এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  ভ্রমণ  শনিবারবেলা

  • তবিলদারের দুনিয়াদারি পর্ব ২২ - রিও পর্ব পাঁচ

    হীরেন সিংহরায়
    ধারাবাহিক | ভ্রমণ | ২৮ মার্চ ২০২৬ | ৫৮ বার পঠিত
  • ছবি: রমিত



    রিও – একটি সচিত্র ভ্রমণ কাহিনি 

    চিনির রুটি এবং পরিত্রাতা যিশু 

    বহু বছর আগে ঝরিয়ার বাড়ির চিলে কোঠায় সঞ্চিত বাঁধানো মাসিক বসুমতীতে রিও দে ঝানেইরোর দুটি চমকপ্রদ সাদা কালো ছবি দেখেছিলাম- জল থেকে জেগে ওঠা কোণাকৃতি একটি পাহাড় এবং তার ঠিক উলটোদিকে প্রায় আকাশে দাঁড়িয়ে দু হাত বাড়ানো যিশুর মূর্তি- এক সরলরেখায়। পর্তুগিজ নাবিকেরা সেই পাহাড়ের নাম দিয়েছিলেন পাঁও দে আজুকার, চিনির রুটি, ইংরেজিতে যার হুবহু অনুবাদ সুগার লোফ, কিন্তু তার সঙ্গে ইংরেজ কোন বুদ্ধিবলে দেওঘরের ত্রিকূটের থেকেও ছোট এই সুগার লোফকে মাউনটেন আখ্যা দিয়েছে বুঝে ওঠা ভার। কলা গাছের মোচার মতো দেখতে এই মনোলিথের আকারের কোন রুটিও তো আজ অবধি কোথাও দেখিনি। তবে এ নাম এলো কোথা হতে? 



    নামকরণের পেছনে আছে আখ এবং দাস ব্যবসা। কলম্বাসের আগে দক্ষিণ আমেরিকায় চিনি অজানা ছিল; তিনি এই নতুন জমিদারিতে আখ চাষের পত্তন করলেন। ব্যবসায় শ্রমিক লাগে প্রচুর, তাতে অসুবিধে নেই; এখানে দাস সুলভ, মুনাফা অঢেল। পাশের দেশ ব্রাজিলে সদ্য আগত পর্তুগিজ লুটেরাদের পক্ষে এই স্প্যানিশ বিদ্যে আয়ত্ত করতে সময় লাগেনি। ১৫০২ সালে আমেরিগো ভেসপুচির জাহাজ গুয়ানাবারা উপসাগর নোঙর ফেলার বিশ বছরের মধ্যেই ব্রাজিল থেকে জাহাজ এসে লিসবনের বন্দরের রোদে চিনির ফসল নিয়ে উপনীত হতে থাকে। ইউরোপে রপ্তানি করার সময়ে চিনির বিশাল মণ্ডগুলিকে এক ত্রিকোণাকৃতি চেহারায় বেঁধে জাহাজে তোলা হতো। তা থেকে এই নাম দিয়েছিলেন, সেটা টিকে গেছে। তবে আর কোন ইউরোপিয়ান ভাষায় সুগার লোফের সঙ্গে পর্বত যোগ হয় না। 

