণ অজ্ঞ, ধরেই নিয়েছিলাম এটি কোনো জার্মান পপ সংগীত; ইপানিমা হয়তো এখানকার কোন গ্রাম বা শহরের নাম। কয়েক বছর বাদে স্ত্রীর ফ্র্যাঙ্ক সিনাত্রা অ্যালবামে একটি গান শুনে সুরটা চেনা মনে হলো। কথা অবশ্যই ইংরেজিতে, বুঝতে পারি – কোনো টল অ্যান্ড ট্যান অ্যান্ড লাভলি মেয়ের বর্ণনা, যাকে দেখে সকলেই বলে আহা! তাহলে ইনি কে? 

    গার্ল ফ্রম ইপানিমা! 

    বিভিন্ন ভাষায় একই গানের একাধিক রেকর্ডিং হতেই পারে; ফ্র্যাঙ্ক সিনাত্রার ‘মাই ওয়ে’র সুর, মুখড়া, অন্তরা ফরাসি গায়ক ক্লদ ফ্রঁসিসের গাওয়া ‘কম আবিতুদে’র হুবহু কপি। কিন্তু লিরিক তার অনুবাদ নয়, পল অ্যাঙ্কা (যিনি একদা গেয়েছিলেন, ডায়ানা – আই অ্যাম সো ইয়াং অ্যান্ড ইউ আর সো ওল্ড) সেটি লিখেছিলেন ‘ওল ব্লু আইজ বয়’ফ্র্যাঙ্কির কথা ভেবে।

    এবার সিনাত্রার কণ্ঠে গার্ল ফ্রম ইপানিমা শুনে কথাগুলোর অর্থ বুঝলাম; মনে হল গীতিকার কি সেই জার্মান টেক্সট থেকে টুকেছেন? তবে ইপানিমা কোথায় বা এই বালিকাটি কে সে বিষয়ে নিয়ে বিন্দুমাত্র কৌতূহলের উদ্রেক হয়নি। কবিদের মনে শয়নে স্বপনে এমনি অনেক মহিলা দেখা দেন, দিতেই পারেন। কেউ কি নাটোরে গিয়ে খোঁজ করেন, বনলতা সেনের বাড়িটা কোথায় ছিলো? রোদ জ্বলা দুপুরে কলকাতার কোন বাস স্টপে রুবি রায়কে নামতে দেখে কবিতায় কত করে তাঁকে ডেকেছিলেন রাহুল দেব বর্মণ? 

    পুত্র ও কন্যাদের নির্বিচার তাচ্ছিল্য উপেক্ষা করে বলেছি আমরাও কিছু খবর রাখি! ইতনা ভি অনপড় নহিন। গানের শব্দ ও অর্থ পুরোটা বুঝিনি কিন্তু কলকাতা খ এবং রেডিও সিলোনের কল্যাণে এলভিস প্রেসলি, ক্লিফ রিচারড, টম জোনসের সঙ্গে আলাপ হয়েছে, বিদেশি পপ মিউজিক আমার একেবারে অচেনা নয়। ছয়ের দশকে বিটলসের সঙ্গে আমার আত্মিক সম্পর্কের সূচনা। বিভিন্ন বয়েসের তিন ছেলে মেয়েকে জোর করে শুনিয়েছি অ্যান্ড আই লাভ হার, নরওয়েজিয়ান উড, ইম্যাজিন। লুসি ইন দি স্কাই উইথ ডায়মণ্ড গানের আদ্যক্ষরের ভেতরে এল এস ডির ইঙ্গিত আছে কিনা এ নিয়ে বন্ধু বান্ধবের সঙ্গে তুমুল আলোচনা করেছি। ওই অবধি। বিলেতে আসার পরে একাধিকবার লিভারপুল গেছি, ছেলের সঙ্গে গুডিসন পার্কে, অ্যানফিল্ডে ফুটবল দেখেছি, কিন্তু কোনদিন বিটলসের গানের সূত্র ধরে পেনি লেন বা স্ট্রবেরি হিল খুঁজতে যাইনি। 

    ইপানিমা থেকে গিয়েছিল তেমনই একটা নাম। পাউলা গনসালভেস যেদিন জিজ্ঞেস করেছিল, গার্ল ফ্রম ইপেনামা শুনেছ? বলেছি অবশ্যই, জার্মানে এবং বিশেষ করে ইংরেজিতে সিনাত্রার কণ্ঠে। পাউলা বললে, অরিজিনাল গানটা জার্মান বা ইংরেজি নয়, খাঁটি ব্রাজিলিয়ান পর্তুগিজে। ইপেনামার মেয়েটি কাল্পনিক নয়; সত্যি এক বা একাধিক দিন ভেলোসো বারের জানলা দিয়ে ইপেনামার একটি মেয়েকে দেখে ওই গান লেখা এবং সুর দেওয়া হয়েছিল। পঞ্চাশ বছর আগে। সে বার আজও আছে, তার নামই এখন গারোতা দে ইপানিমা; নয় নম্বর পোস্টে গিয়ে খোঁজ কোরো। দি গার্ল ফ্রম ইপেনামা ইজ এ রিয়াল পারসন। দি সং ইজ এ পার্ট অফ হিস্টরি অফ রিও।

    প্রথম বার রিওতে এসেই সে গানের সূত্র সন্ধানে পথে মতান্তরে বিচে নামি। গার্ল ফ্রম ইপানিমার সঙ্গে ইন্দ্রনীল সম্যক পরিচিত কাজেই তাকে এই প্রভাতী যাত্রায় রাজি করানো কঠিন হয়নি। রিওর রাস্তায় গ্রিডের মতন এভিনিউ আছে, কাটাকুটি করা স্ট্রিট কম। অলিম্পিকের সময়ে দেখেছি ওয়ান ওয়েতে ভর্তি, তাই হয়তো এমন প্রকাণ্ড শহরে ব্যাংকক বা লাগোসের মতন ট্রাফিক জাম চোখে পড়েনি তেমন। কোপাকাবানা থেকে আটলানটিককে বাঁয়ে রেখে বিচ বরাবর পুব মুখো মিনিট দশেক পা চালিয়ে যেতেই চোখে পড়ে ন নম্বর পোস্ট – ইপেনামা। এবার ডাইনে মুড়ে রুয়া(পর্তুগিজ rua - ফরাসি rue, রু) ভিনিসিউসে ঢুকে চারটে অ্যাপার্টমেনট ব্লক পেরুলে যে ক্রসিং সেখানে দুটি রাস্তার কোণে একটি বার/কাফে – সেখানে জীবন্ত হয়ে ওঠে ফ্রাঙ্কফুর্টে সেই কবেকার শোনা গানের ইতিহাস, দেয়ালে ঝোলে সে গানের স্বরলিপি।

     

    গার্ল ফ্রম ইপানিমা, গারোতা দে ইপানিমা।

    আমার গানের স্বরলিপি লেখা রবে



     
    খোলা জানালার ধারে 

    জুন ১৯৬২; বারো বছর আগে আপন দেশে ফুটবল ওয়ার্ল্ড কাপে হেরে যাওয়ার হারার দুঃখ ভুলিয়ে দিয়ে, সান্তিয়াগো শহরে চিলিকে ৩-১ গোলে হারিয়ে পরপর দু বার বিশ্বজয়ী হয়েছে ব্রাজিল। কোপাকাবানা থেকে লেবলন সকল বিচে, শহরে, গোটা দেশে উন্মাদনা। মন মাতাল, সাঁঝ সকাল। 