    পাঁও দে আজুকার একটি মনোলিথ, আশপাশের সঙ্গে সম্পর্কশূন্য বেখাপ্পা পাথরের চাই। সৃষ্টিকর্তা যেন আপন খেয়ালে সেটিকে সমুদ্রের ধারে ফেলে দিয়েছেন! প্রথম কয়েকশ বছর নাবিক টুরিস্ট সেটিকে দূর হতেই দেখেছেন, এটি রিওর তট শোভা বর্ধন করেছে কিন্তু চিনির রুটির ওপরে উঠে বিশ্বরূপ দর্শন করাটা সম্ভব হয়নি। তার জন্য শাবল গাইতি লাগে সেটা সঠিক কোন বিজনেস মডেল নয়। গত শতকের গোড়ায় এক ব্রাজিলিয়ান এঞ্জিনিয়ার ভাবলেন সরাসরি তার মাথায় পৌঁছান অসম্ভব হলেও চিনির রুটির পাশে খানিকটা ছোট যে উরকা পাহাড় আছে, তার মাথায় চড়ে, সেখানে জিরিয়ে নিয়ে এক কাপ কফি খেয়ে দ্বিতীয় ধাপে সুগার লোফে পৌঁছুনো যায় না? বাতাসিয়া লুপের মতো দুপা পিছিয়ে লাফ দেবার মতন। এসব ক্ষেত্রে যেমনটা হয়ে থাকে, এই পরিকল্পনা পাঠানো হল জার্মানিতে, পেন্সিলের স্কেচ ও আবছা সাদা কালো ছবি দেখে বার্লিনের অফিসে বসেই তাঁরা ব্লু প্রিন্ট বানিয়ে দিলেন। সেই মত ব্রাজিলের শ্রমিক কোমরে দড়ি বেঁধে, স্টিলের কেবল দিয়ে যন্ত্রপাতি তুললেন প্রথমে উরকা পাহাড়ে পরে সুগার লোফে। কেবল কারের যাত্রা শুরু হল দু ধাপে, প্রথম স্টেশন প্রায়া ভেরমিলিয়া – প্রথম প্রস্থে উরকা, সেখানে কেবল কার বদল করে সুগার লোফ। ভারটিগো থাকলে জানলা দিয়ে বাইরে না তাকানোই ভালো কিন্তু একবার সেখানে পৌঁছুলে টিকিটের দাম ষোলো আনা উশুল। একদিকে পর্তুগিজদের প্রথম অভিক্ষেপের তট, গুয়ানাবারা উপসাগর এবং অন্যদিকে রিওর বিচ, অন্তহীন আটলানটিক, সবার উপরে দুটো হাত দু দিকে ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছেন পরিত্রাতা যিশু (Cristo Redentor)। 
     

    রোপওয়ে

    সুগার লোফ থেকে


    দেশটা বিশাল হলেও পাঁচশ বছর ধরে ব্রাজিলের প্রথম ঠিকানা রিও। পর্তুগালের পরাধীনতা থেকে মুক্তি পাবার পরে যিশুকে ধন্যবাদ দেবার জন্য করকোভাদো (কুঁজো) পাহাড়ে তাঁর একটি মূর্তি স্থাপনার কথা ভাবা হয়েছিল। প্রথম স্কেচে প্রভু দাঁড়িয়েছিলেন একহাতে গ্লোব অন্যহাতে ক্রস নিয়ে। শেষ অবধি গৃহীত হয় ব্রাজিলিয়ান হাইতর কোষ্টা ও ফরাসি আর্কিটেক্ট পল লান্দস্কির ডিজাইন (জন্মসূত্রে পোলিশ)। সেখানে প্রভু হাতে ক্রস নিয়ে নয়, দু টি হাত দু দিকে বিস্তার করে যেভাবে দাঁড়ালেন সেটি ক্রসেরই মূর্ত প্রতীক। যিশুর মাথা ও হাত দুটি লান্দস্কির প্যারিস আতেলিয়েরে এবং মুখটি রোমানিয়ান স্থপতি গরগে লেওনিদার বুখারেস্টের স্টুডিওতে বানানো হয়েছিল তারপরে মাথা মুখ ও হাত জাহাজে চড়ে এসে বাকি দেহের সঙ্গে মিলিত হয়। উত্তুঙ্গ মূর্তি বানিয়ে দূর দেশে পাঠানোয় ফরাসিদের এলেম ইতিমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত। চল্লিশ বছর আগে স্ট্যাচু অফ লিবার্টিকে ছোট ছোট টুকরোয় প্যাক করে নিউ ইয়র্ক বন্দরে পাঠিয়েছিলেন তাঁরা।