    ইপানিমা বিচের লাগোয়া রুয়া মনতেনেগ্রোর ভেলোসো বারে নিয়মিত হাজিরা দেন দুজন অসম বয়সী মানুষ; তাদের একত্রে বেঁধেছে কবিতা ও গানের সুরের ধারা। আনতোনিয়ো (টম) যোবিমের বয়েস পঁয়ত্রিশ, তাঁর শিশু অবস্থায় পিতা মাতার বিবাহ বিচ্ছেদের পরে মায়ের সঙ্গে ইপানিমায় তাঁর বাস, সেখানেই থেকে গেছেন; পিয়ানোয় ঝড় তোলেন যখন তখন, ব্রাজিলিয়ান জ্যাজ মিউজিকে নতুন ধারা আনবার স্বপ্ন দেখেন। কবি ভিনিসিউস দে মোরেয়েসের বয়েস পঞ্চাশ, রিওর গাভেয়া পাড়ায় জন্ম, বাবা জোর করে আইন পড়তে পাঠিয়েছিলেন, কবিতা তিনি ভোলেননি; অক্সফোরডের ম্যাগদালেন কলেজ তাঁকে ফেলোশিপ দেয় সাহিত্য চর্চার জন্যে, কবিতা লেখেন আর প্রায়ই বিয়ে করেন। 

    টম যোবিম ভিনিসিউস মোরেয়েস - রিও বোটানিক্যাল গার্ডেনে



    রিওর বিচে স্নান ও সঞ্চরণরতা সুন্দরীদের পানে চোখ মেলে থাকার বা দূর থেকে শিষ দেবার অধিকার কোন বয়সে সীমাবদ্ধ নয়, ছেড় ছাড় অবশ্যই অসামাজিক ও বেআইনি। যোবিম ও ভিনিসিউস ভেলোসো বারে বসে গল্প করেন, চাকাও (আখের রস, লেবু মেশানো ব্রাজিলের জাতীয় ড্রিংক যাকে আমরা কাইপিরিনিয়া নামেও জানি) পানীয় সেবন করে খোলা জানলা দিয়ে বাইরে চেয়ে থাকেন। একদিন বিকিনি পরিহিতা এক তন্বী শিখর দশনা তরুণীকে দেখে দু জন বাক্যিহারা হয়ে গেলেন; পরপর কয়েকদিন তাকে দেখলেন। সে কখনো বিচে যাচ্ছে কখনো বা দোকান বাজার করে ফিরছে। রুয়া মনতেনেগ্রো এবং প্রুদেন্তে দে মোরেসের ঠিক কোণায় এই বারে বসে তাঁরা দুজন মেয়েটির গতিবিধি লক্ষ করেন, কোনদিন শিষ দিলেন, মাঝে মধ্যে কথাও বললেন, তাঁদের সঙ্গে বসে এক পাত্তর পান করার আবেদন জানালেন। মেয়েটি সে দরখাস্ত নাকচ করে দেয়। 

    যাকে বলে স্টার স্ট্রাক বা অভিভূত ভিনিসিউস একদিন কাফের মালিকের কাছে একটা কাগজ চেয়ে কবিতায় লিখলেন সেই মেয়েটির বর্ণনা, নাম দিলেন – মেনিনা কে পাসা, যে মেয়েটি চলে গেল। যোবিম তৎক্ষণাৎ সেটিকে সুরে বেঁধে স্বরলিপি লিখে ফেললেন। যোবিম ও ভিনিসিউস দুজনেই বয়স্ক, বিবাহিত, বয়েসে অনেকটা বড়ো। কাফে থেকে ইশারা ইঙ্গিত করেছেন, কথাও হয়েছে, কিন্তু সেই তরুণীকে বলতে পারেননি, তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয়, সে কি মোর অপরাধ? বলতে পারেননি আহা কি তুমি কি অপরূপ, আমাদের পাত্তা দাও আর না দাও, তোমাকে নিয়ে আমরা একটা গান লিখে ফেলেছি! 

    গানের সুরটা যোবিম মনে মনে ভেঁজে চলেছেন- দু মাস বাদে আগস্ট মাসের দু তারিখে, ও বন গুরমে ক্লাবে যোবিম গাইলেন, মেনিনা কে পাসা; গিটারে যোআঁও জিলবেরতো। তাঁরা সেদিন জানতেন না সম্ভবত এই গানের সঙ্গেই জন্ম নিলো বোসা নোভা (নতুন ধারা) জ্যাজ মিউজিক- ব্রাজিলিয়ান সামবা রিদম, আফ্রিকান তাল, মিষ্টি গিটারের এক নবীন সংমিশ্রণ যা একদিন উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায়, বাকি দুনিয়াতে সমান জনপ্রিয় হবে, বিশ্ব জয় করবে। গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড জিতবে।