    এক রোমানিয়ান স্থপতি যে পরিত্রাতা খ্রিস্টের মুখশ্রী বিবর্ধন করেছিলেন এ নিয়ে আমার স্ত্রী রোদিকা এবং তার দেশবাসীগণ সাতিশয় শ্লাঘা পোষণ করে থাকেন। এই সুযোগে আমার আপন ট্রিভিয়াটি উল্লেখ করতে ছাড়ি না- সিটি ব্যাঙ্কের যে বাড়িতে চার দশক আগে লন্ডনে আমার কর্মজীবনের সূচনা, সেই ৩৩৬ নম্বর স্ট্র্যান্ড থেকেই ১৯২২ সালে গুলিয়েলমো (আইরিশ মাতা ডাকতেন উইলিয়াম) মারকনি প্রথম রেডিও ব্রডকাস্ট করেন; সেই বি বি সির সূচনা। অফিসে ঢোকার গেটের ওপরে এখনো তাঁর নাম খোদিত আছে। রেডিও স্টেশন পরে সরে যায় একটা বাড়ির পরে, যাকে আমরা জানি বি বি সি বুশ হাউস বলে; আজ সেটি কিংস কলেজের অংশ! স্থির ছিল ১৯৩১ সালে ক্রিস্তো রেদেন্তরের উদ্বোধনের দিনে সাড়ে পাঁচ হাজার মাইল দূরের এই ৩৩৬ নম্বর স্ট্র্যান্ড থেকে মারকনি রেডিও তরঙ্গ দিয়ে যিশুর স্ট্যাচুর আলো জ্বালাবেন (যেমন আজ আমরা সিরি বা আলেক্সাকে ওআই ফাই দিয়ে অন্য ঘরে বাতি জ্বালাতে বলি)। আবহাওয়া খারাপ থাকার দরুন সেটি সম্ভব হয়নি। ব্যাটারি দিয়ে স্ট্যাচুর বাতি জ্বালানো হয়। 

    সেন্ট্রাল

     

    মারকোনি উইং - ৩৩৬ স্ট্রানড সিটি ব্যাংক 




    এটি যিশুর উচ্চতম মূর্তি নয়, সেটির স্থান নিয়েছে মুসলিম প্রধান ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রায় তোবা হ্রদের ওপরে প্রতিষ্ঠিত স্ট্যাচু। কিন্তু ক্রিস্তো রেদেন্তর আজ আধুনিক সপ্তম আশ্চর্যের অন্যতম বলে পরিগণিত হয় তার অনন্য স্থান মাহাত্ম্যের কারণে। আমার মতে এতো উঁচু স্ট্যাচুর মুখ দেখতে গেলে অনেকটা দূরে দাঁড়াতে হয় যা এই সীমিত পরিসরে মোটে সম্ভব নয়। এখানে পাবলিক তাই যিশুর কায়দায় দুটি হাত প্রসারিত করে সেলফি তুলে থাকেন শুধু। আসল আকর্ষণ যিশুর পদতলে দাঁড়িয়ে দিগন্ত বিস্তৃত রিওর দৃশ্য অবলোকন - বাঁ দিকে মারাকানা স্টেডিয়াম, সামনে সুগার লোফ, অতলান্ত আটলানটিক, পায়ের তলায় কোপাকাবানা, ইপানিমা, লেবলন, ডাইনে দোইশ ইরমাও (দুই ভাইয়ের) শিখরদেশ। 