    ব্রাজিলিয়ান পর্তুগিজে গাওয়া টম যোবিনের গান, অরিজিনাল টাইটেল, ব্রাজিলে হিট হলো। এবার তাঁরা চাইলেন নিউ ইয়র্কে গিয়ে আরও আধুনিক যন্ত্রপাতি সহ রি রেকর্ডিং করতে – গানের নাম হবে গারোতা দে ইপানিমা। ম্যানহাটানের ওয়েস্ট ৪৮ স্ট্রিটের এ অ্যান্ড আর স্টুডিওতে টম যোবিন, যোআঁও জিলবেরতো সহ পুরো ব্রাজিলিয়ান টিম হাজির, তাঁদের পিছনে বাইশ বছরের একটি মেয়ে, জিলবেরতোর স্ত্রী আসত্রুদ। স্টুডিওর সমবেত জনতা ব্রাজিলিয়ান জ্যাজ, বোসা নোভার গান শুনে ধন্য ধন্য করলেন। সবাই যখন বাহবা জানাতে ব্যস্ত, স্টুডিও ডিরেক্টর ক্রিড বললেন এ এক দারুণ নাম্বার। একে বড়ো অডিয়েন্সের কাছে নিয়ে যেতে হলে ইংরেজি ট্র্যাক করা দরকার। সেখানে হাজির ছিলেন নরমান গিমবেল (মনে করুন তাঁর সেই মন খারাপ করা লিরিক, কিলিং মি সফটলি উইথ হিজ সং!)। তিনি বললেন আমাকে এই পর্তুগিজ গানের মূল কথা গুলি বুঝিয়ে দিলে চট করে ইংরেজি টেক্সট লিখে দেবো। পনেরো মিনিটের মধ্যে তিনি গার্ল ফ্রম ইপানিমা লিখলেন (যেটি পর্তুগিজ লিরিক থেকে অনেক দূর দিয়ে হাঁটে, একটি মেয়ের সৌন্দর্যের কাব্যিক বর্ণনা নয়, গিমবেলের টেক্সট অনেক বেশি শারীরিক)*। স্টুডিও ডিরেক্টর বললেন, আমরা সবাই রেডি, এখুনি ইংরেজি ভার্শন রেকর্ড করা হোক! তিনি তো বলে খালাস, এখন গাইবে কে? ব্রাজিলিয়ান ক্রু ওই ফ্রেজবুকের ইংরেজি টুকু জানেন, তাঁদের উচ্চারণ শুনলে লোকে হাসবে। 

    তেইশ বছর বয়সে আসত্রুদ জিলবেরতো



    এমন সময়ে আসত্রুদ জিলবেরতোর অত্যন্ত ক্ষীণ কণ্ঠ শোনা গেল পেছন থেকে, ‘আগে কখনো প্রকাশ্যে গাই নি কিন্তু আমি কি চেষ্টা করতে পারি?’

    ঘর শুদ্ধ লোক অবাক হয়ে চাইলে; যোআঁও জিলবেরতোর বউ ইংরেজিতে গান গাইবে? সেটা আবার রেকর্ড হবে নিউ ইয়র্কের এই স্টুডিওতে?

    আসত্রুদ জিলবেরতোর বাবা জার্মান, বিয়ের আগে ছিলেন ভাইনারট (Weinart - আসত্রুদ আসলে প্রচলিত জার্মান নাম আসত্রিদ থেকে এসেছে) পর্তুগিজের পাশাপাশি ইংরেজি ও জার্মানে স্বচ্ছন্দ। গান যে কখনো করেননি তা নয় তবে একেবারে নভিস। স্টুডিও মালিক ক্রিড বললেন, ক্ষতি কি? বড়জোর একটা টেপ নষ্ট হবে। আর একটা কথা, গারোতা দে ইপানিমা কেউ বুঝবে না, টাইটেল হোক গার্ল ফ্রম ইপানিমা। 

    তেইশ বছরের আসত্রুদ গাইলেন, 

    Tall and tan and young and lovely
    The girl from Ipanema goes walking 
    And when she passes, each one she passes goes, “ah” 

    একবারেই ও কে! 