    কখনো অদৃশ্য যিশু

    পরিত্রাতা যিশু


    প্রভুর দুয়োরে পৌঁছুনোর পথ নানাবিধ; সবচেয়ে সস্তা (ট্রেনের টিকেটে স্ট্যাচুর দক্ষিণা জোড়া থাকে) এবং আকর্ষণীয় ছোট রেল, ট্রেম দো করকোভাদো, ছাড়ে শহরের উত্তরে কসমে ভেলিও স্টেশন থেকে। শেকলে বাঁধা এ ট্রেন চলে এঁকেবেঁকে, তিজুখা অরণ্যের শোভা জানলার দুপাশে। চারটে স্টপ, শেষ স্টেশনে নেমে অবশ্য শ দুয়েক সিঁড়ি ভাঙতে হয়,প্রয়োজনে লিফটও আছে। প্রথম বারে ইন্দ্রনীল ওয়ার্নিং দিয়েছিল, ভোর ভোর যাওয়া ভালো কেন না সকাল আটটার পর প্রকাণ্ড লাইন পড়ে যায়। অন্যথায় টুর বাস বা উবার। এই সামান্য উচ্চতায় আবহাওয়ার ভীষণ হের ফের হতে পারে, জুলাই মাসের প্রথম যাত্রায় লক্ষ করিনি কিন্তু পরের বার, আগস্টে একদিন রিও শহরে দেখে এলাম ঝলমলে রোদ্দুর, প্রভুর পদতলে পৌঁছে, ‘দেখিলাম মেঘে বৃষ্টিতে দশদিক আচ্ছন্ন!' পায়ের নিচের রিও শহর অদৃশ্য। ভাবী টুরিস্টদের জন্য আমার চেতাবনি এই যে যাবার আগে পাহাড়ের আবহবার্তা জেনে যাবেন, দুপুর নাগাদ যাওয়া ভালো। 

    গ্লোরিয়া 

    সেন্ট্রাল দো ব্রাজিলের অনতিদূরে পাহাড়ের ওপরে যে গিরজে (পর্তুগিজে ইগ্রেজা, যা থেকে আমরা গিরজে শব্দটা পেয়েছি) তার নাম থেকে এই পাড়ার ও মেরিনার নাম গ্লোরিয়া। বিচ নয়, সমুদ্রের মেরিনায় এসে লেগেছিল পর্তুগালের রাজার নৌকো বা বজরা, ব্রাজিলের প্রথম রাজধানী, এখানেই গড়ে উঠেছে রাজভবন, উচ্চ আদালত, জাদুঘর,মহাকরণ, মিউজিয়াম অফ মডার্ন আর্ট, মিউনিসিপাল থিয়েটার, সেন্ট্রাল লাইব্রেরি। রাজারা শেষ অবধি তিরিশ কিলোমিটার দূরের পেট্রোপলিসে তাঁদের শান্তির আবাস বানান, যেমন ব্রিটিশ রাজবংশের উইন্ডসর (রানি এলিজাবেথ বলতেন বাকিংহাম প্যালেস আমার অফিস, উইন্ডসর আমার বাড়ি) অথবা হোহেনজোলারন রাজাদের আরামের আবাসের নাম বার্লিন থেকে অনেক দূরে পটসডামের সাঁ সুসি (ভাবনা বিহীন)। এখানেই আছে সম্ভবত রিওর সবচেয়ে বড়ো স্কোয়ার ও ফোয়ারা – তার সামনে মহাত্মা গান্ধির স্ট্যাচু, চত্বরের নাম প্রাসা মহাত্মা গান্ধি। 



    উলটো দিকে ছিল মনরো প্রাসাদ, সেই জেমস মনরোর নামে আমেরিকা ফর আমেরিকানস ডকট্রিনের ধুয়ো তুলে ছিলেন যিনি। মেট্রো বানাতে গিয়ে সে প্রাসাদ, মনরোর স্মৃতি ধুলো হয়ে গেছে, একা গান্ধি দাঁড়িয়ে আছেন। 

    সান্টা তেরেসা

    বিচ, বিকিনি, হাই রাইজ, ফ্যাশনিস্তা থেকে দূরে আছে আরেক রিও, সেখানে অবশ্যই যাবেন। অসম্ভব ব্যস্ত শহরের কেন্দ্র সেন্ট্রাল বা কারিওকা স্টেশন হতে তিনশ ফিট উঁচুতে, একটা টিলার ওপরে আছে আরেক পাড়া, সান্টা তেরেসা। সেখানে নেই কোন বহুতল অট্টালিকা, আছে সার দিয়ে হলুদ রঙের দোতলা বাড়ি, লোহার গেট, তেমন মানুষজন চোখে পড়ে না। সেখানে এখনো টুং টুং করে ঘণ্টি বাজিয়ে চলে যায় হলুদ রঙের ট্রাম, স্থানীয় নাম বন্ডেস। খানিক দূরের কারিওকা থেকে কয়েক মিনিটের মধ্যে আপনাকে সে ট্রাম নিয়ে যায় দুশ বছর আগের রিওতে। সেখানে একটি ছোট পাহাড়ি এলাকায় গড়ে উঠেছিল ক্যাথলিক কনভেনট, সান্টা তেরেসা। তারই পাশাপাশি, শহরের হট্টগোলের অনেকটা দূরে ধনী পর্তুগিজরা বাস করতেন এই উঁচু পাড়ায়- ক্রীতদাস, নেটিভরা বাস করতো নিচের মহলে। জীবন এখানে অন্য রকম, জল হাওয়া এমনি ভালো যে নিচা নগরীর কালাজ্বর, কলেরা কোন ব্যাধিই এ অবধি পৌঁছুতে পারেনি। বিত্তবানেরা অবশ্যই তার জন্য সাধ্বী তেরেসাকে প্রণাম জানিয়েছেন। 