    এক বৈদ্যুতিক মুহূর্ত। সকলের মনে হয়েছিল তাঁরা একটা অভাবনীয় কিছুর জন্মের সাক্ষী হলেন, ভাবতে পারেননি একদিন এই ব্রাজিলিয়ান গান পপ মিউজিকের ইতিহাসে বেশি বার রেকর্ডেড গানের তালিকায় দ্বিতীয় স্থান নেবে।

    মার্চ ১৮, ১৯৬৩ 

    ঠিক দু বছর বাদে, লরডস ক্রিকেট মাঠের অনতিদূরে সেন্ট জনস উডের অ্যাবি রোড স্টুডিওতে পল ম্যাকারটনির সোলো ভয়েসে জন লেননের লেখা যে গান রেকর্ড করবেন বিটলস, আজও সমান জনপ্রিয়, পরিচিত - ইতিহাসে সর্বাধিকবার যেটি রেকর্ড হয়েছে এবং হতেই থাকবে 

    ইয়েসটারডে, অল মাই ট্রাবলস সিমড সো ফার অ্যাওয়ে 

    আমার কলকাতার কালে জানতাম যে কোন আধুনিক বা ফিল্মি গান পাড়ার জলসায় যে কেউ গাইতে পারেন কিন্তু রেকর্ড কেবল একবার হয়, অরিজিনাল গায়ক গায়িকার কণ্ঠে (এখন অবশ্য তেমন কোন বাধা বন্ধ নেই, রি মাস্টারড গানের ছড়াছড়ি)। বিদেশে আসার পরে যখন জানলাম ইয়েসটারডে নানা রূপে নানা ভাষায় দেখা দিয়েছে, অন্তত দু হাজার বার, খুব অবাক হয়েছিলাম! গার্ল ফ্রম ইপেনামার হাজারের বেশি ভার্শন শোনা যায়। তবে এক্ষেত্রে যা হয়ে থাকে, সিনাত্রার সিলকি ভয়েসে শোনা ইপানিমা আজ সবাই চেনেন, আসত্রুদ জিলবেরতোকে নয়। 

    ভাগ্য তাঁকে প্রবঞ্চিত করেছে। 

    স্টুডিওতে আসত্রুদ জিলবেরতো



    কোন কন্ট্রাক্ট দূরের কথা, স্টুডিওর খাতায় তালিকাভুক্ত ছিলেন না আসত্রুদ। গান রেকর্ডিঙের শেষে স্টুডিও মালিক তার হাতে একশো কুড়ি ডলার গুঁজে দেন। এ রেকর্ডের বিক্রি দশ লক্ষ ছাড়িয়ে যায়, এক পয়সা রয়্যালটি পাননি তিনি। পরের বছর যোআঁও জিলবেরতোর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। গার্ল ফ্রম ইপানিমা তাঁর জন্য পপ মিউজিক জগতে যে স্থানটি তৈরি করে দিয়েছিল, তারই সম্বলে গান গেয়ে বাকি জীবন কাটান, যদিও প্রায় প্রতি পদে তাঁকে কেউ না কেউ ঠকিয়েছে। অনেক সংগ্রাম করেছেন, একমাত্র সন্তান মারসেলো তাঁর সঙ্গে থেকেছে। মায়ের ব্যান্ডে বাস প্লেয়ার ছিলেন মারসেলো। 

    আসত্রুদের কণ্ঠ স্তব্ধ হয়ে গেছে তিন বছর আগে। বয়স হয়েছিল তিরাশি। 

    সেই মেয়েটি 

    এলো (এলোইজা) পিনিয়েরো, ১৮ বছর বয়সে


    তার নাম যে কোন ব্রাজিলিয়ানের মতোই খুব লম্বা – এলোইসা এনিদা মেনেজেস পায়েস পিনটো মেনদেস পিনিয়েরো (যোআঁও জিলবেরতোর পুরো নাম যোআঁও জিলবেরতো দো প্রাদো পেরেরা দে অলিভেরা) এবং পেলে বা নেইমারের মতোই তাঁর পরিচিতি একটি ডাক নামে – এলো (এলোইজা) পিনিয়েরো। তাঁর কোন ধারণা ছিল না যে ১৯৬২ সালের ব্রাজিলিয়ান হিট মেনিয়া কে পাসা অথবা ১৯৬৩ সালের ওয়ার্ল্ড হিট গার্ল ফ্রম ইপানিমার অনুপ্রেরণা তিনি নিজেই! তিন বছর বাদে গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড জেতার পরে যোআঁও জিলবেরতো এক নাছোড়বান্দা ব্রাজিলিয়ান রিপোর্টারের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, এ গান সত্য ঘটনার ওপরে আধারিত, ইপেনামার সেই মেয়েটির নাম যতদূর মনে আছে এলো পিনিয়েরো! 

    বজ্রাহত বললে কম বলা হয়; এ গুজবে এলো মোটেই বিশ্বাস করেননি। কিন্তু শিগগির একদিন তাঁর দেখা হল কবি ভিনিসিউস মোরেসের সঙ্গে। তিনি বললেন, বেশিদিন আগের কথা নয়, এই ভেলোসো বারে আমি আর যোবিম বসতাম, তোমার সঙ্গে আলাপ করার চেষ্টা করেছি, মুখ ঘুরিয়ে চলে গিয়েছিলে! এবার এলোর পালা অবাক হবার, কেন না কথাটা সত্যি! রুয়া মনতেনেগ্রোর সেই বারের বারান্দায় এলো তাঁকে এবং আরেকজনকে দেখেছেন, কথা বলেছেন! গা করেননি, পথ চলতি কতজন তো আলাপ করতে চায়। 

    পরে সাক্ষাৎকারে এলো পিনিয়েরো অকপটে তাঁর কথা বলেছেন – স্বপ্ন দেখা এবং দেখানোর ম্যাজিশিয়ান কবি ভিনিসিউসের প্রতি পিনিয়েরোর দুর্বলতা ছিল, নিজেই স্বীকার করেছেন; 
    ভিনিসিউস বহু বার বিয়ে করেছিলেন তা জেনেও। ভিনিসিউসের অ্যালকোহল আসক্তি পিনিয়েরোকে দূরে সরিয়ে দেয় – ভিনিসিউস বলতেন মানুষের বেস্ট ফ্রেন্ড হলো হুইস্কির বোতলে ভরা একটি কুকুর। 

    আর টম যোবিম? 

    ‘খুব লাজুক, দুর্দান্ত পিয়ানো বাজাতো কিন্তু বড়ো বেশি কাইপিরিনিয়া অথবা বিয়ার পান করতো ‘।

    যোবিম কিছুই গোপন করেননি। একদিন মুখ ফুটে জানিয়েছিলেন তিনি এলোর প্রেমে পড়েছেন। বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। পিনিয়েরো সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। যোবিমের স্ত্রী থেরেসা পরে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, আমাকে নাকি অনেকটা এলো পিনিয়েরোর মতো দেখতে তাই টম আমাকে ছেড়ে যায়নি (তাঁদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছিল অনেক পরে, টমের শেষ বয়েসে)। 

    সুন্দরী পিনিয়েরোর পরবর্তী ক্যারিয়ার মডেলিং, প্লেবয় প্লেমেট এবং ফ্যাশন ডিজাইনিং। ষাট বছর বয়েসে প্লেবয়তে দেখা দিলেন  সাতাশ বছরের কন্যা তিসিয়ানের সঙ্গে (এপ্রিল, ২০০৩)। 

     