    হলুদ রঙের ট্রাম, স্থানীয় নাম বন্ডেস

     

    তরতাজা দৃশ্যের ঘ্রাণ - সানটা তেরেসা থেকে রিও


    সান্টা তেরেসার যে কোন পথের মোড় ঘুরলেই চোখে পড়ে ‘তরতাজা দৃশ্যের ঘ্রাণ ‘ - কোপাকাবানা হতে লেবলনের বিচ, করকোভাদো পাহাড়ের ওপরে আশীর্বাদক যিশুর মূর্তি, সুগার লোফ, আটলানটিক। আজকের অর্থবান মানুষেরা এ পাড়া ছেড়ে চলে গেছেন বিচের কাছাকাছি। স্বল্প বিত্ত বোহেমিয়ান আর্টিস্টরা বাসা বেঁধেছেন সান্টা তেরেসায়। প্যারিসের মমার্তের মতন, ছোট কাফে রেস্তোরাঁয় ভরে আছে লাপা, সান্টা তেরেসার চত্বর জমজমাটি আড্ডার সম্ভাবনা নিয়ে। তবু মনে রাখি পাউলার সতর্কতাবানী, সান্টা তেরেসা দিনে সুন্দর, রাতে ভয়ানক! মোবাইল ওয়ালেট ঘড়ি সব কুছ সম্ভালকে। 

    লাপা, সেলারনের সিঁড়ি 

    শুধু ট্রাম বা বাস নয়, সমতল লাপা/ সেন্ট্রাল থেকে সান্টা তেরেসা পৌঁছুনো যায় এক অনবদ্য বর্ণময় সিঁড়ির দুশ ধাপ চড়ে, তার নাম সেলারনের সিঁড়ি (এসকাদেরিয়া সেলারন)। চিলির শিল্পী খরগে সেলারন বাস করতেন এক প্রায় ভগ্ন জীর্ণ সিঁড়ির ধারে। একদিন তিনি স্থির করলেন, নিজের হাতে আঁকা টালি দিয়ে একে সাজাবেন; কাজের অগ্রগতি দেখে পঞ্চাশের বেশি দেশ আরও রঙিন টালি দান করেছেন। প্রতিটি ধাপকে আলাদা রঙে রাঙিয়ে দিয়ে সেলারন এই সোপান শ্রেণি নাগরিককে উৎসর্গ করেছেন ব্রাজিলের সকল নাগরিককে। দেখলে মনে হয় আন্তনিও গাউদি যেন পুনরায় অবতীর্ণ হয়েছেন তুলি বুরুশ নিয়ে। এই ঝকঝকে উজ্জ্বল সিঁড়ি কি কেবল মানুষের আসা যাওয়ার জন্য? কারণে অকারণে সেখানে মানুষ বসে গল্প গাছা করেন, মনে হয় এটি যেন রিওর নাগরিকদের এক রঙ্গিন বৈঠক খানা! 
     

    সেলারনের সিঁড়ি 



    কারিওকা আর লাপার অজস্র হাই রাইজ অফিস ব্লকের মাঝে দেখেছি ল্যাটিন আমেরিকান হস্তশিল্পের বাজার! ব্যাগ জুতো ইত্যাদি হাজার রকমের জিনিস নিয়ে বসে গেছেন পেরু কলম্বিয়া উরুগুয়ে আরও কত না দেশের মানুষ। মায়া এবং রোদিকা তাদের অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্করী সুলভ স্প্যানিশ চালাতে কসুর করেনি, তাতে দাম কমেছে কিনা জানি না তবে বিক্রেতা মহিলাদের মুখ হাসিতে ভরে গেছে। সে পাওয়া কিছু কম নয়। 

    ল্যাটিন আমেরিকান হস্তশিল্পের বাজার



    এখানে অবশ্য দ্রষ্টব্য মায়া পিরামিডের আদলে তৈরি কাতেদ্রাল মেট্রোপলিতানা দে সাঁও সেবাস্তিয়াও ব্রাজিলের আধুনিকতম গিরজে, বিশ হাজার মানুষ একত্র প্রার্থনা করতে পারেন। 

    কাতেদ্রাল মেট্রোপলিতানা দে সাঁও সেবাস্তিয়াও



    হাভাইয়ানা 

     


    পুজোয় চাই বাটার জুতো বিজ্ঞাপন দেখে বড়ো হয়েছি, যদিও আমার ভাগ্যে জুটত বছরে এক জোড়া চটি, সে আবার কখনো বিদেশি নামে ভূষিত– হাওয়াই চটি। প্লাস্টিক অথবা রাবারের তৈরি, দামে কম, টেকে অনেকদিন। মাঝে মধ্যে ইংরেজি ওয়াই শেপের স্ট্র্যাপটা খুলে যেতো, যার পুনঃস্থাপনা সহজ কাজ ছিল না। রাস্তার ধারের মুচির সামনে লোহার হাতলের ওপরে পা রেখে বলা যেতো না দুটো পেরেক মেরে দাও দিকি, নিজেকেই একটা পেরেক জাতীয় কিছু দিয়ে মেরামত করতে হতো। প্লেন লিভিঙ্গের উদাহরণ ছিল হাওয়াই চটি, হয়তো এখনো তাই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে বিধ্বস্ত জাপানে দরিদ্রের পদের ভূষণ ছিল রাবারের চপ্পল। আমেরিকান সৈন্যরা বিশেষ পছন্দ করতেন, দু হাতে ধরে মশা মাছি মারার কাজও চালানো যেতো। পরে হাওয়াই দ্বীপে সেই রাবারের চটি আক্ষরিক অর্থে পদে উঠল। রাবার নয়, তার সঙ্গে প্লাস্টিক যুক্ত হল, বর্ণাঢ্য হলো, বিচের ফ্যাশনের তালিকায় নাম উঠল। স্থানীয় নাম ছিল স্লিপা (যাকে পায়ে গলিয়ে নেওয়া যায়), বিলেতে এসে শুনলাম চটির নাম ফ্লিপ ফ্লপ, স্লিপার বলতে অন্য কিছু বোঝায়। এতৎ সত্ত্বেও, হাওয়াই চটির কোন প্রকারের সামাজিক মর্যাদা কখনোই ছিল না। 



    ভুল ভাঙল ব্রাজিলে এসে। এ চটি সে চটি নয়, এর নাম হাভাইয়ানা! পঞ্চাশ বছর আগে এক উদ্যোগী পুরুষ হাওয়াই দ্বীপের সুলভ চপ্পলকে ব্রাজিলে প্রচলিত করলেন নতুন রূপে, দিলেন এক স্বতন্ত্র সম্ভ্রম। প্লাস্টিক নয়, রি সাইক্লড উচ্চ পর্যায়ের রাবার, গন্ধে না হোক বর্ণে ছন্দে গতিতে হাভাইয়ানা আজকের জেন জির ভাষায় এসেনশিয়াল অ্যাপারেল। বিচে পা ফেলতে গেলে কেবল উর্বশী অ্যাপোলো নন, আপামর জনগণের, শিশু, বালক বালিকার ফ্যাশনের জরুরি সরঞ্জাম। কন্যার দাবী মেনে হাভাইয়ানার দোকানে ঢুকে দেখি তার দাম শুরু হয় আমাদের টাকায় দু’হাজারে। মনে পড়ল রাধা সিনেমার পাশের বাটার দোকানে কেনা চার টাকার চপ্পল। হায় হাওয়াই, তোমার দিন কবেই গিয়াছে। রাধা সিনেমা এখন শপিং মল। 