    প্লেবয় এপ্রিল ২০০৩ ভেতরের ছবি । এলো ৬০ টিসিয়ানে ২৭



    ইপানিমার এই মেয়ে বিয়ে করেছেন নিতান্ত গদ্যময় এক এঞ্জিনিয়ারকে, তাঁর সঙ্গে কাটিয়েছেন পঞ্চাশ বছর। কিন্তু গার্ল ফ্রম ইপেনামা তাঁর সারা জীবনের সঙ্গী রয়ে গেছে; পিনিয়েরো বলেছেন এ গান তাঁকে বারবার মনে করিয়ে দিয়েছে সেই সময়ের কথা, যখন পৃথিবীতে ভালোবাসা ছিলো, বোসা নোভার রেশ রিওকে, ব্রাজিলকে ভরিয়ে দিয়েছিল। আপন সৌন্দর্যের বিশ্বখ্যাতি থেকে তাঁর কোন আয় হয়নি। এমনকি শেষ বয়েসে যখন রিওর একটি শপিং মলে ‘দি গার্ল ফ্রম ইপানিমা ‘বুটিক খুলতে চেয়েছিলেন, রেকর্ড কোম্পানি জানায় সে নামের কপিরাইট তাদের, পিনিয়েরোর নয়। মামলা করে কোনমতে সে নামটি ব্যবহারের অধিকার আদায় করেন। 

    ৫০ বছর বয়সে


    আজীবন তাঁকে অনুসরণ করে বেরিয়েছে এই গান। একবার লন্ডনে কভেনট গার্ডেনের এক রেস্তোরাঁয় মেয়ে তিসিয়ানের সঙ্গে লাঞ্চ করছিলেন, কাকতালীয়বৎ স্পিকারে বাজছিল গার্ল ফ্রম ইপানিমা। মেয়ে ফিসফিস করে বলেছে, মা, তোমার গান! 

    পিনিয়েরো তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেছেন, চুপ করো। মন দিয়ে ফিশ অ্যান্ড চিপস খাও এখন। 

    সেই গানের রেশ 

    ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকের দুই ম্যাস্কটের নাম ছিল ভিনিসিউস এবং টম! নয় আগস্টের ওপেনিং সেরিমনিতে টমের নাতি ড্যানিয়েল যোবিম গেয়েছিলেন গার্ল ফ্রম ইপানিমা, গোটা মারাকানা স্টেডিয়াম আলো করে সেই সুরে ইতিহাসের দীর্ঘতম, প্রায় পাঁচশ ফুটের ক্যাট ওয়াকে লক্ষ হৃদয়কে স্তব্ধ করে হাঁটলেন ব্রাজিলের সবচাইতে ডাকসাইটে সুন্দরী গিসেলে ব্যুনডশেন!

    অলিম্পিক ওপেনিং সেরিমনি রিও ২০১৬ 
    গিসেলে ব্যুনডশেন এর ক্যাটওয়াক

    রিও ওপেনিং সেরিমনি- টম যোবিমের স্মৃতি

    টমের নাতি ডানিয়েল যোবিম গাইলেন গার্ল ফ্রম ইপানিমা - রিও ২০১৬



    আমন্ত্রিতের তালিকায় সত্তর উত্তীর্ণ এলো পিনিয়েরোর স্থান হয়নি।তিনি বলেছিলেন স্টেডিয়ামে বসে তাঁর ভূমিকায় গিসেলে ব্যুনডশেনকে চাক্ষুষ দেখতে পারলে তিনি খুব খুশি হতেন! তবে ব্রাজিলিয়ান কর্তৃপক্ষ ইপেনামার এই আইকনিক মেয়েটিকে ভুলে যাননি, এলো পিনিয়েরো ছিলেন পবিত্র অলিম্পিক মশালের অন্যতম বাহক। 

    এই জনপ্রিয় গানের একটা মজার সংস্করণ লেখেন স্টেফেন সনডহাইম- সেখানে গার্ল ফ্রম ইপানিমা হয়ে যায় দি বয় ফ্রম ইপানিমা! সে যুবকটি অবশ্য কেবল কল্পনায় থেকে গেছে! 

    Tall and tan and young and handsome
    The boy from Ipanema goes walking
    And when he passes
    Each girl he passes goes, ah! 