    সন্ধ্যা লগনে সাম্বা 

     

    ওয়ার্ল্ড কাপ ফুটবলের সময়ে বিচে বিচে প্রকাণ্ড টেলিভিশন সেট লাগানো – হাজার হাজার মানুষ ব্রহ্মার বোতল হাতে তাতে নিবিষ্ট অথবা বিচরণ রত। অলিম্পিকের ক্রীড়া কলাপ আর সেখানে দেখানো হয় না। জনগণ ভিড় করেন, ঘোরা ফেরা করেন পাব থেকে পাবে। ফ্লাড লাইটে আলোকিত বিচ প্রায় জনশূন্য কিন্তু পথের কিনারে চলে সাম্বার স্কিট প্রদর্শনী। রিওর সেই বিখ্যাত কারনেভাল জীবনে কখনো দেখা হয়ে উঠবে না তবে নৃত্যরতা সুন্দরীদের উপস্থিতিতে তার একটা সংক্ষিপ্ত রূপ চাক্ষুষ করা গেল। 

    জারদিম বোটানিকো 

    রিওতে চলতে ফিরতে আকাশের গায়ে যিশু দেখা দেন, অবিশ্যি আবহাওয়া ভালো থাকলে। শহরের কিছু অঞ্চল নাকি সেই মূর্তির রেফারেন্সে চিহ্নিত! তার নমুনা পেলাম যখন অ্যানড্রু বললে, অলিম্পিকের খেলা ধুলো দেখার পরে সময় পেলে যিশুর বগলের নিচটাও দেখে নিয়ো (সুভাকো দো ক্রিস্তো)! উহা কি বস্তু? অ্যানড্রু হেসে বললে, রিওর বোটানিকাল গার্ডেন, জারদিম বোটানিকো, সেটা পরিত্রাতার বাম বগলের ঠিক তলায়! এটা শুধু বাগান নয়, গোটা পাড়ার নাম জারদিম বোটানিকো; বিত্তবান, টি ভি সিনেমার সেলিব্রিটি মানুষের বাস, লক্ষ কোরো প্রতিটি বাড়ি স্বতন্ত্র, পাশের বাড়ি থেকে অন্তত বিশ পঁচিশ মিটার দূরে দূরে, রিওর সবচেয়ে দামী। অ্যাভারেজ দাম দু মিলিয়ন, না ব্রাজিলিয়ান রিয়াল নয়, আমেরিকান ডলার! 

    জারদিম বোটানিকো- বগলের নিচে



    আমার গুরু বলেছেন, চিড়িয়াখানায় বাঘ সিংঘি দেখা হলে খাটাশটাও দেখে আসবেন, সেটাও একই পাড়ায় থাকে। সিমোন বাইলস ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের দুর্ধর্ষ জিমনাস্টিক দেখার পরের দিন আবার রিও ভ্রমণ। তৃতীয় শতাব্দীর রোমান আর্চ, কোন সম্রাটের মস্তক এবং গাছ পালা প্রকৃতি দেখে মূল্যবান সময় নষ্ট করার বিষয়ে মায়ার প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও গেলাম দক্ষিণে, রিও সুল। একদিকে উঠে গেছে করকোভাদো (কুঁজো পাহাড়)। সময় এবং সামর্থ্য থাকলে সেই পথে ট্রেকিং করে প্রভুর পদতলে পৌঁছুনো যায়, আক্ষরিক অর্থে অবশ্যই!
     

    রিও তে জিমনাস্টিক ইভেন্ট


    কলকাতা একদিন সেকেন্ড সিটি অফ দি এমপায়ার নামে পরিচিত ছিল কিন্তু ইউরোপের বাইরে রিও একমাত্র শহর যা একদিন একটি ইউরোপীয় দেশের রাজধানীরূপে পরিচিত ছিল। উনবিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে নেপোলিয়ন যখন গোটা মহাদেশের রাজা রাজড়া সহ মানচিত্রের আমূল পরিবর্তন করছিলেন তখন পর্তুগালের রাজা লিসবন থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে তাঁদের উপনিবেশ ব্রাজিলের রিও দে ঝানেইরোতে রাজধানী ট্রান্সফার করেন।* ইতিহাসে দেশান্তরে রাজধানী বদলের এটি একমাত্র দৃষ্টান্ত। সেই বছরে, ১৮০৮ সালে রাজা ষষ্ঠ জন এই বোটানিকাল গার্ডেনের পত্তন করেন। প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আহরিত দুষ্প্রাপ্য উদ্ভিদের রোপণ করা; আশা করা গেছিল ব্রাজিলের উষ্ণ পরিবেশে দারচিনি, মরিচের চারা এখানে প্রাণ পাবে। ক্রমশ ট্রপিকাল এবং নন ট্রপিকাল গাছ পালায় বাগান ভরে গেছে। পরম শান্তিতে দিনটা কেটে গেল। 

    জারদিম বোটানিকো



    ভিক্টোরিয়া আলবার্ট ওয়াটার ফ্রন্টে বসে নেড ব্যাঙ্কের ডন স্টুয়ার্ট বলেছিল কেপ টাউন এক নয়ন ভোলানো শহর, তার একমাত্র তুলনা রিও দে ঝানেইরো। দুনিয়ার আর কোন শহর কেপ টাউনের পাশে দাঁড়ানোর যোগ্য নয়। ডন চলে গেছে আমাদের ছেড়ে, পরে রিওতে গিয়ে মনে হয়েছে তার কথাটা একেবারে ঠিক। টেবল মাউনটেনের মাথায় অথবা পরিত্রাতা যিশুর পায়ের কাছে দাঁড়ালে দেখি পাহাড় সমুদ্র শহর বন্দর টালির চাল সবুজের অরণ্য মিলে মিশে যায় এই দুই ম্যাজিকাল শহরে বন্দরে, ঘন নীল আটলানটিকের পুব পশ্চিম দুই কুলে। 

    পদতলে রিও



    পুনশ্চ: 

    দেয়া নেয়া 

    কলম্বাস দক্ষিণ আমেরিকায় আখের চারা পুঁতলেন, সত্তর বছর বাদে তাঁর অনুগামীরা পেরু বলিভিয়া থেকে আলুর চারা নিয়ে এলেন ইউরোপে। স্বাস্থ্যের পক্ষে, বিশেষ করে ডায়াবেটিকদের কাছে, দুটি সমান হানিকারক! 

    *মে, ১৯৪০ সালে জার্মান বাহিনীর বিরুদ্ধে ফ্রান্সের পরাজয় ও আগস্ট ১৯৪৪ সালে প্যারিস থেকে জার্মান পশ্চাদপসরণ এই চার বছর শার্ল দ্য গলের ফ্রি ফ্রেঞ্চের বা তথাকথিত স্বাধীন ফ্রান্সের সরকারি রাজধানী ছিল আফ্রিকাতে কঙ্গোর ব্রাজাভিল, যাকে সে সময়ে তাঁদের চিঠিপত্রে, টেলিগ্রামে প্যারিস বলে উল্লেখ করা হতো (কাসাব্লাঙ্কা ছবির শেষ দৃশ্যে রিক এবং লুইয়ের বার্তালাপ স্মরণ করুন)। 

    অথ রিও পর্ব সমাপ্ত।
     


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • ধারাবাহিক | ২৮ মার্চ ২০২৬ | ৫৮ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • রানা সরকার | ২৮ মার্চ ২০২৬ ১৫:১৭739501
  • সুগার লোফ আর রোপওয়ে দেখে where eagles dare ছায়াছবির কথা মনে হল। বাকি ছবিগুলো খুব সুন্দর।  জায়গার অনুপুঙ্খ বর্ণনা দারুণ।   আপনার চোখ দিয়েই দেখে নিলাম; রিও। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঠিক অথবা ভুল মতামত দিন