    এটি শোনা গেছে এলা ফিটজেরাল্ড, শার্লি ব্যাসি, পেটুলা ক্লার্ক, জুলি লন্ডন এবং আরও অনেক মহিলা শিল্পীর কণ্ঠে। 

    দুই ভার্শন মিলিয়ে অন্তত পঁচিশটির বেশি ভাষায় দেড় হাজার বার রেকর্ড হয়েছে দি গার্ল /বয় ফ্রম ইপানিমা (ইয়েসটারডে আনুমানিক তিন হাজার বার)। 

    ফ্র্যাঙ্ক সিনাত্রার ভার্শন সবচেয়ে খ্যাত। তারপরেই হয়তো এমি ওয়াইনহাউসের নাম আসে।

    যারা গানে ভুবন ভরিয়ে দিয়েছিলেন 

    ভিনিসিউস দে মোরেয়েস - ১৯১৩ – ১৯৮০ 

    যে বারে বসে তিনি গানটি লিখেছিলেন, তার নাম এখন গারোতা দে ইপানিমা। যে টেবিলে বসে টম যোবিম এ গানের সুর দিয়েছিলেন, তার পেছনে দেওয়ালের ফ্রেমে সেই স্বরলিপির কপি ঝোলে। যে রাস্তার কোণায় বসে ভিনিসিউস একদিন এলো পিনিয়েরোকে দেখেছিলেন, সেই রুয়া মনতেনেগ্রো আজ তাঁর নাম বহন করে- রুয়া ভিনিসিউস দে মোরেয়েস। 

    রুয়া ভিনিসিউস দে মোরেয়েস , ইপানেমা



    পথের পরিচিতি ফলকে লেখা আছে 

    রুয়া ভিনিসিউস দে মোরেয়েস 
    ডিপ্লোম্যাট, সাংবাদিক, কবি ও লেখক 

    টম (আন্তনিও কারলোস) যোবিম -১৯২৭-১৯৯৪ 

    ১৯৬৫ সালের অ্যালবাম অফ দি ইয়ার গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড বিজেতা, ব্রাজিলিয়ান জ্যাজ মিউজিক বোসা নোভার প্রাণ পুরুষ। 

    যোআঁও জিলবেরতো – ১৯৩১- ২০১৯ 

    গার্ল ফ্রম ইপানিমা তাঁর লঞ্চিং প্যাড - একাধিক গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড বিজেতা, কলোম্বিয়া ইউনিভারসিটির সাম্মানিক ডক্টরেট। মাত্র পাঁচ বছরের বিবাহিত জীবন কাটানোর পরে আসত্রুদকে ডিভোর্স করেন, আর বিয়ে করেননি।

    ইপানিমার সেই মেয়ে এলো পিনিয়েরোর বয়েস এখন বিরাশি; ছ দশক কেটে গেছে, কিন্তু রিওর যে কোন বিচে আজও সবচেয়ে পরিচিত মুখ। 

    পরিশেষে 
     


    Youtube – আসত্রুদ জিলবেরতো লাইভ 




    You Tube –গারোতা দে ইপানিমা বারে এলো পিনিয়েরো (৭৩) এবং হোডা কতব – 




    Youtube – রিও অলিম্পিক, ওপেনিং সেরিমনি ৫ আগস্ট ২০১৬; পিয়ানোতে টম যোবিমের নাতি ডানিয়েল, ক্যাট ওয়াকে গিসেলে বুনডশেন 




    Youtube – ফ্র্যাঙ্ক সিনাত্রা, টম যোবিম যুগলবন্দী; ইংরেজি এবং পর্তুগিজে 




    কৃতজ্ঞতা স্বীকার 

    Thomas Vinciguerra : The Elusive Girl from Ipanema 

    Performing Song Writer: Dec 2006 

    The Girl from Ipanema (, Bossa Nova, Beach Review) The Guardian, 
    London 2.8.2016 

    এবং পাউলা গনসালভেসের (বিয়ের পরে হাইনজেলমান) ধারাভাষ্য 

    পুনশ্চ:

    একটি অপ্রয়োজনীয় তথ্য : ইপানিমা ব্রাজিলের একটি নদীর নাম, তার আক্ষরিক অর্থ ‘ময়লা জল’!


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • ধারাবাহিক | ০৭ মার্চ ২০২৬ | ৪৮ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। হাত মক্সো করতে মতামত দিন